Mr and Mrs Twins

পর্ব - ১৯

🟢

জিসান আর বিপাসার বিয়ে সম্পন্ন হলো,,, তাদেরকে এক গাড়িতে দেওয়া হলো। ,,,, তাসানরা ইচ্ছে করেই অন্য গাড়িতে গিয়ে উঠলো,,,তারা কোনো ভাবেই আবির,নিবিড়ের মুখোমুখি হতে চাইছে না।আবিররা এক গাড়িতে,,, আবির ড্রাইভ করছে,,পাশেই আহিশ,,, তাদের পেছনের সিটে একপাশে চড়ুই,, তার পাশে হৃধী,তার পাশে দোয়েল আর আরেক জানালার পাশে নিবিড়।তাদের পেছনে ইরিন,জেসি,আর সিমান,,,,,,অনেক রাত হয়ে গেছে,, সবাই চুপচাপ,, আহিশ বসে বসে ফোনে গেইম খেলছে,,,হৃধীও তাই,,,দোয়েল নিবিড়ের কাধে মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে,, নিবিড়ও ব্যস্ত তার প্রনয় পাখিকে আগলাতে।পেছনে তিন জনের কানেই ইয়ারফোন।কারো দৃষ্টি বাইরে আবার কারো ফোনে।এদিকে চড়ুই ঘুমাচ্ছে,,, গাড়ির ঝাকানিতে বারবার জাবালার সাথে বারি খাচ্ছে। হৃদ তা একদমই খেয়াল করেনি।আবির ড্রাইভ করতে করতে তা ঠিকই লক্ষ্য করলো,,,,, বিপাসাদের বাড়ির দুরত্ব খুব একটা কমও না,,,,কিছুক্ষণ পরে আবির গাড়ি সাইড করে আহিশকে বললো...

"ড্রাইভ কর আহিশ,,,আমি পেছনে বসছি।"

বলতে বলতেই বেরিয়ে এলো সে।এসেই চড়ুইয়ের পাশের ডোরটা খুললো....

"হৃধী,,,,তুমি প্লিজ ফ্রন্ট সীটে গিয়ে বসবে??"

হৃদ হেসে বললো..

"আমার বেশ লাগে ফ্রন্ট সীটে। আমি বেরোচ্ছি"

"সাবধানে ,, চড়ুই পাখি জেগে যাবে"

হৃদ নামতে নামতে বললো...

"ওর ঘুম এত সহজে ভাঙার নয়।"

,,,,হৃদ যেতেই আহিশ ডোর খুলে দিলো...

"বসুন,,,বিচারওয়ালি"

হৃদ পাত্তা দিলো না,,,, উঠে বসলো,,আহিশও গিয়ে ড্রাইভ করতে লাগলো।আবির চড়ুইকে আসতে করে ভেতরে ঠেলে নিজে জানালার পাশের সীটে বসলো।।।।,,,,,, গাড়ি চলছে।বেশি সময় লাগেনি,,,চড়ুই মোচড়ামুচড়ি শুরু করে দিয়েছে,, আবির ভ্রু কুচকে তাকালো,আবার কি হলো?ঠিকই তো ঘুমাচ্ছে। তখনই সামনে থেকে হৃদ বললো...

"ছোট পাখি উইন্ডো সীট চাইছে আবির ভাইয়া,,"

