এদিকে আবির রুমে ঢুকতেই হালকা আলোয় দেখা মিললো চড়ুইয়ের।মেঝেতে পাতানো তোষকের বিছানায় এলো মেলো হয়ে শুয়ে আছে সে।দুই পাশে দুইটা কোলবালিশ।পাখাও চলছে আবার পাতলা কম্বলও জরিয়েছে গায়ে। এলো মেলো চুল গুলো ছরিয়ে আছে।পাশেই একটা প্লাস্টিকের ভাঙা কাকড়া।হয়তো ঘুমের মাঝেই ভেঙেছে।ডান পা কোল বালিসের উপর দিয়ে বাম পা সোজা করে দু হাত উপরের দু দিকে মেলে উলটো হয়ে ঘুমাচ্ছে চড়ুই।আবির এমন এলেমেলো মেয়েটাকে দেখে হালকা হাসলো।এর পর এগিয়ে গিয়ে চড়ুইয়ের মাথার পাশে একপা মেলে দিয়ে এবং আরেক পায়ের হাটু ভাজ করে দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসলো।আলতো হাতে চড়ুয়ের এলোমেলো চুল গুলো গুছিয়ে একটা খোপা করে দিলো।এরপর চড়ুইয়ের মুখের দিকে ঝুকে হালকা স্বরে ডাকতে লাগলে...
"চড়ুই পাখি?,,,এই চড়ুই পাখি?উঠে পরো?"
চড়ুইয়ের কানে কথাটা গেলো।কিন্তু মস্তিষ্কে নয়।সে চোখ বন্ধ অবস্থাতেই ভ্রু যুগল কুচকে মুখে চ উচ্চারণ করে সোজা ঘুরে শুলো।আবির আবারো নিরবে হাসলো।এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো। তারপর উঠে গিয়ে বারান্দার দরজাটা খুলে দিলো।তারপর জানালার পর্দাটা উঠাতেই চড়ুই ঘুম জরানো কন্ঠ নিয়ে বললো....
"লতা খালা,,,তোমারে আমি কতবার বলেছি আমাকে বা জাগাতে,,,এত কেন বিরক্ত করছো??"
আবির ফিক করে হেসে আবার চড়ুইয়ের পাশে বসতে বসতে বললো....
"উঠে পড়ো,,, অনেক বেলা হয়েছে"
চড়ুই এই কন্ঠের মালিককে না অনুসন্ধান করেই বলে উঠলো....
"ঘুমের মেডিসিন খেয়ে শুয়েছি।এখন উঠতে পারবো না।,,"
আবির অবাক।কি বলে এই মেয়ে,,,এক্সাম শেষ বলে খুশিতে ঘুমের মেডিসিন খেয়ে শুয়েছে?,,,আবিরের রাগ হলো,,,চড়ুইয়ের দিকে ঝুকে বা হাতে ভর দিলো।তারপর ডান হাত দিয়ে চড়ুইয়ের নাক চেপে ধরলো।,, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে চড়ুই চোখ মেলে তাকালো।মুখের উপর আবিরকে ঝুকে থাকতে দেখে আকাশ থেকে পড়লো সে।কি করবে ভেবে না পেয়ে ছটফট করতে করতে নিজের ডান হাতের কনুই দিয়ে আবিরের বাম হাতে বারি দিতেই আবির টাল সামলাতে না পেরে চড়ুইয়ের উপর ধপ করে পড়লো।চড়ুই একটু ব্যাথা পেয়ে চেচিয়ে বলে উঠলো...
"আউচ,,,,এই আপনি এখানে কি করছেন?আ্ আমাদের বাসায় আপনি কেন??আর আমার রুমে আমার বিছানায় কেন,,, "
আবির একটু হালকা হলো চড়ুইয়ের উপর থেকে তবে পুরো উঠে নি।কন্ঠে দুষ্টামি নিয়ে বললো....
"কি বলো এই সব,,,,আমি এখানে মানে,,আমিতো কাল এখানেই ঘুমিয়েছি।এই যে তোমার এই পাশটায়,,,,জানো?তুমি কতো হিংসুটে,,, আমাকে একটা পিলোও দিলেনা।তাই তোমাকেই পিলো হিসেবে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছি।"
চড়ুই ভাবছে,, কি বলছে এই লোকটা।ভীত কন্ঠে বললো....
