– তুষার ভাইয়া আজ সকালে খালামণিকে বিয়ে করিয়ে দিতে বলেছিল। তাই খালামণি ঝাঁটা দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। বলে দিয়েছে, আজ নাকি ভাতও জুটবে না। সেই জন্যই তার মেজাজ একশো ভোল্টে উঠেছে!
কথাগুলো শেষ হতেই তুষার দাঁত কিড়মিড় করতে করতে ধীরে ধীরে বৃষ্টি'র দিকে তাকায়। সেই দৃষ্টি বুঝতে এক সেকেন্ডও দেরি হয় না বৃষ্টি'র। সে সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে অন্য দিকে সরে দাঁড়ায়, হাসি উধাও, মুখে নির্দোষ ভাব।
– ওভাবে তাঁকিয়ে আছো কেন? আমি কিছু করিনি।
"শালির বাচ্চা, তোকে আমি রাতে দেখে নেবো!
বৃষ্টি হঠাৎ হেসে বলল,
–আজ তো আমি দরজা চারদিকে থেকে আটকে ঘুমাবো। তাহলে কিভাবে দেখবে?
তুষার কিছুটা রেগে গেল, কিন্তু মুখে আর কিছু বললো না। সে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।
“ভাইয়া, তোমার যত রোমাঞ্চ করতে ইচ্ছে হয়, বাসায় গিয়ে করো। তবু এখন বাসায় চলো।
বড় বড় পা ফেলতে ফেলতে তুষার কেবিনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। আর তুষার চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ উঠে বসে বেডে। ততক্ষণে বৃষ্টি তার গা ঘেঁষে বসে, ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফিসফিস করে টেনে বলল,
–ওহু ওহু! তোর গলায় ওটা কিসের দাগ জানু? কোন বিড়ালে কামড় দিলো?
মেঘ লজ্জায় মাথা নিচু করে নিল।
"চুপ কর, ছেমরি! চল, চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
মেঘ তারাহুরো করে বেড থেকে নেমে পড়ে। তূর্য দুইজনের দুষ্টুমি দেখে মুচকি হাসে। অতঃপর ঘন্টা দুই পরে তাকে ডিসচার্জ দেওয়া হয় এবং সকলে হসপিটাল থেকে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয়।
__________________
হসপিটাল থেকে বাসায় আসতে আসতে রাত প্রায় আট'টা বেজে যায়। তুষার তূর্য'কে ধীরে ধীরে তার রুমে পৌঁছে দিয়েছে, কিন্তু মেঘ এখনও রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। হাত-পা যেন নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে; দীর্ঘ আট বছর পর, সে সেই অতি কাঙ্ক্ষিত মানুষটির রুমে পা রাখতে চলেছে। মনের ভেতর এক অজানা ভশ ঘিরে ধরেছে তাকে।
তূর্য রুমের ভিতরে অপেক্ষা করছে, কিন্তু মেঘ না আসায় সে এক মুহূর্ত ভেবেছিল হয়তো বেরিয়ে যাবে। ঠিক তখনই মেঘ'কে দরজার সামনে থেমে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। এবং মৃদু ফিসফিস করে কণ্ঠে গুঞ্জরিত হয়:
“ম্যাডাম, নিজের রুমে ঢুকতে এতো ইস্ততবোধ করছেন কেন হুম? আপনি হলেন কুইন, আর এই রুমে শুধু আপনার রাজত্ব চলবে। আপনি যা বলবেন, সব মানবে আপনার কিং!
মেঘে'র চোখে এখনও অশ্রু ঝলমল করছে। তূর্য নিঃশব্দে এগিয়ে এসে তার চোখের জল আলতো করে মুছে দেয়, কপালে স্পর্শের সঙ্গে ঠোঁটের নরম ছোঁয়ায় হৃদয় যেন থমকে যায়। মেঘ তার হাত ধরে, প্রথমবারের মতো রুমে প্রবেশ করে। সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ চারপাশের চার দেয়াল ভরে ওঠা ছবিতে আটকে যায়—প্রতিটি ছবিতে তার নিজের হাস্যোজ্বল মুখ, যা তূর্য নিজের প্রেমের ছোঁয়ায় সাজিয়েছে। কাঁপা কণ্ঠে মেঘ ফিসফিস করে:
"আ… আ… আপনি এগুলো কি করেছেন?
