Mr and Mrs Twins

পর্ব - ১৩

🟢

দরজায় ঠকঠক আওয়াজে সেদিকে তাকালো দোয়েল।আবির দাড়িয়ে আছে।দোয়েল হালতা হেসে বললো...

"দরজা তো খোলাই আছে আবির ভাইয়া।আসুন না,,,"

আবির ভেতরে প্রবেশ করলো। দেখলো দোয়েল খাটের কোনায় বসে হুমায়ুন আহমেদ এর লিখা "অপেক্ষা " বইটি পরছে।দোয়েল বললো...

"সরি ভাইয়া,একটু আগে আসার সময় আপনার রুমের বুকসেল্ফটা নজরে পড়লো।আপনি রুমে ছিলেন না।আমি অনুমতি না নিয়েই রুমে ঢুকি।আর আপনার এই বইটা নিয়ে আসি।আমি পড়া শেষ হলেই ফেরত দিয়ে দেবো।"

আবির মুচকি হাসলো,,সে জানে তার একমাত্র সালিকা বই পোকা,,বই দেখলে নিজেকে আটকাতে পারে না।,,

"সমস্যা নেই বড় পাখি,,তুমি যখন ইচ্ছে ওখান থেকে বই নিয়ে পড়তে পারো।আর যদি অন্য কোনো বই প্রয়োজন হয় আমাকে বলো,,আমি এনে দিবো।"

দোয়েল হাসলো...

"ঠিক আছে ভাইয়া,,থ্যাংক ইউ।"

আবির মুচকি হাসলো।চড়ুইকে দেখতে পাচ্ছে না সে।দোয়েল বলে উঠলো...

"বোন বারান্দায় আছে।"

"থ্যাংকস"

বলেই এগিয়ে গেলো বারান্দার দিকে।,,,,

""""""" ”"""""""""”""""

"আর বলিস না কেয়া কসমেটিকস। আমার ফোন তো ইন্তেকাল পরোটা খাইছে "

ফোনের ওপাশ থেকে কেয়া বলে উঠলো...

"কিতা কস তুই পাখি?তোর ১১হাজার টাকার বিশ্ব সেরা ফোন মারা গেছে?কিন্তু কেমনে?তুই তো ফোনটারে আগলাইয়া রাখস,,একদম " কইলজার ভিতর গাথি রাইখুম তোয়ারে"টাইপ।কেমনে কি হইলো...."

"এমনে এমনে মরছে নাকি,,ঐ শালা খাট্টুশ মার্কা ব্যবসার থলেটা ক্লাসের মধ্যে আমার ফোনটা এমন জোরে আছার মারছে,,আমি আমার ফোন তো দুরে থাক।সিম টা পর্যন্ত পাই নাই।"

রাবতি বললো....

"কাহিনি কি বলতো পাখি?তুই নিশ্চয়ই কিছু গন্ডগোল করছোস ঐখানে তাই না?"

"রাবুর বাচ্চা,, তুই এটা বলতে পারলি?আমি কি কখনো দুষ্টামি করি?জানিস না আমি কত শান্ত? "

কেয়া বললো...

"হ রে বোইন,,সবই জানি।তোর মতো ভালা মানুষ আর একটাও নাই।এবার কাহিনি বলতো?"

"আর বলিস না,,শপিংমলে যাওয়ার পর এমতে সেমতে জিসান ভাইয়ের একটা মেয়ে কাজিন সানিয়া না ফানিয়া,,আমার গালে থাপ্পড় মারছে।শালি সয়তান ভাবছে আমি সাধাসিধা,, আমার তখন ইচ্ছে করছিলো ঐ ফানিয়ার বাচ্চাটারে একদম পচা ড্রেনে চুবাইয়া ধরি। কিন্তু জানিস?আমি না কিছুই করিনি।"

রাবতি বললো....

"ওরে সালা,,,ঐ মাইয়া তোরে থাপ্পড় মারলো আর তুই কিছুই করিসনি?এও সম্ভব? "

চড়ুই বাচ্চাদের মতো ঠোট উলটিয়ে বললো...

