Mr and Mrs Twins

পর্ব - ৮

🟢

দোতলার একটা রুমে এসে ঢুকলো নিবিড়।পেছন পেছন পাখিরাও।ঢুকেই চড়ুই ব্যাগ থেকে একটা সিম্পল সুতির জামা নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।দোয়েল ব্যাগ রেখে রুমটায় চোখ বুলালো।নিবিড় দেওয়ালে হেলান দিয়ে দু হাত বুকে গুজে দোয়েলের দিকে তাকিয়ে বললো....

"ভেবেছিলাম তোমরা দুই পাখি একসাথে থাকো।তাই একটা রুমই সাজানো হয়েছে।আজকেই জানলাম তোমরা আলাদা রুমে থাকো।,,ওহ,,তোমার বারান্দা দেখে মনে হচ্ছিল ঐ টাই তোমার রুম,,,লাইট, চার্জার,বই পত্র সবই ওখানে ছিলো।বাট এখানে তোমার বারান্দায় থাকা হবে না,,,অক্টোবরের শেষের দিকে।বেশি না হলেও মাঝে মাঝে শীত পড়বে।তাই ঐ রিস্ক আমি নিতে পারবো না।আর আমি বিকালের মধ্যে আরেকটা রুম গোছানোর ব্যবস্থা করছি।ততক্ষণ নাহয় এই রুমে দুজনে এডজাস্ট করে নাও।ওকেয়?"

দোয়েল রাগলো না।কেন যেন ইচ্ছে করছে না।হালকা হেসে বেডে বসতে বসতে বললো....

"এতো ব্যস্ত হবেন না।আর রুমেরও দরকার নেই।আমরা দু বোন একসাথেই থাকি।এক্সামের আগে বারান্দায় থাকার ব্যবস্থা করেছি।যাতে ঠিক মতো পড়তে পারি।রুমে থাকলে ওদের জ্বালায় পড়া যেতো না।এমনিতেও আজকের মধ্যে আবার রুমে শিপ্ট হয়ে যেতাম যদি না এখানে আসা হতো।"

নিবিড় হাসলো।তার এটম তার সাথে আজ মিষ্টি কথা বলছে যে।একটু দুষ্টুমি করে বললো...

"মিস এটম যে আজ আমার সাথে হেসে কথা বলছে?কারন কি হুম??প্রেমে টেমে পরলো নাকি?"

বলেই ভ্রু দুইবার উচু করলো নিবিড়।দোয়েল রাগলো না।বরং হাসলো।এতেই যেন নিবিড় একটু পজেটিভ সাইন পেলো দোয়েল উঠে গিয়ে বেলকনিতে দাড়ালো,,,খুব সুন্দর করে সাজানো। একটা স্টিলের দোলনাও আছে যেটাকে নানা রকম ফুল পাতা দিয়ে ডেকোরেট করে আরো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।দোয়েল গিয়ে সেটায় বসলো।দু এক বার দোল খেলো।একটু পরেই নিবিড় আসলো।দোয়েল তরিঘরি করে বললে....

"খুব সুন্দর দোলনাটা।আমার একটা ছবি তুলে দিন না?"

নি:সংকোচ আবদার।নিবিড়ের মন জুড়িয়ে গেলো।যাক,,তার প্রনয় পাখি তার সাথে একটু হলেও নরমাল হচ্ছে। ভাবনার মাঝেই দোয়েল বলে উঠলো....

"ওহ,আমার ফোন তো ব্যাগে।দাড়ান, ফোন নিয়ে আসি।"

উঠতে গেলেই নিবিড় বলে উঠলো...

"উহুম,,যেতে হবে না।বসো আমার ফোন দিয়ে তুলে দিচ্ছি। পরে না হয় নিয়ে নিও।"

দোয়েল খটকা রাখলো না।হেসে বলে উঠলো...

"ওকেয়,,,"

নিবিড় পকেট থেকে আই ফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স বের করে দোয়েলের কয়েকটা মনকাড়া ছবি তুললো।তারপর সে গিয়ে দোয়েলকে ছবি গুলো দেখালো আর বললো...

"চলবে তো?"

দোয়েল বলে উঠলো....

"বাহ,,খুব সুন্দর তোহ।আমার ফোনের ক্যামেরা এতটা ভালো না।ছবি গুলো ডিলিট করবেন না প্লিজ।আমি এম বি নিয়ে নেই,,তারপর আমায় সেন্ড করে না হয় ডিলিট করবেন?"

