"স্ সকালেই নরাইল চলে গেছে আম্মুরা,,"
কথাটায় যেন বাজ পড়লো আবির,নিবিড়ের মাথায়।,,,,নিবির চেচিয়ে উঠলো...
"ওয়াট!!এসব কি বলছো আম্মু?ওরা চলে গেছে মানে?"
জুলেখা উত্তর দিলো...
"হ্যা,,,তোরা যাওয়ার কিছুক্ষন পরেই ওদের মায়ের কল আসে।বলে ওদের বাবার নাকি শরীর খারাপ।দ্রুত যেতে বলেছে।উনি নাকি ট্রেনের টিকিটও আগে থেকেই বুক করে রেখেছে।"
আবির রাগে ফুসছে,,, শান্ত তবে কঠিন কন্ঠে বললো...
"এতক্ষণ আমাদের জানানো হয় নি কেন?"
জেসি এলো...
"আবির ভাই,,,,, আ্ আসলে আমি জানাতে চেয়েছিলাম।তবে পাখিরাই না করে দিলো।,৷ বললো আসলে তারপরই বলতে,,,,বিশেষ করে বড়পাখিই না বলতে বললো।"
নিবিড়ের রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে এবার।কেন মেয়েটা এতো পাকামো করে,?,,,আবির রেগে বেরিয়ে যেতে নিলেই সাবিহা গিয়ে ছেলেকে আটকায়...
"এত রাতে বের হোস না বাবা, "
আবিরের সোজা সাপ্টা উত্তর...
"পাখিদের ইচ্ছে করে নিয়ে গেছে আম্মু,,,ওদের বিপদ হতে পারে।"
জুলেখা এগিয়ে এলো...
"ত্ তুই ওদের কাকাইয়ের সাথে একবার কথা বলে নে??"
আবিরের পছন্দ হলো কথাটা।সাথে সাথেই ফোন লাগালো আমোজকে।
"কাকাই,,আমি আবির৷৷ "
"ওহ,,বাবা তুমিই???তা হঠাৎ এতো রাতে??"
"পাখিরা কোথায়?"
"ওরা তো রুমেই আছে।আমি জানতাম না ওরা যে এভাবে আসবে।,,আমিও সব শুনেছি।তবে ওরা না বুঝেই চলে এসেছে।এখন ওদের খুব বিপদ বাবা,,,।"
আবিরের মন ধক করে উঠলো...
"কি হয়েছে আমার চড়াই পাখির?,, ওরা ঠিক আছে তো?"
"বাবা তুমি শান্ত হও,,,ওরা এখনো ঠিক আছে।তবে চলে যেতে চেয়েছিলো,, যেতে দেয়নি ওদের বাবা মা৷৷ আমি একটু আগেই আলগোছে শুনলাম কাল বিকেলে নাকি ওদের পাত্রপক্ষ দেখতে আসছে।আমি এখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না বাবা,,,"
আবির শুনলো সব,,, চুপ করে রইলো।কিছুক্ষণ পর নিজের চুল টেনে ধরে শান্ত কন্ঠে বললো...
"ওরা জানে এসব?"
"না বাবা,, আমি এখনো জানাই নি,,,,তবে জানিয়েও লাভ নেই,,,, আমার ভাই,ভাবি জোর করে রেখেছে ওদের,,,যেতে দেবে না।"
আবির চোখ খুললো,৷ তাড়া দিয়ে বললো...
"জানানোর দরকার নেই ওদের,,,,কাল জানলে দেখা যাবে।,,,ঘুমিয়েছে ওরা?"
"হুম,,একটু আগেই রুমে গেলো "
"ওকেয়,,কাকাই,,,,তুমি সবাইকে বলে দাও,,, কাল শুধু ওদের একার না তোমারও কয়েকজন গেস্ট আসছে।,,,ঠিকানা টা সেন্ড করে দিও।গুড নাইট কাকাই"
বলেই কল রেখে দিলো আবির,,,,, নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বললো...
"কাল সকাল ৬ টার ঢাকা টু নরাইলের ট্রেনের টিকিট বুক করে রাখ।আমরা কাল যাচ্ছি।"
বলেই গদগদ করে রুমে চলে গেলো আবির।বাকি সবাই শুধু তাকিয়ে রইলো তার দিকে। আবিরকে যথেষ্ট শান্ত দেখাচ্ছে,,, এটা ঝড় আসার আগের পুর্বাভাস নয় তো?।।
()()()()()()()()()()()()()()()
বিকেল প্রায় ৪ টা,,,
নরাইল শহরের এক গলির শেষ প্রান্তের বাড়িটির একটি বেলকানিতে দাড়িয়ে আছে দোয়েল,,,পড়নে শারি,,,,একটু পরেই তার মা নামক মহিলাটি দু বোনকে এক প্রকার জোর করে নিয়ে গেলো ড্রয়িং রুমে।বসালো পাশাপাশি,,,, সামনেই বসে আছে তিনজন মহিলা, দু জন বয়ষ্ক লোক আর ৪ টা ছেলে।এদের সবাইকে না চিনলেও কয়েকজনকে ঠিকই চিনে পাখিরা।ঐ তো,,,পান্জাবি পড়া লোকটা হলো সেই বিখ্যাত এলাকার সভাসদ,পাশেই তার ওয়াইফ,বসে বসে পান চিবোচ্ছে।আরেকটা লোকহলো সভাসদের ভাই,,তার পাশের মহিলাটি মনে হয় উনার ওয়াইফ।চোখ নিলো ছেলে গুলোর দিকে।ইশশ কি সাজ পোশাক,,, একটারও ঠিক নেই,,,,মেয়ে দেখতে এসেছে নাকি গুন্ডামি করতে,, আল্লাহই জানে।চড়ুইয়ের হঠাৎ মাথায় এলো,,কই আবির ভাইয়াকে তো কখনো এমন ভাবে দেখিনি,,,,,,,,,দোয়েলের চোখ ফোলা,,,তবে এখন সে শান্ত, কিন্তু চড়ুই ঠিকই সবার সামনে হেচকি তুলে তুলে কান্না করছে।হেনলি আর আমোজ দাড়িয়ে আছে,,,,তাদের যে কিছুই করার নেই,,,পাখিরা তো আর তাদের মেয়ে নয়,,,হৃদ সবার অগোচরে ভিডিও কল লাগালো আবিরের ফোনে,,,রিসিভ হলো,,,তবে কোনো কথাই বললো না,,,হৃদ আস্তে করে পেছনের ক্যামেরাটা অন করে সব দেখাতে লাগলো।বসে থাকা একটা মহিলা বললো...
