Mr and Mrs Twins

পর্ব - ১১

🟢

"নেক্সট টাইম এসব পাগলামি করার আগে এই থাপ্পড়টার কথা মাথায় রাখবে।"

চড়ুই বুঝলো না কিছুই,,,গাল জ্বলছে,,,দিনটা আজ এতই খারাপ,, দুটো গালেই থাপ্পড় পড়লো, তাও কোনোটার থেকে কোনোটার জোর কম নাহ।,,আবির বলে উঠলো....

"এক মিনিট,,,ফোন কোথায়?বলো,,,ফোন কোথায়?"

চড়ুই আড় চোখে পাশে থাকা মিনি ব্যাগের দিকে তাকালো।আবির তা দেখে ব্যাগ থেকে ফোন টা বের করে চড়ুইয়ের মুখের সামনে ধরলো....

"৩৪৩টা কল,,,বাট একটা কলও রিসিভ করার সময় নেই"

চড়ুই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।এতো কল কে দিলো,,ভাবনার মাঝেই আবির ফোনটা ফ্লোরে ছুড়ে টুকরো টুকরো করে ফেললো।তারপর একবার চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে হনহন করে বেরিয়ে গেলো ক্লাস থেকে।চড়ুই সবার দিকে তাকালো,, সবাই তার দিকেই তাকিয়ে আছে,,,কিছু কিছু মেয়ে মুখ টিপে টিপে হাসছে।,,,,আচ্ছা, সানিয়া না হয় আমাকে চেনে না,তাই এমন করতে পারলো।কিন্তু উনি?উনি এটা করতে পারলো?""চোখ মুখ শক্ত করে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে চড়ুই।কিন্তু অন্তরটা ভারী হয়ে আসছে।বার বার বলছে কান্না কর চড়ুই,,কান্না কর,,,এখন কি করবে চড়ুই,,,পারলো না আটকাতে,,,চোখ থেকে এক ফোটা জল গড়িয়ে পরেই গেলো।শক্ত করে চেপে ধরলো মিনি ব্যাগটা।বেড়িয়ে যেতে যেতে একবার ভাঙা ফোনটির দিকে।তারপর আর না দাড়িয়ে দৌড়ে ক্লাস ছাড়লো চড়ুই।রাস্তায় আসতেই পেছন থেকে আবির চড়ুইয়ের বাহু চেপে নিজের দিকে ঘোরালো।এক মুহূর্ত তাকিয়ে চড়ুইকে টেনে তুললো গাড়িতে।এরপর ঝুকে সিটবেল্ট লাগিয়ে দিলো।নিজে এসে বসলো ড্রাইভিং সিটে।লাল চোখ নিয়েই ড্রাইভ করতে লাগলো।চড়ুইও কিছু বললো না,,,,চুপ করে আছে।কান্না আটকানোর চেষ্টায় আছে।সে কোনো ভাবেই কাদতে চায় না।কিন্তু পারছে না কেন,,,উপহ,,এই চোখ গুলোও না,,যখন তখন পানি ঝড়ায়।বাইরে তাকিয়েই নিরবে কাদছে চড়ুই।,,,,,,প্রায় ১৫ মিনিট হয়ে গেলো।আবির ড্রাইভ করছে।একটু পর পর আড় চোখে চড়ুইয়ের দিকে তাকাচ্ছে।,,,,,,

"কেন এমন করো চড়ুই পাখি?কেন তুমি বন্দী থেকে উড়তে চাও,,,তোমাকে তো আমি বন্ধি রেখেও সম্পুর্ন স্বাধীনতা দিতে চেয়েছি।তাও তুমি কেন এমন কাজ করো,, জানোনা?আমার কতটা হৃদয় পুড়ে তোমায় না দেখলে? অন্তর ফেটে রক্ত ক্ষরণ হয় আমার।তাই তো পারিনি নিজেকে সামলাতে,,,আঘাত করবো না বলেও করল ফেলেছি।কি করবো আমি?ঠিক ছিলাম না তখন আমি,,,পারিনি নিজেকে সামলাতে,,,,কিন্তু,,, এখন,,,তুমি এভাবে নিরবে আমার সামনেই কাদছো?সহ্য হচ্ছে না আমার।দম আটকে আসছে,,অস্থির লাগছে খুব।।"

খুব ইচ্ছে করছে কথা গুলো তার চড়ুই পাখি কে বলতে,,,কিন্তু পারলো না আবির।মনের কথা গুলো মনেই আওড়ালো।,,, হঠাৎ খুব জোরে ব্রেক করলো আবির।চড়ুই একটু সামনে ঝুকে গিয়েও বেচে গেলো সিট বেল্টের কারনে।,,,আবির সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করলো।কিছুক্ষণ পর ঐ অবস্থায় থেকেই বললো....

