তুমি কোন কাননের ফুল

পর্ব - ২

🟢

কাধে বড় সাইজের ওজনি ব্যাগ ঝুলিয়ে তৈরি অভ্রা।পড়নে ধপ সাদা রঙের হালকা ডিজাইনের গোল জামা।সাথে নীল ল্যাগিজ আর ওড়না।,দরজা দিয়ে বের হবে এমন সময় পেছন থেকে স্বাভাবিক এক কন্ঠস্বর ভেসে এলো....

"কোথায় যাবি এখন?"

থামলো অভ্রা।ঘুরে তাকালো তার জন্মদায়িনী মায়ের দিকে। নাম অপলা মজুমদার। অভ্রা হালকা হেসে বললো...

"কনসার্টের ইভেন্ট মা।,,আজকের মধ্যে কাজটা সারতে হবে।,,আসতে রাত হতে পারে।"

অপলা এগিয়ে এলো মেয়ের কাছে।হাতে থাকা পাওয়ার ব্যাংকটা ব্যাগে ভরে দিয়ে বললো...

"চার্জ দিয়ে নিবি ফোনে।আর সময় করে খেয়ে নিবি।,,বেশি রাত হলে টুটুল, তুহিন ওদেরকে বলবি আমার মেয়ে কে আমার কাছে এনে দিতে।একা আসবি না।"

হাসলো অভ্রা। তার এই মা টা যে এমনই।,,,কোনো কাজে খুব একটা বাঁধা দেয় না।বরং সাহস জোগায়,আগ্রহ দেয়।ক'জন মা দেবে নিজের মেয়েকে এভাবে ছেলে দলের সাথে কাজ করতে দিতে?,,,,

"কি দেখছিস ওভাবে?"

মায়ের কথায় অভ্রার হাসিটা আরেকটু প্রসারিত হলো..

''আমায় তুমি এতো স্বাধীনতা কেন দাও বলোতো মা?"

নীরবে হাসলো অপলা নামক নারীটি..

"তুই তো আমার লক্ষী মেয়েরে। আমি জানি তুই আমার দেওয়া স্বাধীনতার অপব্যবহার করিস না।তাই তো এতো অগাধ বিশ্বাস। "

"তুমি পারোও মা,,,,"

বলেই অভ্রা আলতো করে জড়িয়ে ধরলো মাকে।,,,

"কাল পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে তোকে অভ্রা"

মা কে ছেড়ে দাড়ালো অভ্রা...

"মা তুমি তো জানোই,আমি এতো তারাতারি বিয়ে করতে চাইনি।,,,তবুও কেন.."

অভ্রার মাথায় স্বযত্নে হাত বোলালো অপলা...

"বোকা মেয়ে,,,দেখতে আসলেই কি বিয়ে হয়ে যায়??,,শুধু তো দেখবেই,,,তারপর তোর ভালো লাগতে হবে,,ছেলের তোকে পছন্দ হতে হবে।,,,,তবেই না???,,,ঈশ্বর যা করে ভালোর জন্যই করে অভ্রা।এই টুকু তো মানবি?"

অভ্রা ভদ্রতার সহিত মাথা ঝুকালো।

"এবার রওনা দে,,,সেখানে পৌছে কল দিস। "

মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে বেরোলো অভ্রা। সিক্ত কাদামাটি যুক্ত বাড়ির উঠোন পেরিয়ে পাকা রাস্তায় উঠে দাড়ালো সে।মিনিট দুয়েকের মাথায় একটা সি এন জি আসতেই উঠলো সেথায়,,।ব্যাগ থেকে ফোন বের করে কল করলো টুটুলকে...

"আমি মাত্র রওনা দিলাম।তোরা কাজ টুকটাক শুরু করে দে।"

"অভ্রা,উনারা স্নো পল থিমটা চাইছে।কি করবো?"

"তাহলে ওটাই দেবো।ডিজাইন ভিন্ন করবো। তুহিনকে বল স্নো পলের জন্য হোয়াইট স্নো বক্স কিনতে ৪ টা।বাকিটা আমি এসে দেখছি।আর তোরা মোট কতজন গিয়েছিস?"

"দিহান ছাড়া মোটামুটি সবাই আছে।আর তমা...."

