Mr and Mrs Twins

পর্ব - ২৩

🟢

কন্ঠে সম্পুর্ন কোমলতা।চড়ুই আর পারলো না ,,, দ্রুত গতিতে ঝাপটে ধরলো আবিরের গলা। অঝোরে কেদে উঠলো। আবির সহ সবাই অবাক। হঠাৎ কি হলো চড়ুইয়ের?,, আবিরের হৃদয় কাপছে,,,ডান হাত দিয়ে চড়ুইয়ের কোমর চেপে ধরলো। বাম হাত রাখলো চড়ুইয়ের মাথায়।,,,

"কি হলো চড়াই পাখি? এভাবে কাদছো কেন?,,,আর কে ফোন করেছে?"

চড়ুই উত্তর দিলো না,,, দোয়েল বললো...

"আ্ আমাদের বাবা ফোন করেছে।"

আবির চকিত দৃষ্টিতে তাকালো..

"তোমাদের বাবা?,,,,,ক্ কি বলেছে? "

আজমল বললো...

"সেটাতো চড়ুই আম্মুই জানে,,,কল কাটার পর থেকেই কাদছে।"

আবির তাকালো চড়ুইয়ের দিকে...

"চড়াই পাখি,,,কি বলেছে বলো?"

চড়ুই মাথা উঠালো।আবিরের গলা থেকে হাত নামালো,, চোখ মুছতে মুছতে দ্রুত গতিতে বলল...

"আ্ আপনি জানেন? আমি অনেক ভ্ ভালো পরিক্ষা দিয়েছিলাম। বিশ্বাস করুন,,আমি ফেইল করার কথা নাহ,, "

আবির অবাক হয়ে বললো..

"তুমি ফেইল করেছো, চড়াই পাখি? "

চড়ুই আগের মতোই মাথা নাড়িয়ে তাড়া দিয়ে বললো..

"হ্যা,,,আ্ আমি ফেইল করেছি,,,ক্ কিন্তু আমি ফেইল করতাম না,,, বিশ্বাস করুন,,,,, আ্ আমি পড়ালেখা ছাড়বো না,,,আ্ আর বোনকেও ছ্ ছারতে দেবো নাহ৷৷,, প্লিজ কি্ কিছু করুন,,,আ্ আমি পারবো না ঐ বাজে ছেলেটাকে ব্ বিয়ে করতে,৷ আ্ আর ব্ বোনকেও দিবো না ওদের কাছে,,আম্ আমার বোন খুব কষ্ট পাবে,, ওরা ভ্ ভালো না,,,,আমি করবো না ব্ বিয়ে,,,"

সবাই একত্রে অবাক হয়ে বললো...

"বিয়ে!!!!"

আবির চেচিয়ে বললো...

"এসব কি বলছো তুমি চড়াই পাখি?"

দোয়েল বললো..

"কি সব বলছিস তুই বোন,,,,বিয়ের মানে টা কি?"

চড়ুই কিছু বললো না,,,কাদতে লাগলো,,,,আবির চড়ুইয়ের দু বাহু ধরলো,,,,

"কি হলো চড়াই পাখি,,,বলো?"

এবারও কান্নার জন্য চড়ুই কিছু বলতে পারছে না।।আবিরের মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো,,,, চড়ুইয়ের হাত ঝাকি দিয়ে রাগি কন্ঠে বললো...

"কান্না থামাও চড়াই পাখি,,,, আন্সার মি ড্যামেড৷ ,,, "

চড়ুই কেপে উঠলো,,,,চোখ মুছলো,,,বাম হাতের উলটো পিঠ দিয়ে নাক মুছলো।তারপর ফোফাতে ফোপাতে বললো...

"আ্ আমার আর বোনের জন্য,, সম্মন্ধ ন্ নিয়ে এসেছে,,,,ব্ বাবা বলেছে,,,আ্ আমরা এর থেকে ভালো কিছু ডিজার্ভ ক্ করি না,,,,পড়ালেখা বন্ধ ক্ করে দিবে ব্ বলেছে,,,

এরপর আবিরের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে করুন কন্ঠে বললো...

" আ্ আমি এই বিয়ে করবো না,,,ঐ ছেলে গুলো খ খুব বাজে...."