"সম্ভব হয়েছে তো।,,তখন যদি আমি কিছু করতাম তাহলে এখানে আন্টিরা সবাই, জিসান ভাইয়া,কষ্ট পেতো,, তাই তো কিছু বলিনি।,,রাগ করে চলে এসেছি কোচিং সেন্টারে।আর তখনই ঐ খাট্টুশটা আমার ফোনটার প্রাণ নিয়ে নিলো।থলেটা একটা সরি পর্যন্ত বললো না আমায়।শয়তান থলে একটা,,,"

কেয়া বললো...

"তো কি ভাবছিস,,এবার কি করবি?তোর কাকাইকে বলবি?ফোন দিতে??"

"উহুম,,কাকাইকে বলবো নারে,,,এমনিতেই অনেক করছে আমাদের জন্য। আমি আর তার খরচ বাড়াতে চাই না।'"

রাবতি বললো...

"তো?ফোন ছাড়া চলবি?বড় পাখিরটা দিয়ে.... "

"উহুম,,বোনের ফোনটায়ও ইদানীং প্রচুর ডিসট্রাভ দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পরই অফ হয়ে যায়।,,,, ভাবছি দু একটা টিউশন ধরবো।দুটো ফোনের টাকা উঠে গেলে ছেড়ে দেবো নি।"

রাবতি ধমকের সুরে বললো...

"একদম না পাখি,,এই কাজ করবি না তুই।আগের বারের কথা মনে নেই,,,,আবারও কারো বাসায় পড়াতে গিয়ে কোনো রকম হ্যারাসমেন্টের শিকার হবি না।এমন কিছু করলে তোকে আমি খুন করে ফেলবো।"

"রাবু, থামতো?এছাড়া আর কিছু কি করার আছে?মনে তো হয় না।ফোন তো লাগবেই।ঐ থলেটাকে ইচ্ছে করছে কুচি কুচি করে কাটতে"

রাবতি ভ্রু কুচকে বললো....

"পাখি তোর পেছনে ওটা কে?"

"কই আমার পেছনে তো কেউ..."

বলতে বলতেই পেছনে ফিরে তাকাতেই,,,,আল্লাহ গো,, বলে এক চিৎকার দিলো চড়ুই।আবির সামনে এসে বললো...

"রিলাক্স,, ইটস মি,,আবির।,,,,"

চড়ুই রেগে গেলো...

"আপনি,, এখানে এমন ভুতের মতো দাড়িয়ে ছিলেন কেন?"

আবির চড়ুইয়ের পাশে দোলনায় বসতে বসতে বললো....

"শুনছিলাম।আমার নামে কি কি বলছিলে,,,,"

ফোনের ওপাশ থেকে কেয়া বললো....

"ও মাই গড,,,ঐ জাতির ক্রাশ তোর পাশে???"

চড়ুই বিরক্ত নিয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে বললো...

"রাখতো মিরজাফরের দল।এই থলের সাথে বোঝাপড়া করতে দে আগে।"

বলেই ফোন কেটে বুকে দুহাত ভাজ করে আবিরের দিকে ফিরে বললো....

"এবার বলুন তো আপনার মতলব কি?যখন তখন আমার সাথে চিপকে যান?হুহ?"

"সিম্পল,,,, তোমার শরীর থেকে চকলেট চকলেট গন্ধ আসে,,তাই একটু চকলেট খাওয়ার লোভে....."

বলতে দেরি চড়ুই বাম হাত দিয়ে নিজের ঠোট চেপে ধরতে দেরি নেই।ওভাবে থেকেই বললো...

"আমি আজ একটাও চকলেট খাইনি,,সত্যি বলছি..."

চড়ুইয়ের এমন বাচ্চামো দেখে ফিক করে হেসে দিলো আবির।এরপর সিরিয়াস হয়ে বললো....

"টিউশন করতে গিয়ে কি কান্ড করেছিলে?"

চড়ুই স্বাভাবিক ভাবেই বললো....

"আমি কিছু করিনি,,,,এটাতো বোনের ছিলো।যেই বাচ্চাকে পড়াতে যেতো,তার বড় ভাই একদিন বোনের সাথে মিসবিহেভ করতে চেয়েছিলো।বোন কোনো রকম নিজেকে বাচিয়ে আনে।সেই থেকেই আমাদের টিউশন কর বন্ধ। "

"ভাগ্যিস ওটা বড় পাখি ছিলো।তুমি হলে তো ভুলেও বাচতে পারতে না।"

"সেটা আমিও জানি।হুহ,,বলতে হবে না "

"বাহ,বেশ কনফিডেন্স তো তোমার?,,,তা,, কখনো কি নিজেকে বাচানো লাগবে না?"

