বাইক চলছে নিজের ছন্দে। বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছে পথ, আর সেই ছুটে চলার মাঝেই বৃষ্টি তুষার'কে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে আছে। চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ,খুললেই যেন ভয় আরও বেড়ে যাবে। বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ, হাতের মুঠোয় অজানা শঙ্কা।
কিন্তু বৃষ্টির এই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা তুষারে'র ভেতরে অন্য রকম এক ঝড় তোলে। বুকের গভীরে কোথাও অস্বস্তি, কোথাও অদ্ভুত উষ্ণতা। সে বড় বড় শ্বাস নিয়ে নিজেকে কন্টোল করার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ নীরব থেকে বৃষ্টি'কে উদ্দেশ্য করে বলে,
"বৃষ্টি বুড়ি!
বৃষ্টি আনমনে, একটু কাঁপা স্বরে জবাব দেয়…
– জ্বী ভাইয়া।
তুষার ধীর গলায় বলে উঠে
"তোর হাতটা একটু আলগা করে ধর।
সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি যেন বিদ্যুৎ স্পর্শে চমকে উঠে হাত সরিয়ে নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই পড়ে যাওয়ার ভয় তাকে আবার টেনে আনে, হালকা করে তুষারে'র শার্টের কাপড় খামচে ধরে সে। তুষার মাথা একটু কাত করে, কণ্ঠ নামিয়ে ফিসফিস করে বলে—
"তোকে কিছু প্রশ্ন করবো… জাস্ট ঠিকঠাক উত্তর দিবি।
বৃষ্টি পিটপিট করে তাকায়। আজ তুষারে'র কণ্ঠস্বরটা অন্য দিনের মতো নয়। সেখানে কড়া শাসন নেই, নেই স্বাভাবিক ঠাট্টা। কেমন যেন আবেগ মেশানো, অদ্ভুত এক গাম্ভীর্য। যা তার বুকের ভেতর অজানা শঙ্কার পাশাপাশি কৌতূহলও জাগিয়ে তোলে। সে নিচু স্বরে প্রতিধ্বনিত করে,
– আচ্ছা বলো!
তুষার গভীর স্বরে বলে উঠে,
"জানি, আমি যা জিজ্ঞেস করবো তাতে তোর কষ্ট হবে। কিন্তু বিশ্বাস কর, তোকে কষ্ট দেওয়ার জন্য এসব জিজ্ঞেস করছি না। এই ব্যাপারে আমি আম্মুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম… কিন্তু আম্মু কিছুই বলতে চায়নি। তাই তোকেই জিজ্ঞেস করতে হচ্ছে। প্লিজ আমাকে ভুল বুঝিস না বুড়ি। জাস্ট কয়েকটা প্রশ্ন, কষ্ট হলেও উত্তর দিস।
বৃষ্টি ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে নেয়। চোখে কোণে হাজারও অভিযোগ জমে আছে। তবুও সে হালকা স্বরে বলে,
– কষ্ট...? যার কষ্ট নিয়ে তার আপন মানুষগুলো ভাবলো না, সেটা তোমাকে ভাবতে হবে না ভাইয়া। তোমার যা জানার আছে, বলো।
বৃষ্টির কথায় তুষারে'র ভেতরটা হঠাৎ করে মোচড় দিয়ে ওঠে। সে কষ্ট দিতে চায়নি, কখনোই না। কিন্তু এই প্রশ্নগুলো না করলে সে নিজেও শান্তি পাবে না। শীতল কণ্ঠে, নিজের আবেগ লুকিয়ে সে প্রশ্ন করে,
"মা-বাবা নাম এই দুটো শব্দকে তুই এত ঘৃণা করিস কেন? আর কেনই বা আমাদের বাসায় আছিস?
প্রশ্ন দুটো শুনেই বৃষ্টি'র বুকটা কেঁপে ওঠে। নিঃশ্বাস আটকে আসে মুহূর্তের জন্য। তবু সে নিজেকে সামলে নেয়, কণ্ঠটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে…
– তোমাদের বাসায় আছি বলে তোমার খুব সমস্যা হচ্ছে তুষার ভাইয়া?