"মমম মানে,,,?কি সব বলছেন এসব?,,,আমি তো কিছুই'""
তখনই বাইরে থেকে নিবিড়ের কন্ঠ ভেসে এলে...
"ভাই,,,ছোট পাখিকে বল কুইক রেডি হতে।বেরোবো তো নাকি??"
আবির এবার চড়ুইকে বললো...
"কথা পরে হবে।আগে উঠো,,ফ্রেশ হও যাও।"
"কিন্তু..."
"কোনে কথা নয়।গেট আপ,,,এন্ড গো টু দা ওয়াশরুম।ইউ হ্যাভ ওনলি ফাইভ মিনিটস।কুইক"
"আপনি আগে বের হন রুম থেকে।"
"তুমি উঠবে নাকি আমিই উঠাবে।"
"আজব তো,,,আমায় নিয়ে পরেছেন কেন আপনি?জান না গিয়ে নিজের থলে সামলান।উঠতেছি বলছি তো।ব্যবসার থলে কোথাকার।,,,"
আবির আর কথা বারালো না।উঠে যেতে যেতে বলে উঠলো....
"যাস্ট ফাইভ মিনিটস।"
"""""
ড্রয়িং রুমে এসেই শুনতে পেলো আহিসের আরেক চাচাতে ভাইয়ের বিয়ে।তাই তাা এখন পাখিদের নিয়ে যেতে এসেছে।এটা শুনেই চড়ুই সাথে সাথে বলে উঠলো...
"ইম্পসিবল,,, আমি যাবো না তোদের বাড়ি।"
দোয়েলও বললো...
"আমিও নাহ,,,এখানেই থাকবো।,,আর আপনি,,, মি: নিবিড়,,,,এই জন্যই তখন আমাকে ভুলভাল বোঝাচ্ছিলেন,,,"
নিবির বললো....
"আমার বয়েই গেছে তোমায় মিথ্যা বলতে।ওসবই সত্যি ছিলো।"
চড়ুই বললো....
"আমরা যাচ্ছি না ব্যাস।,,,বোন,,তুই কাকাইকে বল ট্রেনের টিকিট বুক করতে,,, আমি নরাইল যাবো।আজই,,,"
"হুম,,আমিও চলে যাবো।"
বলেই দোয়েল আমোজকে ফোন লাগালো,,,,,,,এদিকে আবির ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে সোফায় বসতে বসতে বললো....
"যা ইচ্ছে করে নাও।তবে দ্রুত।আমাদের বেরোতে হবে "
আবিরের কথায় চড়ুই আর দোয়েল রাগি চোখে তাকালো।চড়ুই আঙ্গুল তুলে বলতে লাগলো...
"আপনাকে তো আমি....."
আর বলতে পারলো না। কারন দোয়েল আমোজের সাথে কথা শুরু করে দিয়েছে।ফোনটাও লাউডে দিয়েছে যাতে চড়ুইও কথা বলতে পারে।,,,,
"হ্যালো কাকাই।,,,,"
"হ্যা।আম্মু বল??হঠাৎ এই সময়?"
"তুমি এক্ষুনি টিকিট বুক করো।আমরা বাড়ি যাবো "
"কিন্তু...."
চড়ুই বলে উঠলো....
"কোনো কিন্তু না কাকাই।বাড়ি যাবো মানে যাবোই।,,"
"একটু শান্ত হ আম্মুরা। আমি জানি তোরা এমন কেন করছিস।,,দেখ আম্মুরা।আমি আহিশের বাবাকে কথা দিয়ে ফেলেছি,যে তোরা যাবি।আট তোরাতো এখানেও আসবি না বলেছিস।আমি চাই না তোরা ওখানে একা থাক।তাই আহিশ যখন বললো তখন আর না করিনি।তোরাও মাস খানেক ওদের বাড়ি বেড়িয়ে আয়।আর জিসান বাবার বিয়েতেও এনজয় কর।"
চড়ুই অবাক হয়ে বললো....
"মাস খানেক!!!!"
আহিশ ফোড়ন কেটে বললো...
"জ্বী মহা রানি।এক মাস।"
চড়ুই বললো...
"তুই চুপ কর আহিশসার বাচ্চা। "
দোয়েল বললো...
"কিন্তু কাকাই,,,,এভাবে চিনি না জানিনা,,কারোর বাড়িতে একটা মাস কিভাবে থাকে কেউ।আর উনারা কি ভাববে বলো তো,,,"
আহিশ একটু সিরিয়াস হয়ে বললো....
