শহরের পরিচিত একটা রেস্টুরেন্টের মধ্যে একদম কর্নার সাইডের একটা টেবিলে বসে আড্ডা দিচ্ছে আহিশ,রাবতি,কেয়া,সুহাস,দোয়েল আর চড়ুই।সময়টা ঠিক ২টা ছুইছুই।কলেজ থেকেই লাঞ্চ করতে এসেছে তারা।এরই মধ্যে একজন ওয়েটার এসে বললো...
"সরি,,,আপনাদের এই টেবিলটা ছেড়ে দিতে হবে।কাইন্ডলি ঐ টেবিলে গিয়ে বসুন।"
হঠাৎ এমন কথা কারোরই পছন্দ হয়নি। কারন এই টেবিলটার জন্য পাক্কা ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেছে তারা। তাই সুহাস বললো..
" হঠাৎ এই কথা কেন?আমরা তো এখানে খালি পেয়েই বসেছি।"
"আসলে স্যার, কয়েকজন বিজনেস ম্যান এসেছে।তারা নিরিবিলির জন্য এই টেবিলটা চাইছে "
আহিশ তিরিক্ষি মেজাজ নিয়ে বলে উঠলো...
"এটা কেমব কথা।তারা অন্য কর্নারে যাক।"
"ইম্পসিবল,,, আমি এই টেবিল ছেড়ে উঠছি না।মগের মুলুক নাকি?বললেই ছেড়ে দেবো টেবিল"
চড়ুইয়ের ঝাঁজালো কথায় সুহাস বিরক্ত হয়ে বললো...
"ছোট পাখি,আস্তে কথা বল।এটা পাবলিক প্লেস।ভেজাল করিস না তোহ।"
এতক্ষণে হাতে থাকা বইটা বন্ধ করে উঠতে উঠতে দোয়েল বললো...
"আমি ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আসছি।"
বলেই চলে গেলো দোয়েল।এদিকে বাকিরা সবাই ওয়েটারের সাথে তর্ক করছে যে তারা এই টেবিল কিছুতেই ছাড়বে না।
"what's the problem? ওয়েটার??সামান্য একটা টেবিল খালি করতে এত সময় লাগে??কি ধরনের সার্ভিস এটা??"
"ইয়ে মানে স্যার,,,এরা টেবিল ছারতেই চাইছে না।আমি অনেকবার বলেছি যে আপনারা টেবিল বুক করেছেন তারপরও এরা....."
"ওও তারমানে আপনিই সেই ব্যবসার থলে ""
চড়ুইয়ের কথায় আহিশ মনে মনে বলে উঠলো...
("গেল,,,সব গেলো।এই মেয়ে একবার মুখ খুলেছে মানে সব শেষ।প্লিজ বোইন,,, চুপ যাল...")
"what nonsense? এই পুচকি মেয়ে,,কি বললে আমায়?ব্যবসার থলে??এটা কি ধরনের কথা???"
"কি ধরনের কথা মানে??যা সত্যি তাই বললাম,,, শুনুন মি:ব্যবসার থলে।আপনি আপনার বেচাকেনা অন্য কোথাও করুন।এই টেবিলটা আমাদের।"
"আহিশ,,, এ কাদের সাথে মিসছিস তুই??কারা এরা??"
"ঐ ব্যবসার থলে,,আপনি আহিশকে কেমনে চিনেন??আহিশসা,তুই এরে চিনিস??কথা বলছিস না কেন?""
আহিশ চড়ুইয়ের হাতে খোচা মেরে বললো...
"চুপ যা বোইন।আজ তুইতো মরবি,সাথে আমাকেও মারবি।"
ছেলেটি কর্কশ কন্ঠে বললো...
"আহিশ আমি তোকে কিছু জিজ্ঞেস করছি""
এবার আহিশ ভেজা বিড়াল টাইপ কন্ঠ করে বললো...
"সরি ভাইয়া,,ও একটু এরকম,,,প্লিজ তুমি কিছু মনে করো না।আমি এখনি টেবিল ছেড়ে দিচ্ছি। "
"আহিশসার বাচ্চা... । "
বলেই আহিশের দিকে তেড়ে যেতে নিলে রাবতি আর কেয়া পেছন থেকে টেনে ধরলো চড়ুইকে।
"৫ মিনিটের মধ্যে টেবিল খালি চাই আমার।"
বলেই হনহন করে চলে গেলো ছেলেটি।
--------------------
এদিকে দোয়েল ম্যানেজারের কাছে গিয়ে নম্র কন্ঠে বলে....
"ম্যানেজার সাহেব।আমাদের ঐ টেবিলটা নিয়ে একটু প্রবলেম হচ্ছে। আপনি কাইন্ডলি একটু চলুন।"
"ম্যম,এই স্যার টেবিলটা চাইছে। আপনারা দয়া করে অন্য টেবিলে গিয়ে বসুন"
ম্যানেজারের কথায় পাশে তাকালো দোয়েল।দেখলো একটা ছেলে দুহাত ভাজ করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।তাই ছেলেটিকে উদ্দেশ্য করে বললো...
