Mr and Mrs Twins

পর্ব - ৩২

🟢

মোড় থেকে গাড়িটা অন্য দিকে যেতেই দোয়েল একটু চেচিয়ে বললো...

"একি?,,,এটা তো হস্টেলের রাস্তা নয়?,,"

চড়ুইও তাল মিলিয়ে বললো..

"হুম তাইতো?,,,আমরা কোথায় যাচ্ছি? "

আহিশ বললো..

"চৌধুরী ভিলা,,,"

দোয়েল বললো..

"চৌধুরী ভিলা?মানে তোদের বাড়ি?,,,"

আহিশ চিল নিয়ে বললো...

"ইয়েস,,,,"

চড়ুই বললো..

"কিন্তু আমরা সেখানে যাচ্ছি কেন?"

জেসি বললো..

"সেটা গেলেই দেখতে পাবে,,,"

দোয়েল বলতে নিলো..

"কিন্তু... ".

বিপাসা বললো...

" কোনো কিন্তু নাহ,,,চুপচাপ বসো তো,,পরে তোমার আবার মাথা ব্যথা করবে।"

চড়ুই বললো..

"রাবু,,কেয়ারা তো হস্টেল যাচ্ছে... "

আহিশ বললো..

"ওরা পরের গাড়িতে আছে,,,আমাদের সাথেই যাচ্ছে।"

আর কিছু বললো না পাখিরা,,, সকাল থেকেই এদের কথাবার্তা সুবিধার লাগছে না পাখিদের,,, কয়েক বার জিজ্ঞেসও করেছে,তবে কোনো লাভ হয়নি।,,,,,

চৌধুরী ভিলার সামনে গাড়ি থামতেই আবির নিবিড় আস্তে করে পাখিদের ধরে ধরে বাড়ির ভেতর এগিয়ে নিতে লাগলো। পেছন পেছন বাকিরাও এলো।,,,,দরজা খুলতেই সাবিহাকে চোখে পড়লো সবার,,,হাসি মুখে এগিয়ে এলো পাখিদের কাছে।

"আমার আম্মুরা,,,,ইশশশ মুখটা একদম শুকিয়ে গেছে দুজনের।,,,, হসপিটালে একদম ভালো লাগেনি,,,তাই না আম্মু?"

এসব বলতে বলতেই একসাথে পাখিদের জরিয়ে ধরলেন তিনি,,,তারপর ছেড়ে আদর করতে লাগলেন,,,,,,,চড়ুই বাচ্চাদের মতো মুখ ফুলিয়ে বললো..

"একটুও নাহ আন্টি,,,,হসপিটালের ফিনায়েলের গন্ধটা না?কি আর বলবো,,,,আমি শীতকালে যদি টানা দু মাসও গোসল না করি,, তবুও এমন বাজে গন্ধ লাগে না,,,"

চড়ুইয়ের কথা শুনে সবাই হাসতে লাগলো,,,আবির নাক কুচকে বললো..

"উমমহ,,,নোংরা মেয়ে,,,,আজ থেকে প্রতিদিন গোসল করবে তুমি,,"..

চড়ুই বোকার মতো বললো.

" বাআআরে,,আমি কি বলেছি নাকি,আমি টানা দু মাস গোসল করি না?,,,,আমার তো ঐ মাঝে মাঝে ৫-৬ দিন পর পর হয়,,,তাও শুধু শীত কালেই।,,,"

জেসি বললো..

"ইশশ,,,এতদিন?"

দোয়েল বললো...

"আমার বোনই এসব পারে,,,ও তো খারুশ একটা,,,,"

সাবিহা বললো...

"ঠিক আছে,,, ঠিক আছে,,,আমার আম্মুর যতদিন ইচ্ছে ততদিন না গোসল করে থাকবে,,,কেউ কিচ্ছু বলবে না,,, "

পেছন থেকে হৃদ বলে উঠলো...

"কি যে বলো আন্টি,,,কাল থেকেই তো রেগুলার গোসল দেওয়া লাগবে পাখিদের। তাও আবার সকাল সকাল,,,"

বলেই মিটমিট করে হাসতে লাগলো, আহিশ ফোড়ন কেটে বললো....

"হুম,, তাই তো,,,,তবে হৃদ বউ,,,তোমার যদি সকাল সকাল গোসল নেওয়ার ইচ্ছে হয় আমায় বলো হ্যা,,,আমি না হয় পুরন করে দেবো।"

হৃদ রেগে গেলো,,,,

"আবার পেছনে লাগছে,,,,এই আপনার লজ্জা সরম নেই,,,বড়দের সামনে এসব বাজে বকছেন?"

