"পাতিহাঁস?? "
অচেনা কন্ঠে থমকে গেলো চড়ুই।পেছনে ঘুড়লো,,খেয়াল করলো একটা ছেলের অবয়ব।তবে আলো আধারের খেলায় চেহারাটা ঠিক ঠাওর করা যাচ্ছে না।তবে চড়ুইয়ের শূন্য মস্তিষ্ক ধরেই নিলো এটা সুহাস।রাগ হলো তার।এই ভাবে সুহাস তাকে ভারী কন্ঠে ডেকে ভয় দেখাচ্ছে। তাও আবার কি উদ্ভট নামে,, কি যেন ছিলো নামটা??
"পাতিহাঁস?? সুহাস ভাই, এটা কি ধরনের নাম?কি বিচ্ছিরি।"
"তুমি পারলে আমিও ডাকবো।পাতিহাঁস, পাতিহাঁস, পাতিহাঁস "
রাগ তুঙ্গে উঠলো চড়ুইয়ের,,,নাহ,,সুহাস ভাইটা অনেক দিন তার হাতে মার খায় না।আজ দিতেই হবে।যেমন ভাবা তেমন কাজ।হনহন করে হেটে গিয়েই বা হাত দিয়ে চুল টেনে ধরলো ছায়া মানবটির। আর ডান দিয়ে পেটে ঘুশি দিতে দিতে বলে উঠলো...
"আমি পাতিহাঁস না??আমি পাতিহাঁস। তাহলে তুই কি হ্যা??তুই তো একটা,,,তুই তো একটা উগরো পটাশ।শয়তান,,,বান্দর,,হনুমান,,,আমাকে এখানে ডেকে এনে এসব করা হচ্ছে তাই না??আর কাজ নেই তোর??"
হঠাৎ ছায়া মানবটি তার মাথা থেকে চড়ুইয়ের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে তাকে ঘুড়িয়ে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো।।চোখ বরাবর তাকাতেই দৃশ্যমান হলো হোয়াইট কালারের শার্টটা।চোখগুলো একটু বামে ঘুড়াতেই দেখলো ফর্সা হাতে শার্ট কনুই পর্যন্ত ভাজ করা।,,,চড়ুই ভাবলো...
"সুহাস ভাই তো এত ফর্সা নাহ??আর না এত লম্বা।তাহলে??""
ভাবতে ভাবতেই চোখ উপরে তুলতেই আবিরের মুখ ভেসে উঠলো।তারাহুরোয় মুখ দিয়ে বেরিয়েই গেলো....
"একি!!!এতো ব্যবসার থলে??সুহাস ভাই না??"
"পাতিহাঁস,, আবার প্যাক প্যাকানি শুরু করে দিলে।ইয়েস দ্যাটস মি,,,তুমি তো আমার জন্যই এলে এখানে।"
"এই ব্যবসার থলে,,, রেস্টুরেন্টে জ্বালিয়ে শান্তি হয় নি??এবার কলেজেও এলেন নাকি বেচা কেনা করতে?এই আপনাদের বাড়ি ঘর নেই?যখন তখন যেখানে সেখানে নিজের ব্যবসার থলে খুলে বসে যান।কাহিনী কি হুম??আর আমার পেছনেই কেন...."
এতটুকু বলতেই থেমে গেলো চড়ুই।কারন তার ঠোট জোড়ায় হালকা চেপে আছে আবিরের ডান হাতের তর্জনী আঙুল। সাথে সাথেই আবিরের কন্ঠ...
"হুসসসস,,,একদম প্যাক প্যাক নয়।"
এতেই যেন জমে গেলো চড়ুই।এতক্ষণের লাফিয়ে লাফিয়ে কথা বলাটাও বন্ধ। কি হলো এটা?এই শরতে এত বেশি ঠান্ডা কেন লাগছে তার?এমন তো হওয়ার কথা না?,,,,,,রসগোল্লার মতো চোখ করে তাকালো আবিরের মুখের দিকে।কিছু একটা ভাবছে ছেলেটা।কিন্তু কি?তার দৃষ্টি চড়ুইয়ের ঠোট জোড়ায় নিবদ্ধ করেই বললো...
'একটু আগে কি খেয়েছো?"
চড়ুইয়ের কানে যেন কথাটা পৌছালোই না।উত্তর না পেয়ে আবির তার মুখের দিকে তাকিয়ে একটু কর্কট কন্ঠে বলে উঠলো...
"কি হলো চুপ কেন?কি খেয়েছিলে একটু আগে?"
