রুমের এককোনে ঝুলিয়ে রাখা পান্চিং বলে খালি হাতেই বার বার ঘুশি মারছে নিবিড়।শরীর বেয়ে ঘাম ঝরছে।হাতেও ব্যথা লাগছে।কিন্তু সে দিকে তোয়াক্কা করছে না সে।রক্ত চক্ষু নিয়ে ঘুশি মেরেই যাচ্ছে,, আর চেচিয়ে বলছে....
"কেন আমি সামনে থেকেও সানিয়াকে আটকাতে পারলাম না।কেন,কেন,কেন,,,,পাখিরা কষ্ট পেলো আমার জন্য,,, এতটা কষ্ট কিকরে দিলাম আমি ওদের,,,কেন পারলাম না ওদের আগলে রাখতে,,,আমি কাপুরষ,,, হ্যা,,হ্যা,,,কাপুরষ আমি।আমার দোয়েল,,,আমার ভালোবাসার চোখে জল এসেছে,,শুধু আমার জন্য। আমি সব দেখেও কিছু বলতে পারিনি শুধু মাত্র ওরা জিসানের কাজিন বলে,,,নাহ,,আমার কিছু করা উচিৎ ছিলো।কেন করিনি আমি?আমার দোয়েল,,,আমার দোয়েল পাখি জীবনেও আমায় ভালেবাসবে না।সে এই কাপুরুষকে কখনোই ভালোবাসবে না।কক্ষনো নাহ,,,,আআআআআহ,,,পারলাম না ওদের চোখের জল আটকাতে,,,চোখের সামনে হব কিছু হতে দেখলাম।আআহ,,,"
"এসব কি করছেন আপনি?"
দোয়েলের কন্ঠে থামলো নিবিড়।দোয়েল নিবিড়ের হাত ধরে রেখেছে। ভীত চোখে তাকিয়ে আছে।নিবিড় তাকালো তার দিকে,,,, কিচ্ছু না ভেবেই ঝাপটে ধরলো দোয়েলকে।পাগলের মতো বলতে লাগলো....
"দোয়েল,,,তুমি এসেছো আমার কাছে?দেখো না,,,মিস এটম,,,আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি নিজেকে সামলাতে পারছি না।দোয়েল,,এই দোয়েল,,আমি জানি আজকের পর থেকে তুমি আমায় কখনোই ভালোবাসবে না। কিন্তু আমি চাই তোমাকে,,,খুব করে চাই,,,,আমি বেশ বুঝতে পারছি তুমি না থাকলে আমার চলবে না।কিছুতেই চলবে না আমার।হৃদয় থমকে যাবে আমার।দেখো তুমি,,এসব ভাবতেই আমার কলিজা কাপছে।আমি তোমাকে চাই দোয়েল,, আমি কাঙাল হয়ে গেছি।তোমার ভালোবাসার কাঙাল।বিশ্বাস করো আমায়,,,আগে কখনো কোনো মেয়ের প্রতি এমনটা হয় নি আমার।আমায় ফিরিয়ে দিয়ো না প্লিজ মেরে ফেলো না আমায়,,,আমি বাচতে চাই দোয়েল। বাচতে চাই,,,,,আমি আর এমন কাপুরুষ থাকবো না,,,সত্যি থাকবো না।তুমি শুধু আমায় ফিরিয়ে দিয়ো না দোয়েল,,,তা হলে আমি সত্যিই মরে যাবো"
দোয়েল হতভম্ব। সে ভাবেও নি নিবিড় এমনটা করবে।তবেকি তখন নিবিড়ও আবিরের মতো সবটা শুনেছে?কিন্তু নিবিড় এমন করছে কেন?পাগলের মতো করছে,,,,এভাবে কোনো ছেলেও ভালোবাসায় এতটা কাঙাল হয়?কই,,,এই পর্যন্ত তো কতগুলো প্রপোজাল পেয়েছে সে।তারা তো এমন করেনি কখনো,,তাহলে নিবিড়?এমন করছে কেন লোকটা,,,,সত্যিই কি এতটা ভালোবাসে সে আমায়,,,কিন্তু আমাদের মাঝে তো ঝগড়া ছাড়া কিছুই হয়নি।তাহলে?নিবিড় কি কোনো কারনে অভিনয় করছে,,, না বা,,এতটা নিখুঁত অভিনয় কেউ করতে পারে নাকি।নাহ,,,আমি কি ভাবছি।,,এখন কি করবো আমি?কি বলবো নিবিড়কে?"
