দোয়েল চড়ুইয়ের কথোপকথন তারা ছাড়াও যে অন্য কেউ শুনেছে তা তাদের বোধগম্য হলো না।,,পেছন থেকে তৃপ্তির হাসি হাসলো আহিশ,,,মনে মনে বললো...
"হবে পাখি,,,এই আন্টিটাই তোদের সত্যিকারের মা হয়ে দেখাবে।সেই দিন আর বেশি দেরি নেই।"
,,,,,,,,সবাই এই সেই কাজে ব্যাস্ত।তবে কাজের মাঝেও আবির,নিবিড়, পাখিদের খেয়াল রাখতে ভুলে নি।,,,,, একটু পরেই সবাই গেলো হলুদের জন্য রেডি হতে।,,,, বিকেল সাড়ে চারটা।সবাইকে তাড়া দেওয়া হচ্ছে তারাতারি করার জন্য। একটু পরেই সবাই বিপাসাদের বাড়ি হলুদ নিয়ে যাবে।,,,,নিবিড় এলো পাখিদের ডাকতে,,,,এতক্ষণ নিশ্চই রেডি হয়ে গেছে। দরজাটা ভিরানো।তারাহুরোয় নক না করেই ভেতরে ঢুকে গেলো নিবিড়।থমকে গেলো সে।ড্রেসিন টেবিলের সামনে একটা মেয়ে ঝুকে আছে কাচা হলুদ শারি,,, পাড় তার ডার্ক গ্রিন।ব্যপার সেটা নাহ,,,ব্যপার হলো গ্রিন ব্লাউজ,,,পিঠের প্রায় অনেকটাই দৃশ্যমান।স্লিভলেস হাতা।ফর্সা চিকন হাত দুটো খুব করে কিছু একটা জানান দিচ্ছে নিবিড়কে।চেহারাও দৃশ্যমান।তবে এটা কোন পাখি?,,,,,,"এভাবে দেখছে কেন সে?যদি তার এটম না হয় তবে?"""তরিঘরি করে মেয়েটির চুলের দিকে তাকালো।নাহ,,গোড়ার দিকে কিছুটা কোকড়ানো।,,,এটা তারই এটম বোম।মুচকি হাসলো নিবিড়।বিনা শব্দে একটু এগিয়ে গেলো।দেখলো,,,দোয়েলের কানে ফোন,,,ঝুকে গিয়ে পায়ে নুপুর পড়ছে। মুখে বিরক্তির ছাপ।,,,তবে সে যে এখনো নিবিড়কে খেয়াল করেনি তা বেশ বুঝতে পারছে নিবিড়।আরো এগিয়ে গেলো নিবিড়।মোহ মিশ্রিত কন্ঠে বললো...
"এটম বোমটা কি আজই ব্লাস্ট করবে তুমি?এমন এটম লুক দিয়েছো কেন?"
ঝটফট সোজা হয়ে দাড়ালো দোয়েল,,,ঘুড়লো নিবিড়ের দিকে।ভাবে নি এই সময় নিবিড় এসে পড়বে।জরোসরো হয়ে নিচের দিকে তাকাচ্ছে। নিবিড় একবার দরজার দিকে তাকালো।তারপর হঠাৎই দোয়েল তুলে ড্রেসিং টেবিলের উপর বসিয়ে দিলো।দোয়েল অপ্রস্তুত হলো। বুঝে উঠতে পারলো না নিবিড় কি করতে চাইছে।,,,নিবিড় একটু ঝুকে টেবিলের দুদিকে হাত দিয়ে দোয়েলকে আটকে দাড়ালো।তারপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সম্পুর্ন দেখলো দোয়েলকে।শারিটার আচলে চিকন করে ভাজ পিন আপ করেছে যার ফলে পেটের কিছুটা অংশ দৃশ্যমান। নিবিড় দেরি করলো না।নিজের ডান হাত ছোয়ালো দোয়েলের নরম তুলতুলে পেটের বা পাশে।কেপে উঠলো দোয়েল। শক্ত ঠান্ডা হাতের ছোঁয়া যেন কাপন ধরিয়ে দিচ্ছে তার শরীরে।ঠোট দুটো কাপছে।,,কিছু বলতে চাইছে,,কিন্তু পারছে না।গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না। নিবিড় বাম হাত দিয়ে দোয়েলের ডান হাতের বাহু স্পর্শ করলো।লো ভয়েজে বললো....
