মেঘ কিছু বলার আগেই জারা কৌতূহলী হয়ে চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করে—
- দুলাভাই, এই ৭২ লাখ আবার কী? এটা দিয়ে কি করে, এটা মাথায় দেয় নাকি.....
জারা বাকিটুকু বলার আগেই বৃষ্টি ঝট করে তার মুখ চেপে ধরে টেনে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। দুজন বেরোতেই মেঘে'র রাগ যেন আর বাঁধ মানে না।
সে গজগজ করতে করতে বালিশ তুলে নেয় আর তূর্য'কে ইচ্ছেমতো পেটাতে শুরু করে। তূর্য হাত তুলে বাঁচার চেষ্টা করে কিন্তু মেঘ থানছে না।
“এই বউ, থামো! আর মাইর দিও না প্লিজ!তোমার ভালোবাসা পেতে ইচ্ছে করে, মাইর নয়। চাইলে তুমি যত ইচ্ছে চুমু দিতে পারো, কিন্তু আর মাইর দিও না!
এই কথাগুলো শোনামাত্র মেঘে'র রাগ আরো বেড়ে যায়। লোকটা দিন দিন যে কী পরিমাণ নির্লজ্জ হয়ে উঠছে! তাকে ছাড়া যাবে না। মেঘ দাঁতে দাঁত পিষে কটমট করে আওরায়,
"কাইলা ইঁদুরের বাচ্চা! আপনাকে দেখলেই আমার বিরক্ত লাগে, আবার নাকি তার ৭২ লাখ দেখবো! কী আছে আপনার ৭২ লাখে, যার জন্য সকাল সকাল পুরো বাড়ি মাথায় তুলছেন?
তূর্য ঠোঁট বাঁকিয়ে নির্দ্বিধায় জবাব দেয়—
“ওখানে আমাদের ফুটবল টিম আছে! যারা পৃথিবীতে আসার জন্য লাফালাফি করছে অথচ তাদের কষ্ট তাদের আম্মা বুঝে না!
এই একটা কথায় মেঘে র গা যেন পিওন-পিওন করে জ্বলে ওঠে। এতটা বেহায়া মানুষ যে পৃথিবীতে থাকতে পারে, জীবনেও ভাবেনি সে।
মেঘ রাগান্বিত কণ্ঠে গর্জে ওঠে,
"আচ্ছা, আপনার লাজ-লজ্জা বলতে কিছু নেই? দিন দিন এতো বেহায়া হয়ে যাচ্ছেন কেন?
তূর্য ঠোঁট বাঁকিয়ে নির্লজ্জ হাসি হেসে বলে,
“সত্যি কথা বললে, বেহায়া হয়। তুমি যদি আমার ৭২ লাখ নাই দেখো, তাহলে আমার লুঙ্গি কোথায়? এই রুমে তুমি আর আমি ছাড়া তো কেউ ছিল না!
মেঘ দাঁত চেপে উত্তর দেয়,
"শাউয়ার নাতি, একটু উপরে তাকিয়ে দেখ। তোর লুঙ্গি ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে।
তূর্য ফ্যানের দিকে তাকিয়ে হতভম্ব হয়ে যায়। লুঙ্গিটা সত্যিই সেখানে ঝুলছে! কীভাবে গেল, সে নিজেও বুঝতে পারছে না। তবু নিজের ভুল মানতে নারাজ হয়ে মুখ বাঁকিয়ে বলে,
“এই আকামটা তুমিই করেছো! আমার মান-ইজ্জত দেখে লুঙ্গি ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে দিয়েছো। এর বিচার চাই আমি!
মেঘ চোখ কপালে তুলে চিৎকার করে ওঠে,
"হোয়াটটটটটটটটট?
তূর্য হঠাৎ গলা চড়িয়ে বলে,
“চিৎকার করলে চলবে না। আমি এখনই চাচা শ্বশুরের কাছে গিয়ে বলবো, তুমি আমার ৭২ লাখ এ্যা… এ্যা…এ্যা...
