প্রীতি বাসুদের বাসার মাঝারো সাইজের ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে কালো কোর্ট ধারি একজন উকিল সহ বাড়ির সকল সদস্য। তাদের সবার মধ্যমনি আজ প্রচ্ছদ আর প্রীথুলা।উকিল তাদের দিকে একটি ফাইল এগিয়ে দিতেই চিকন হাতের টানে দুজনই একে একে সই করলো সেথায়।এমনি করেই মুহুর্তের মধ্যেই বৈবাহিক বিচ্ছেদ নামক ট্যাগটা লেগে গেলো তাদের কপালে।
এভাবেই তো একদিন দুজনের সম্মতিতে প্রীথুলা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করেছিলো প্রচ্ছদের সাথে।আজও ঠিক দুজনের সম্মতিতেই বিচ্ছেদটাও হয়ে গেলো।
কেউ কারোর প্রতি কোনো মায়া নেই,টান নেই,খুব স্বাভাবিকের মাঝেই সবটা হলো।প্রচ্ছদ বিতৃষ্ণা প্রীথুলার এক ঘেয়েমি ভাবে।আর সে নিজেও জানে,এই জীবনে অভ্রাকে সে আর মন থেকে মুছতে পারবে না।আর মনে একজন রেখে আরেকজনের সাথে ঘর করাও যায় না।তবুও প্রচ্ছদ প্রীথুলাকে ডিভোর্সটা দিতো না তার কথা ভেবেই।কিন্তু দেড় মাস আগে প্রীথুলা যখন গর্ভবতী অভ্রাকে ইচ্ছে করে ফেলে দিতে চাইলো হিংসার বসে,তখনই প্রচ্ছদ বুঝলো,এই নারীটা তার অভ্রার সুখ সইতে পারে না।তাই এই নারী যত দূরে তাকবে ততই ভালো।তার উপর প্রীথুলা সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে সে নিজের সৌন্দর্য নষ্ট করবে না।তাই প্রচ্ছদ তার সখের আশাটাও ছেড়ে দিলো প্রীথুলার থেকে।এই দুটো কারনের থেকেও আরো একটি মোক্ষম কারন হলো প্রীথুলার সৌন্দর্য ধরে রাখার কারনটা সফল হয়েছে।বাইরের এক টাকাওয়ালা বড় হুন্ডি ব্যবসায়ীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছো প্রীথুলা।প্রীথুলাকে সোনায়, হিরায় ভরিয়ে রাখে লোকটি।তার বিনিময়ে প্রীথুলা লোকটিকে দেয় দেহের কামুকতা মেটানোর সুখ।নাহ,বাধ্য হয়ে নয়,বরং আপন ইচ্ছে থেকেই।
বিষয়টা প্রচ্ছদ জেনেছে।আগে হলে হয়তো তুলকালাম কান্ড ঘটে যেতো।কিন্তু অভ্রাতে বিভোর হওয়ার পর থেকে প্রীথুলাকে নিয়ে চিন্তা করার বিন্দু পরিমান ফুসরতও পায়না প্রচ্ছদ।চিন্ডারা সব ব্যস্ত থাকে শুধু অভ্রাকে নিয়েই।তাই তো কিচ্ছুটি বলে নি প্রীথুলাকে সে।যা ইচ্ছে করুক।
সেই বড়লোক বয়ফ্রেন্ডের কাছে একেবারের জন্য যাওয়াই প্রীথুলার উদ্দেশ্য হয়ে দাড়িয়েছে। থাক না তার ঘরে একটা বউ,থাক না তার বয়স একটু বেশি।কতই বা বেশি আর, ঐ ৪০-৪২ হবে।তাতে কি,প্রীথুলাকে টাকায় ভাসিয়ে তো রাখতে পারবে।
সব দিক চিন্তা করেই প্রীথুলা নিজেই প্রচ্ছদকে ডিভোর্স দেবে বলেছে। তাই দুজনের সম্মতি থাকায় কেউ দ্বিমত করেনি এতে।কোনো ঝুট ঝামেলা না থাকার কারনে দেড় মাসের মধ্যেই কাগজপত্রের সকল ব্যবস্থা হয়ে গেছে ডিভোর্সের।আর আজ কাগজে কলমে ডিভোর্সটাও হয়ে গেলো।
সব কিছু শেষ হলেই উকিল নিজের ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নিতে নিতে বললো...
"আজ থেকে আপনারা দুজন সম্পূর্ণ আলাদা।একে অপরের প্রতি কোনো প্রকার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।"
প্রচ্ছদের কোনো অনুভুতি নেই বলতে গেলে।শুধু মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো।প্রীথুলাও মুখ বেকিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ঠিক তখনই বেলি হাতে ফোন নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এলো রুম থেকে। প্রীতির দিকে তাকিয়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বললো...