"এমব বিধ্বংসী রুপে কি না সাজলেই হতো না এটম?এখন তো আমি কোনো মতেই এই ঘর থেকে তোমায় বের হতে দিবো না।বিয়ে বাড়ি যাওয়া তো দুরের কথা।"
দোয়েল কাপাকাপা কন্ঠে বললো...
"মমম মানেহ?"
"মানে আবার কি?আমি দেখেছি, দেখেছি,, অন্য কেউ দেখবে নাকি এমন রুপে তোমায়?,,,আর এটা কেন পরেছো?হুম?"
দোয়েল বললো...
"আ্ আমি এটা পরবো না বলেছি।, জেসি আপুই জোর করে পরিয়ে দিয়ে গেলো,,,, এখন আপুকেকল দিচ্ছি, কিন্তু আপু তো কল ধরছেই না।,,,আ্ আমি এটা পরে বাইরে যাবো নাহ"
নিবিড় গভীর দৃষ্টি দিয়ে দোয়েলের ভাবগতি বুঝলো।,,সত্যিই লজ্জা পাচ্ছে তার প্রনয় পাখিটা।নিবিড় নিরবে হাসলো।,,,,পেটে রাখা হাতটা ধীরে ধীরে পেছনে নিয়ে থামলো।দোয়েল কাপছে।তবে কিছুই বলছে না।নিবিড় কিছু একটা ভেবে বললো....
"একটা কথা বলবো?"
দোয়েল এবার চোখ তুলে তাকালো।নিবিড় সরাসরি বললো...
"আমার জায়গায় অন্য কোনো ছেলে থাকলে তার ছোয়া গুলো এভাবেই সহ্য করতে?"
দেরি করলো না দোয়েল,,,দ্রুত বলে উঠলো...
"কী সব বলছেন আপনি?অন্য কেউর সামনে আমি এভাবে,,,,,,কক্ষনো নাহ।ছিহ"
নিবিড় তৃপ্তি পেলো।আবার লো ভয়েজে বলে উঠলো...
"তাহলে আমার এমন বাজে ছোয়া গুলো সহ্য করছো যে?"
দোয়েল তাকিয়ে আছে,,,কিছু একটায় ডুবে গেলো সে,,৷ উত্তর না পেয়ে নিবিড় একটু হাতটা চেপে ধরে বললো...
"বলো?"
দোয়েল ঘোরের মধ্যে থেকেই বললো....
"সহ্য করছি না তোহ?,,,,আমি তো অনুভব করছি,,,,আপনার সুনিপুণ স্পর্শগুলো।সাথে আপনার ঐ বেগুনি মনিওয়ালা চোখ জোড়া,,,,কিছু একটা বলছে আমায়,,,কিন্তু জানেন?আমি না তা ঠিক বুঝেও বুঝতে পারছি না।"
নিবিড় থমকালো।ভাবে নি, এমন উত্তর পাবে সে।একটু পরে নিজেই নিরবে হাসলো। তার প্রনয় পাখি যে তার প্রতি দুর্বল, তা বুঝতে আর দ্বিধা রইলো না।,,,,,ছেড়ে দিলো দোয়েলকে।এককদম দুরে গিয়ে দাড়ালো।স্বাভাবিক কন্ঠে বললো....
"এখন কি করবে?এটা পরেই......
" না না না,,আমি এটা পরে যাবো নাহ বাবাহ,,,"
"আমি ৫ মিনিটে আসছি।ততক্ষণ এই রুম থেকে বের হবে না।বুঝলে?"