দোয়েলের মাথা ঘুরছে,,,সব কিছু ঘোলা লাগছে,,,, ঢুলছে সে,,,পড়ে যেতে নিলেই নিবিড় এসে পেছন থেকে ধরলো তাকে,,,,

"দোয়েল,,,দোয়েল,,,,,এই,,"

দোয়েলের স্তম্ভিত ফিরলো,,, চোখ মেলে তাকালো,,, নিবিড় ছাড়লো না তাকে,,,দোয়েল একবার সবার মুখের দিকে তাকালো,,,তারপর চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো...

" ক্ কোন ছেলের কথা বলছিস তুই?"

"ঐখানকার,,,স সভাসদের ছেলে,,, আর তার ভাতিজা"

দোয়েল অজান্তেই নিবিড়ের হাত চেপে ধরলো। হৃদ চেচিয়ে উঠলো..

"কিহ!,,এই রাসকেল গুলা?,,,জেঠাই আর ছেলে খুজে পেলো না?,,,"

বিপাসা বললো...

"কেন?"

হৃদ ঘৃনা মুখে বললো..

"এক নম্বরের লম্পট ওরা,,,,ছেচড়ামি ছাড়া কিছুই করে না,,,মদ খেয়ে সারাক্ষণ মাতাল থাকে,,,,নিজের মাকে পর্যন্ত মদের বোতল দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলো।এই পর্যন্ত অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে। রে*পি*স্ট ওরা,,,,,,,,এখন আমার পাখিদের উপর নজর দিয়েছে।,,,"'

আবিরের মাথা কাজ করছে না,,,এসব কি শুনছে সে,,,,তার চড়াই পাখি অন্য কারোর সাথে.... না না না৷,, ইটস নট পসিবল।ভাবতে ভাবতেই খেয়াল করলো চড়ুই তার শরীরের ভর ছেড়ে দিচ্ছে,,নিজেকে একটু সামলাতে আবির পাশে থাকা সোফায় বসলো,,,চড়ুইকে তার কোলে রাখলো,, মাথার নিচে ডান হাত দিয়ে বুকের সাথে চেপে রাখলো।,,,চড়ুই এখনো হিচকি তুলছে।চোখ জোড়া বন্ধ,,,, আবির ডাকলো...

"চড়াই পাখি?"

চড়ুই ঐ অবস্থায়ই জড়ানো কন্ঠে বললো...

" ব্ বাবা বলেছে,,,তারাতাড়ি বাড়ি যেতে,,,স্ সব কিছু ছেড়ে।"

আবিরের অন্তর জ্বলে উঠলো,, কি বলছে তার চড়াই পাখি?,,,তাকে ছেড়ে চলে যাবে মানে৷ ,,

আবির চড়ুইকে চেপে ধরে চেচিয়ে বললো...

"নাহ,,,,কোত্থাও যেতে দিবো না তোমায়,,, আমার কাছে থাকবে তুমি,,,,কোথাও যাবে না।"

আবির হাইপার হয়ে যাচ্ছে,,,, নিবিড় তা দেখে জিসানকে চোখে ইশারা করলো। সাথে সাথেই জিসান গিয়ে আবিরের কাঁধে হাত রাখলো..

"আবির শান্ত হ,,, কিছু হবে না,,,এমন করছিস কেন,,,পাখি তো এখনই চলে যাচ্ছে না,,,,,তোকে ঠিক থাকতে হবে,,নাহলে পাখিকে বাচাবে কে?"

জিসানের কথায় আবির চোখ বন্ধ করে কয়েকটা নিঃশ্বাস নিলো।তারপর চোখ খুলে চড়ুইয়ের দিকে তাকালো।,,,,সবাইকে চিন্তায় ফেলে সে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। মাঝে মাঝে আবিরের বুকে নাকটা ঘষে দিচ্ছে।,,,আবির হাসলো একটু,,,এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার চড়াই পাখির দিকে। আজমল বললো...

"আবির,,,,চড়ুই আম্মুর..."

"ঘুমাচ্ছে আব্বু,,আমার চড়াই পাখিটা ঘুমাচ্ছে। চিন্তা করো না,,"

,,এদিকে নিবিড় কোনো মতে নিজেকে সামলে রেখেছে,,তবে মনের মধ্যে হাজারো ভয় জেকে বসেছে,৷ তবেকি তার এটম বোমকে হারিয়ে ফেলতে হবে?",,,,

একটু পর আবির সবার দিকে তাকিয়ে বললো...

