"তুই ঠিক আছিস, ছোট পাখি?"
আহিশের কথায় চার জনেই একত্রে সিড়ির দিকে তাকালো।দেখলো আহিশ, সুহাস,কেয়া,রাবতি এসে হাজির হয়েছে সুহাসকে দেখেই দোয়েল বলে উঠলো...
"সুহাস ভাই?তোর না বোনের সাথে থাকার কথা ছিলো?"
সুহাস যেন আকাশ থেকে পড়লো...
"আমার??কই,আমি তো মাত্র ক্লাস থেকে আসলাম।"
চড়ুইয়ের রাগ সপ্তম আশ্চর্যে উঠে গেলো।কোনো কথা না বলেই হাতে থাকা বোতলের সব পানি সুহাসের মাথায় ঢেলে দিলো।
"আরে আরে ছোটপাখি,, কি করছিস এসব।আমি ভিজে গেলাম তোহ"
বলতে বলতেই সুহাস দু কদম পিছিয়ে নিজের শরীর থেকে পানি ঝারতে থাকে।আর চড়ুই রাগে গড়গড় করে বলে উঠলো....
"ভিজ,, তোর ভিজাই উচিৎ। তুই,,ইতর,,তুই আমাকে এখানে আসতে বলে নিজেই এলি না?আর আমি এখানে এই ব্যবসার থলেটার ঝামেলায় পড়লাম।,,,"
চড়ুইয়ের কথা শুনে সুহাস আরো অবাক।
"আরে,আমি কখন তোকে এখানে আসতে বললাম।আমি তো আজ এখনি দেখলাম তোদের।,,,"
সুহাসের কথা শুনে দোয়েল চিন্তার ছাপ নিয়ে বললো...
"এক মিনিট,এক মিনিট।একটু ভাবতে দে।,,,"
বলেই বিজ্ঞদের মতো করে কিছু একটা ভেবেই চোখ ছোট ছোট করে আহিশের দিকে তাকিয়ে বললো...
"আহিশ??"
উপস্থিত সবাই ব্যপার টা বুঝে গেলো।আহিশ ভাবতেও পারেনি ব্যপারটা এত দ্রুত তার দিকে ঘুরে যাবো।,,,,চড়ুই চোখ ছোট ছোট করে আহিশের দিকে তাকিয়ে হাতের বোতলটা আবিরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো...
"এটা ধরুন তো??"
আবির নির্লিপ্ত ভাব নিয়ে বললো...
"ওয়াট?,,আমি এটা নিয়ে কি করবো??"
চড়ুই এবার বিরক্ত হয়ে আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো...
"এটার মধ্যে পি করে প্রশ্রাব টেস্ট করান। যান।"
আবির বললো....
"স্যাট আপ।ইউ ইডিয়েট,,,, পাতিহাঁস। "
চড়ুই জোর করে বোতলটা আবিরের হাতে দিয়ে দিলো।তারপর দাত বের করে হাসতে হাসতে সুহাসের সামনে গিয়ে তার কাধ থেকে পানি ঝাড়ার মতো করে বললো....
"সুহাস ভাইইই?তোর মাথায় পানি পড়লো কার জন্য?? "
সুহাস করুন কন্ঠে বললো....
"আহিশে....."
তাকে বলতে না দিয়েই চড়ুই মাথা নাড়িয়ে হাসতে হাসতে বললো...
"আহিশসার জন্য।।। তো তোমার এখন তো আমাকে হেল্প করা উচিৎ।,,, করবে না???"
সুহাস এবার গলা উচু করে বললো...
"অবিয়েসলি।"
বলেই দৌড়ে আহিশের পেছনে গিয়ে তাকে পেছন থেকে চেপে ধরলো।এদিকে চড়ুইও আহিশের সামনে এগোতে এগোতে বলে উঠলো...