"ছোট দিদান কল করলো মা,অভ্রা মামির নাকি পেইন উঠেছে,সাথে নাকি অসম্ভব হারে ব্লাড ব্রেকও হচ্ছে। উনারা ওখানকার হসপিটাল যাচ্ছে মামিকে নিয়ে।তার অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয়।"
নির্লিপ্ত প্রচ্ছদ হঠাৎই কেমন উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো।তৎক্ষনাৎ সোফা থেকে দাড়িয়ে গিয়ে বেলির দিকে তাকিয়ে ভয়াতুর কন্ঠে বললো...
"প্ পেইন উঠেছে মানে,আমার অভ্রা তো..."
কিছু একটা ভেবেই সে প্রীতির দিকে তাকিয়ে তৎক্ষনাৎ প্রশ্ন করলো....
"দিদি?অভ্রার প্রেগ্ন্যান্সির তো সবে ৮ মাস চলছে।এখন পেইন হচ্ছে কেন ওর?ক্ কিছু হয়নি তো?"
প্রীতি বাসু নিজেও চিন্তায় পড়লো।সেবার উষ্ণের সাথে সময় নিয়ে আলাদা কথা বলে প্রীতি।জানতে পারে অভ্রার সাত মাসেই পেট এতো বড় হওয়ার কারন।শুধু সেটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়।ডেলিভারির সময় যে অভ্রার লাইফ রিস্কও থাকতে পারে,তাও জানে প্রীতি।উষ্ণের অনুরোধে কাউকে বলে নি সে।,,ছেলেটা নিজেও ভেতর ভেতর দুঃচিন্তায় পাগল প্রায় দশা,তবুও সবার সামনে,অভ্রার সামনে কেমন হাসি খুশি থাকে,শুধু মাত্র অভ্রাকে মেন্টালি সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন কি উষ্ণ পারবে নিজেকে সামলাতে?
"কি হলো দিদি,কিছু বলছিস না কেন?অভ্রার কিছু হবে না তো?"
প্রচ্ছদকে ধীরে ধীরে এতটা উতলা হতে দেখে প্রভাতি এগিয়ে এসে বললো...
"আহ,,এখন এসব বলার সময় নয়।ওখানে উষ্ণ একা আছে।কি করবে না করবে..আমাদের দ্রুত রওনা দিতে হবে।"
বেলিও মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো।বুদ্ধি করে বললো...
"বাসে যেতে অনেক সময় লাগবে।আমি বরং বাবাকে ফোন করে বলি একটা কার ভাড়া নিতে।"
প্রীতি সম্মতি দিতেই বেলি তাই করলো দ্রুত সবাই তৈরি হতে গেলো।তবে এসব নিয়ে কোনো উতলা দেখালো না প্রীথুলা।সে নিজের মতোই গোছগাছ করে বেরিয়ে গেলো চিরদিনের মতো নিজ গন্তব্যে।
-----
বাস-ট্রামের ঝামেলা না হওয়ায় ৩ ঘন্টার পথ দেড় ঘন্টাতেই পৌঁছে গেলো প্রচ্ছদ, প্রীতিরা।এদিকে এই দেড় ঘন্টায় অভ্রাকে প্রথম হসপিটাল থেকে কুমিল্লার সব চাইতে ভালো হসপিটালে ট্রান্সফার করা হয়েছে।ডেলিভারি কেইজ হলেও, রোগীর অবস্থা ক্রিটিকাল দেখে হসপিটালের ডাক্তাররা রিস্ক নেয় নি।তাইতো একটু আগেই আরেকটি হসপিটালে আনা হয়েছে অভ্রাকে।মাত্রই অপারেশন থ্রিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে।
সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতেই প্রনতির চিন্তিত মুখটি চোখে পড়লো সবার।প্রীতি গিয়ে দ্রুত জিজ্ঞেস করলো...
"কি অবস্থা অভ্রার?"
প্রনতি বললো...
"মাত্র অপারেশন শুরু হলো। কি হয়ে গেলো মেয়েটার..."
বলতে বলতেই ডুকরে কেঁদে উঠলো প্রনতি। তাকে সামলাতে প্রভাতি শান্তনা দিতে লাগলো।উর্মির মুখটা বিষন্ন,প্রীতিদের বললো...
"হুট করেই কি হয়ে গেলো অভ্রার।নাস্তা করে বারান্দায় চেয়ারে বসিয়ে এসেছিলো দাভাই।অফিসে যাবে বলে রেডি হতে রুমে গিয়েছিলো কিছুক্ষণের জন্য। ঐ টুকু সময়েই কি থেকে কি হয়ে গেলো।চিৎকার শুনে সবাই গিয়ে দেখি অভ্রা ফ্লোরে বসে কাতরাচ্ছে ব্যথায়।সারা বারান্দায় রক্তের মাখামাখি ওর।"
প্রীতি,প্রচ্ছদের চিন্তা যেন হুহু করে বেড়েই চলেছে।কি বলবে,কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না কেউই।হঠাৎই পেছন থেকে উর্মির বরের কন্ঠ ভেসে এলো সবার কানে...
"দাভাই,, দাভাই,নিজেকে সামলান প্লিজ.."