"অনেক রাত হয়েছে,,,সবাই ডিনার করে নাও,,,,আর আম্মু,,তুমি আমার চড়াই পাখির খাবারটা রুমে দিয়ে দিও,,,ঘুম ভাঙলে খেয়ে নেবে।,,,,আর এই বিষয়ে আপাতত পরে কথা বলছি।,,,,"

এরপর তাকালো নিবিড়ের দিকে...

"বড় পাখিকে খাওয়ানোর দায়ীত্ব তোর ভাই,,,ওকে মেন্টালি ঠিক রাখবি তুই,,,চড়াই পাখির মতো যাতে ভেঙে না পড়ে,,,,"

আহিশ তাড়া দিয়ে বললো...

"আমাদের ফেইলের বিষয়টা?"

নিবিড় বললো...

"তার মানে,,,তুইও ফেইল করেছিস?"

আহিশ মাথা নিচু করে ফেললো। আবির বললো...

"এখনো এক সপ্তাহ সময় আছে ডোনেশনের জন্য,,,, আগামীকাল এসব বাদ,,,,অন্য কাজ আছে।সকাল বেলায় উঠবে সবাই।"

বলেই আস্তে করে কোলে তুলে নিলো চড়ুইকে। তারপর সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো।

******

"খেতে চলো মিস এটম,,"

দোয়েল মাথা নাড়ালো,,

"খাবো নাহ,,,"

নিবিড় একটু রেগে বললো...

"খেতে হবে,,,ইউ হ্যাভ টু বি স্ট্রং।,,,চলো"

দোয়েলের ভাবান্তর হলো না,,,নিজের মতোই প্রশ্ন করলো..

"বাবা যদি আবার কল করে?"

নিবিড় একটু তাকালো দোয়েলের দিকে। তারপর কন্ঠ নরম করে বললো..

"কিচ্ছু হবে না এটম,,,,সবটা ঠিক হয়ে যাবে,,, এখন চলো তো,,,এমনিতেই মাথা ঘেরাচ্ছিলো,,,,খেতে হবে এখন।,,,,চলো.."

বলতে বলতেই টেনে নিয়ে গেলো দোয়েলকে ডায়নিং টেবিলে,,, বাকি সবাইও গেলো।।()()()()

সকাল ৬:৩০,,,,,,,ঘুমু ঘুমু চোখ খুলতেই রুমের লাইটের আলোয় আবার চোখ বন্ধ করে ফেললো চড়ুই,,,আবারও তাকালো,,,,দোয়েলকে চোখে পড়লো,,,,আয়নায় তার বিসন্ন মুখটা দেখা যাচ্ছে। চড়ুইয়ের মনে পড়লো কালকের কথা।তরিৎ বেগে উঠে বসলো।খাট থেকে নেমে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে বললো...

"বোন,,তুই রেডি হচ্ছিস কেন?আ্ আমরা বাড়ি যাবো না বোন।.."

দোয়েল তাকালো চড়ুইয়ের দিকে। আবার আয়নার আয়নার দিকে তাকিয়ে মাথায় চিরুনি চালাতে চালাতে বললো..

"উঠে পড়েছিস?ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নে,,,ডিভানের উপর একটা ড্রেস রাখা আছে,,,ফিট হয় কিনা দেখতো।"

চড়ুই তাকালো পেছনে থাকা ডিভানে,,,সত্যিই একসুট ড্রেস রাখা।লাল,কমলা,আর সাদা মিক্সিং বোঝা যাচ্ছে , তবে ভাজ করার কারনে কি ড্রেস তা বোঝা যাচ্ছে না।চ, সে ফিরে তাকালো দোয়েলের দিকে,,, সাদা রঙের ধুতি পাজামা,,,হাটু পর্যন্ত একটা পাকিস্তানি সিল্কের গোল টপস।তার উপর স্লিভলেস সাদা একটা সর্ট কুরতি।,,,স্টোন বসানে আছে তাতে,,লাল আর কমলা রঙের। বুক থেকে একটু নিচে ঠেকলো কুরতিটা।নিচে দিয়ে সাদা পাথরের ঝুলকা,,,যেটা টপসের নিচেও আছে।হাতায় ও আছে।,,,,বুঝলো চড়ুই,,সেইম ড্রেস।তখনই ভেতরে ঢুকলো জেসি,,,তার পড়নেও একই ডিজাইনের ড্রেস,,,শুধু কালারটা হলো সাদা, হলুদ,সবুজ।চুল গুলো উচু করে ঝুটি বেধেছে সে।সামনে দিয়ে দুপাশে দুটো চিকন বপ বের করা।,,,,

