Mr and Mrs Twins

পর্ব - ৬

🟢

"আমাদের বাড়ি কখন যাচ্ছেন, বেয়াই সাহেব? "

আজমলের কথায় চমকে তার দিকে তাকালো আমোজ।এত কথার পরেও এরা তার আম্মুদের চাইছে?তার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। আজমল আবার বললেন...

"আপনাকে একটা কথা বলি বেয়াই সাহেব। আমার ওয়াইফ,মানে আবির আর নিবিড়ের মায়ের বড্ড ইচ্ছে তার এই ছেলে দুটোর জন্য তাদের মতোই জমজ মেয়ে খুজে আনবে।আমাদের কোনো মেয়ে নেই ভাই।তাই আমরা দুজনই বড্ড আশা নিয়ে বসে আছি ছেলের বউদের দিয়ে নিজেদের মেয়ের স্বাদ মেটাবো।হয়তো তাদের ছোট থেকে দেখিনি আমরা।কিন্তু আমরা মেয়েদের আগলে রাখার চেষ্টা করবো।আপনার মেয়েরা আমাদের বাড়িতে যথেষ্ট সম্মান পাবে।আমরা কখনোি ওদের সাংসারিক ঘরকন্যা হিসেবে দেখতে চাই না।নিজেদের মেয়ে বানিয়ে রাখতে চাই।ওরা যথেষ্ট বড় হয়েছে।নিজেদের বুঝতে পারছে...... "

কথার মাঝেই নিবিড় বললো...

"মোটেই না আব্বু।তোমার বৌমারা এখনো যথেষ্ট ছোট।তুমি কথা বলোনি তাই বুঝতে পারছো না।তাই ছোট বেলার আদরটা এখনো পুসিয়ে দিতে পারো।"

আমোজ হাসলো এতক্ষণে...

"আমি বুঝতে পারছি মি:আজমল,,,আপনার ছেলে কি বোঝাতে চাইছে।আসলে আমার আম্মুরা অনেকটাই অবুঝ। বিষেশ করে চড়ুই।আমি চাইলেই ওদের বাস্তবতা বুঝিয়ে অন্য মেয়েদের মতো গড়ে তুলতে পারতাম।কিন্তু আমি তা করিনি।আমি চেয়েছি আমার আম্মুরা নিজেদের সত্তায় বাচুক।সময় হলে ওরা নিজেরাই বুঝদার হবে।আর না হলেও আমার কোনো সমস্যা নেই।ওদের এমন হাসি খুশি, প্রানবন্ত দেখতেই ভালো লাগে আমার।তবে সেটা যে সবার পছন্দ হবে না সেটাও আমি জানি।কিন্তু আমি চাইলেও ওদের বদলাতে পারি না।এমনিতেই জন্মের পর থেকে ওরা সাধারণ ভাবে বেড়ে উঠেনি।কেউ ওদের হাতের আঙুল ধরে হাটা শেখায়নি।পড়ে গেলে কেউ টেনে তুলেনি।নিজেরা একাই হাটতে শিখেছে।কথা বলতে শিখেছে।কষ্ট কাকে বলে তা জীবনের প্রথম ধাপেই চিনে ফেলেছে।তবুও ওরা বাচতে চায়,,,নিজেদের জন্য বাচতে চায়।প্রানবন্ত থেকো নিজেদের অতীত ভুলতে চায়।তাই আমি চাই না ওদের এই প্রানবন্ত ভাবটা ঢেকে দিয়ে আবারও ওদের অতীত খুচিয়ে তুলতে।এতে যে আমার আম্মু গুলো বেচে থাকার কারনটাই হারিয়ে ফেলবে।কিন্তু আমি তো তা চাইনা।আমি চাইনা ওরা চলে যাক।ওদের তো দেখতে হবে এই পুরো দুনিয়াটা।তা না হলে বুঝবে কি করে যে দুনিয়াতে আরো অনেক নিষ্ঠুরেরা আছে যাদের অত্যাচারে মানুষ আমার আম্মুদের থেকেও অসহায়।নাহলে যে আমার আম্মুরা নিজেদের কষ্ট ভুলতে পারবে না আজীবন।,, "

আবারও নিস্তব্ধতা। কিছুক্ষণ পরেই আবির আমোজের কাধে হাত দিয়ে আস্বস্ত করে বললো....