বলতে বলতেই দোয়েলের আচল দিয়ে পুরো গা ঢেকে দিলো।তারপর বললো...
"আর এভাবেই থাকবে।একদম শারি শরীর থেকে সরাবে না।"
বলেই উলটো ঘুরে চলে যেতে নিলো নিবিড়...,
"শুনুন?"
ফিরলো নিবিড়....
"কিছু বলবে?"
"বোনও এটা পরবে নাহ"
নিবিড় কিছু বললো নাহ,,হেসে দিয়ে চলে গেলো।,,,ঠিক ৫মিনিট পরে এসেই দোয়েলের হাতে একটা প্যাকেট দিয়ে গেলো। নিবিড় যাওয়ার পরে প্যাকেটটি খুলে দেখলো গ্রিন কালারের দুটো রেডিমেট ব্লাউজ।দোয়েল আলতো হাসলো।হয়তো এখনই কিনে এনেছে।,,,,,,,,,,,
--------__-_---_---_---_-----_------
বিপাসাদের বাড়ি থেকে মাত্র ফিরলো সবাই,,,একটু পরেই ছাদে জিসানের হলুদের প্রোগ্রাম শুরু হবে।সবাই সেদিকেই যাচ্ছে। পাখিরাও একত্রে গিয়ে উঠলো ছাদে।সেই কখন থেকে তাসানরা পাখিদের পেছনে লেগে আছে,,,তবে আজ একটু অন্য রকম লাগছে তাদের।চেইন টেইন খুলে একদম হলুদ পাঞ্জাবিতে ভদ্রলোক সেজেছে। সবার সাথেই একদম স্বাভাবিক আচরন করছে।তবে এতেই কিছুটা খটকা লাগছে আহিশের।তবে সে যেহেতু শিওর বা,তাই কাউকে কিছু বলছে না।সবাই জিসানকে হলুদ ছোয়ালো একে একে।তারপরই স্টেজে আগমন ঘটলো আহিশের,,,উঠেই মাইক্রোফোন নিয়ে বলতে শুরু করলো...."স্বাগতম স্বাগতম স্বাগতম সবাইকে।উপস্থিত সকলেই আজ আমাদের চৌধুরী পরিবারের বড় ছেলে জিসান বিন চৌধুরীর হলুদ সন্ধ্যার উদ্দেশ্যে।তবে আপনাদের সকলকেই একটা গোপন খবর দিয়ে রাখি,,,পরিবারের বড় হলেও এই জিসান চৌধুরী কিন্তু পাত্তার পও পায় না।তো যাই হোক এই বেপাত্তা ছেলেরে যে কেউ একজন বিয়ে করতেছে,তাতেই একটু শান্তি পাইলাম।"
আহিশের কথা শুনে সবাই হাসতে লাগলো।আর জিসান স্টেজের সোফায় বসে বললো..
"আহিশের বাচ্চা,, খবর আছে তোর।"
আহিশ আবার বলতে শুরু করলো,,
"যেহেতু আমাদের এই বিয়ের সম্পুর্নটাই ইভেন্টে হচ্ছে,, তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি,এখানে অনেক হলুদ,রমনী ও রমনগন উপস্থিত। শুধু আমাদের দুলহে রাজাই পার্পেল পরে ভিনগ্রহ প্রানি হয়ে গেলো।,,তো আজ এই হলুদ সন্ধ্যায় আমাদের ইভেন্ট অনুযায়ী মুল আকর্ষণ হলো হলুদ খেলা।নিয়মটা বলে দেই।,,,,এই গেইমে ছেলে, মেয়ে আলাদা হয়ে যাবে।ছেলেরা এবং মেয়েরা একে অপরকে টাস্ক দিবে।তো টাস্ক যদি পুরন হয় তো যে দিয়েছে তাকে হলুদে চোবানো হবে,আর যদি না হয় তো যাকে দেওয়া হয়েছে তাকে চোবানো হবে।তো গায়েজ,, আর ইউ রেডি?""""
