“আসিফ, এই লোকটাকে বেরিয়ে যেতে বল। আমি এদের কারো সাথেই কথা বলতে চাই না।
কণ্ঠটা ছিল ঠান্ডা, কিন্তু সেই ঠান্ডার নিচে জমে থাকা আগ্নেয়গিরির আঁচ স্পষ্ট। ঘরজুড়ে হঠাৎ একটা ভারী নীরবতা নেমে আসে। আসিফ কিছু বলার আগেই কাঁপা কণ্ঠে আরিফ চৌধুরী এগিয়ে এসে বলে ওঠেন,
"আয়ান বাবা…
কথাটা শেষ করার আগেই যেন বিস্ফোরণ ঘটে যায়। আয়ান হঠাৎ চিৎকার করে উঠে দাঁড়ায়, চোখ দুটো রক্তবর্ণ, মুখের প্রতিটি পেশি টানটান।
“স্টপ! মি. আরিফ চৌধুরী, স্টপ! আমি কারো বাবা নই,শুনছেন? আমি একজন মানুষ, এছাড়া আমার আর কোনো পরিচয় নেই।
তার কন্ঠ স্বরে যেন রুমের বাতাস থমকে যায়। উপস্থিত সবার নিঃশ্বাস আটকে আসে। আয়ানে র কণ্ঠে শুধু রাগ নয়, জমে থাকা বছরের পর বছরের, তুচ্ছ আর যন্ত্রণা হিসাব যেন একসাথে বেরিয়ে আসছে। আরিফ চৌধুরী হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকেন। কণ্ঠ কাঁপিয়ে আবার বলেন,
"তুই এমন করছিস কেন বাবা? আমি...
আয়ান হঠাৎ টেবিলের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এক ঝটকায় টেবিলে রাখা সবকিছু হাতের ঝাঁকুনিতে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে দেয়। কাচের বোতল, নেশা জাতীয় দ্রব্য, গ্লাস—সব ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ভাঙা কাচের শব্দ যেন আয়ানে"র ভেতরের ভাঙনের প্রতিধ্বনি। সে গর্জে ওঠে, কণ্ঠ ফেটে যাচ্ছে প্রায়,
“আপনি সত্যিই বুঝতে পারছেন না আমি কেন এমন করছি? নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করছেন? আপনাকে কি নতুন করে বলতে হবে সব? আর একটা সত্যি কথা কি জানেন?
সে এক পা এগিয়ে আসে, চোখে ঘৃণা আর কষ্টের ভয়ংকর মিশ্রণ।
“আপনি একজন অকৃতজ্ঞ, বার্থ বাবা। আপনি বাবা নামের কলঙ্ক। বাবা মানে আশ্রয়, বাবা মানে ভরসা আর আপনি? আর আপনি শুধু আমাকে ব্যথা দিয়েছেন যন্ত্রনা। আমি আপনাকে বাবা হিসেবে মানি না। মানি না! কোনোদিনই না!