হুস আসলো চড়ুইয়ের। চোখ নামিয়ে নিলো।এদিক ওদিক তাকিয়ে মিনমিনিয়ে বললো..
"বরফ গোলা খেয়েছি'
" কি রঙের ছিলো?"
"ল্ লাল"
২সেকেন্ড চুপ থাকলো আবির।তারপর হঠাৎ চড়ুইয়ের ঠোটের দিকে গভীর দৃষ্টি দিয়ে ডান হাতেট বুড়ো আঙুল দিয়ে ঠোটে স্লাইড করতে করতে বললো...
"আর কখনো এরকম পাবলিক প্লেসে লাল রঙের গোলা খাবে না তুমি।"
ভ্রু কুচকে এলো চড়ুইয়ের।কি বলে এই লোকটা?,,,তার ওপর আবিরের এই অদ্ভুত ছোয়া কেমন যেন কম্পন ধরিয়ে দিচ্ছে সারা শরীরে।থেমে থেমে বলতে লাগলো চড়ুই..
"ক, কী করছেন আপনি? হাত সরান।"
আবিরের কন্ঠে দুষ্টুমি খেলছে।সে আগের মতো থেকেই বলে উঠলো...
"আমার হাত তো ঠিকই আছে,,,তোমার কোথাও ছুয়েছে নাকি?"
ঘাবড়ে গেলো চড়ুই...
"ক্ কি সব বলছেন আপনি,,,আ্ আর ছাড়ুন আ্ আমাকে।আমার দেরি হচ্ছে। ক্লাস আছে আমার"
"কেন?ভয় পাচ্ছো পাতিহাঁস? "
"ছ্ ছাড়ুন"
"আমি তো তোমাকে ধরিই নি।ছারবো কিভাবে??"
"এ্ এই,,, ছাড়ুন আমায়,,আমার কেমন জানি লাগছে"
আবির ঘোর লাগা কন্ঠে বললো...
"কেমন লাগছে??"
"জানিনা"
আবিরের মুখ একটু এগিয়ে আনলো চড়ুইয়ের দিকে,,,
"তোমার হার্ট এত জোরে লাফাচ্ছে কেন?দেখ?আমিও শুনতে পাচ্ছি।"
"ছাড়ুন নাহ?"
হাসলো আবির।চড়ুই এবার একটু সাহস নিয়ে একটা ধাক্কা দিলো আবিরকে যার ফলে আবির একটু দুরে সরে দাড়ালো।ঠোট থেকে হাতটাও সরিয়ে নিলো।।চড়ুই চোখ বন্ধ করে একটা নি:শ্বাস ছাড়লো। নাহ, এবার ভালো লাগছে।চোখ তুলে দাড়িয়ে থাকা আবিরের দিকে তাকালো।ছেলেটা নি:শব্দে শয়তানি হাসি দিচ্ছে।,,, মুহুর্তেই যেন আগের তিড়িংবিড়িং রূপে ফিরে এলো চড়ুই।এদিক ওদিক তাকিয়ে দরজাটা দেখে নিলো।নাহ,,তার পাশেই আছে।এবার আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো..
"শয়তান,,খন্ডবিষ খবিশ,,ইতর,,ফুলকো লুচি,চ্যাপটা লুচি।দেখে নেবো আপনাকে মি:ব্যবসার থলে।বলেই দৌড়ে বেরোতে গিয়ে দড়জার পাল্লার সাথে হাতের বাহুতে বাড়ি খেলো,,,,আল্লাহ গো৷,, বলেই একবার দরজার দিকে তাকিয়ে আবার আবিরের দিকে তাকাতেই দেখলো তার দিকে এগিয়ে আসছে।তা দেখেই আবারও আল্লাহ গো বলে হাতের বাহু ডলতে ডলতেই দৌড়ে বেড়িয়ে গেলো চড়ুই। আর পেছন থেকে চড়ুইয়ের এমন কান্ড দেখেই ফিক করে হেসে দিলো আবির।
--------------
এদিকে আহিশের থেকে কোনো রকম ছারা পেয়ে আইটি ভবনের চার তলায় চড়ুইয়ের খোজে ছুটলো দোয়েল।চার তলায় উঠে সিড়ির সামনে আসতেই হুট করে সামনে এসে দাড়ালো নিবিড়।তাকে দেখেই অবাক হয়ে দোয়েল বললো...
"আপনি?"
নিবিড় হালকা হেসে দুহাত বুকে গুজে দাড়ালো।আর বললো...
"ইয়েস মিস এটম।আমি।"
"আপনি এখানে কি করছেন?আপনাকে দেখে তো স্টুডেন্ট মনে হচ্ছে না।তাহলে?"
"আমি স্টুডেন্ট নাহ।তবে এই কলেজের স্টুডেন্টের উড বি হাসবেন্ড।বুঝেছো মিস এটম?"
"ওহ,,তো এই বিল্ডিংয়ে কি??এখানে তো ক্লাস হয়না।?"
"আমি আমার হবু বউয়ের ক্লাস এখানেই নেবো।বুঝেছো মিস এটম?,,তা তুমি এখানে??"
"আমার বোনকে খুজতে এসেছি।দেখি, সরুন সামনে থেকে"
"আহ হা,নিজে তো একটু প্রেমালাপ করবে না।বোনকেও করতে দিবে নাহ। তোমার বোন সেফ আছে।তাই তোমার ওখানে কোনো কাজ নেই।তোমার কাজ তো এখানে...."
"মানে?" আমার কাজ এখানে,, কি কাজ আমার?"
"আমায় দেখবে...."
"ওয়াট!!"
"কি ওয়াট?আমায় দেখে বলোতো কেমন লাগছে??"
"আজব,,,আমি কেন আপনাট কম্প্লিমেন্ট করতে যাবো?,,,সরুন,আমায় যেতে দিন"
বলেই পাশ কাটিয়ে দোয়েল চলে যেতে নিলে নিবিড় আবার এসে সামনে দাড়ায়।
"আহা আহা,,,এত সহজে তো না।আগে আমায় কেমন লাগছে তা বলে যাও,,,"
দোয়েল বিরক্ত হলো...চোখ বন্ধ করে বড় একটা নি:শ্বাস নিলো। তারপর নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বললো...
"অনেক সুন্দর লাগছে আপনাকে।"
"সিরিয়াস ভাবে দেখে বলো..."
এবার বিরক্তি নিয়ে হলেও দোয়েল নিবিড়ের দিকে দৃষ্টি দিলো।ব্ল্যাক জিন্সের সাথে হোয়াইট শার্ট পড়েছে লোকটা।হাতা গোটানো।গলার দিকে শার্টে একটা কালো সানগ্লাস ঝুলছে।পায়ে হোয়াইট সু।চুল গুলোও বেশ সিল্কি।কপালে এসে ভিড়ছে কিছু চুল।নাহ বেশ পরিপাটি।সব দেখে দোয়েল বললো....
"সব তো ঠিকই আছে।তবে...."
"তবে কি?"
"কিছুনা।"
বলেই দোয়েল পাস কাটিয়ে যেতে লাগলে নিবিড় তার বাহু ধরে হেচকা টানে সামনে এনে দাড় করালো।দোয়েল বিরক্ত হয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই নিবিড়ের চোখের দিকে তাকিয়ে থমকে গেলো সে।কেন যেন মনে হচ্ছে কথা বের হচ্ছে না তার।নিবিড় ঘোর লাগা কন্ঠে বলে উঠলো....
"you know what miss atom,কিছু মানুষের মুখে অপ্রত্যাশিত কথা শুনতে শুনতেও যদি না শোনা হয় তাহলে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়।রাত জেগে তাকে দেখতে মন চায়।তাকে নিয়ে ভুলভাল কিছু ভাবতে মন চায়।আর যখন সেই ভাবনা গুলোকে বাস্তবে পরিণত করতে পারে না তখন কি যে তীব্র যন্ত্রণা হয় হৃদপিণ্ড জুড়ে,, তা শুধু ঐ মানুষটাই জানে।আর সেখানে তুমি আমায় নিয়ে বলছো,,না শুনলে তো আমি মনে হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে যাবো।So please tell about me,which is hiden in your mind...."
দোয়েল ঘোরের মধ্যে থেকেই বলে উঠলো.....
"আপনার চোখের মনি গুলো খুব আকর্ষণীয়।বেগুনী রঙের মনি।আগে কারো এমনটা দেখিনি।আচ্ছা?পুরুষ মানুষের চোখ এতটাও আকর্ষণ করতে পারে??কই,,আজ পর্যন্ত কোনো বইয়ে তো পেলাম না?"
দোয়েলের শেষের কথাটা শুনে ফিক করো হেসে দিলো নিবিড়। তারপর নিজের মুখটা দোয়েলের মুখের আরেকটু কাছে এনে ফিসফিসিয়ে বললো....
