বিহঙ্গীনির ব্যাকুল মন

পর্ব - ৮

🟢

দেখতে দেখতে বেশ কয়েকটা দিন কেটে যায়!

আজ মেঘ ভীষণ খুশি। আনন্দে লাফাতে লাফাতে সিঁড়ি দিয়ে নামছে সে। কারণ আজ মেঘ, তুষার, বৃষ্টি আর মাহিম কাউকে না জানিয়ে মেলা দেখতে যাবে। মেলাটা তাদের শহর থেকে বেশ দূরে, একটা নির্জন গ্রামে বসেছে। তুষার প্রথমে রাজি হচ্ছিল না, তাই তাকে কেলানি দিয়েই রাজি করিয়াছে। উপরন্তু, কাউকে কিছু জানানো একেবারেই নিষেধ করেছে মেঘ। বাসার কেউ জানলে যাওয়া তো দূরের কথা, দরজাই পেরোতে দেবে না। আর লুকিয়ে ঘুরতে যাওয়ার মজাটাই আলাদা। এইসব ভাবতে ভাবতেই মেঘ লাফাতে লাফাতে সদর দরজার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ঠিক তখনই আচমকা শক্ত কিছুর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায় সে।

চোখ বন্ধ অবস্থাতেই বিরক্ত গলায় বলে ওঠে,

"কোন শাউ*য়ার নাতিরে! সকাল সকাল খাম্বা হয়ে দাঁড়িয়ে আছিস? খাইতে খাইতে গন্ডারের মতো শরীর বানাইছিস!

কথাটা শেষ করেই মেঘ চোখ খুলে ফেলে। আর সঙ্গে সঙ্গেই কয়েক কদম পিছিয়ে যায়। কারণ সামনে দাঁড়িয়ে আছে তূর্য।

চোখ দুটো লালচে, দৃষ্টি কঠিন। সে মেঘ'কে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একবার ভালো করে পরখ করে নেয়।

কলেজ ড্রেসের সঙ্গে এতটা সাজগোজ,এটা তার একেবারেই জানা ছিল না। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক, চোখে ঘন কাজল, আর বাচ্চাদের মতো দু’টা বেনি করে ঝুলিয়ে রেখেছে। দৃশ্যটা তূর্যের চোখে একদমই ভালো লাগে না।

তূর্য ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,

“কোথায় যাচ্ছো?

মেঘ কোনো ভণিতা না করে সোজাসাপ্টা উত্তর দেয়,

"কলেজে!

“কি করতে...?

"না*ঙ্গ নিয়ে ঘুরতে!

মুহূর্তেই তূর্য রেগে বোম। এই মেয়েটার মুখ দিয়ে একটাও স্বাভাবিক কথা বের হয় না। সে যাই জিজ্ঞেস করুক, ঠিক তার উল্টো উত্তরই পায়। সে আবারও কন্ঠ শক্ত করে বলল,

“তোমার মুখ দিয়ে ভালো কথা বের হয় না পিচ্চি? সব সময় তেড়া তেড়া কথা বলো, নাকি আমাকে পছন্দ না বলেই এমন মিস বিহেভ করছো?

মেঘ তাচ্ছিল্যের হেসে উঠে,

"পছন্দ করার কোনো কারণ কি আছে?

এই কথাটুকুতেই যেন সব নিয়ন্ত্রণ হারায় তূর্য। বিদ্যুৎগতিতে সে মেঘে'র বাহু দু’টো শক্ত করে চেপে ধরে। চোখ দুটো আপনা আপনি লাল হয়ে উঠে। পরক্ষনেই নিজেকে সামলে করুণ স্বরে বলল ,

“পিচ্চি, কেন এমন করো আমার সাথে? আমি কী করেছি? কেন বারবার এই রক্তাক্ত বুকে আঘাত করো?

মেঘ নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তূর্যে'র শক্ত গ্রিপে পেরে উঠতে না পেরে সে পাল্টা রেগে ওঠে,

"ছাড়ুন আমাকে! আর কী বললেন? আপনি কিছুই করেননি? এত কিছুর পরেও এই কথা বলতে পারেন?

তূর্যে'র কণ্ঠ হঠাৎই ভারী হয়ে আসে, রাগের জায়গায় জমে ওঠে গভীর যন্ত্রণা,

“ওই একটা ভুলের জন্য আর কতদিন আমাকে ঘৃণা করবে বলো? আগের মতো তোমার সেই হাস্যোজ্জ্বল মুখটা আর দেখি না। ইদানীং আমাকে এভয়েড করে চলো। আমাকে দেখলেই চুপ হয়ে যাও, একটা কথাও বলো না। এমনকি আগের মতো পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়াটাও করো না। কিন্তু কেন, পিচ্চি… কেন?