আবির এবার বুঝলো।আলতো করে চড়ুইকে তুলে নিজের কোলে বসালো।চড়ুই মাথাটা আবিরের কাধে এলিয়ে দিলো।সামলানোর জন্য আবির তার ডান হাতটি চড়ুইয়ের কোমরে রাখলো,,,এই ঘটলো বিপত্তি।,,, লেহেঙ্গার উপরের টপটা একদম কোমর বরাবর,,,হাতটা উচু করলেই সেটিও উঠে যায়,,,,যা এখনো হলো।চড়ুইয়ের হাত আবিরের গলায় থাকায় উন্মুক্ত কোমরে হাত লাগলো আবির,,, হারিয়ে গেলো সে,,দেখছে না,,তবে অনুভব করছে,,,চড়ুইয়ের নরম মাংসের কোমর খানা আবিরকে অবাধ্য করে তুলছে।,,,,আবির হাত বোলালো একটু,,,চড়ুইয়ের কোনো হেলদোল নেই,, কিছুক্ষণ পরেই আবির তার কোমরে হালকা চাপ দিলো,,৷ কেপে উঠলো চড়ুই,,, আবেশে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আবিরকে।মুখটা নিয়ে আবিরের ঘাড়ে ছোয়ালো।আবির হালকা হাসলো,,,

"বাহ চড়ুইপাখি,,,, যে তোমায় বিরক্ত করছে,,তাকেই আরো জরিয়ে ধরছো? তুমিই পারো এমনটা"

আবিরের মাথায় দুষ্টুমি খেললো,,,এবার ইচ্ছে করেই একটু পরপর চড়ুইয়ের কোমরে আলতো আলতো চাপ দিতে লাগলো,,,চড়ুইও বারবার একই প্রতিক্রিয়া করছে,,সাথে একটু বেশিই বিরক্ত হচ্ছে। অনেকক্ষণ পর বিরক্ত হয়ে চড়ুই হাত দিয়ে আবিরের হাতটা ধরলো,, ছাড়ানোর চেষ্টা করলো,,তবে পারলো না,,আবির যে শক্ত করেই রেখেছে হাতটা,,,ঠোটে তার দুষ্টু হাসি,,,দেখছে তার চতুর পাখির অবুজ কাজ গুলো।,,,হঠাৎ করেই চড়ুই ফুপিয়ে কেদে উঠলো।কারনটা সে ঠিক মতো ঘুমাতে পারছে না,, এটা দেখে আবির হতভম্ব,, সাথে বাকিরাও,,,,নিবিড় আস্তে করে বললো...

"কি হলো ভাই,,,ছোটপাখি কাদছে কেন হঠাৎ? ওতো ঘুমাচ্ছিল।"

আবির বললো..

"এখনো ঘুমাচ্ছে,, ঘুমের মাঝেই কাদছে।তুই বড়পাখিকে দেখ,,,এই দিকে না তাকালেও চলবে।,"

নিবিড় কথা বাড়ালো না,,,,নিজের মতোই ব্যস্ত হয়ে গেলো,,, বাকিরাও তাই।,,,,ঘুমের মাঝেই চড়ুই কাদতে কাদতে বললো....

"আমি ঘুমবো,,,,,,ভালো লাগছে না আমার,,,ঘুমবো তো আমি..."

আবির চড়ুইয়ের চোখ মুছতে মুছতে বললো...

"সরি সরি চড়ুই পাখি,,,আর বিরক্ত করবো না,,,তুমি ঘুমাও,,,হুম?"

তারপর আবির চড়ুইয়ের মাথায় হাত বুলাতে লাগলো চড়ুইও আবার আবেশে ঘুমিয়ে পড়লো।,,,,,,

[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[

সূর্যের আলো চোখে পরতেই পিটপিট করে চোখ খুললো দোয়েল,,,নিজেকে নিজের রুমে দেখতেই মনে পড়লো সে তো গাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলো।তাহলে?,, এখানে এলো কি করে?,,,,, পাশে তাকাতেই চড়ুইয়ের বিশ্ব বিখ্যাত ঘুমানোর স্টাইল চোখে পড়লো।,,,,,দোয়েল নিজের ফোনটা হাতে নিলো,,,,ফেইসবুকে ঢুকতেই নোটিফিকেশন চেক করে দেখলো আহিশ তাদের সবাইকে ট্যাগ দিয়ে বিয়েতে তোলা অনেক ছবি পোস্ট করেছে।অনেকক্ষণ সময় নিয়ে দোয়েল ছবিগুলো দেখলো।এরমাঝেই জেসি ঢুকলো ঘরে,,,