দেখলো সে বলতে বলতেই উষ্ণকে আগলে ধরছে।প্রচ্ছদও দৌড়ে গিয়ে আরেক পাশ থেকে সামলে ধরলো টলতে থাকা উষ্ণকে।নিয়ে বসালে করিডোরের চেয়ারে।উর্মি দ্রুত পানি এনে দিতেই প্রচ্ছদ একটু একটু করে পানির ছিটা দিলো উষ্ণের চোখে মুখে।একটু পরেই হএশ ফিরলো উষ্ণের।
কি বিভৎস লাগছে তাকে দেখতে।ছাই রঙা শার্টটার বেশিরভাগ অংশ কালো রূপ ধারন করেছে তাজা রক্ত শুঁকিয়ে। সেই দিকে যে কোনো হুশই নেই উষ্ণের।কি করবে সে নিজেই বুঝতে পারছে না।এতোটা সময় ধরে সবাইকে সামলে রাখা ছেলেটি আজ নিজেই বেসামাল হয়ে উঠেছে।
আর কি করবে সে?,চোখের সামনে যে বারবার অভ্রার রক্তনীল আভায় ঘেরা মুখটি ভেসে উঠছে। কানে ভাজছে অভ্রার গলা ফাটানো চিৎকার।গাড়িতে উষ্ণের কোলে মাথা রেখেই জ্ঞান হারালো অভ্রা।তীব্র ব্যাথা আর সইতেই পারলো না মেয়েটা।সেই থেকেই উষ্ণ উতলা হয়ে আছে। চারপাশের কোনো কিছুতে তার ধ্যান নেই।ভাগ্যিস উর্মির বর আছে।সে-ই হসপিটালের সব কাজ সামলে নিয়েছে এতোক্ষণ।
উষ্ণের পাগলামি দুচোখ ভরে দেখলো সকলেই, প্রচ্ছদও দেখলো।বারবার, ফুল,,ফুল ঠিক হয়ে যাবে তো?কখন বের করবে ওকে?,,,আমার লাগবে না কোনো সন্তান,আমার ফুলকে ফিরিয়ে দাও,,দরকার নেই বাচ্চার,,' এসবই আওড়াচ্ছিলো সে পুরোটা সময়।প্রচ্ছদ দেখলো দুচোখ ভরে। একসময় তার অবহেলা করে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া মেয়েটাকেও কেউ এতোটা গভীর ভাবে ভালোবাসতে পারে?
যে নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করেই শুধু ঐ অভ্রাকেই সুস্থ রাখতে চাইবে?হ্যা,লোকটা উষ্ণই।প্রচ্ছদেরই মাসতুতো ভাই।
প্রায় দেড় ঘন্টা পর ওটি রুমের উপরে থাকা রেড লাইটটি নিভে গেলো।প্রচ্ছদের সেদিকে নজর পড়তেই,দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলো সেথায়।ওটি রুমের দরজা খুলে প্রথমেই একটি নার্স বেরিয়ে এলো,কোলে চাদরে মোড়ানো ফুটফুটে একটি বাচ্চা।বিড়াল ছানার মতো ছোট্ট মুখটির দিকে তাকিয়েই চিত্ত যে সুদ্ধ হয়ে এলো প্রচ্ছদের। নরম ঢোক গিললো সে।এমন লাগছে কেন তার?
নার্সটি বেশ তারাহুরোয় আছে যেন। প্রচ্ছদের সামনে এসে,বললো..
"আপনিই বাচ্চার বাবা তো?নিন কোলে নিন, একটু পরেই নিয়ে যাওয়া হবে।"
নার্সটি বলতে বলতে এক প্রকার ঘুচিয়েই দিলো বাচ্চাটাকে প্রচ্ছদের কোলে।প্রচ্ছদকে কিছু বলার সময় টুকুও দিলো না বলতে গেলে।বাবা না হয়েও সে প্রথম কোলে নিলো অভ্রার অংশকে।হৃদয় কাঁপছে তার।হাত দুটোও কাঁপছে। অভ্রার বাচ্চার বাবা তো সে নয়,তাও কেন তার আজ বেশ বাবা হতে ইচ্ছে করছে?কেন কোলে থাকা বাচ্চাটিকে নিজের খুব কাছের মনে হচ্ছে, আত্মার খুব কাছের?...
উষ্ণের খেয়াল হতেই সেও এলো সামনে এগিয়ে,সাথে বাকিরাও। ততক্ষণে আরো একজন নার্স বেরিয়ে এলো কোলে আরো একটি বাচ্চা নিয়ে।কিন্তু সেই দিকে যেন কোনো খেয়ালই নেই উষ্ণের।নার্সটিকে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বললো ....
"আমার ওয়াইফ কেমন আছে?আমার ফুল?"
কথাটা কানে যেতেই প্রথম নার্সটি বললো..
"আপনিই তাহলে বাচ্চার বাবা?ওহ,আমি দুঃখিত,আমি ভেবেছিলাম উনি,তাই...."
উষ্ণ যেন শুনেও শুনলো না।আবার কন্ঠে তীব্রতা এনে বললো...
"আমার ফুল কেমন আছে?"
দ্বিতীয় নার্সটি কোলের বাচ্চাটিকে উষ্ণের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো..