"আফা,,, আমি আপনার মেয়েদের বউ করে নিতে এসেছি,,তা মেয়েরা ঘরের কাজ কিছু জানে তো?"
পাখিদের সৎ মা হেসে উত্তর দিলো..
"আসলে আপা,,,পড়ালেখার জন্য তেমন কিছু শেখা হয়ে উঠে নি,,,তবে টুকটাক আরকি...."
মহিলাটি কথা কেড়ে নিয়ে বললো...
"আমাদের বাড়িতে কিন্তু এসব চলবে না,,,বিয়ের আগ পর্যন্ত সময় দিলাম,,,সব শিখিয়ে নিবেন।,,"
অন্য একটি মহিলা বললো....
"আর হ্যা,,,পড়াশুনা যা করেছে,,এখানেই শেষ। আমাদের বাড়ির বউরা এত পড়ার দরকার নেই।"
পাখিদের সৎ মা উত্তর দিলো..
"না না,, পড়ালেখা আর করবে না,, ,,, এখানেই শেষ।"
চড়ুইয়ের ফ্যাচফ্যাচ কান্নায় তার ভাই নিরাজ বিরক্ত নিয়ে বললো..
"ওহ,এতো কাদার কি আছে,,,তোকে কুরবানি দেওয়া হচ্ছে নাকি?"
চড়ুই তেতে উঠে বললো..
"তুই চুপ কর.."
নিরাজ তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো..
"দেখলে আম্মু,,কেমন বেয়াদপ তৈরি হয়েছে?"
দোয়েল শান্ত স্বরে বললো..
"ভাই,,তুই ছোট,,এসব বুঝবি না, "
একটা মহিলা বলে উঠলো.।..
"মা গো মা,,,মেয়েদের মুখের ছিরি দেখো,,,এই মেয়ে,,আমরা তোমাদের দেখতে এসেছি,,মনে নেই নাকি?"
এবার পাখিদের বাবা আজিজ রাহমান বলে উঠলো..
"তোমরা জানো না কিভাবে চুপ থাকতে হয়,,,চুপচাপ বসে থাকো,, "
চড়ুইয়ের মুখ পাতলা,,,জোর দিয়ে বললো...
"কেন?আমাদের বিয়ে,,আমাদের কথা বলার অধিকার নেই নাকি?"
আজিজ রেগে গেলো,,,তেতে উঠে বললো..
"একটা থাপ্পর দেবো বেয়াদপ মেয়ে"
চড়ুই কেপে উঠলো,,,ঝাপটে ধরলো দোয়েলের বাহু,,,কান্নার বেগও বেড়ে গেলো,,,আমোজ বললো...
"ভাইয়া,,ওরা ছোট মানুষ,,এভাবে সবার সামনে...'
আজিজ বললো..
" তুই চুপ কর আমোজ,,, "
নিরাজ আরামসে বললো..
"বেশ হয়েছে।"
এইবার সভাসদ রাশেদ মিয়া বলে উঠলো..
"শোন মেয়ে,,,আমাদের বাড়ির বউরা এমন মুখে মুখে কথা বলে না,,,এই অভ্যাসটা দুর করো।"
"অভ্যাস পছন্দ না হলে বাড়ির বউ করার দরকার নেই,,,"
হঠাৎ এমন গম্ভীর কন্ঠে সবাই অবাক হয়ে দরজার দিকে তাকালো।,,,আজোম আর হৃদের মুখে হাসি ফুটলো। চড়ুই ভেজা চোখে তাকালো,,একি টুইন্স ব্রাদার্স। তবে চোখ ঘোলা থাকার কারনে ঠাওর করতে পারলো না কে আবির,আর কে নিবিড়,,,,তাতে কি,,,এরা দুজনই তাদের রক্ষা করবে।আর অপেক্ষা করলো না চড়ুই,,৷ দৌড়ে গিয়ে ঝাপটে ধরলো একজনকে।আশপাশ তার খেয়াল নেই।,,,,দোয়েল বুঝলো,, চড়ুই আবিরকেই জরিয়ে ধরেছে,,,,কিন্তু সে ঠাই বসেই আছে।দৃষ্টি পাশে থাকা নিবিড়ের দিকে।রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকেই,,,,ভয় পেলো দোয়েল,,,চোখ নামিয়ে নিলো।,,,
এদিকে এতক্ষণে আবিরের দেহে যেন প্রাণ ফিরে এলো,,,কাল রাত থেকে এক বিন্দু শান্তি তে থাকতে পারেনি সে,,,থাকবে কিকরে,,,তার চড়াই পাখি যে তার কাছে ছিলো না।,,,,আবির বাম হাত দিয়ে চড়ুইয়ের মাথাটা আরেকটু চেপে ধরলো নিজের বুকে।আহ,,শান্তি লাগছে তার,,,কিন্তু তা বেশিক্ষণ টিকলো না,,,ঐ ছেলুগুলোর মধ্যে একটা ছেলে চেচিয়ে উঠলো...