আহিশ ভাব নিয়ে বললো...

"তুমি যদি পাখিদের নিয়ে বলতে পারো,,তাহলে আমি তোমায় নিয়ে বলতে পারবো না কেন??"

আবির বললো...

"ব্যাস,,,,ভুলে যাস না আজ আরো কাজ আছে সবার,,,,এখানে না দাড়িয়ে ভেতরে চলো।,,"

আবিরের কথায় সায় জানিয়ে ভেতরে ঢুকলো সবাই।,,,,পাখিদের নিয়ে আগের রুমটায় গেলো,,,,,জুলেখা,তানিজও আছে,,,তানিজ বললো...

"পাখিরা তাহলে গোসল নিয়ে নিক?"

চড়ুই হাত তুলে বললো...

"হ্যা,,,হ্যা,,,আগে আমি যাচ্ছি,,,, গা থেকে কেমন হাসপাতালের গন্ধ বের হচ্ছে।,, "

আবির বললো...

"ঠিক আছে,,,,,বিপাসা ভাবি,,, তুমি ওর সাথে একটু যাও তো।দেখো যাতে ক্ষততে পানি, সাবান এসব না লাগায়।".

চড়ুই বললো...

" ভাবি কেন শুধু শুধু কষ্ট করবে,,,আমি একাই পারবো।,,,"

আবির বললো...

"বেশি করলে আমি নিজেই যাবো তোমায় গোসল করাতে,,,তখন ভালো লাগবে?"

চড়ুই থতমত খেয়ে গেলো,,,,

"ছি,,ছি ছি,,কি বলছেন এসব,,,"

তারপর সাবিহার দিকে তাকিয়ে বললো...

"দেখছেন তো আন্টি,,,,আপনার ছেলে কেমন ছেচরা হয়ে যাচ্ছে,, "

সাবিহা হাসলো,,,,বললো..

"এই একটু আকটু ছেঁচড়া না হলে চলে না আম্মু,,,হতে হয় সবাইকে।"

"ইশশ আন্টি,,,তুমিও ছেলের পক্ষ নিচ্ছো?,,,আর আপনি,,,লজ্জা করছে না নিজের মায়ের সামনে এসব বলতে?"

আবির দু দিকে মাথা নাড়িয়ে বললো...

"একটুও না,,,,,শুধু বলা না,,,বারাবাড়ি করলে করেও দেখিয়ে দিবো।,,,"

"ছিহ,,,"

বলেই চড়ুই মুখ বাকালো।,,,,,,

নিবিড় দোয়েলের দিকে হালকা ঝুকে বললো...

"একটু ভালো করে শাওয়ার নিও মিস এটম,,,,,নাহলে রাতে আপসোস করবে,,,"

দোয়েল ভ্রু কুচকে বললো...

"মানে?"

"তা সময় এলেই বুঝবে।"

বলেই রুম ছাড়লো নিবিড়,,,একে একে সবাই বেরিয়ে গেলো শুধু হৃদ,জেসি,বিপাসা ছাড়া,,,,তারা পাখিদের দেখে রাখার জন্যই রয়ে গেছে।,,,,,,,,

((()()()()))(((()()))(()))

সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৬ টা,,,,

কেয়া,রাবতি,জেসি,বিপাসা,হৃদ সবাই পাখিদের রুমে।,,,একটু আগেই পাখিদের নিচ থেকে টেনে টুনে এনে রুমে ভরলো।তারপর থেকেই অত্যাচার চলছে তাদের উপর।,,,পাখিদের ব্যপারটা ঠিক হজম হচ্ছে না।,,,,,,নিচে দেখলো অনেকেই এসেছে।আমোজও আছে,সাথে হেনলি,,,সেদিনকার আবিরদের সেই ফ্রেন্ডগুলোও আছে।আরো কয়েকজনকে দেখলো পাখিরা। তাদের ঠিক চিনে না,,,,,,।

অত্যাচার বলতে অন্যরকম অত্যাচার।,,,জোর করে পাখিদের শাড়ি পরিয়েছে তারা।আড়ং কটনের শাড়ি।নীলছে বেগুনি,,আর খয়েরি মিশ্রিত।ব্লাউজটাও খয়েরি।,,,দুজনেরই একই শারি।গলায় সিম্পল লকেট যুক্ত চেইন।কানে দুল,,হাতেও চুড়ি পড়িয়েছে।,,পাখিরা আটকাতে পারছে না,,,,সবাই মিলে ভুলিয়ে ভালিয়ে তাদের তৈরি করছে।,,,শাড়ির আচলটা এক পিন আপ করে ছেড়ে দিয়ে জেসি বললো...