"পেসেন্টের বিষয়ে ডক্টর নিজে কথা বলবে,উনি আসছে।আপনি ততক্ষণে আপনার আরেক মেয়েকে কোলে তুলে নিন।কিছুক্ষণ পরেই ওদের নিয়ে যাওয়া হবে।"
আরেক মেয়ে,কথাটা কানে যেতেই প্রনতির মুখটা কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে এলো।তবুও মুখে কিছু বললেন না তিনি,আর যাই হোক,উপরওয়ালা দিয়েছে যা,তাতে তো অভ্রার কোনো হাত নেই।
প্রনতিকে এমন অবস্থায় দেখে প্রীতি এসে তার কাছে হাত রাখলো।বললো..
"একটু অপেক্ষা করো মাসিমনি। ঈশ্বরের উপর ভরসা রাখো।"
কথার মাঝেই ডক্টর সহ আরো একটি নার্স এসে বের হলো ওটি থেকে।ওমাহ,এ কি কান্ড,তার কোলেও ঠিক আগের মতোই চাদরে মোড়ানো আরো একটি ফুটফুটে শিশু। নার্সটি বললো...
"ছেলে বাবুকে কোলে কে নিবেন?বাচ্চার বাবার কোলে তো আরেকজন?"
প্রীতি এগিয়ে গিয়ে প্রনতিকে দেখিয়ে বললো...
"ওনাকে দিন।উনি বাচ্চার ঠাম্মি হয়।"
নার্সটি হাসি মুখে তাই করলো।প্রনতির চোখ জোড়া যেন ভেসে উঠলো খুশির জোয়ারে। নাতিকে তিনিই প্রথম কোলে নিলো।
প্রচ্ছদের চোখের কোনে জল,কিন্তু ঠোঁটে যেন এক মিষ্টি হাসি।এতগুলো বছর,ঠিক কতগুলো দিনের যন্ত্রণা তার।অভ্রাকে না পাওয়ার যন্ত্রণা।এতোদিন পর মনে হচ্ছে, সে প্রাণ থেকে হাসছে।এই ছোট বিড়াল ছানার মতো শিশুটি যেন তাকে এক অদ্ভুত ভাবে নতুন করে বাচার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।এতো কেন ভালো লাগছে প্রচ্ছদের?এতো খুশি তো সে গত কয়েকবছরে কখনো হয়নি।চোখে অশ্রু, মুখে হাসি নিয়েই পাগলের মতো এলোমেলো ভাবে প্রীতিকে বলছে সে...
"দিদি,,দেখ,আ্ আমার অভ্রার মেয়ে।এরা আমার অভ্রার গর্ভের সন্তান।ঈশ্বর আমার ইচ্ছে, আমার অভ্রার ইচ্ছে পুরন করেছে দেখ।অভ্রার যে খুব শক তার জমজ কন্যা হবে।আমার অভ্রার সন্তান এরা.."
এদিকে উষ্ণের মনে আনন্দের ছিটেও দেখা যাচ্ছে না।চিন্তায় কেমন যেন হয়ে আছে ছেলেটা।কোলে থাকা কন্যাটি তার।কিন্তু প্রচ্ছদের মতো এতটা অনুভুতিপ্রবন সে হতে পারছে না।কোলে আছে,কিন্তু শুধু এক পলক তাকিয়েছে সে তার বাচ্চাটির দিকে।তার অবস্থা দেখে প্রীতি এসে বাচ্চাটিকে নিজের কোলে তুলে নিলো।ডক্টর আসতেই উষ্ণ ছুটলো তার কাছে।
"আমার ফুল কেমন আছে ডক্টর?"
ডক্টর উষ্ণকে শান্ত হতে বললো..
"কুল,মি.উষ্ণায়ন সেনসিংহ।এতো টেনশন করবেন না।আমাদের অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে।আপনার ওয়াইফ একসাথে দুটো মেয়ে এবং একটি ছেলের জন্ম দিয়েছে। আমাদের দেশে এটা খুবই রেয়ার।আপনার ওয়াইফের মনোবলের কারনে আমরা মা সন্তান সবাইকেই বাচাতে সক্ষম হয়েছি।কিন্তু পেসেন্ট ব্যথায় জ্ঞান হারিয়েছে,তাই জ্ঞান ফিরার আগে তার কোনো প্রকার সাইড ইফেক্ট হচ্ছে কিনা,তা আমরা বলতে পারছি না।তাই আপনারা সবাই একটু ধৈর্য ধরুন।অপেক্ষা করুন পেসেন্টের জ্ঞান ফিরার।"
উষ্ণ চোখ বন্ধ করে একটা ঢোক গিললো,,চিন্তা গুলো যেন কমতে কমতেও কমছে না।ফুলটিকে এক নজর দেখার আগে চিত্ত শান্ত হচ্ছে না তার।
ডক্টর আবার বললো...