সব ছেলে মেয়েরা চেচিয়ে উঠলো....
"ইয়াাহ"
শুরু হলো গেইম,,,একে অপরকে টাস্ক দিয়েই যাচ্ছে,, কেউ জিতছে তো কেউ হারছে।সিরিয়ালে আসতে আসতে এবার এলো আবিরের পালা।তখনই ইরিন চেচিয়ে উঠলো....
"আবির ভাইকে আমি টাস্ক দেবো।"
সবাই সায় জানালো।ইরিন বললো...
"আবির ভাই,,,তোমাকে এখন,, এখানে থাকা যেকোনো একটা মেয়েকে অন্য স্টাইলে প্রপোজ করতে হবে।"
আবির বললো...
"অন্য স্টাইলে মানে?"
ইরিন বললো...
"সবাই যেভাবে করে সেভাবে না,,,একটু অন্যরকম।এবং তোমার প্রপোজে সেই মেয়েকে মাস্ট রাজি হতে হবে।"
নিবিড় বললো...
"মানেহ?ঐ মেয়ে রাজি হবে না হবে তা সম্পুর্ন ঐ মেয়ের বিষয়।তা ভাই কিভাবে জানবে।"
ইরিন হেসে বললো...
"এটাই তো টাস্ক নিবিড় ভাই,,,আমি কি হেরে যাওয়ার জন্য সহজ টাস্ক দেবো নাকি?"
সানিয়া চেচিয়ে বলে উঠলো...
"আবির,,,তুমি আমাকে প্রপোজ করে দাও,,আমি এক্ষুনি রাজি হয়ে যাচ্ছি।"
ইরিন একবার সানিয়ার দিকে তাকালো।সহ্য হলো না ইরিনের।এই সানিয়া মেয়েটা আবির নিবিড় দুজনকে একসাথে হাত করতে চাইছে।কিন্তু তাতো ইরিন হতে দেবে না।সে তো আবিরকে চাই,,,এই বাড়ির বউতো হওয়া লাগবেই তাকে।হুহ।....
চড়ুই বলে উঠলো...
"আমি জানি,,আমি জানি...."
আহিশ বললো...
"তুই আবার কি জানিস?"
"আমি জানি আবির ভাইয়া কিভাবে প্রপোজ করবেন,,"
সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকালো চড়ুইয়ের দিকে। কারন সবাই জানতে চায়।চড়ুই বলে উঠলো...
"উনি এখন সানিয়া আপুর সামনে গিয়ে দাড়াবে।তারপর ডান হাত ফিট করে নিয়ে সপাটে একটা থাপ্পড় দিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলবেন যে,, বল আমার প্রপোজে তুই রাজি,,বল বলছি,,,,,তখন সানিয়া আপুগালে হাত দিয়ে বলবে...''রাজি রাজি,,আমি রাজি,,আর মাইরেন না আবির"
চড়ুইয়ের অভিনয় করে বলা কথা গুলো শুনে সবাই হুহা করে হাসতে লাগলো।আবির একটা ডেভিল স্মাইল দিয়ে উঠে দাড়ালো।ধীর পায়ে হেটে গিয়ে দাড়ালো সানিয়ার সামনে।সানিয়া তাকালো আবিরের দিকে।তার ভাবগতি বুঝে উঠতে পারছে না সানিয়া।ভয় পেলো সানিয়া,,,চড়ুইয়ের কথা আবার সত্যি না হয়ে যায়।মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করছে সানিয়া।বাকিরা সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে।কি করে সে তাই দেখার পালা।,,চড়ুই বিরবির করে বলছে...
"আরে দে না ব্যবসার থলে,,একটা চড় মেরেই দে না।এতো ভাবার কি আছে।,,"
আবির একবার সানিয়ার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।চড়ুই আশাহত হলো,,,ইরিন হেসে বলে উঠলো...
