বিহঙ্গীনির ব্যাকুল মন

পর্ব - ১

🟢

“আম্মু, পাগল হয়ে গেছো তুমি? একটা ধর্ষিতা মেয়েকে বিয়ে করবো আমি? নো ওয়ে!

আমি এই মেয়েকে বিয়ে করতে পারবো না!

তূর্যের কণ্ঠে ঘৃণা, অবমাননা, আর তীব্র বিদ্রুপ। রেখা চৌধুরী মুহূর্তেই গর্জে উঠলেন—

"তূর্য…

কিন্তু তূর্য থামল না!

রাগে গজগজ করে বলে উঠে,

“সরি আম্মু!

তবে আমি এই ধর্ষিতা মেয়েকে কোনোভাবেই বিয়ে করতে পারবো না।

যে মেয়ের সারা অঙ্গ–প্রতঙ্গে অন্য পুরুষের ছোঁয়া আছ, সে হবে তূর্য চৌধুরীর ওয়াইফ? এই মেয়ে তো আমার রক্ষিতা হওয়ার'ই যোগ্যতা রাখে …

মাত্র কথাগুলো শেষ হতে না হতেই—

চপাট! এক বিকট শব্দে পুরো ঘর কেঁপে ওঠে।

রেখা চৌধুরী'র হাতের থাপ্পড় সোজা তূর্যের গালে গিয়ে লাগে।

তূর্য হতবাক হয়ে স্তব্ধ!

ব্যথা গালের চেয়ে বেশি লাগে তার অন্তরে—

নিজের জন্মদাত্রী মা তাকে আঘাত করলো…

আর সেই আঘাতও এক 'সামান্য মেয়ের' জন্য।

তূর্য অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, মায়ের তীব্র চোখের দিকে তাকাতে ভয় হয় তার।

রেখা চৌধুরীর চোখে আগুন— যে আগুন অন্যায়ের বিরুদ্ধে,

আর এক অসহায় মেয়ের সম্মান রক্ষার্থে!

“আম্মু…

রেখা চৌধুরী কঠোর গলায় বলেন,

"চুপ! তুমি আর একটা কথাও বলবে না। তোমার স্পর্ধা দেখে আমি বিস্মিত। তুমি এতো বড় হয়ে গেছো যে মা'য়ের মুখের উপর কথা বলো? আমার সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করো?

তূর্য মুখে খানিকটা ব্যাঙ্গের ছোঁয়া এনে অসহায় কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করে—

“তাই বলে দশ বছরের পিচ্চি মেয়ে? সেটাও একজন…

আর কোনো শব্দ তার মুখ দিয়ে বের হয় না। সামনে বসে থাকা মানুষটা রক্তিম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।

তূর্য বরাবরই মাকে সম্মান করে, তার প্রতিটা নির্দেশ জীবনভর মাথা নিচু করে মেনেছে। কিন্তু…

এই নির্দেশ তার বুকের ভেতর আগুন ধরিয়ে দেয়।

সে কিভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হয়ে বাল্যবিবাহ করবে?

কিভাবে নিজের ভবিষ্যত, নিজের সত্তা, নিজের নীতি, সবকিছু জলাঞ্জলি দেবে? তারপরও… তূর্য হয়তো রাজি হতো।

যদি মেয়েটি ধর্ষিতা না হতো। সমাজ আজও এক অদ্ভুত নিষ্ঠুর জায়গা। ধর্ষক'রা ঘুরে বেড়ায় মাথা উঁচু করে…!

কিন্তু যে মেয়েটি সব হারিয়ে বেঁচে থাকে, তাকেই ছোট করা হয়। অপমান করা হয়।

ঘৃণার চোখে দেখা হয়।

এই দেশে ধর্ষকে'র নয়, ধর্ষিতা'রই বিচার হয়।

তার চরিত্র, তার পোশাক, তার নীরবতা—সবকিছু আগুনের মতো পোড়ানো হয়। আর সেই মেয়েকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে বুকে টেনে নেবে—

এমন সাহসী ছেলে কয়জন আছে?