"ব্যাস,,,,ছোট পাখিও রেডি।,,"

হৃদ বললো..

"এবার চলো তাহলে?"

দোয়েল অবাক হয়ে বললো...

"কোথায়?"

চড়ুই বলে উঠলো..

"এই আমার কিন্তু টায়ার্ড লাগছে,,,এখন কোথাও যাওয়ার মুড নেই,,,"

বিপাসা বললো...

"কোথাও না ছোট পাখি,,,,বাড়িতেই,,,ড্রয়িংরুমে চলো।"

"কেন ভাবি?",

দোয়েল বললো...

" আমরা ড্রয়িং রুমে যাওয়ার জন্য এতো সেজেছি?"

হৃদ বললো..

"ইয়েস মাই বার্ডস।,,,"

জেসি বললো...

"এখন চলো তো,,,,দেরি হয়ে যাচ্ছে।"

,,,আবার ঠেলতে ঠেলতে ড্রয়িংয়ে নিয়ে আসলো তাদের,,,,সবাই উপস্থিত,,,,,, পাখিদের নিয়ে সোফায় বসালো।,,,,দোয়েল একটা সোফায় বসতেই,,,চড়ুই তার পাশে বসতে চাইলো,,,,তার আগেই নিরাজ তাকে টেনে বললো...

"এই,, আপু,,,তুমি এ সোফায়,,,"

বলতে বলতেই হাত ধরে নিয়ে সামনাসামনি আরেকটা সোফায় বসালো।,,,চড়ুই বিরক্ত হয়ে বললো...

"কাকাই,,,,আঙ্কেল,,,তোমরা কেউ বলবে,,আসলে হচ্ছে টা কি?,,,আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না,,,"

দোয়েল বললো...

"আমিও,,,"

আমোজ বসে থেকেই বললো...

"যা হচ্ছে তোদের ভালোর জন্যই হচ্ছেরে আম্মু,,,"

,, তখনই উপর থেকে আবিরদের বন্ধুগুলো আবির আর নিবিড়কে নিয়ে হাজির হলো,,,,পাখিরা তাকালো তাদের দিকে।খেয়াল হলো,,,হসপিটাল থেকে ফেরার পর আর রুম থেকে বের হয়নি এরা।হয়তো ঘুমিয়েছে,,,,আবিরের চোখে তো এখনো ঘুম,,,,তার চুল গুলোও এলোমেলো,,,,পড়নে এ্যাশ কালারের ফুল স্লিভ গেঞ্জি,, যেটা দু হাতেই ফোল্ড করা,,,,আর নিচে হাটু পর্যন্ত থ্রি কোয়াটার প্যান্ট।,,,,অন্যদিকে নিবিড়ের চুল পরিপাটি,,,গেঞ্জি সেইম হলেও,,, নিচে ফুল প্যান্ট আছে তার,,,,হয়তো ফ্রেশ হয়ে তারপর এসেছে।,,,,,নিবিড় দোয়েলের দিকে তাকিয়ে আলতো হাসলো,,,,তার এটম যে আজ শাড়ি পরেছে,,,,,হালকা কোঁকড়ানো চুলগুলোও খোপা করা,,,,,,দোয়েলও তাকালো নিবিড়ের দিকে,,,উহুম,,তার মন ভোলানো হাসির দিকে,,,,কি অপরুপ লাগে নিবিড় হাসলে,,,তাই না?,,,,ভাবতে ভাবতেই নিবিড় এসে তার পাশে বসলো,,,,,,,দুজনই হাসলো একটু,,,,,

এদিকে চোখ ডলতে ডলতে আবির এসে ধপ করে বসে পড়লো চড়ুইয়ের পাশে,,,,চড়ুই নাক কুচকে বললো...

"অসহ্য,,,, অন্য জায়গা দেখেন না বসার জন্য? ব্যবসার থলে কোথাকার,, "

আবির তার কথায় পাত্তা না দিয়ে হামি দিতে দিতে বললো,,,,

"শুরু করেন কাজি সাহেব।"

"হ্যা বাবা...!"

চড়ুই ডানে আর দোয়েল বামে তাকাতেই চোখ গেলো বয়ষ্ক দাড়ি ওয়ালা লোকটার দিকে,,,ইনি কাজি,,,বোঝাই যাচ্ছে। তবে এখানে কি কাজ,,,,দোয়েল বললো...

"কাজি?"""

আমোজ তাকালো একবার নিজেকে আড়াল করে রাখা দুরে আজিজের দিকে,,,,তারপর আবার দোয়েলের দিকে তাকিয়ে বললো...