"ওহ,,আবির ভাই মানে হার মেনে নিয়েছে।"
আবির তার কথায় পাত্তা দিলো না।সোজা গিয়ে দাড়ালো চড়ুইয়ের সামনে,,,, চড়ুই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে,,,"এই থলে এখানে কেন?আমায় চড় মারবে না তো?ঐ দিন ক্লাসে যেভাবে...."ভাবতেই হাত দিয়ে দুগাল ঢেকে নিলো চড়ুই,,,আবির দোয়েলের দিকে তাকালো।সে চড়ুইয়ের সাথেই ডবল সোফায় বসে ছিলো।আবির বললো...
"বড় পাখি,,, ওনলি ফর ওয়ান মিনিট,,,,..."
বলেই ইশারা করতেই দোয়েল উঠে দাড়ালো।আবির সেখানটায় বসে,পাঞ্জাবির হাতা গোটালো।তা দেখে চড়ুই কাদো কাদো কন্ঠে বললো..
"আর জীবনে করমু না আপনারে নকল,,সত্যি কইতাছি,,প্লিজ এবারের মতো মাফ কইরা দেন,,,আপনার থাপ্পড় খুব মারাত্মক,,,, মাইরেন না প্লিজ"
আবির শুনলো না।তাকালো চড়ুইয়ের দিকে।আর কিছু না বলতে দিয়েই নিজের হাত দিয়ে চড়ুইয়ের হাত দুটো ছাড়িয়ে চেপে ধরলো। তারপর বাম হাত দিয়ে চড়ুইয়ের মাথা পেছন থেকে কিছুটা টেনে এনে,, তার ঠোটে ঠোট মিশিয়ে দিলো।চড়ুই হতভাগ,,থমকে গেছে সে।মাথাটা ফাকা হয়ে গেছে।আবির একটু পরেই ছেরে দিলো চড়ুইকে।তারপর তাকালো।চড়ুইয়ের ঠোটের পাশে লেপটে থাকা লিপস্টিক ঠিক করতে করতে বললো,,,,
"চেচিয়ে বলো,রাজি,,,না হলে আবার লিপস্টিক খাবো।কুইক"
দেরি করলো না চড়ুই,,, মাথা নাড়িয়ে বললো...
"ররর রাজি,,রাজি,,,আমি সবসময় রাজি,,, "
আর কে পায় তাকে দৌড়ে গিয়ে স্টেজের পেছনে গিয়ে বুকে হাত দিয়ে হাপাতে লাগলো।,,,,,,
এদিকে বাকিরা হতভাগ।ইরিন ভাবতেও পারেনি আবির এমনটা করবে তাও বড়দের সামনে।ইরিন একবার আফজাল আর সাবিহার দিকে তাকালো, দুজনের মুখেই হাসি,,,আফজাল বললো...
"দেখলে সাবিহা,,তোমার ছেলের কতটা উন্নতি হয়েছে,, "
সাবিহাও হেসে বললো..
"তোমার ছেলেতো,তাই এমন নির্লজ্জ। ভাবা যায়,,আমার শান্ত শিষ্ট মাম্মাস বয়টা এমন ভয়ংকর একটা কাজ করে ফেললো,,তাও ভরা মজলিসে।"
আফজাল বললো...
"আমার ছেলের বউটাও কিন্তু বেশ লজ্জা পেলো,,যেমনটা তুমি পেতে?"
সাবিহা বললো..