আরিফ চৌধুরীর বুকটা হু হু করে ওঠে। মনে হয় যেন বুকের ভেতর কেউ শূন্যতা ঢেলে দিয়েছে। ছেলের চোখের সেই আগুন, সেই কষ্ট, সবকিছু তিনি দেখছেন, অনুভব করছেন। কিন্তু কিছু বলার শক্তি নেই। হাজারটা কথা গলার কাছে এসে আটকে যাচ্ছে। ছেলের কষ্ট সহ্য হচ্ছে না—একদমই না। তবুও তিনি অসহায়। অতীতের ভুল শুধরে নেওয়ার কোনো উপায় আর নেই। ঘরের ভাঙা কাচের মতোই ভেঙে পড়ে থাকে এক বাবা-ছেলের সম্পর্ক—নীরব, রক্তাক্ত আর চিরচেনা ব্যথায় মোড়া।
আয়ান দৌড়ে নিজের ক্যাবিনেটের কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। হাত দুটো কাঁপছে, শ্বাস এলোমেলো। কয়েক সেকেন্ড পর টেনে বের করে আনে একটা লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ি। এটা তার মায়ের বিয়ের শাড়ি, নতুন শাড়ির মতো এতো ঝকঝক করছে না, তবুও তার কাছে সবচেয়ে দামী। শাড়িটা বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে সে আরিফ চৌধুরী'র সামনে এগিয়ে আসে। চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে, কণ্ঠটা বাচ্চাদের মতো ভেঙে ভেঙে উঠছে।
কাঁপা কাঁপা গলায় আয়ান বলে,
“এটা দেখছেন আপনি? জানেন এটা কী? এই শাড়িটা আমি আপনার ছেলের বউ, ফুল'কে বধূ সাজিয়ে ওই চৌধুরী মহলে প্রবেশ করাতে চেয়েছিলাম। এই শাড়িতেই আমি ওকে আমার অর্ধাঙ্গিনী করে নিতে চেয়েছিলাম। আমি ওকে ভালোবাসতাম সত্যি সত্যি ভালোবাসতাম। অথচ আপনি…আপনি আপনার ছেলের ভালোবাসাটুকুও আগলে রাখতে পারলেন না। আপনি তো আমাকে কথা দিয়েছিলেন! বলেছিলেন, আমি যদি তার যোগ্য হই, তাহলে আপনি নিজ হাতে ওই মেয়েটাকে আমার নামে লিখে দেবেন। কিন্তু আপনি সেই কথা রাখেননি। একটিবারও রাখেননি!
আরিফ চৌধুরী আর সহ্য করতে না পেরে কণ্ঠ নামিয়ে বলেন,
"বাবা, শোন…
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই আয়ান যেন গর্জে ওঠে। তার চোখে তখন আর জল নেই, আছে আগুন।
“সো হোয়াট বাবা? আপনাকে আর কতভাবে বললে আপনি বুঝবেন? আমি এই ‘বাবা’ ডাকটা শুনতে চাই না। একদমই না, চলে যান আপনি। প্লিজ চলে যান, আপনি কাছে থাকলেই আমার কষ্ট আরও বাড়বে। আপনার ছায়াটুকুও আমার সহ্য হচ্ছে না। চলে যান…এখনই চলে যান।
আরিফ চৌধুরী ধীর পায়ে এসে ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে, অথচ মুখে সেই কষ্টের ছাপ সে কোনোভাবেই ফুটতে দেয় না। কাঁপা হাতে আয়ানে'র মুখটা আলতো করে ধরে অসহায় কণ্ঠে বলে ওঠে,
"বাবা…তুই তো মেঘ আম্মাকেই চাস তাই না? আমি এনে দেবো তোকে। কসম করে বলছি, যা চাস সব এনে দেবো। তবুও এমন করিস না বাবা। তোর এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না। কেন বুঝিস না, তুই কাঁদলে আমার ভেতরটা কতটা ভেঙে যায়!
আরিফ চৌধুরী'র কণ্ঠে মিনতি, চোখে ভয়, ভয়টা শুধু ছেলেকে হারানোর। তার কথা শেষ হতে না হতেই আয়ান আচমকা সরে যায়। চোখের দৃষ্টি শক্ত, অথচ ভেতরে জমে থাকা যন্ত্রণাটা লুকোনোর ব্যর্থ চেষ্টা।দৃঢ় অথচ কাঁপা কণ্ঠে আয়ান বলে ওঠে—
“না না, আমার এখন ওই ফুল'কে চাই না। যে ফুল অন্য কারো বাগানে ফোটে, তাকে আমি কোনোদিন চাই না। আপনি এটা কিভাবে বলতে পারেন? বলেন তো, আমি কিভাবে নিজের ভালোবাসার জন্য ছোট ভাইয়ের ভালোবাসা কেঁড়ে নেবো? আমি এতটা স্বার্থপর নয়।
আয়ানে'র বলা প্রতিটা শব্দ যেন আরিফ চৌধুরী'র বুকের ভেতর আঘাত করে। চোখ দুটো জ্বালা করে ওঠে, গলাটা শুকিয়ে আসে। তবুও শেষ আশ্রয়ের মতো একটা প্রশ্ন সে ছুড়ে দেয়—
"তাহলে কী করলে তুই একবার আমাকে ‘বাবা’ বলে ডাকবি?