"বোন স্টার্ট কর"
বলতে দেরি,,দোয়েলের এগিয়ে আসতে দেরি নেই,,,এসেই দুই পাখি মিলে আহিশের পেটে পিঠে ঘুশি দিতে লাগলো,,,,আহিশ একটু ছাড়া পেতে লাগলেই দোয়েল মারতে মারতেই কেয়া আর রাবতির দিকে তাকিয়ে বললো...
"তোদের কি ইনভাইট করা লাগবে হেল্প করার জন্য? "
ওরা তারাহুরো করে আসতে আসতে বললো...
"হ্যা,,,আসছি আসছি।"
এসেই আবার আহিশকে চেপে ধরলো।,,,মারতে মারতে ফ্লোরে সুইয়ে দিলো আহিশকে।এবার দু বোন মিলে লাথি মারতে শুরু করলো।,,,,,,, এদিকে এদের এমন কান্ড দেখে আবির আর নিবিড় হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।আবির চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে নিজে নিজেই বলে উঠলো...
" কে বলবে এই মেয়ে একটু আগে অজ্ঞান ছিলো?"
নিবিড়ও ঘোরের মধ্যে থেকো বলে উঠলো...
"কে বলবে মিস এটম এত শান্ত?"
ওদের ঘোর কাটলো আহিশের ডাকে....
"আবির ভাই,,,নিবিড় ভাই,,,বাচাও আমায়,, এই রাক্ষস গুলা আমার হাড় গোড় ভেঙেই ফেললো।।তোমাদের জন্যই তো আমার এই অবস্থা। তোমরা না বললে তো আমি এমনটা করতাম না।প্লিজ বাচাও আমায়।।"
চড়ুই মারতে মারতেই বললো...
"সালা শয়তান,,,,তুই কোন কারনে মিথ্যা বললি আমায়??কেন আসতে বললি এখানে??,,,,"
দোয়েল বললো....
"আর তোর বিলেতি চাচাতো ভাই যে আমাদের মতোই ডবল পিস সেটা কেন বললি না বল??"
আহিশ করুন কন্ঠে বললো...
"সব কমু বোইন,,,,আগে মাইর থামা,,আমি মইরা গেলে কেমনে জানবি সব??মাইরিস না আর বোইন।থাম,, থাম,,,,,,ছ্ ছোট পাখি??তোরে আমি ১০০টা চকলেট দিমু,,প্লিজ থাম?"
চড়ুই বললো...
"দিবি৷ তো??"
"হ,হ,দিমু,,দিমু,,সত্যি দিমু।"
"ঠিক আছে,,,ছেড়ে দিলাম আজকের জন্য "
বলেই নিজেও মার থামালো আর দোয়েলকেও মানা করলো।আহিশ হাত পা ডলতে ডলতে আবির আর নিবিড়ের সামনে দাড়িয়ে কাদো কাদো কন্ঠে বললো....
"এটা ঠিক করলে না তোমরা।আমি আর কখনো তোমাদের হেল্প করলে না।,,"
চড়ুই বললো....
"রাখ তুই এদের হেল্প করার কথা৷,, আগে এদিকে আয়,,,কথা ক্লিয়ার কর।"
এসব বলতে বলতেই আবিরের ফোন এলে সে ১ মিনিট কথা বলে কল কেটে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বলে...
"আব্বুর অফিসে যেতে হবে। মি: রাহমান এসেছেন।চল।।"
"হুম"
বলেই নিবিড় চড়ুইদের কাছে এগিয়ে এসে বললো...
"কাল এক্সাম আছে,,,এডমিট কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়েছে সবার।কেয়ার কাছে আছে।ছোট পাখিও অসুস্থ। তাই আর ক্লাস করা লাগবে না আজ।বাসায় গিয়ে রেস্ট নাও সবাই।কাল একবারে এসে এক্সাম দিও।"
চড়ুই বললো...
"আরে রাখেন তো আপনার উপদেশ।নিজে যান, গিয়ে নিজের থলে সামলাম।ব্যবসার থলে কোথাকার।"
নিবিড় ফিক করে হেসে দিয়ে বললো...