,,,নিবিড় চুপ হয়ে গেলো।একদম শান্ত। আবার হঠাৎ কি হলো?,,,নিবিড় সোজা হয়ে দাড়ালো।চোখ মুছে ফেললো।যেন কিছুই হয়নি এতক্ষণ,,,, অন্য দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠ নিয়ে বললো ....
"সরি,,,,"
দোয়েল কিছু বললো না,,,,নিবিড় আবার বললো....
"কিছু বলবে মিস এটম?,,"
দোয়েল হুসে ফিরলো...
"হাতের এ কি হাল করেছেন আপনি?,,এমন পাগলামি কেউ করে??"
নিবিড় হালকা হাসলো...
"ওহ কিছু না,,,ঠিক আছি আমি।তোমার কিছু লাগবে??ছোট পাখি ঠিক আছে এখন?"
"ওর জন্যই এসেছি।গালে প্রচন্ড ব্যথা করছে ওর।আপনার কাছে কোনো পেইন কিলার আছে?"
নিবিড় তার ফাস্টএইড বক্স খুলে কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করে একটা মেডিসিনের পাতা হাতে নিয়ে বললো .....
"হুম,,আগে ওকে কিছু খাইয়ে দিবে,,,,, তারপর আমি মেডিসিন দেবো।"
"আচ্ছা,, ঠিক আছে।"
বলেই পেছনে ঘুরতে গেলে নিবিড় বললো......
"মিস এটম শোন?"
দোয়েল তাকালো নিবিড়ের দিকে....
"কিছু বলবেন?"
নিবিড় এগিয়ে এলো দোয়েলের দিকে। থামলো একদম মুখোমুখি। তাকালো দোয়েলের মুখের দিকে। দু হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে দোয়েলের দু চোখের পাতা ছুয়ে দিলো।তারপর হাত দুটো তার গালে রেখে বললো....
"তুমি তো খুব স্ট্রং তাই না মিস এটম?তাহলে এভাবে কাদছিলে কেন?,,,তুমি নিজেই ওভাবে ভেঙে পড়লে ছোটপাখিকে সামলাবে কে শুনি?,,,,,,শোন দোয়েল,,,মা জিনিসটা সবার কপালে থাকে না।তোমরাও হয়তো তাদের দলেই পড়ে গেছো ভাগ্যের কারনে।কিন্তু একটি বার চিন্তা করো তো,,তোমাদের কাকিয়া কি তোমােদের ভালো বাসেনি?,,,চেষ্টা তো করেছে তোমাদের মায়ের মতো আগলে রাখার।তাহলে?তাকে কেন তোমরা মায়ের স্থান দিতে পারছো না?আচ্ছা এসব থাক।তোমরা দু বোন দোয়েল।অন্য কারোর জন্য না হোক,,নিজেদের জন্য তো বেচে থাকবে তোমরা।দুনিয়াটা দেখবে।তাহলে?নড়বড়ে মনোবল তোমায় মানায় না দোয়েল,,,তোমায় আরো স্ট্রং হতে হবে।নিজের জন্য , নিজের বোনের জন্য।কী?পারবে না তুমি?"দোয়েল ছলছল চোখে তাকালো নিবিড়ের দিকে। "লোকটা কত শান্ত ভাবে তাকে বুঝিয়ে দিলো।আগে কি এমনটা কেউ করেছে?কই,,মনে পড়ছে না তো।,,,কিছুক্ষণ পর দোয়েল কাপা কন্ঠে বললো....