কথা শেষ না করেই সে ফ্যালফ্যাল করে কাঁদতে শুরু করে। মেঘ একেবারে হতভম্ব। কি করবে, কী বলবে, কিছুই মাথায় আসছে না। ঠিক তখনই বাইরে থেকে চাচার কণ্ঠ ভেসে আসে,
"তূর্য বাবা কাঁদছে কেন?
মেঘের গলা শুকিয়ে আসে। বলার মতো কোনো উত্তর সে খুঁজে পায় না। তূর্য আবারও জোরে চিৎকার করতে যেতেই, মেঘ আচমকা তার মুখ চেপে ধরে। ভারসাম্য হারিয়ে তূর্য খাটে পড়ে যায়, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই মেঘও হোঁচট খেয়ে তার ওপর পড়ে যায়। মেঘ উঠে আসতে চাইলে, তূর্য হঠাৎ নিজের বাহু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। মূহুর্তেই রুমের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে ওঠে। দু’জনেরই শ্বাসের শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। মেঘ স্থির হয়ে যায়— এই পরিস্থিতি থেকে বেরোবে কিভাবে বুঝতে পারছে না। তূর্য'র এলোমেলো নিঃশ্বাস মেঘে'র মুখে আঁচড়ে পড়ছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে তার, সে নিচু স্বরে ফিসফিস করে....
"ছাড়ুন আমাকে?
তূর্য কোনো কথা বলে না। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয় মেঘে'র দিকে, যেন অন্য দুনিয়ায় বিচরণ করছে। তাকে যে কেউ কিছু বলছে সে বুঝতেই পারছে না। মেঘ আবারও ফিসফিস করে,
"ছাড়ুন প্লিজ ব্যাথা লাগছে?
“ব্যাথা দেওয়ার আগে কিভাবে ব্যাথা লাগে?
"দেখুন...
“দেখাও!
মেঘ নিজেকে সামলাতে ব্যস্ত। প্রচন্ড রাগ হচ্ছে তার কিন্তু এখানে চেঁচামেচি করতে চাই না। এটাও বুঝে গেছে তূর্য তাকে ছাড়বে না, তাই সেই হুট করে চিৎকার দেয়,
"দাদিজান তুমি...?
সঙ্গে সঙ্গে তূর্য তাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়া পেয়েই মেঘ দৌড়ে পালিয়ে যায়। এতোক্ষনে তূর্য বুঝতে পারলো মেঘ তাকে বোকা বানিয়েছে। তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে তূর্য!
বৃষ্টি জারা'কে বাড়ির কিছুটা দূরে এনে মুখ ছেড়ে দেয়। বেচারা জারা ছাড়া পেয়ে হাঁপাতে থাকে, সামান্য কথার জন্য এতো হয়রানি? জারা কাঁদু কাঁদু ফেস করে বলল,
- বৃষ্টি আপু তুমি আমাকে মেরে ফেলতে চাইছিলে? আমি মরে গেলে আমি বয়ফ্রেন্ডের কি হতো হুম?
বৃষ্টি এক গাল হেসে দেয়। মেয়েটা অনেক মিশুক, সহজেই সকলের সাথে মিশে যেতে পারে। বৃষ্টি মুচকি হেসে আওরায়,
"সে অন্য একজনকে বিয়ে করতো।
- করুক তাতে আমার কি? আচ্ছা শুনো না আপু দুলাভাই ওটা কিসের কথা বলছিল?