তূর্য ধীরে ধীরে তার পাশে এসে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
“ভালোবাসি আপনাকে, ম্যাডাম। আপনি শুধু আমার হৃদয় নয়…আমার রুম জুড়ে রয়েছেন! প্রতিটি কোণায়, প্রতিটি দেয়ালে, আপনার হাসি আমার সঙ্গে।
মেঘ কেঁপে ওঠে, তার মন ভরে ওঠে উষ্ণতা! সে এখন বুঝতে পারছে লোকটা তাকে ভিষণ ভয়ংকর ভাবে ভালোবাসে। হঠাৎ দরজায় টোকা পড়তেই দুজনেই একসাথে পেছনে ফিরে তাকায়। পর মুহূর্তেই দরজা খুলে বৃষ্টি একগাল হেসে ভেতরে ঢুকে পড়ে। হাতে একটা মাঝারি সাইজের লাগেজ, সম্ভবত মেঘে'র জামাকাপড় আর টুকটাক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বৃষ্টি নির্দিষ্ট জায়গায় লাগেজটা রেখে ধীরে ধীরে মেঘে'র দিকে তাকায়। চোখে দুষ্টুমি, ঠোঁটে চাপা হাসি।
–আপাতত যেগুলো দরকার, সব এখানেই আছে। বাকিগুলো কাল নিয়ে আসিস। অনেক দিন পর এত্তো বড় বিছানায় ঘুমাবো আজ, ইসসস, কি শান্তি! তুই ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় কেমন? আর ভাইয়া…ভেরি ভেরি ভেরি ভেরি ভেরি গুড নাইট!
বলেই সে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু বের হওয়ার আগমুহূর্তে আবার পেছন ফিরে দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে,
–ভাইয়া, আমার এইটুকু দোস্ত, ওকে আবার তামা করে দিয়েন না কিন্তু!
মেঘ কিছু বলার আগেই বৃষ্টি দৌড়ে পালিয়ে যায়। দরজা বন্ধ হতেই রমটা হঠাৎ অদ্ভুত রকমের নীরব হয়ে ওঠে। মেঘ ধীরে ধীরে ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে তূর্যের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক কাঁপুনি। চোখ নামিয়ে আস্তে করে বলে,
"আ আ আপনি আগে শাওয়ার নেবেন, নাকি আমি নেবো?
তূর্য কোনো উত্তর দেয় না। শুধু তাকিয়ে থাকে, একদৃষ্টে, গভীরভাবে। সেই দৃষ্টি মেঘ'কে আরও অস্থির করে তোলে। সে আবার একটু জোর দিয়ে বলে,
"শুনতে পারছেন? বলছি…আপনি আগে যাবেন, নাকি আমি যাবো?
তূর্য আনমনে বলে উঠে ,
“চলো দুজনেই একসাথে যাই।
মেঘ সঙ্গে সঙ্গে রক্তিম দৃষ্টিতে তাকায়। চোখে বিস্ময় আর হালকা রাগ। সেটা বুঝেই তূর্য তাড়াতাড়ি কণ্ঠ নিচু করে বলে,
“ভয় পায় তো? ওভাবে তাকানোর কি আছে! আমি যাচ্ছি, তুমি পরে যেও।
এই কথা বলেই তূর্য দ্রুত ওয়াশরুমের ভেতর ঢুকে পড়ে। কিন্তু দুই সেকেন্ডও যায় না, আবার দরজার ফাঁক দিয়ে মাথা বের করে দুষ্টু ফিসফিসানি,
“তবে একসাথে শাওয়ার নিলে খুব বেশি খারাপ হতো না কিন্তু। এখনো টাইম আছে, চলো আসো।
এই বলেই সে সঙ্গে সঙ্গে দরজা আঁটকে দেয়। তূর্য ভালো করেই জানে, আর এক সেকেন্ড দেরি হলেই পরিস্থিতি তার হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।
তূর্য প্রায় ঘণ্টাখানেক পর শাওয়ার নিয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসে। কোমড়ে আলগাভাবে জড়ানো টাওয়াল, ভেজা চুল থেকে এখনো ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছে। দু’কদম এগোতেই সে হঠাৎ থমকে যায়। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মেঘ। কোমড় পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া চুল থেকে টুপটুপ করে পানি মেঝেতে পড়ছে। আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে সে ধীরে ধীরে চুল চিরুনি দিয়ে আচড়াচ্ছে। পরনে সাদা রঙের থ্রি-পিস, গলায় ওড়না নেই—ওটা বেডের ওপর এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। হয়তো রুমে কেউ নেই ভেবেই গলায় জড়ায়নি।
তূর্যের মনে এক মুহূর্তের জন্য প্রশ্ন জাগে,মেঘ শাওয়ার নিল কোথা থেকে? পরক্ষণেই বৃষ্টি'র কথা মনে পড়ে যায়। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হালকা হাসি ফুটে ওঠে।
মেঘ নিজের মতো ব্যস্ত। তূর্যের উপস্থিতি টেরও পায়নি। তূর্য ধীর পায়ে তার দিকে এগিয়ে যায়। পেছনে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত থামে, এই দৃশ্যটা যেন চোখে ভরে নিতে চায়। তারপর হঠাৎ করেই পেছন থেকে মেঘ'কে জড়িয়ে, শীতল ভেজা হাতের স্পর্শে মেঘ চমকে ওঠে। কেঁপে উঠে চোখ বন্ধ করে ফেলে, চিরুনি হাত থেকে পড়ে যায়।
অস্থির হয়ে সামান্য ছটফট করতেই কানের কাছে নরম কণ্ঠ ভেসে আসে—
“ওহু বউ, ডিস্টার্ব করো না!