"আমাদের ফ্রেন্ডশিপকে তোর অচেনা মনে হয় বড় পাখি?"
দোয়েল বললো....
"আহিশ প্লিজ,,,আমি ওভাবে বলিনি,,,'
আমোজ খান বললেন....
" আহ,,এখন ঝগড়া নয় আম্মুরা।তোরা যা।আর কোনো প্রবলেম হলে কাকাই তো আছি তাই না?"
চড়ুই বললো.....
"কিন্তু কাকাই বিয়ে বাড়িতে যাবো,,,আর এখানে আমাদের তেমন...."
আমোজ বললেন....
"জামা কাপড় নিয়ে একদম ভাববি না।আমি তোদের কাকিয়াকে বলবো সব কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দিতে।এবার তো যা....দেখ,,আমি কথা দিয়ে ফেলেছি কিন্তু।তোরা কি চাস তোদের কারনে আমি কথার খেলাপ করি?"
কিছুক্ষণ চুপ থেকে দোয়েল বললো...
"ঠিক আছে কাকাই,,,আমরা যাবো। রাখছি।"
সস্থির নি:শ্বাস ফেললো আহিশ,আবির নিবিড়।ভাগ্যিস কাকাই সব সামলে নিলো।,,,,,,,,,,,,,,,,,গাড়ি চলছে তার নিজ গতিতে।ড্রাইভ করছে আবির,,,পাশের সীটে নিবিড়।আর পেছনে দোয়েল আর চড়ুই।,,আহিশ কাজের বাহানা দিয়ে ওদের আগেই বেড়িয়ে পড়লো।দোয়েল মুখ গোমড়া করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।তা মিররে দেখছে আর মিটিমিটি হাসছে নিবিড়।আর এদিকে চড়ুইয়ের এইসবে কোনো খেয়াল নেই,,,সে তো দিন দুনিয়া ভুলে ঘুমাচ্ছে দোয়েলের কাধে মাথা দিয়ে,,, দোয়েলও দু হাতে যথা সম্ভব তাকে আগলে রাখছে। আবির বুঝলো ঘুমের মেডিসিনের কারনেই মেয়েটা এমন পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। সে গম্ভীর কন্ঠে বললো....
"বড় পাখি?ও কি রেগুলার ঘুমের মেডিসিন নেয়?"
"কিহ,,,বোন মেডিসিন নিয়েছে?"
"হুম,,তুমি জানতে না?"
"উহুম,,,তাই তো বলি আজ এমন ঘুমাচ্ছে কেন,,,"
আবির বুঝলো দোয়েলকে কিছুই জানায়নি চড়ুই।,,,মনে মনে সে বিরক্ত হলো,,,,এতো হেয়ালিপনা করে কেন মেয়েটা,,,মেডিসিন নিয়েও কেউ দুষ্টামি করে?"""
গাড়ি এসে থামলো একটা বাংলো বাড়ির সামনে,,,,দোয়েল গাড়ি থেকেই নেমপ্লেটটা দেখলো।"প্রফুল্লালয়"।নামটা মনে ধরলো দোয়েলের।সে জাানে চড়ুইও খুশি হবে এমন নাম দেখে।,,,,,গাড়ি থামতেই আবির নিবিড় নেমে দাড়ালে।নিবিড় গিয়ে দোয়েলের পাশের দরজাটা খুললো,,,দোয়েল চড়ুইয়ের গালে চাপর দিতে দিতে বললে....
"বোন,,,,বোন,,,ওঠ,,,,,এই বোন,,,"
আবির এগিয়ে এসে বললো....
"বড় পাখি তুমি ভাইয়ের সাথে ভেতরে যাও।আমি ওকে নিয়ে আসছি।"
দোয়েল কথা বাড়ালো না।ইচ্ছেও নেই। তাই কথা মতোই সরে এসে দাড়ালো নিবিড়ের পাশে,,,,,,আবির চড়ুইয়ের নাক আবারও চেপে ধরতেই চড়ুই চোখ বড় বড় করে তাকালো।আবির হালকা হেসে নাকটা ছেড়ে দিলো।আর বললো...
"আসুন পাতিহাঁস,,, চলে এসেছেন আপনার শশুর বাড়ি।"
চড়ুই আবিরের কথায় তেমন পাত্তা দিলো না।নেমে এলো।আবির হুট করেই চড়ুইয়ের হাত চেপে ধরে সামনে হাটতে লাগলো,,,,চড়ুই বলে উঠলো....