"গুড মর্নিং পাখি,,"

"গুড মর্নিং আপু,,"

"উঠে পরেছো?ফ্রেশ হয়ে নাও,,,আমি অন্য পাখিকে জাগাচ্ছি,,অনেক কাজ আছে বুঝলে,,,ভাইয়ার রুমের গেইট ধরতে হবে,,,কাল রাতে টাকা না দিয়েই ধান্দা করে শয়তানটা বাসর ঘরে ঢুকে গেলো,,,,আমি বাইরে থেকে ওদের দরজা লক করে এসেছি,,,,এখন টাকা না দিলে বের হতেই দেবো না।এখন চলো তো,,,সবাই ওখানে ওয়েট করছে।,,,দোয়েল আলতো হেসে ফ্রেশ হতে গেলো।আর জেসি লেগে পড়লো চড়ুইকে জাগাতে।

[][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][]

দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে জেসি, আহিশ,ইরিন,সিমান,দোয়েল,চড়ুই,সহ আরো কিছু কাজিন। এছাড়া আছে সানিয়া,মুনিয়া,ওমর আর রবিন,,,।তাসানের কথা জিজ্ঞেস করতেই বললো সে নাকি কাল রাতেই গাড়ি থেকে নেমে গেছে কাজ আছে বলে।এরপর থেকে তার আর হদিস নেই,,,আবির আর নিবিড়ও নাকি খুব ভোরে একসাথে বেরিয়ে গেছে।তবে কোথায় গেছে কেউ জানে না।,,,,ভেতর থেকে জিসানের গলা শোনা যাচ্ছে...

"ওরে আমার প্রভুরা,,আমি দিয়ে দেবো টাকা,,,দরজাটা তো খোল আগে।"

আহিশ বললো..

"মোটেও না,,,আমরা দরজা খুলে দিই,,আর সেই সুযোগে তুই ফুটুস করে বেরিয়ে যাস,,, "

জেসি বললো...

"এয়সা কাভি নেহি হোগি মেরে ভাই,,"

চড়ুই বললো...

"ইয়াহ,,,পেহেলে পেয়সা দো, ফের বাহার হো।"

সিমান বললো...

"ভালোয় ভালোয় টাকাটা দিয়ে দে ভাই,,নাহলে...

" জিসান বললো..

"নাহলে কি?"

হৃদ বললো..

"নাহলে আজ সারাদিন এই বন্ধ দরজার মধ্যে থেকেই ভাবির সাথে রোমাঞ্চ করো।"

এতক্ষণে মিন মিন করে বিপাসা বললো..

"তোমরা দরজাটা খোলো,, বাড়ির সবাই কি ভাববে বলোতো?''

ইরিন বললো..

" ভাবি,,তুমি তোমার বরকে বলো টাকাটা দিয়ে দিতে,,তাহলেই খুলে দেবো।"

জিসান বললো...

"আরে,মেরে ইয়ার,,,,দরজা না খুললে টাকা দেবো কি করে?"

সত্যিই তো,,,,এটা তো কেউ ভেবে দেখেনি।এবার কি করে টাকা নিবে?,,,অনেকক্ষণ ভাবলো সবাই,,,হঠাৎ করেই দোয়েল তুরি বাজিয়ে বলে উঠলো...

"আইডিয়া!!!"

সবাই চকিত দৃষ্টিতে তাকালো,,,,, আহিশ বললো..

"বলে ফেল পাতলু ""

দোয়েল চোখ পাকিয়ে বললো..

"আমি পাতলু?"

আহিশ আবার বললো..

"বাআআরে,, তুই-ই তো পাতলুর মতো তুরি বাজিয়ে আইডিয়া বলে উঠলি,,,শুধু মাথার পাশে লাইটটা জ্বলা বাকি ছিলো।"

হৃদ বললো...

"থামুন তো আপনি,,আগে শুনি,,,,পাখি,,বলতো কি বের করলি??"

দোয়েল বললো..

