আর আপনি সেই যন্ত্রনাকে নিজের সামান্য যন্ত্রনার সাথে তুলনা করছেন?
আমি আজও সেই ভয়ংকর দিন গুলো কথা ভুলতে পারি না। ডুকরে ডুকরে মনে হয় সেই ভয়ংকর রাত গুলো।
তখন কোথায় ছিলেন আপনি? কোথায় ছিল আপনার স্বামীর অধিকার? কোথায় ছিল আপনার ভালোবাসা? এর উত্তর আছে আপনার কাছে?
পুরো ড্রয়িংরুম জুড়ে নেমে এলো গাঢ়, ভারী নিস্তব্ধতা!
যেন উপস্থিত মানুষ গুলোও শ্বাস নিতে ভুলে গেছে। তূর্য কপাল ভাঁজ করে মেঘে'র দিকে তাকিয়ে রইল। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে সে আজ নতুন করে দেখছে—চেনা মুখ, অথচ অচেনা এক যন্ত্রণার ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী। সত্যি তো, মেয়েটা একটুও ভুল বলছে না। তার হৃদয়ে জমে থাকা আঘাতের কাছে নিজের কষ্ট, নিজের অভিমান—সবই তুচ্ছ, অর্থহীন।
আজ তূর্য খুব স্পষ্ট করে অনুভব করছে, সেই দিনগুলোতে মেয়েটি ঠিক কতটা অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে বেড়িয়েছে। যে যন্ত্রণা শব্দে বলা যায় না, শুধু বুকের ভেতর চাপা পড়ে থাকে নিঃশব্দে, প্রতিদিন একটু একটু করে মানুষটাকে ভেঙে দেয়।
মেঘ চোখের অশ্রু মুছে আবারও বলতে শুরু করল। কণ্ঠে নিস্তেজ এক দৃঢ়তা, যেন বহুবার নিজেকে সামলে নিয়ে আজ শেষবারের মতো সবটা উগরে দিচ্ছে—
"রাস্তায় বের হলেই লোকে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিত, ওই যাচ্ছে ধর্ষিতা, ধর্ষিতা মেয়ে! যার সারা অঙ্গে পরপুরুষের ছোঁয়া আছে। আপনি বুঝতে পারছেন, তখন আমার বুকটা কেমন করত? মনে হতো, বুকের ভেতর কেউ ধারালো কিছু দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করছে। মন চাইত মরে যাই আমি… সত্যি বলছি, বেঁচে থাকতে চাইতাম না। তখন নিজের ছায়াটাকেও ঘৃণা লাগত।
এমেঘ কটু থামল। চোখ দুটো শূন্যে স্থির, যেন অতীতে ফিরে গেছে। সে আবারও শ্বাস ছেড়ে আওরায়,
"যে সমাজে দোষীদের শাস্তি না দিয়ে নির্দোষদের আঙুল তুলে দেখিয়ে দেওয়া হয় সেই সমাজেই আমাকে বাঁচতে হয়েছে। আসল দোষীরা বুক ফুলিয়ে হাঁটত, আর আমি? আমি ঘৃণা, অপমান আর নীরব কান্না বয়ে বেড়াতাম। কেউ আমাকে বুঝতে চেষ্টা করতো না, জানেন আমি কেন বেঁচে আছি...?