"কি হচ্ছে এসব,,,,এই মেয়ে,,, তুই ঐ ছেলেটাকে ধরলি কেন?"
আবিরের মাথায় আবার খুন চেপে গেলো।চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলো।দু হাতে চড়ুইয়ের মুখটা উঠিয়ে চোখ মুছে দিলো।তারপর নরম কন্ঠে বললো..
"রুমে যাও চড়াই পাখি,,,,"
চড়ুই তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে..
"কিচ্ছু হবে না আর,,, আমরা এসে গেছি তো?,,,যাও?"
চড়ুই শুনলো,,, হাটা ধরলো রুমের দিকে।দোয়েলকে বসে থাকতে দেখে নিবিড় চেচিয়ে উঠলো...
"তোমাকে কি কোলে করে রুমে দিয়ে আসতে হবে?"
হঠাৎ চেচানোয় কেপে উঠলো দোয়েল।,,,,রাশেদ মিয়া বলে উঠলো...
"কি হচ্ছে কি এখানে,,,তোমরা কারা,,আর ওদের কেন যেতে বলছো...."
আবির বাম হাত উচু করলো,,,মুহুর্তেই থেমে গেলো সবাই,,নিবিড় আবার বলে উঠলো..
"এখনো বসে আছো কেন ড্যামিড,,,"
দোয়েল উঠে দাড়ালো।ফোলা চোখ নিয়ে একবার নিবিড়ের দিকে তাকালো।তারপর দ্রুত পা চালিয়ে রুমে চলে গেলো।,,,,,
কেউই বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে এখানে,,আর কারা এরা,,, আমোজ বললো...
"ভাইয়া,,,তোমাকে বলছিলাম না,,আমার কয়েকজন গেস্ট আসবে,,,মিট,,আবির বিন চৌধুরী,, আর নিবিড় বিন চৌধুরী।,,,,,, "
আজিজ তাকালো,,,,
"কিন্তু এরা এভাবে....."
নিবিড় কথা কেড়ে নিয়ে আমোজের দিকে তাকিয়ে বললো...
"একি কাকাই,,,,তোমার মেয়েদের বিয়ে,, আর তুমি এক কোনায় দাড়িয়ে আছো?"
বলতে বলতেই এগিয়ে গেলো তার কাছে,,এরপর হেনলির দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বললো...
"কি কাকিয়া?পাখিদের কি নিজের মেয়ে মনে করো না?"
হেনলি কি বলবে বুঝে উঠতে পারলো না,,,নিবিড় কিছু বলতে না দিয়ে তাদের দুজনের হাত ধরে টানতে টানতে বললো...
"দিস ইজ নট ফেয়ার কাকাই কাকিয়া,,,,নিজের মেয়েদের জন্য সম্মন্ধ এসেছে,,আর তোমরা কথা না বলে আউটসাইডারকে কথা বলতে বলছো?"
কথাটার মানে বুঝতে পেরেই পাখিদের সৎ মা বলে উঠলো...
"এসব কি বলছো তুমি,,আমরা আউটসাইডার?,,আমরা ওদের বাবা মা।"
আবির গর্জে উঠলো..
"যাস্ট স্যাট আপ ইউ ব্লাডি ওমেন।"
ব্যাস কথা বন্ধ হয়ে গেলো। নিবিড় গিয়ে আমোজ আর হেনলিকে একটা সোফায় বসালো।তারপর নিজে আরেকটা সোফায় বসলো।আবিরও মাথা ঠান্ডা করে নিবিড়ের পাশে গিয়ে বসলো।,,,নিবিড় তাকালো সামনে,,....
"তোহ,,,আপনারা এতক্ষণ পাখিদের আসল মা বাবার সাথে কথাই বলেন নি,, এরা হলো পাখির আসল গার্ডিয়ান,,,,এখন যা কথা হবে,,,এদের সাথে।"
নিরাজ তার বাবার দিকে তাকিয়ে বললো....
"বাবা,,,এনারা কি বলছে দেখো,, কাকাই নাকি ওদের আসল গার্ডিয়ান? "
আজিজের রাগ উঠলো...
"কি হচ্ছে কি,,,আমি থাকতে আমার মেয়েদের গার্ডিয়ান ও হবে কেন?"
আবির তাকালো আজিজের দিকে,,,শান্ত স্বরে বললো...
"জন্মের পর থেকে বাবা হিসেবে কোন দায়িত্বটা পালন করেছেন আপনার মেয়েদের? "
ব্যাস,,,কথা আটকে গেলো আজিজের,,,,আর যে কিছুই বলার মতো নেই,,ছেলেটা যে সত্যিটাই বললো।,,,,,,
নিবিড় ভাব বদলালো।সামনে তাকিয়ে বললো...
"তোহ,,কি যেন বলছিলেন আপনারা?,,,,পাখিদের আর পড়ালেখা করা যাবে না তাইতো?"
একজন মহিলা বললো..
"হ্যা,,তাছাড়া আর কি,,,কি হবে এতো পড়ালেখা করে?, "
নিবিড় নিচের দিকে তাকিয়ে মাথা ঠুলাতে ঠুলাতে বললো..
"হুমম,,কিই বা হবে এত পড়াশুনা করে,, ,,, ঠিক তো।,, "
এরপর মাথা উঠিয়ে বললো...
