ড্রীম লাইটের নিলছে আলোয় সারা রুম আলোকিত।তাতেই চড়ুইয়েল খোলা চোখ গুলো বিড়াল চোখের ন্যায় জ্বলজ্বল করছে। রাত প্রায় আাড়াইটা।পাশেই দোয়েল গুটিসুটি হয়ে গায়ে কম্বল জরিয়ে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু চোখে ঘুম নেই আজ চড়ুই পাখির।আসছেই নাহ,,,চোখ বন্ধ করলেই বার বার সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের কথা মনে পড়ছে।,,বার বার মাথায় চাড়া দিচ্ছে "কি ছিলো ওটা?" আর মন বলছে"এটা এক সুভ্র অনুভুতির প্রথম স্পর্শ ",,,এই মন আর মস্তিষ্কের যুদ্ধ সেই রাত সাড়ে ১১ টা থেকে চলে আসছে।,,,,তখন সেই ঘটনার পর আবির চড়ুইকে ছাড়ার পর সে বললো.....
" এ্ এটা কি ছিলো?"
আবির নির্লিপ্ত,, যেন কিছুই হয় নি।জবাব দিলো....
"তুমি আমায় ছাড়া চকলেট খেয়ে ফেলেছো।তাই আমিও খেলাম চকলেট।এনাফ।,,,"
চড়ুই রেগে বললো....
"দেখুন আমি কিন্তু সব বুঝি হ্যা?,,, আপনি আমায় কিস করলেন কেন?"
"ওমাহ,,আমি তোমায় কিস করেছি?আমার তো মনে হলো আমি ঐ কিউট ইনোসেন্ট মেয়েটার মুখে লেগে থাকা চকলেট খেয়েছি।আবার দেখাবো?কিভাবে খেয়েছি?"
বলেই উঠতে গেলে চড়ুই দু কদম পিছিয়ে বললো....
"এই,,না না না,,,আমি আর এখানে থাকছি না,,,আমি গেলাম।আপনার মতিগতি একদম ঠিক নেই...."
বলেই বাইরে যেতে নিলে আবির পেছন থেকে চড়ুইয়ের হাত ধরে হেচকা টানে নিজের বুকের উপর ফেললো।তারপর বাম হাত দিয়ে চড়ুইয়ের কপালে পড়ে থাকা এলো মেলো চুলগুলো ঠিক করে দিলো।শিহরণে চড়ুই আবার চোখ বুজলো।আবির ঠোট এলিয়ে হাসলো নি:শব্দে। তারপর চড়ুইয়ের থেকে এক কদম পিছিয়ে দাড়ালো।বুঝতে পেরে চড়ুই চোখ খুললো।তাকালো আবিরের চোখের দিকে,,,,কি গভীর দৃষ্টি। ইশ,,এই দৃষ্টির ভাষা কি কেউ পড়তে পারে?"
এসব ভাবনার মাঝেই আবির চড়ুয়ের গায়ের একপাশে পড়ে থাকা ওড়নাটা আরেক কাধে তুলে দিলো।চড়ুই এতক্ষণ খেয়ালই করলো না যে তার ওড়নাটা জায়গা মতো নেই।আবির বললো...
"এটুকুতেই এতো বেসামাল হলে হয়?সামনে কি করবে হুম?এভাবে বাইরে গিয়ে সবাইকে বোঝাতে চাও আমাদের প্রাইভেসি?"
চড়ুই কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।সবই তার মাথার উপর দিয়ে এরোপ্লেনের ন্যায় উড়ে যাচ্ছে। আবির খাট থেকে চকলেটের প্যাকেটটা চড়ুইয়ের হাতে দিয়ে বললো...
"তোমার গিফট। নিয়ে যাও
"
চড়ুই একবার হাতের প্যাকেটটার দিকে তাকিয়ে আবার আবিরের দিকে তাকালো।তা দেখে আবির ভ্রু উচু করে ঠোটে বাকা হাসি টেনে বললো....
"আবার কিউট ইনোসেন্ট মেয়েটার ঠোট থেকে চকলেট খাবো??"
আর দাড়ালোনা চড়ুই।ভো দৌড়ে নিজের রুমে আসলো।
"""""""""
কি করবে ভেবে পাচ্ছে না চড়ুই।দোয়েলের উপরও বিরক্ত কারন সে ঘুমাচ্ছে। জেগে থাকলে তো দুজন মিলে গল্প করা যেতো।,,,,,এসব ভাবতে ভাবতে ভোর ৪ টার দিকে চোখে ঘুম নামলো চড়ুইয়ের।,,,,,,,
সকাল ১০ টা প্রায়। দোয়েল কিচেনে সাবিহা ও বাকি সার্ভেন্টদের সাথে হাতে হাতে এটা ওটা করছে।তখনই সিড়ি বেয়ে নামতে নামতে জেসি বললো....