"জিসান ভাইয়া এখন ঘরে বসেই টাকা দিবে,,,"

চড়ুই বললো...

"কিভাবে?"

"বিকাশ?''

সিমান হাত তালি দিয়ে বললো...

" ওয়াও,,,ওয়াট আ গ্রেট আইডিয়া,,, "

ওমর বললো...

"জিসান ভাইয়া,,,ফটাফট আমাদের মধ্যে যেকোনো একজনের একাউন্টে টাকা টান্সফার করো,, "

জিসান রাজি হলো,,,,বললো

...

"কত লাগবে,,বল?"

জেসি বললো...

"আমরা কয়জন আছি?"

আহিশ গুনে বললো...

"এখানে ১৭ জন,,আর আবির ভাই,নিবিড় ভাই, তাসান সহ বরাবর ২০ জন,,,"

জেসি বললো...

"তাহলে একজনের পাচ করে হলে ২০ জনের টোটাল,,,,,,,ওকেয়,,,ভাইয়া,,, এক্ষুনি ১ লাখ দে..."

জিসান মাথায় হাত দিয়ে বললো..

"১ লাখ?"

সিমান বললো...

"হুম,,এক লাখ,, কুইক পাঠা।"

অনেক বুঝিয়েও জিসান পার পেলো না,,,জেসির একাউন্টে ১ লাখ দিয়ে তবেই বেরোতে পারলো।,,,বেরিয়েই বিপাসা উৎকন্ঠ নিয়ে বললো...

"একদম ঠিক করেছো তোমরা,,,এই লোকটা ভ্যালেনটাইন ডে তে আমাকে কিছু দেওয়ার ভয়ে, দেখাই করেনি।"

জিসান মুখ পাংশুটে করে বললো...

"তুমি আর কাউকে পেলে না,,,এদেরই বলতে হলো?"

কথা শুনে উপস্থিত সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো।

[][][][][][][][][][][][][][][][][][][][]

এদিকে বদ্ধ এক ঘরে হালকা আলোর নিচে বসে আছে তাসান,,,,তার সামনেই ডাক্তার,,,, ব্যনডেজ করছে।কোথায় ব্যান্ডেজ করছে?তা নাই বললাম।কাজ শেষ করে ডাক্তার পেছনে তাকিয়ে বললো...

"আর কখনোই উনি ফিজিক্যালি ইনটিমেন্ট হতে পারবে না।এখন থেকে উনি এক প্রকার গে,,,,,"

বাকা হেসে আবির বলে উঠলো...

"গুড,,,এটাই চাইছিলাম।ভাই...."

নিবিড় হেসে গ্লাস থেকে পানি ছুড়ে মারলো তাসানের মুখে।ধরফরিয়ে উঠলো তাসান।সামনে তাকিয়ে দেখলো এখনো দাড়িয়ে আছে তার দুই জম,,,,যাদের ধোলাই খেয়েই সে একটু আগে অজ্ঞান হয়ে গেছে। নিজের সিক্রেটে ব্যথা অনুভব করতেই সেদিকে তাকালো।চোখ ছানাবড়া।নিবিড় হেসে বললো...

"কি?দেখতে খুব ভালো লাগছে তাই না??"

আবির বললো...

"ডক্টর,,, ইউ ক্যান গো নাও,,, "

ডক্টর উঠে চলে গেলো। আবির এসে তাসানের মুখোমুখি দাড়ালো।দাতে দাত চেপে বললো....

''তুই যাদের টার্গেট করেছিস না?তাদের যদি বেশি কিছু হতে,,তাহলে এতক্ষণে তুই টপকে যেতি।,, আমার চড়ুই পাখি,,,,,আমার সে,,,এইখানটায় বাস করে(তর্জনী আঙুল দিয়ে বুকের বা পাশে দেখিয়ে)

আর তুই কিনা তার দিকেই হাত বাড়িয়েছিস,,,,, "

তাসান কুকরে উঠা চোখ মুখ নিয়ে তাকায় আবিরের দিকে,,,,নিবিড় এসে বললো...