"মল থেকে না বলে কেন চলে এলে?"

চড়ুই উত্তর দিলো না।নিচের দিকে তাকিয়ে আছে আর কিছুক্ষণ পর পর চোখ মুছছে। নাক টানার আওয়াজটা বারবার কানে লাগছে আবিরের।,,,,চোখ মেলে তাকালো চড়ুইয়ের দিকে।এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো কান্নারত চড়ুই পাখির দিকে।তারপর হঠাৎ চড়ুইয়ের সিট বেল্ট খুললো।হেচকা টানে নিজের বুকের উপর ফেললো চড়ুইকে।চড়ুই ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করছে।আবির বাম হাত দিয়ে চড়ুইয়ের মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরলো।তারপর নিজের মুখটা চড়ুইয়ের কানের কাছে নিয়ে "" হুসসসস""উচ্চারন করতেই চড়ুই শান্ত হয়ে গেলো।লেপ্টে রইলো আবিরের বুকে।আবির এক হাত দিয়ে ড্রাইভিং করতে শুরু করে দিয়েছে।,,,,, সারাটা রাস্তা এভাবেই ছিলো ওরা।বাড়ির গেইট দিয়ে গাড়ি ঢুকলো।গাড়ি থামতেই আবির চড়ুইকে ছেরে দিয়ে নেমে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো।একবারও ফিরে তাকালো না চড়ুইয়ের দিকে।সে দিকে কিছুক্ষণ অপলক চেয়ে রইলো চড়ুই।তারপর নিঃশব্দে নেমে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো।তেমন কেউই নেই সার্ভেন্টরা ছাড়া।আবিরকেও দেখা যাচ্ছে না।তাই কাউকে কিছু না বলেই নিজের রুমে চলে আসলো চড়ুই।ঘন্টা খানেক সময় নিয়ে শাওয়ার নিলো।বের হয়ে বেলকনিতে গিয়ে দোলনাটায় বসে রইলো,,,ভাবছে সে,,,অনেক কিছুই ভাবছে,,অন্তস্থল থেকে ভাবনা গুলো নাড়া দিয়ে উঠছে।অনেকক্ষণ পরে একজন সার্ভেন্ট এসে খাবার দিয়ে গেলে।খেতে নিলেই অনুভব করছে তার দু গালই অসম্ভব ব্যথা করছে,,নাড়ানো যাচ্ছে না একদম।ক্ষিদে পেয়েছে বিধায় কোনো রকম দুটো খেয়ে রেখে দিলো সে।এরপর খাটের এক কোনায় গুটিসুটি হয়ে সুয়ে রইলো।,,,,

শপিং শেষে বাড়ি ফিরলো সবাই।বড়রা চড়ুইয়ের কথা জিজ্ঞেস করতেই সবাই বললো আবিরের সাথে বাড়ি চলে গেছে।আবির একটু আগেই জানালো চড়ুইকে পাওয়া গেছে।,,,,,,দোয়েল রুমে ঢুকলো নি:শব্দে। খাটের উপর ওদিক ফিরে সুয়ে আছে চড়ুই।দোয়েলকে চোখে পড়েনি বললেই চলে।দোয়েল ভাবলো ঘুমিয়ে আছে চড়ুই।তাই একটা নি:শ্বাস ফেলে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে চেঞ্জ করে নিলো।একটা সুতির টপস আর ফ্লাজু পরে নিলো।চড়ুই এখনো আগের মতোই শুয়ে আছে।দোয়েল ভাবলো....

"বোন তো ঘুমের মধ্যে প্রচুর নড়াচড়া করে।তাহলে আজ এভাবে...."