"আমি পাগল নাকি??এত মুল্যবান ছবি ডিলিট করে দেবো,,,,সারা জীবন রাখবো। "

তখনই চড়ুই দৌরে এসে দোয়েলের পাশে বসতে বসতে বললো.....

"আমায় ছাড়া ছবি??অসম্ভব? নিবিড় ভাই,,,এবার তুলুন তো দেখি।"

নিবিড় হাসি মুখে উঠে দাড়িয়ে দুজনের কয়েকটা ছবি তুললো।,,,,,,,,,,,,

**************

সময় বিকেল ৪:৩০,,,,,ভাত ঘুম দেওয়ার কথা থাকলেও এখব চৌধুরী বাড়ির কারোরই চোখে ঘুম নেই।সবাই ড্রয়িং রুমে আড্ডায় মসগুল।আহিশ ছাড়া আর কোনো পুরুষ সদস্য নেই।আবির আর নিবিড় গেছে তাদের বিজনেসের বাংলাদেশের ব্রাঞ্চটা কোয়ার্ডিনেট করতে।এখন থেকে অতি প্রয়োজন ছাড়া তারা আর এবরোড যাবে না।বাংলাদেশ থেকেই হ্যান্ডেল করবে সব।এটা অবশ্য অনেক আগেরই প্ল্যান। আমেরিকার ব্রাঞ্চটা প্রফিটেবল পর্যায়ে গেলে তারা বাংলা দেশে ফিরে আসবে।,,,,,,,সবাই পাখিদের ঘিরে বসেছে।তারা কি খেতে ভালোবাসে, কোথায় ঘুরতে ভালোবাসে,এই সব হাবিজাবি কথা।ইতোমধ্যেই এবাড়ির সকল মহিলা সদস্যদের সাথে মোটামুটি ভালো সখ্যতা হয়ে গেলো পাখিদের।চড়ুইয়ের ভাবান্তর না হলেও দোয়েল একটা সস্থির শ্বাস ফেললো...'যাক বাবাহ,,,মানুষ গুলো অনেক ভালো।একটা মাস থাকতে আর ইরিটেটিং লাগবে না।আশা করি অনেক ভালোই কাটবে। "

আড্ডা চললো অনেকক্ষণ,, ৭:৩৮ মিনিট,,,ডোরবেল বাজতেই সার্ভেন্ট গিয়ে দরজা খুলে দিলো,,,ভেতরে প্রবেশ করলো আফজাল,আরিপ,জিমান আর জিসান।দোয়েল আর চড়ুই সবাইকে সালাম করলো।একটু ভয়ও হচ্ছে দুজনের।না জানি কেমন হবে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা।আচ্ছা এনারা কি জানেন?পাখিরা যে এখানে এতদিন থাকার জন্য এসেছে?,,,,এসব চিন্তার মধ্যেই আফজাল সোফায় বসতে বসতে বলে উঠলো...

"তোদের কাকাইকে রাজি করাতে কত যে কষ্ট হয়েছে আম্মুরা।তার উপর শুনলাম তোরাও নাকি আসতে চাইছিলি না?হুম??"

পাখিরা অবাক হলো,,আঙ্কেল কাকাইকে ফোন করেছে?কিন্তু কেন?আর এদের কারোর সাথে আগেতো কখনো দেখাই হয় নি।তাহলে?,,, আফজাল আবার বলে উঠলো....

"যাক,,,আম্মু বলে তোদের কিছু বললাম না।নাহলে দেখতি কি করি আমি।"

আফজালের কথায় সকলে হা হা করে হেসে উঠলো,,তাদের হাসির মানে বুঝতে পেরে পাখিরাও হালকা হাসলো।জিসান বললো....

"কিন্তু বড় আব্বু,,,আমি তো কনফিউশানে পড়ে গেছি কোনটা কে? বুঝতেই তো পারছি না।ঐ দিন দেখলাম চড়ুই পাখি প্রশান্ত আর দোয়েল পাখি শান্ত। কিন্তু এখনতো দেখছি দুজনেই চুপ,,,এবার চিনবো কিভাবে বলো তো?"

আফজাল চিন্তিত স্বরে বললো.....

"হুম,,,তাইতো,,,আমিও তো বুঝতে পারছি না।এবার?"