"কাকাই,,আমি জানি তুমি আমাদের আজকেই দেখেছো।তাই আমাদের প্রতি তোমার বিশ্বাসটা এখনো নড়বড়ে।তবুও বলছি।কখনো তোমার আম্মুদের প্রানবন্ততা হারাতে দেবো না।নিজের সবটা দিয়ে তা টিকিয়ে রাখবো। শুধু একটি বার ভরসা করো আমাদের,, তোমার আম্মুদের ভরসা, বিশ্বাস, সুরক্ষা সব হয়ে দেখিয়ে দেবো।নিজের দেহে যতক্ষণ প্রান থাকবে ততক্ষণ তোমার আম্মুদের আগলে রাখার চেষ্টা করবো আমরা।ভরসা করবে তুমি আমাদের?"

আমোজ ছলছল চোখে আবিরের হাতখানা নিজের দুহাত দিয়ে চেপে ধরে বললো...

"আমার দোয়া মনে হয় কবুল করেছে আল্লাহ।আমি আমার আম্মুদের রক্ষাকবজ পেয়ে গেছি।আমার আম্মুদের কাছে তোমাদের পাঠিয়েছে আল্লাহ।,,,,"

এতটুকু বলেই হঠাৎ চমকে বলে উঠলো....

"আচ্ছা বাবা?,,আমার আম্মুরা কি জানে এসব কিছু?"

আবির হালকা হাসলো,,,তারপর নিজের হাত খানা আমোজের থেকে ছারিয়ে তার ডান হাত ধরে বললো....

"তোমার আম্মুরা যে বড্ড অবুজ,,, কাকাই।বোঝার মতো সক্ষমতা যে তাদের হয়নি এখনো।তবে তুমি চিন্তা করো না,,যদি কখনো তোমার আম্মুরা কোনো পুরুষের জন্য নিজেদের অন্যরকম অনুভূতি গুলো অনুভব করে তাহলে সেই ভাগ্যবান পুরুষ আমরাই হবো।আমি তোমার কাছে এসব কথা কোনো প্রকার হেজিটেইড ছাড়াই বলছি কারন তুমি এসব বুঝবে।আফটার অল তুমিও কাউকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছো।,,,হয়তো ভাবছো আমার আব্বুদের সামনে কিভাবে বলছি?কারন এখানে উপস্থিত সবারই লাভ ম্যারেজ।আর আমাদের ফ্যামিলিটা এমনই বুঝলে?কোনো রকম হেজিটেইড ছাড়া সবার সাথে সব কিছুই শেয়ার করা যায়।,,,তুমি গেলেই বুঝতে পারবে।"

বলেই মিষ্টি হাসলো আবির।,,আমোজ আবিরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো,,,আর বললো...

"কে বলবে?এই ছেলে দুটো এত বড় একটা বিজনেজ সামলায়?,,,বুজলে বাবা?তোমাদের এই সরল রুপটা বাইরের কারোর সামনে প্রকাশ করো না যেন।লোকে সুযোগ লুফে নিবে যে।,,,"

আরিফ বললো...

"আমাদের ছেলেরা যথেষ্ট বিচক্ষণ বুজলেন বেয়াই সাহেব। ওরা মোটেও এমন ভোলাভালা নয়।,,,"

আবির বললো....

"তোমাকে কিন্তু আপন ভেবে নিজের ভিতরকার রুপটা দেখিয়ে ফেলেছি।দেখো আবার এমন সরল রুপ দেখে মেয়ে দিতে পিছ পা হইও না যেন।তাহলে কিন্তু তোমার মেয়েদের তুলে নিয়ে আসবো বলে দিলাম।আমরা কিন্তু এসব বেআাইনি কাজও করতে পারি।সোজা কিডনাপ করবো তোমার আম্মুদের। "

আবিরের এমন কথায় হাহা করে হেসে দিলো উপস্থিত সবাই।তার মাঝেই নিবিড় আমোজের কাছে এগোতে এগোতে বললো...

"দেখি কাকাই,,আমাকেও একটু আদর করে দাও তো।সব আদরকি ভাই একাই পাবে নাকি,,,এমনিতেই আজ তোমার আম্মুদের বিধ্বংসী রূপ দেখে ডিপ্রেশনে আছি।"

আমোজ হাসি মুখে নিবিড়ের মাথায়ও হাত বুলিয়ে দিলো।,,,

-----------------------

★★২২ দিন পর★★

বেল বাজতেই লতা খালা গিয়ে দরজা খুলে দিলো। ভেতরে প্রবেশ করলো আবির, নিবিড় আর আহিশ।আহিশ বললো...

"কেমন আছো খালা??"

"এই তো আব্বাজান বেশ আছি।,,,তা এই সময় তুমি?আর সাথে এরা কারা?"

আহিশ একটু ফিসফিস করে বললো...

"তোমার দুই আম্মাজানের হবু বর।বুঝলে??দেখ তো কেমন দেখতে?"

লতা গদগদ হয়ে বললো...