সে আরেকটু এগিয়ে রেখা চৌধুরী'কে উদ্দেশ্য করে বলে,
"এই মানুষটার জন্য যে আমাকে সব সময় সাপোর্ট করেছে। এই তুষারে'র জন্য, যে ভাইয়ের মতো সব সময় আমার ছায়া হয়ে লড়াই করেছে। এই বৃষ্টি'র জন্য, যার বুকে রাতের পর রাত ঘুমিয়েছি। এই পুরো ফ্যামিলির জন্য, তারা না থাকলে আজ এই আমিটা আর থাকতাম না। হারিয়ে যেতাম অন্য দুনিয়ায়।
তার কণ্ঠ হঠাৎ কেঁপে উঠল, কিন্তু সে কান্না থামিয়ে নিল। এই কান্না আজ দুর্বলতার নয়, এই কান্না বহুদিন চেপে রাখা সত্যের। আর মেঘ আর কোনো কথা বলতে পারল না।
ঠিক তখনই হঠাৎ তূর্য মেঘে'র সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। যেন শরীরের সমস্ত শক্তি এক মুহূর্তে ফুরিয়ে গেছে। তার মনে হলো, হৃদপিণ্ডটা বুঝি বুক ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে। এতদিন সে নিজেকে যেভাবে নির্দোষ ভেবেছে, আজ তার সব ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
তার ’মেঘপরী’ যাকে সে ভালোবাসার নাম দিয়ে বেঁধে রেখেছিল! তাকে এতটা লাঞ্ছনা, এতটা অপমান একা একা সহ্য করেছে, তা সে কখনো ভাবতেই পারেনি। হয়তো কখনো ভাবতে চায়নি। দায় এড়াতে চেয়েছে, নিজের স্বস্তির জন্য চোখ বন্ধ করে থেকেছে। ধীরে ধীরে সে মেঘে'র হাত নিজের হাতের ভাঁজে ঢুকিয়ে নিল। হাতটা ঠান্ডা, নিস্তেজ। সেই স্পর্শে তূর্যে'র বুকের ভেতর কিছু একটা ভেঙে পড়ল।
অসহায়ের মতো মেঘের দিকে তাকিয়ে, কণ্ঠস্বর ভেঙে সে ফিসফিস করে বলল—
“আমি জানি, আমার কোনো ক্ষমা প্রাপ্য নশ… তবুও আজ তোমার সামনে দাঁড়িয়ে শুধু এটুকুই বলতে চাই, আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম, ভয়ংকরভাবে ব্যর্থ। স্বামী হিসেবে, মানুষ হিসেবে। তোমার কষ্টের সময় আমি পাশে ছিলাম না, তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতে পারিনি।
সে বড় বড় শ্বাস ছেড়ে বলে,
“সরি! কিন্তু বিশ্বাস করো, ‘মেঘপরি’! আজ যদি সময়টা ফিরিয়ে আনা যেত, তাহলে আমি তোমার প্রতিটা অপমানের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়াতাম। পুরো সমাজের বিরুদ্ধে গেলেও তোমাকে একা থাকতে দিতাম না। হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে… তবুও একটা সুযোগ দেবে পিচ্চি!
মেঘ মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ক্ষমা চাইলেই কি পাওয়া যায়? এত বছরের জমে থাকা কষ্ট, অপমান, নিঃসঙ্গ রাত—সব কিছুর মূল্য কি শুধু একটা “সরি”নতার বুকের ভেতর যেন পাথর চেপে বসে আছে। কথা বলতে গেলে মনে হয়, সেই পাথর ভেঙে গিয়ে সে নিজেই গুঁড়িয়ে যাবে। তাই সে চুপ করে থাকে। নীরবতাই যেন তার শেষ আশ্রয়।
তূর্য আবারও মেঘ'কে টেনে ধরতে চায়, কিন্তু মেঘ নিথর। কোনো প্রতিবাদ নেই, কোনো সাড়া নেই, এই নিঃশব্দতা তূর্যে'র বুকে ছুরির মতো বিঁধে যায়। সে বুঝতে পারে, মেঘে'র এই চুপ থাকা মানে অবহেলা নয়; এই চুপ থাকা মানে গভীর ক্ষত, যা এখনও রক্তাক্ত।
দূরে দাঁড়িয়ে রেখা চৌধুরী অশ্রুসিক্ত চোখে দৃশ্যটা দেখছে। প্রতিটা মুহূর্তে তার বুকের ভেতর মা-হৃদয়টা ছটফট করে উঠছে। সে চায়, তার মেয়েটা আজ অন্তত হালকা হোক। যেভাবেই হোক—কান্নায়, চিৎকারে, অভিযোগে, সব দুঃখ বের করে দিক। মেঘ যদি ভেঙে পড়ে, সে তাকে আগলে ধরবে। শুধু চায়, মেয়েটা ভালো থাকুক, শান্তিতে থাকুক, একটু সুখের স্বাদ পাক।
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা বৃষ্টি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। চোখ বেয়ে টুপটাপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। মেঘ তো তার আত্মা, শুধু বোন নয়, তার নিজের একটা অংশ। সেই আত্মা যখন নিঃশব্দে কাঁদে, তখন বৃষ্টি কীভাবে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবে? তার বুকের ভেতরেও ঢেউ উঠেছে কষ্ট আর অসহায়ত্বের একসাথে জটলা।
তূর্য আবারও মেঘে'র হাতটা শক্ত করে ধরে। এবার কণ্ঠটা ভেঙে আসে, আগের আত্মবিশ্বাস নেই, শুধু ভয়ের সঙ্গে মিনতি মেশানো এক স্বর।
“পিচ্চি… এই দেখো, কান ধরছি। ভুল করেছি, খুব বড় ভুল করেছি। এবার একটু তাকাও আমার দিকে… প্লিজ।
মেঘ তবুও নিশ্চুপ। চোখ নামানো, ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরা। কিন্তু তার চোখের কোণে জমে থাকা জল আর থরথর করে কাঁপতে থাকা ঠোঁট বলে দিচ্ছে—ভেতরে ঝড় চলছে। সে কথা বলতে চাইছে না, আবার ভয়ও পাচ্ছে। যদি মুখ খুলে ফেলে, যদি সব বেরিয়ে আসে, তাহলে হয়তো সে আর নিজেকে সামলাতে পারবে না।
তূর্য'র এবার হাত জোড় করে আসহায়ের মতো প্রতিধ্বনিত করে,
“ক্ষমা করে দাও না, পিচ্চি…? সত্যি বলছি, এমন ভুল আর কোনোদিন হবে না!