"সব অনুভূতির কথা বইয়ে থাকে না মিস এটম।কিছু অনুভূতি থাকে নিজে বুঝে নেওয়ার জন্য আর কিছু?অপর প্রান্তের মানুষটিকে বোঝানোর জন্য। এই,,, যেমনটা আমি এখন আমার প্রনয় পাখিকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছি?কিন্তু সে সারাদিন বই পরলেও এই নতুন রকমের অনুভূতি নিয়ে এতটাই বোকার তালিকায় পড়ে যে বুঝেও কিছু বুঝতে পারছে না।বুঝলে মিস এটম?"
দোয়েল উত্তর দিলো না।চুপ করে তাকিয়ে থাকলো নিবিড়ের চোখের দিকে।,,,,
-----এদিকে পুরাতন লাইব্রেরি থেকে বেরিয়েই চড়ুই নিচে নামার জন্য সিড়ির সামনে আসতেই দেখলো সেই লোকটা মানে ব্যবসার থলে তার বোনকে ধরে দাড়িয়ে আছে।ভাবলো চড়ুই,,,,লোকটাতো আমার পেছনে ছিলো,,,,তাহলে এখানে এলো কিকরে??আসার তো কথা না???,,,,ভয় হলো চড়ুইয়ে,,,কাপা কাপা কন্ঠে ৫-৬ হাত দুরে দাড়িয়ে থাকা দোয়েলকে ডাকলো....
"ববব,,, বোন???"
হঠাৎ কারো কন্ঠে ঘোর কাটলো নিবিড় আর দোয়েলের।তাতেই ছিটকে সরে দাড়ালো একে অপরের থেকে।দোয়েল তাকালো চড়ুইয়ের দিকে।আর চড়ুই?সে তো একবার সামনে থাকা নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে আবার নিজের পেছনে করিডোরে তাকাতেই,,,, ভ,ভ,ভ,ভুউউউত,,,,বলে চিল্লিয়েই ঢুলতে লাগলো...,,এদিকে বোনকে ঢুলতে দেখে দোয়েল চেচিয়ে উঠলো...বোওওওন বলে...তখনই পেছন থেকে আবির এসে চড়ুইকে আগলে ধরলো পড়ে যাওয়ার হাত থেকে।ততক্ষণে চড়ুই অজ্ঞান।,,,, এদিকে দোয়েলকে চেঁচাতে দেখে নিবিড় তারাহুরো করে তার মুখ চেপে ধরলো।আর সতর্ক কন্ঠে বললো....
"মিস এটম,,,মিস এটম,,,কি করছো কি,,আস্তে,,কেউ এসে পড়বে।"
থামলো দোয়েল।তবুও চোখে মুখে বোনের জন্য চিন্তার ছাপ।আবির এদিক ওদিক তাকিয়ে কিছু না পেয়ে সিড়ির ৩ ধাপে এসে বসলো। চড়ুইকেও ডান হাতে আগলে ধরে বসিয়ে তার মাথাটা নিজের বুকের উপর রাখলো।ভয় মিশ্রিত কন্ঠে চড়ুইয়ের গালে বাম হাত দিয়ে হালকা চাপর দিতে দিতে বললো....
"চড়ুই পাখি??শুনছো?এই,,,চোখ খোলো,,,এই চড়ুই পাখি??চোখ মেলে তাকাও।"
হালকা ভয় লাগছে আবিরের,,কারন অনেক সময় ভয় থেকে এভাবে প্যানিক এটাকও হতে পারে।চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়েই নিবিড়কে বললো সে...
"ভাই,,,পানি আন কুইক।"
নিবিড় দৌড়ে নিচে গেলো।দোয়েলও এগিয়ে এসে চড়ুইকে ডাকতে লাগলো,,চোখ ছলছল করছে তার।বোনের কিছু হলে যে সে বাচবে না।,,,নিবিড় পানি আনতেই আবির তার থেকে পানি নিয়ে চড়ুইয়ের চোখ মুখে ছেটাতে লাগলো।,,,কিছুক্ষণ পরেই পিটপিট করে চোখ খুললো চড়ুই।চোখ খুলতেই সামনে দোয়েলকে দেখলো,,,,আর তার পাশে দাড়িয়ে থাকা নিবিড়কে দেখেই আবার চেচালো...