আর ভাবলো না দোয়েল।মাথাটা উচু করে চড়ুইয়ের মুখের দিকে তাকালো।দেখলো,,চড়ুইয়ের চোখ দুটো স্থীর জানালার দিকে।দুচোখ লাল হয়ে ফুলে আছে।দোয়েলের মনে আছড় কাটলো।তার বোনটা যে আজ কষ্ট পেয়েছে।,,,,,দোয়েল খাটে উঠে বসলো।চড়ুইকে নিজের দিকে ঘোরালো,,, চড়ুই দোয়েলকে দেখে উঠে বসলো।,,,,,দোয়েল ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলো চড়ুইয়ের ফুলে যাওয়া গালের দিকে।দোয়েল আলতো করে চড়ুইয়ের দুগালে হাত রাখলো।ভাঙা কন্ঠে বললো....

"কেন ওদের সাথে এমন করে কথা বলতে গেলি বোন?সবাই তো বাচ্চামো বোঝে না,,,কেন এখন নিজে নিজে এত কষ্ট পাচ্ছিস?"

এই একটা কথাই যথেষ্ট ছিলো চড়ুইয়ের এতক্ষণের আটকে রাখা কান্নার বাধ ভাঙাতে।,,,,,ঝাপটে ধরলো দোয়েলকে,,,হাউমাউ করে কাদতে শুরু করলো।দোয়েলও বোনকে জড়িয়ে ধরলো।...."আমার খুব কষ্ট হচ্ছে বোন,,,গাল গুলো ব্যথায় ছিড়ে যাচ্ছে। শরীরটাও অবশ হয়ে আসছে।ভালো লাগছে না বোন,,আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না।"

চড়ুইয়ের কান্নারত কথা গুলো শুনে দোয়েলের বুক ছিরে কান্না আসছে।সে বললো...

"কিচ্ছু হবে না বোন।আমি ব্যথার ঔষধ দিয়ে দিবো তোকে,, দেখবি ঠিক হয়ে যাবে।"

চড়ুই হিচকি তুলতে তুলতে বললো.....

"ব্ বোন,,,আজ যদি আমাদের মা বেচে থাকতো,,,আমাদের কাছে থাকতো,তাহলে এমনটা হতো না তাই না?আমাকে এভাবে এত মানুষের সামনে থাপ্পড় মারতে পারতো না তাই না?মা ঠিকই আমাকে আগলে নিতো।মারতে দিতো না তাই না?,,,,"

অন্তরটা নড়ে উঠলো দোয়েলের। আর পারলো না কান্না আটকাতে।চোখের পানি ছেড়ে দিলো।,,,তাদের দুবোনের মা নামক অপূর্ণতা টা যে কখনোই পূরন হওয়ার নয়।এখন কিভাবে সামলাবে তার বোনটাকে,,,এই একটা দিকে সে যে নিজেই দুর্বল হয়ে যায়।চড়ুই বলেই যাচ্ছে...

"বোন,,,মা কেন চলে গেলো বলনা?চলেই যখন যাবে তাহলে আমাদের কেন রেখে গেলো বলতো?কেন আমাদের সারাটা জীবন এমন বিভীষিকাময় করে গেলো।বল না বোন?কেন আমাদের তার মাতৃত্বের সুখ দিলো না?কেন আমরা বাকি সবার মতো বাচতে পারি না,,,কেন,কেন,,আমি থাকতে চাইনা এই দুনিয়ায়,, আল্লাহ কে বলনা বোন আমাকে নিয়ে যেতে?বলনা একটু বোন,,,""

দোয়েল আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো বোনকে।দুজনই কাদছে।একের দু:খ অপরকে নিঙ্গড়িয়ে দিচ্ছে। দোয়েল কি বলবে বুঝতে পারছে না।কিছুই যে বলার নেই তার।চড়ুইয়ের করা প্রশ্ন গুলোর উত্তর যে সেও জানতে চায়।খুব করে চায় কেউ এসে তাদের প্রশ্নের জবাব দিক।কিন্তু তা যে কখনোই সম্ভব নয়।,,,,,,,,,,,,

""""""""""