কথাটা বলার সময় তার কণ্ঠ ভেঙে যায়। শক্ত মানুষটার ভেতরের অসহায় বাবাটা বেরিয়ে পড়ে।
"তুই আমার সব আয়ান। তুই-ই আমার পৃথিবী। তুইও যদি এভাবে মুখ ফিরিয়ে নিস, তাহলে আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো বল?
“এই কথাটা আপনার আট বছর আগে ভাবা উচিত ছিল। যেদিন আমার ফুল'টাকে তূর্যে’র সঙ্গে বিয়ে দিলেন, সেদিন। জানেন, আমার এখন নিজের প্রতি ঘৃণা হয় ঘৃণা! একটা মানুষ কতটা নিকৃষ্ট হলে ছোট ভাইয়ের বউ'কে ভালোবাসে, বলেন তো? আমি না জেনেই কত বড় পাপ করে ফেলেছি।
প্রতিটা শব্দ আরিফ চৌধুরী'র বুকের ভেতর গিয়ে আঘাত করতে থাকে। ছেলের চোখের দিকে তাকানোর সাহস পর্যন্ত তার থাকে না। ভাঙা গলায় সে তড়িঘড়ি করে বলে ওঠে,
"সত্যি বলছি বাবা আমি জানতাম না সেদিন মেঘ আম্মা এত বড় বিপদে পড়বে। যদি জানতাম, তাহলে তোকে আমি সেদিনই ফোন দিতাম। একজন বাবা কখনোই নিজের ছেলেকে কষ্ট দিতে চায় না বাবা৷ আমিও চাইনি। আমি জানতাম…
কথা শেষ করতে পারে না সে। আয়ান সঙ্গে সঙ্গেই তাকে থামিয়ে দেয়,
“আমি জানি সেদিন কী হয়েছিল। আমাকে আবার নতুন করে কিছু বলতে হবে না। আর আপনি এখন যেতে পারেন। পারলে এই ছেলেটাকে সারা জীবনের জন্য ভুলে যাবেন। আপনার ওই ভুলের জন্য আমি আপনাকে কোনোদিন ক্ষমা করবো না…কোনোদিন না।
এই কথাটা বলেই আয়ান আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ায় না। গটগট করে রুম থেকে বেরিয়ে যায় সে। দরজার শব্দটা যেন পুরো ঘরের ওপর ভারী নীরবতা চাপিয়ে দেয়। আরিফ চৌধুরী অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে আসে। ছেলেকে ডাকতে চায়, থামাতে চায়—কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই। একটা ভুল সিদ্ধান্ত, আর সেই ভুলের মূল্য দিতে হচ্ছে তার ছেলেকে। অসহ্য কষ্ট নিয়ে, একা একা জীবন কাঁটাতে হচ্ছে।
আজ হসপিটালে দু’দিন কেটে গেছে। আজ তূর্য'কে ডিসচার্জ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই দু’দিনে এক মুহূর্তের জন্যও সে মেঘ'কে নিজের থেকে দূরে থাকতে দেয়নি। যেন চোখের আড়াল হলেই মেঘ হারিয়ে যাবে, এই ভয়ে তূর্য সারাক্ষণ তাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।
গোসল তো দূরের কথা, ওয়াশরুমের কথাই উঠলেই তূর্য চিৎকার জুড়ে দেয়। মেঘ একটু নড়লেই সে অস্থির হয়ে ওঠে। অথচ এই সব সামলাতে সামলাতে মেঘে'র নিজের মাথাটা যে প্রচণ্ড ব্যথা করছে, সেটা তূর্য শুনতেই চায় না। শেষমেশ মেঘ কাঁদু কাঁদু গলায় অসহায়ভাবে বলে ওঠে,
"আপনি এমন করছেন কেন? আমার মাথাটা ভীষণ ব্যথা করছে। একটু মুখ ধুয়েই তো চলে আসবো বলছি…
তূর্য সঙ্গে সঙ্গে কড়া গলায় উত্তর দেয়,
“মুখ ধুলে কারো মাথা ব্যথা কমে না। আমি নার্সকে বলে মেডিসিন আনাচ্ছি। কিন্তু আমার থেকে এক চুলও সরবে না।
মেঘ বিরক্তি স্বরে বলে,
"উফফ! আপনাকে নিয়ে একদমই পারা যায় না। আমি বুঝে গেছি আপনার সঙ্গে সংসার করতে গেলে আমার জীবনটা একদিন তামা-তামা হয়ে যাবে।
তূর্য ভ্রু কুঁচকে বলে,
“লেকচার দেওয়া অফ করো। এখানে এসে শুয়ে পড়ো। আমি ফিল নিতে চাই!