"ধ্যাত"
সানিয়া রাগে ফুসছে।এটা কি করলো আবির।ঐ থার্ড পার্সন মেয়েটাকে,,,,আআআহ,,,এই মেয়েগুলার আজ একটা ব্যবস্থা করতেই হবে। তাসানকে আজই তার কাজ সারতে হবে।আর সময় নেওয়া যাবে নাহ।"
আবার শুরু হলো গেইম।কিছুক্ষণ পরে আহিশ আবার চড়ুইকে টানতে টানতে নিয়ে এসে বসালো।,,,ইতো মধ্যেই দোয়েলকে নিবিড় টাস্ক দিয়েছে যে তাকে ক্যটরিনা কাইপের কয়েকটা পোজে ছবি তুলতে হবে।তৎক্ষনাৎ দোয়েল না করে দিলো।ফলস্বরূপ নিবিড় গিয়ে নিজ হাতে আলতো করে দোয়েলের দু গালে হলুদ লাগিয়ে দিলো। তখনই আহিশদের এক ফুফাতো ভাই সিমান বলে উঠলো...
"এটা কি হলো নিবিড় ভাই,,,হলুদে চোবানোর কথা ছিলো।আর তুমি তো মনে হলো খুব ফিল নিয়েই কাজটা করলে।"
দোয়েল হেসে বললো....
"সিমান ভাইয়া,,,তোমার টাস্কটা আমিই দেবো।তখন বোঝাবো কিভাবে হলুদে চোবাতে হয়।জিসানের মুখও হলুদে ভরপুর।কারন তাকে টাস্ক দেওয়া হয়েছিলো বাসর ঘরে ঢুকেই সবার সামনে বিপাসাকে একটা থাপ্পড় দিতে হবে।,,,,সাথে সাথেই জিসান বলে উঠলো,, জিবনেও নাহ,,,,,কম বেশি সবাই হলুদে মাখামাখি,,,শুধু বাকি আছে,আবির, নিবিড়,চড়ুই,রবিন,আর দিয়ানা(আহিশের মামাতো বোন),,,,এই কয়েক জন।চড়ুইয়ের পালা আসতেই নিবিড় বললো...
" আমি দিচ্ছি টাস্ক"
সবাই রাজি হলো,,,,নিবিড় আবিরের কানে ফিসফিসিয়ে কিছু বললো।আবিরও মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো,, এবার নিবিড় বলে উঠলো...
"তেমন কিছু না ছোট পাখি,,,তোমাকে এখন কালা চশমার সাথে নাচতে হবে।ব্যাস"
চড়ুই বললো...
"রাজি আমি,,,,তবে একটা শর্ত আছে।যেহেতু এই প্ল্যানটা এই টুইনস ব্রাদার্স দুজনেরই,,তাহলে আমি জিতলে এদের দুজনকেই হলুদ মাখাতে হবে।"
আবির বলে উঠলো...
"আমি আবার কি করলাম?"
চড়ুই বললো...
"চুপ করে বসে থাকুন মি:ব্যবসার থলে,,,ফিসফিস করার সময় মনে ছিলো না হুম?"
সবাই রাজি হলো,,কারন একসাথে দু ভাইকেই হলুদ মাখানে যাবে।,,,,,,,চড়ুই স্টেজে উঠে নাচলো। একা নাচেনি,,কিছুক্ষণ পর সব মেয়েদেরই টেনে নিয়ে এসেছে।সবাই নাচছে,,,নাচের ধুম জমে উঠতেই ডিজে একটার পর একটা হিট গান ছারতে শুরু করলো।একটু পর ছেলেরাও এড হলো,,,বুঝে গেলো আর গেইম হবে না,,,,উরাধুরা ডান্স চলছে বড় স্টেজটাতে।জিসানও নাচছে,,,,তাসান একটু পর পর ইচ্ছে করেই পাখিদের সাথে লেগে লেগে যাচ্ছে,,,, সানিয়াও বারবার নিবিড়ের সাথে সাথেই নাচছে।আবির দেখছে সব,তবে সোফায় বসে।কিছু করতে পারছে না,,কারন তার পাশেই ইরিন বসে তার সাথে হাবিজাবি বকেই যাচ্ছে। আবির শুধু হু হা করছে।