"হ্যালো মি:।আসলে আমরা ঐ টেবিলটার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি।আপনারা অন্য টেবিলে গিয়ে বসবেন প্লিজ??"
"একই কথা আমি আপনাকেও তো বলতে পারি।""আজব,আমরা আগে ঐ টেবিলটায় বসেছি।"
"তো এখন উঠে যাও,,,তাহলেই তো হয়ে যায়।সিম্পল।"
"ওয়াট সিম্পল??আমরা এই টেবিলটা ছাড়ছি না মানে ছাড়ছি না।ব্যাস।"
বলেই পেছনে ঘুরতে গেলে ছেলেটি বলে উঠলো...
"এক্সকিউজ মি মিস এটম।"
"ওয়াট??"
নাক কুচকে বলে উঠলো দোয়েল।
"কি ওয়াট?" আপনাকে ডাকলাম।টেবিলটা আমরা বুক করেছি মানে ওটা আমাদের।
"আপনি জানেন আপনি কার সাথে কথা বলছেন?দেখে তো ভদ্রলোক মনে হয়,বাট মোটেও তা নয় আপনি।এই কে আপনি হ্যা??"
"নিবিড় বিন চৌধুরী। এ হলো নিবিড় বিন চৌধুরী। "
বলতে বলতে পেছন থেকে এগিয়ে এলো আহিশ।তাকে দেখে দোয়েল বললো...
"আহিশ তুই এনাকে চিনিস??"
"হুম রে বড় পাখি।আমি অধমই এদেরকে চিনি।"
বলেই আহিশ নিবিড়ের দিকে ঘুড়ে তাকালো,,,আর অনুনয়ের স্বরে বললো...
"নিবিড় ভাই,,,তুমি অন্তত আমার উপর একটু রহম করো।একটু আগে আবির ভাই ঝারলো ছোট পাখিকে।আর এখন তুমি ঝাড়ছো বড় পাখিকে।আমি কাকে সামলাবো,,,আবির ভাইয়ের ভয়ে কিছু বলতে পারিনি।এখন তুমি প্লিজ একটু বুঝো আমায়।"
"who is this atom ahish?একে তুই চিনিস??ভেরি ব্যাড আহিশ।তোর মতো ছেলের ফ্রেন্ড হয় এ??"
আহিশ একবার দোয়েলের দিকে তাকিয়ে দেখলো রাগে ফুসছে সে।এবার সে চোখ ছোট ছোট করে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে হাত জোর করে বললো....
"প্লিজ নিবিড় ভাই,,,"
"ওকেয়,,,টেবিলটা খালি কর,,আর কিছু বলবো না।আবির কোথায় গেলো আবার,,,"
বলেই নিবিড় এদিক ওদিক তাকিয়ে আবিরকে খুজতে লাগলো...
"আমি গেলাম আহিশ"
বলেই হনহনিয়ে হাটা ধরলো দোয়েল।এদিকে আহিশ তার এই রুপ দেখে পেছন পেছন যেতে যেতে বললো...
"বড় পাখি শোন,,,প্লিজ দাড়া।আরেহ,,,আমরা৷ নাহয় অন্য কর্নারে গিয়ে বসবো।প্লিজ বড় পাখি।"
"আমি আর এক মিনিটও এই রেস্টুরেন্টে থাকবো না।"
বলতে বলতেই চড়ুইদের কাছে পৌছে গেলো দুজন।তাদের কথা শুনে চড়ুই বলে উঠলো...
"বোন,,আমিও যাবো তোর সাথে।এই আহিশসার বাচ্ছার সাথে আর কথাই বলবো না।চল।"
বলেই দোয়েলের হাত ধরলো,,,আর দোয়েল টেবিল থেকে নিজের বই আর ব্যাগ নিয়ে চড়ুইকে নিয়ে বেড়িয়ে গেলো।পেছন থেকে রাবতি,কেয়া আর সুহাসও আহিশের সাথে ওদের দু বোনকে থামানোর চেষ্টা করলো।কিন্তু শেষ মেষ পারলোই না।তাই তারাও তারাহুরো করে বেরিয়ে যেতে লাগলো,,,পথেই আবির আর নিবিড়কে একসাথে দেখে আহিশ হাটতে হাটতে বলে উঠলো...