"অনেক তো হলে,,,এবার যদি ছাড়া পেতে চাস,, তাহলে আমরা এখন যা যা বলবো,, ঠিক তাই করবি,,নাহলে আরো একবার তের ঐটা.."

তাসান তাড়া দিয়ে বললো..

"করবো,করবো,,যা বলবে তাই করবে"

আবির বাকা হাসলো....

[][][][][][][][]

রাত ৮টা,,,,ইয়াং জেনারেশন পুরোটা ছাদে,,,বাড়ির বড়রা ড্রয়িংয়ে বসে আগামীকাল বৌভাতের প্ল্যান করছে।,,,,,ছাদে সবাই খেলবে,,,ওনলি ট্রুথ,,,এই বার ডেয়ার বাদ।বোতল ঘুরে যার দিকে পরবে,,তাকেই প্রশ্ন করা হবে।তবে স্পেশালিটি হলো,,মিথ্যা বলার কোনো সুযোগই নেই,,,কারন এখানে ছোট্ট একটা মাইন্ড কানেক্টর আছে।যাকে প্রশ্ন করা হবে তার হাতে এটা রাখবে।,,সে যদি মিথ্যা বলে তাহলে ম্যাশিনে রেড সিগনাল দেবে। শুরু হলো গেইম,,,,,প্রথমেই বোতল গেলো সিমানের দিকে,,,,আহিশ প্রশ্ন করলো...

"বোল সিমান কি কাচ্চা,,,,কয়টা প্রেম করেছিস এই পর্যন্ত? "

"এজটাও নাহ"

সাথে সাথেই রেড সিগনাল,,,, সবাই তাকালো সিমানের দিকে।সিমান এবার বললো.

"একটাই মাত্র "

সাথে সাথেই গ্রীন সিগনাল,,, সবাই হাসলো এবার,,,,জেসি বললো..

"আগে সত্যি টা বললেই হতো।"

আবার বোতল ঘুরালো।গিয়ে থামলো নিবিড়ের দিকে।চড়ুই পপকন খেতে খেতে বললো...

"আমি আস্ক করবো,,"

নিবিড় বললো..

"করে ফেলো।"

"সিরিয়াস কোইস্চান৷ ওকেয়?"

"ওকেয়,,,টেল"

চড়ুই খাওয়া ছেড়ে শান্ত দৃষ্টি দিলো দোয়েলের দিকে।তারপর আবার নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বললো...

"কাউকে সত্যিকারের ভালোবাসেন?"

সবাই শান্ত হয়ে গেলো।নিবিড়ও চুপ,,,তাকালো তার প্রনয়পাখির দিকে যে তখন নিচের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আছে।নিবিড় মুচকি হাসলো,,,তারপর চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো....

"বাশি,,,খুব বেশি বাশি৷,, নিজের থেকেও বেশি,,"

গ্রীন সিগনাল,,,,, সবাই হাততালি দিলো।আবার খেলায় ফিরলো,,চড়ুই আপন মনে খাচ্ছে,, বড় আকারের বাটি ভরতি পপকন,, সে একাই খাচ্ছে , অথচ সবার জন্যই দিয়ে যাওয়া হয়েছে।আবির একবার তার দিকে তাকালো,,বিরবির করে বললো...

"শুধু পেট খারাপ করে দেখো।"

পাশে থাকা নিবিড় কথাটা ঠিকই শুনলো।সে বললো...

"ছোট পাখি,,আর কিছু কি আদেও খাওয়া লাগবে তোমার?"

চড়ুই কথাটার মানে না বুঝেই বললো...

"হ্যা,,,আইসক্রিম খাবো"

বলতে দেরি আবিরের ধমকে উঠতে দেরি নেই।

"স্যাট আপ ইডিয়েট,,,,ঠান্ডার মধ্যে আইসক্রিম খাবে,,,বাচ্চা নাকি তুমি হ্যা?এমন আজব বিহেব কেন করো?"