"আপনার ওয়াইফের হেল্থ কন্ডিশন আগে থেকেই খুব একটা উন্নত নয়।সল্প স্ব্যাস্থের অধীকারি সে।এই অবস্থায় তিনি যে তিন তিনটা প্রাণকে নিজের মধ্যে আটটা মাস ধারন করে রাখতে পেরেছে,এটাই অনেক ভাগ্যের ব্যপার।তো এই কারনে কিছু টুকটাক কম্প্লিকেশন থাকবেই উনার।আর যেহেতু প্রি ম্যাচিউর বেবি,তাই ছেলে বাবুটি কিছুটা পরিপূর্ণ হলেও মেয়ে বাবু দুটি খুবই দুর্বল। আমরা তাদেরকে আলাদা করে শিশু ওয়ার্ডে রাখতে হবে।আর ছেলে বাবুটি সাধারণ ভাবেই থাকতে পারবে মায়ের কাছে।সো,আপনারা সবাই মেন্টালি টিক থাকুন। যা হবে উপরওয়ালার ইচ্ছায় ভালোই হবে।"
একটু পর এসেই প্রচ্ছদ আর প্রীতির কোল থেকে মেয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে গেলো নার্সরা।রয়েছে শুধু প্রনতির কোলে ছেলে বাচ্চাটা।
অভ্রাকে কেবিনে সিফট করা হলো মাত্রই।জ্ঞান ফেরার আগে কাউকে দেখা করতে দিচ্ছে না।তবুও উষ্ণের ব্যকুলতায় ডক্টর তাকে অনুমতি দিলো ভেতরে যাওয়ার।ফুলের ফ্যাকাসে বর্নীল মুখটা চোখে পড়তেই অন্তর আত্মায় কেমন একটা করে উঠলো উষ্ণের।চার দিকে নিষ্প্রভ শান্ততার মাঝেও বারবার মনে হতে লাগলো,তার ফুলটি এখনো চিৎকার দিয়ে কাঁদছে। রক্তাক্ত শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছে। তাই তো হুট করেই অভ্রাকে দেখা মাত্রই উষ্ণের মাঝে আবার আগের মতো সেই মনোবল ফিরে এলো।নাহ,,তাকে তো সামলাতে হবে তার ফুলটাকে।ফুলটা যে তার উপরই ভরসা করে এতোটা দুর এগিয়েছে। এখন আর ক্ষনিকের জন্যতো তার ফুলটার মনোবল হারাতে চায় না সে।
কোমড় সমান চুল গুলোতে কেউ হয়তো আলতো করে একটি হাত খোঁপা করে দিয়েছে।তবুও কিছু অবাধ্য চুল এসে চোখে মুখে আচড়ে পড়ে আছে অভ্রার।উষ্ণ আলতো হাতে মুখের উপর থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিলো তার।মুখ নামিয়ে অভ্রার শ্যামবর্নীয় কপালে ওষ্ঠ ছোঁয়ায় গভীর ভাবে।এরপর আলতো হাতে তার ফুলটির এলোমেলো চুলের মাঝে বিলি কাটতে লাগলো।সে তো জানে,এমনি করেই তো রোজ তার ফুলের ঘুম ভাঙায় সে।আজও তার ফুল তার ডাকে সারা দেবে নিশ্চই।
জ্ঞান ফিরতেই অভ্রার কিছু টেস্ট করিয়ে দেখে নিলো সব নর্মালই আছে।এরপর আবার নিয়ম অনুযায়ী ঘুমের ঔষধ দেওয়া হলো তাকে রাত আড়াইটার দিকে। সারাটা রাত ঘুম হয়নি উষ্ণ প্রচ্ছদের।প্রনতি আর প্রভাতিকে উর্মির বরের সঙ্গে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।প্রীতি থাকছে শিশু ওয়ার্ডের ঐ দিকে।বাকি বাচ্চাদুটোকেও তো দেখে রাখতে হয়।অভ্রার কাছে উর্মি থাকছে।আপাতত ছেলে বাচ্চাটির খেয়ালও সেই রাখছে।আর উষ্ণ আর প্রচ্ছদতো আছেই সবসময়।অনেক রাত হওয়ায় প্রচ্ছদকে আর অভ্রার কেবিনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।তাই অভ্রাকে এক পলক দেখতেও পায়নি সে এতোটা সময় ধরে।সকালে অনুমতি পাওয়া মাত্রই সে নিচু হয়ে উষ্ণের দিকে তাকালো। উষ্ণ হাসলো,হয়তো বুঝতে পারছে প্রচ্ছদ কি চাইছে। আলতো হেসে উষ্ণ তাকে বললো...