"আমি কেন নিজেকে বাচাবো?আমাকে তো সবসময় আমার প্রিন্স বাচাবে।আগলে রাখবে আমায়।যেই আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে তাকেই ধরে ঢিসুম ঢিসুম করবে। যেমনটা ঐ আল্লু আর্জুন করে,,,,"

"ওটা সিনেমা পাতিহাঁস। বাস্তবটা ভিন্ন "

"জানি তো,,,তবে আমাট ড্রিম প্রিন্স তার মতো হওয়া লাগবে না।শুধু আমাকে আগলপ রাখলেই চলবে।ব্যস এই টুকুই।"

আবির হালকা হাসলো।বুঝলো,, তার চড়ুইপাখি,নিজের স্বপ্নের জগতে তার প্রিন্সকে দেখতে পায়।....

"তা তুমি কিছু করবে না তোমার প্রিন্সের জন্য? "

"করবো তো।সে যা বলবে তাই করবো।"

"সত্যিই করবে?"

"হুম"

"মিথ্যা বলছো না তো?"

"উহুম।"

আবির আবারও হাসলো।চড়ুইয়ের মাথা তার কাধে,।কথা বলতে বলতে আনমনেই রেখেছে সে।এখন দুজনই নিশ্চুপ। চড়ুই তাকিয়ে আছে বেলকনি দিয়ে খোলা আকাশের দিকে।আর আবির তার প্রনয়পাখির দিকে।,,,হঠাৎ রুম থেকে কারো আওয়াজ পেয়ে দুজনই হুসে আসলো।দোয়েল কথা বলছে,, তবে সাথে আরো একটা ছেলের কথা ভেসে আসছে।চড়ুই বললো...

"আর কেউ কি এসেছে?এতক্ষণ তো কথা বলেনি?"

"আমি একাই এসেছিলাম।,,,কিন্তু এত রাতে আর কল আসবে তোমাদের রুমে?"

"নিবিড় ভাইয়া নয়তো?"

"উহুম,,এটা ভাই নয়।আমি কন্ঠ চিনতাম তাহলে,"

"হ্যা তাই তো,আপনাদের দুজনের কন্ঠতো এক।,চলুন তো দেখি"

"হুম,,চলো..."

"""""""

"দেখুন ভাইয়া,,,আপনি এই বাড়ির গেস্ট, আর আমরাও তাই।তাই এভাবে হুটহাট নক না করে কারো রুমে ঢুকবেন না,নেক্সট টাইম আসার আগে নক করে আসবেন,,,"

দোয়েলের কথায় হাসলো তাসান,,,,,

"আরেহ কিউটি,,এটা তো আমিই।আমি আসতে প্রবলেম কিসে?আফটার অল আমরা তো পরিচিত তাই না?"

দোয়েল হালকা হেসে বললো...

"দেখুন ভাইয়া,,আমরা এতটাও পরিচিত নই যে আপনি হুটহাট দুটো মেয়ের ঘরে এভাবে ঢুকে যাবেন।"

তাসান একবার আড়চোখে দোয়েলকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চোখ বুলিয়ে নিলো।তারপর ঘাড়ে হাত ডলতে ডলতে বিরবির করে বললো...

"মেয়ে বলেই তো এসেছি হ*টি,,,নাহলে কি আসতাম?,,"

"কিছু বললেন?"

"না নাহ,,কিছু না,, আচ্ছা আমরা বরণ কিছুক্ষণ গল্প করি,,তাহলেই আমরা ফ্রী হয়ে যাবো বুঝলে...."

"আমি যার তার সাথে গল্প করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি না ভাইয়া,,আপনি এখন আসতে পারেন।"

তাসান বাকা হেসে দোয়েলের দিকে ধীরে ধীরে এগোতে লাগলো....

"না গেলে কি করবে?"

দোয়েল শক্ত কন্ঠে বললো..

"আবির ভাইয়া কে ডাকবো।"

"লাভ নেই,আমি সারা বাড়ি ঘুরে আবিরকে পাইনি,,তাই তো এলাম তোমাদের কাছে,,,তা আরেক পিস কই?"