"নিবিড় ভাইয়া,,,,"
"হুম?"
"আমি মনে হচ্ছে পরে যাচ্ছে। আমায় একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন না?"
নিবিড় তাকালো দোয়েলের দিকে,,,চোখে মুখে বিস্ময়। অপ্রত্যাশিত কথাটা কি সে সত্যিই শুনেছে?সত্যিই দোয়েল বললো এই কথা?,,,দেরি করলো না নিবিড়,,শক্ত করে ঝাপটে ধরলো দোয়েলকে।আর দোয়েল নিরবে চোখের জলে নিবিড়ে শার্ট ভেজাতে লাগলো।,,,,,,
""""'"'"""""""'"''''''""""""""""""""""
"আহিশ?"
কারো ডাকে চোখ তুলে তাকালো আহিশ।চোখে পড়লো সাবিহা কে।দ্রুত চোখ মুছে স্বাভাবিক হওয়ার ভান করে উঠে দাড়ালো। হাসার চেষ্টা করে বললো....
"ব্ বড় আম্মু,,,তুমি?কিছু বলবে?"
"তোর এই অবস্থা কেন বাবা?"
আহিশ অপ্রস্তুত হলো...
"ক্ কই না তো,,কিছু হয়নি।"
"তুই এভাবে পাখিদের ঘরের সামনে বসে কাদছিস কেন?ঠিক করে বলতো কি হয়েছে?'"
"বড় আম্মু তেমন কিছুই না,,,এমনিই আরকি....."
তখনই পাখিদের রুম থেকে বেড়িয়ে এলো আবির।চোখ মুখ শক্ত। প্রশ্ন ছুড়লো আহিশকে...
"চড়ুই পাখিকে কে মেরেছে আহিশ?"
"আবির ভাই,,আসলে..."
"তখন কেন ও ওভাবে মল থেকে চলে গেলো?সবটা জানতে চাই আমি"
সাবিহাও অবাক,,,কি হয়েছিল তখন?,,,,,,,আহিশ তাকালো নিচে ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে হাসতে থাকা, সানিয়া,মুনিয়া,তাসান,ওরব আর রবিনের দিকে।আবির আহিশের দৃষ্টি অনুসরণ করে নিচে তাকাতেই মাথায় ধপ করে আগুন ধরে উঠলো....
"তাসান,ওরব,রবিন?ওরা কি করেছে পাখিদের সাথে? বল আহিশ,,,স্পিক আপ।"
"না না আবির ভাই,,,ওরা কিছু করেনি,,ওরাতো এখনো পাখিদের সামনেই পরেনি।আসার সময় বড় পাখিকে একটু দেখেছে এই যা।"
"তাহলে?তাহলে কি হয়েছিলো বল?"
"সানিয়া,মুনিয়া,,,,"
কথাটা শুনতেই সাবিহা,আহিশ,আবির পাশে তাকালো।নিবিড় বললো কথাটা,,,আরেকটু এগিয়ে এসে বললো....
"সানিয়া তখন পুরো মল জুড়ে মানুষের সামনে ছোটপাখি কে থাপ্পড় দিয়েছে।"
"What!!!!"
"হ্যা,,,তখন শপিংমলে...... "
সবটা খুলে বললো নিবিড়।আবির রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে ড্রয়িংরুমে। সাবিহাও অবাক ।এতকিছু হয়ে গেলো আর তারা কেউ কিছুই জানে না?,,,,আবির বলে উঠলো....
"ছারবো না এই সানিয়া,মুনিয়াকে।'"
বলেই এগোতে নিলে সাবিহা তাকে আটকায়,,,,,,,
"দাড়া আবির,, মাথাটা একটু ঠান্ডা কর বাবা,,,"
"আম্মু ছারো আমায়,,,,আমার চড়ুই পাখির সাথে মিসবিহেব করেছে ওরা,,,ওদের তো আমি...."