"ব্যবসার থলেটা আমি নই ছোট পাখি।ওও,"
বলেই আবিরের দিকে ইশারা করলো।চড়ুই একটু লজ্জা পেলো।তবুও নিজের কথা উপরে রাখার জন্য আমতা আমতা করে বললো....
" ওই একিই হ, হলো।ব্যবসার থলে নন তো কি??তার টুইন তো??,,,"
নিবিড় আগের মতোই হাসি রেখে দোয়েলের দিকে শান্ত দৃষ্টি রেখে বললো...
"আসছি।"
বলেই চলে গেলো।আবিরও একবার চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে তারপর নিচের দিকে তাকিয়ে একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে চলে গেলো।,,,,
-----------------------
"কী ব্যপার মি: চৌধুরী। আপনি হঠাৎ আমাকে ডাকলেন??কোনো সমস্যা? "
আমোজের কথায় আজমল একটু নড়েচড়ে বসলো।পাশেই আছে জিসানের বাবা জিমেল চৌধুরী আর আহিশের বাবা আরিফ চৌধুরী। তারাও কিছু বলছে না।আমোজকে চিন্তিত দেখাচ্ছে। কাচু মাচু করে বলেই ফেললো....
"আ্ আপনারা কি কোনো ভাবে দোয়েল চড়ুইকে চিনেন?"
এবার আজমল বললো....
"আসলে আমার ছোট ভাই আরিফের ছেলে আহিশ চৌধুরী আর আপনার মেয়েরা অনেক ভালো বন্ধু। "
"হুম,আমি আহিশকে চিনি।অনেক ভালো ছেলে ও।আমার মনে হলো ওদের ফ্রেন্ডশিপটা মোটামুটি স্ট্রং।,,,,"
আরিফ বললো...
"হুম,সেটা আমরাও লক্ষ্য করেছি।"
আমোজ বললো...
",ওদের মধ্যে কি কোনো ঝামেলা হয়েছে??,,,না মানে আসলে,,এভাবে ডাকলেন,,তাই একটু চিন্তা হচ্ছে।,,, আমার দোয়েল চড়ুই,,ওরা কিছু করে নি তো??"
জিমাম বললো...
"আপনি চিন্তিত হবেন না মি: আমোজ।তেমন কিছুই না।"
আজমল বললো....
"আপনার মেয়েদের আমি এখনো সরাসরি দেখিনি বললেই চলে।তবে ওদের ব্যপারে মোটামুটি সবই জানি আমি।দেখুন কিভাবে যে বলি ব্যপারটা,,,ওরা এখনো ছোট।তবুও আমি কথাটা বলতে চাইছি।যেহেতু আপনার মেয়ে ওরা তাই আপনাকেই সব বলতে চাইছি.."
আমোজ কিছু একটা ভাবলো...
"দেখুন,আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনি ওদের বাবার সাথে কথা বলতে চাইছেন।,,,"
আজমল বললো...
"হুম,,আমি তো তাই করছি।"
আমোজ কন্ঠ ক্ষীণ করে বললো....
"আসলেআপনি ভুল ভাবছেন।আ্ আমি ওদের বাবা নই।ওরা আমার বড় ভাইয়ের মেয়ে। সম্পর্কে আমি ওদের চাচা হই।তাই আপনি প্লিজ কথা গুলো আমার বড় ভাইয়ের সাথে বলবেন।ওদের বাবা...."
এতটুকু বলতেই পেছন থেকে এক শক্ত কন্ঠ ভেসে এলো....
"আপনিই।,,,,,হুম,,আপনিই ওদের বাবা।"
পেছনে ঘুরে তাকালো আমোজ রাহমান।দেখলো একই রকম দেখতে দুইজন সুদর্শন ছেলে দাড়িয়ে আছে।দু জনের পড়নেই কালো জিন্স আর সাদা শার্ট।,,,,,তাদের মধ্যেই একটি ছেলে এগিয়ে আসতে আসতে বললে লাগলো....