মেঘ চোখ তুলে তাকায়, ঠোঁট কাঁপে…

" হাত ব্যথা করছে… ছাড়ুন প্লিজ।

তূর্য তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে,

“আমার হৃদয় যে ব্যথায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে, সেটা দেখতে পাচ্ছো না? নাকি দেখেও না দেখার অভিনয় করছো?

মেঘ আর কিছু বলে না। শুধু চোখ নামিয়ে নেয়।

“চুপ করে আছো কেন? প্লিজ বলো, পিচ্চি…!

মেঘ তূর্যে'র হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। গলার স্বর স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলে,

"আমার কলেজ যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। আর আমাকে প্লিজ ‘পিচ্চি’ বলে ডাকবেন না। এই ডাকগুলো আমার অসহ্য লাগে।

তূর্যে'র বুকটা কেঁপে ওঠে। ভালোবেসে যে নামটা সে ডাকত, সেটাই যে মেঘে'র কাছে এতটা বিরক্তিকর।

সে জোর করে হালকা হাসি টেনে নেয়…

"ওকে! তাহলে কুইন ডাকি? নাকি পরি? না, ‘মেঘপরি’ বলবো? নামটা কিন্তু খুব কিউট, তাই না পিচ্চি?

হঠাৎ মেঘ চিৎকার করে ওঠে,

"থামুন প্লিজ! আপনার দেওয়া সব নামই আমার অসহ্য লাগে। নিতে পারি না, খুব কষ্ট হয়।

কথাটা বলেই মেঘ মাথা চেপে ধরে। যেন মাথার ভেতর কিছু ভেঙে পড়ছে। ততক্ষণাক সে গটগট করে সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। তূর্য অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। বেশ কয়েক দিন ধরেই মেঘ তাকে এড়িয়ে চলছে। তার ছায়া দেখলেও দূরে সরে যায়। কই, আগে তো এমন ছিল না। তার দেওয়া ভালোবাসার নামটাও তো এতো অসহ্য লাগতো না।

তাহলে হঠাৎ করে… সবকিছু এমন বদলে গেল কেন? তূর্যের বুকের ভেতর প্রশ্নটা কাঁটার মতো বিঁধে থাকে,কিন্তু উত্তর কোথাও নেই।

“এত কষ্ট দিও না, মেঘপরি, সহ্য করতে পারি না। তোমার মতো এত ধৈর্য আমার নেই।

দেখো, তোমাকে রেখে চলে যাওয়ার ফল আমি এখনও ভোগ করছি। প্রতিটা মুহূর্তে, প্রতিটা নিঃশ্বাসে।

পাগলের মতো তোমার পিছু পিছু ঘুরি, তবুও তুমি একবার চোখ তুলে তাকাও না। যেন আমি আদৌ অস্তিত্বহীন।

তোমার মতো শক্ত মন আমার সত্যিই নেই, মেঘপরি। ভাঙতে ভাঙতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি। আর যন্ত্রনা দিও না।

___________________

---------------------------------------

তপ্ত রোদের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে মেঘ আর বৃষ্টি। মাথার উপর আগুন ঝরানো সূর্য, পিচঢালা রাস্তাটা যেন গরমে গলে যাচ্ছে। ঘাম জমে উঠেছে কপালে, অথচ অপেক্ষার কোনো শেষ নেই। তুষার আর মাহিম বাইক আনতে গেছে সেই কখন কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি।

মেঘ এখন ভীষণ বিরক্ত। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা তার ধাতে নেই। সে কখনো ডানদিকে, কখনো বাঁদিকে হাঁটছে—বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। সকাল পেরিয়ে প্রায় দুপুর ছুঁইছুঁই, অথচ এখনো মেলায় যাওয়া হলো না! এমন হলে তারা ঘুরবেই বা কখন? এই ভেবে মেঘের মেজাজ আরো চড়া হয়ে উঠছে।

ঠিক তখনই দূর থেকে বাইকের শব্দ ভেসে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তুষার আর মাহিম বাইক নিয়ে তাদের সামনে হাজির হয়। আর তাতেই যেন মেঘের জমে থাকা রাগ এক ঝটকায় বিস্ফোরিত হয়ে পড়ে।

এক মুহূর্ত দেরি না করে মেঘ রাগে গজগজ করতে করতে দুজনের পিঠে পরপর কয়েকটা ঘুষি বসিয়ে দেয়। তুষার পিঠ বাঁকিয়ে মুখ কুঁচকে বলে ওঠে,

''এই ছেমরি! তুই এত মাইর দিস কেন? তোর মাইর একটুও ভালো না।

মেঘ কোমড়ে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে কর্কশ কণ্ঠে পাল্টা প্রতিধ্বনিত করে,

"মাইর আবার ভালো-খারাপ আছে নাকি?

