"টুইন্স।দোয়েল আর চড়ুই।"
আহিশের মুখে এই কথা শুনে আবির আর নিবিড় একে অপরের দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকালো।তারপর পরই নিবিড় একটা অদ্ভুত শয়তানি হাসি দিলো।আর আবির তারাহুরো করে নিবিড়কে ধরতে চেয়ে বললো...
"নো,,নো নো নিবিড়।একদম নাহ,,,নিবিড়,,,"
কিন্তু কে শোনে কার কথা।নিবিড় আহিশের ফোন নিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে সিড়ি বেয়ে নামতে নামতে চেচিয়ে ডাকতে লাগলো তাদের মা সাবিহা বিনতে কে.....
"আম্মু,,,আম্মু,,,কোথায় গেলে আম্মু??"
ব্যাস্ত ভাবে রান্নাঘর থেকে বেড়িয়ে নিবিরের সামনে এসে বললো....
"কি হলো বাবাই,,,এত খুশি যে???"
নিবিড় হাসতে হাসতে তার মাকে গোল গোল ঘুড়াতে ঘুড়াতে বললো....
"আম্মু তোমার বৌমাদের পেয়ে গেছি।ইয়াহুহ"
এই কথা শুনে সাবিহা কিছুক্ষন চুপ করে থেকে তারপর আবার রান্না ঘরে গিয়ে আবার রান্না করতে লাগলো....।তা দেখে নিবিড় তার পেছন পেছন রান্না ঘরে ঢুকে চোখের ইশারায় সার্বেন্ট গুলোকে চলে যেতে বললো।তারপর তার মায়ের সামনে গিয়ে কিচেনে থাকা স্লাবে পা ঝুলিয়ে বসলো।তারপর অবাক হওয়ার মতো করে বললো...
"আম্মু,,,তোমাকে এত খুশির একটা কথা শোনালাম।আর তুমি চুপ করে আছো??খুশি হওনি??"
"একটুও না"
"যাহ বাবাহ,,,এতদিন তো ফোনে মাথা খেয়ে ফেলতে,,, আমাদের মতো তোমার বউমারাও টুইন্স হওয়া চাই।তাহলে??"
সাবিহা কাজ করতে করতেই বললো....
"হুম,আমি বলেছিলাম।কিন্তু আমি কখনোই বলিনি তোরা বিলেত থেকে টুইন্স খুজে আন।"
"উপস আম্মু,,এক লাইন বেশি বুঝো কেন বলোতো??আমি একবারও বলেছি??আচ্ছা তুমি ছবি তো দেখো।"
"আমি কোনো বিলেতি মেয়ের ছবি দেখবো না"
"বড়মা না দেখলেও আমি দেখবো"
বলেই নিবিরের হাত থেকে ফোনটা ছো মেরে নিয়ে গেলো নিবিরদের ছোট চাচার মেয়ে জেসি।ছবি দেখেই বাহবা দিয়ে বললো....
"বাহ নিবিড় ভাই,,,কি কিউট,,একদম গুলুমুলু।তবে খুব পিচ্চি।এই কোথায় পেলে??"
"তোর না জানলেও চলবে।"
বলেই নিবিড় জেসির হাত থেকে ফোনটা নিয়ে তার মাকে তার দিকে ঘুড়িয়ে বললো....
"তুমি একবার দেখো তো আম্মু...."
ইচ্ছে না থাকা সত্বেও সাবিহা তাকালো ছবিটার দিকে,,,,খেয়াল করলো একটা হাটু পর্যন্ত গোল সাদা কালো মিক্সিং জামা পড়া একটা মেয়ে।চুল গুলো একদম স্টেইট,ঘন কালো।হাসছে মেয়েটা,,,দেখে মনে হয় কেউ না জানিয়েই হঠাৎ ছবিটা তুলেছে।,,,সাবিহার মুখ থেকে আপনাআপনি বেরিয়ে এলো...
"মাশাআল্লাহ "
নিবির মায়ের দিকে ভ্রু উচু করে তাকিয়ে বললো...
"বললাম না?বিদেশি না,, একদম খাটি বাঙালি। এবার বলো তো??কেমন লাগো ভাবিকে??"
জেসি ভ্রু কুচকে বললো...
"ভাবি??"
নিবিড় স্বাভাবিক ভাবেই বললো...
"ইয়েস ভাবি।মানে এটা ভাইয়ের পিস।"
"আম্মু তুমি একদম ওর কথা বিশ্বাস করবে না।কি সব উলটো পালটা বলে যাচ্ছে।"
বলতে বলতেই সিড়ি বেয়ে নেমে কিচেনের দিকে এগিয়ে এলো আবির।
"কত বছরের রিলেশন তোদের? "
সাবিহার কথা শুনে আবির বলে উঠলো...