"তমা আর আমি একসাথে আসবো।ও বাজারে আছে।আচ্ছা, তাহলে এটাই ফাইনাল,,"

"হুম,,ঠিক আছে।দ্রুত আয়।"

কল কাটলো অভ্রা।

গ্রামের রাস্তা ছাড়িয়ে সি এন জি থামলো সেবারহাট । ছোট খাটো একটা বাজারই বলা যায় জায়গাটাকে।মহাসড়কের রাস্তা। অভ্রা গিয়ে দাড়ালো একটা হাড়ি-পাতিলের দোকানের সামনে, একটু সাইড করে।হাইওয়ের বামে তাকাতেই এক বিষন্ন হাসি বুক চিড়ে বেরিয়ে এলো তার।এই পথে গেলেই তো আবার দেখা মিলবে তার প্রচ্ছেদের।,,

কিন্তু আজ যে অভ্রার গন্তব্য ঠিক উল্টো দিকের রাস্তায়।ডান পাশে তাকালো অভ্রা,,,ঐ তো দুরে দেখতে পাচ্ছে তমাকে।হাত উঁচিয়ে ডাকছে সে। অভ্রা এগিয়ে গেলো তমার কাছে।এই একটা মেয়ে,অভ্রার খুব কাছের।মনের খুব কাছে যাকে বলে।

গোলগাল বোকাসোকা চেহারার মেয়েটি তমা,,,উচ্চতায় অভ্রার থেকে এক ইঞ্চি খাটো।তমার ৪ ফিট ১১,,আর অভ্রা বরাবর ৫ ফিটের।,,,নিজেদের মধ্যে বেশি কম থাকলেও,পুরো দুনিয়ার কাছে তারা মাঝারোর মধ্যে খাটোই বিবেচনা করা হয়।

কাছে গিয়ে অভ্রা তাকালো তমার দিকে।,,এই বোকাসোকা মেয়েটার মাথার সিঁথিতে সিঁদুর। কি দারুন ভাবে জ্বলজ্বল করছে।হাতে মোটা মোটা দু খানা শাখা আর পলা।,,,গায়ের রঙ?অভ্রার মতোই কিছুটা চাপা।তবে এই মুহুর্তে অভ্রার মনে হচ্ছে,বিশ্বের সকল সুন্দরীদের তালিকায়,তমার নামটাও যুক্ত করলে মন্দ হয় না।,,,হঠাৎ তমার এমন সৌন্দর্যের কারন কি?,,

অভ্রার অবচেতন মস্তিষ্কে হঠাৎ মেঝো জেঠির একটা কথা এলো,,,তিনি প্রায়ই সবাইকে বলে,, 'বিয়ের পর মেয়েদের মধ্যে এক আলাদা সৌন্দর্য বিরাজ করে',,

তবে কি তমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে??,,এইতো গত সপ্তাহ খানেক আগেই ধর্মমতে, মোটামুটি আয়োজন করেই তমার বিয়ে হয়েছে।পাত্র পরিবারের পছন্দ করা,তমার মতো মেয়ের দ্বারা যে কখনো প্রেমটা হতো না তা দলের সবাই-ই জানে।,,,কারনটা তমার গায়ের রঙ নয়,,আর না অতি সৌন্দর্যবিহীন চেহারা।কারনটা হলো,তমা একটু অন্যরকম।কোনো ছেলে তাকে প্রপোজ করলে তমা প্রথমেই তাকে বললো..

'''''আগে অভ্রাকে জিজ্ঞেস করে নিই,,,"""

অথবা সেই ছেলের সামনেই হো হো করে হেসে দিলো।বলতে গেলে প্রেমের প্রতি খুব একটা ফিলিংস কাজ করতো না তমার,,আর না কোনো আগ্রহ ছিলো।তাই তমাও এরেন্জ ম্যারেজের খাতাতেই নাম লিখালো।

"বর আসতে দিয়েছে তোকে?"

অভ্রাটা এমনই,তা তমা জানে।বিয়ের পরে এই প্রথম দেখা অভ্রার সাথে।অন্য বান্ধবীরা হলে জিজ্ঞেস করতো,ফুলসজ্জা কেমন কাটলো,,জামাইবাবু কেমন?,,,,,, তবে অভ্রা তো এইসব দুর, সামান্য ভালো আছে কিনা তাও জিজ্ঞেস করলো না। সোজা বর আসতে দিয়েছে কিনা তা,,,

"অষ্টমঙ্গলায় বাড়ি এসেছি।ওকে বললাম যে দলের কাজ পড়েছে।তো বললো,,যাও,,,।।।তবে শশুর বাড়ি থেকে এভাবে কাজ করতে দিবে কিনা জানি না।"

অভ্রা নির্বাক তাকিয়ে রইলো সামনে থাকা সহজসরল মেয়েটার দিকে।এই মেয়ের সাথে সেই ছোট্ট বেলা থেকে পরিচয়।ক্লাস ওয়ান থেকে।বেস্টফ্রেন্ড??নাহ,,তখনও হয়নি।স্কুল জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে শুধু বন্ধু হিসেবে।ক্লাস টেনের শেষের দিক থেকেই বেস্টফ্রেন্ড নামক ট্যাগটা নিজেদের মাঝেও জুড়ে নিলো অভ্রা আর তমা।,,,সেই মেয়েই কিনা আজ পরের সংসার সামলায়??অদ্ভুত তাই না??সত্যিই অদ্ভুত।,,,,

"ওমন করে কি দেখছিস??"