চড়ুই চেতে উঠে বললো...

"কিহ,,আমি আজব বিহেভ করি?কে বলেছে আপনাকে হ্যা?"

"এসব ন্যাকামি দেখলেই বোঝা যায়,, "

মুনিয়ার কন্ঠ শুনে সবাই তার দিকে তাকালো।চড়ুই অবাক কন্ঠে বললো...

"আমি ন্যাকামি করছি?"

সানিয়া বললো...

"তা নয় তো কি,,,,এসেছো ধরেই করে যাচ্ছো,,,তা অন্যের বাড়িতে কি এসব ন্যাকামি করে সিমপ্যাথি নিতে আসো নাকি?"

ইরিন বললে...

"একদম ঠিক,,,আর তোমরা তো বিয়েতে এসেছো।বিয়ে শেষ,,,এখনো এই বাড়িতে কি হুম?যাওনি কেন আজ?"

নিবিড় ধমকে বললো...

"ইরিন!!!যাস্ট স্টপ ইট,,"

সানিয়া বললো...

"নিবিড়,তুমি ইরিনকে কেন থামাচ্ছো,,ওতো ঠিকই বলেছে।"

জিসান বললো..

"সানিয়া,,,মুখ সামলে কথা বল,,,ভুলে যাস বা তুইও এখন এই বাড়ির গেস্ট "

মুনিয়া বললো...

বাহ জিসান ভাই,,,বউ পেয়ে দেখছি মুখে বুলি ফুটেছে,

বিপাসা বললো...

"এতে আমায় টানছো কেন মুনি?,,আর জিসান তো ভুল কিছু বলেনি,,,,তোমরা এভাবে পাখিদের অপমান করছো কেন"

সানিয়া বললো..

"বাবাহ নতুন ভাবি,, তুমি তো দেখছি প্রথম দিনই ঝগরা করছো,,"

বিপাসা বললো..

"এটা ঝগরা নয় সানি,,আমি উচিৎ কথাটাই বলছিলাম,,,"

আবির রাগে ফুসছে,,,নিচের দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো...

"হাত থেকে বাটিটা রাখো চড়ুই পাখি,,"

চড়ুইয়ের রাগ হচ্ছে,, সাথে আত্ম সম্মানেও লাগছে,,,তাই রাগ বজায় রেখেই বললো...

"রাখবো না আমি,,আরো খাবো,, কি করবেন কি আপনি?"

বলেই গপাগপ দু তিন বার পপকন মুখে পুরলো।আবির ধমক দিয়ে বললো...

"তোমায় রাখতে বলেছি এটা ডাফার,,,,"

চড়ুই ছলছল চোখে আবিরের দিকে তাকিয়েই শব্দ করে বাটিটা রাখলো।তখনই পাশ থেকে দোয়েল চড়ুইয়ের হাত ধরে টেনে তুললো।নিজেও উঠে দাড়িয়ে চড়ুইকে নিয়ে হনহন করে ছাদ থেকে নেমে গেলো।,,,,ড্রয়িংরুমে আসতেই সাবিহারা জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে,,, তবে পাখিরা কিছু না বলেই অন্য দিকে রুমের সিড়ি বেয়ে উঠে নিজেদের রুমে গিয়ে দরজা শব্দ করে লক করে দিলো।,,,,,,,,,,,,,

*****+*****

"শুধু মাত্র গেস্ট বলে বেচে গেলে তোমরা,,,,, না হলে আমার পাখির অপমান করার ফল সাথে সাথেই বুঝিয়ে দিতাম।"

বলেই আহিশ উঠে দাড়ালো,,, আবিরের সামনে গিয়ে বললো...

"আমি আগেই বলেছি তোমায়,আবির ভাই,,,,,আমার পাখিরা অন্যদের মতো স্বাভাবিক নয়।ওদের বুঝতে পারা সকলের কর্ম নয়,,,তাই না পারলে দায়ীত্ব নিও না প্লিজ,,,শুধু শুধুই আমার পাখিরা কষ্ট পাবে।"

বলেই আহিশ নিচে নেমে গেলো।,,,হৃদের চোখে পানি,, উঠে দাড়ালো সে,,আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো..