"আম্মু কি যা তা বলছো।রিলেশন কোথা থেকে আসলো। আর মাত্র স্কুল পাড় করে আসা মেয়ে।কি বুঝে তারা এসবের?"
"আম্মু,এখন প্রায় সাতটা বাজে। তার মানে আমাদের রিলেশন প্রায় ৬ ঘন্টার।"
নিবিড়ের কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লো জেসি আর সাবিহা।এদিকে কিচেনে এত আওয়াজ শুনে বেড়িয়ে এলো আহিশের আম্মু,জেসির আম্মু।বাড়ির কর্তারা এই সময় অফিসেই থাকেন।ফ্যামিলি বিজনেস তাদের।তাদের সাথে যোগ দিয়েছে জেসির বড় ভাই জিসানও।,,,জেসির আম্মু বলে উঠলো...
"কি হলো এখানে??"
জেসি বললো...
"আর বলনা আম্মু,,,নিবিড় ভাই ৬ঘন্টা আগে রিলেশনে গেছে।আর এখন বিয়ের কথা বলছে।"
আবির বিরক্ত হয়ে বললো....
"কোনো রিলেশন নাহ,,,৬ঘন্টা আগে যাস্ট দেখা হয়েছে।আর হয়েছে ঝগড়া।ব্যাস"
আহিশের মা উতলা হয়ে বলে উঠলো...
"কই কই,, দেখিতো বৌমাদের??"
নিবিড় তার মেঝো আম্মুকে ছবি দেখিয়ে বললো...
"দেখো।এটা ভাইয়ের। আর আমার বউয়ের ছবি তোমার ছেলে দেখাবে"
একথা বলতেই সবাই সিড়ির কাছে কাচুমাচু হয়ে দাড়িয়ে থাকা আহিশের দিকে তাকালো।সবার চাহনি দেখে আহিশ যা বোঝার বুঝে গেলো।তাই কেউ কিছু বলার আগে সে নিজেই এগিয়ে গেলো আর বললো...
"আমার ফ্রেন্ড এরা।কলেজে জয়েন করার পর থেকেই আমাদের ফ্রেন্ডশিপ হয়।"
এতটুকু বলতেই জেসি বলে উঠলো...
"এই ওয়েট ওয়েট।সিরিয়াস আলোচনা সিরিয়াস ভাবেই করতে হয়।বড় আম্মু, রান্মা আজকে তুমি করবে না।এখন চলো সবাই ড্রয়িংয়ে বসি।"
বলেই সাবিহাকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো।বাকিরাও উৎসাহ নিয়ে সোফায় বসলো।শুধু আবির দাড়িয়ে রইলো আগের জায়গায়।জেসি জানে আবিরকে টানতে গেলে তার পিঠের ছাল থাকবে না।তাই নিবিড় কে ইশারা করতেই নিবিড় আবিরকে টানতে টানতে বলে উঠলো...
"আরে চল না ভাই।আমাদের বউ নিয়ে কথা।আর আমরা থাকবো না তা হয় নাকি।"
"এই তোর লজ্জা করছে না নিজের বিয়ের কথা নিজে এভাবে নাচতে নাচতে বলতে??"
"ওহ এই ব্যপার?আচ্ছা প্রবলেম নাই।আমি তোর বিয়ের কথা বলবো।আর তুই আমার বিয়ের কথা বলবি।ব্যস।"
"ইডিয়েট কোথাকার"
আবিরের কথাকে পাত্তা না দিয়ে নিবিড় আবিরকে নিয়ে নিজের পাশে সোফায় বসালো।তারপর বললো...
"নে আহিশ,,,,শুরু কর"
বলতে না বলতেই মেইন দরজার বেল বেজে উঠলো।একজন সার্ভেন্ট গিয়ে দরজা খুলতেই ভেতরে ঢুকলো আবিরের বাবারা তিন ভাই আর জিসান।ড্রয়িং রুমে সবাইকে দেখে কেউই আর ফ্রেশ হতে গেলো না।আবির আর নিবিড় গিয়ে তার বাবা,জিসান আর চাচাদের সাথে দেখা করে নিলো।তারপর সবাই বসতে বসতে জিসান বললো...
"তা কি নিয়ে কথা হচ্ছে শুনি?"
নিবিড় বলে উঠলো...
"জিসান ভাই,,তোর পরে আমাদের টার্ন।তাই বউ নিয়ে কথা বলছি।হিহিহি"
আবির বললো...
"ভাই,,,তুই থামবি??"
এবার আবিরদের বাবা বলে উঠলো...
"তাই নাকি??দেখিতো কেমন দেখতে আমার মেয়েরা??"
জেসি বললো...
"ওয়েট,,,এই আহিশ। ওদের ভিডিও কল দে তো।দেখি কথা বার্তা কেমন??"
আবির বললো...
"একদম না আহিশ।"
নিবিড় বললো...