দরজার বাইরে নিস্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে আবির,নিবিড়, আহিশ।এতক্ষণ সবটাই দেখেছে এরা।এখন তিন জনের মনেই তিন রকম ভাবনা চলছে।আবিরের বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আজ সে নিজের একটু রাগের জন্য তার চড়ুই পাখির মনে এতটা আঘাত করে ফেললো,,,এটা কি করে করতে পারলো সে,,,কিকরে এতটা কেয়ারলেস হলো সে?,,,,,আর দাড়িয়ে থাকতে পারলো না আবির,,বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে গেলো রুমে।চড়ুইকে দোয়েলের থেকে ছাড়িয়ে নিজের বুকে ঝাপটে ধরলো সে।অন্তরটা এখনো কাপছে তার,,ইচ্ছে করছে এক্ষুনি তার চড়ুই পাখিকে বুকের ভেতর ভরে রাখতে।চড়ুই পাখির সব দু:খ ভুলিয়ে দিতে। কিন্তু পারছে না সে।,, কোনো ভাবেই পারছে না।,,,,,,,,নিবিড় দারালো না,,,লাল লাল চোখ নিয়ে চলে গেলো নিজের রুমে।আহিশ?সে কাদছে,,,ভীষণ কাদছে,,,ছেলেদের নাকি সহজে কান্না আসে না,,,কিন্তু সে তো কাদছে।তার পাখিদের যন্ত্রণায় সেও কাদছে।আচ্ছা তাদের বন্ধুত্বটা এতটা গভীর কবে হলো?,,সবাই বলে কলেজ লাইফে নাকি বন্ধুত্ব হয় না,,,কিন্তু আহিশ অনুভব করছে,,যে তাদের এই কলেজ লাইফের বন্ধুত্বটা অনেক স্ট্রং,,যা সে স্কুল লাইফেও পায়নি।,,,,,দরজার পাশেই দেয়াল ঘেসে বসে পরলো আহিশ।মাথার চুল খামছে ধরলো,,নিচের দিকে তাকিয়ে বিরবির করছে....

"আমি পারিনি,,পারিনি আমি পাখিদের সুখে রাখতে,,,ওরা কষ্ট পাচ্ছে। আমার বাড়ি এসে ওরা আগের থেকেও বেশি কষ্ট পাচ্ছে। কি করেছি আমি,,,কেন এনেছি পাখিদের।কাকাইকে আমি কি জবাব দেবো?পাখিদের কিকরে সামলাবো?"" কি করেহ?"

""""""""""''""""

চড়ুই নিজেকে ছারাতে পারছে না।আবির যে শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে।দোয়েল তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে।বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে। আবির চোখ বন্ধ করে এ অবস্থায় থেকেই বলে উঠলো...

"সরি চড়ুই পাখি,,আম রিয়েলি ভেরি সরি।আমি তোমায় কষ্ট দিয়েছি।মেরেছি তোমায়,,,তততুমি আমায় শাস্তি দাও চড়ুই পাখি,,,আমায় মারো তুমি।আমি আর কখনো তোমায় হার্ট করবো না,,প্রমিস করছি,,আর কক্ষনো নাহ,,,প্লিজ চড়ুই পাখি,,এভাবে কেদো না।আমি সহ্য করতে পারছি না।প্লিজ, কান্না থামাও।,,প্লিজ।"

চড়ুই হিচকি তুলতে তুলতে বললো....

"ছ, ছাড়ুন আমায়।"

"নাহ,,ছাড়বো না,,আগে কান্না থামাও তুমি,, না হলে একদম ছাড়বো না।"

"ক্ করছি না তো কান্না,, এবার ছাড়ুন আমায়।"