এই ইরিন আর তার মাকে আবিরের একদম সহ্য হয় না।কেমন যেন স্বভাব এদের।পাখিদের আহিশ আর নিবিড় প্রোটেক্ট করছে দেখে আবির আর স্টেজের দিকে এগোলো না।সোফায় বসেই তার চড়ুই পাখির হাসতে থাকা মুখশ্রীর দিকল তাকিয়ে আছে।কি যে প্রানবন্ত দেখাচ্ছে তাকে।শুধু সে নয়, নিবিড় লক্ষ্য করলো তার প্রনয় পাখিও আজ একটু বেশি হাসি খুশি। তাল মিলিয়ে সেও নাচছে।,,,তিক্ততা ভুলেছে হয়তো কিছুক্ষণের জন্য। নাহলে তো নিজের কঠিনত্যের মধ্যেই এমন রুপ লুকিয়ে রাখে দোয়েল।,,,,,সবাই ক্লান্ত হয়ে নেমে এলো নিচে।এখন স্টেজে কনসার্টের ছেলে মেয়েগুলো গান করছে।মুনিয়া এসে সবাইকে ঠান্ডা জুস খাওয়াতে লাগলো।সবাই অতশত না ভেবেই নিজেদের তৃষ্ণা মেটালো।চড়ুইও তাই করলো।দোয়েল গ্লাস টা হাতে নিতেই আমোজ কল করলো।তাই দোয়েল গ্লাাস হাতে রেখেই ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।তা দেখে সানিয়া, মুনিয়া,উৎসুক হয়ে পড়লো,,কখন খাবে জুসটা দোয়েল?,,,প্রায় ১০ মিনিট পর দোয়েল জুসটা খেলো।তা দেখে সানি মুনি দুজনেই বাকা হাসলো।এর মধ্যে চড়ুই প্রায় ৪-৫গ্লাস জুস সাবার করলো।সবগুলোই মুনিয়া এনে দিলো তাকে।,,,,সানি মুনি তাসানদের কাছে গিয়ে বললো...
"আমাদের কাজ শেষ তাসান। এবার তুই তোর কাজ টা সময় মতো সেরে নিস।মনে থাকে যেন।"
তাসান বাকা হেসে বললো...
"থাকবে না কেন?এত সুন্দর পাখিকে টেস্ট করতে ভুলবে না এই তাসান।"
কথা শুনে,,, ওরা পাচ জনই হাসলে।,,,,,,,,একটু পরেই সবাই নিচে নেমে যে যার ঘরে গেলো,,,,,চড়ুইয়ের মাথা কেমন যেন করছে সেই কখন থেকে।তবুও নিজেকে টানতে টানতে দোয়েলের সাহায্যে রুমে গিয়ে পৌছালো সে।,,,
__________________________________________________
রাত প্রায় দেড়টা।মাত্রই অনুষ্ঠান শেষ করে নিজের রুমে ফিরলো নিবিড়। ফ্রেশ হওয়ার জন্য কাবার্ড থেকে টাওজার আর গেন্সি নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগোতে নিলেই দরজায় ঠকঠক আওয়াজ হলো,,,, বিরক্ত লাগছে নিবিড়ের। মাত্রই তো এলো।এখন আবার কে ডিসট্রাব করছে।,,,হাতে থাকা জামা প্যান্ট গুলো সোফায় রেখে দরজার দিকে এগোলো। দরজা খুলতেই অবাক সে।দোয়েল দাড়িয়ে আছে তার সামনে। এখনো চেঞ্জ করে নি।,,,কেমন যেন ঢুলছে মেয়েটা।কি হয়েছে ওর?নিবিড় ব্যাস্ত ভঙ্গিতে বললো...
"দোয়েল?কি হয়েছে তোমার?এখন এইখানে যে?"
দোয়েল চোখ তুলে তাকালো।তখনই সামনে ঝুকে পড়তে নিলেই নিবিড় আগলে ধরে তাকে।
"দোয়েল,,দোয়েল,,এই কি হয়েছে তোমার,,,,এমন করছো কেন?শরীর খারাপ লাগছে?,,আমায় বলো?"