তূর্য দীর্ঘ শ্বাস নেয়!

অন্যদিকে ছোট্ট মেঘ দাদিজান'কে শক্ত করে জাপটে আছে।

চারদিকে মানুষের চিৎকার–চেঁচামেচি, আতঙ্ক, গালমন্দ,সব মিলিয়ে শিশুটার নরম হৃদয়টা ভেঙে চূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। তার দু’চোখ বেয়ে অশ্রু থামছেই না।

হঠাৎ গ্রামের এক মুরুব্বি বজ্রকন্ঠে চেঁচিয়ে ওঠে,

– আফনাগো আজাইরা কথা বাদ দেন! ওই অ’প’য়া মাইয়ারে আমাগো হাতে তুইলা দেন। ওরে আগুনে না তোললে এই গ্রিরামে আর শান্তি ফিরবো না। ধ্বংস হয়ই যামু আমরা সবাই!

এই কথাগুলো কানে যেতেই মেঘ সন্ত্রস্ত হয়ে আরও গুটিয়ে যায়।

সে দু’হাতে জামেলা খাতুনে'র গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে—

"দাদিজান ও দাদিজান! ওরা ক্যান আমারে আগুনে ফাইয়া দিবো?

আমি কি দোষ করছি?

আমি তো কিছুই করি নাই! তাও ক্যান ওরা আমারে মারবো?

আমি বাঁচতে চাই দাদিজান আমি বাঁচতে চাই!

মেঘে'র অসহায় কান্নায় রেখা চৌধুরীর বুকটা ছিঁড়ে যায়। যে মেয়েটাকে তিনি নিজের চোখের সামনে দিন দিন বড় হতে দেখেছেন, আজ তাকে এভাবে হারাতে হবে?

এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে হবে? তার গলা কেঁপে ওঠে।

তিনি চোখের পানি আটকে তূর্য'র দিকে তাকিয়ে কঠিন স্বরে বলেন—

"তূর্য…! তুমি বিয়েটা করবে?

নাকি নিজের মা’য়ের লাশ দেখতে চাও?

চারপাশ থমকে যায়!

হাওয়া যেন দাঁড়িয়ে পড়ে।

রেখা চৌধুরী কাঁপা কণ্ঠে আবার বলেন,

"যদি আজ মেঘে'র কোনো ক্ষতি হয়। তাহলে জীবনে আর কখনো আমাকে মা বলে ডাকতে পারবে না। চিরদিনের জন্য নিজের মা'কে হারাতে হবে। এখন ঠিক কর, তুমি বিয়ে করবে?

নাকি তোমার মা'য়ের লাশ কাঁধে তুলে নেবে?

“কিন্তু আম্মু …

রেখা চৌধুরী গম্ভীর স্বরে বললেন,

"আমি যেকোনো একটা উওর চাই। হ্যাঁ বা না?

তূর্য অনিচ্ছা সত্যেও মেঘ'কে বিয়ে করতে রাজি হয়! অন্য দিকে মেঘ জমেলা খাতুনে'র পা জরিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে—

"দাদিজান! আমি এই বুইড়া বেডারে ক্যান বিয়া করমু? আমি বড় হইয়া পরমু, আমার সব সপন পূরণ করমু তারপর ভালো বেডারে বিয়া করমু। আমি এই বেডারে বিয়া করমু না।

মেঘে'র কথায় একজন বৃদ্ধ মহিলা মুখ ভেঙিয়ে বলেন,

– হোন বেটি! তোর মতো অ'প'য়া মাইয়ারে কেউ বিয়া করতে রাজি হইছে, এইডায় অনেক। আবার কয় বিয়া করমু না, নিজের সব তো অন্য বেডারেই দিয়া হালাইছোত। তাও আবার এতো বড় বড় কথা কন থিকা আহে?