"উঠে পড়েছিস ছোট পাখি,,,,রেডি হয়ে নে দ্রুত।"

"তুমিও যাচ্ছো, আপু??"

জেসি একটু খানি হাসলো,,,

"হুম,,,,ছোটরা সবাই যাচ্ছি।"

"তারমানে আমরা নরাইল যাচ্ছি না?"

"নারে বাবা,,,আমরা দিনাজপুর যাচ্ছি।"

পাখিদের ভ্রু কুচকে গেলো।

"দিনাজপুর?"

তখনই বিপাসা ঢুকতে ঢুকতে বললো..

"হুম,,,তবে দিনাজপুর কোথায় তা আমরা কেউই জানি না,,,,আবির ভাই বলেছে,, সেটা নাকি সার্প্রাইজ।"

সবাই লক্ষ্য করবো বিপাসাকে।সেইম ডিজাইন ড্রেস।রং টা শুধু সাদার উপর আকাশি আর বেগুনি।জেসির মতোই চুল বাধা।,,,,,বিপাসা চড়ুইকে ওয়াশরুমের দিকে ঠেলতে ঠেলতে বললো..

"এবার যাও তো দ্রুত রেডি হয়ে নাও,,,,"

জোর করে ড্রেসটা নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো চড়ুই।,,,,বেরিয়ে আসতেই দেখলো জেসি দোয়েলের চুল গুলো তাদের মতোই ঝুটি করে বেধে দিয়েছে।চড়ুই আসতেই তাকে টেনে ড্রেসিনে বসিয়ে,,বিপাসা তার চুল বাধতে শুরু করলো।

"এভাবে কেন বাধলে আপু?"

দোয়েলের কথায় জেসি তার দিকে তাকালো।

"ভাবিই বলেছে এভাবে বাধতে।"

বিপাসা চড়ুইয়ের চুল বাধতে বাঁধতে বললো...

"আমি জানিনা,, ছেড়ে দিয়েছিলাম।জিসানই বললো এভাবে বাধতে।,,,,তোমাদের রুমে আসার সময় আবির আর নিবিড় ভাই বললো,,,তোমাদেরও যাতে এভাবে বেধে দিই।ভারি অর্নামেন্স না দিই,,,আরো কত কি,,"

দোয়েল বললো..

"আমার যেতে ইচ্ছে করছে না ভাবি"

চড়ুইও মিনমিনিয়ে বললো...

"আমারও।"

জেসি বললো...

"যেতে তো হবে পাখিরা।ভাইয়ারা বলেছে যে।"

তখনই হৃদ ঢুকলো রুমে

"দ্রুত রেডি হয়ে ডায়নিংয়ে যেতে বলেছে।,,,"

হৃদও সেইম পড়েছে,,,তবে কালারটা ভিন্ন।

চড়ুই উঠে হিল পড়তে গেলো,,,হৃদ তাড়া দিয়ে বললো..

"এই,,,, হিল পড়িস না পাখি,,,,ভাইয়ারা না করেছে।"

দোয়েল অবাক হয়ে বললো..

"তো কি পড়বো?"

জেসি বললো..

"জুতোও তো দিয়ে গিয়েছিলাম,,,,ওহ,,ঐ তো"

বলেই ডিভানের নিচ থেকে দুটো সু বক্স বের করলো।,,,,,সাদা লেস বিহীন সু,,,এটার উপরও স্টোনের কাজ করা।,,পাখিরা খেয়াল করলো সবার পায়েই সেইম সু।,,,সবাই কানে সিম্পল টপ পড়লো,,আর হাতে একটা করে ব্রেসলেট,,আর অন্য হাতে ঘড়ি।,,,,ডায়নিংয়ে এসে বসলো সবাই,, বাড়ির বাকিরা আগে থেকেই ছিলো,,,আহিশের মুড অফ,নিচে তাকিয়ে খাচ্ছে।,, সাবিহা হেসে বললো..