মেঘ একটু ধাতস্থ হয়ে মিনমিন করে বলে,
"কেউ এসে পড়বে…
তূর্য হালকা হাসে, গলার কাছে মুখ ঝুঁকিয়ে বলে, “তাহলে দরজা লক করে আসি,জাস্ট ওয়েট!
"নাহহহহহহ…
মেঘ তাড়াতাড়ি প্রতিবাদ করে।
“তাহলে এভাবেই কন্টিনিউ করবো, হুম?
তূর্যে'র কণ্ঠে দুষ্টুমির সুর!
তূর্য আয়নায় মেঘে'র লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া মুখটা দেখে ফেলে। দুজনের চোখাচোখি হতেই মেঘ চোখ নামিয়ে নেয়। সে মিনমিন স্বরে বলল,
"আমার খিদে লেগেছে।
তূর্য যেন একেবারে হতভম্ব।
“ওহ শীট! তোমার খিদে আর কোনো টাইম পেলো না? জাস্ট একটু জড়িয়ে ধরেছি, তাতেই খিদে লেগে যায়?
মেঘ মাথা নিচু করে নেয়। তূর্য খুব মনোযোগ দিয়ে তার দিকে তাকায়, পরক্ষনেই নিজের উপর রাগ হচ্ছে। হয়তো মেয়েটাকে তাকে পুরোপুরি নিজের অংশ মনে করতে পারছে না। তাকে আরেকটু টাইম দেওয়া উচিত। তূর্য আবারও মেঘে'র কানের কাছে ঠোঁট লাগিয়ে ফিসফিস করে,
“সরি পিচ্চি! চলো আগে ডিনার শেষ করে আসি।
মেঘ মাথা এদিক ওদিক নাড়ায়। তূর্য মুচকি হেসে তার হাত আঁকড়ে ধরে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
রাত অনেক গভীর! বৃষ্টি কম্বল মুড়ি দিয়ে বিছানায় শুয়ে আছে, কিন্তু চোখে ঘুম নেই। বিশাল বিছানাজুড়ে শুধু সে-ই শুয়ে আছে, আজ মেঘ নেই , ফাঁকা জায়গাগুলো তাকে অকারণেই অস্বস্তিতে ফেলছে। ঘুমানোর আগে সে খুব ভালো করে রুমের প্রতিটি দরজা-জানালা বন্ধ করে রেখেছে। তালা দিয়েছে, পর্দা টেনেছে, সবকিছু দু’বার করে পরীক্ষা করেছে। কারণ তুষার বরাবরই এক কথার মানুষ সে যা বলে, তা করেই ছাড়ে। এই ভেবেই বৃষ্টি প্রথমে একটু ভয় পেয়েছিল। তবে রুমের চারপাশ ভালো করে দেখে মনে খানিকটা স্বস্তি আসে। তবুও ঘুম আসে না।
সে বিছানায় এদিক-ওদিক ফিরছে, পাশ বদলাচ্ছে, কিন্তু নির্ঘুমই থেকে যাচ্ছে। হঠাৎ কারো হাতের শীতল স্পর্শে বৃষ্টি'র চোখ বড় বড় হয়ে যায়। বুকের ভেতর ধক করে ওঠে হৃদপিণ্ড। তুষার একদিন মজা করে বলেছিল—তাদের রুমের পাশের তেঁতুল গাছে নাকি জিন-ভূতের বাস। আর তারা যাকে একবার পছন্দ করে, তাকে নাকি নিজের সঙ্গে নিয়ে যায়। বৃষ্টি'র মনে পড়ে যায়, সে কোথাও শুনেছিল জিন-ভূতদের হাত-পা সবসময় বরফের মতো ঠান্ডা থাকে। ঠিক এখন যেমন। সেই ঠান্ডা স্পর্শ ধীরে ধীরে আরও গাঢ় হয়। বৃষ্টি ভয় পেয়ে চিৎকার করতে যাবে, ঠিক তখনই একজন ছায়ামূর্তি তার মুখ চেপে ধরে।
রুমের লাইট বন্ধ। অন্ধকারে লোকটার মুখ একেবারেই দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টি আঁতকে কেঁপে ওঠে। মনের ভেতর একের পর এক ভয় জমতে থাকে। সে নিজেকে ছাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। নিজেকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে সে হঠাৎ আক্রমণ করে বসে। লোকটার পায়ে পরপর কয়েকটা লাথি মারে। সঙ্গে ধারালো নখ দিয়ে জোরে চিমটি কাটে। ভয় আর আতঙ্কে তার ছোট্ট শরীরটা যেন অদ্ভুত শক্তিতে ভরে ওঠে।
লোকটা বিস্ময়ে স্থির হয়ে যায়। মেয়ে মানুষ যে বদের হাড্ডি হয়, সেটা সে জানত। কিন্তু তার শখের বুড়ি যে এতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেটা তার জানা ছিল না। লোকটা সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি'র মুখ থেকে হাত সরিয়ে নেয়।
ব্যথায় হালকা গুঙিয়ে উঠে বলে,
"আউচ! বুড়ি, তোর হাতের নখ এতো ডেঞ্জারাস কেন? আমার হাতের মাংস তুলে নিয়েছিস!