"তা আপনাদের ছেলেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন?কতটুকু পড়েছে?মাস্টার্স? নাকি বিসি এস ক্যাডার?,নাকি আমাদের মতোই ফরেইন থেকে পিএস ডি নিয়েছে?"
উপস্থিত সবাই একে অপরের দিকে তাকালো,,,কেউ কিছু বলছে না দেখে নিবিড় এবার ছেলে গুলোর দিকে তাকালো..
"কি হলে বলো,,,কতটুক পড়েছো?"
কিছু বলছে না ছেলে গুলে,,,,নিবিড় বলে উঠলো..
"আচ্ছা যাই হোক,,,,সরকারী চাকরি তো করো তাইনা,,,তা তো হবেই,,,পাখিদের চালানোর মতো যোগ্যতা তেো আছেই,,,,"
হৃদ ফিক করে হেসে দিলো,,, হাসতে হাসতেই বললো...
"আর যোগ্যতা,,,,সরকারি তো দুর,,,মেথরের চাকরিও পাবে না এরা।তার জন্যও মিনিমাম এইট পাশ করা লাগে,,,,এরা তো ফাইভ পর্যন্ত পরতেই হাওয়া বেরিয়ে গেছে।"
"আর যোগ্যতা,,,,সরকারি তো দুর,,,মেথরের চাকরিও পাবে না এরা। তার জন্যও মিনিমাম এইট পাশ করা লাগে,,,, এরা তো ফাইভ পর্যন্ত পরতেই হাওয়া বেরিয়ে গেছে.।"
নিবিড় অবাক হওয়ার ভান করে বললো..
"ও মাই গড,,,,,তা,,,তোমরা জানো তো?পাখিরা এবার কিসে পড়ে?,,তোমাদের থেকে ওদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক বেশি,,,,তা প্রস্তাব দেওয়ার আগে জেনে নাও নি?"
একটা ছেলে আমতা আমতা করে বললো..
"ত্ তো কি হয়েছে৷, ওরা একটুই তো বেশি পড়েছে আমাদের থেকে।"
আবির বললো..
"ইউ নো ওয়াট?,,,আমরা আমাদের ওয়াইফদেরকে একদম লাস্ট স্টেপ পর্যন্ত পড়াবো,,,এন্ড,,,,পাখিরাও পড়বে।"
এবার রাশেদ মিয়া বললো...
"এই ছেলে,, তোমরা কি সব আজেবাজে বলছো?"
আবির তাকালো তার দিকে..
"এক্সকিউজ মি মি:....ওশাট এভার,,,,,আপনি এখানকাট সভাসদ তাইতো?আমাদের চিনেন?,,,,হুম?" মায়োগ্রেট "নাম শুনেছেন?"
রাশেদ মিয়া ভাবলেস হীন ভাবে বললো...
"বিশ্বের এক নম্বর সফটওয়্যার কম্পানি,,,,নাম না শোনার কি আছে?"
আবির বললো...
"ওহ গুড,,,জানেন তাহলে,,,,তো এটাও জেনে নিন,,আপনার সামনে বসে আছে সেই কম্পানির দুই ওনার,,,,,"
রাশেদ আর আজিজ একত্রে বলে উঠলো...
"কি!!!!"
নিবিড় বললো...
"ইয়াহ,,,এটাই সত্যি "
আবির বললো..
"তো ক্যারিয়ারের দিক দিয়ে আমরা আপনাদের থেকে অনেক উপরে আছি,,আপনাদের মতো সভাসদরা বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের সাথে দেখা করার এপোয়েন্ট পায় না, কথা বলা তো দুরে থাক।,,,তো সম্মানের সাথে আপনি করে কথা বলুন মি:,,,এন্ড কল মি স্যার,,,নট এই ছেলে।ওকেয়?"
রাশেদ তাকিয়ে রইলো আবিরের কথার সাথে দুলতে থাকা আঙুলের দিকে।হুমকিটা ঠিকই বুঝতে পারছে সে।,,,,
নিবিড় আবার বলে উঠলো..
"আর আন্টি,,,,আপনি কি যেন বলেছিলেন?বিয়ের আগেই পাখিদের কাজ শিখে যেতে হবে তাই তো?''
মহিলাটি অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে,,,কিছুই বললো না।নিবিড় পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে বললো...
" ওয়েট,,,আপনাকে আমার আম্মুর কথা শোনাই,,,,"
কল লাগালো সাবিহাকে,,,,রিসিভ হতেই লাউডে দিলো..
"আম্মু?,,,"
"হ্যা বাবা বল,,,,তোরা পৌছেছিস তো?,,,আমার আম্মুরা ঠিক আছে?"
"ঠিক আছে আম্মু,,,তোমার আম্মুরা একদম ঠিক আছে।এখন তুমি বলো তো,,,তোমার আম্মুরা আই মিন পাখিরা যদি কখনো কোনো কাজই না পারে তুমি কি ওদের কিছু বলবে?"
"আমি কি পাগল নাকি?,,,ওরা কাজ করবে কেন,, বাড়িতে এতো লোক থাকতে ওদের কেন কাজ করতে হবে,,,,আর ওরা চাইলেও আমি ওদের কখনো কাজ করতে দেবো না।,,,"
"ওকেয় আম্মু,বাই,,,"
বলেই কল রেখে দিলো নিবিড়,,,,সামনে থাকা মহিলাগুলো লজ্জা পেলো।।,,,,আজিজ বলে উঠলো..
"তোমাদের বিষয়ে এখানে কেন বলছো...."
নিবিড় বললো..
"আ আআআ মি:আজিজ,,,ভাই কি বললো শোনেন নি?তুমি নয়,৷ আপনি করে বলুন,, "
আজিজ খানিকটা লজ্জা পেলো,,,,আবির উঠে দাড়ালো। আজিজের মুখোমুখি হয়ে পকেটো দু হাত গুজে বললো...