বৃষ্টি ভ্রু নাচিয়ে মিনমিন স্বরে বলল,
"ছোটদের এসব জানতে নেই। আগে বড় হও তারপর বুঝতে পারবে৷ ছোট বয়সে এতো কিছু জানা ভালো নয়।
- কিন্তু আমি তো অনেক বড় হয়েছি, এই দেখো তোমার সমান প্রায়।
বলেই খিলখিল করে হাসতে থাকে জারা। সে লাফিয়ে লাফিয়ে বৃষ্টি'র সমান হওয়ার চেষ্টা করছে।
- আপু প্লিজ বলে ওটা কি? আমি এটার মানে জানতে না পারলে আজ রাতে আমার ঘুম হবে না প্লিজ আপু বলো না।
জারা আকুতি স্বরে বলল। সে বরাবরই কৌতুহলি, একবার যে কথা শুনে তার মানে পুরোপুরি জানতে না পারলে থামে না। হঠাৎ পেছন থেকে কারো ঠান্ডা কন্ঠ ভেসে আসে,
"কি জানতে চাচ্ছে আমার না হওয়া বউ হুম হুম?
বৃষ্টি কিছু বুঝে উঠার আগেই জারা দৌড়ে তুষারে'র সামনে থেকে নির্দ্বিধায় বলে,
- দুলাভাইয়ের ৭২ লাখ নাকি আপু দেখে ফেলেছে। আর আমি জিজ্ঞেস করছি এই ৭২ লাখ কি, কিন্তু সেটা বলছে না আপু।
তুষার সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠলো,
"বুড়ি তুই এটা কি করলি? তুই আমারটা দেখতি মেনে নিতাম, তাই বলে ভাসুরে ছিহ্ ছিহ্ ছিহ্।
বৃষ্টি আহাম্মকের মতো তাকিয়ে থাকে। বৃষ্টি বিস্ময়ে গলা চড়িয়ে ওঠে,
"তুষার ভাইয়া, এসব কী বলছো? পাগল হয়ে গেছ নাকি? এই আজগুবি চিন্তাগুলো কোথা থেকে পাও তুমি?
"তুই নিজেই তো আমাকে পাগল করে দিচ্ছিস! এখন আমার কী হবে বল? দাঁড়া, ভাইয়ের আজ খবর আছে।
ঠিক তখনই বৃষ্টি তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়।
রাগে গজগজ করতে করতে বলে,
"থামো! ওটা আমি ছিলাম না মেঘু ছিল।
কথাটা শুনে তুষার যেন এক ঝটকায় হাফ ছেড়ে বাঁচে।তবুও চোখ কুঁচকে সন্দেহভরা গলায় জিজ্ঞেস করে,
"সত্যি বলছিস তো?
"হুম! আচ্ছা, তুমি থাকো আমাকে দাদিজান ডাকছে।
বৃষ্টি এক পা বাড়াতেই তুষার হঠাৎ তার হাত টেনে ধরে। তার দৃষ্টি অদ্ভুত, চোখে যেন কিছু না বলা অনুভূতি জমে আছে। মুহূর্তেই সে বাঁকা হেসে বলে,
"তুই কি ওটার মানে জানিস?
বৃষ্টি থমকে যায়। কী বলবে বুঝতে পারে না।
তার এই অস্বস্তি দেখে তুষার নিঃশব্দে হেসে ওঠে। তারপর স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
"ওকে এসবের মানে বলার দরকার নেই। আচ্ছা, তুই তো জানতে চেয়েছিলি কাল রাতে আমি হেসেছিলাম কেন?
বৃষ্টি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। হঠাৎই তুষার আলতো করে তার গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। এক মুহূর্তে বৃষ্টি যেন জমে যায়। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। সে কিছু বলতে চায়, কিন্তু শব্দ খুঁজে পায় না। লজ্জায় যেন মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করে। কোনো কথা না বলে সে দ্রুত সেখান থেকে সরে যায়।
পেছন থেকে তুষার হালকা উঁচু গলায় বলে ওঠে,
"ভাই, কাল মেঘু'কে এটা দিয়েছিলাম। তাই আমিও তোকে হাতে কলমে বুঝিয়ে দিলাম। বাই দ্য ওয়ে, লজ্জা পেলে তোকে কিন্তু বেশ কিউট লাগে, বুড়ি!
