Mr and Mrs Twins

পর্ব - ২৮

🟢

সময়ের সাথে সাথে ট্রেনও এগিয়ে যাচ্ছে ঢাকার দিকে,,,দোয়েল ঘুমাচ্ছে নিবিড়ের বুকে,,,নিবিড়ও তাকে আগলে আছে।চড়ুই গেইমস খেলছে,,,অন্য দিকে তার মন নেই।,,,,,,,এদিকে একটু পর পাশের সীটে থাকা বৃদ্ধাটি আবিরকে ডাকলো,,,আবির গিয়ে তার পাশে বসলো।,,,,

"ওরা কে গো বাবা?"

আবির মুচকি হেসে বললো..

"হবু বউ,,,"

"মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর,,, তা এতো রেগে কেন তোমার বিবি?"

আবির একবার চড়ুইয়ের দিকে তাকালো,,,তারপর আবার বৃদ্ধার দিকে তাকিয়ে বললো...

"সব সময় এমনই,,,ঝাসের রানি,,,"

পাশে থাকা একটা মেয়ে বললো..

"তাহলে তো সামলাতে অনেক ঝামেলা,,,"

আবির মৃদু হাসলো...

"উহুম,,,,ওর এমন দস্যিপনাই ভালো লাগে,,"

বৃদ্ধা হাসলো,,,,

"ওদের তোমরা আগলে রেখো বাবা,,,দেখেই মনে হয় সহজ সরল।"

পাশ থেকে আরেকটি মেয়ে বললো...

"দু জোড়া টুইন্স। আমি এর আগে কখনো দেখিনি।"

একটা ছেলে বলে উঠলো..

"আমিও,,,তাও আবার Mr and Mrs twins,, "

সবাই হাসলো,,,,এমনই টুকটাক কথা হলো আবিরের সাথে,,,নিবিড়ও শুনলো,,,হাসলো।তবে চড়ুইয়ের এতে কোনো মন নেই,,,ফোনই এখন তার দুনিয়া।,,,

ঢাকা পৌঁছেই আবির নিবিড় প্রথমে পাখিদের হস্টেলে পৌছে দিলো,,,তারপর নিজেরাও চললো গন্তব্যে।,,,,,

রাত ৮:৩০।।।

মাত্রই বাড়িতে ফিরলো আবির নিবিড়,,,,মোটামুটি শান্ত বাড়িটা,,,জেসি আর আহিশ টিভি দেখছে।বিপাসা রান্না ঘরে,, সাবিহা নিজের রুমে,,বাকিরাও তাই,,,,,,,,মুহুর্তেই মনটা বিষিয়ে উঠলো আবির নিবিড়ের।পাখিরা থাকলে এতোক্ষণে পুরো বাড়ি চিল্লিয়ে বেরাতো।,,,,,,রুমে চলে গেলো তারা।।,,,,ফ্রেশ হয়ে আবির ল্যাপটপ নিয়ে ড্রয়িং রুমে এলো,,,দেখলো সাবিহারা সবাই এক জোট হয়ে জিসানের ল্যাপটপে তাকিয়ে,,,হুম,,,দোয়েলকে দেখা যাচ্ছে। আবিরকে দেখেই দোয়েল আহিশের দিকে তাকিয়ে বললো...

"এটা কোন ভাইয়া??"

আহিশ দুষ্টুমি করে বললো...

"কেন তুই চিনিস না?"

দোয়েল বিরক্ত হয়ে বললো..

"আহ,,,,ফোনে চোখ গুলো বোঝা যাচ্ছে না।"

তখনই সাবিহা আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো..

"কফি বলবো আবির বাবা??"

আবির বললো..

"কড়া করে ব্ল্যাক কফি।"

সাবিহা উঠে চলে গেলো।,,,দোয়েল কথা শুনে বুঝলো এটা যে আবির,,,তাই হালকা চেচিয়ে বললো..

"আবির ভাইয়া??"