"ভুত,,ভুত,,বোন সরে যা,, এএএএই টা একটা ভুত"
বলতে বলতেই নিজের সুরক্ষার জন্য পাশে না তাকিয়েই আবিরের বুকের দিকের শার্ট খামছে ধরলো।যার ফলে আবিরের সাদা শার্টের উপরের দুটো বাটন সাথে সাথেই ছিড়ে গেলো।আর চড়ুই ভয়ে আবিরের উন্মুক্ত বুকে মুখ গুজে ভীত কন্ঠে বিরবির করে বলতে লাগলো...
"বোন,,সর তুই,,,ওটা ভুত।সরে যা তুই।"
চড়ুইয়ের কথায় দোয়েল হতভম্ব হয়ে একবার নিবিড় তো একবার আবিরের দিকে তাকালো।যেন সব কিছুই তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে আবির থমকালো চড়ুইয়ের শীতল ঠোটের স্পর্শ নিজের উন্মুক্ত বুকে পেয়ে।না তাকিয়েও সে অনুভব করতে পারছে চড়ুই বার বার নিজের বোচা নাকটা ডলে দিচ্ছে। চোখের ঘন পাপড়ি গুলো ঝাপটাচ্ছে।তার নরম একটা গালও এসে ভিড়লো আবিরের বুকে।,,,আবির ঘামছে,প্রচুর ঘামছে।এই শরতে এত গরম লাগারতো কথা না,,, তাহলে?এই মেয়েটার সামান্য ছোয়ায় আবির নিজেকে সামলাতে পারছে না।কি আছে এই চড়ুই নামক চাতক পাখির মধ্যে? যা মুহুর্তেই আবিরকে এমন উতলা করে তুলছে?কই বিদেশে তো এমন হয় নি?ওখানকার মেয়েরাতো প্রায় হাফ ন্যাকেড হয়ে গায়ে উঠে পড়ে লাগতো মাত্র ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের জন্য,,তখনও তো আবির নির্লিপ্ত ছিলো,,কোনো মেয়েকেই নিজের অন্ত:কোঠরিতে জায়গা দেয়নি।তাহলে এখন এমন লাগছে কেন?
আবিরের ভাবনার মাঝেই দোয়েল বোকার মতো বলে উঠলো.....
"কিন্তু বোন?তুই তো এক ভুতের ভয়ে আরেক ভুতের বুকে মুখ গুজে আছিস।"
নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলো চড়ুইয়ের।চোখ তুলে নিজের জড়িয়ে ধরে থাকা লোকটার মুখের দিকে তাকাতেই আবার চিৎকার দিয়ে উঠে সরে আসতে গেলে হোচট খেয়ে পড়ে যেতে নেয়।তখনই আবির দাড়িয়ে চড়ুইয়ের বাম হাত আকড়ে ধরে।আর ধমক দিয়ে বলে উঠে...
"এই মেয়ে,,চুপ,,একদম চুপ।সেই কখন থেকে খালি চেঁচাচ্ছো আর লাফাচ্ছো।চুপ করে দাড়াও এখানে।ব্রেকলেস পা ওয়ালী কোথাকার।"
চড়ুই ভয়ে ভয়ে আবিরের দিকে তাকিয়ে কাদো কাদো কন্ঠে বলে উঠলো....
"ভুত,,,আপনি,,,ভু,,,ভুত"
"আরে, রাখো তোমার ভুত।কোনো ভুত নেই এখানে,,,টুইনস আমরা।"
চড়ুইয়ের ভয় কমলো একটু। তবুও অবাক হয়ে বললো...
"টু,,,টুইন্স??"
"হ্যা টুইন্স।কি ভেবেছো?তোমরা ছাড়া কি পৃথিবীতে আর কোনো টুইন্স নেই?"
চড়ুই আগের মতো থেকেই বললো...
"পানি খাবো??"
আবির বিরক্ত হয়ে চড়ুইকে ধরে রাখা হাতটা ছাড়িয়ে নিলো।তারপর নিজের হাতে থাকা পানির বোতলটা সামনে ধরতেই ছো মেরে সেটা নিয়ে মুখের উপর ধরলো চড়ুই।এ কি!পানি পড়ছে না কেন??,,, আবির চরম বিরক্ত নিয়ে বোতলটা নিয়ে তার ছিপি খুলে চড়ুইয়ের সামনে এগিয়ে দিয়ে বললো...
"কর্ক খুলে খেতে হয় পানি।ইডিয়েট।"
কথা কানে নিলো না চড়ুই,,,পানি খেতে লাগলো সে।তখনই ভেসে এলো আহিশের কন্ঠ স্বর।
"" তুই ঠিক আছিস, ছোট পাখি?"