"বাহ,,,আমার পাচ আম্মুকেই তো সুন্দর লাগছে।"

জুলেখা বললো।।

"মাশাল্লাহ "

সবাই ব্রেড নিলো,,,জেলি মাখিয়ে খাচ্ছে,,,,সাথে ফ্রুট জুস।চড়ুই হাত দিতে গেলেই আবির বললো..

"আম্মু?,,,"

সাবিহা বললো..

"বল আবির বাবা??"

আবির খেতে খেতেই বললো..

"চড়াই পাখির জন্য ফ্রাইড রাইস,,বা এনাদার থিংকস কিছু আনাও,,,কাল রাতে খায়নি ও,,,এখন শুধু ব্রেডে পেট ভরবে না।"

চড়ুইয়ের খেয়াল হলো,,সে কাল রাতে আবিরের বুকেই ঘুমিয়ে পড়েছে।সকালে উঠে একবার টেবিলে থাকা প্লেটে চোখও গিয়েছে,,, তবে তা নিয়ে আর কিছু বলা হয় নি।খিদে লেগেছে সত্যিই।,,,,সাবিহার দিকে তাকিয়ে দেখলো সে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।,,,চড়ুইদের ঝগড়া করতে ইচ্ছে করছে না।ধীর কন্ঠে বললো...

"ঠিক আছে আন্টি।"

সাবিহা গেলো কিচেনে,,,সার্ভেন্টে বুঝিয়ে দিয়ে আবার এসে দারালো আজমলের পাশে।আজমল বললো..

"বসে পড়ো তুমিও।"

বসলো সাবিহা,,,বাকিরা খাচ্ছে,,,চড়ুই ওয়েট করছে ভাতের জন্য। নিবিড় পাখিদের দিকে তাকিয়ে বললো..

"জুতো ফিট হয়েছে তোমাদের?"

দোয়েল উত্তর দিলো..

"হুম"

জিসান বললো..

"ওহ,,তাহলে তো ভালোই,,,তবে আবির নিবিড়,,তোদের আইডিয়া আছে বেশ,,,,আন্দাজ মতো মাফ দিয়ে জুতো এনেও ফিট,,বাহ,,বাহ,বাহ।,,"

একটু হাসলো সবাই।জিমান বললো..

"তা হঠাৎ করে এই প্ল্যান?"

আবির খেতে খেতেই সরাসরি বললো..

"পাখিদের রিফ্রেশমেন্ট প্রয়োজন,,,,ফিরে এসে বাকি সব ভাবা যাবে।"

আজমল বললো...

"আমার আম্মুদের দেখে রাখবি তোরা।"

চড়ুই বললো..

"আমরা কোথায় যাচ্ছি?"

আবির সরাসরি বললো..

"জানার দরকার নেই।,,,,দ্রুত খাও।"

,সার্ভেন্ট এসে চড়ুইয়ের সামনে একটা প্লেট রাখলো,,চড়ুই তার দিকে তাকিয়ে আলতো হেসে বললো...

"থ্যাংক ইউ।"

সার্ভেন্ট মাথা নিচু করে বললো..

"মোস্ট ওয়েলকাম ম্যাম,".

বলেই চলে গেলো,,,তবে কথাটা চড়ুইয়ের পছন্দ হলো না,,,,সার্ভেন্ট মেয়েটি তার থেকে বয়সে অনেকটাই বড়,,,তাহলে ম্যম বলার কি আছে?আজব,,আসছে ধরেই এটা শুনে যাচ্ছে।,,আর ভাবলো না চড়ুই,,,,,ডিম পোলাও দেখে হাত দিলো না তাতে,,,,চামচ নিয়ে খেতে লাগলো।

রফিক বললো...

" গাড়ি নিলেই পারতি বাবারা,,,,এক ঘন্টায় পৌছে যেতি,,,শুধু শুধু বাসের ঝামেলা।"

নিবিড় বললো...

"এতে ফিল আসবে না ছোট আব্বু।"'

জিমান বললো...