আবির তাকালো স্ক্রীনে।

"ধন্যবাদ,,,, ফোনের জন্য.. "

আবির হালকা হাসলো..

"এটা তোমাদের প্রাপ্য ছিল,,,, "

একটু থামলো,, তারপর বললো...

"চড়াই পাখি কোথায়??"

দোয়োল হেসে বললো,,

"দাড়াও,,,দেখাচ্ছি।। "

বলেই ক্যামেরা ঘোরালো,,,,,

সেই ফ্লোরে পাতানো বিছানায় চড়ুই উপুর হয়ে ঘুমাচ্ছে,,,, ফর্সা হাত দুটো মাথার উপরে তুলে দিয়েছে,,,,আবির বিরক্ত হলো,,,মনে মনে ভাবলো...

"কি হতো,,ট্রেনে আমার বুকে একটু ঘুমালে?,,,এখন আমায় অশান্তিতে রেখে নিজে ঘুমাচ্ছে।। "

দোয়েল বললো....

"দেখলে??"

আবির দাতে দাত চেপে বললো...

"হুম,,,ভালো করেই দেখছি।'"

ক্যামেরা ঘুরিয়ে ফেললো দোয়েল,,,আবিরও নিজের কাজে মন দিলো।,,,,সবাই গল্প করছে দোয়েলের সাথে।,,,,,নিবিড় আসে নি,,,রুমেই আছে।,,,,,ভালো লাগছে না তার,,,কি করবে নিচে গিয়ে? তার এটম তো নেই,,,,কল দিয়েছে দুবার।ব্যস্ত,,,,কার সাথে যে এতো কথা বলে মেয়েটা?,,,রাগ হচ্ছে নিবিড়ের,,,,বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে,,,,উপরে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে নিজে নিজেই বলে উঠলো...

"তোমাকে বেশিদিন দুরে রাখা ইম্পসিবল মিস এটম,,,,আমি পারবো না আরো এক বছর ওয়েট করতে,,,একদমই পারবো নাহ।আই নিড ইউ,,,,ম্যাডলি আই নিড ইউ।।।"

★★★★★★★

সময় চলছে তার নিজ গতিতে,,,আহিশের বাড়ি থেকে ফিরেছে প্রায় দের মাস হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় দু তিন দিন পর পরই আহিশের বাড়ির সবার সাথে কথা বলেছে পাখিরা,,,,মায়ায় পড়েছে যে সবার,,,এমন কি আজমলরাও প্রতিদিন রাতে খেতে বসে একবার হলেও জিজ্ঞেস করবে,,,"আম্মুদের সাথে কথা হয়েছে?",,,,,,,এটা যেন সবার নিত্য দিনের রুটিন।তেমনি সাবিহাও মাঝে মাঝেই নিজের রান্না পাঠায় আহিশকে দিয়ে পাখিদের জন্য,,,, তারাও টিফিন টাইমে খেয়ে সাথে সাথেই সাবিহাকে ফোন করে বলবে...

"উমম৷ আন্টি,,,অমৃত পাঠিয়েছো তুমি,,,"

আবির আর নিবিড়ের কথা নাই,,বললাম,,,,প্রতিদিন ভার্সিটির সামনে থাকবেই ছুটির সময়,,,মাঝে মাঝে পাখিদের ড্রপ করে দেয়,,,আবার কাজের চাপ থাকলে দুর থেকে দেখেই চলে যায়।,,,,,,,

আজ প্রায় ৬ দিন পাখিরা কলেজ থেকে বেরিয়ে আবির নিবিড়কে দেখেনা,,,মুহুর্তেই মন খারাপ হয় তাদের,,,, তবে কেন,,তা তারা জানে না,,,হয়তো মোহ,,,তবে এতোদিন কি মোহ থাকে?কনফিউশন,,,দুজনের মধ্যেই।,,,, থাকবে কি করে,,,টুইনস ব্রাদার্স যে আবার ইউ এস এ গেছে বিজনেসের কাজে।,,,,তবে নিবিড় ঠিকই প্রতিদিন রাতে ফোন করে দোয়েলকে জ্বালায়,,,,কিন্তু আবির শুধু বলবে...

"খেয়েছো?"

"হুম"

"ওকেয়,,, বেশি রাত জেগে পড়ার প্রয়োজন নেই।"

"হুম"

"গেইমও অফ "

"হুম"

"ঠিক আছে,,, ঘুমিয়ে পরো,,,গুড নাইট চড়াই পাখি"..

ব্যাস,,,চড়ুইয়ের মাঝে মাঝে রাগ হয়,,,পাশে বোনের সাথে নিবিড় ভাই কি সুন্দর কথা বলে দের ঘন্টা,, ২ ঘন্টা,,আর ইনি?আর কিছু কি বলতে পারে না? আজব,,,,,,,,"

আবার নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে...

"আচ্ছা,,, নিবিড় ভাইয়া তো বোনকে ভালোবাসে,,,,উনি কি আমায় বাসেন নাকি,,যে ২ ঘন্টা কথা বলবে?,,,,তাহলে আবার এই টুকু খোজও কেন নেন?ধুর,,,চড়ুই,,,,তুই পাগল হয়ে যাচ্ছিস দিন দিন।"

পার হলো আরো দু দিন।,,,,,কলেজে ক্লাসে বসে আছে পাখিরা,,,কেয়া,রাবতি,আর সুহাস,,,,অপেক্ষা আহিশের,,,,অনেকক্ষণ পরও আহিশ এলো না,,,রাবতি বললো..

"ব্যপার কি,,,আহিশ তো না বলে এভাবে গ্যাপ দেয় না?"

চড়ুই বললো..

"কে জানে,, হঠাৎ এই আহিশসার বাচ্চার কি হলো,,"

কেয়া বললো...

"নিশ্চই কোনো মেয়ের পিছে লেগেছে,,,তাই টাইম লাগাচ্ছে। "

দোয়েল একটু চিন্তিত স্বরে বললো...

"আরে নাহ,,আহিশ এমন নাহ,,,,আমার কেমন জানি অন্য কিছু মনে হচ্ছে... "

সুহাস বললো...

"তেমব কিছুই না,, কাল বলেছিলাম,,আজকে ট্রিট দিতে,,,,হৃদীকে পটিয়েছে কিনা?,,হয়তো ট্রিট দেওয়ার ভয়েই আসছে না,, "

হাসলো সবাই সুহাসের কথায়,,,একটু পরেই বেল পড়লো,,,সুহাস ব্যাগ কাধে নিতে নিতে বললো...

"এই এই,,আমি গেলাম,,,আজ আবার মুরাদ মিয়ার ক্লাস আছে,,,এক মিনিট দেরি হলেও টাকলা আমায় কানে ধরিয়ে বাইরে দাড় করিয়ে রাখবে।"

বলতে বলতেই দৌর।,,,আরেক দফা হাসির রোল,,,,টানা দুইটা ক্লাসের পর একটু গ্যাপ পেলো সবাই।এই সুযোগে চড়ুই আহিশের নম্বরে ডায়াল করতে করতে বললো....

"দারা,,,ব্যটারে কল দিয়া দেখি,,,কাহিনি কি,,"

রিং হয়ে কেটে গেলো,,,,সবাই ভ্রু কুচকালো,,,,,কেয়া বললো...

"আহিশ তো এমন করে না কখনো,, "

দোয়েলের কেমন যেন চিন্তা হচ্ছে,,,, তাড়া দিয়ে বললো....

"আবার ডায়াল করতো বোন,৷ "

চড়ুইয়েরও চিন্তা হচ্ছে,, বললো...