আহিশ গিয়ে পাখিদের সোফার পেছনে দাড়ালো।এরপর দোয়েলের দু কাধে হাত রেখে বললো.....

"এটা হলে দোয়েল।মানে আমাদের বড় পাখি,,,"

এরপর চড়ুইয়ের পেছনে গিয়ে তার মাথার উপর হাত দিয়ে গোল গোল ঘুরাতে ঘুরাতে বললো....

"এটা হলো চড়ুই,, মানে ছোট পাখি"

আহিশের এমন কান্ডে চড়ুই পেছনে ফিরে আহিশের চুলের মুঠো ধরে দাত চেপে বললো....

"আহিশসার বাচ্চা,,, তুই জীবনেও মানুষ হবি নাহ।"

এমন কান্ডে সবাই আবারও জোরে হেসে দিলে।,,,,,,জিমান বললো....

"কিন্তু আহিশ,,,তুই চিনলি কিভাবে??হিনস দে আমাদের,, যাতে আমরাও চিনতে পারি।"

আহিশ চকিত কন্ঠে জিমানের দিকে তাকিয়ে বললো....

"আগে বলো জিসান ভাইয়ের বিয়েতে আমায় গার্লফ্রেন্ড খুজে দিবে?তাহলে দিবো হিনস"

জিমান চেচিয়ে বললে....

"হারামজাদা,,,আমার ছেলের বিয়েতে আমি নাকি তোর জন্য গার্লফ্রেন্ড খুজবো।আমার কাজ নেই নাকি?"

আরিফও বলে উঠলো.....

"ঐ বদের হাড্ডির বাচ্চা। নিজের টা নিজে জোগার করতে পারিস না?বাপ কাকাকে বলিস তোর জন্য গার্লফ্রেন্ড জোগার করতে?"

আহিশ আয়েসি ভঙ্গিতে সোফায় মাথা এলিয়ে দিয়ে বললো....

"বদের হাড্ডিটা কে আব্বু?তুমি তাই না?"

"কি বললি তুই,,আমি বদের হাড্ডি??"

"যাহ বাবাহ,,,তুমিই তো বললে আমি বদের হাড্ডির বাচ্চা। তাহলে?"

আরিফ একটু অপ্রস্তুত হলো।কি বলবে ভেবে না পেয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো...

"হ্যা,,বলেছি,,তো,,,ঠিকই তো বলেছি,,আমি কেন বদের হাড্ডি হতে যাবো?বদের হাড্ডিতো হচ্ছে তোর আম্মু "

একথা শুনে তানিজ রেগে বললে....

"এই,,কি বললে তুমি?আমি বদের হাড্ডি? হ্যা?"

আরিফ অপ্রস্তুত হয়ে বললো....

"এই না না না,,,তুমি না,,তততুমি কেন হতে যাবে আরেহ,,বদের হাড্ডিতো আমি,,,,"

তানিজ বলে উঠলো.....

"হুম,,,এইবার ঠিক আছে।"

এদের এসব কান্ড দেখে পাখিরা হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা করো তুলছে।,,,সাবিহা আর জুলেখা এসে দুজনের পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললে....

"ওরে,,থাম থাম,,,পেট ফেটে যাবে তো এবার।"

কোনো রকম হাসি থামিয়ে চড়ুই বলে উঠলে....

"সিরিয়াসলি আন্টি,,,, তোমাদের ফ্যামিলিটা এতো মজার?,,,আমার খুব ভালো লাগছে।আমাদের বাড়িতে তো এসব কোনো কালেই হয় না।"

চড়ুই হাসছে।এদিকে এমন কথা শুনে সাবিহার হাত চড়ুইয়ের পিঠে থেমে গেলু।আজমলরাও তাকালো চড়ুইয়ের দিকে।কিছুক্ষণ পরে চড়ুইও হাসি থামালে।আজমল এসে চড়ুইয়ের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললো.....

"এখন থেকে সব দেখবি আম্মু,,,তোদের আক্ষেপ এই পরিবারে থেকেই পূর্ণ হবে।"

চড়ুই বুঝলো না,,,তাকিয়ে রইলো আজমলের দিকে।একটু পরেই জুলেখা বলে উঠলো...

"আরে আবির নিবিড়,,কখন এলি?খেয়ালই ছিলো না।"

সবাই তাকালো তাদের দিকে।আবির বুকে হাত গুজে শান্ত দৃষ্টিতে চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো....