"লিটেল বার্ডস ন্যাকামি করে না আবির ভাইয়া,,,, ও ছোট থেকেই এমন।বাচ্চাদের মতো মন মানসিকতা,,,, এর মধ্যেই সে তার অতীত লুকিয়ে রাখে। নাহলে কবে যে নিজের বাবার করা কাজ গুলো দেখে মৃত্যু মুখে পাড়ি জমাতো,,,,এখন সে ঐ স্বভাবটার মাঝেই ওসব লুকিয়ে রাখে।তোমরা এসব বুঝবে না,,,,আমি জন্ম থেকেই পাখিদের দেখছি তো,,,আমি জানি,,,,তাই প্লিজ,,আর কখনোই ওকে ন্যাকা বলে ওর স্বভাব পরিবর্তন করার চেষ্টা করবে না।"

বলেই চলে গেলো হৃদ,,,,

"উউউহ,,,তিন বোনই এক একটা ড্রামাবাজ"

কথাটা বলতেই ইরিনের গালে সপাটে একটা চড় দিয়ে দিলো আবির।আর কিছুই বললো না,,উঠে চলে গেলো।

------------------------

"আর কতো বার বলবো তোকে এমন আচরন চেঞ্জ করতে,,,, কতবার বলবো বল?,,,কেন নিজের আচরণের জন্য সব সময় অপমানিত হোস বলতো?"

দোয়েলের রাগ মিশ্রিত কর্কশ কন্ঠ শুনে থমকে গেলো আবির,,,দরজার বাইরে থেকেই সব শোনা যাচ্ছে। দোয়েল যে এমনটা করবে তা সত্যিই বোধগম্য হয় নি তার।

"তোকে ঠিকই বলেছে ওরা,,,তুই সত্যিই ন্যাকা,,,,হ্যা ন্যাকা তুই,,,,বড় হয়েছিস তুই,,,,আমাকে দেখ,,তোর বয়সি,,, আমি কি সিরিয়াস নই?,,,আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারছি না এভাবে?,,,তাহলে তুই কেন পারিস না?এতোটা উইক কেন তুই,,,,,,,আমার সহ্য হচ্ছে না তোকে।তুই আমার জমজ না হলেও পারতিস।,,,,তোর বয়সি হয়েও তোকে সামলাতে হয় আমাকে,,,আমি আর পারছি না তোর এমন উশৃংখলতা সহ্য করতে।"

দোয়েল বলেই যাচ্ছে উচ্চস্বরে কথা গুলে,,,তবে চড়ুইয়ের কোনো সারা পাওয়া যাচ্ছে না।এতেই আবির উতলা হয়ে উঠছে,,,তার চড়ুই পাখি কথা বলছে না কেন,,, আর পারলো না আবির,,,,দরজা ধাক্কা দিলো,,,চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো...

''ওপেন দা ডোর বড় পাখি,,,, তুমি আমার চড়াইপাখিকে কিচ্ছু বলবে না আর,,,,ওপেন দা ডোর,,"

দোয়েল থামলো,,, প্রায় দু মিনিট পর দরজা খুলে দিলো।দেখলো বাইরে প্রায় সবাই দাড়িয়ে আছে।নিবিড় গিয়ে রাগে দোয়েলের গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো।

"তোমার সাহস কি করে হয় ছোট পাখিকে এসব বলার,,,কেন বলেছো তুমি এসব?"

দোয়েল গাল থেকে হাত নামিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো....

"আমার বোন,,,আমি যা ইচ্ছে বলতে পারি।,,"

নিবিড় রাগ নিয়ে বললো...

"তোমাকে তো আমি..."

জিমান বললো...