"বড় পাখি,, এখনো রেডি হোস নি তুই,,,,আরে আমরা বেরোবো কখন?"
দোয়েল কিছু বলবে তখনি নিবিড় কোথা থেকে এসে দোয়েলের ডান হাত চেপে ধরে টানতে টানতে বললো....
"ওয়াট ইজ দিস আম্মু,,,,তুমিও রেডি হওনি এটম কেও হতে দাওনি।যাও,,, কুইক রেডি হও গিয়ে। মেঝো আম্মু, ছোট আম্মুরা কোথায়?দেখছি না কেন??আর মিস এটম,,ছোট পাখি কই??"
"ঘুমাচ্ছে এখনো,,,"
তখনই আবির সদর দরজা দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে বললো....
"এখনো ঘুমাচ্ছে মানে?,,,রাতে কি করেছে?"
দোয়েল বললো...
"আমি ডেকে দিচ্ছি,, যাই।"
নিবিড় বললো...
"চলো"
"আপনি কোথায় যাচ্ছেন?"
"ছোট পাখিকে ডাকতে?'"
আবির বললো.....
"একটা থাপ্পড় দেবো শয়তান,,,,ভাবির ঘুম দেখতে চাইছে,,,চুপচাপ বস এখানে?"
নিবিড় বোকার মতো আবিরের দিকে চেয়ে রইলো।দোয়েল এসবে পাত্তা না দিয়ে উপরে চলে গেলো চড়ুইকে ডাকতে।,,,,,,,,
"উমম বোন,,,একটু ঘুমাতে তো দিবি নাকি??"
চড়ুইয়ের এমন কথায় দোয়েল চড়ুইয়ের গা থেকে কম্বলটা সরিয়ে দিয়ে টেনে তুলে বসিয়ে দিয়ে বললো.....
"রাত ৩ টা পর্যন্ত জেগে থাকলে এখন তো ঘুম আসবেই।ওট তুই,,,জরুরী কাজ ও কথা দুটোই আছে।"
কোনো রকম টেনেটুনে ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে দিলো চড়ুইকে।সাথে একটা হালকা সবুজ রঙের সিম্পল চুড়িদার।,,,,,,দুজনেই রেডি হয়ে একসাথে নিচে নামলো।চড়ুই খেয়াল করলো তার দিকে তাকিয়ে দোয়েল আহিশ মিটি মিটি হাসছে।,,,নাস্তা করে সবাই বেরুলো শপিংয়ের উদ্দেশ্যে।বড়রা সবাই এক গাড়িতে।আর ছোটরা অন্যটায়।আবির ড্রাইভ করছে।পাশেই জিসান।পেছনে দোয়েল,চড়ুই,আর জেসি।তাদের পেছনে আহিশ আর নিবিড়।,,,,জিসান বলে উঠলো....
'"মলে ওরাও মিট করবে।সেখান থেকে সোজা বাড়ি যাবে।'"
নিবিড় একটু বিরক্ত হলো।আহিশ বললো....
"আবার সেই সানিয়া, মুনিয়া,,উফফহ, জিসান ভাই,,,তোমার কাজিন গুলা নাহ,,,এক একটা, ,, "
জিসান বললো....
'আমি জানি ওরা কেমন,,,কিন্তু আমি তো আর ওদের আসা আটকাতে পারি না।আম্মুর ভাইদের ছেলে মেয়ে ওরা।আম্মু জোর না করলে আমি জিবনেও ওদের ইনভাইট করতাম না আমার বিয়েতে।দরকার পড়লে শুধু মামাদের আসতে বলতাাম।"
দোয়েল হালকা হেসে বললো....
"ওমা,এটা কেমন কথা জিসান ভাই,,, তুমি মামাদের আসতে বলবে,,আর তার ছেলে মেয়েদের না??"
নিবিড় বললো...
"ও তুমি বুঝবে না মিস এটম। আমি যদি দেখি ওই মেয়েটা আবার এমন করে,,তাহলে বাড়ি ছাড়বো।"
এতক্ষণে আবির গম্ভীর কন্ঠে বললো....
"জিসান ভাই,,,,বাকি সব যা তা।বাট তাসান, ওরব,আর রবিন দের সামলে থাকতে বলবে,,,বিষেশ করে ঐ তাসান,,,,তুই জানিস এখন বাড়িতে জেসি একা নয়।তাই৷, যদি কিছু হয় আমি কিন্তু ওদের ছেরে দেবো না বলে রাখলাম।"
জিসান বললো....
আমি কি এমনি ছেড়ে দেবো মনে হয়?কোথা থেকে যে এই কাজিন মহল জুটলো আমার কপালে কে জানে...এদের জ্বালায় মামাবাড়ি পর্যন্ত যাই না।"
কিছুক্ষণ নিরবতা,,,,তারপর হঠাৎ আহিশ বললো....
"কি হলো ছোট পাখি,,, আজ মনে হচ্ছে ভদ্র হয়ে গেছিস,,,,কাহিনি কি?"
জেসি বললো....
"হুম তাইতো,, ছোট পাখি তো এত চুপ থাকার মেয়ে নয়?"
চড়ুই বললো....
"কই না তো,,,এমনিই।"
নিবিড় মুখ টিপে হেসে বললো....
"ভাই,,,কাহিনি কি বলতো?ছোট পাখি এমন চুপ কেন?"
আবির বিরক্ত হয়ে বললো...
"আমি কিভাবে জানবো,,,,সেটা ঐ পাতিহাঁসকেই জিজ্ঞেস কর।"
এবার চড়ুই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললো....
"ঐ ব্যবসার থলে,,,, কি বললেন আমায়??আবার পাতিহাঁস?,,, ,,, হুহ,,,আপনার বউ পাতিহাঁস "
এই কথা শুনে নিবিড়,আহিশ,জেসি জিসান একত্রে হেসে দিলো।আবির হালকা হাসলো.....
আহিশ বললো....
"আবির ভাই,,,গাড়িটা সাইডে দাড় করিয়ো,,,ছোট পাখির জন্য চকলেট কিনবো।মাথা গরম করে গেছে ওর।"
আবির বললো....
"সে কি আদেও চকলেট খাবে এখন??,,,কি পাতিহাঁস,,, খাবে চলকেট???"
বলেই মিররে চড়ুইয়ের দিকে তাকালো।চড়ুইও আবিরের বাকা হাসি খেয়াল করে দ্রুততার সাথে বলে উঠলো....
"না না না,,,একটাও চলকেট খাবো না এখন।।'"আহিশ বললো....
"ওমাহ,,এতো দেখি,, ভুতের মুখে রাম নাম,,,,ছোট পাখি,আর চকলেট খাবে না?এটাও সম্ভব? "
একথা শুনে সবাই উচ্চ স্বরে হাসা শুরু করলো.....
এসব হাসি ঠাট্টার মাঝেই তারা পৌছে গেলো শপিং মলে। সেখানে আগে থেকেই বিপাসারা ছিলো।জিসান গিয়ে বিপাসার মা বাবার সাথে সালাম বিনিময় করলো।তারপর বিপাসাকে আলতো করে জরিয়ে ধরলো।সবাই মিলে শুরু করলো এটা ওটা কেনা কাটা।দোয়েল চড়ুই ইতোমধ্যে বিপাসার সাথে ভাব জমিয়ে ফেলেছে।তারা সবার সাথেই এটা ওটা দেখছে।তবে নিজেদের জন্য নাহ,,,অনেকক্ষণ পরে সাবিহা নিবিড়কে দুরে দেখে ডাকলো,,,,নিবিড় আসতেই বললো.....
"কি দুরে দাড়িয়ে আছিস,,,ইভেন্টের সব কেনা শেষ। এবার যার যার নিজের গুলো দেখছে।ওরা তো একা বসে আছে নাকি?"
নিবিড় বললো....
"যাচ্ছি। "
বলেই দোয়েলের হাত চেপে ধরলো...
"উঠো।"
দোয়েল বললো...
"আজব আমি উঠতে যাবো কেন?"
নিবিড় বললো...
"আমি বলেছি তাই।"
তখনই হাজির হলো জিসানের কাজিন মহল।,,,সানিয়া,জিসানের ছোট মামার বড় মেয়ে। সে এসেই নিবিড়কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললো...
"হাই আবির,,,,"
নিবিড় এক ঝটকায় তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো....
"আমি নিবিড়,,আবির নই।নাও গো।"
সানিয়া একটা ডং মার্কা হাসি দিয়ে বললো...
"ওহ,,কাম অন নিবিড়,,তোমরা তো একই তাই না?,,,দেখো তোমাকে কত দিন ধরে দেখিনা,, তাই তো ইনভিটেশন পেয়েই চলে আসলাম।"
নিবিড় হাসার ডং করে বললো...
"ওওওউ,,তার মানে ইনভাইট না করলে আসতেই না।ইসস,,,ভুল হয়ে গেছে গো,,তোমাকে একদম ইনভাইট করা উচিৎ হয় নি। "
বলেই দোয়েলকে টেনে দাড় করলো,,,,আর বললো....
"চলো মিস এটম"
সানিয়া এবার দোয়েলের মুখের দিকে তাকালো।