মেঘ হঠাৎ চিৎকার করে উঠে,

"আমি কিছু করি নাই। আমি অ'প'য়া না, আমার কোনো দোষ নাই। আমি তো…

তার কথা শেষ হওয়ার আগেই সবাই চুপ করিয়ে দেয়। অতঃপর সবাই জোর করে তূর্য ও মেঘে'র বিয়ে সম্পূর্ণ করে! বিয়ে হওয়ার সাথে সাথে তারা সবাই ঢাকা ফিরে আসে।

-------------------

-----------------------------

বাসর ঘরে মেঘ গুটিশুটি হয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছে। তার মনটা ভিষণ খারাপ, তার দাদিজানে'র কথা বড্ড মনে পড়ছে। হঠাৎ হুরমুরিয়ে রুমে ঢুকে তূর্য! চোখ মুখে রক্তের মতো লাল হয়ে আছে। সে ঠিক মতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না,হয়তো নেশা জাতীয় কিছু খেয়েছে। হাতে জলন্ত সিগারেট! সে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে মেঘে'র দিকে তাকায়! তার কঠোর চাহুনিতে মেঘ গুটিয়ে যায়। আচমকা তূর্য মেঘ'কে উঁচু করে বেডের মধ্যে খানে ফেলে দেয়। সে ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়।

তারপর তূর্য ধীরে ধীরে মেঘে'র দিকে এগোতে থাকে। ছোট্ট মেঘ অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকে। সে ঠিক বুঝতে পারছে না লোকটা কেন তাকে এমন উঁচু করে ফেলে দিলো। সে তো কোনো কথায় বলেনি তবুও কেন—

তূর্য যখন তার দিকে এক পা এক পা করে এগিয়ে আসছে। চোখে মুখে হিংস্রতা তখন মেঘ বুঝতে পারে তার সাথে খারাপ কিছু হবে। সে ভয়ে চিৎকার দেয়, তবে তার চিৎকারের শব্দ বাহিরে যেতে পারে না। কারণ, রুমটা ছিল সাউন্ড প্রুভ।

তূর্য তার কাছাকাছি আসতেই সে ভয়াক্ত কন্ঠে বলে উঠে—

"আল্লাহ্ দোহায় লাগে, আপনি আমারে মাইরেন না। আমি আপনার লাগে কোনো দুষ্টুমি করমু না, তাও আমারে মাইরেন না। আমারে চাচিজান অনেক মারছে,আর মাইর খাইতে চাই না। আল্লাহ্ রস্তে ছাইরা দেন।

মেঘে'র আকুতি মিনতি তূর্য'র কান অবধি পৌঁছায় না। সে জলন্ত সিগারেট মেঘে'র পেটে চেপে ধরে। মেঘ অনেক জোরে চিৎকার করছে তবুও তূর্য তাকে ছাড়ে না।

কয়েক মিনিট পর মেঘ'কে ছেড়ে দিতেই সে কাঁদতে কাঁদতে বলে—

"আল্লাহ্ গো আমার পেট জ্বইলা গেল। দাদিজান আমারে বাঁচাও, আমি মইরা গেলাম।

মেঘে'র চিৎকার যেন তূর্য'কে শান্তি দিচ্ছে। মেঘ কিছু সময় চিৎকার করার পর তূর্য'র সামনে গিয়ে কান্না মিশ্রিত কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করে—

"আপনিও আমারে মারলেন? একটা পশুও তো কারো কাছে নিজের জীবন ভিক্ষা চাইলে দেয় আপনি তাও হুনলেন না। আমার পেটটা জ্বালাইয়া দিলেন, আমার পেটে তো ঠোসা পইরা গেল৷ আমি কেমনে এহন লোকের সামনে যামু?