"অনেক আগে।"

আজমল গিয়ে সোফায় বসতে বসতে বললো....

"ভালে হয়েছে এসে গেছিস।এলন বস,কথা আছে সবার সাথে।"

আবির নিবিড় দ্বিরুক্তি করলো না,,,,, আব্বুর কথা মতো নিবিড় গিয়ে বসলো রাউন্ড সোফায় দোয়েলের পাশ ঘেসে।দোয়েল এত মানুষের সামনে কিছু বললো না।আবির গিয়ে বসলো জিসানের পাশে। বললো....

"জেসি,,,এক গ্লাস পানি আনতে বল।"

জেসি বললো...

"আমিই নিয়ে আসছি।"

বলেই উঠে গেলো জেসি চড়ুই সরল দৃষ্টিতে আবিরের দিকে তাকালো।এ্যাশ কালারের শার্টটা লেপ্টে আছে গায়ে,,,সিক্স প্যাগওয়ালা বডিটার ভাজ পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। কোর্টটা পাশে রাখা।চড়ুই ভাবলো....."এত কি ব্যবসার থলে সামলায় এই লোকটা?এই শরতেও এতো ঘামছে?"

আজমল বলে উঠলো.....

"আর মাত্র ১৩ দিন বাকি জিসানের বিয়ের।বিপাসারাও (জিসানের উড বি) সব এরেন্জম্যান্টের কথা জিজ্ঞেস করছে।তোরা কি বলিস?

জিমান বললো....

" ভাইয়া,,,আবির নিবিড় কি বলে শুনি??ওরাই ভালো বুঝবে।"

আবির পানি খেয়ে বলে উঠলো.....

"মেঝো আব্বু,,তুমি জিসানের বাবা,,,তোমারও কিছু মতামত থাকতে পারে।আর জিসান তো কিছুটা ধারনা দিয়েছেই আগে।,"

আরিফ বললো...."হুম,মেঝো ভাইয়া তো বলবে।কিন্তু তোরা তো ইভেন্টের ব্যপারটা সামলাতে হবে ইনভিটেশনের কাজ আমি অলরেডি শুরু করে দিয়েছি।স্পেশালি বিয়ের কার্ড বানানোর কাজও প্রায় শেষ।আশা করি পরশু থেকে দেওয়া যাবে।আর বাকি সব তো দেখতে হবে নাকি?"

জিমান বললো...

"হুম,,আমিও তাই বলছিলাম।তোরা শুরু কর।আমরা তো আছিই।"

আজমল বললো....

"এর মধ্যে তোরা শপিংটা করে ফেল।ইভেন্টে যেহেতু শপিংয়েও আশা করি ২-৩ দিন লাগবে।"

আহিশ বললো....

"পরশু থেকে শপিংয়ে যাবো।কাল কলেজে ফার্স্ট ইয়ার অরিয়েন্টেশন আছে।আমরা কলেজ যাবো কাল।ওহ,,,আরেকটা কথা,,,,আবির ভাই নিবিড় ভাই,,,,তোমাদের জন্য বাড়ি এসে ইনভিটেশন কার্ড পাঠিয়েছে প্রিন্সিপাল স্যার।ইচ্ছে হলে যেতে পারো।আমি আর পাখিরা কাল ফ্রী নই।"

নিবিড় বললো....

"তাহলে শপিংয়ে পরশুই যাওয়া হোক।"

আবির বললো....

"আজ ২৬ তারিখ।আগামী ৬তারিখ মেহেন্দি এন্ড সংগীত, ৭ তারিখ ইয়ালো টাচ,দেন ৮ তারিখ বিয়ে। তার মানে আমাদের আর সময় আছে মাত্র ১০ দিন।এর মধ্যে কাল কিছুই হচ্ছে না।পরশু এবং তার পরের দিন শপিংয়ের জন্য ফিক্সড।এর মধ্যে ছোট আব্বু তুমি ইনভিটেশনের ব্যপারটা দেখবে।খেয়াল রাখবে বিজনেস পার্টনারদের কথাও,,তোমাদের,,আর আমাদের টা আমি সময় করে হ্যান্ডেল করবো। আমি ম্যানেজম্যান্ট, কন্সার্ট, আর ডেকোরেশনের দিকটা ম্যানেজ করে নিবো।নিবিড়ও সাথে থাকবে আমার।আম্মু,,তুমি সার্ভেন্টদের বলে বাড়ির গেস্ট রুম গুলো ঠিক করে রাখবা।আত্মীয়রা ২-৩ দিন থাকবে কিন্তু। ওহ,,,ঘোড়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।"

এতক্ষণ চুপ থাকলেও চড়ুই এবার বলে উঠলো..।

"ঘোড়া কেন?"