"ওহ ভাই, তুই থাম তো।আহিশ,কল লাগা তুই।আর হ্যা,যাতে বুঝতে না পারে আমরা সবাই আছি।সে,,বি কেয়ারফুল।"
সবার জোরাজুরিতে আহিশ দোয়েলের ফোনে কল দিলো।কিন্তু তার ফোন বিজি।এবার সে চড়ুইয়ের ফোনে ভিডিও কল দিয়ে নিজের ক্যামেরা অফ করে রাখল।কল রিসিভ করতেই কেয়ার মুখটা ভেসে উঠলো....এদিকে আহিশের ল্যাপটপে সবাই ওপাশের সব দেখতে লাগলো......কেয়াকে দেখে আহিশ বলে উঠলো.....
"এই কসমেটিক্স,,ছোট পাখির ফোন তোর কাছে কেন??আর পাখিরা কই।?"
আহিশের কথা শুনে কেয়া ক্যামেরা ঘুড়িয়ে চড়ুই আর দোয়েলকে দেখাতে লাগলো।আর বললো...
"পাখিরা তাদের কাকাইয়ের সাথে কথা বলছে।তাই ছোট পাখির ফোন আমি রিসিভ করলাম।"
আহিশ হালকা হেসে বললো...
"আচ্ছা তুই চুপ থাক।ওদের দেখতে দে।"
বলেই সবাইকেচোখের ইশারায় পাখিদের দেখতে বললো।
(""কাকাই তুমি না থাকলে আমরা ভেকেন্টে ঐ বাড়ি যাবো না।"
দোয়েলের সাথে সাথে চড়ুইও লাফাতে লাফাতে বলে উঠলো....
"হুম,,একদম তাই।এবার এই ছুটিতে এখানেই থাকবো আমরা।যাবো না ঐ বাড়ি।"
ওদের কথা শুনে আনোজ রাহমান করুন কন্ঠে বলে উঠলো...
"আম্মুরা,,,তোরা কেন বুঝতে পারছিস না।ছুটিতে ওখানে রাবতি, কেয়া কেউই থাকবে না।তোরা দুজন একা কিভাবে থাকবি বল তো..."
" ও বাড়ি যাবো না মানে যাবো না ব্যাস।"
বলেই চড়ুই দৌড়ে এসে কেয়ার পাশে খাটে ধপ করে এসে বসল পড়লো।কেয়া তার হাতে ফোন দিয়ে বললো...
"নে,,, আহিশ ভিডিও কলে আছে"
চড়ুই ফোন টা মুখের সামনে ধরলো।
"কিরে আহিশসার বাচ্চা। তোর ক্যামেরা অফ ক্যান?নতুন বউদের মতো লজ্জা পাচ্ছিস নাকি?"
আহিশ একটু ঘাবড়ে গিয়ে বললো..
"আরে না না ছোট পাখি,,,রুমের লাইট অফ তো তাই আর কি।,,,,তা তুই মুখটা এমন পেচার মতো করে আছিস কেন???"
এবার চড়ুই ঠোট উলটিয়ে বললো....
"হুহ,,,মুড অফ।আর চকলেটও নাই এখন।"
এরপর কি যলব ভেবে হঠাৎ খুশি হয়ে বললো...
"এই আহিশসা,, তোর চাচাতো ভাই মানে ঐ ব্যবসার থলে নাকি আমেরিকার থেকে এসেছে??তা উনার থেকে আমার জন্য কিছু চকলেট হাপিশ করতো।আমার কথা একদম বলবি না ঐ ব্যবসার থলেটাকে।বলবি যে তোর একটা কিউট,ইনোসেন্ট, শান্ত দেখতে একটা ভালো মেয়ে ফ্রেন্ড আছে।তার জন্য। বুঝলি???"
চড়ুইয়ের কথা শুনে আহিশ চোরা চোখে আবিরের দিকে তাকালো দেখলো সে চোখ ছোট ছোট করে আহিশের দিকেই তাকিয়ে আছে।,,,,এদিকে আহিশের কোনো উত্তর না পেয়ে চড়ুই ধমকের সুরে বললো...
"ঐ আহিশসার বাচ্চা। মরলি নাকি??কথা বলছিস না কেন??বলনা??বলবি তো উনাকে,,আমায় চকলেট দিতে??"
আহিশ এবার করুন কন্ঠে বললো...
"বলমু বোইন,শুধু চকলেট কেন,,তোর জন্য পিটার,সেরিলাক,লেক্টোজেন,হরলিক্স সব আনতে বলমু।ওহ,,সাথে বেবি সাইজের প্যামপাসও আনতে বলমু।""
চড়ুই খুশিতে গদগদ হয়ে বললো...
"বাহ,,এই না হলো আমার সন্টু মন্টু আহিশসা।থাংকু রে দোস্ত। "
চড়ুইয়ের কথা শুনে আবির দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে মাথা ঢুলিয়ে বললো....
("কি গাধা মেয়েরে বাবাহ")