"আপনি এগোচ্ছেন কেন?আমি এবার সত্যিই আবির ভাইয়াকে ডাকবো"

"ডাকো না?কে না করেছে,, ডাকো?"

,,,,,"ডাকতে হবে না কষ্ট করে আমি এখানেই আছি।"

আবিরের কন্ঠে পেছন ফিরে তাকালো দুজনই,,,দেখলো আবির বুকে হাত গুজে বারান্দার দরজায় দাড়িয়ে আছে।তার মানে আবির এতক্ষণ এই ঘরেই ছিলো,,,,

"আপনি আমার বোনের দিকে এগোচ্ছিলেন কেন ভাইয়া?"

চড়ুইয়ের কথায় তাসান তার দিকে তাকায়।তাসানকে অন্য রকম দৃষ্টিতে চড়ুইয়ের দিকে তাকাতে দেখে আবিরও তাকালো চড়ুইয়ের দিকে।মানেটাও বুঝে গেলো।চড়ুইয়ের পরনে একটা ফ্লাজু আর পাতলা সুতির টপস।ওরনার ও টুকুও নেই।সিল্কি চুপ গুলোতে দুটো বেনি করল সামনে দুপাশে ঝুলিয়ে রাখা। আবির একবার দোয়েলের দিকে তাকালো,,,নাহ, দোয়েল ঠিকই আছে আবির চড়ুইকে বললো....

"বারান্দায় যাও চড়ুই পাখি..."

চড়ুই ভ্রু কুচকে বললো...

"কেন?আমি থাকলে কি সমস্যা? "

আবির একটু ধমকে স্বরে বললো..."তোমাকে যেতে বলেছি আমি।"

চড়ুই ভয় পেলো একটু,,তাই তো টু শব্দও না করে চলে গেলো বারান্দায়।আবির এবার তাকালো তাসানের দিকে।তারপর বললো...

"তুমি বলবে?নাকি আমিই বলাবো?"

তাসান হাসলো...

"বাহ,,আবির ভাই?আপনি তো দেখছি পাক্কা প্লেয়ার,,,, এত রাতে আপনি এই ঘরে??"

"সেটা তুমি বলবে,,,তুমি এই ঘরে কি করছো?,,এখন তো তোমার এখানে থাকার কথা নয়।আর বড়পাখির দিকে কেন এগোচ্ছিলে?,,,,শুনে রাখো তাসান,,,উলটো পালটা কিছু করেছো তো,,,তোমাদের একদিন কি আমার একদিন।এমনিতেই তোমার বোনদের সাথে আমার অনেক বোঝাপড়া আছে।তাই শুধু শুধু নিজের বিপদ বাড়িও না।,,,,আর হ্যা,,,পাখিদের থেকে দুরে থাকবে যতদিন এই বাড়িতে আছো।ইটস ওয়ার্নিং।"

তাসান বিশ্রী একটা হাসি দিলো,,,...

"আমার কথা পরে বলুন আবির ভাই।আগে নিজের কথা বলুন,, এত রাতে এই ঘরে,,,কোন পাখির সাথে রঙ্গলিলা করছেন শুনি?ঐ পাখিটার ওরনা কি আগে থেকেই ছিলো না?নাকি আপনিই উদাহ করলেন শুনি?"

আবির চেচিয়ে উঠলো...

"স্যাট আপ,,,আর একটাও বাজে কথা নয়।গেট আউট ফ্রম হিয়ার।"

তাসান সেই হাসি নিয়ে একবার দোয়েলের দিকে তাকালো,,তারপর দুলতে দুলতে চলে গেলো।,,,,দোয়েল চোখ মুখ কুচকে তাকিয়ে আছে তাসানের দিকে,,,কি বাজে ছেলেরে বাবাহ,,,",,আবির বললো...

"বড় পাখি,,,,ওরা খুবই নিকৃষ্ট মাইন্ডের।নেহাত আত্মীয় আর জিসান ভাইয়ের বিয়ে বলে কিছু করতে পারছি না।তোমরা একটু সাবধানে থেকো।চড়ুই পাখিকে বললে কিছুই বুঝবে না এসবের।তুমি যথেষ্ট ম্যাচিউর, তাই তোমাকেই বলছি।,,, "

"ঠিক আছে ভাইয়া"

আবির বেড়িয়ে যেতে নিয়ে বারান্দার দিকে তাকালো....