আহিশ বললো.....

"হামারি দুলহে রাজা ঘোড়াকি উপার চাড়কে উনকি দুলহান লেনে জায়েগি।"

চড়ুই বললো....

"ওহ,,,বুঝলাম।অনেক মজার ব্যপার তো??"

দোয়েক বললো....

"শুনলাম ভাবির বাড়ি বাকি মোটামুটি দুরেই।তো অত দুরে ঘোড়ায় করে যাবে?"

নিবিড় বললো....

"আরে নাহ,,,ওটা তো ইভেন্টের মধ্যে পড়ে বলে ভাবিদের বাড়ির কাছ থেকে ঘোড়ায় উঠবে।এমনি গাড়িতেই যাবে সবাই।"

"ওহ,,আচ্ছা। "

আবির বললো....

"এর বাইরে আর কিছু থাকলে বলতে পারো সবাই।"

আজমল বললো....

"প্রয়োজন মতো বলা যাবে।এখন আপাতত এই কথাই থাক।"

আবির সোফা ছেড়ে উঠতে উঠতে বললো....

"ওকেয়,,,আমি তাহলে গেলাম।"

একে একে সবাই ফ্রেশ হতে গেলো।মহিলারাও রান্না ঘরে গেলে।বসে রইলো দোয়েল চড়ুই, জেসি আর আহিশ।

"কাল যাবি তো পাখিরা?"

আহিশের কথায় সম্মতি দিলো পাখিরা।তারপর চারজন মিলে আড্ডায় মসগুল হলো।এরমধ্যে কেয়া আর রাবতির সাথেও ভিডিও কলে কথা বলে নিলো তারা।,,,কিছুক্ষণ পরেই আবির আর নিবিড় একসাথে কিছু একটা নিয়ে আলেচনা করতে করতে নিচে নেমে এলো।দুজনের পড়নেই ব্ল্যাক টাউজার।আর আবিরের গায়ে ব্ল্যাক টি শার্ট,,, নিবিড়ের পড়নে গ্রীন টি শার্ট। এসেই দুজন গিয়ে দোয়েল আর চড়ুইয়ের দু পাশে বসলো।দোয়েল এবার একটু রেগে নিচু কন্ঠে বললো....

"এই,,আপনি এমন বারবার আমার পাশে বসেন কেন?জায়গা চোখে দেখেন না?"

নিবিড় ইনোসেন্ট ফেইস নিয়ে বললো.....

"এটাই তো দেখলাম।তোমার কোলও আছে,,, কিন্তু সেখানে বসলে তো তুমি চেপ্টা হয়ে যাবে।"

দোয়েল বিরক্ত নিয়ে বললো....

"অসহ্য "

-----------

"কাল কলেজে গিয়ে যেন বরপ গোলা খেতে না দেখি"

আবিরের ভারি কন্ঠ শুনে তার দিকে চোক ছোট ছোট করে তাকালো চড়ুই।তারপর বললো....

"খাবো,,,একশ বার খাবো।আপনার কি?"

আবির আগের মতোই ফোনে চোখ রেখে বললো....

''সেদিন না করার পরেও আবার লাল রঙের গোলা খেয়েছিলে তুমি।এরপর থেকে আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে গেলে কিছু করার নেই।"

"মানে?"

"শীত আসছে৷,, তাই এসব খাওয়া বন্ধ। আর খেলেও সেটা বাড়িতে৷ আমার সামনে বসে।আর কারোর সামনে না।মাইন্ড ইট।"

"আপনার সমস্যা কি হ্যা?আমার ইচ্ছে হলে আমি খাবোই,,,আপনি বলার কে হুম?ব্যবসার থলে কোথাকার।হুহ'"

"তোমার শিক্ষা পাওয়া ছাড়া উপায় নেই।ঐ দিন লাইব্রেরীর কথা কি ভুলে গেলে?"

চড়ুই চুপসে যায়।তখনই আহিশ ফফোন থেকে একটা ছেলের ছবি বের করে বলে......