"জন্ম দেওয়াটা কখনো ফ্যাক্ট হয় না কাকাই।পাখিদের জন্য আপনি যা করে আসছেন তা এখন হাজারে একটাও পাওয়া যায় না।,,,, "
এবার নিবিড় বললো...
"হুম কাকাই।আমি জানি পাখিরা নিজেদের লাইফ সাজিয়ে দেওয়ার জন্য বেস্ট বলে আপনাকে।,,,,আমি অন্য ভাবে নিতাম যদি আপনার কোনো সন্তান না থাকতো।নি:সন্তান দম্পতি অনেকেই আছে,,যারা নিজের সন্তান সুখের জন্য অন্যের সন্তানকে আপন করে নেয়।কিন্তু আপনার একটা মেয়ে থাকা সত্বেও নিজের বড় ভাইয়ের মেয়েদের প্রতি এমন আচরন করেন তা সত্যিই সবাই পারে না।,,,"
আবির বললো....
"আর এসবের জন্য আপনি ওদের বাবার থেকে কম নন।তাই কখনো ওদের নিজের ভাইয়ের মেয়ে বলবেন না।মনে জোর নিয়ে সবার সামনে বলবেন,,ওদের আপনি বাবার মতো আগলে রেখেছেন, তাই আপনি নিজেই ওদের আরেক বাবা।আর আমি মনে করি, ওরা কখনোই এটা নিয়ে দ্বিমত করবে না।বরং আরো খুশিই হবে "
এতটুকু বলেই থামলো আবির।এতক্ষণ এই ছেলে দুটোর কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলেন আমোজ।তার চোখ ছলছল করছে। আজ পর্যন্ত এভাবে তাকে কেউ বোঝায় নি।,,,,,,,,,আজমল বলে উঠলেন...
"" আহ,মি: আমোজ।,,,ওরা আমার ছেলে, আবির বিন চৌধুরী আর নিবিড় বিন চৌধুরী। "
আমোজের ঘোর কাটলো।এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজেকে সামলে নিলো।তারপর বললো....
"ওহ,,আচ্ছা। অনেক ভালো কথা বলে আপনার ছেলেরা।,,,
" জ্বী,,,আমি আপনাকে কথাটা সরাসরিই বলি।আমি ছেলেদের বাবা হয়েও নত শিকার করছি।আসলে আমার ছেলেরা আপনার মেয়েদের দেখেছে।আপনার মেয়েদের মনে ধরেছে তাদের। তাই আমি বাবা হিসেবে ওদের পছন্দটাকে আরো একধাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্যই আপনাকে ডাকা।,,,,আপনি যদি চান তো..."
আমোজ যেন অবাক হয়ে গেলো।কি বলবে সে নিজেও বুঝতে পারছে না।এমন কিছু সত্যিই তার মাথায় আসেনি।,,,,তখনই জিমাম বললো.....
"মি: আমোজ,,,আপনি কি ভাবছেন?"
"আ্ আসলে বলতে গেলে,, আমি আমার মেয়েদের নিয়ে কখনো এমন অবস্থায় পরিনি,,,তাই আসলে বুঝতে পারছি না "
আজমল বললো...
"আমি বুঝতে পারছি আপনার কথা।আমি আসলে এত তাড়া দিচ্ছি অন্য কারনে,,,,,,দেখুন আপনি যদি আমার ছেলেদের নিয়ে ভাবেন তাহলে আমি কিছু বলতে চাই,,,,,,ইউ এস এ তে মায়োগ্রেট কম্পানির ওনার আমার ছেলেরা।বাংলাদেশেও তার অনেক ব্রাঞ্চ আছে।আমি বাবা হিসেবে এতটুকুই বলবো,,আপনার মেয়েদের সুখে রাখার জন্য সক্ষমতা আছে অন্তত আমার ছেলেদের মাঝে।"
আমোজ অবাক হয়ে বললো...