একটু থেমে সে আবার কাঁপা গলায় বলে,
– সমস্যা হওয়ারই কথা। আমি তো হঠাৎ উড়ে এসে তোমাদের ভালোবাসায় ভাগ বসিয়েছি। তুমি বললে আমি চলে যাবো। আমি কারো অসুবিধার কারণ হতে চাই না।
এই কথা শেষ হতে না হতেই তুষার হঠাৎ করে বাইক থামিয়ে দেয়। আচমকা থামায় বৃষ্টি সামলাতে না পেরে তুষারে'র পিঠে ধাক্কা খায়। ভয়ে আর অপ্রস্তুতিতে সে চুপ করে যায়। তুষার রাগী চোখে তার দিকে তাকাতেই বৃষ্টি মাথা নিচু করে ফেলে। সে ভাবে, এবার বুঝি অনেক বকুনি খেতে হবে।
কিন্তু পরক্ষণেই তুষার তাকে অবাক করে দিয়ে তার হাতটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। কোনো কথা না বলে, কোনো রাগ দেখিয়ে নয়৷ এক অদ্ভুত দৃঢ়তায় তাকে বাইক থেকে নামিয়ে নেয়।
সামনেই একটা শিউলি গাছ। তুষার বৃষ্টির হাত ধরে গাছটার নিচে এসে বসে পড়ে। বৃষ্টি অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার পাশে গিয়ে বসে চুপচাপ, একটু অস্বস্তি নিয়ে।
– তুষার ভাইয়া, মেঘু আর…
বাকিটুকু শেষ হওয়ার আগেই তুষার থামিয়ে দেয়,
"আমি আছি তো, এতো টেনশন নিস কেন? আর এই নে, চকলেটটা খেয়ে নে।
বুকের পকেট থেকে একটা কিটক্যাট বের করে বৃষ্টি'র হাতে গুঁজে দেয় তুষার। বৃষ্টি নিতে চায় না, কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে ফিরিয়েও দিতে পারে না।
তুষার আবার বলে,
"এটাতে বিষ মিশাইনি। তাই নির্ভয়ে খেতে পারিস।
বৃষ্টি কোনো কথা না বলে চুপচাপ অর্ধেক চকলেট খায়। বাকি অর্ধেকটা কাগজে মুড়ে রেখে দেয়। সেটা দেখে তুষার চোখ রাঙিয়ে প্রশ্ন করে,
"বাকিটা কী করবি?
বৃষ্টি একটু আমতা–আমতা করে বলে,
– মে মে মেঘু'র জন্য।
তুষার আরেকটা চকলেট বের করে বৃষ্টি'র হাতে দিয়ে বলে
"ওহ্ গড! এটা মেঘু'র জন্য। প্লিজ বোন আমার, এবার তো খেতে পারিস?
বৃষ্টি মাথা নিচু করে চকলেটে কামড় দেয়। শেষ টুকরোটা মুখে দেওয়ার আগেই তুষার মুখ ভেঙিয়ে বলে উঠে,
"মেঘু'র জন্য নিজের ভাগ রেখে দিতে পারিস, অথচ আমি চকলেট দিলাম একবারও জিজ্ঞেস করলি না আমি খাবো নাকি!
তুষারে'র কথায় বৃষ্টি লজ্জায় লাল হয়ে যায়। সত্যিই তো৷ যার চকলেট, তাকেই জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছে সে। বৃষ্টি চোখ দুটো ছোট্ট করে বলে ওঠে,
– ভুলে গেছি… কিন্তু এখন কী করবো? চকলেট তো শেষ।
তুষার হালকা ঝুঁকে বৃষ্টি’র হাত থেকে চকলেটের শেষ টুকরোটা নিজের ঠোঁটে তুলে নেয়। এক মুহূর্ত পর দুষ্টু হাসিতে চোখ দুটো চকচক করে ওঠে।
"এবার হয়েছে! বল তো, বৃষ্টি বুড়ি, চকলেটের টেস্ট হঠাৎ দ্বিগুণ বেড়ে গেল কেন?