তমার কথায় ধ্যান ফিরলো অভ্রার...

"চল, বাস আসলেই উঠে পড়বো।ঐপাশে চল রাস্তার। "

বিপরীত পাশে যাওয়ার প্রায় মিনিট পাঁচেক পর স্টপে এসে থামলো লোকাল বাসটি।তমা আর অভ্রা সেটাতেই উঠে বসলো।

"কাল পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে আমায়। "

অভ্রার বেবাক সুরের কথা খানা যেন তমার নীকট এক চমকপ্রদ সুখবর।উৎফুল্ল চিত্তে বললো...

''সত্যিই তুই রাজি হয়েছিস? "

অভ্রা চোখ ঘুরিয়ে তাকালো তমার দিকে,,,

"শুধু দেখতেই আসবে।বিয়ে হবে না।সবটা জানার পর ওরা নিজেরাই দেখবি না করে দেবে।"

"যদি সবটা শুনেও রাজি হয়?"

অভ্রা নীরব,,হয়তো ভাষা খুজে পাচ্ছে না।,,বাসের সীটে হেলান দিয়ে নির্বিগ্নে চোখ বুজলো সে...

"তুই সবটাই জানিস তমা।প্রচ্ছেদ দাভাই.."

তমার কন্ঠ হালকা উচু হলো,, অভ্রার এই একটা বিষয়ের প্রতিই বিরূপ তমা,,তেতে উঠে বললো...

"প্রচ্ছেদকে ভালোবাসিস তাই তো??,,কি করে পারিস বলতো ঐ নোংরা লোকটাকে ভালোবাসি বলতে?,,তোর মুখে বাধে না অভ্রা?"

চোখ মেলে তাকালো অভ্রা,,,কন্ঠে স্পষ্ঠ কিন্চিৎ করুনা বোঝা গেলো...

"এমন বলিস না তমা।ভালোবাসায় এসব মানে না।আমি তো চাইছি,, পরশুও একবার চেষ্টা করেছিলাম তুহিনকে দিয়ে,,কিন্তু এবারটিও পারলাম না ওকে শেষ করতে।আমার মন সায় দেয় না রে.."

তমার করুনা হলো।এই অভ্রা মেয়েটা যে গত দুটো বছর আগুনে পুড়ে দ্বগ্ধ হয়েছে,তা তো তমা নিজ চোখে দেখেছে।অনুভব করেছে তার সেই অতি পরিচিত বান্ধবীটি কি করে গত দুটো বছরে নিজেকে কোমল মাটি থেকে পাথরে পরিনত করেছে।

"কেন এখনো ঐ প্রচ্ছেদকে ভালোবাসিস বলতো অভ্রা?,,তুই সবটাই জানিস,,,ও এখন পুরোপুরি ভাবেই প্রীথুলার।তুই তো ওর মষ্তিস্কের খন্ডাংশেও নেই "

"থাকতে চাই না তো আমি।,,,সে আমায় ভুলে ভালো আছে,ভালো থাকুক,,আমিও চাই ভুলতে তাকে। খুব করে ভুলতে চাই ওকে।কিন্তু পারি না,,,আমার হৃদপিন্ডটা বারবার ওর কথা মনে করিয়ে দেয় আমায়।,,মনে হয়,,নাই বা পেলাম নিজের করে,, অন্তত আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসাটা বেচে থাকুক। "

"তাহলে আবার মারতে চাস কেন ওকে??"

প্রশ্নটা অভ্রার ভাব পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট ছিলো।মুহুর্তেই কন্ঠে দৃঢ়তা প্রকাশ পেলো অভ্রার...

"প্রতিশোধ??,,,ও আমাকে ভালো নাই বা বাসলো,,,চাইলেই পারতো একটু দয়া দেখাতে।কিন্তু সে করেনি।সম্পর্কের শেষ মুহুর্তে সে আমায় হীন করেছে,,,তার কাছে,প্রীথুলার কাছে,এমন কি আমার নিজের কাছেও।,,,তাই আমাকে দয়াটুকুও না করার প্রতিশোধ হিসেবে ওকে শাস্তি দিতে চাই আমি।জেনে বুঝেও কেন আমায় ফাসালো সে??"