"এই দেখ তো ছেলেটা খুব কিউট নাহ?"

জেসি বললো...

"হ্যাতো?কেরে এটা?"

চড়ুই ফোড়ন কেটে বললো....

"আরে আপু,,,তুমি জানোনা?এটা তো আহিশসার লাভার।"

জিসান সোফায় বসতে বসতে বললো....

"ওয়াট!".

আহিশ বললো....

" ছোটপাখি,, ফালতু বকবি না।এফ বি তে দেখলাম মাত্র। ভালো লাগলো তাই বললাম।"

চড়ুই বললো.....

"তোরতো ভালো লাগবেই,,,,,গে কি না তুই,,,, তা কয়টা ডেট হলো রে তোর?ছেলেদের সাথে?"

আহিশ রেগে গেলো...

"ছোট পাখি,,,আমি গে,,তাই না?দেখেছিস গে?দেখবি,,,তোর কপালে একটা গে জামাই জুটবে। "

চড়ুই কিছু বলতে যাবে। তার আগেই আবির ফোন থেকে চোখ তুলে বললো....

"কি বললি তুই আমায়? " আমি গে?"

বলতে বলতেই উঠে এসল আহিশের মাথায় ঠাস ঠাস করে থাপ্পড় দিতে লাগলো।আহিশ নিজেকে বাচানোর চেষ্টা করে বললো...

"আরে,আরে,আবির ভাই,,,আমি তোমাকে বলিবু,,আউচ৷ আহ,,বলিনি তো তোমায়,,,, "

চড়ুই মনে মনে অবাক হয়ে বললো.....

"এটা কি হলো?ব্যবসার থলে কি কানেও কন শুনে?"

*************************

পরদিন কথা মতোই আহিশ, দোয়েল, চড়ুই কলেজ গেলো।বিকেল ৪ :৩০ টার দিকে ফিরেও এলো বাড়ির গাড়ি করে।আবির আর নিবিড়ের ইনভাইট করা হলেও তারা যায় নি।বিজনেসে টাইম কাভার দেয় বি।তাই দোয়েল আর চড়ুই তাদের সকালে নাস্তার সময়ের পরে আর দেখেই নি।ফিরতে ফিরতে রাত সাড়ে আটটা বাজলো।এসেই চলে গেলো ফ্রেশ হতে।চড়ুই সোফায় বসে জেসি,জিসান,আর আহিশের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। দোয়েল গিয়ে রান্না ঘরে সাবিহার পেছনে দাড়ালো।সাবিহা তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো.....

"কিছু বলবি আম্মু?"

দোয়েল কাচু মাচু করে বললো....

"না মানে,, তোমার কোনো হেল্প লাগবে আন্টি,,আমি করে দেবো?"

সাবিহার কেমন যেন ভালো লাগলো।মুখে হাসি টেনে বললো.....

"রান্না করতে পারিস?"

দোয়েল একটু লজ্জা পেলো।তবুও বললো.....

"না,মানে আন্টি,,তেমন নয়।"

"কী কী পারিস?"

"ঐ আর কি চা,নুডলস, আর ডিম ভাজা।"

সাবিহা ফিক করে হেসে দিলো।তারপর আবারও রান্নায় মনোযোগ দিলো।দোয়েল কিছুক্ষণ পরে বললো....

"আমাকে শিখিয়ে দেবে আন্টি?আমি পারবো।তুমি শুধু একটু দেখিয়ে দাও "

সাবিহা এবার সোজা হয়ে দাড়িয়ে বললো...

"লাগবে না তোর রান্না শেখা,, আর এই বাড়িতে কুকরাই রান্না করে।আমিতো শখের বসে মাঝে মধ্যে আসি।"

"এখন না লাগলেও পরে কখনো তো শিখা লাগবেই,, তাই......"

'ওরে আমার সংসারী আম্মুটা রে৷, তোর বর এমন না যে তার বউয়ের হাতে রান্না খেতে চাইবে বড় জোর এক কাপ কফি বা চা খেতে চাইবে।এর বেশি না বুঝলি,,তাই তোর কখনোই এসব শেখা লাগবে না।"

দোয়েল ভ্রু কুচকে বললো.....

"আমার বরের খবর তুমি কি করে জানলে আন্টি?আমিই তো জানি না এসব?"