"একি,,হাত ধরলেন কেন?"
"তোমার যা অবস্থা। দেখা যাবে হাটতে হাটতেই এখানে ঘুমিয়ে পড়েছো তখন পড়ে গেলে?না বাবা,,আমি এমন রিস্ক নিচ্ছি না।চুপচাপ চলো "
চড়ুই আর কিছু বললো না।হাটতে লাগলো।দোয়েল আর নিবিড়ও এগিয়ে গেলো।সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই দোয়েল গিয়ে চড়ুইয়ের হাত চেপে ধরলো।চড়ুই বুঝলো ব্যপারটা।তার বোনটার যে নতুন জায়গায় খাপ খাওয়াতে একটু সময় লাগে।,,তাই সেও আর কিছু বললো না।এক হা আবিরের হাতে আর আরেক হাত দোয়েলের হাতে নিয়েই ভেতরে প্রবেশ করলো।,,,,,সুন্দর বাড়িটা।তাদের বাড়িটা থেকেও বড়।আর সব কিছুই গোছালো।সারা ড্রয়িং রুম জুড়েই দেওয়ালে কারু কাজ করা।,,,,এসব দেখতে দেখতেই এগিয়ে যাচ্ছে পাখিরা।নিবিড় গলা উচু করে ডাকলো....
আম্নু??কোথায়,, আমরা এসে গেছি।"
পাখিদের ঘোর কাটলো।সামনে তাকিয়ে দেখলো দুজন মহিলা এগিয়ে আসছে।সিড়ি বেয়ে একটা মেয়ে দৌড়ে নিচে নামছে,, সবারই চোখে মুখে খুশির ঝলক।সাবিহা আর জুলেখা (জিসান ও জেসির মা) সামনে আসতেই পাখিরা তাদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলো।তারা দুজনই খুশি হয়ে গেলো।এখনকার দিনে মেয়েরা মুখে সালাম দিতেও দিধা বোধ করে।এরপর তানিজ(আহিশের মা)আসলেও একই কাজ করে পাখিরা।সেও খুব খুশি পাখিদের পেয়ে।সবাই খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে পাখিদের।পড়নে লিলেন সুতির হাটুর নিচ পর্যন্ত গোল জামা।গলায় ওরনাটা ঘুরিয়ে এনে সামনে রাখা।দুজনেরই চুলগুলো একটা বেনি করা।কাধে একটা ব্যাগ।,,,,চলন ধরনও পছন্দ হলো সবার।জেসি দৌরে এসে দুজনকে একসাথে জরিয়ে ধরে বললো....
"ওয়াও,,,ফাইনালি তোমাদের নিজের চোখে দেখলাম।কি কিউট গো তোমরা,,,একদম গুলুমুলু।"
বলেই দু হাত দিয়ে দুজনের গাল টেনে দিলো।হাসলো দুজনেই,,,চড়ুই বলে উঠলো....
"তুমিও খুব কিউট আপি।"
জেসিও হাসলো।সাবিহা বললো...
"অনেক জার্নি করে এসেছিস আম্মুরা।আয় বসে একটু জিরিয়ে নে।"
বলেই ওদের নিতে গেলে আবির বলে...
"বড় পাখি তুমি বসো,, আমি আসছি ওকে নিয়ে। "
বলেই চড়ুইয়ের হাতে হেচকা টান দিয়ে ডাইনিংয়ের ওদিকে নিয়ে যেতে লাগলো।তা দেখে চড়ুই বলে উঠলো....
"আরে আবার কোথায় নিচ্ছেন??বাড়ির ভেতরে চলে এসেছি তো।,,"
"তা আমি জানি।চুপ চাপ থাকো।"
বলতে বলতেই বেসিনের সামনে দাড় করালো চড়ুইকে।নিজেও তার পেছন ঘেসে দাড়িয়ে বেসিন থেকে পানি নিয়ে চড়ুইয়ের মুখে ছেটাতে লাগলো। পুরো মুখ ধোয়া হয়ে গেলে পাশে থেকে টিস্যু নিয়ে মুখ মুছিয়ে দিতে দিতে বললো....