তমা বিরক্ত হলো খানিক,,,এই অভ্রার মাথায় কখন কি চলে,তা তমার পক্ষে বোঝা বড় দায়,,,

"জানি না বাপু,,,তোর যা মন চায় তাই কর।এক তরফা ভালোই বেসে যা ঐ প্রচ্ছেদকে,,,আমি কিছু বললে তো শুনবি না,,তাই বললামও না।"

তমা মুখ ঘোরালো বিপরীত দিকে।অভ্রা করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তমার দিকে।কিছু মুহূর্ত পর অভ্রা জানালা দিয়ে বাইরে দৃষ্টি দিলো।ডার্ক সার্কেলে ভরা চোখ দুটি সিক্ত হলো খানিক।,,চোখ বন্ধ করে তাও বাধা দিলো অভ্রা।মনে হাজার কথা,,যেই কথা গুলো অব্যপ্ত,,কখনো আর হয়তো চেয়েও বলা হবে না তার প্রচ্ছেদ দাদাভাইকে,। তারই মাঝে আজ যেন আরো একটা কথা যুক্ত হলো মনের তালাবন্ধি দুয়ারে...

""" কোনো বেকার ছাওয়ালও এমন করে চাকরি খুজে নাই, যেভাবে আমি আপনারে পাওয়ার তারিকা খুজেছি।

দুনিয়ার বেবাক মানুষ বুঝলো,-আপনারে আমার লাগবেই লাগবে।-

শুধু আপনি মানুষটা বুঝলেন না।""""

-------

চৌমুহনী বাস স্টপে বাস থামতেই নেমে এলো অভ্রা আর তমা।,কনসার্টটা হবে এলাকার বিশাল আকারের পাইলট স্কুলের মাঠ প্রাঙ্গনে।বাস স্টপ থেকে রিক্সায় করে প্রায় ৫ মিনিটের পথ অতিক্রম করেই দেখা মিললো চৌমুহনী পাইলট হাই স্কুল।।,,,

ভাড়া মিটিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো দুজনই।মাঠ জুড়ে এখন শুধু ক্যাটারিংয়ের লোকজনই।,,,,সামনেই বড় আকারের স্টেজ।শুধু স্টেজটাই তৈরি করে রাখা হয়েছে লোহা-কাঠের মিশ্রনে তৈরি লম্বা লম্বা টেবিলের সাহায্যে,।আগামীকাল স্টেজ কাপাতে আসছে কিনা কনসার্টের মস্ত নাম করা গায়ক দল।তাদের গানের সাথে তো হালকা পাতলা নাচটাও প্রযোজ্য,,নাহলে দর্শকের মন মজবে কি করে??,,তাইতো বেশ মজবুত করেই স্টেজটা তৈরি করার দায়ীত্ব পরেছে অভ্রাদের পুরো দলের উপর।

সাদা রঙের টিস্যু কাপড় গুলো প্রয়োজন মাফিক ভাজ করতে করতেই টুটুলের নজর পড়লো অভ্রা আর তমার দিকে।স্টেজের কাছটায় এগিয়ে আসতেই হেসে তমাকে অভিনব পদ্ধতিতে অভিবাদন জানায় টুটুল...

"কিরে বিয়াইত্তা বেডি।ঘর সংসার সুখের আছে তোর??"

তমা গিয়েই চাপড় বসালো টুটুলের পিঠে..

"পচাইবি না দোস্ত। সামনে থেকে না ও থাকতে পারি।"

টুটুল নিজের কাজ করতে করতেই বললো...

"যাহ বেডি।তুই না থাকলেও চলবো।আমার বহু রানিডা আছে না??"

অভ্রাকে ইঙ্গিত করে বলা কথাটা বুঝতে পারলো সবাই-ই।,,তবে অভ্রার কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না।সে ব্যস্ত হলো স্নো পলের বক্স গুলো চেক করতে।

তমা কোমড়ে হাত দিয়ে স্টেজের ডিজাইন ম্যাপটা দেখতে দেখতে বললো...

"তোর বহু রানিকে তো আগামীকাল দেখতে আসবে দোস্ত। "

হাসলো টুটুল,,যেন এটা এক স্বাভাবিক কথাই।আড়চোখে অভ্রার দিকে তাকিয়ে বললো...