"তুই ভেতরে যা প্রচ্ছদ ভাই।আমি বাচ্চাদের জন্য কিছু জামা কাপড় নিয়ে আসছি।"
সম্মতি পেয়ে ভেতরে ঢুকলো প্রচ্ছদ।পাশাপাশি দুটো বেড,একটায় উর্মি বসে আছে বাচ্চাটিকে নিয়ে,আর আরেকটিতে ঘুমন্ত অভ্রা।প্রচ্ছদ এক পলক উর্মিদের দিকে তাকিয়ে এগিয়ে গেলো অভ্রার কাছে। মাথার কাছে বসলো একটি টুল টেনে।ভাবলো প্রচ্ছদ,তার অভ্রার এই ক্লান্ত মুখশ্রী,মুখে ভরা কালসিটে দাগ,এসব কিছু প্রমান করে,তার অভ্রা যে এখন তিন তিনটে সন্তানের মা?হয়তো করে।ঠিক কতক্ষণ এভাবে সে অভ্রার মুখপানে তাকিয়ে ছিলো বুঝলো না।হাতদুটো বেশ নিশপিশ পরছে একটু খানি অভ্রার মাথায় নিতে। ইচ্ছেটাকে অবলোকন করলো না প্রচ্ছদ। কাঁপা কাপা হাতে ঘুমন্ত অভ্রার চুলে ধীরে ধীরে বিলি কাটতে লাগলো অনবরত।
একটু পর উষ্ণও এলো।হাতে শুধু জামা নয়,বরং আরো প্রয়োজনীয় কত কিছু।প্রচ্ছদের চোখে চোখ পড়তেই মুচকি হাসলো সে।সময় গেলো কিছুক্ষণ, উষ্ণ একটু এগিয়ে প্রচ্ছদের পাশেই বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ প্রচ্ছদ কাতর কন্ঠে বললো...
"উষ্ণ ভাই,একটা ঘোরতর অন্যায় আবদার করি তোর কাছে?"
উষ্ণ অভ্রার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে প্রচ্ছদের দিকে তাকালো।মুখে সেই মিষ্টি হাসি রেখেই বললো..
"বল না প্রচ্ছদ ভাই?"
"তোর সন্তানদের মায়ের কপালে একটিবার আমায় ঠোঁট ছোঁয়াতে দিবি?"
কথাটা কানে যাওয়া মাত্রই উর্মি হা হয়ে গেলো।সেও জানে প্রচ্ছদের অনুভুতি।কিন্তু এতটা অন্যায় আবদার কি মেনে নেবে উষ্ণ?
কিছুক্ষণ নীরবতার পর উষ্ণ বললো..
"আচ্ছা। দিলাম অনুমতি।"
ঠোঁটের কোনে কোমল হাসি ফুটলো প্রচ্ছদের। দেরি না করেই নিজের ওষ্ঠ এগিয়ে নিলো অভ্রার কপালে,এগিয়ে গিয়ে আবার থেমেও গেলো।মনে হলো,কিছু নিষিদ্ধ জিনিস,নিষিদ্ধ হয়েই থাকুক না হয়।ভাগ্যবতীর কপালটায় না হয় সারা জীবনের জন্য এক উষ্ণেরই অধিকার থাকুক।
আলতো করে মাথাটা উঁচিয়ে অভ্রার মাথার চুলের ভাজেই চুমু খেলো প্রচ্ছদ, কপালটা সে অপবিত্র করেনি অভ্রার।তবুও যেন মনটায় ভীষণ শান্তি লাগছে।ইশশ,পাঁচ বছর আগে নারী দেহে মিশে থাকা প্রচ্ছদ কি কখনো ভেবেছিলো,একটা সময় কারোর চুলের ভাঁজে এই টুকু একটা চুমু খেয়েও অন্তর শান্ত হবে তার?
ঘুম ভাঙতেই অভ্রা তার দু পাশে দুজন ভালোবাসার মানুষকে দেখতে পেলো।উষ্ণকে পেয়েই আলতো করে উষ্ণের হাত ধরলো।তাতেই আলতো হাসলো উষ্ণ। অভ্রার গালে নিজের আরেক হাত রেখে বদুরে স্বরে বললো...
"শরীর কেমন লাগছে ফুল?কোনো সমস্যা হচ্ছে তোমার?"
অভ্রা ঠোঁট উল্টালো,হুট করেই মিনমিনিয়ে বাচ্চাদের মতো বলে উঠলো...
"আ্ আমার বাচ্চা? আ্ আমাকে এ্ একটু ছুয়ে দেখতে দাওয়া? একটুও দেখতে দ্ দিলো না আমার বাচ্চাকে..."
উষ্ণ আলতো হাসলো,চোখ মুছিয়ে দিলো তার ফুলটার।উর্মিকে ইশারা করতেই অভ্রার ছেলেকে কাছে নিয়ে এলো সে।অভ্রার বেডটাকে একটু উঠিয়ে দিয়ে, অভ্রাকে আধশোয়া করে দিলো।ছোট কম্বলে মোড়ানো বাচ্চাটাকে আলতো করে অভ্রার বুকের সাথে মিশিয়ে শুইয়ে দিলো উর্মি।হেসে বললো...
"এই নাও, তোমার ছেলেকে বুকে আগলে নাও তো।"
অভ্রা তাই করলো।চোখ বন্ধ করে দু ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো তার।সেটা আবার উষ্ণ স্বযত্নে মুছিয়েও দিলো।একটু পরেই অভ্রা তাকালো উষ্ণের দিকে।একটু ভ্রু কুঁচকে বললো...
"এতোদিন ও একা আমার মধ্যে ছিলো?কিন্তু আমার যে মনে হলো আরো কেউ?"