মেঘ কোমড়ে হাত গুঁজে কর্কশ স্বরে প্রতিবাদ করে,
"ফাজলামো করছেন আমার সাথে? ওইটুকু বেড, ওখানে আপনারই ঠিকমতো জায়গা হয় না, আমি কীভাবে থাকবো?
“আমি এতোকিছু জানি না, তুমি আসবে মানে আসবে। নয়তো…
মেঘ দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে,
"আসছি, রাক্ষসের মতো ব্যবহার করেন। মনে হয় দুনিয়ায় আর কারো বউ নেই। কী যে ঢং!
ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে মেঘ তূর্যে'র দিকে এগিয়ে যায়। কোনো রকমে বেডে উঠতেই তূর্য সঙ্গে সঙ্গে তাকে টেনে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে। যেন ছেড়ে দিলে সে আবার দূরে চলে যাবে। মুহূর্তের মধ্যেই তূর্য মেঘে'র গলায় মুখ গুঁজে দেয়। মেঘ অস্বস্তিতে একটু নড়েচড়ে ওঠে। বুকের ভেতর দম আটকে আসছে তার।
"এতো শক্ত করে ধরেছেন কেন? মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে মরেই যাবো। একটু তো হাত আলগা করুন!
সে অধো আধো কন্ঠে আওরায়,
“ওহু, পিচ্চি ডিস্টার্ব করবে না!
তূর্য হঠাৎ করেই মেঘে'র কোমরটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, নিজের বুকের সাথে তাকে একেবারে মিশিয়ে নেয়। অপ্রস্তুত মেঘ আঁতকে উঠে।
"ছাড়ুন না, প্লিজ!
কাঁপা গলায় অনুরোধটা বেরিয়ে আসে তার। কিন্তু তূর্য যেন কিছুই শুনতে পায় না। মুহূর্তের মধ্যেই সে মেঘে'র অধর জোরা নিজের দখলে নিয়ে নেয়। আচরণে একরকম উন্মাদনা—যেন এই মুহূর্তে তার কাছে আর কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। সে মেঘ'কে নিজের দিকে টেনে নেয়, এতটাই শক্ত করে যে মেঘ ঠিকমতো নড়াচড়াও করতে পারে না। মেঘ পালাতে চায়, নিজেকে সরাতে চায়, কিন্তু তূর্যে'র বুকে এখনও আঘাতের ব্যথা। জোরে ধাক্কা দেওয়ার সাহস সে পায় না। সেই দুর্বলতাটুকুই তূর্য বুঝে ফেলে, আর ঠিক সেই সুযোগটাই সে নিজের মতো করে কাজে লাগায়।
কিছুটা সময় কেটে গেলে তূর্য অবশেষে তাকে ছেড়ে দেয়। মেঘ তখন হাঁপাচ্ছে, নিঃশ্বাস ঠিক করতে পারছে না। চোখে মুখে রাগ আর লজ্জা মিলেমিশে একাকার
ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলে ওঠে,
"জলহস্তির মতো শরীর নিয়ে একটা ছোট্ট বালিকাকে নির্যাতন করছেন, আপনার একটুও লজ্জা করে না?