"সে আসুক ক্ষন।,,আমাদের অভ্রা তো আর বিয়ে করার পাত্রী নয়।আর করলেও দোস্ত, আমার থেকে বেশি খুশি কেউই হইবো না।"

তমা নির্বাক তাকালো টুটুলের দিকে।তাদের বন্ধুমহলের এই হাস্যজ্জল ছেলেটা অভ্রাকে ভীষণ ভালোবাসে।প্রকাশ্য ভালোবাসাই বলা যায়।তবে ভাগ্য যে এই ছেলেটার সহায় নয়।অভ্রার প্রেমে তার মতিভ্রম হলেও ধর্মভ্রম হয়নি।অভ্রা যদি হিন্দু সম্প্রদায়ের না হতো তাহলে হয়তো টুটুল এতোদিনে অভ্রাকে নিজের ঘরের রানি করেই নিতো।কিন্তু ঐ যে কথা একটাই,,পূর্নতা সবার জন্য নয়।টুটুলের জন্যও নয়,সে জানে অভ্রা তার হবে না।তবুও যেন আজীবন ভালোবাসার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছে টুটুল।

সারাদিনের কাজ শেষ করে বেশ রাতই হয়েছে বাড়ি ফিরতে।টুটুলরাই এনে দিয়েছে অভ্রাকে।এটা নতুন নয়,,সবসময়ই এমন হয়।দেরি হলে এই বন্ধুমহলই পৌঁছে দেয় দলের নারী সদস্যদের।আজও তার বিপরীত হলো না।তবে এই বিষয়টির সবসময় ঘোর বিরোধীতা করেন অভ্রার বাবা।তিনি কি আর জানেন?যে সুযোগ পেলেও বন্ধু নামক শব্দটির অপমান করার মতো সদস্য অভ্রার দলে নেই।বিপরীত মস্তিষ্ক নিয়ে কখনোই কোনো ছেলে বন্ধু কোনো মেয়ে বন্ধুকে ছোঁয় নি।এমন কি অভ্রার থেকে বয়সে প্রায় চার বছরের বড় টুটুল তাকে আকাশ সমান ভালোবাসা স্বত্বেও কখনোই বন্ধু ছাড়া অন্য কোনো লালসা নিয়ে ছুঁয়ে দেখেনি তাকে।তার কাছে ভালোবাসা দুর থেকে দেখতেই সুন্দর।

--------

কথা মতোই পরদিন বিকালে বাড়িতে এসে উপস্থিত হয় পাত্রপক্ষ। আপ্যয়নের ত্রুটি রাখে নি অভ্রার পরিবার।সামর্থ্যের মধ্যেই আয়োজন করেছে অতিথিদের জন্য।

অভ্রাও দ্বিমত করেনি।বাবার কথা মানতে বাধ্য না হলেও বিনা প্রয়োজনে অমান্যও করে না অভ্রা।আজ সবই মেনে নিলো। শুধু একটাই আবদার ছুড়লো সে,,শাড়ি পড়বে না।শালীন ভাবে জামা পড়েই পাত্রপক্ষের সামনে হাজির হবে।,,,

বাবা মানলো।বড় মেয়েকে তিনি যথেষ্ট কঠোর ভাবে পরিচালনা করেন,তবে তাই বলে কি ভালোবাসে না??মোটেও নয়,,বাবারা সব সময় সব সন্তানকে সমান ভালোবাসে,তবে তা বহিঃপ্রকাশ করতে নারাজ।অভ্রার বাবার ক্ষেত্রেও এমনটাই পরিলক্ষিত।

ছোট বোন 'অঙ্গ' এসে উৎফুল্লতার সহীত অভ্রাকে জানায়...

"জানিস দিদি,,ছেলেটা বেশ দেখতে,,নামটাও সুন্দর, উষ্ণায়ন সেনসিংহ । প্লিজ দিদি,রিকুয়েষ্ট,, এই ছেলেটাকে রিজেক্ট করিস না।"

অভ্রা উত্তর দেয় না।আয়নায় নিজেকে দেখে মুচকি হাসে,মনে দোলা দেয়..

"আমার প্রচ্ছেদের কাছে অন্য কোনো ছেলের সৌন্দর্য ফিকে পড়ে রয়। "

স্বাভাবিক ভাবে পাত্রপক্ষের সামনে হাজির হলেও সেখানে থাকা একটি লোককে দেখে মুহুর্তেই থেমে যায় অভ্রা।মস্তিষ্ক জুড়ে একটা প্রশ্নই উকি দেয়..

"এই লোকটা এখানে?"

তুমি কোন কাননের ফুল গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক রোমান্টিক গল্প