"যা ভালো মনে হয় কর।আমার আবির নিবিড়রা কখনো ভুল ডিসিশন নেবে না আশা করি।,,"

সবাই বের হলো বাড়ি থেকে,,,,পাখিরা বড়দের অনেক জোরাজুরি করলো যাওয়ার জন্য,, তবে কেউই চাইলো না।অগত্যা তারা আর কিছুই করতে পারলো না।,,,গাড়ির সামনে এসে দাড়ালো।সব প্ল্যান আবির,নিবিড় আর জিসানের,,,কিভাবে যাবে,,কোথায় যাবে এসব,,,বাকিরা জিজ্ঞেস করলেও কিছুই বলছে না তারা।আহিশের মুড অফ,,,,,জানে না কোথায় যাচ্ছে।আর কতক্ষণ থাকছে,,কিছুই জানে না।হঠাৎ আহিশের ফোন বেজে উঠলো.... সুহাস ভাই ফোন করেছে রিসিভ করলো সে।

"বল, সুহাস ভাই,,"

"........."

"হুম তো?"

"............."

"কি সব বলছিস?"

"........"

"আমার বিশ্বাস হচ্ছে না ভাই"

"................"

ফোন রাখলো আহিশ,,,মুখে হাসি চিকচিক করছে,,দৌড়ে গিয়ে পাখিদের একত্রে জড়িয়ে ধরলো। পাখিরা গাড়ির পাসেই ছিলো।আহিশের হঠাৎ আক্রমণে লেগে গেলো গাড়ির সাথে।বাকিরা সবাই বোঝার চেষ্টা করছে,,, কি হচ্ছে এখানে।

"we are passed পাখি,,, আমরা পাশ করে গেছি।"

বলেই খুশিতে লাফাতে লাগলো আহিশ,,,চড়ুই যেন বিশ্বাস করতে পারছে না,

"কি বলছিস এসব?"

দোয়েল বললো...

"এটা কিভাবে সম্ভব? "

আহিশ তাড়া দিয়ে বললো...

"জানিনা কিছু,,,তবে সুহাস ভাই কলেজ গেছে,,,রেজাল্ট চেক করে বললো,,আমরা সবাই পাস,,,, আর আমাদের পাচ জনই জি পি এ ৪.এর উপরে।"

দোয়েলের মুখে অবিশ্বাস্য কিছু পাওয়ার হাসি ফুটলো।,,সবাই হাসছে।নিবিড় দ্রুত কলেজের প্রিন্সিপালের সাথে ফোনে কথা বলে নিলো।

"ট্যাকনিকাল প্রবলেমের কারনে অনলাইনে রেজাল্ট ভুল এসেছে,,,তাই এই সমস্যা। "

আবির তাকিয়ে রইলো তার চড়াইপাখির দিকে।হাসছে তার পাখিটা,,,মন খুলে হাসছে,,,বাড়ির সবাইও খুশি,,,এর মধ্যে খবরটা আমোজের কাছেও চলে গেলো।হাসতে হাসতে চড়ুইয়ের চোখ পড়লো আবিরের দিকে।কেমন করে তাকিয়ে আছে লোকটা৷৷ চড়ুই এগোলো তার দিকে।উৎফুল্ল হয়ে বললো...

"এবার চলুন?"

আবির বাকা হাসলো৷ স্থির দৃষ্টি দিয়েই বললো...

"যাবো না আর।"

মুহুর্তেই কালো মেঘ নেমে এলো চড়ুইয়ের মুখে,,,সাথে বাকি সবারও।নিবিড় বললো...

"তোমাদের রিফ্রেশমেন্টের জন্য যাওয়ার কথা ছিলো,,,এখন তোমরা যথেষ্ট হ্যাপি।,,,,,so,,, we aren't going to shawapna puri,,,"

দোয়েল খুশি হয়ে বললো...

''আমরা স্বপ্নপুরী যাচ্ছি?"

আহিশ মন খারাপ করে বললো...