"হুম,,করছি,,,,"

আবার করলো,,,ধরলো না,,,,পরপর চার বার কল দেওয়ার পর রিসিভ হলো।।।

"হ্যা পাখি বল,,,"

"কল ধরছিলি না কেন??,,আর কলেজও আসিস নি,,"

"আমি এয়ারপোর্টের লাইনে আছি,,,,ভাইয়ের গাড়ি পিক আপ করছি,,,"

"গাড়ি পিক আপ করছিস মানে??আবির ভাইয়ারা ফিরেছে??"

খুশি হয়ে বললো চড়ুই,,,,চড়ুইয়ের কথা শুনে দোয়েল ফোন টেনে লাউড দিলো,,,,

"হুম,,তবে একটা খবর আছে,,,"

দোয়েল ভ্রু কুচকে বললো.....

কি খবর??"

"ভাইয়েরা এক্সিডেন্ট করেছে,,,তাই ওদের জিসান ভাই হসপিটাল নিয়ে গেছে, আর আমি কার পিক করছি।'"

হার্ট থমকে গেলো পাখিদের,,,,কি শুনলো এটা??,,,একসাথেই চেচিয়ে বললো...

",কিহ!!!"

আহিশ বললো...

"হ্যা,,,,ঐ আরকি,,আসার সময়...."

চড়ুই তাড়া দিয়ে বললো...

"কোন হসপিটাল? "

"টেকটোনাস এ আছে,,,,তেমন কিছু...."

আর কে শোনে কার কথা,,,রেখে দিলো ফোন,,,,দ্রুত উঠে দাড়ালো চড়ুই,, ব্যাগ গোছাতে লাগলো,, আপনাআপনিই চোখ থেকে পানি পড়ছে,,,,,

দোয়েল ত মেরে বসে আছে,,,,তার মাথায় একটা কথাই ঘুরছে৷৷ কাল রাতেও নিবিড় দুষ্টামীর ছলে বলেছিলো...

"হারিয়ে গেলে বুঝবে মিস এটম..."

কেয়া আর রাবতি বার বার বলছে...

"কি করছিস ছোটপাখি?,,,এমন করছিস কেন?,,,আরে,, আহিশের ভাই এক্সিডেন করেছে,,তুই এমন করছিস কেন??"

"ছোট পাখি এখন ভুলেও বের হোস নাহ,,,আরাব স্যারের ক্লাস,,,টের পেলে তুই শেষ।,, "

চড়ুই নিজের মতোই কাজ করছে,,,,শেষে দোয়েলের দিকে চোখ পরতেই বললো...

"বোন,,,যাবি না??"

দোয়েলের ঘোর কাটলো,,,উঠে দাড়িয়ে বললো,,,

"চল,,,"

দৌড়ালো দুজন,,,,,দরজার সামনে আসতেই আরাব স্যারের মুখোমুখি,,,

"কোথায় যাচ্ছো তোমরা??"

চড়ুই বললো...

"ইনপর্টেন্ট স্যার,,,,প্লিজ যেতে দিন,,,"

"নো,,,,ক্লাসে যাও,,,"

দোয়েলের মাথা ঠিক নেই,,,,বিরক্ত নিয়ে স্যারকে একপ্রকার ঠেলেই বেরিয়ে এলো,,,তার দেখাদেখি চড়ুইও বেরোলো,,,এদিকে পেছন থেকে আরাব নামক আগ্নেয়গিরি পাখিদের গুষ্টি উদ্ধার করছে,,,,,,

,,,,কোনো মতে কলেজ থেকে বেরিয়ে রিক্সা নিয়ে হসপিটাল পৌছালো পাখিরা,,,,দুজনেই কাদছিলো,,,তাদের এমন কান্ড দেখে রিক্সাওয়ালা বারবার পেছনে ফিরে তাকালো।,,,,,,,

হসপিটাল তে পৌছালো ঠিক,,,তবে কোন ফ্লোর,,কত নম্বর কেবিন কিছুই জানা হয়নি,,,এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে দোতলা পর্যন্ত পৌছালো তারা,,,,হঠাৎ জিসানকে দেখেই,,,দৌরে গেলো তার কাছে.....

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ২৮ গল্পের ছবি