তুষার ভ্রু কুঁচকে ঠোঁট বাঁকিয়ে ব্যঙ্গ করে বলে,

''আছে বইকি! বউ মার দিলে সেটা ভালোবাসা, আর তোদের মতো পেত্নীরা মার দিলে সেটা পুরুষ নির্যাতন হু!

"দাঁড়া, তোকে দেখাচ্ছি মজা!

রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে মেঘ সামনে এগোতেই মাহিম তড়িঘড়ি বলে ওঠে,

– মেঘ, প্লিজ আর ঝগড়া করিস না। না হলে মেলায় যেতে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

কথাটা শেষ করার সুযোগই পায় না মাহিম। বিদ্যুৎগতিতে মেঘ তার চুল টেনে ধরে গর্জে ওঠে,

"শয়তানের হাড্ডি! আমি ঝগড়া করি? সেই কখন গিয়েছিস আর এখন আসার সময় হলো! আর এটা আমি বললেই ঝগড়া হয়, তাই না?

হঠাৎ চুলের টানে মাহিম ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। কাতর স্বরে তাড়াতাড়ি বলে,

– সরি বইন! সত্যিই আমার ভুল হয়েছে। ঝগড়া আমিই করেছি। এবার চল প্লিজ।

মাহিমে'র অসহায় স্বীকারোক্তিতে মেঘের রাগটা একটু হলেও কমে আসে। কিন্তু তার চোখেমুখে এখনো বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট।

হঠাৎ মেঘের মাথায় এক দুষ্টু বুদ্ধি খেলে যায়। সে মাহিমের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে দুষ্টুমি করে বলে,

"মাহিম, তুই বরং আমার জানু'কে তোর বাইকে নিয়ে চল। আর আমি তুষারে'র বাইকে চড়ি। তুষার তো বাইক অনেক স্পিডে চালায়, আর আমার জানু এসব ভয় পায়। আর আমার তো বাইক রাইড ভীষণ পছন্দ,তাই সেটাই বেস্ট অপশন।

মেঘে'র কথা শুনে মাহিম নিঃশব্দে হেসে ওঠে। কিন্তু অন্যদিকে তুষারে'র মুখ মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায়। মনে মনে কত আশা নিয়ে সে দাঁড়িয়ে ছিল, আর এই মেঘ যেন সেই সব আশার ওপর বালতি বালতি পানি ঢেলে দিল। কাঁদু কাঁদু মুখ করে সে মিনতি করে বলে,

''মেঘু, এখানে আয় বইন!

মেঘ ছোট ছোট পা ফেলে তুষারের' সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কিছুটা দূরে বৃষ্টি নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। সে চারপাশের প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকে। খোলা আকাশ তার খুব পছন্দ—বিশেষ করে স্নিগ্ধ বিকেল। যদিও এখন দুপুর, রোদটা একটু তীর্যক, তবুও তার ভালো লাগছে। মেঘ কাছে আসতেই তুষার মেঘের হাত চেপে ধরে অনুনয়ের সুরে বলে,

''বইন, প্লিজ… প্লিজ… প্লিজ… তুই বৃষ্টিকে বল না আমার বাইকে উঠতে। গড প্রমিজ, আমি একদম ধীরে চালাবো।

মেঘ ভ্রু কুঁচকে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,

"ওহু! জানু মাহিমে'র সাথেই যাবে। ডিসিশন ফাইনাল।

তুষার আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়, আবেগ ঝরিয়ে বলে,

''মেঘু, তুই আমার কিউট ভাবিজান হয়ে এটা করতে পারবি? তোর একটু মায়া হচ্ছে না আমার জন্য?

মেঘ চোখ রাঙিয়ে উত্তর দেয়,

"তোর মায়ার গুল্লি মারি। শালার ভণ্ড! একশোটা প্রেম করেও আমার জানু'র দিকে নজর দিস?

''তোর জানু'ই তো আমার বউ হবে! তাই আগে থেকেই শিখতে হবে না কিভাবে কিভাবে প্রেম করলে বউ খুশি হবে। তাই তো আগে ভাগেই প্রাক্টিস করছি। দোস্ত রাজি হয়ে যা প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ! তুই বললেই বৃষ্টি আমার বাইকে বসবে।

মেঘ অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে এক হাত বাড়িয়ে দেয়,

"পাঁচ হাজার টাকা দে?

''কিহহহহ্! এত টাকা আমি কোথায় পাবো?

"জানু!

''দিচ্ছি, দিচ্ছি। শালার কপালটাই খারাপ। নিজের ফিউচার বউকে বাইকে তুলতে গেলেও শালীর হাতে ঘুষ দিতে হয়!