দোয়েল জড়ালো কন্ঠে বললো...
"আআআপনি এটা?,,,ওহ,,,আমার সাথে, এ,,,একটু চচলুন নাহ,,,ব্ বোনকে দেখতে,,,"
নিবিড় বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে। দোয়েল নিজের ভর ধরে রাখতে পারছে না।নিবিড় দু হাত দিয়ে দোয়েলকে ঠিক রাখার চেষ্টা করছে।তবে সামলানো দায় হয়ে পরেছে।নিবিড় কোনো রকম দোয়েলকে নিয়ে সোফায় বসালো।নিজেও বসলো।দোয়েল নিজের মাথাটা এলিয়ে দিলো নিবিড়ের গায়ে হাত দুটো দিয়ে বার বার কিছু বোঝাতে চাইছে।বির বির করে বারবার চড়ুইয়ের নাম নিচ্ছে।চোখ গুলোও বন্ধ হয়ে আসছে।,,,,নিবিড় বুঝলো দোয়েলকে এলকোহল দেওয়া হয়েছে,,,, নিবিড় কোনো মতে দোয়েলকে এক হাত দিয়ে সামলে ফোন লাগালো...
,,,আবির মাত্রই ফ্রেশ হয়ে ল্যপটপ নিয়ে খাটের দিকে এগোচ্ছে। অফিসের কিছু কাজ এগিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে।তখনই টেবিলে থাকা ফোনটা বেজে উঠলো।আবির ফিরে গিয়ে ল্যপটপ রেখে কল রিসিভ করলো...
"হুম ভাই বল,,,এখন ফোন করলি যে?"
নিবিড় বললো...
"ভাই,তুই একটু পাখিদের রুমে যাতো।"
"এখন?কেন?ওরা তো ঘুমাচ্ছে এখন।"
"আরে নাহ,,,,দোয়েল আমার ঘরে..."
দোয়েল তখন নিবিড়ের চুল ধরে টানছে,,,পুরোপুরি মা*তাল এখন সে।থেকে থেকে হাসছে,,কাদছে,,,নিবিড়কে মারছে,,আবার আজে বাজে বকছেও,,,,,চুলে টান খেয়ে নিবিড় বলে উঠলো...
"আহ পাখি,,একটু থামো তো,,কথা বলছি না?""
আবির ফোনের ওপাশ থেকে বললো...
"বড় পাখি তোর ঘরে কি করছে?"
"আরে ভাই,,,,কি বলবো আর।ও কোনো ভাবে ড্রিংকস করে ফেলেছে,,তাই পাগলামো করছে,,,।আর এসে থেকেই বার বার ছোট পাখির নাম নিচ্ছে।তাই তোকে ফোন করলাম।আমিতো একেই সামলাতে পারছি না,,, ওদিকে কিভাবে যাই,,,,তুই একটু গিয়ে দেখ ছোট পাখি ঠিক আছে কিনা।।।নাকি আবার দোয়েলের মতোই..."
"আমি দেখছি।রাখ তুই,,,"
ফোন কেটে রুম থেকে বের হলো আবির।পাখিদের রুমের সামনে আসতেই দেখলো দরজা ভেতর থেকে অফ।,,আবির ভাবলো..বড়পাখি তো ঘরে নেই,,,আমার মহারানি আবার কবে থেকে এতো কেয়ারফুল হলো যে দরজা লক করে ঘুমাচ্ছে।? ",,,
কিছু একটা ভেবে আবির আর দরজা ধাক্কালো না।দরজায় সেট করা পাসকোর্ড টা টাইপ করে ভেতরে ঢুকতেই যা দেখলো,,,, আবিরের মাথায় রক্ত চরে গেলো।রক্তচক্ষু নিয়ে সোফার দিকে তাকিয়ে হাতের মুষ্টি বদ্ধ করে শান্ত কিন্তু ঝাজালো গলায় বললো....
" তাসাআআন"