"তোদের ভালোর জন্যই আমরা এত দ্রুত বিয়েটা দিচ্ছি তোদের,,,,তুই একটু বোঝ আম্মু,,,,"

দোয়েলের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো,,,,,দ্রুত মাথা ঘুরিয়ে নিবিড়ের দিকে তাকালো,,,,নিবিড় হাসছে,,,প্রাপ্তির হাসি।চড়ুইও অবাক,,,, তবে সে মুখে হাসি ফুটিয়ে নিবিড়ের দিকে আঙুল তাক করে বললো...

"বোনের বিয়ে,,,,নিবিড় ভাইয়ের সাথে?"

আজমল বললো...

"হ্যা রে আম্মু,,,,"

চড়ুই খুশিতে হাত তালি দিয়ে উঠলো,,,,তখনই সোফার পেছন থেকে সুহাস বলে উঠলো...

"এতো লাফাস না,,,,,বিয়ে টা তোরও হচ্ছে।। "

শেষ চড়ুইয়ের লাফালাফি।,,,,চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,,,...

"আমারও বিয়ে?"

রাবতি বললো..

"হ্যারে বাবা,,,তোরও বিয়ে,,,"

চড়ুই নাথা চুলকে বললো...

"কিন্তু আমার বর কই?,,বোনের বর তো ওর পাশেই আছে।"

আহিশ হেসে বললো...

"তোর বরও তোর পাশেই আছে,,"

"আমার পাশে..."

বলতে বলতেই পাশ ফিরতেই চোখ পড়লো সোফায় হেলান দিয়ে হামি দিতে থাকা আবিরের দিকে।,,,, চোখ যে কোটর থেকে বেরিয়ে এলো চড়ুইয়ের।,,,,, চেচিয়ে বলে উঠলো...

"অসম্ভব,,,,"

সবাই তার চেচানোয় তাকালো,,,,,জিমান বললো...

"কেন রে ছোট পাখি,,,, আমাদের আবিরকে বর হিসেবে পছন্দ হয় নি?"

চড়ুই একটু সরে বসলো আবিরের থেকে,,,আবিরের এসবে একটুও হেলদোল নেই,,,,,,,চড়ুই তার দিকে হাত দিয়ে দেখিয়ে বললো...

"এই ব্যবসার থলেকে দেখে কোন এঙ্গেল থেকে মনে হয় উনি এখন বিয়ে করতে বসেছে?"

জুলেখা বললো...

"মানে?"

"মানে আবার কি,,,,এভাবে হাফ প্যান্ট পরে বিয়ে করতে আমি জন্মের গতেও কাউকে দেখিনি,,,,,"

আবির আগের মতো অবস্থায় থেকেই বললো...

"ঠিক করে বলো চড়াই,,,, এটা হাফ প্যান্ট নাহ,,,থ্রি কোয়াটার।"

চড়ুই তেতে বললো...

"আরে রাখেন আপনার থ্রি কোয়াটার,,,,আপনি যা ইচ্ছে পড়েন,,,থ্রি ফোর,ফাইভ, সিক্স যেই কোয়াটারই পরেন না কেন,,,আমি এই বিয়ে করতে পারবো না।,,,"

দোয়েল চিন্তার স্বরে বললো...

"কাকাই,,,এভাবে হুট করে না জানিয়ে..."

বলতেই হাতে কারোর স্পর্শ পেলো,,,তাকালো দোয়েল,,নিবিড় তার দিকেই শান্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আছে,,,, দোয়েলের মন কেমন করে উঠলো,,,নিবিড় বললো..

"ভালো বাসো না আমায়?,,,,"

দোয়েল কি বলবে বুঝতে পারছে না,,,নিচের দিকে মুখ করে নিলো।।এটাকে সম্মতি হিসেবে নিয়ে নিবিড় বললো...

"তাহলে বিয়ে করতে প্রবলেম কি এটম?"

একটু থামলো নিবিড়..

"তুমি জানো না,,,ঐ দিন যখন তোমায় ঐ রকম রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেছিলাম,,,আমার দুনিয়া থেমে গিয়েছিলো দোয়েল।,,,বারবার মনে হচ্ছিল আমি তোমার কাছে ঠিক সময় আসতে পারিনি,,,,যেটা এখনো মনে হয় আমার,,,,তবে একই ভুল আমি আর দ্বিতীয় বার করবো না মিস এটম।,,,আর কাছ ছাড়া করবো না তোমায়,,,,আমাদের সবার চোখের সামনেই থাকবে তোমরা,,,,হস্টেলে আর থাকবে না,,,,তাই তোমরা এই বাড়িতে থাকার অধিকারই তৈরি করতে চাই,,,, দেখো দোয়েল,,আজ না হয় কাল,,,তুমি কি আমায় বিয়ে করতে না??,,,,বল""

এবারও দোয়েল চুপ করে রইল,,,নিবিড় যে ভুল বলছে না,,,,এভাবে কোনো পরিচয় ছাড়া সে নিজেও যে কারোর বাড়িতে থাকতো না এতদিন।,,,,নিবিড় বললো...