"আহ,নিবিড়,,কি করছিস এসব, থাম তুই।"

আবিরের এই দিকে খেয়াল নেই,, হুরমুর করে রুমে ঢুকলে সে।ব্যাসিনের টেপ ছেড়ে বারবার নিজের মুখে পানির ঝাপটা দিচ্ছে চড়ুই।শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার,, বক্ষস্থল দ্রুত উঠা নামা করছে।আয়নায় লাল হয়ে ফুলে যাওয়া চোখগুলোয় আটকে গেলো আবির।আর পারছে না সে,,,বুকটা চৌচির হয়ে যাচ্ছে তার।দৌড়ে গিয়ে চড়ুইকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ঝাপটে ধরলো বুকে।খুব জোরে চেপে ধরলো,, মনে হচ্ছে ছেড়ে দিলেই হারিয়ে যাবে।চড়ুই না দেখেই আবিরের কোমর ঝাপটে ধরলো।,,আবির হালকা উচু করে ধরলো চড়ুইকে।চোখ বন্ধ করে ঘনঘন নি:শ্বাস ছাড়ছে।ভালো লাগছে তার,,,আটকে আসা দমটা ফিরলো তার।চড়ুই কাদতে কাদতেই আবিরের গলায় মুখ গুজলো,,,খামছে ধরলো আবিরের কোমরের দিকে।,,, তার এলোমেলো চুল গুলো আছড়ে পরছে আবিরের মুখে।,, ,, ,,,,,, ,,, ,,, ,,,,, ,,

"আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি চড়ুই পাখি ,,,, প্লিজ এভাবে কাদে নাহ,,,,"

চড়ুই থমকালো,,,কান্নাও থামলো,,,কাকে জরিয়ে কাদছে সে?যার জন্য কষ্টটা পেয়েছে তাকে?এটা সে কি করছে,,,এমনটা তো হওয়ার কথা নয়।,,,এক ঝটকায় ছেড়ে দিলো আবিরকে।,,চোখ মুছলো৷ এতক্ষণের উৎকন্ঠা ভাবটা নিমেষেই হারিয়ে গেলো,,,, শান্ত হয়ে গেলো চড়ুই,,,আবির লক্ষ্য করছে অবাক চোখে,,,তার চড়ুইপাখির প্রতিটা পদক্ষেপ,,, কি করছে তার পাখিটা,,,কষ্ট পাচ্ছে না সে?এমন শান্ত থাকলে তো তার পাখি কষ্ট পায়।আবির এক কদম এগোলো চড়ুইয়ের দিকে।চড়ুই হাতের ইশারায় থামতে বললো।এরপর ওরনা নিয়ে মুখের তৈলাক্ততা মুছে নিলো।চুল গুলো হাত দিয়ে ঠিক করলো।তারপর এগিয়ে গেলে দরজার সামনে।দোয়েলের বাম হাত আকড়ে ধরলো। মুখে হালকা হাসি এনে বললো...

"ত্ তোমরা সবাই এখানে,,,,"

আহিশ বললো....

"তুই ঠিক আছিস ছোটপাখি?"

চড়ুই আরেকটু ঠোট প্রসস্ত করে হাসলো।

"আমার আবার কি হবে?তখন একটু রাগ লেগেছিল তাই চলে এলাম।।এখন একদম ঠিক আছি।আর খেলবি না এখন?"

জেসি বললো...

"ছোট পাখি,,,,,মিথ্যা বলছিস তুই?"

"ধ্যাৎ,, আমি মিথ্যা বলবো কেন,,,"

এতক্ষণে আবির এসে চড়ুইয়ের পেছনে দাড়ালো।সে রীতিমতো অবাক,,,,একটু আগেই তার চড়ুই পাখি অঝরে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিলো,,,আর এখন এরক হাসছে,,,কি নির্মল এই হাসি,,যেন ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে।,,,,,, আবির ভাবলো...

"আমার জন্যই কি চড়াই পাখির এমন পরিবর্তন? "

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ১৯ গল্পের ছবি