"মাশাল্লাহ,,, অনেক সুন্দর,,, তা কোন আম্মাজানের বর ওরা?"

"সব বলবো তবে এখন না,,,তো কি করছিলে তুমি?"

"এইতো, ওদের লাইগা রান্না বসাইতে ছিলাম।বেলা ১২ বাইজা গেলো এখনো কিছু করবার পারি নাই।,,"

"উপহ খালা,একদম ভালো করছো।এখন তোমার কিচ্ছু করা লাগবেও না।ছুটি তোমার বুঝলে,,,এবার বলো তো বিচ্ছু গুলো কোথায়??"

"কেয়া আর রাবতি আম্মা তো সেই সকালের ট্রেনে রওনা হইলে।কইলো যে ১ মাস আগে আইবার পারবো না। দোয়েল আম্মা ডান পাশের রুমে আছে।একটু আগেই চা নিয়ে ঢুকলো।আর চড়ুই আম্মা বাম পাশের রুমে,,,এহনো উঠে নাই,,ডাকতে গেছি আর কইলো..." খালা,,ঘুমাইতে দাও,,পরিক্ষা শেষ এখন আমি সারাদিন ঘুমাবো।",,,

"বুঝলাম।,,,তো তুমি আর থেকে কি করবা,,, বাড়ি যাও,,গিয়ে খালুকে একটু সময় দাও বুঝলে?"

"কি যে কও না আব্বাজান।।রাহো তোমার এইসব কথা,,,আমি গেলাম তাইলে আজ"

"হুম,আর আগামী এক মাসই তোমার ছুটি।ওরাও আজ চলে যাবে।"

" আইচ্ছা ঠিক আছে।আমি গেলাম তাহলে?"

"হুম,,,ভালে থেকো "

লতা খালা চলে গেলো।আহিশ গিয়ে সোফায় বসে বললো...

"আমার কাজ শেষ,, এবার তোমরা গিয়ে নিজের বউকে যাওয়ার জন্য রাজি করিয়ে আনো।আমি আর পারবো না,,,,মার খাওয়ার ইচ্ছে নেই আর।,,,"

নিবিড় বললো....আমরাই যাচ্ছি। বলেই দোয়েল যেখানে আছে সেই রুমে ঢুকলো।ফ্ল্যাটটায় দুটো বেড রুম, একটা ড্রয়িং রুম, একটা কিচেন, আর একটাই ওয়াশরুম আছে। আবির বাম পাশের রুমের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে আহিশ বলে উঠলো...

"আরে আরে আবির ভাই।তুমি কোথায় যাচ্ছো? তোমার তো লাভ এট ফার্স্ট সাইট হলো না?তাহলে?,আর চড়ুই তো ঘুমায়?"

"তাকে উঠিয়ে সোজা করার ট্রিক্স দিতে যাচ্ছি। যা গিয়ে পাতিহাঁসটার জন্য কিছু খাবার রেডি কর।উঠে খেয়ে নিবে,,,"

"বাবাহ,,,এত ভালুপাসা??,,তা কবে থেকে হুম??ঐ দিন চার তলায় সুযোগ নিয়েছিলে নাকি হুম??"

"স্যাট আপ।যা বলেছি তা কর গিয়ে।"

বলেই হনহন করে চড়ুইয়ের রুমে গেলো।

-----এদিকে নিবিড় রুমে গিয়ে দেখলো নিচে তোষক দিয়ে একটা বিছানা পাতা।কোনো খাট নেই।কিন্তু সেখানে দোয়েল নেই।কোথায় গেলো মিস এটম??,,,ভেবেই দেখলো রুমে একটা বেলকানি। নিবিড় ধীর পায়ে সেদিকে এগিয়ে গেলো,,,,দরজার সামনে যেতেই দোয়েলকে চোখে পরলো নিবিড়ের।খেয়াল করলো বেলকানিতেও একটা সিঙ্গেল বিছানা পাতা মেঝেতে।সেখানেই বসে আছে দোয়েল,,,হাতে একটা বই,,, নিবিড় নামটা খেয়াল করলো,,,"সবাই গেছে বনে",,নিচে ছোট্ট করে লেখা "হুমায়ুন আহমেদ ",,,,,,, তা দেখেই নিবিড় হেসে বলে উঠলো....

" বাহ,,,কলেজের বই ছাড়া রোমান্টিক উপন্যাসও পড়া হয় দেখছি।,,,,"

কারো কন্ঠে দোয়েল চমকে তাকালো বেলকনির দরজার দিকে,,,, একি,,,এতো সেই টুইন্সের একজন।,,,তেতে উঠলো দোয়েল।ঠাস করে বই টা বন্ধ করে উঠে দাড়াতে গেলেই নিবিড় এগিয়ে আসতে আসতে বলে উঠলো....