সাবিহা কি বলবে ভেবে পেলো না।সে তো ভুলেই গিয়েছিল তার এই আম্মুটা একটু জিজ্ঞেসু সভাবের।তখনই নিবিড় এসে একটা আপেল দোয়েলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো.....

"কারন আমার আম্মু ছোট খাটো জোতিসি,,,ভবিষ্যৎ বলতে পারে মাঝে মাঝে।তাই তোমার টাও বললো।এখন নাও,,এটা খেয়ে নাও মিস এটম।"

দোয়েল একটু রেগে গেলো।সাবিহার দিকে তাকিয়ে বললো....

"আন্টি,,,তোমার এই ছেলেটা আমাকে এটা কি নামে ডাকে,,,এপার ওপার কিছুই নেই।তুমি এনাকে বলে দাও আমাকে যাতে এই নামে আর না ডাকে।"

সাবিহা বললো...

"হুম,হুম, ঠিকই তো নিবিড়।এটা কেমন নাম,,,আমার আম্মুর কত সুন্দর একটা নাম আছে।"

আরো কিছু বলার আগেই নিবিড়ের ফোন আসে।সে রিসিভ করে কানে নিয়ে আবার ফোন টা সাবিহার দিকে এগিয়ে দেয়। সাবিহা কানে ধরতেই ওপাস থেকে ভেসে এলো....

"শুধু কি এক ছেলেকেই রোমাঞ্চ করতে দেবে?,,,,হুম??,, জলদি এক কাপ কফি পাঠাও উইথ মাই বউ"

"

সাবিহা বললো....

"অসভ্য ছেলে,,,লজ্জা করছে না মাকে এসব বলতে?"

"তুমি যে বিয়ের আগে রাত ৩ টার সময় আব্বুর সাথে দেখা করতে লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়ির বাইরে যেতে,,তখন লজ্জা করতো না তোমার?" যা বলছি তা করো।"

বলেই কল কেটে দিলো আবির।সাবিহা হেসে দিলো।তার এই ছেলেটাও আজ কাল এসব নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছে,,,তিনি সোফায় বসে থাকা চড়ুইকে জোর গলায় ডাকলো....

"চড়ুই আম্মু,,, একটু এদিকে আয় তো।"

চড়ুই হাজির।

"বলো আন্টি।কি করতে হবে?'

"বেশি কিছু না।এই কফিটা নিয়ে আবিরের ঘরে দিয়ে আয়।"

"কিহ,,,ঐ ব্যবসার থলের ঘরে??নো ওয়ে,,,,"

বলতে বলতেই মাথা নাড়ালো,,,সাবিহা মুখ কালো করে বললো....

"আমি বলছি, তাও না??"

চড়ুই কোমরে হাত দিয়ে চোখ ছোট ছোট করল বললো.....

"ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল,,,না??কি আর করার,,,,তোমার জন্য না হয় একবার ঐ বাঘের গুহায় গেলাম।দাও"

সাবিহা হাসি দিয়ে ট্রেটা চড়ুইয়ের হাতে দিয়ে বললো....

"সাবধানে যাবি।"

"ওকেয়".....

দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো চড়ুই,,। আবির খাটে হেলান দিয়ে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছে।চড়ুই আবিরের খাটের পাশে ট্রে টা রেখে বললো....

" এই যে মি: থলে,,,,আপনার কফি।আন্টি পাঠালো।"

বলেই চলে যেতে নিয়ে আবিরের শান্ত কন্ঠে থেমে গেলো।

"কোথায় যাচ্ছো?'

" নিচে"

আবির তাকালো চড়ুইয়ের দিকে।চোখ দিয়ে খাটে ইশারা করে বললো.....

"সিট ডাউন হিয়ার।"

"কেন?"

"আমি বসতে বলেছি।"

"আরে বলবেন তো কেন,,,?"

আবির ল্যাপটপ বন্ধ করে উঠে দাড়িয়ে ওয়ারড্রবের থেকে একটা প্যাকেট বের করলো। তারপর সেটি খাটে রেখে চড়ুইকে চোখের ইশারায় দেখালো।চড়ুই এগিয়ে গিয়ে খাটে বসে প্যাকেটটা খুলতে খুলতে বললো.....

"কি এটা?"

আবির চড়ুইয়ের বরাবর চেয়ার টেনে বসে বললো.....