অভ্রার কথায় ফিক করে হেসে দিলো তিনজনই।প্রচ্ছদতো জিজ্ঞেস করেই বললো..
"কি বলছো?"
অভ্রা বাচ্চাদের মতো চোখ গোলগোল করে প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে বললো....
"হ্যা দাভাই,,ও একা?তাহলে যে আমার পেটে একসাথে অনেকগুলো জায়গায় কিক করতো?এটা কিভাবে হতো?উষ্ণায়ন?তোমাকে আমি দেখাইনি বলো?অনেক গুলো কিক একসাথে করতো যে?"
উষ্ণ অভ্রার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো...
"এতো উতলা হয়না ফুল,একটু অপেক্ষা করো,আমি দেখছি।"
বলেই প্রচ্ছদকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো সে।প্রায় আধঘন্টা পর দুজন ফিরলো কোলে দুটো মেয়েকে নিয়েই।অনেক রিকুয়েষ্ট করে মাত্র দশ মিনিটের জন্য আনতে পেরেছে এখন। নাহলে ছয় দিনের আগে দেখা মিলতো না তাদের।অভ্রার কোলে দিতেই তিনটি মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে রইলো সে।তাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে উষ্ণ হেসে বললো...
"কি দেখছো ফুল?"
"এরা তিনজন..."
"এরা তিনজনই আমাদের সন্তান।এখন থেকে তুমি দুই মেয়ে,এক ছেলের মা।বুঝলে ফুল?"
অভ্রা যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতেই পারছে না।অবাকতার রেশ কাটিয়ে খুশিতে কেমন কান্না করে দিলো মেয়েটি।অনবরত তিনটে বাচ্চাকে আলতো হাতে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দিতে লাগলো,আবার ক্ষনে ক্ষনে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরলো তাদের।
অভ্রার এমন উৎফুল্ল আবেগ দেখে মুহুর্তেই কেবিনে থাকা সকলের মুখে ফুটে উঠলো একরাশ খুশির ঝলক।যেমন হাসলো পৃরচ্ছদ,উষ্ণ, উর্মি, প্রীতি,তেমনি খুশিতে সামিল হলো,কেবিনে থাকা নার্সরা পর্যন্ত।
----------
সেই ঘটনা পাড় হয়েছে আজ প্রায় দেড় বছর হতে চললো।হাতে হাতে অভ্রার সন্তানরাও বেড়ে উঠেছে ধীরে ধীরে।সেই সময় হসপিটাল থেকে আর ফিরে যাওয়া হয়নি কুমিল্লার সেই ফ্ল্যাটটিতে।প্রীতির কথায় অভ্রা সহ সবাইকে নিয়ে এলো পরিচিত ছোট্ট দাগনভূইয়া শহরের ভাড়া বাসাটায়।উষ্ণ এমনিই নতুন একটি ফ্ল্যাট কিনার জন্য ভাবছিলো।প্রীতি,প্রভাতি বিষয়টা শুনে অনেক বার অনুরোধ করলো,কুমিল্লায় না নিয়ে যেন কাছে কোথাও নেয়,এমনিতেই অভ্রার একার পক্ষে তিন তিনটে ছেলে মেয়েকে সামলে রাখা খুব একটা সহজও নয়।বিষয়টা উষ্ণ ও চিন্তা করলো।তাইতো,দাগনভূইয়াতেই এই বড়সড় ফ্ল্যাটটি কিনলো।যদিও টাকার পরিমান বেশি হওয়ায় ভেবেছিলো গাড়িটা বিক্রি করে দিবে।তবে অভ্রা তা করতে দেয়নি।একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে অভ্রা নিজের আয় থেকে সাহায্য করেছে উষ্ণকে,তাই গাড়ি আর বিক্রি করতে হয়নি।বড় ফ্ল্যাট কিনার পর প্রীতিদের কাউকেই আর ভাড়া বাসায় থাকতে দেয়নি উষ্ণ। এখন বলতে গেলে দুটো পরিবার মিলেমিশে একসাথেই থাকে।এতে প্রনতিও খুশি,আগের মতো আর একা লাগে না। বোনের সাথে গল্প করে দিব্বি কাটিয়ে দেয় সময়।
অন্দর থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ধীরে ধীরে বাড়ছে দেখেই প্রচ্ছদ এগিয়ে গেলো উষ্ণের রুমে।বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে আছে অভ্রা।তারই এপাশ ওপাশ ঘুরঘুর করছে উষ্ণা,প্রশ্না আর অভ্র নামের বাচ্চা তিনটা।হ্যা,ঘটা করে উষ্ণ নিজের বাচ্চাদের নাম রেখেছে।মেয়ে দুটোর নাম, উষ্ণজা সেনসিংহ উষ্ণা,প্রাচুর্যা সেনসিংহ প্রশ্না। আর ছেলের নাম অভ্রজিৎ সেনসিংহ অভ্র।প্রচ্ছদকে চোখে পড়তেই তিনজনই দুহাত বাড়িয়ে আধো আধো বুলিতে ডেকে উঠলো পাপা বলে।প্রচ্ছদও চওড়া হেঁসে দুহাত প্রসারিত করতেই তিনজন হামাগুড়ি দিয়ে জড়িয়ে ধরলো তাকে।প্রচ্ছদ ওভাবেই তিনজন কে কোলে তুলে নিয়ে,এক পলক অভ্রার দিকে তাকিয়ে বেরিয়ে এলো রুম থেকে।ড্রয়িংয়ে উষ্ণ বসে ভিডিও কনফারেন্সে ব্যস্ত।প্রচ্ছদ আস্তে করে বললো...