সকাল গড়িয়ে কখন যে দুপুর হয়ে এসেছে, কেউ টেরই পায়নি। তবুও তূর্য'র কোনো খোঁজ নেই। গোটা বাড়িটা যেন অদ্ভুত এক উৎকণ্ঠায় থমকে আছে। সবাই দুশ্চিন্তায়, কেউ কিছু বুঝতে পারছে না, সপ কোথায় গেল, কেন গেল? মেঘ বারবার ফোন দিচ্ছে। প্রতিবারই সেই একই উত্তর, ফোন সুইচড অফ। বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে তার। উঠানের এক কোণা থেকে আরেক কোণায় অস্থির পায়ে হেঁটে বেড়ায় সে, কিন্তু মনটা কোনোভাবেই শান্ত হচ্ছে না। নিজের ওপরেই রাগ জমে ওঠে। সকালবেলা সে তূর্য'কে খুব বকুনি দিয়েছিল। হয়তো সেই অভিমানেই সে কোথাও গিয়ে বসে আছেন… এই ভাবনাটা মেঘকে আরও অসহায় করে তোলে।
ঠিক তখনই তুষার দৌড়ে আসে মেঘে'র দিকে। মেঘে'র কণ্ঠ কাঁপছে, চোখ দুটো ভয়ে বড় বড় হয়ে গেছে। সে তোতলাতে তোতলাতে জিজ্ঞেস করে,
"তু তু তু তুষার, ওনাকে খুঁজে পেয়েছিস? উনি ঠিক আছেন তো? কোথায় উনি? ওনি তোর সাথে আসেনি?
একসাথে এত প্রশ্নে তুষার কিছুক্ষণ ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়। হাঁপাতে হাঁপাতে সে বলে,
- দোস্ত, অনেক জায়গায় খুঁজেছি কিন্তু ভাইকে পাইনি। আমি আর জারা সবার কাছে ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেছি, কেউ দেখেনি। আচ্ছা দোস্ত ভাইয়ের কোনো বিপদ হয়নি তো আবার?
মেঘে'র বুকটা কম্পন দিয়ে ওঠে। হাত-পা অজান্তেই কাঁপতে থাকে। চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসে। সে কোনো রকম নিজেকে সামলে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ যেই দৌড় দেবে ঠিক তখন একটা শক্ত দেহের সাথে ধাক্কা খায়।
মেঘ লোকটার দিকে কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই কানের কাছে ভেসে আসে ব্যঙ্গ মেশানো কণ্ঠ,
“কি ম্যাডাম, যাকে ভালোবাসেন না তার বিপদের কথা শুনেই এত ভয় পেয়ে গেলেন? এতটা ভিতু তো আমার মেঘপরি নয়। সে তো সব বিপদ সামলাতে পারে। আর আমার প্রতি এত কিউরিওসিটি কেন? হুম হুম… ভালো-টালো বেসে ফেললেন নাকি?