"খুলে দেখো"

চড়ুই প্যাকেট খুলে দেখলো অনেক গুলো চকলেট।তা দেখে চড়ুই খুশি হয়ে গেলো।

"ওয়াও,,,এতো গুলো চকলেট?"

আবির আগের মতোই বললো.....

"ইউ এস এ থেকে আসার সময় ভাবিনি একটা পুচকে মেয়ের সাথে দেখা হবে।তাই তখন এসব আনিনি।এরপর শুনলাম একটা কিউট, ইনোসেন্ট, শান্ত দেখতে ভালো একটা মেয়ে নাকি চকলেটের বায়না ধরেছে আমার কাছে।তাই অর্ডার দিয়ে ইউ এস এ থেকে আজকেই আনলাম।এখন তুমি দেখে বলোতো,,,এগুলো ঐ মেয়েটার পছন্দ হবে কিনা?তাকে দিয়ে দেবো কালকে।"

চড়ুইয়ের মুখ কালো হয়ে গেলো।সে করুন কন্ঠে বললো....

"তার মানে এগুলো আমার জন্য না?"

আবির সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললো....

"একদম নাহ,,,তুমি কি কিউট ইনোসেন্ট নাকি?"

চড়ুই বাচ্চাদের মতো মুখ করে আবিরের দু গালে নিজের দু হাত দিয়ে তার মুখটা নিজের দিকে তুলে ধরে বললো......

"আমায় ভালো করে দেখে বলুন তো,,,আমি কি একটুও কিউট না?"

আবির এমটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না।চড়ুইয়ের নরম হাতের সামান্য স্পর্শ তার হৃদয়ে কম্পন ধরিয়ে দিচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু চাওয়া বার বার মাথায় চাড়া দিয়ে উঠছে।"এই মেয়েটার এমন কাজটা কি না করলেই হতো না??কি দরকার ছিলো আমার পুরুষ মনকে উতলা করে তোলার?এখন তো এই মনকে শান্ত করতে তার সান্নিধ্য প্রয়োজন কিন্তু তা করতে গেলে তো নিজেই আমাকে নির্লজ্জ বলবে।"""এসব ভাবনার মাঝেই চড়ুই আবার বলে উঠলো.....

"কি হলো,,,বলুন না?"

আবির নিজেকে সংযত করলো।বলে উঠলো.....

"নাহ"

চড়ুই মনে মনে কষ্ট পেলো।ছেড়ে দিলো আবিরের মুখখানা।তারপর অভিমান নিয়ে বললো.....

"ঠিক আছে।লাগবে না আমার কিউট হওয়া।কিন্তু আমার এখান থেকে একটা চকলেট লাগবে।"

"তাই?"

"হুম।আর আমি এখনই খাবো।সেটাও আপনার অনুমতি না নিয়ে"

উত্তরের অপেক্ষা না করেই চড়ুই একটা চকলেট খুলে খেতে শুরু করলো।আবির হাসলো এমন কান্ড দেখে।তবে সেটা চড়ুইয়ের চক্ষুগোচর হলো না।খেতে খেতে চড়ুই ঠোটের চারপাশে চকলেট লাগিয়ে ফেললো।খাওয়া শেষ করে চড়ুই জিভ কেটে বললো.....

"ইশশ,,আপনাকে তো জিজ্ঞেসই করিনি খাবেন কিনা।এখন কি হবে??"

আবির উঠে দাড়িয়ে চড়ুইয়ের দিকে ঝুকলো।তারপর বললো....

"নো টেনশন পাতিহাঁস। তুমি চোখ বন্ধ করো। আমি আমারটা খেয়ে নিচ্ছি।"

চড়ুই কথা না বাড়িয়ে চোখ বন্ধ করতেই গলায় আবিরের শীতল হাতের স্পর্শ পেলো।হুট করে চোখ খুলে ফেললো।কিন্তু তা বেশিক্ষণ টিকলো না।কারন তার চকলেট মাখানো ঠোট জোড়া নিজ ঠোট দিয়ে দখল করে নিলো আবির।,,,,আলতো স্পর্শে কেপে উঠলো চড়ুই।আবিরের হাত চড়ুইয়ের গলা বেয়ে উঠে দু গালে স্থান নিলো।আর এই দৃশ্য দেখো টেবিলে থাকা কফি মনের দু:খে গান ধরলো,,,,,,

"প্রেমিক, তোরা আমারে ঠান্ডা করিলি"

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ৮ গল্পের ছবি