"ঘরে যা,অভ্রার মনে হয় মাথা ব্যথা করছে।"
উষ্ণও একটু কল মিউট করে বললো...
"থ্যাংকস ব্রো,আমি দু মিনিটে শেষ করছি।"
"ওরা আজ আমার সাথেই ঘুমাক।আর শোন? হ্যাপি ফোর্থ এনিভার্সেরি উষ্ণ ভাই।"
উষ্ণ মুচকি হেসে বললো...
"থ্যাংকস ব্রো।"
"হুম।অভ্রাকে সময় দে,বেস্ট অফ লাক।ওদের নিয়ে ভাবিস না,ওদের পাপা ওদের ঠিক ঘুম পাড়িয়ে নেবে।ওহ,একটু পিটারগুলো এনে দিস কষ্ট করে।"
"আচ্ছা। "
উত্তর পেয়েই প্রচ্ছদ তিন পিচ্চিকে নিয়ে নিজের রুমে গেলো।এই ঘরটা এখন শুধু প্রচ্ছদের, প্রীথুলা নামক কোনো অস্তিত্ব না এই রুমে আছে,আর না প্রচ্ছদের জীবনে।বেশ তো আছে প্রচ্ছদ তার অভ্রার সংসার নিয়ে।
হুট করেই কোনো একদিন যদি কোনো এক পরিচিত মুখ এসে প্রচ্ছদকে জিজ্ঞেস করে...
"হিংসা হয়না অভ্রার পরিপূর্ণতা দেখে?"
তখন প্রচ্ছদ হেসে উত্তর দেয়...
"শান্ত হই আমি,আমার অভ্রার পরিপূর্ণতা দেখে।আমার কোনো দুঃখ নেই,আমি তো সব পেয়েছি।হ্যা,যা চেয়েছি তাই তো পেয়েছি।অভ্রার ছেলে মেয়ে গুলো উষ্ণকে বাবা ডাকে,আর আমায় পাপা,অভ্রা আর উষ্ণই তাদের শিখিয়েছে এই ডাক।ভাবো তো?আমায় তো বাবা হওয়ার সুযোগ দিয়েছে তারা।আমার নামে তাদের এক কন্যার নাম রেখেছে।প্রচ্ছদ থেকে প্রাচুর্যা,প্রশ্না।এটাও তো আমারই পূর্নতা।সকালে ঘুম ভাঙে আমার অভ্রার হাতের চা দিয়েই,এটাও যে আমার পূর্নতা।রোজ স্নানের পর বিছানার উপর ইস্ত্রি করা শার্ট পাই,অভ্রাই করে।এটাও তো আমারই পূর্নতা।পুজোর সময় অভ্রা আমার তারাহুরো করে ঘরনীর মতো এসে হাতে একটা পাঞ্জাবি ধরিয়ে বলে..
" দাভাই,পাঞ্জাবি টা ঠিকঠাক হয় কিনা দেখুন তো?"
হুম দাভাই,আমি ওর দাভাই ডাকেই থেকে গেলাম।আমার নিত্যদিনের সকল প্রয়োজনীয় কাজের হিসেব অভ্রার হাতে,যেমনি উষ্ণের কাজের হিসেবও থাকে তার কাছে।এতো এতো কিছু তে অভ্রাই যে আমার অর্ধাঙ্গিনী। নাহ,সম্পূর্ণ শরীরে শরীর মিলেনি কখনো,শুধু একবার ওষ্ঠে ওষ্ঠ মিলেছে,তাতেও অভ্রা আমার অর্ধাঙ্গিনী। আমি চাই এভাবেই অভ্রা সারাটা জীবন আমার অর্ধাঙ্গিনী হিসেবেই রয়ে যাক।উষ্ণের জায়গাটা চাই না আমি,উষ্ণের মতো করে এতোটা ভালো আমি কখনোই বাসতে পারবো না অভ্রাকে।আমার অভ্রার তলপেটের ভাজে মাতৃজনিত দাগগুলোতেও যে উষ্ণ খুব যত্ন নিয়ে চুমু খায়,আমি হলে এতোটা পারতাম না।সব মিলিয়ে বলতে পারো,আমার অভ্রার পরিপূর্ণতা গুলোকে ঘিরেই আমার পূর্নতা।থাক না কিছু ভালোবাসা,সারা জীবন অভ্রা আমার অল্প ছোঁয়ার অর্ধাঙ্গিনী হয়ে,আর যত্নে ঘেরা উষ্ণের কাননের ফুল হয়েই।