"প্লিজ বাবা,,,আমার কথাটা একটু শোন,,,জিসানের কথাটা একটু ভাব,,,ছেলেটা কত খুশি বিয়েটা নিয়ে। আর তোর মেঝো আম্মু?এখন তুই কিছু করলে সে খুব কষ্ট পাবে বাবা,, একটু ভাব,,,আর ওরাতো বিয়ের পরে চলেই যাবে।ততদিন আমরা সবাই পাখিদের একটু চোখেচোখে রাখবো।আর পাখিদের জন্য তো আমার ছেলে দুটোই যথেষ্ট,, তা নয় কি আবির?"
"আম্মু...."
"প্লিজ বাবা,,,,"
আবির হার মানলো,,,,,,কিছু না বলেই নিজের রুমে চলে গেলো।,,,,,,,,,,৷ রাতে ডিনারের সময় সবাই একত্রিত হলো টেবিলে।তখনই তাসান বলে উঠলো....
"হেই,,, সুইটি গার্লস,,,,কারা তোমরা?? "
দোয়েল,চড়ুই তাকালো সামনে থাকা তাসানের দিকে,,,গ্রে কালারের শার্ট পড়া ছেলেটি,,,যার অর্ধেক বাটনই খোলা।গলায় চেইন দিয়ে একটা ব্লেড ঝুলছে।ঠোট গুলো কিছুটা কালো।দেখেই বোঝা যাচ্ছে সিগারেট খায়।,,,,চড়ুই ভাবলো,, এরা আবার কে,,,,,,আহিশ বিরক্ত কন্ঠে বললো...
"ওরা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। ওদের সাথে তোমার কথা না বললেও চলবে তাসান ভাই।"
তাসান গদগদ হয়ে বললো...
"ওহ,,,তোমার ফ্রেন্ড হয় এরা?হাউ কিউট,,,,তা নাম কি তোমাদের সুইটিরা?"
চড়ুই খেতে খেতে স্বাভাবিক ভাবেই বললো...
"আমি চড়ুই আর ও দোয়েল "
রবিন বললো...
"ওহ,,তোমাদের নাম গুলোও তোমাদের মতোই জোস,,, কি বলিস ওরব?"
ওরব বললো...
"ইয়াহ ব্রো,,ইউ আর রাইট,,,,সত্যিই,,তোমরা খুব এট্রাক্টটিভ,,,,"
এতক্ষণে আবির খেতে খেতে শান্ত শীতল কন্ঠে বললো....
"ওদের নিয়ে কমপ্লিমেন্ট করার অধিকার তোমাদের কেউ দেয় নি।তাই চুপচাপ নিজের কাজ করো,,,"
তাসান বললো....
"ওমা আবির ভাই,,,,সুন্দর কে সুন্দর বলবো না তো কি করবো?আর কমপ্লিমেন্ট করার জন্য আবাট অধিকার লাগে নাকি,,,"
নিবিড় বললো....
"No,that's not at all.But you guage are giving complement with bad gesture about our bards..So it’s really need parmition from there own owners. (না,ঠিক তা নয়,কিন্তু তোমরা বাজে ভঙ্গির সাথেকমপ্লিমেন্ট দিচ্ছো আমাদের পাখিদের সম্পর্কে। তাই সত্যিই তাদের নিজের মালিকদের থেকে অনুমতি নেওয়াটা প্রয়োজন।)
এমন কথায় থতমত খেলো তাসানরা।কিন্তু লুকিয়ে পাখিদের দিকে তাকিয়ে ঠিকই বাকা হাসি দিলো।আর মনে মনে বললো....
("তোমরা আমার চোখে পড়েছো টুইনস বিউটি।এমনি এমনি কি ছেড়ে দেবো নাকি আমি?একটু ও টেস্ট করবো না?ইটস নেভার ফেয়ার বিউটিজ।")