"ওয়েট ওয়েট।উঠতে হবে না মিস এটম।আমিই আসছি।"

বলেই নিজে এসে দোয়েলের পাশে বসলো।দোয়েল আবারও উঠতে গেলে নিবিড় তার হাত ধরে টান দিয়ে একটু জোর করে বললো.....

"আরে বসো তোহ,,,,খালি এটম বোমের মতো রাগ করা।বসো,,,কথা আছে তোমার সাথে।"ইচ্ছে না থাকার সত্বেও বসে পড়লো দোয়েল।নিবিরও পা ভাজ করে একদম বাবু হয়ে বসলো....

"বাসায় যাওনি কেন?"

দোয়েল বিরক্ত নিয়ে বললো...

"তা আপনি জেনে কি করবেন?"

"সেটা তোমার না জানলেও চলবে।বলো?"

"ইচ্ছে হয়নি তাই যাই নি।"

"এতদিন একা থাকতে পারবে?"

"একা কোথায়,, বোন আছে না?"

"হুম,,তোমরা দুজনই তো একই ড্রেনের পানি।"

"ঐ কি বললেন??"

"সরি সরি,, বোম হয়না জানু,,,আমি তো এমনি বললাম"

"আবার কি বললেন আপনি?"

"উপস,সরি এগেইন।আসলে জি এফ কে ডাকতে ডাকতে অভ্যাস হয়ে গেছে।সরি"

"ইটস ওকেয়।বাট আপনি এখানে কি করে? আর কি দরকার আপনার?"

"বলছি,,সবই বলছি।তার আগে বলো,,,এই প্ল্যাটের সম্পর্কে কতটুকু জানো?আমি আগেও এসেছি কয়েকবার এখানে।"

"কয়েক বার মানে?"

"হাইপার হচ্ছো কেন মিস এটম।আপনাকে দেখতে না,,,আমার এক ফ্রেন্ড থাকতো এখানে।তারপর তোমরা এলে।"

"ওহ,আচ্ছা। "

"জানতে চাইবে না, কেন এই ফ্ল্যাটটা ছেড়ে দিয়েছে?"

"কেন?"

"কেন মানে?তুমি জানো নাহ?"

"উপহ,,কি যানবো আমি??"

"শোন তাহলে,,,,এই ফ্ল্যাটে নাকি রাতে আত্মা ঘুরে বেড়ায়।"

"এ্যা?"

"এ্যা নয় হ্যা।আরে আমার এক্সও তো মারা গেলো এর জন্য "

"এখানে আপনার এক্স কোথা থেকে এলো.??"

"ওহ,,, বলিই নি আমি।আমার সেই বন্ধুর আপুই তো ছিলো আমার এক্স।"

"বন্ধুর আপু আপনার এক্স?"

"হুম,,,আসলে বড় মেয়েদের সাথে প্রেম করার মজাই আলাদা।,,,, তো শুনো,,,এই ফ্ল্যাটে থাকতেই তো এসব হলো।আহারে বেচারি,,,অকালে প্রানটা হারালো"

শেষের কথাটা একটু করুন সুরে বললো নিবিড়।আড় চোখে দোয়েলের দিকে তাকিয়ে দেখলো মোটামুটি ভয় পেয়েছে।যাক,ট্রিক্সটা কাজে লাগলো মনে হয়।দোয়েল বলে উঠলো....

"এবার কি হবে?আমরা থাকবো কিভাবে?"

নিবিড় চিন্তিত হওয়ার ভান করে বললো....

"হুম,,তাইতে।যদি ঐ আত্মাটা তোমাদেরও আমার এক্সের মতো...."

"এই না না না,,,আআআআমি আর এখানে থাকবো না।আমি ও ভিতু,,বোন তো আরো ভীতু।এখন কি করবো আমি?''

"যাই হোক,,আমার কি,,,,আমি গেলাম,,,তুমি ভাবতে থাকো মিস এটম।নিচে অপেক্ষা করছি।ভাবা শেষ হলে ব্যাগ নিয়ে চলে আসো।"

বলেই দোয়েলের নাক টেনে দিয়ে উঠে দাড়ালো নিবিড়।এরপর দরজা দিয়ে বেরোতে বেরোতে বললো....

"আহিশ এসেছে।ওয়েট করছে তোমার জন্য"

"মানে"

উত্তর না দিয়েই চলে গেলো নিবিড়।আহিশের কথা শুনেই বারান্দা ছেড়ে রুম থেকে বেরোলো দোয়েল।,,,,,

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ৬ গল্পের ছবি