"উহুম,,,যাওয়ার কথা ছিলো।এখন যাবে না।"

মুখ কালো হয়ে গেলো দোয়েলেরও।অনেক চেষ্টা করেও রাজি করাতে পারলো না।,আবির,নিবিড় চলে গেলো অফিসে,, আর বাকিরা বাড়ির ভেতরে,,,,,,,চড়ুই বেশ খেপেছে।সারাটাদিন টুইন্স ব্রাদার্সদের বকেই চলেছে।সাথে জেসি,বিপাসারাও,,,আহিশ একটু পর পর চেচাচ্ছে,,,তবে বাকিদের মতো তার ক্ষোব প্রকাশ পেলো না। সন্ধ্যা হতেই বাড়ি ফিরলো আবির নিবিড়,,আজ একটু দ্রুতই ফিরলো।তবে ড্রয়িং রুমে পাখিদের অস্তিত্ব মিললো না,,,তাই দুজনই নিঃশ্বাস ফেলে ফ্রেশ হতে চলে গেলো তারা।,,,

()()()()()()()

রাত সাড়ে ১১ টা,,,,,,

বাড়ির বাম পাশে বড় ফুল বাগান,,,নিচে সবুজ ঘাস।সেখানেই একটু খানি দুরত্ব রেখে শুয়ে আছে দোয়েল আর নিবিড়।দুজনই নিরব,,তবে একটু পরপর দোয়েল খিলখিল করে হেসে উঠছে,,কারনটা হলো শিউলি ফুল।উপর থেকে একটু পর পর দু একটা শিউলি ফুল দোয়েলের মুখে,গলায় পড়ছে,,তারই সুরসুরিতে হাসছে দোয়েল।নিবিড় বাম হাত মাথার নিচে দিয়ে তাকিয়ে আছে দোয়েলের দিকে। অনেকক্ষণ নিরবতার পর দোয়েল বললো...

"এখানে নিয়ে এলেন যে আমায়?"

"ইচ্ছে হলো এটমের রাগ ভাঙাই,,,"

দোয়েল কপাট রাগ দেখিয়ে বললো...

"রাগ করবোই তো,,,সব ঠিক করে কেউ এভাবে না গিয়ে থাকে?"

নিবিড় হালকা হাসলো,,,উত্তর দিলো না একটু পর দোয়েল বললো...

"আপনি আমায় এতো প্রায়োরিটি দেন কেনো?"

নিবিড় শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো দোয়েলের দিকে৷, দোয়েলের দৃষ্টি উপরের দিকে।।

"জানো মিস এটম?,,আমি না ইউ এস এ থাকতে অনেক গুলো রিলেশন করেছি।"

এটুকু শুনতেই দোয়েল তড়িৎ গতিতে তাকালো নিবিড়ের দিকে।নিবিড় হাসলো,,,মাথাটা একটু ঝুকলো দোয়েলের দিকে,,ধীর কন্ঠে দুষ্টুমিষ্টি সুরে বললো...

"রিলেশন করেছি,,,ভালোবাসিনি।,,"

দোয়েল আবার তাকালো উপরের দিকে

"সেখানে প্রচুর সাদা চামড়ার মেয়ে,,,আমাদের দেশের মতো আইন নেই যে ডেটিংয়ে গেলে বিয়ে করে স্বীকৃতি দিতে হবে।,,যার সাথে ইচ্ছে ঘুরলাম,,, খেলাম,,,ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড,,,দেন ছেড়ে দিলাম।এরপর না আমি আনহ্যাপি,,না সেই মেয়ে গুলো আনহ্যাপি।,,,তবে আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন।হ্যা মিথ্যা বলবো না আমি রিলেশনে গিয়েছি।তবে আমার রিলেশনটা কতটুকু টিকেছে জানো?।.....সর্বশেষ লিপকিস পর্যন্ত। তাও একবার অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে,,,আমি নাহ,,,মেয়েটিই করেছিলো।আমি প্রস্তুত ছিলাম না।,,,,,এর থেকে বেশি নয়,,,,,,,ভাবলাম আমি একটা পবিত্র বউ চাই,,,তা যেকোনো ছেলেই চায়,,,,কিন্তু কজন ভাবে যে,, সে তার স্ত্রীকে একজন পবিত্র স্বামী উপহার দিবে?,,আমি ভেবেছি,,,,আমার না চেনা বউরানির জন্য। চাইলেই ঐ বিদেশিনিদের মধ্যে একজনকে বিয়ে করে নিয়ে আসতে পারতাম।তবে তা সম্ভব হয়নি,,, কেব জানো?,,,কজ আমার আম্মু চেয়েছে তার টুইন্স ছেলের জন্য টুইন্স বউ মা আনবে।,,,এক কথায় Mr and Mrs twins....,,,,তাই আমার ইচ্ছেতে বালতি ভর্তি পানি পড়তো,,,,,, দেন এইবার দেশে ফিরলাম।আগে থেকেই প্ল্যান,,এবার এসে দেশেই সেটেল হবো আমরা।আর বিয়ে,,,সেটা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে।"

দোয়েল প্রশ্ন করলো...