আচমকা তূর্য মেঘে'র থুতনি চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে আওরায়,

“হুসসস! তোর মতো ধর্ষিতা মেয়ের মুখ থেকে আর একটা কথাও শুনতে চাই না। তুই থার্ড ক্লাস থার্ড ক্লাসই থাকবি।

"আপনি আমারে ধ…

মেঘ ফের কিছু বলার আগেই তাকে গালে ঠাসস ঠাসস করে কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয় তূর্য! সাথে সাথে মেয়েটার সুন্দর মুখখানা লাল টুকটুকে হয়ে যায়। তূর্য গর্জন দিয়ে আওরায়,

“তোর মতো নষ্টা মেয়েকে এই তূর্য চৌধুরী কখনোই নিজের বউ মানবে না! যে মেয়ে বিয়ের আগেই নিজের সতিত্ব হারিয়ে ফেলে তাকে আমি সমাজের কৃট ছাড়া কিছুই মনে করি না। শুধু মাএ তোর জন্য আম্মু'র চোখে আজ আমি অপরাধী। আমি চলে যাবো, অনেক দূরে চলে যাবো। তবুও তোর মতো বা* মা* সাথে সংসার করবো না।

-

-

মেঘ অতীতের কথা ভাবতে ভাবতে রাস্তা দিয়ে আনমনে হাঁটছে!

আট আট'টা বছর কেঁটে গেছে সেই ভয়ংকর অতীতের ঘটনা। সেই দিন শেষ দেখা ও কথা হয়েছিল তূর্য'র সাথে। আজ আট বছর পর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মানুটা চৌধুরী ভিলায় পা রাখবে। তাকে কখনো নিজে দেখেনি শুধু টুকটাক কিছু কথা শুনতো৷ আজ সে আসছে বলে মেঘ তারাতাড়ি বাসা থেকে বের হয়েছিল।

এখন বিকেল পাঁচটা ছুঁই ছুঁই। কলেজ শেষ হয় তিন'টায় তবুও সে বাসায় যায়নি। অনাথ আশ্রমে বসে ছিল সে, মেঘ সদ্য স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ লাইফে রেখেছে। সে নিজের খরচ নিজেয় চালায়, পড়াশোনার পাশাপাশি কয়েকটা টিউশন ও অনাথ আশ্রমের বাচ্চাদের পড়ায়। সে হাঁটতে হাঁটতে একজনের সাথে ধাক্কা খায়। সে পড়ে যাওয়ার আগে লোকটি তাকে দু'হাতে আগলে নেয়।

যখন তার মনে হলো সে শূন্যে ভাসছে তখন পিটপিট করে তাকায়। চোখের সামনে এক সুদর্শন যুবক দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ অপ্রস্তুত হয়ে যায়, ততক্ষণাক তার হাতের বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে আসে।

লোকটি অদ্ভুত দৃষ্টিতে মেঘে'র দিকে তাকিয়ে আছে। এক পলকের জন্য চোখের পাপড়ি নড়ছে না। তা দেখে মেঘ চেঁচিয়ে উঠে,

"এই খবিশ আপনি ওভাবে তাঁকিয়ে কি দেখেন?

“আমার ফিউচার ফুটবল টিমের বাচ্চা কাচ্চার আম্মা'কে। ইসস কি কিউট আমার বউ'টা!

সে আনমনে বলে উঠে। তার উওরে মেঘ ক্ষেপে যায়, একেই মেজাজ গরম তারপর হেয়ালি করে কথা বলছে।

"স্বপ্ন দেখা শেষ হলে নিচে নেমে আসেন কাইলা ইন্দুর। বুইড়া বয়সে শখ কতো, চেহারার নাই ঢক নাম রাখছে আব্দুল হক।

“হোয়াট কাইলা ইন্দুর, আব্দুল হক?

"সরেন তো বা*ল। মুড'টাই নষ্ট করে দিলো। আজ কোন বা*লের মুখ দেখে যে ঘুম থেকে উঠেছি।

“হোয়াট বা*ল?

"তোর শাউ*য়্যা!

লোকটি হতবাক হয়ে যায়। একটা মেয়ের মুখ দিয়ে এতো সুন্দর সুন্দর ভাষা শুনে লোকটি এখনো বিষ্মিত। অন্যদিকল মেঘ আবার নিজের গন্তব্যের দিকে হাঁটা দেয়। মাথা নিচু, হাঁটা দ্রুত। কিন্তু ঠিক তখনই সেই লোকটা আবার সামনে এসে তার পথ আঁটকে দাঁড়ায়।

“হেই কিউটি! এত ফাস্ট কোথায় যাচ্ছো?

মেঘ এবার আর এক মুহূর্তও নষ্ট করে না। চোখের কোণে ভয় আর রাগের ছাপ স্পষ্ট। শব্দ না করেই লোকটিকে জোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফেলে। লোকটা হকচকিয়ে পড়ে যায়, আর মেঘ দৌড়ে, প্রায় ছুটে, বাসার দিকে ছুটে যায়।

কিছুক্ষণ পরে লোকটা ধুলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ঠোঁটে অদ্ভুত এক হাসি। দূরে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া মেঘে'র দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে—

“এই তূর্য চৌধুরী'র যখন একবার তোমাকে মনে ধরেছে তাহলে খুব শিগগিরই দেখা হবে আমাদের। আমার অচেনা পরি!

-------------------

--------------------------

মেঘ লাফাতে লাফাতে ড্রয়িং রুমে হাজির হয়, কাঁধে কলেজ ব্যাগ। সামনে রেখা চৌধুরী চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে। তার তাকানো দেখে মেঘ কাচুমাচু হয়ে তাকে দেখেয় মেঘ জরিয়ে ধরে। এবং ভয়ে ভয়ে বলে,

"মামনি! সত্যি বলছি আজ কারো সাথে ঝগড়া করেনি, এমনকি তুষারে'র সাথেও নয়। আর কলেজের সিনিয়র ভাইকেও পুকুরে ফেলে দেয়নি।

কথা শেষ হতেই মেঘ নিজের মুখ চেপে ধরে। এটার তার সবচেয়ে বড় প্রব্লেম, সে কিছু বলতে চায় না তবে তার মুখ সব সত্য বলে দেয়। রেখা চৌধুরী গম্ভীর স্বরে বলল,

– না না, আমার মেয়ে কিছু করতে পারে নাকি। সে হচ্ছে দুধে ধোঁয়া তুলশী পাতা। শুধু আজ মন মেজাজ ভালে বলে কিছু বলছি না, আর তোর বাসায় আসতে এতো দেড়ি হলো কেন?

মেঘ নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে রেখা চৌধুরী বলেন,

– আচ্ছা তোকে বলতে হবে না, আমি বুঝতে পারছি। শোন মা, কেউ আঘাত করলেই ভেঙে পরতে নেই। তোকে আর অনেক বড় হতে হবে, বড় হয়ে

"স্টপ মামানি আমি আর বড় হতে চাই না। বেশি বড় হলে জিরাফের গলার মতো দেখা যাবে। তখন আর কেউ আমাকে দেখে ক্রাশ খাবে না।

মেঘে'র কথায় রেখা চৌধুরী হেঁসে দেন। এতো কষ্টের মাঝে কিভাবে এই ছোট্ট মেয়েটা হাসতে পারে, কাউকে বুঝতেই দিতে চায় না তার মনের গভীরে কি আছে।

"মামনি আসছি এখন৷ প্রচন্ড খিদে পেয়েছে ভাত দাও তারাতাড়ি।

“মেঘ শুনে যা, ওই রুমে এখন…

রেখা চৌধুরী'র কথা না শুনেই মেঘ নিজের রুমের দিকে হাঁটা দেয়। মেয়েটা বড় একঘুয়ে।

তূর্য শাওয়ার শেষ করে শুধু তোয়ালে পড়ে রুমে ঢুকে। বেডশিটের উপর তার টাওজার ও টি শার্ট। সে ধীরে ধীরে বেডের সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়। কোমড় থেকে তোয়ালে খুলে মেঝেতে ফেলে দেয়। হঠাৎ একটা মেয়ের চিৎকারে সে দরজার দিকে তাকায়।

"মামনি কাইলা ইন্দুর …

বিহঙ্গীনির ব্যাকুল মন গল্পটি বন্যা সিকদার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় ক্ষয় থেকে ওঠা পুনরুত্থানের গল্প