বৃষ্টি লজ্জায় সঙ্গে সঙ্গে মুখ লুকিয়ে ফেলে, মাথাটা নুয়ে আসে। গাল দুটো অজান্তেই লাল হয়ে ওঠে। তুষার হেসে বলে,
"হয়েছে, আর লজ্জা পেতে হবে না। এবার আমার কথা শোন…
আচ্ছা, তোর এটা কেন মনে হলোন তুই যদি তোর খালামনির বাসায় থাকি, তাতে আমার কোনো প্রব্লেম হবে? তোকে তো আমি শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম। আর তাতেই তোর মনে হলো আমার প্রব্লেম হচ্ছে!
বৃষ্টি মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে থাকে। তুষার আবার বলল,
"শোন বুড়ি, ছোটবেলায় তোকে কতবার আমার সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছি কিন্তু তুই যাসনি। একটু জোর করলেই কান্নাকাটি শুরু করতিস। কারণ তুই তোর আব্বু-আম্মুকে ছাড়া থাকতে পারতিস না। তারপর আমি চট্টগ্রাম চলে গেলাম, সেখানেই পড়াশোনা শুরু করলাম। এরপর আর তোর খোঁজ ঠিকমতো পাওয়া হয়নি। আম্মু বলত, তুই নাকি মামাবাড়িতে আছিস। কিন্তু হঠাৎ করে কী হলো, যে সবকিছু এমন উলটপালট হয়ে গেল? কেন বা তুই মামা বাড়ি চলে গেলি?
হঠাৎই বৃষ্টি ডুকরে কেঁদে ওঠে।
আজ আবার অতীতের সেই ক্ষতটা নতুন করে জেগে উঠেছে। যে ক্ষত তাকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। তুষার নীরবে তাকিয়ে থাকে। ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে বুকে টেনে নিয়ে তার সব কষ্ট নিজের ভেতর নিয়ে নিতে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। তাই বৃষ্টি'র হাত দুটো নিজের হাতের ভাঁজে আলতো করে জড়িয়ে ধরে নরম স্বরে বলে,
"বুড়ি, কাঁদিস না প্লিজ। আচ্ছা, তোর যদি খুব কষ্ট হয়, তাহলে বলার দরকার নেই। চল, আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের দিকে যাই।
তুষার উঠতে চাইলে বৃষ্টি হঠাৎ তার হাত টেনে ধরে।
মাটির দিকে তাকিয়ে থাকে সে। চোখ থেকে টুপটাপ করে অশ্রু ঝরছে। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে ধীরে ধীরে বলতে শুরু করে,
– তখন আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। আব্বু-আম্মুর সাথে রাজশাহীতে খুব সুখে ছিলাম। কিন্তু বছর শেষে একটু মন খারাপ হতো। সবাই তখন মামাবাড়ি যায়, আর আমি যেতে পারতাম না। একদিন আম্মুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। সেদিনই প্রথম সবকিছু জানলাম।
আব্বু-আম্মু রিলেশন করে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবার থেকে কেউ রাজি হয়নি। সেই থেকেই তাদের সাথে সম্পর্ক প্রায় নেই বললেই চলে। শুধু লুকিয়ে লুকিয়ে খালামনির সাথে যোগাযোগ রাখত।
খালামনি যখন আমাদের বাসায় আসত, আমার খুব ভালো লাগত। কিন্তু আম্মু তখন প্রায়ই কাঁদত, হয়তো নিজের বাড়ির কথা মনে পড়ে যেত। এভাবেই কয়েক মাস কেটে গেল।
ইদানীং আব্বু-আম্মুর মধ্যে ভীষণ ঝগড়া শুরু হলো। দিন-রাত, কোনো সময়ের ঠিক ছিল না। যে আব্বু আমাকে সামনে পেলে আম্মুর সাথে উঁচু গলায় কথা বলত না, সেই আব্বুই ধীরে ধীরে এমন জঘন্য আচরণ করতে লাগল, যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি।