মেঘ এবার নিরবতা ভেঙে তার চোখে চোখ রেখে তাকায়। তারপর তাতছিল্ল্য হেসে উঠে...
"ক্ষমা..? কোন ভুলের জন্য ক্ষমা করবো আপনাকে?
এক অবুঝ শিশুর গায়ে জ্বলন্ত সিগারেট চেপে ধরার জন্য? নাকি কলঙ্কিত না হয়েও তার গায়ে কলঙ্ক লেপে দেওয়ার জন্য?
নাকি তাকে অন্ধ সমাজের কীট মনে করে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য?
নাকি তার শিশু-সুলভ মনে গভীর আঘাত করার জন্য? বলুন, কোন ভুলটার জন্য আমি আপনাকে ক্ষমা করবো?
তূর্য কিছুটা পিছিয়ে যায়। কথাগুলো যেন সোজা তার কলিজা'য় এসে আঘাত করে। পিচ্চি'টা তো মিথ্যা বলছে না—একদমই না। সে নিজেই তো তাকে কলঙ্ক বলে চলে গিয়েছিল। একবারের জন্যও ভাবেনি, সেই মেয়েটার পরিণতি কী হবে… কীভাবে তাকে প্রতিদিন মৃত্যুযন্ত্রণা বয়ে নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে! তবু তূর্যে'র মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে,
সে কি সত্যিই কলঙ্কিত?
নাকি তার ওপর জোর করে কলঙ্কের তকমা এঁটে দেওয়া হয়েছে?
হঠাৎ তূর্য উঠে দাঁড়ায়। কণ্ঠ নরম, প্রায় কাঁপা....
“পিচ্চি…? তুমি কলঙ্ক নও মানে?
মেঘ আবারও চিৎকার দিয়ে ওঠে। বৃষ্টি দৌড়ে এসে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, বুকের ভেতর টেনে নেয়, যেন এই উষ্ণতায় মেয়েটা একটু শান্ত হয়। কিন্তু সেই পরম উষ্ণতাও মেঘ'কে শান্ত করতে পারে না।
সে গর্জে ওঠে—
"কলঙ্ক! কলঙ্ক! কলঙ্ক!
আমি কলঙ্কিত নই! আমার শরীরে কারও স্পর্শ নেই। আমিও অন্য মেয়েদের মতোই পবিত্র।
কিন্তু তারা আমাকে কলঙ্কিত করেই ছাড়ল! জানেন কেন? কারণ সেইদিন ওই নিকৃষ্ট লোকগুলো কেউ একজনকে খুব বাজে ভাবে খুন করেছিল আর সেটা আমি দেখার জন্য তার শাস্তি হিসেবে আমাকে কলঙ্কিনী বানিয়ে দিল। কিছু না করেও আজ আমার এমন পরিনতি। তারা আমাকে সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে দিল না। আমার জীবনটা তিলে তিলে শেষ করে দিল।
আমার কষ্ট কেউ বুঝল না…! আমার বুকের ভেতরের হাহাকার কেউ দেখল না। সবাই দেখে, মেঘ ভালো আছে, হাসে, স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ একবারও আমার বুকের ব্যথা অনুভব করল না। সেই দিন আমাকে কেউ ছুঁতে পারেনি, তবুও সবাই আমাকে কলঙ্কিত করে দিল। এই কষ্ট আমি কাকে বোঝাব বলুন আপনি…?