আবির চোখ বন্ধ করে একটা ঢোক গিললো।তারপর আস্তে করে চড়ুইকে ছাড়লো,,আলতো করে চড়ুইয়ের গালে নিজের হাত দুটো রাখলো।তাকিয়ে রইলো চড়ুইয়ের গালের দিকে।চড়ুইও তাকালো তার দিকে।নড়ছে না সে।শান্ত হয়ে দাড়িয়ে রইলো।,,,,,,,দোয়েল চোখের পানি মুছে নিরবে হাসলো।এতদিন তার একটু সন্দেহ হয়েছে আবিরের প্রতি। কিন্তু সিওর ছিলো নাহ।তবে এখন সে একদম সিওর হয়ে গেলো,যে আবির চড়ুইয়ের প্রতি দূর্বল। একয় দিনে আবির নিবিড়কে কিছুটা হলেও চিনেছে সে।মজা করলেও যথেষ্ট দায়িত্বশীল দুজনই।দোয়েল জানে,,আবিরের কাছে তার বোন ভালো থাকবে।আবিরও পারবে তার বোনকে সামলাতে।এই যে এখন তার বোনটির কান্না থামিয়ে দিলো কেমন পাগলামি করে।,,,দোয়েল দাড়ালো না আর,চড়ুইয়ের জন্য মেডিসিন আনতে হবে।নিবিড়ের কাছে গিয়ে দেখবে ব্যথার কোনো মেডিসিন আছে কিনা।দোয়েলের নিজেরও শরীর কিছুটা ব্যথা করছে।জমজ হওয়ার কারনে একজনের কিছু হলে আরেকজনের উপর এর কিছুটা হলেও প্রভাব পরে।তা দোয়েল জানে।নি:শব্দে বেরিয়ে গেলো সে।,,,,,,,,,,,

"খুব জোরে লেগেছে তাই না?"

আবিরের কথায় আবারও কষ্টেরা হানা দিলো চড়ুইয়ের মনে।নিচের দিকে চোখ নামিয়ে নিলো।আবির নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে গালে স্লাইড করতে করতে বললো....

"সরি চড়ুই পাখি,,আর জীবনেও এমনটা করবো না।প্লিজ রাগ করে না।"

চড়ুই ঠোট ফুলিয়ে বললো...

"সবার সামনে চড় মেরে এখন সিমপ্যাথি দেখাচ্ছে। লাগবে না আমার এমন সিমপ্যাথি।চলে যান এখন।"

আবির চড়ুইয়ের মুখ নিজের আরেকটু কাছে টেনে নিলো...

"এত অভিমান হয়েছে আমার চড়ুই পাখির?,,,তাকাবে না আমার দিকে?"

চড়ুই বাচ্চাদের মতো দু দিকে মাথা নাড়িয়ে না জানালো।আবির একটু হাসলো চড়ুইয়ের এমন কান্ডে,,তারপর বললো....

"ওকেয়,,তাকাতে হবে না,,আমিই তাকিয়ে থাকি,,,,"

চড়ুই কিছু বললো না।কিছুক্ষণ পর আবির ভ্রু কুচকে বললো....

"ওয়েট,,আমি তোমায় একটা থাপ্পড় দিয়েছি।তাহলে তোমার অন্য গালেও আঙুলের ছাপ কেন?"

চড়ুই চকিত নজরে তাকালো আবিরের দিকে।ও গালে যে সানিয়া মেরেছে।সেটা কি বলবে সে আবিরকে?,,,

"কি হলো,,বলছো না কেন?,,আর তুমি তখন ওভাবে মল থেকে কোচিংয়ে গেলে কেন?,,"

চড়ুই কাপা কন্ঠ নিয়ে বললো...

"ভ্ ভালো লাগছিলো না তাই।,,"

"তোমরা তো এই এক মাস কোচিং অফ রাখবে জানিয়ে ছিলে,,তাহলে ওখানে কেন গেলে?"

"আর কোনো জায়গার কথা তখন মাথায় আসে নি।"

"এতগুলো কল,,,রিসিভ করো নি কেন?"

চড়ুইয়ের মনে পড়লো,,তার ১১ হাজার টাকার ফোন আর নেই।কষ্ট পেলো সে।ঠোট ফুলিয়ে বললো....

"সাইলেন্ট ছিলো তো ক্লাসে,,তাই দেখিই নি।,,কিন্তু আপনি কি করলেন?আমার ফোনটা ভেঙে দিলেন?একদম ভালো করেন নি আপনি,,,কাকাই এখন আমাকে আবার ফোন কিনে দেওয়া লাগবে।" হুহ,,,খুব বাজে আপনি।""

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ১১ গল্পের ছবি