"বিদেশে কি টুইন্স ছিলো না?"

নিবিড় হাসলো

"অন্নেক ছিলো,,,তবে আম্মু যে খাটি বাঙালি চাইলো?,,তো তারপর একদিন এক এটম বোমের সাথে দেখা,,বাবারে বাবাহ,,,কি ঝগড়ুটে"

দোয়েল কটমট করে বললো...

"আমি ঝগড়ুটে?"

"আমি তোমায় কখন বললাম??"

"এই যে এক্ষুনি'"

"আহ,,,এটা তুমি নাহ,,,আমার এটম বোম,,,শোনো তার কথা।"

দোয়েল চুপ করলো,,,,নিরবে শুনতে লাগলো...

"তো আমার ভীষন ভালো লাগলো তাকে।মুহুর্তেই মনে হলো আম্মুর ইচ্ছার কি হবে,,,,,ঐ দিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ইচ্ছে করছিলো নিজেকে শেষ করে দিই,,,কেন যে টুইনস হতে গেলাম।তারপর রাতে আহিশের থেকে এক অপ্রত্যাশিত খবর,,,শুনলাম আমার এরম বোমও নাকি টুইনস,,,, যাস্ট পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম আমি তখন,,খুশি তে।কি করে বোঝাবো তোমায়,,উপহ,,,"

"এরপর?"

নিবিড় তাকালো দোয়েলের দিকে,,,, বাকা হেসে বললো...

"ইন্টারেস্ট কমে যাবে।পরে বলবো একদিন।আর তুমি অনেক ছোট,,,বোঝার বয়স হয় নি।........উমমম,,এবার তুমি বলবে,,,আমি শুনবো..."

দোয়েল আলতো হাসলো,,,

"আমি এত সহজ নই নিবিড় ভাইয়া "

নিবিড় উলটো হয়ে সম্পুর্ন ঝুকলো দোয়েলের দিকে।মাতাল করা কন্ঠে বললো..

"একবার তোমার কঠিন টা বলেই দেখো না,,মহা সমুদ্রের অতল পানির মতো নিজেকে অন্যরকম লাগবে।দেখো।'"

দোয়েল ঘাবড়ালো..

"কৃ কি করছেন আপনি?"

নিবিড় হেসে সরে এলো,,আগের মতোই শুলো।

"নাও স্টার্ট?"

দোয়েল কিছুক্ষণ চুপ রইলো,,,তারপর বললো...

"আমার এইজ কতো জানেন?১৭+,,,,,এই বয়সটা অনেক রঙিন,,,তবে আমার ক্ষেত্রে তা ভিন্ন,,,চাইলেই সবার সাথে কোথাও যেতে পারি না,,,অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে পারি না।,,,মনে হয়, আমি ভুল করছি,,আমার বোনকে দেখতে হবে,,,আগলে রাখতে হবে,,,,,,প্রপোজ কম পাইনি,,,রিজেক্ট করেছি অনেক,,,,যারা বেশি পেছনে পড়ে থাকতো তাদের বলতাম,,আমার আগে আমার বোনের বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে,,,,ব্যাস,,এতেই সবাই চলে যেতো।আমিও আর ভাবতাম না এসব।এভাবেই চলছিলো,,,এরপর তো আপনি এলেন,,,এখন সরাসরি কথা হচ্ছে আমি আপনাকে রিজেক্ট করছি,,কজ আপনি অন্য মেয়েকে কিস করেছেন।"

কথাটা শুনেই নিবিড় অবাক দৃষ্টিতে তাকালো দোয়েলের দিকে।এ কি বলছে তার দোয়েল পাখি?,,,,

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ২৩ গল্পের ছবি