মেঘের শ্বাস ভারী হয়ে আসে। বৃষ্টি তাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, কাঁপা গলায় বলে,
– মেঘু, শান্ত হ বোন! প্লিজ এমন করিস না, তোর অনেক কষ্ট হচ্ছে কেন বুঝতে পারছিস না।
মেঘ দু’হাত দিয়ে চোখের অশ্রু মুছে নেয়। কণ্ঠে জমে থাকা ক্ষোভ আর যন্ত্রণা আর আটকে রাখতে পারে না,
“আমার কষ্টের জন্য দায়ী কে? কেন আমার এত কষ্ট হয়? আমার এই পরিণতির জন্য আপনারা সবাই দায়ী, গ্রামের প্রত্যেকটি মানুষ দায়ী। সেদিন কেউ আমার কথা শুনতে চায়নি। আমি কত করে বলেছিলাম, আমি কিছু করিনি। তবুও কেউ বিশ্বাস করল না আমায়। নির্দোষ হয়েও আজ আমি কলঙ্কিনী। সবাই আমাকে এক নামেই চেনে— ওই যে যাচ্ছে, কলঙ্কিনী!
আমি কলঙ্কিত হলাম কেন জানেন? তার উত্তর একটাই, আমি মেয়ে! এই সমাজ প্রতি নিয়ত মেয়েদেরই দোষী বানায়।
যেন পুরুষরা কখনো কোনো দোষ করেইনি।
তারা হাজার পাপ করলেও ফুলের মতো পবিত্র। শুধু মাএ তাদের জন্য.....
মেঘ আর কিছু বলতে পারে না। হঠাৎ করেই তার কণ্ঠ থেমে যায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চোখ দুটো ধীরে ধীরে নিভে আসে। শরীরটা ঢলে পড়ে,
বৃষ্টি কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেঘ মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। তূর্য তখনও যেন কল্পনার জগতে আটকে আছে। মেঘে'র বলা প্রতিটি কথা তার হৃদয়কে ক্ষত বিক্ষত করে দিচ্ছিল। হঠাৎ বৃষ্টি'র আর্তচিৎকারে সে বাস্তবে ফিরে আসে। তাকিয়ে দেখে— মেঘ নিথর হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। সেই দৃশ্য দেখে তার আত্মা কেঁপে ওঠে। সে দৌড়ে গিয়ে মেঘকে নিজের বাহুতে জড়িয়ে ধরে।
“মেঘপরি… এই মেঘপরি! কী হলো তোমার? কথা বলো প্লিজ। আমার প্রতি তোমার যত অভিযোগ আছে, সব বলো। আজ আমি সব শুনতে চাই। তবু কথা বলো পিচ্চি। তুষার… আমার পিচ্চি কথা বলছে না কেন…?
বৃষ্টি কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে ওঠে,
– তু তু তু… তুষার ভাইয়া, ডক্টরকে ইমারজেন্সি আসতে বলুন। মেঘু এই মেঘু, কথা বল…
মেঘে'র এই করুণ অবস্থা দেখে রেখা চৌধুরী বুকভরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি তো এমনটা চাননি। তিনিও যে কত বড় একটা ভুল করে ফেলেছেন, তা আজ বুঝতে পারছে। সবার মতো তিনিও সেদিন মেঘ'কে ভুল বুঝেছিলেন। কেন তিনি মেয়েটার কাছে সত্যটা জানার চেষ্টা করলেন না, এই প্রশ্নটাই এখন তাঁকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।
“আম্মু, তুমিও এমন করলে?
তূর্যে'র কণ্ঠে জমে থাকা ক্ষোভ আর যন্ত্রণার বিস্ফোরণ ঘটে!
“সেদিন আমি না হয় অন্ধ ছিলাম, কিন্তু তুমিও ওকে বুঝলে না? আমার পিচ্চি এতগুলো বছর নিজের কষ্ট বুকের ভেতর চেপে সহ্য করে গেছে। তুষার, তোকে তো আমি আমার ‘মেঘপরি’কে দেখে রাখতে বলেছিলাম। ওর কষ্ট যেন না হয়, সেই জন্য তোকে ওর পাশে পাশে থাকতে বলেছি। তবুও তুই ওর ভেতরের কষ্টটা বুঝলি না?
তুষার নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে! তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হয় না। সেও বুঝতে পারেনি, তাদের মেঘ এতটা ব্যথা নীরবে বয়ে বেড়াচ্ছিল।
তূর্য আর দেরি না করে সোজা মেঘ'কে পাজাকোলে তুলে নেয়। মেয়েটির নিথর শরীরটা বহন করার ইচ্ছে তার কোনোদিনই ছিল না। সে তো তার ‘মেঘপরি’কে ভালোবেসে সারাজীবন আগলে রাখতে চেয়েছিল, হাসিতে, নিরাপত্তায়, আর যত্নে!