"মায়োগ্রেট কম্পানি?,,এটাতো এখন সফটওয়্যার কম্পানিদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করছে।সেই কম্পানির ওনার আপনার ছেলেরা??"
"জ্বী,,আমার ছেলেরাই।,,তাই বলছি,,,আল্লাহ চাইলে আপনার মেয়েরা আমার ছেলেদের কাছে আজীবন সুখে থাকবে।,,,"
আমোজ যেন একটু লজ্জা পেলো,,,, সে বললো....
"দেখুন,,,আপনি হয়তো আমাদের ব্যপারে খোজ নেন নি,,,আমি একজন সামান্য চিত্র শিল্পী।আমি কখনোই আমার মেয়েদের জন্য এত হাই সোসাইটি আশা করিনি।আমার ভাই বিজনেস ম্যান,,,কিন্তু সেটা আপনাদের কাছে নিতান্তই তুচ্ছ।,,, আর আমি চাই না,ওরা এমন হাই সোসাইটি ফ্যামিলির ঘর বউ হোক।ওরা যেমন,, তেমনই ওদের প্রাপ্য।আমাদের মধ্যে ক্লাস ম্যানটেইন হয় না মি: আজমল।"
আবির বলে উঠলো.....
"আপনি ভুল ভাবছেন কাকাই।আমরা সব কিছু জেনেই আপনাকে আসতে বলেছি।আর ক্লাস নিয়ে আমরা কখনোই ঐ রকম ভাবি নি।আর এখনকার যুগে এসব খুবই নগন্য বিষয়। "
মিহির বললো....
"আর তাছাড়া আমরা ওদের ক্লাস,সোসাইটি এসব দেখে পছন্দ করিনি।যা করেছি অন্তর থেকে।তাই এসব বলে লজ্জা দেবেন না আমাদের প্লিজ।,,,"
আমোজ কিছুক্ষণ চুপ ছিলো।তারপর হঠাৎ বললো....
"আমি ওদের দু বছর বয়স থেকে দেখছি।ভাইকে জানিয়েই বিদেশ থেকে বিয়ে করে বাড়ি ফিরি।তারাও মেনে নিয়েছিলো।কারন তার আমার প্রতি তেমন একটা খেয়াল ছিলো না প্রথম থেকেই।আমি কি করছি না করছি তা নিয়ে ভাইয়ার কোনো মাথা ব্যথা নেই।,,বাড়িতে আসার পর প্রথম চোখে পড়েছে সিড়ির নিচে খালি জায়গায় বসে থাকা দুটো বাচ্চা মেয়ের দিকে।চিৎকার দিয়ে কাদছিলো দুজনেই।সামনে বসে বাড়ির কাজের মহিলা রজিনা আপা বিরক্ত নিয়ে বাচ্চা দুটোকেই গালি দিচ্ছিলো।কিন্তু দু বছরের বাচ্চার কি আর এত গালি বোঝার ক্ষমতা ছিলো?,,,রজিনা আপা গালি দিচ্ছে আর কিছুক্ষণ পর পর জল দিয়ে মাখানো কিছু ভাত ওদের মুখে ঠুসে দিচ্ছে। যেভাবে খাওয়াচ্ছিলো মনে হলো মানুষ তার নিজের শত্রুকেও এভাবে বিষ খাওয়ায় না।,,, চরম বিরক্তি নিয়ে রজিনা আপা একটা বাচ্চার গালে কসে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো।সেকি কান্না দুজনের,,, যাকে মারলো তার পাশের বাচ্চাটা বোনকে এমন ভাবে জড়িয়ে ধরলো,যেন কেউ ছাড়ালে তাদের দুজনেরই প্রান যাবে।,,থাপ্পড় দেওয়া গালে বার বার নিজের ছোট্ট হাত খানা বুলিয়ে দিচ্ছিলো।কিছুক্ষণ পরেই একে অপরকে ধরে উঠেদাড়িয়ে দুজন হাত ধরে হেটে যেতে লাগলো।