তুষার বিরক্ত মুখে প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে দু’হাজার টাকা বের করে মেঘের হাতে গুঁজে দেয়।

''আপাতত এইটা রাখ। বাকি টাকা বাসায় গিয়ে পাবি। তোর জ্বালা,দু’টাকা পকেটে থাকে না। আমি নিজে আম্মুর কাছ থেকে ভিক্ষা করে নেই, আর তুই সেগুলো ব্ল্যাকমেইল করে নিস!

মেঘ টাকাটা হাতে নিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসে।

"জানু কাম! ফাস্ট ফাস্ট,

মেঘে'র ডাক শুনে বৃষ্টি দৌড়ে আসে।

– কি হয়েছে?

"ছেলেও না, মেয়েও না! তুই তুষারে'র বাইকে উঠে বস, আমি মাহিমে:র বাইকে উঠি।

মেঘ মাহিমে'র দিকে এক পা বাড়াতেই বৃষ্টি তার হাত টেনে ধরে।

– দোস্ত, আমি একা একা কীভাবে তুষার ভাইয়ার বাইকে বসবো? তুইও চল না, প্লিজ।

"ওহু মেরি জানু! ওই জায়গাটা শুধু তোমার জন্যই বরাদ্দ। আর টেনশন নিস না, তুষার খুব ধীরে বাইক চালাবে।

– কিন্তু…

বৃষ্টি আর কিছু বলার আগেই মেঘ বলে উঠে,

"তুষার, আমার জানু'টাকে ধীরে ধীরে নিয়ে আসবি। ওর শরীরে চুল পরিমাণ ব্যথা লাগলে তোর খবর আছে!

এই কথাটা বলেই মেঘ মাহিমের বাইকে উঠে বসে। সঙ্গে সঙ্গে বাইক স্টার্ট দেয় মাহিম, আর মুহূর্তেই তারা রাস্তায় মিলিয়ে যায়।

বৃষ্টি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। তুষার তার দিকে না তাকিয়েই ধীর স্বরে বলে,

''বুড়ি, উঠে বস। স্পিড কমই রাখবো।

কথাগুলো আশ্বাসের মতো শোনালেও বৃষ্টি'র বুকের ভেতর ধুকপুক থামে না। সে কাঁপতে কাঁপতে বাইকে উঠে বসে। পা দুটো ঠিকমতো জায়গায় রাখতে না পারার ভয়ে আবারও থমকে যায়। ঠিক তখনই তুষারের কণ্ঠ আবার শোনা যায়, আরও নিচু, আরও সাবধানী,

''আমাকে জড়িয়ে ধরে বস। না হলে পড়ে যাবি।

এই কথাটুকু শুনে বৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে যায়। লজ্জা, ভয় আর অচেনা দ্বিধা একসাথে গলা বেঁধে ধরে। তবু পড়ে যাওয়ার ভয়টা সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। কাঁপা কাঁপা হাতে সে তুষারে'র শার্টের কাপড়টা খামচে ধরে। মনে হয়, এইটুকু ধরে থাকলেই বুঝি সে নিরাপদ।

বাইক স্টার্ট দিতেই হালকা ঝাঁকুনিতে বৃষ্টি নিজেকে সামলাতে না পেরে দু’হাত দিয়ে তুষার'কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। ওই স্পর্শটা অনিচ্ছাকৃত হলেও ভীষণ বাস্তব। ঠিক তখনই তুষারে'র বুকের ভেতর কেমন করে ওঠে। সে মুহূর্তের জন্য নিঃশ্বাস নিতে ভুলে যায়। বুকের ওপর অনুভূত হওয়া সেই হাতের চাপ তার হৃদয়ে অদ্ভুত এক দোলা লাগিয়ে দেয়।

এই স্পর্শে কোনো দাবি নেই, নেই কোনো উচ্চারণ। তবু তুষার বুঝে যায়, এই মুহূর্তটা সাধারণ কিছু নয়। সে হাতলটা আরও শক্ত করে ধরে, স্পিড আরও কমিয়ে দেয়—শুধু বাইক নয়, যেন নিজের অনুভূতিকেও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। তার ভেতরে এক অজানা অনুভূতি জন্ম নেয়। এমন অনুভূতি, যা ভালোবাসা বলার মতো সাহস তার নেই, আবার অস্বীকার করার মতো দুর্বলতাও নয়। বুকের ভেতর একটা নীরব টান, যেটা চিৎকার করে কিছু বলতে চায়, অথচ শব্দ খুঁজে পায় না।

বৃষ্টি পেছনে বসে আছে নীরব, ভীতু হয়ে। চাকার ঘূর্ণনের সাথে সাথে রাস্তা পিছিয়ে যায়, কিন্তু তাদের মাঝখানের এই নীরব দূরত্ব,

অদ্ভুতভাবে আরও কাছে এনে দেয় দু’জনকে।

বিহঙ্গীনির ব্যাকুল মন গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় ক্ষয় থেকে ওঠা পুনরুত্থানের গল্প