আমি আম্মুকে ঝগড়ার কারণ জিজ্ঞেস করতাম। কিন্তু সে কিছুই বলত না। এভাবেই একটা বছর কেটে গেল।
সেইদিন আসল সত্যিটা জানতে পারলাম। গভীর রাতে আবারও তাদের ঝগড়া হচ্ছিল। শুনলাম,আব্বু নাকি প্রায় দুই বছর ধরে পরকীয়ায় জড়িয়ে ছিল। সেই নিয়েই এই অশান্তি। আর সেই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আম্মুও সেই ভুল পথে পা বাড়িয়েছিল। শেষমেশ… দুজনেরই বিচ্ছেদ হলো। দুজন দুদিকে চলে গেল। ভালোবাসার বিয়েটা মুহূর্তের মধ্যেই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।
কিন্তু জানো তুষার ভাইয়া, তারা চাইলে সবকিছু ঠিক করে নিতে পারত। চাইলে আমাকে আগলে রাখতে পারত। কিন্তু তারা কেউই সেটা করল না। কেউ একবারও ভাবল না, আমার কথা। আমার ছোট্ট মনটার ভেতর তখন কতটা কষ্ট জমে ছিল, কেউ বুঝল না।
দুজনই আলাদা আলাদা করে আবার বিয়ে করল। নিজেদের নতুন সংসার নিয়ে সুখে আছে। আর মাঝখান থেকে আমাকে একা করে দিল।
এরপর মামা আমাকে তাদের বাসায় এনে পড়াশোনা করাতে চাইল। কিন্তু মামির অনেক আপত্তি ছিল। তাই আমি নিজেই মামাকে বলে হোস্টেলে উঠে পড়লাম। আমার সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত আমার সব খরচ নানা ভাই দিয়েছিল। তখন সবাই যেন আমাকে পর করে দিল। খালামনি'র সাথে যোগাযোগ করার অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। শুনেছিলাম, তোমরাও এখন আর মামাবাড়ি যাও না।
সেই সময়গুলোতে ভীষণ কষ্ট হতো আমার। যে বয়সে আব্বু-আম্মুর সাথে হেসে খেলতে পারার কথা, সেই বয়সে আমি হোস্টেলের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি ছিলাম।
যে আমি অন্ধকারে ভয় পেতাম বলে আম্মু সারারাত লাইট জ্বালিয়ে রাখত। একটু পর পর উঁকি দিয়ে দেখতো আজকে ঠিক আছি কিনা। আর সেই আমিই অন্ধকার ঘরে রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি…
কাঁদতে কাঁদতে। তবুও কেউ দেখতে আসেনি।
তুষার চাতক পাখির মতো অপলক দৃষ্টিতে বৃষ্টি'র দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটার বুকের ভেতর যে এতো কষ্ট জমে আছে, তার কথা সে আগে কখনো জানত না।
বৃষ্টি বড় বড় শ্বাস নিয়ে আবার বলতে শুরু করে,
– সপ্তম শ্রেণীতে উঠার মাত্র চার মাসও হয়নি, তখন মামা এসে আমাকে বাসায় নিয়ে আসে। বাসায় এসে অবাক হয়েছিলাম, পুরো বাসা শোকে সজ্জিত। সেই রাতেই নানা ভাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। সারাজীবনের জন্য, না ফেরার দেশে। আমার জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো আঘাত পেলাম… নানা ভাই চলে যাওয়ায়। তার মৃত্যু সংবাদ মামা-মামি কাউকে জানায়নি। এভাবে সাত দিন চলে যায়।
তারপর হঠাৎ মামা একজন বৃদ্ধ লোককে নিয়ে আসে। আমাকে তখন একটি লাল বেনারসি পড়ানো হয়। প্রথমে কিছুই বুঝতে পারিনি। পরে জানতে পারলাম, সে দিনই রেহান ভাইয়ার সাথে আমার বিয়ে হয়!