"আমরা নিজেদের কথা বলছি কারন পাখি দের উডবি হাসবেন্ড সম্পর্কে আপনাদের সকলেরই জানা উচিৎ।'"
কথাটা বলতেই ঐ ছেলেগুলোর মধ্যে একটা ছেলে বললো..
"কি সব বলছেন,,ওরা আমাদের বউ হবে,, "
নিবিড় উঠে গিয়ে ছেলেটার কাধ পেচিয়ে ধরলো.
"তোমার মুখে একটু বেশিই বুলি ফুটচে দেখছি,,,তা তুৃমি কোন পাখিকে বিয়ে করবে শুনি?"
ছেলেটি আমতা আমতা করে বললো...
"দ্ দুজনই তো একই,,,একটাকে করলেই হলো,,,,,প্রয়োজনে দুজনই কাজে লাগবে,,,আমরা নাহয় চেঞ্জ করবো কিছুদিন পর পর,,,"
কথাটা বলতে দেরি হলো না,,, নিবিড় নিজের সর্বশক্তি দিয়ে ছেলেটের গালে কষে একটি থাপ্পড় মারলো।,,,হৃদ মুখ কুচকে বলে উঠলো..
"ছিহ!"
আমোজও খেপলো,,,
"ভাইয়া,,,এমন নোংরা ছেলেদের সাথে আমি আমার মেয়েদের বিয়ে দেবো না।"
আজিজ বললো..
"সেই দায়িত্ব আমার আমোজ,,"
আমোজ এবার ভাইয়ের মুখোমুখি হলো।..
"ওরা আমার মেয়ে,,,হ্যা,,,ওরা আমার আর হেনলির মেয়ে।, মনে নেই? জন্মের পর থেকেই তুমি ওদের মেয়ে বলে স্বীকৃতি দাও নি,,,,দু বছর পর থেকে সম্পুর্ন দায়ীত্বও ত্যাগ করেছো।সেই থেকেই ওরা আমার মেয়ে,,,,দু বছর বয়সেও ওরা নিজেদের একটা নাম পর্যন্ত পায় নি।কি দিয়েছো তুমি ওদের বাবা হিসেবে?,,, আমি করেছি আমার আম্মুদের জন্য,,,,,থাকা,খাওয়া, পড়াশোনা,, সব আমার টাকায় করেছে ওরা,,,আমি কম রোজগার করি,,, তাই বলে কোনোদিনও তোমার থেকে ওদের জন্য কিচ্ছু চাইনি।,,,আমার সরলতা এতদিন বলতে দেয়নি,,,তবে এই ছেলে দুটো আমায় বুঝিয়েছে সব,,,,আমার আম্মুদের অধিকার নিতে শিখিয়েছে।আজ আমি জোর গলায় বলছি,,,ওরা আমার মেয়ে,,,আমার আর হেনলির মেয়ে,,,তোমরা কেউ নও ওদের,,, তাই ওদের বিয়ের ব্যপারে সিদ্ধান্তটাও আমিই নেবো।তুমি নও ভাইয়া,৷,, আর আমার সিদ্ধান্ত এটাই,,আমি এই জোচ্চর, লম্পট,চরিত্রহীন,নোংরা ছেলেদের সাথে আমার ফুলের মতো মেয়ে দুটোর বিয়ে দেবো না৷,, এমন একটা কালচারলেস পরিবারে ওদের কখনোই পাঠাবো না।,,,"
স্তব্ধ হয়ে গেলো সবাই,,,আমোজ বরাবরই শান্ত স্বভাবের লোক।তিনি যে আজ এই ভাবে ভাইয়ার মুখের উপর এতগুলো কথা বলে দিবে তা কেউই ভাবতে পারেনি।আজিজও অবাক।আমোজের বলা প্রতিটা কথাই সত্যি।,,,, হেনলিও চোখের জল ফেলছে,,আজ থেকে সেও যে মাথা উচু করে বলতে পারবে তার একটা নয়,,তিন তিনটা সন্তান,,,তিনটা রাজকুমারী তার।হৃদ খুশিতে মাকে জড়িয়ে ধরেছে।তার বাবা যে আজ পেরেছে,,পাখিদের অধিকার নিতে।খুব খুশি সে,, পাখিরা আজ থেকে তার নিজের বোন।,,,হ্যা,,নিজের,,একান্তই নিজের বোন।,,,।আবির আজিজের চোখে চোখ রাখলো...
"সেদিন আমার চড়াই পাখিকে কি যেন বলেছিলেন আপনি?,,,,"
এরপর ছেলেগুলোর দিকে আঙুল তাক করে বললো..
"যে,,এদের থেকে ভালো কিছু ওরা ডিজার্ভ করে না তাই তো?"
আজিজ অবাক,,,এই ছেলেটা কি করে জানলো?,,,
"আমাকে দেখুন,,,এই ছেলেগুলোর থেকে হাজার গুনে এগিয়ে,,,,আমার চড়াই পাখি,,,এই আমাকেই ডিজার্ভ করে,,,বুঝেছেন?,,,না অন্যকেউ আমার চড়াই পাখিকে ডিজার্ভ করে,,আর না আমার চড়াই পাখি এদের ডিজার্ভ করে,,,, God made her only for mine,,, only for mine,,,, and no one can broke our relation without God....,,,।"
আবিরের জোর দেওয়া কথা গুলো শুনে আজিজের টনক নড়ে উঠলো।,,,, এতো বড় মাপের একজন,, তার মেয়ের জন্য এমনটা করছে,,,,,,,আবির আবার বলে উঠলো...
"কি ভাবছেন,,,আমি অহংকার করছি তাই তো,?হুম,,আমি অহংকারই করছি,,,কারন আমার অহংকার করার জন্য সেই পজিশনটা আমি তৈরি করে ফেলেছি,৷ আর আমার চড়াই পাখির জন্য আমি দুনিয়া নাড়িয়ে দিতে পারি,,এটা তো শুধু অহংকার বুলি মাত্র,,, বুঝেছেন?,,, "
এরপর আবির তাকালো পাখিদের সৎ মায়ের দিকে,, তার তাকানো দেখেই মহিলা একটা ঢোক গিললো।আবির একপা এগোলো তার দিকে।,,,,
"আপনি,,,,ডাফার মহিলা কোথাকার,৷৷ আপনি জানেন,চাইলেই আপনি সৎ মা থেকে ওদের মা হয়ে উঠতে পারতেন।তবে পারেন নি আপনি।,,,ওদের মতো সন্তানের মা হওয়া যে কতটা ভাগ্যের ব্যপার৷ সেটা বুঝেন নি আপনি।,,,,,ওয়াট এভার।নেক্সটাইম ওদের সাথে কথা তো দুরে থাক,,,ওদের দিকে তাকানোর আগেও এটা মাথায় আনবেন যে ওরা এই আবির বিন চৌধুরী আর নিবিড় বিন চৌধুরীর উড ওয়াইফ।,,,,ওকেয়?"
মহিলা কাপছে,, এই ছেলেগুলোর যে দম কম না তা এতক্ষণে বুঝে গেছে সে।,,,তাই টু শব্দও করলো না।আবির তাকালো আমোজের দিকে..
"কাকাই,,,,এই বাস্টার্ড ফ্যামিলিকে এই মুহূর্তে বিদেয় করো প্লিজ।,,,"
নিবিড় হৃদের সামনে গেল..
"পাখিদের রুম কোনটা?"
হৃদ বললো..
"চলুন ভাইয়া,,, দেখিয়ে দিচ্ছি।,,,,,৷,,,,, ,,,,,,,,
দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো হৃদ,,,,দেখলো চড়ুই খাটে গুটি সুটি হয়ে ঘুমাচ্ছে,, এটা নতুন না,৷ কান্নার কারনে একটু ক্লান্ত হলেই চড়ুই ঘুমিয়ে পড়ে।তা সবাই জানে,,৷ পায়ের দিক থেকে গোলাপি রঙের কম্বলটা চড়ুইয়ের গায়ে জড়িয়ে দিলো হৃদ, তারপর বারান্দায় একবার উকি দিয়ে বেরিয়ে এলো,,,দরজার সামনে এসেই নিবিড়কে বললো..
"চড়ুই পাখি ঘুমাচ্ছে,,,, আর দোয়েল পাখি বারান্দায় আছে।সমস্যা নেই আপনি যেতে পারেন।"
সম্মতি পেয়ে নিবিড় রুমে ঢুকলো।একবার চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বারান্দায় এগোলো।,,,,,,দোয়েল দাড়িয়ে গ্রিলে হাত রেখে,,,,নিবিড় পেছন থেকে গিয়েই দোয়েলের হালকা কোকড়ানো চুল গুলো মুষ্টি বদ্ধ করে নিলো।দোয়েল ব্যথা পেলো,,তবে বেশি নাহ,,,পেছনে ফিরতে গেলেই নিবিড় দাতে দাত চেপে বললো...
"খুব সাহস বেড়ে গেছে না তোমার?আমায় না জানিয়ে চলে এলে?"
দোয়েল বুঝলো,,এটা নিবিড়,,,,,,দোয়েলের দিক থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে নিবিড় দোয়েলকে নিজের দিকে ঘোরালো। আলতো করে থুতনি চেপে ধরলো..
"এখন কেন চুপ করে আছো হুম??, কথা বের করো?,,কাল তো ঠিকই মুখ থেকে বের হয়েছিলো আমাকে না জানানোর কথা।,,,"
চোখ বেয়ে পানি পড়ছে দোয়েলের,,,নিবিড় থমকালো।ছেড়ে দিলো দোয়েলকে।নিচ থেকে দোয়েলের ডান হাতটা নিজের বাম হাত দিয়ে তুলে ধরলো।বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে বললো...
"তুমি চাইলে ঐ ছেলেকে বিয়ে করতে পারো.."
দোয়েল তড়িৎ গতিতে হাত ছাড়ালো..
"ছিহ"
নিবিড় তাকালো দোয়েলের দিকে..
"ছিহ?,,,এখন কেন ছিহ বলছো?,,,সে জন্যই তো ঢাকা থেকে না জানিয়ে চলে এসেছো তাই না?"
দোয়েল নিচের দিকে তাকিয়ে কেঁদেই চলছে।একটু পর পর কেপে কেপে উঠছে।,,নিবিড় গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করলো দোয়েলকে।তার ফোলা চোখ জোড়া,,,লালছে নাকের ডগা,,কম্পমান ঠোট,,শুভ্র গলা,,নীল রঙের ব্লাউজ, হালকা গোলাপি তাতের শারি,,,,মুহুর্তেই রেগে গেলো নিবিড়,,,,লাল চোখ নিয়ে তাকালো দোয়েলের দিকে...
"ঐ ডাফারগুলার জন্য শারি পরেছো তুমি?,,,এখনো খোলোনি কেন শারিটা??"
গর্জনে কেপে উঠলো দোয়েল।
"এতক্ষণ কি করেছো তুমি?"
বলতে বলতেই শারির আচলে জোরে টান মারলো নিবিড়।,,,দোয়েল "আহ!" বলে হালকা আর্তনাদ করলো।চেপে ধরলো বাম দিকের ঘারে।,,,,,শান্ত হলো নিবিড়,,,চেচানো বন্ধ হলো।আরেকটু এগিয়ে গেলো দোয়েলের দিকে।...
"দেখি?হাত সরাও?"
বলেই নিজেই দোয়েলের হাতটা সরালো।টান দেওয়ার ফলে শারিরা খুলে নিচে পরলেও পিনটা ফুটলো দোয়েলের ঘাড়ে।এক বিন্দু রক্তেরও দেখা মিললো।,,,,,
দোয়েল কিছুই বলছে না,,, নিবিড়ের ঘন নিশ্বাস পড়ছে তার ঘাড়ে।আবির দুহাত নিলো সেখানটায়।আস্তে করে পিনটা ছাড়ালো।,,,এরপর ধীরে ধীরে ব্লাউজটা আরেকটু সরালো ঘার থেকে,,,,দোয়েল কেপে উঠলো,,,, কেপে উঠলো তার ঘাড়ও,,,নিশ্বাস ঘন হচ্ছে,,, বক্ষ গহ্বর দ্রুত উঠা নামা করছে তার,,,,,নিবিড় পর্যবেক্ষন করলো তার এটম বোমকে।আলতো হাসলো সে।তারপর করে ফেললো এক অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ,,,,দোয়েল জমে গেলো,,কাপাকাপি বন্ধ হয়ে গেলো আপনা আপনি।,,,,,,নিবিড়ের ঠোটযে তার ঘার স্পর্শ করেছে।,,,,নিবিড় চুষে নিচ্ছে দোয়েলের ঘারে থাকা এক বিন্দু রক্ত। বিলীন করলো তাদের।,,,,,ধীরে ধীরে সরে এলো সে।দোয়েলের চোখ বন্ধ এখনো,,, নিবিড় কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো দোয়েলের মুখের দিকে,,, তারপর হঠাৎ ফু দিলো দোয়েলের মুখে,,,,চোখ খুললো দোয়েল,,,,, একটু সময় নিয়ে নিবিড় বললো...
"আমার ভালোবাসার প্রথম পরশ মিস এটম,,,,মনের গহীনে যত্ন করে লুকিয়ে রেখো।"
বলেই ছাড়লো দোয়েলকে,,,পেছনে ঘুরতে নিলেই দোয়েল ডাকলো..
"শুনুন?"
নিবিড় ফিরলো,,,,ভ্রু উচু করে বললো...
"রিভেঞ্চ দেবে?"
দোয়েল মাথা নোয়ালো।,,,আমতা আমতা করে বললো....
"আ্ আপনার ট্ ঠোটে রক্ত লেগে আছে"
নিবিড় বাম হাত রাখলো ঠোটে,,সামনে এনে দেখলো সত্যিই রক্ত লেগে আছে।আলতো হাসলো সে।,,,,বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে রক্ত টুকু মুছে বললো...
"দ্রুত শারিটা খুলে পুরিয়ে ফেলো।"
বলেই আর এক মুহুর্ত দাড়ালো না,,,চলে গেলো রুম থেকে,,,দোয়েল হতভম্ব হয়ে নিজে নিজেই বলে উঠলো..
"যাহ বাবা,,,,শাড়ি পোড়াবো কেন?"
()()()()()()()()()()()()
সন্ধ্যা ৭ টা,,,,,
"কাকাই,,,,আমি আজই পাখিদের নিয়ে যেতে চাই,,,এখানে আর ওদের থাকা হচ্ছে না।"
আবিরের সরাসরি কথায় নত হলো আমোজ..
"বলছিলাম বাবা,,,রাত প্রায় হয়েই গেছে,,,চড়ুই আম্মুও টায়ার্ড,, এখনো ঘুম থেকেই উঠেনি।এখন এই অবস্থায় কিভাবে??"
নিবিড় বললো..
"যাই হোক কাকাই,,,আমরা আর পাখিদের এখানে একা রেখে যাচ্ছি না।" আমাদের সাথেই নিয়ে যাবো ওদের।"
হেনলি বললো..
"বাবা,,,,একটু বোঝো,,আর তোমরাই বা এত রাতে ঢাকা ফিরবে কেন,,, আমি বলি কি, আজ রাতটা না হয় তোমরা থেকেই যাও,কাল সকালেই আম্মুদের নিয়ে ঢাকায় ব্যাক করো।আর তোমরা এসেছো ধরে এক ফোটা পানিও মুখে তুলো নি,,,একটু কিছু তো খেয়ে নাও বাবা,,,,"
আমোজ বললো...
"দেখো বাবা,,,আমার হয়তো তোমাদের মতো আলিশান কিছু করার সামর্থ্য নেই,,তাই বলে তোমরা এভাবে না খেয়ে এত দুরের জার্নি..."
আবির বললো..
"এসব কি বলছেন কাকাই,,,,এভাবে বলবেন না প্লিজ।,,,,"
একটু থেমে আবির বললো..
"ওকেয়,,,আজ রাতে আমরা এখানেই থাকছি।কাল সকালে না হয় পাখিদের নিয়ে ব্যাক করবো।"
খুশি হলো আমোজ আর হেনলি।ড্রয়িং রুমে তারা ছাড়া আর কেউ নেই,,,হৃদ পাখিদের রুমে।আজিজ আর তার স্ত্রীও তখনের ঘটনার পর থেকে আর বের হয় নি।,,,,হঠাৎ নিবির খেয়াল করলো পর্দার আড়ালে নিরাজ দাড়িয়ে আছে, ,, হাসলো নিবিড়,,,,ঝাকড়া চুল ওয়ালা ছেলেটার মুখে প্রচন্ড মায়া,,,তবে ছেলেটা যে তার মায়ের সঙ্গ পেয়ে খারাপ পথে হাটছে তা ঠিকই বুঝতে পেরেছে আবির নিবিড়।,,, নিবিড় মুখে হাসি টেনে এনে গলা উচু করে ডাকলো...
"হেই বয়,,,,কাম হিয়ার,,,"
নিরাজ নরেচরে উঠলো। বুঝলো সে যে ধরা পরে গেছে।এদিক ওদিক তাকাচ্ছে,, তখনই নিবিড় আবার ডাকলো..
"কি হলো?এদিকে আসো?"
আড়াল থেকে বের হলো নিরাজ।চোখের ইশারায় নিবিড় বসতে বললো তাকে।সেও রোবোটের মতো বসে পড়লো।,,,
"ওয়াটস ইউর নেইম?'
" ন্ নিরাজ,,,, নিরাজ রাহমান"
আবির ঠোট এলিয়ে হাসলো..
"আর ইউ ফিলিং নার্ভাস?"
উত্তর দিলো না নিরাজ,,,
"হুয়াই?"
এবার নিরাজ সরাসরি তাকালো আবির নিবিড়ের দিকে।
"আপনারা কি সত্যিই ওদের বিয়ে করবেব?"
আবির হেসে বললো...
"ওদের বলতে?"
"ঐ যে,,,দোয়েল আর চড়ুই?"
একটু থেমে নিবিড় বললো..
"আপু বলে ডাকো না ওদের?,,,তোমার তো বড় হয় ওরা,,,"
"হ্যা,,,বাট,,,আপু ডাকি না তো,,,,আম্মু না করেছে।"
নিবিড় একটু অবাক হয়ে গেলো...
"আম্মু না করেছে কেন?"
"কজ আম্মু বলে ওরা তো আমার নিজের বোন না,,,আর না আম্মুর নিজের মেয়ে,,, তাই আপু ডাকার প্রশ্নই উঠে না।"
আবির বললো...
"তুমি হয়তো জানো ওদের বাবা তোমার বাবাই।"
"ইয়াহ,,আই নো,, বাট,,,তাতে কি,, আম্মু বলে ওদের সাথে কখনো ভালো ব্যবহার করতে নেই।,,,ওরা তো বাজে,,,সুযোগ পেলেই আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিবে।,,,"
আবির বললো...
"বাট,,,এটা কি ঠিক??ওরা কি কখনো তোমায় মেরেছে?বা অন্যকিছু?"
"নো,,,,, আর এটা হবে কিভাবে,,আমি তো ওদের সাথে তেমন কথাই বলি না।"
"কেন?ওরা বলতে চায় না?"
"তেমন কিছুই না,,,ওরাতো সারাক্ষণ ভাই ভাই করে মুখের ফ্যানা তুলে ফেলে।আমিই পাত্তা দিই না।কজ,,আম্মু না করেছে।"
অনেকক্ষণ ধরে কথা হলো আবির নিবিড় আর নিরাজের মধ্যে। আমোজও সব শুনলো।হেনলি গেলো কিচেনে রাতের রান্নাটা সাড়তে।,,,,
******
দরজায় কড়াঘাত পেয়েই দোয়েল তাকালো সেদিকে,,,দরজা খোলাই,,হালকা ভেরানো,,,পাশে থাকা চড়ুইয়ের দিকে একবার তাকালো,,,নাহ ঠিক ভাবেই শুয়েছে।দোয়েল ভেতরে আসতে বললো,,,,,,প্রবেশ করলো নিরাজ।দোয়েল অবাক চোখে তাকালো,,৷ সচরাচর ভাই কখনো এই রুমে আসে না।,,,আর না তাদের সাথে কথা বলে,,,তাহলে আজ কেন??,,,,,,,
নিরাজ এসে দাড়ালো দোয়েলের মুখোমুখি,,, একবার তাকালো চড়ুইয়ের দিকে ,,,, তারপর আবার দোয়েলের দিকে তাকিয়ে রইলো,,,, দোয়েলও বোঝার চেষ্টা করছে কি করছে নিরাজ।হঠাৎ করেই নিরাজ দোয়েলের গলা জড়িয়ে ধরলো,,,কেদে দিলো তার ছোট ভাইটি...
"সরি আপু,,,আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দাও,,,আমি তোমাদের সাথে অনেক অন্যায় করেছি।,,,"
দোয়েল অবাক হয়ে বললো..
"ভাই??"
"প্লিজ আপু,,আমায় ক্ষমা করো,,আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি,,,,আম্মু যা বলতো তা সত্যি নয়,,, তোমরা বাজে নও,,তোমরা সত্যিই ভালো,,,,"
" ভাই,,,ত্ তুই হঠাৎ এভাবে,,,কাদছিস কেন?"
"আমাকে ভাইয়ারা সব বুঝিয়েছে আপি,,যে আমি এতোদিন যা করেছি তা ঠিক নয়,,,আমাকে তোমরা মাফ করবে তো আপু?"
দোয়েলের চোখে জল চলে এলো,,,এই ভাই তাদের সব সময় নাম ধরেই ডাকতো,,আর আজ কিনা আপু আপু বলে মুখের ফেনা তুলে ফেলছে,,,?কি করে হলো এটা?আবির ভাইয়া,,নিবিড় ভাইয়া কি এমন বোঝালো তার এই ছোট্ট ভাইটাকে?",,,
,,,,,"ছেলে মানুষ হয়ে এতো কাদছো?"
বলতে বলতেই ভেতরে ঢুকলো আবির,,,সাথে নিবিড়ও।