পরিচিত কণ্ঠস্বর কানে যেতেই বৃষ্টি'র ভয় হঠাৎ করে মিলিয়ে যায়। সে অন্ধকারের মধ্যে মনোযোগ দিয়ে লোকটাকে পরখ করে।
পরক্ষণেই চিৎকার দিয়ে উঠে,
–তুষার ভাইয়া, তুমি?
তুষার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি'কে জড়িয়ে ধরে কম্বল মুড়িয়ে দেয়। এক পলক বৃষ্টি'র দিকে তাকিয়ে সে আবারও তার গালে ঠান্ডা হাত চেপে ধরে। ততক্ষণে বৃষ্টি চেঁচিয়ে ওঠে,
–তুষার ভাইয়া, এবার কিন্তু মাইর দেবো! এমনিতেই এতো রাতে এসে ভয় পাইয়ে দিয়েছো, তার ওপর আবার ঠান্ডা হাত গালে দিচ্ছো!
তুষার নির্বিকার কণ্ঠে বলে,
"তোকে তো আগেই ওয়ার্নিং দিয়েছিলাম, আজ তোর রুমে আসবো।
–তাই বলে সত্যি সত্যি এসে পড়বে? তোমার লজ্জা করে না? রাত-বিরেতে পরনারীর রুমে ঢুকে পড়ছো!
তুষার সামান্য ঝুঁকে বৃষ্টি'র গালে হালকা স্পর্শ করে বলে,
"বউ হবি তুই আমার। এতে লজ্জার কী আছে? আমি তো আর তোর মধ্যে মিশে যেতে চাচ্ছি।
বৃষ্টি চোখ রাঙিয়ে বলে,
–পঁচা কথা বলবে না। নইলে উষ্ঠা দিয়ে ফেলে দেবো!
"তুই যদি একটু বেশি বেশি করে ভালোবাসতে দিস, তাহলে যত খুশি তোর উষ্ঠা খেতেও আমি রাজি।
–তুষার ভাইয়া…
"চুপ কর, বেডি। আজ বাদে কাল তোর জামাই হবো। আর তুই এখনো ভাইয়া বলছিস? সাবধান নয়তো মাইর দিয়ে দাঁত ভেঙে দেবো!
তুষার এক হাত দিয়ে বৃষ্টি'কে নিজের দিকে টেনে নেয়। হঠাৎ এই আচরণে বৃষ্টি থমথম মেরে যায়। কী বলবে বুঝে ওঠার আগেই তুষার ফিসফিস করে বলে ওঠে—
"হুসসসসস! একদম ছটফট করবি না। নয়তো ইন্টু মিন্টু করবো।
– আমার দম বন্ধ লাগছে…
বৃষ্টি কাঁপা গলায় বলে।
তুষারের কণ্ঠে স্পষ্ট দৃঢ়তা…
"আই ডোন্ট কেয়ার! মানিয়ে নিতে শিখ। এখন থেকে এভাবেই ঘুমাবো আমি।
–কিন্তু…
"শোন, বুড়ি! আমি তোকে পানিশমেন্ট দিতে এসেছিলাম। কিন্তু তোর এই ইনোসেন্ট ফেসটা দেখে আর সেটা করতে পারলাম না। তাই পানিশমেন্টের বদলে তোকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে চাই। এখন এতেও যদি তোর খুব সমস্যা হয়, তাহলে…
–ওকে, ওকে! এই রাক্ষসটাই আমার জামাই হবে? ওহ্ নো! আমার জীবন তো পুরো ত্যানা-ত্যানা করে ছাড়বে!
বৃষ্টি বিরবির করে কথাগুলো বলে। অগত্যা, অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে তুষারে'র বুকে লেপ্টে থাকে। তুষারে'র বুকের উষ্ণতায় তার ভয় আর অস্বস্তি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে থাকে, হয়তো পবিত্র বলে!