তুষার অবাক হয়ে কণ্ঠে ধীরে জিজ্ঞেস করে,
"বিয়ে? রেহান মামার ছেলে? ও তো রাস্তা ঘাটে মেয়েদের ইভটিজিং করে। আর তুই তখন তো খুব ছোট…
বৃষ্টি শুকনো গলায়, মিনমিন করে বলল,
– হুম, সেই রেহান ভাইয়া। শুনেছিলাম নানা ভাই তার জমি থেকে কিছু অংশ আমার নামে লিখে দিয়েছে। জমির দাম লাখ লাখ টাকা। মামি লোভে পড়ে ওনার ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিয়ে সব জমি নিজেদের করতে চেয়েছিল।
কিন্তু আল্লাহর রহমতে সেইদিন খালামনি যান।এবং সেখানে গিয়ে সব জানতে পারার পর, মামা-মামির সাথে ঝগড়া করে আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। তারপর থেকে আমি এখানে। এখানে এসে নতুন বেস্ট ফ্রেন্ড পেলাম,মেঘু। ওকে পেয়ে আবার নিজের জীবনে একটু সুখ খুঁজে পেয়েছি।
তুষার হাত বাড়িয়ে আলতো করে বৃষ্টি'র চোখের অশ্রু মুছে দেয়। ঠোঁটে মৃদু হাসি এনে বলে,
"আর কাঁদবি না বুড়ি। এখন দেখ, তোর পাশে সবাই আছে। সবাই তোকে সাপোর্ট করবে। তোর যা ইচ্ছে করিস, তবে…
বৃষ্টি ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
– তবে কী, তুষার ভাইয়া?
তুষার ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রেখে বলে,
"আমাকে দাওয়াত না দিয়ে পালিয়ে বিয়ে করিস না!
তুষারে'র কথায় বৃষ্টি হেসে ফেলে। তারপর ধীর কণ্ঠে বলে,
– পালিয়ে বিয়ের কথা মাথাতেও আনতে চাই না। আমার সাথে যা হয়েছে, সেটা আমি আমার সন্তানের সাথে হতে দেবো না। এখন খালামনি যাকে বিয়ে করতে বলবে, তাকেই করবো। আমার খালামনি কখনো আমাকে অসুখে রাখবে না।
তুষার কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করে,
"মানে… আম্মু যাকে বিয়ে করতে বলবে, তাকেই করবি?
– হুম!
"সত্যি তো?
– হুম!
"গড প্রমিজ বল।
বৃষ্টি ঠোঁট ফুলিয়ে বিরক্তির স্বরে বলে,
– তুষার ভাইয়া, তুমি এমন করে কথা বলছো কেন?
"না না, কিছু না। চল এবার…
– আচ্ছা দাঁড়াও দাঁড়াও! আমি তো তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দিলাম। এবার আমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে দাও।
"হু, বল।
বৃষ্টি একটু কৌতুকভরা চোখে তাকিয়ে বলে,
– তুমি তো আমাদের থেকে পাঁচ বছরের বড়। সেই হিসেবে তোমার তো ইউনিভার্সিটিতে পড়ার কথা। প্লিজ এটা বলো না যে তুমি সত্যি সত্যি ফেইল করেছো। কারণ আমি দেখেছি, তুমি মোটামুটি ভালোই পড়ো। যদিও ম্যাথে একটু প্রব্লেম আছে। কিন্তু কেউ একই ক্লাসে চার-পাঁচবার কিভাবে থাকে?
তুষার কিছুটা ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে আওরাল,
"এটা সিক্রেট কথা, কেউ জানে না। তুই রাতে আমার রুমে আসিস আমি সব বলবো।
– তাহলে মেঘু'কে নিয়ে আসবো কেমন?
"ওহু! মেঘু'কে নয়, মেঘু'কে নিয়ে আরেকটা কথা বলবো। মনে থাকবে?
– হুম!
"চল তাহলে!