"ওকে বলো এসে ঘুমিয়ে পড়তে,,,অনেক রাত হয়েছে,,,কাল সকালে আবার কিছু শপিংয়ে যেতে হবে।,,, আর হ্যা,,এবার থেকে ঘুমানোর আগে ভেতর থেকে দরজাটা লক করে দিও।"

"জ্বী,,আচ্ছা ভাইয়া।"

আহির মুচকি হেসে বললো...

"হুম,,গুড নাইট"

"গুড নাইট ভাইয়া।"

*********

পর দিন সকাল ১০টায় আবার টুকটাক শপিংয়ে বের হলো ছোটরা।আজ আর বড়রা যায় নি মুলত পাখিদের শপিং হয়নি কাল।আর শপিংয়ে পর সবাই মিলে রেস্টুরেন্টে যাবে ঠিক করলো।পাখিরা যেতে চাইছিলো না আজ।তবে জিসান ইমোসনাল ব্ল্যাকমেইল করায় রাজি হতে হলে তাদের।ড্রাইভ করছে জিসান,,পাশেই আছে বিপাসা।তাদের পেছনের সিটে উঠে বসলো তাসান,রবিন আর ওমর।পেছনে আরো দুই টা সারি আছে।তাসানদের পেছনের সারিতে একদম কোনায় বসলো নিবিড়।পাশে জেসি।আর পাখিরা,,,একদম শেষে বসলো আহিশ আর আবির।চড়ুই ঠিক মতো বসতে পারছে না চার জন হওয়ায়। তবুও সে জেদ ধরলো সে এখানেই বসবে।একদম পেছনে জানালা খোলা যায় না বলে সেখানটায় যাবে না।বাকি দেরও একই সমস্যা। তবে নিবিড়ও নাছোর বান্দা,,সে মুলত পাখিদের দের তাসানদের কাছে একা থাকতে দেবে না বলেই এই সিটে ঘাপটি মেরে বসে আছে।চড়ুই ইতোমধ্যে অনেক বার নিবিড় কে বকাবকি করে ফেললো,,কিন্তু সব সময়ই নিবিড় তা না না কৌশলে হেসে উড়িয়ে দিলো।গাড়ি স্টার্ট দিলো,,চড়ুই আউচ বলে উঠলো,,, কারন সে সামনের দিকে ঝুকে পড়তে লাগলো,,ঠিক মতো না বসতে পারার কারনেই এমনটা হয়েছে।নিবিড় হেসে বললো....

"ছোট পাখি,,,তুমি হালকা,,,একটু পরেই পরে যাবে। এর থেকে ভালো হয় তুমি পেছনে গিয়ে বসো।"

চড়ুই জেদ বজায় রেখে বললো..

"শুনুন নিবিড় ভাইয়া,,,,আপনি যে পরিমান মোটা,,,একাই দুজনের জায়গা দখল করে আছেন।"

"কি বললা তুমি?আমি মোটা?সিরিয়াসলি?আমার ফিটনেসকে তোমার মোটা বলে মনে হয়?"

"হুম,তা নয় তো কি?এখানে আপনি, জিসান ভাইয়া আর এই ব্যবসার থলে তিনজনই মোটা।শুধু আমার আহিশবেবিটা একটু চিকন,,তাও বেশি না।"

জিসান ড্রাইভ করতে করতে বললো...

"ইটস নট ফেয়ার পাখি,,,,এই ফিটনেসের জন্য কত মেয়ে পাগল জানো?তোমার আহিশকে জিজ্ঞেস করো,,কোনো মেয়ে ওর পেছনে ঘোরে কিনা?"

চড়ুই এবার করুন সুরে বললো...

"আহারে,,,আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ভাবির জন্য,,, আচ্ছা বিপাসা ভাবি,,,"

বিপাসা উত্তর দিলো...

'"হুম পাখি বলো?'"

"তুমি কিভাবে জিসান ভাইয়ার সাথে থাকবে গো?একবারেই তো চ্যপটা হয়ে যাবে।"

চড়ুইয়ের কথায় সবাই হুহা করে হেসে দিলো। বিপাসা একটু অপ্রস্তুত হলো।কি বলবে ভেবে পেলো না। চড়ুই আবার বলতে শুরু করলো...