"খুব জরুরী ছিলে এটা।"
"আমাকে বললে আমি নিজেই করে নিতাম।হুহ।"
"কত করতে জানা আছে আমার"
"কাচ কলা"
বলেই আবার ড্রয়িংরুমে গেলো চড়ুই।এসে দেখলো দোয়েল গুটিসুটি হয়ে বসে আছে সাবিহার এক পাশে।সাইডে একটা সিঙ্গেল সোফায় জুলেখা বসে আছে।দুজনেই এটা ওটা জিজ্ঞেস করছে দোয়েলকে।চড়ুই গিয়ে সাবিহার আরেক পাশে বসলো,,,,সাবিহাও হাসি মুখে চড়ুইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। তখনই আবির এসে বললো.....আম্মু,,বড় পাখি খুব টায়ার্ড ওকে রেস্ট করতে পাঠাও।গল্প পরেও করতে পারবে।"
"ওমা,,ওরা দুজনই টায়ার্ড আবির ভাই?"
জেসির কথায় আবির বললো...
"কিহ?এই পাতিহাঁস আর টায়ার্ড?পুরো রাস্তা ঘুমিয়েছে।এখন গিয়ে চোখে মুখে জল না দিলে এখানে এতক্ষণে ঘুমিয়ে যেতো।'"
চড়ুই দাতে দাত চেপে বললো...
"আপনি কি আমাকে ডিসট্রাব করার এখানে নিয়ে এসেছেন??"
"উহুম,,,নিজেকে ডিসট্রাব মুক্ত রাখতে নিয়ে এসেছি।"
বলতে বলতেই সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো আবির।চড়ুই এবার পাশে বসে থাকা সাবিহাকে বললো....
"আন্টি,,তোমার সাথে আমার অনেক কথা আছে।তুমি কি জানো?তোমার এই ব্যবসার থলে ছেলেটা অত্যন্ত লেভেলের অসভ্য "
সাবিহা হাসি মুখে বলে উঠলো....
"ওমা তাই নাকি?জানতাম নাতো,,,তা তোর সাথে কি অসভ্যতা করেছে ও?"
চড়ুই কিছু বলতে যাবে তখনই পাশ থেকে দোয়েল বলে উঠলো....
"আহ বোন।কি বলছিস এসব।একটু চুপ থাক?"
তখনই নিবিড় সিড়ি বেয়ে নামতে নামতে বললো....
"ছোট পাখিকে যা ইচ্ছে বলতে দাও।আর তুমিও অভ্যাস করে নাও।বুঝলে মিস এটম?"
সাবিহাও হেসে বললো....
"ঠিক বলেছে নিবিড়।আম্মুরা,,তোরা আমাকে এবং এই বাড়ির সবাইকে সব নির্দ্বিধায় বলতে পারিস।এতো ফরমালিটির প্রয়োজন নেই বুঝলি আম্মু...আরে আমরা তো আমরাই।"
দোয়েল হালকা হাসলো।চড়ুইও হেসে বলে উঠলো....
"ওহ আন্টি,,,তুমি খুব ভালো বুঝলে তো?আমি কিন্তু তোমার ছেলের নামে সব সময় নালিশ দেবো।তোমাকে কিন্তু ওনাকে বকে দিতে হবে।বুঝলে?"
"আচ্ছা বাবা,, দিবো নি বকে।,,,"
নিবিড় এসে দোয়েলের হাত ধরে টেনে উঠালো আর বললো....
"আম্মু নিয়ে যাচ্ছি ওদের।ফ্রেশ হয়ে নিক তারপর এসে কথা বলবে।"
"হুম,,যা আম্মুরা।ফ্রেশ হয়ে আয়।"
সাবিহারা থাকার কারনে দোয়েল নিবিড়কে কিছু বললো না এভাবে হাত ধরার জন্য। স্বাভাবিক ভাবেই নিবিড়ের সাথে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলো।তখনই নিবিড় চড়ুইয়ের হাত ধরে টেনে তুলে বললো....
"তুমি বসে আছো কেন ছোট পাখি।উঠো এন্ড চলো।"
চড়ুইও কিছু বললো না,,শুধু সাবিহাকে বললো....
"আমি আসছি আন্টি"সাবিহা সহ বাকি সবাই হেসে দিলো। জেসি বলে উঠলো
"দুজনই খুব কিউট। তাই না?"
জুলেখা বললো....
"ভাবি এরা কিন্তু তোমার বউমা হলেও মেয়ের মতোই সামলাতে হবে"
সাবিহা বললো...
"হুম।সত্যিই,,,ছেলে দুটো আমার জন্য সাক্ষাত হিরে খুজে আনলো আমার জন্য "