"তোমরা দু ভাই কাজটা একটুও ঠিক করলে না।তোমাদের জন্য ওরা না খেয়েই থাকবে।আরেহ,,রেস্টুরেন্টের কি অভাব পড়েছিলো নাকি যে এখানেই আসতে হলো? আর আসলে তো আসলে, আমাদের টেবিল নিয়েই পড়লে।"
"আহিশ"
আবিরের রাগি কন্ঠের ডাক শুনে ভয় পেলো আহিশ,তাই আর টু শব্দও না করে বেরিয়ে গেলো সে।
----------------
অনেক কষ্ট করে আহিশরা চড়ুই আর দোয়েলের মাথা ঠান্ডা করলো।তবুও একটা চাপা ক্ষোভ যেন রয়েই গেলো।ক্লাসে বসে চড়ুই আহিশকে বললো...
"তোর কাহিনি বল?কে ঐ ব্যবসার থলে??আর দোয়েলকেও নাকি একটা লোক বাজে কথা বলেছে??"
"হাহ,,,ওরা আমার বড় চাচার ছেলে,,,।৪ বছর আগে USA গিয়েছিলো।কিছুদিন পরেই আসার কথা।বাট ওরা যে আজকেই বিডিতে ব্যাক করবে তা আমি একদমই জানতাম না।আর বাড়ি না গিয়ে যে সোজা ক্লাইন্ট মিটিং ডাকবে তাও আমি জানিনা।"
কেয়া বলে উঠলো...
"তোর যে এত হ্যানসাম কাজিন আছে,, আগে তো বললিনা কখনো??"
রাবতি বললো...
"হুম,,তাইতো??"
এবার বইয়ের পাতা উলটাতে উলটাতে দোয়েল বিরক্ত হয়ে বললো...
"উপহ,,তোদের সবার যে কাল থেকে পরিক্ষা তা কি মনে আছে???"
চড়ুই বললো....
"বোন,,,এটা আর এমন কি পরিক্ষা।।। ইন্টার ফাস্ট ইয়ার ফাইনালই তো??ফেইল করলেও
করলেও আমরা সেকেন্ড ইয়ারে উঠে যাবো তো যাস্ট চিল কর বেহেনা।"
আহিশ বললো...
"সুহাস ভাইয়ের ক্লাস শেষ হলে চলে যাবো বাড়িতে।"
"হুম, তাইতো আহিশসার ভাই আইছে।সে তো আহিশসার জন্য চকলেট নিয়ে আসছে তাই না??"
চড়ুইয়ের কথায় আহিশ বললো...
"ছোটপাখি,,,বেশি করছিস তুই।এমনিতেও আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোর সাথে আবার আবির ভাইয়ের দেখা হবে।তাই বি কেয়ারফুল"
"হুহ,কেয়ারফুল মাই ফুট!"
কেয়া বললো...
'এই আমার আজ আর ক্লাস করার মুড নেই,,চলনা বাসায় যাই??"
চড়ুই বললো...
ইয়াহ,,আমারও
"তোরতো কোন দিনই ক্লাস করার ইচ্ছে থাকে না,,চল বাসায় চল।আমারও একটু ফ্রী ভাবে পড়তে হবে।"
বলতে বলতেই উঠে দাড়ালো দোয়েল।
-----------_-------
"আহিশ,,ঐ পাতিহাসটার সব ইনফরমেশন চাই আমার।"
আবিরের কথা শুনেই ঢোক গিললো আহিশ,আর মনে মনে বললো....
("ছোট পাখি,,তু তো আব গেয়া"")
"কিন্তু আবির ভাই ওও না বুঝে..."
"আহিশ,ভাই যে মেয়েটার কথা বলছে ওট ছবি দেখা তো??"
নিবিড়ের কথায় কোনো উত্তর না করেই আহিশ ফোন বের করে চড়ুইয়ের একটা ছবি দেখালো।কারন জানে এখন কথা বলা মানে এই একই চেহারার দুইভাইয়ের হাতে বেদাম পিটানি খাবে সে...
"ও মাই গড,,,এটাতো মিস এটম।আমাকেও টপকেছে এটা।একদম ঠান্ডা মাথার রনচন্ডি"
নিবিড়ের কথা শুনে আবির বিরক্ত হয়ে বললো...
"কিসের রনচন্ডি।উড়নচণ্ডী বল এই পাতিহাসটাকে।"
"কি বলিস,,এতো খুব শান্ত মনে হলো..."
এবার আহিশ মাথা নিচু করে মিনমিনিয়ে বললো....
"নিবিড় ভাই, এ সেই রণচন্ডী নয়,,,,এটা আবির ভাইয়ের উড়নচণ্ডী "
নিবিড় বললো...
"আরে এই ছিলো ব্রো।।সেইম টু সেইম। আহিশ,,, কাহিনি কি বলতো??"
"আ্ আসলে ভাই,,,,ওরাও তোমাদের মতো"
আহিশের কথায় আবির আর নিবিড় অবাক হয়ে একসাথে বলে উঠলো...
"ওয়াট!!!"
আহিশ মিনমিনিয়ে বললো....
"ইয়ে মানে,,,,ওরাও টুইন্স।দোয়েল আর চড়ুই"