মেঘ নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। সে কতটা ভয় পেয়েছিল, আর এই মানুষটা তা নিয়ে মজা করছে! চোখের কোণে অশ্রু জমে ওঠে, আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি তার নেই। বড় বড় পা ফেলে সে জায়গাটা দ্রুত ত্যাগ করে।
নিজের রুমে ঢুকেই মেঘ ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে। আজও সে বুঝে উঠতে পারে না, লোকটার ছোট ছোট কথাগুলো কেন তাকে এত গভীরভাবে আঘাত করে। কখনো মনে হয়, সে হয়তো তাকে সত্যি সত্যিই ভালোবাসে। আবার কখনো মনে হয়, লোকটা শুধু তার রূপ-সৌন্দর্যের টানেই তার কাছে ফিরে এসেছে। মনের ভেতর হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে, কোনটার উত্তর নেই। ঠিক তখনই দরজাটা ঠেলে তূর্য রুমে ঢোকে। তার হাতে একটি খাবারের প্লেট। মেঘে'র চোখে অশ্রু দেখেও সে কিছু না বলে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। পাশে বসে নীরবে প্লেটটা সামনে এগিয়ে দেয়। তার চোখে কোনো ঠাট্টা নেই, আছে শুধু নরম একটা দৃষ্টি। সে ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে রাখতে চায় সারাজীবন মেয়েটাকে কিন্তু এটা বুঝতে পারবে তো মেঘ।
তূর্য কিছুটা ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে আওরাল,
“পিচ্চি খাবারটা খাইয়ে দাও না প্লিজ অনেক খিদে পেয়েছে।
মেঘ দুহাত দিয়ে নিজের চোখ মুছে তূর্য'র দিকে তাকায়, সে অদ্ভুত দৃঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মেঘ চায় সব সময় নিজেকে এই লোকটার সামনে শক্ত থাকতে কিন্তু কেন জানি বারবার দুর্বল হয়ে পড়ে। মেঘ বড় বড় শ্বাস নিয়ে নরম স্বরে বলল,
"কেন আপনি নিজে খেয়ে নিতে পারেন না?
তূর্য হালকা হেসে আওরায়,
“পারি কিন্তু আজ তুমি খাইয়ে দাও।
"পারবো না। নিজে খেতে পারলে খান নয়তো গালে হাত দিয়ে বসে থাকুন।
“প্লিজ পিচ্চি খাইয়ে দাও না, সকালেও খায়নি তাই প্রচন্ড খিদে লেগেছে। মনে হচ্ছে পেটের ইঁদুর দৌড়ে বেরিয়ে আসবে।
তূর্য শিশু সুলভ গলায় বলল!
মেঘ ক্ষিপ্ত কন্ঠে আওরায়,
"বললাম তো পারবো না। নিজে নিজে খেয়ে নিন।
“ওকে ফাইন চলে যাও তুমি! খাইয়ে দিতে হবে না, আমাকে খাইয়ে দেওয়ার লোকের অভাব আছে নাকি? জাস্ট ওয়েট, শালীকা....
তূর্যে'র এক ডাকেই জারা হাজির। সে মুচকি মুচকি হাসছে, তারপর ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে,,
- কিছু লাগবে দুলাভাই?
“হ্যাঁ! তোমার আপুকে বললাম খাইয়ে দিতে কিন্তু সে পারবে না তুমি আসো তো, আজ তোমার হাতে...
তূর্য কথা শেষ হওয়ার আগেই মেঘ তার হাত থেকে খাবার প্লেট কেঁড়ে নেয়। এবং গজগজ করতে করতে বলে,
"জারা'র বাচ্চা সর এখান থেকে। এক ডাকেই ড্যাং ড্যাং করতে করতে চলে এসেছে। তোর না বয়ফ্রেন্ড আছে, তাকে গিয়ে খাইয়ে দে না। শুধু শুধু আরেক জনের জামাইয়ের দিকে নজর দিস কেন? এখনো দাঁড়িয়ে আছে, যাবি নাকি লাঠি নিয়ে আসবো?
সঙ্গে সঙ্গে জারা পালিয়ে যায়। তূর্য এখনো এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, মেঘ আবারও মুখ বাকিয়ে উঠে,
"ভালো করে বললে খাইয়ে দিতাম না? শুধু শুধু ওকে ডেকে আনার মানে কি? নিন এবার রাক্ষের মতো হা করেন।
মেঘ তূর্য'র মুখে এক লোকমা ভাত পুড়ে দেয়। তূর্য মেঘে'র বিহেভ দেখে নিঃশব্দে হাসে। সে নিজের মনে বিরবির করে,
“আমিতে ফেঁসে গেছেন ম্যাডাম! বলেছিলাম না আপনার মন জয় করবো, দেখেন আমি সেই সঠিক রাস্তায় চলছি। খুব তারাতাড়ি আপনার মুখ থেকে সেই কথা শুনবো, ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি!