বিহঙ্গীনির ব্যাকুল মন

পর্ব - ৫

🟢

লন্ডন—

লন্ডনের রাত যেন অন্যরকম জাদু ছড়িয়ে রাখে। সেই রাতে যুবকটা তার অ্যাপার্টমেন্টের ছোট্ট বেলকনিতে বসে আছে। সামনে বিস্তৃত শহর,রুপার মতো ঝলমল করছে। দূরে থেমস নদীর ওপর ঝুলে থাকা টাওয়ার ব্রিজের আলো পানিতে প্রতিফলিত হয়ে নরম ঢেউয়ের সাথে নেচে বেড়াচ্ছে। এদিক-ওদিক দু’একটা নৌকা ভেসে যাচ্ছে, তাদের আলোও জলে দাগ কেটে যাচ্ছে যেন।

উপরে শার্ড বিল্ডিংটা রাতের আকাশ চিরে উঠে দাঁড়িয়ে আছে, তীক্ষ্ণ, উজ্জ্বল, আর একেবারে আধুনিক শহরের প্রতীক হয়ে।

বাতাসটা ঠান্ডা, নরম আর হালকা কুয়াশা মাখা। একেকটা গাড়ি যখন নিচের রাস্তা পার হয়, রাস্তার লাইটের নিচে তাদের হেডলাইট যেন আলোর নদী তৈরি করে। লন্ডনের বিখ্যাত ডাবল ডেকার বাসগুলো নিরব ছন্দে এগিয়ে চলেছে। শহর ব্যস্ত নয়, শুধু শান্ত, গভীর, মায়াময়। যুবকটা কফির কাপ ধরে উষ্ণতা হাতে টেনে নিচ্ছে। কাপটা নিয়ে একটু ঝুঁকে হাতে থাকা ছবিটার দিকে তাকায়, একটা মেয়ের হাস্যজ্বল ছবি!

তার চোখে ঠিক তখনই লন্ডনের সমস্ত আলো নিভে গিয়ে শুধু সেই মেয়েটার মুখটাই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

দূরে বিগ বেনের ঘড়ির কাঁটা ধীরে এগিয়ে যেতে যেতে টিক… টিক…শব্দ তুলছে, আর যুবকের চিন্তাও ঠিক একই তালে গভীরে ডুব দিচ্ছে। মেয়েটা যেন এই শহরের প্রতিটা আলো, প্রতিটা কুয়াশা, প্রতিটা রাতের ঠান্ডায় মিশে গেছে। একসময় বাতাসে ভেসে আসে টেমস নদীর ভেজা গন্ধ আর স্ট্রিট ক্যাফেগুলোর কফির সুবাস।

যুবকটা একটু হেসে উঠে, চোখ বন্ধ করে—

আর তার কল্পনায় মেয়েটা ঠিক লন্ডনের আলোয় ফুটে ওঠে, একদম সত্যি সত্যি।

লন্ডনের আকাশে হালকা কুয়াশা নেমেছে। দূরের আলো গুলোর চারপাশে নরম নরম হলোর মতো বৃত্ত তৈরি হয়েছে। থেমস নদীর ওপর দিয়ে বইছে ঠান্ডা বাতাস—যার স্নিগ্ধ ছোঁয়া ঠিক যেনো যুবকটির ভেতরের উত্তেজনা আর শান্তির মিশ্র অনুভূতির সাথে একেবারে মানানসই। বেলকনির ধাতব রেলিংয়ে ভেজা শিশির জমেছে। রাতের আলো নদীর ওপর পড়ে ঝিকমিক করে যেনো হাজারো তারার প্রতিচ্ছবি।

যুবক ছবিটার দিকে গভীর মনোযোগ দেয়।

তার ঠোঁটের কোণে মৃদু, অদ্ভুত কোমল একটা হাসি ফুটে ওঠে। সে নিচু স্বরে, যেন বাতাসকেও সাক্ষী রেখে বলে―

“আসছি ফুল, তোর আয়ান ভাইয়া আসছে।

তোকে সারা জীবনের জন্য নিজের করে নিতে খুব শিগগিরই আসছে।

জানি, অনেক অভিমান জমে আছে তোর আয়ান ভাইয়ার প্রতি কিন্তু দেখিস, আমার ভালোবাসা দিয়ে তোর সব অভিমান মুছে দেবো।

একটুও কষ্ট পেতে দেবো না তোকে।

আর মাত্র কয়েকটা মাস, একটু সহ্য কর ফুল, এরপর তোকে আমি ঘোড়ায় চড়ে নিজের রাজ্যে নিয়ে আসবো।

লন্ডনের বাতাস আরও ঠান্ডা হয়, কিন্তু যুবকটির বুকের ভেতর অদ্ভুত এক উষ্ণতা। এই শহরে আসার পর থেকেই সে বদলে গেছে—

অভিমান, রাগ, বেপরোয়া ভাব… সব ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে গেছে। রাতের আকাশে চাঁদের আলো শার্ড বিল্ডিংয়ের কাঁচে লেগে আরও উজ্জ্বল হয়ে পড়ে। আর ঠিক সেই আলোয় যুবকটি ছবিটার দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে....

আর মাএ কয়েকটা মাস, আর কয়েকটা নিঃশ্বাস,

তারপর তার ফুল ঠিক ১৮-তে পা রাখবে।

আর তখন সে শুধু তার হবে। কেউ তাকে আঘাত করতে পারবে না। কেউ তার চোখে পানি আনতে পারবে না। যুবকটি তাকে নিজের শক্ত বাহুতে আগলে রাখবে।

ঠান্ডা বাতাস তার চুল এলোমেলো করে দেয়।

দূরের বিগ বেনের ঘড়ির ঘণ্টা আবারও বেজে ওঠে, যেনো লন্ডনের রাত নিজেই ঘোষণা দিচ্ছে—

ভালোবাসার প্রতীক্ষা আর বেশি দীর্ঘ হবে না।

যুবকটি কফির শেষ চুমুক নিয়ে হাসে। ছবিটাকে বুকে চেপে ধরে। বুকের ভেতর অন্য রকম উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছে!

----------------------

___________________

তুষার কানে হাত দিয়ে উঠবস করছে। পুরো মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, আর তার ঠিক সামনে তূর্য রক্তিম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে এক হাতে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কারণ, মেঘ তুষার'কে জড়িয়ে ধরার অপরাধে শাস্তি পেয়েছে সে, সেটাও একশোবার কান ধরে ওঠবস করা!

তুষার কাঁদো কাঁদো গলায় মিনতি করে বলে,

"এটা তুমি ঠিক করছো না ভাই, দোষ করেছে তোমার বউ, আর শাস্তিটা দিচ্ছো আমায়! এজন্যই তো মেঘু তোমারে কাইলা ইন্দুর বলে!

তূর্য ঝাঁকুনি খেয়ে উঠে,

“কিহহহ বললি তুই ?

তুষারে'র চোখ কপালে,

"না না ভাই, আমি কিছু বলিনি! আমি কিছুই বলিনি সত্যি! তুমি বলো, আমাকে কি করতে হবে?

তূর্য কপাল কুঁচকে বলে,

“আমাকে দেখে কি কানা মনে হয় তোর?

"কিন্তু ভাই… কথা তো কান দিয়ে শোনে, চোখ দিয়ে নয়।

পরের সেকেন্ডেই ঠাসস,তুষারে'র পায়ে লাঠির বাড়ি। সাথে সাথে চেঁচিয়ে উঠে,

"সরি সরি ভাই! ভুল বলেছি, হ্যাঁ হ্যাঁ মানুষ চোখ দিয়েই শোনে! প্লিজ ভাই এখন ছাড়ো আমাকে। আর কতক্ষণ উঠবস করবো?

তূর্য হাত গুটিয়ে, শার্টের কলার ঠিক করে মেকি ডোন্ট-কেয়ার ভঙ্গিতে বলে,

“আমার শর্তগুলো মানতেই হবে। তাহলেই তোর শাস্তি মাফ।

"ঠিক আছে, বলো কি করতে হবে?

তূর্য গম্ভীর মুখে কিন্তু চোখে কুটিল হাসি এনে বলল,

“তোকে এমন কিছু করতে হবে… যাতে পিচ্চি নিজে নিজে আমাকে জড়িয়ে ধরে, আর মিনিমাম চার থেকে পাঁচটা কিস করে!

তূর্যর কথা শুনে তুষার হা করে তাকিয়ে থাকে। এটা কোন ধরনের শর্ত সেটায় বুঝতে পারছে না। অতঃপর তুষার ভেংচি কেটে বলে,

"নিজের বউ নিজে গিয়ে চুম্মা দিতে পারো না। এখন ছোট ভাইকে দিয়ে এমন আকাম করাতে চাচ্ছো? লজ্জা করে না লজ্জা?

“লজ্জা? না একটুও লজ্জা করে না।

তুষার নিজের মনে বিরবির করে,

"তা করবে কেন? লজ্জা থাকলে কি ছোট ভাইকে বলতে পারতে…

তূর্য হঠাৎ চোখ ছোট করে তাকায়, ঠোঁটে খেলে যায় ধূর্ত হাসি।

“কিছু বলছিস তুই? বললেও আই ডোন্ট কেয়ার। এবার বল… শর্তে রাজি নাকি?

"রাজি না হলে?

তূর্য ঘাড় ডানে–বামে বাঁকায়, হালকা ‘ক্র্যাক’ শব্দ হয়। তারপর সেই ভয়ংকর শান্ত হাসি দিয়ে বলে,

“তাহলে তোর নিচেরটা নিচে থাকবে না। সেটা ডিরেক্ট…

তুষার রীতিমতো লাফ দেয়,

"না না! আমি রাজি রাজি! যাই এখন, তুমি ধীরে ধীরে আসো।

সে নিঃশব্দে, প্রায় দৌড় দিয়ে রুম ত্যাগ করে। তূর্য তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে গভীর, তৃপ্তির হাসি ছড়িয়ে দেয়।

“পিচ্চি…

আসছি তোমার ফিল নিতে, জাস্ট ওয়েট!

মেঘ আনোয়ারা চৌধুরী'র পাশে গুটিশুটি হয়ে বসে আছে। কানে-কানে কথা বলছিল, হঠাৎ দরজার দিকে তাকাতেই থমকে যায়। তূর্য দু’হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে, একদম ঠাণ্ডা, দম্ভী ভঙ্গিতে তাদের দিকে হেঁটে আসছে। একটুও বিরতি না নিয়ে সে সোজা মেঘে'র গা ঘেঁষে পাশে গিয়ে বসে পড়ে।মেঘ চোখ কুঁচকে রেগে ফেটে পড়ে—

"কাইলা ইন্দুরের বাচ্চা, আপনি আমার পাশে বসলেন কেন?

তূর্য ঠোঁট বাঁকিয়ে ধীরে মাথা পাশের দিকে ঘুরায়।

“সো হোয়াট, পিচ্চি? আমার বউ’কেই এখনো আদর-সোহাগ করতে পারিনি, বাচ্চা আসবে কিভাবে? তুমি যদি ট্রাই করতে দাও… তাহলে খুব তাড়াতাড়ি সু-খবর পেয়ে যাবে।

বলে সে চোখ টিপে দেয়। একটা চোখ ধাঁধানো, দুষ্টু, অসভ্য রকমের আত্মবিশ্বাসভরা টিপ। ঠোঁটের কোণে শিকারি হাসি। আর পুরো দৃষ্টি তীরের মতো মেঘে'র গালে, ঠোঁটে, চোখে আটকে থাকে। মেঘ কিছু বলতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ঝড়ের মতো দরজা খুলে যায়। তুষার বৃষ্টি'কে কোলে নিয়ে রুমে হুরমুরিয়ে ঢোকে। মেঘ চমকে ওঠে, তূর্যের চোখ মুহূর্তেই ধারালো হয়ে ওঠে।

“তুষার …

"ভাইয়া আমার কোনো দোষ নেই, এই বুড়ি'কে আড্ডা দিতে আসতে বললাম কিন্তু সে আসবে না তাই কোলে তুলে নিয়ে আসলাম। বুঝি না বাপু, এতো পড়াশোনা করে কি হবে? সেই তো গোবড় মাথা ওয়ালা ছেলের বউ'ই হবে। এতো পড়াশোনার কোনো মানে হয়?

বৃষ্টি নিজেকে ছাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠে। তা দেখে তুষার বিরক্তিকর কন্ঠে বলে,

"ছেমরি এতো ছোটাছুটি করছিস কেন? একটু কোলেই তো নিয়েছি তাতেও রাক্ষসীর মতো তাকিয়ে থাকে। এই জন্য কারো ভালো করতে নেই।

– তোমাকে আমার ভালো করতে বলিনি, আমার ভালো আমি নিজেই বুঝি হু! দোস্ত আমি কোথায় বসবো?

তূর্য চোখ রাঙিয়ে উঠে,

“আমার কোলে এসে বস আয় আয়!

হঠাৎ করে তুষার বৃষ্টি'র হাত চেপে ধরে,

"ভাই অসভ্য ছেলেদের মতো কথা বলছো কেন? বিছানায় এতো জায়গা থাকতে তোমার কোলে বসবে কেন? হোয়াই হোয়াই?

“চুপ কর শালা, আমি ওকে কোলে নেওয়ার জন্য বসে আছি। দামড়া মেয়ে হয়ে বলছে, আমি কোথায় বসবো, ঢং।

ততক্ষণাক মেঘ চিৎকার দিয়ে উঠে,

"কাইলা ইন্দুর ঢং আমার জানু করবে বা তো কি আপনার মতো বুইড়া বুইড়া বেডা'রা করবে?

“ওকে ওকে সরি! এবার হয়েছে তো? দুইটাই সেম, রাক্ষসী দুটো।

"কিছু বললেন?

“না না আমি কি বলবো? কিছুই বলিনি৷ তুষার স্টার্ট কর।

বৃষ্টি আনোয়ারা চৌধুরী'র ঠিক পাশে গিয়ে বসে। তুষারও এসে তার গা ঘেঁষে বসে পড়ে। বৃষ্টি একটু ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বলে,

– দাদিজান! কী বুঝছো সব ঠিকঠাক হবে তো?

আনোয়ারা চৌধুরী কিছু বলে না। চোখের দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত টান, যেন মনটা টানাপোড়েনে জড়িয়ে গেছে। তূর্য আর মেঘকে এক হতে সে কতদিন ধরে চেয়েছে… কিন্তু একই সাথে বড় নাতি'র কথাও তার বুকের মধ্যে কাঁটার মতো বিঁধছে।

দুই নাতিই তার প্রাণ,একজনের হাসিতে দোয়া দিলে, অন্যজনের কষ্ট কি সে সহ্য করতে পারবে? বৃষ্টি আবার ডাক দেয়,

– দাদিজান…?

এইবারও আনোয়ারা শুধু চোখ তুলে তাকায়, কিন্তু কোনো শব্দ বের হয় না। তুষার পরিবেশটা হালকা করতে চারদিক দেখে বলে ওঠে,

– সবাই আমার সুন্দর,টিয়া কার্টিন ফেসের দিকে তাকাও! ভাবলাম, আজ আমরা ধাঁধা খেলব। রাজি তো?

তার কথা শেষ হতেই মেঘ গর্জে ওঠে,

"রাজি না থাকলে তোর মতো পাঠা দেখতে এখানে আসতাম?

মেঘ আর বৃষ্টি দুজনই হো হো করে হাসিতে লুটিয়ে পড়ে। তুষার অসহায়ের মতো মুখ বানিয়ে বলে,

– আচ্ছা, মানলাম আমি শাহরুখ খানের মতো দেখতে, তাই বলে এমন কথা বলতে হবে নাকি?

মেঘ হাসি দমাতে দমাতে বলে,

"বা*ল ভণ্ডামী রেখে, এবার আসল কথা বল!

তুষার দুষ্টু হেসে মেঘে'র দিকে তাকায়। তারপর ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে,

– মনে করলি একটা নারকেল গাছের নিচে দুজন লোক বসে আছে। তাদের মধ্যে একজন অন্ধ আরেকজন কানা তাহলে যদি নারকেল গাছ থেকে একটা লিচু পড়ে তাহলে সেটা আগে কে নিবে?

মেঘ বিদুৎ গতিতে বাজ খাই মেজাজে বলে উঠে,

"তোর শাউ*য়্যা!

মেঘে'র কথা শুনে তূর্য মিনিট খানেকের জন্য সত্যিই কোমায় যাওয়ার মতো অবস্থা! পরক্ষণেই গভীর শ্বাস টেনে নিজেকে সামলে নিয়ে গর্জে ওঠে,

“এই পিচ্চি ইডিয়েট! এভাবে কেউ গালি দেয়? কমনসেন্স নেই? দাদিজানে'র সামনে কীসব বলছো?

মেঘ কোমরে হাত গুঁজে তেড়েমেরে তাকায়।তারপর নিজে নিজে ফুসফুস করতে করতে বিস্ফোরিত হয়

"আমি ইডিয়েট? আমি না আপনি ইডিয়েট , আপনার চৌদ্দ গুষ্টি ইডিয়েট!, আপনার দাদা ইডিয়েট! আবার আমাকে ইডিয়েট বলতে আসে হু!

তূর্য মাথা চেপে ধরে বিরক্তস্বরে বলে,

“ওহ গড… এই পিচ্চি'র মাথার একটা তার ঢিলে গেছে। না হলে এমন পাগলামি কেউ করে?

"আপনাকে…

তুষার সঙ্গে সঙ্গে উঁচু গলায় বাধা দেয়,

– মেঘু বোন আমার! এখানে কেন এসেছি? ধাঁধা খেলব বলে! তোরা দুজন ঝগড়া করলে হবে কীভাবে?

মেঘ গলা ফুলিয়ে তুষারে'র দিকে আঙুল তুলে বলে,

"আমি না! এই কাইলা ইঁদুর ঝগড়া করছে! বিদেশ থেকে একটা কাইলা পাঠা এসেছে হু!

তূর্য এবার পুরো গম্ভীর, রাগ মুখ থেকে টপটপ পড়ছে,

“দাদিজান! ওকে এই ইডিয়েট নিকনেম বলা থেকে বারণ করো। সত্যি বলছি, এসব আজেবাজে নেম আমি টলারেট করতে পারছি না! বেয়াদব মেয়ে! ধাঁধা ধরেছে সেটাও পারে না, পারে শুধু আমার পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে!

মেঘ সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে,

"আমি পারি না যখন আপনি বলেন কি উওর হবে?

তূর্য আহাম্মকের মতো মুখ হাঁ করে তাকিয়ে রইল। ধাঁধার উত্তর সে নিজেও জানে না, তবুও পরক্ষণেই বুক ফুলিয়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল,

“অভেয়সলি অন্ধ লোকটাই আগে লিচুটি নেবে। কারণ আরেকজন তো কানা।

এই কথা শুনেই মেঘ চেঁচিয়ে উঠল,

"গু* খাইছেন নাকি? কানা আর অন্ধ তো একই জিনিস! দুইটা আলাদা মানুষ নাকি?

তূর্য আবারও নিজের ভুল না মানার ঐতিহ্য বজায় রেখে চোখ পাকিয়ে বলল,

“একই? আমি তো জানতাম না! কিন্তু ধরো দুজন একই হলেও অন্ধ লোকটা স্মার্ট, তাই লিচু সেই পাবে।

মেঘ বিরক্ত হয়ে দুহাতে মাথা চেপে ধরে,

“শাউ*য়্যা পাবে! বিদেশ থাইকা কি বা*ল শিখা আইছেন? কানা লোকের থেকে অন্ধ লোক বেশি স্মার্ট এটা কোন দেশি লজিক? আর নারকেল গাছে লিচু ধরবে কিভাবে? আপনার দাদা কি আসমান থাইকা আইসা নারকেল গাছে লিচু লাগাই দেবে?

তূর্য আবার হা করে থেমে গেল।

সত্যি তো, নারকেল গাছে লিচু ধরে কিভাবে? সে তো ধাঁধা না বোঝেই উত্তর দিয়েছিল!

কিন্তু ভুল স্বীকার করা যাবে না,এটা তার ইগোর বিরুদ্ধে। তাই নিজের ভুল তুষার-এর ওপর ঢেলে দিল। এক লাথি কষিয়ে বলে উঠল,

“শালা ভুলভাল প্রশ্ন করে আবার সঠিক উত্তর চায়! তোকে লাথি দিয়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে করছে।

মাটিতে পড়েও তুষার দাঁতে দাঁত চেপে উঠে দাঁড়াল,

– লাথি দিয়েই তো ফেলে দিছো! আবার লাথি মারবা? তোমার ওই কিস-টিস করাইয়া দেবো না, তাই সারাজীবন মিঙ্গেল হইয়া সিঙ্গেল হইয়া মরো।

তূর্য থতমত, মেঘ হাঁসতে হাঁসতে লুটোপুটি৷ আর তুষার গম্ভীর মুখে নিজের ধুলো ঝাড়ছে। তূর্য ততক্ষণাক তুষার'কে নিজের কাছে টেনে নিয়ে আওরায়,

“এই ভাই না প্লিজ…

বিহঙ্গীনির ব্যাকুল মন গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় ক্ষয় থেকে ওঠা পুনরুত্থানের গল্প