"বিপাসা ভাবি,,,আমি তো তোমার থেকে আরো চিকন,,আর খাটোও,,,একবার ভাবো তো আমার কপালে যদি এমন মোটা কেউ পড়ে,তাহলে তো আমি বাসর রাতেই ইন্তেকাল করবো।উপহ বাবাহ,,ভাবা যায়?মোটা বরের সাথে রোমাঞ্চ করতে গিয়ে চিপায় পরে মরলো বাচ্চা বউটা,,,,হেডলাইনটা তো টিভিতে জলজল করবে একদম।"

আবার হাসির রোল পড়লো।নিবিড় পেছনে তাকিয়ে আবিরকে বললো...

"ভাই,,ইয়ে কেয়া সুনরাহাহে হামলোগ,,,তেরা কেয়া হোগা ভাই?সোহাগরাতপেহি মেরি ভাবিকো মার দেগা তু?"

আবির রেগে বললো...

"একটা থাপ্পড় দেবো ধরে।চুপ থাক সালা।"

নিবিড় আবার বললো...

"সালা নয় ভাই,,বল ভায়েরা ভাই বুঝলি?"

এদের মজার কিছুই বুঝলো না চড়ুই।সে নিজ মনে বলে উঠলো...

"আরে ব্যবসার থলেকে কি জিজ্ঞেস করছেন?,উনার বউ তো রোমাঞ্চে মরবে না।উনার ঐ নেকড়েওয়ালা সবুজ চোখ আর রাগ দেখলেই বেচারি বউয়ের প্রান পাখি ফুরুৎ হয়ে যাবে।"

এতক্ষণে ওমর বলে উঠলো...

"তার মানে পাখির চিকন কাওকে দরকার।"

চড়ুই মানেটা না বুঝেই বললো...

"অবশ্যই "

রবিন বললো...

"বুঝলি তাসান,, পাখির কিন্তু তোকে হেব্বি লেগেছে মনে হয়।"

চড়ুই বোকার মতো বলে উঠলো....

"ওমাহ,,আমি কখন বললাম, আপনাদের আমার ভালল লেগেছে।সত্যিটা বলেই দিই তাহলে।।।শুনুন,,,আপনাদের তিন জনকেই আমার জঘন্য লেগেছে কাল থেকে।কি বিচ্ছিরী সাজ পোশাক গো আপনাদের।"

দোয়েল চড়ুইয়ের হাতে চাপ দিয়ে বললো...

"আহ বোন,,একটু অফ রাখ তোর বুলিটা। "

নিবিড় ফোড়ন কেটে বললো...

"নিজে তো কিছু বলবে না,,,বোনকেও বলতে দিবে না।,ছোট পাখি তুমি বলতে থাকো।ওহ সানিয়া,মুনিয়া তো এখানে নেই,,,ওদের না হয় মলে গিয়েই বলে দিও।"

এসব হাসি ঠাট্টার মাঝেই তারা পৌছে গেলো মলে।কেনা কাটাও করে নিলো।পাখিদের অজান্তেই আবির নিবিড় তাদের জন্য শপিং করালো জেসিকে দিয়ে। এরপর সবাই মিলে রেস্টুরেন্টে গেলো।খাওয়া দাওয়া শেষ করে গাড়িতে উঠতে গেলেই তাসান চড়ুইকে বললো....

"পাখি,,,তুমি চাইলে আমার কোলে বসতে পারো।আগের মতো কষ্ট করে বসার দরকার নেই।,,, "

আবির যাচ্ছিলল ড্রাইভিং সিটের দিকে।কারন এখন জিসান আর বিপাসা নেই,,,জিসান বিপাসাকে তার বাড়ি দিয়ে আসতে গেলো।তবে যোগ হয় সানিয়া আর মুনিয়া।কথাটা শুনে আবির পেছনে উঠতে উঠতে বললো....

"ভাই,,,তুই ড্রাইভ কর,,,আর বড় পাখি তুমি সামনে গিয়ে ভাইয়ের পাশে বসো।"

দোয়েল দ্বিমত করলো না,, কারন সে জানে আবির বলেছে মানে কোনো কারণ নিশ্চয় আছে।,,,এ কয়দিনে আবিরের প্রতি তার যথেষ্ট শ্রদ্ধাবোধ জন্মেছে।

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ১৩ গল্পের ছবি