তূর্য একদম নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে, যেন এসব তার কাছে কোনো বিষয়ই না, কাঁধ ঝাঁকিয়ে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আওরায়...
“কিন্তু এই জলহস্তিটাকেই তো সারাজীবন সহ্য করতে হবে, মেঘপরি! এখন একটুও ছটফট করবে না, বিকজ আই’ম ইন দ্য মুড!
হঠাৎ মেঘ চমকে উঠে চোখ বড় বড় করে তাকায়।
"এটা… এটা তো হসপিটাল!
তূর্য এক মুহূর্তের জন্যও থামে না। বরং ভ্রু কুঁচকে, মুখে খানিকটা ব্যাঙ্গের ছোঁয়া এনে বলল,
“সো হোয়াট? তাতে আমার কী? হসপিটালের পেমেন্ট যখন দিতেই হবে, তখন একটু রোমাঞ্চ করলে ক্ষতি কী? দীর্ঘ আট বছর পর আমি রোমাঞ্চ করবো, সো চুপচাপ থাকবে। বেশি পাকনামি করলে হাত-পা বেঁধেই করবো।
কথা শেষ না হতেই তূর্য ধীরে ধীরে মেঘে'র দিকে ঝুঁকে পড়ে। দূরত্বটা মুহূর্তে কমে আসে। মেঘে'র নিঃশ্বাস আটকে যায়। সে কিছু বলার আগেই তূর্য নিজের ঠোঁট এগিয়ে নেয়, ঠিক সেই সময়ই হুরমুর করে দরজা খুলে যায়।
হঠাৎ এই অপ্রত্যাশিত শব্দে মেঘ যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো চমকে ওঠে। সামনে তাকিয়েই সে কাঙ্ক্ষিত অযাচিত দু’টা মুখ দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে লজ্জা আর অস্বস্তিতে সে তূর্যে'র বুকে মুখ গুঁজে নেয়। রুমের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে তুষার আর বৃষ্টি। দু’জনই চোখ কপালে তুলে, একদম ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে, যেন কী দেখবে, কী বলবে—কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।
রুমের ভেতরের হঠাৎ নিস্তব্ধতা ভাঙে তূর্যে',র গর্জনে। সে দাঁত কিঁচিয়ে রাগে ফেটে পড়ে—
“শালা! আরেকটু দেরি করে আসতে পারলি না? তোদের জন্যই রোমাঞ্চটাও করতে পারলাম না!
"তোমাকে করতে মানা করছে কে? করো, করো, আরও বেশি করে করো। এমন সৌভাগ্য তো আর সবার কপালে জোটে না!
কথাগুলো এমন হালকা ভঙ্গিতে বলা হলো যে, বৃষ্টি নিজেকে সামলাতে পারল না। ঠোঁট চেপে রাখার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ফিক করে হেসে ফেলল। তার সেই হাসি যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করল। পরমুহূর্তেই তুষার ঘুরে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির পিঠে একটা জোরে থাপ্পড় বসিয়ে দিল।
রাগে তার চোখ লাল, কণ্ঠে জমে থাকা ক্ষোভ ছিটকে বেরিয়ে এলো—
"শালির বাচ্চা! আমি এখানে নিজের চিন্তায় বাঁচি না, আর ওখানে দাঁড়িয়ে হাসাহাসি চলছে! এখন মন চায় এক আছাড়ে সব দাঁত ভেঙে দিই!
তুষারের এমন রাগান্বিত চেহারা দেখে ঘরের পরিবেশ এক মুহূর্তে ভারী হয়ে ওঠে। ঠিক তখনই তূর্য ভ্রু নাচিয়ে কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—
“কিরে, মেজাজ এত বিগড়ে আছে কেন?
প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ তুষার পাওয়ার আগেই বৃষ্টি সামনে এগিয়ে এসে নির্দ্বিধায় বলে ওঠে,
– তুষার ভাইয়া আজ সকালে খালামণি'কে বিয়ে করিয়ে দিতে বলেছিল। তাই খালামণি ঝাঁটা দিয়ে....