কিছুক্ষণ পর পর একজন পরে যায় তো আরেকজন তাকে টেনে তুলে।আবার একজন পরে যায় তো আরেক জন টেনে তুলে।,,,এই দৃশ্য পুরোটাই আমার চোখের সামনে ঘটলো।আমি জামতাম ভাইয়ের আগের সংসারের জমজ মেয়ে আছে।তবে তারা যে এভাবে এই বাড়িতে পরে থাকে তা জানতাম না।,,,,,ঐ দিন রাতে খাওয়া দাওয়া করে ঘরে যাওয়ার পর আমার ওয়াইফ হেনলি বললো বাচ্চা গুলোকে নিয়ে আসতে,,,ওর নাকি ওদের খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।,, দেখবো বলে দুজনে এক সাথেই ঘর থেকে বের হলাম।এ রুম ও রুম কোথাও ওদের না পেয়ে রজিনা আপাকে জিজ্ঞেস করতেই বললো ওরা কোথায় তা তিনি জানে না।খুব অবাক হলাম আমরা দু জনেই,,,তবুও খুজতে লাগলাম।আর পেয়েও গেলাম ওদের।স্টোর রুমের পাশে চিপা একটা অন্ধকার গলির মেঝেতে দুজন দুজনকে ঝাপটে ধরে ঘুমিয়ে আছে।শীতে জুবুথুবু অবস্থা,,,,, হেনলি গিয়ে দুজনকে একসাথেই জাপটে নিয়ে কোলে তুললো,,,শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে,,,,চিন্তা হচ্ছিল খুব,,তখনই রজিনা আপা এসে বললো...ওরা নাকি প্রতিদিনই এভাবে ঘুমায়,,তাই ভয় পাওয়ার কোনো কারন নেই।মরবে নাহ।,,,,আমার অপারগতা ঐদিন কাউকে কিছু বলতে দেয়নি।আর না আজও ওদের অত্যাচার দেখে কিছু বলতে পারি।শুধু চেষ্টা করে যাই ওদের আগলে রাখার।,,,,,,"
কিছুক্ষণ থামলো আমোজ।একবার তাকালো সবার মুখের দিকে,,,আজমল নিরবে তাকিয়ে চোখের জল ফেলছেন।পাখিদের অতীত যে তাকেও নাড়িয়ে দিয়েছে।,,আরিফ আর জোমানের মুখেও বিষন্নতা ভরপুর।আবির আর নিবিড়ের চোখ দুটো টকটকে লাল হয়ে আছে।তবুও ঠাই তারা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।,,আমোজ আবার বলতে শুরু করলো....
"আমি জানি আমি চেষ্টা করেও আমার আম্মুদের সম্পুর্ন সুখ দিতে পারিনি।তাই আমি আল্লাহর কাছে সব সময় দোয়া করি ওরা যাতে ওদের স্বামীর সংসারে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখ পায়।,,,,জানেন?ওদের না বড্ড আপসোস,,,একটা একান্নবর্তী পরিবারের।আমাকে প্রায় বলবে..." আচ্ছা কাকাই,,,আমাদের পরিবারটা এমন কেন?সব থেকেও যেন কিছু নেই।কারোর মধ্যে সম্পর্কের কোনো মায়া নেই,,,টান নেই।একজন মরে পচে গেলেও আরেকজন খোজ নেয় না।,,
তখন আমি ওদের আস্থা দিই যে ওদেরও একদিন এমন একটা পরিবার হবে।,,,আমি আমার আম্মুদের দেয়া এই আস্শাস পুরন করতে চাই।"
আমোজের কথায় আজমল হালকা হাসলো,,,তারপর বললো....
"আমাদের বাড়ি কখন যাচ্ছেন, বেয়াই সাহেব?"