"দোয়েল পাখি,,,,প্লিজ সম্মতি দাও আমায়?,,,প্লিজ চুপ করে থেকোনা,,,কিছু তো বলো...

দোয়েল কি বলবে বুঝতে পারছে না,,,,বেশ অনেকক্ষন সময় নিয়ে আমোজের দিকে তাকালো,,,তার চোখও যেন দোয়েলকে বলছে রাজি হয়ে যেতে,,,,দোয়েল মাথাটা উপর নিচ ঝাকালো,,,,এতেই সবাই তার উত্তর পেয়ে গেলো,,,,সাবিহা তো বলেই উঠলো...

" আলহামদুলিল্লাহ "

এরপর সবাই তাকালো চড়ুইয়ের দিকে। তা দেখে চড়ুই বললো...

"কি,,, আমার দিকে কি দেখছো সবাই?,,,আমি করছি না এই থ্রি কোয়াটারকে বিয়ে।,,,,"

বলেই উঠতে নিলে আবির তার হাত চেপে ধরে বসিয়ে দেয়।আর বলে...

"বাচ্চা মেয়ে,,,তোমার সম্মতি চাইছে কে৷,, আমি রাজি মানে বিয়ে হবেই।,,,"

চড়ুই কাদো কাদো মুখ করে বললো...

"হাত ছাড়ুন আমার,,,আমি এভাবে আপনাকে বিয়ে করবো না,,, আরে জামাই সেজে না হলেও অন্তত নিবিড় ভাইয়ের মতো করেও তো আসতে পারতেন,,,"

আবির চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো...

"তুমি আমায় বিয়ে করবে নাকি আমার ড্রেসআপকে?"

চড়ুই ঠোট ফুলিয়ে বললো...

"দুটোই লাগবে আমার,,,"

আবির বিরক্ত হলো,,,

"এই এখন, তুমি আমায় বিয়ে না করলে তোমার বোনেরও আমার ভাইয়ের সাথে বিয়ে হবে না।আফটার অল আমি ওর থেকে ৪৩ সেকেন্ডের বড়,,,এই অধিকার আমার আছে।,,,ভেবে দেখো,,,তোমার বোন কিন্তু আমার ভাইকে ভালোবাসে।"

চড়ুই করুন চোখে তাকালো নিবিড় আর দোয়েলের দিকে,।।দুজনেরই উৎসুক দৃষ্টি এটা জানার জন্য যে চড়ুই রাজি হয় কিনা,,চড়ুই এবার উপরের দিকে তাকিয়ে বললো...

"হে খোদা,,,খুজে খুজে আমার বিয়েটাই তুমি এমন ভাবে দিচ্ছো?"

আবির বাকা হাসলো,৷ তারপর বললো..

"কাজি সাহেব,,,,বিয়ে পড়ানো শুরু করুন,,,কনে রাজি।"

ব্যাস,,,,,হয়ে গেলো দুই জোড়া টুইন্সের বিয়ে।আবদ্ধ হলো তারা এই বিবাহ নামক এক পবিত্র বন্ধনে।,,,,এতে দুই জুটির সমান অনুভুতি না থাকলেও রয়েছে একরাশ স্বপ্ন,,,নতুন করে শুরু করার স্বপ্ন।,,,,,

বিয়ে শেষ হতেই সবাই মিষ্টি মুখ করলো,,,,তারপর আহিশ এসে বললো...

"নিউলি ম্যারেড কাপেলের সাথে ছবি না তুললে কি হয়?,,,,"

জেসি বললো...

"হুম হুম,,,তাই তো?,,,"

সবাই প্রথমে এগিয়ে গেলো নিবির আর দোয়েলের দিকে,,,একে একে সবাই ছবি তুললো তাদের সাথে।তারপর এগিয়ে গেলো চড়ুইয়ের কাছে।চড়ুই মুখ ফুলিয়ে বললো...

"তুললে আমার একার সাথেই ছবি তুলো,,,,"

কেউ কিছু বলার আগেই আবির এসে পাশ থেকে চড়ুইয়ের কোমর টেনে নিজের কাছে এনে দাড় করালো,,,তারপর সামনে সবার দিকে তাকিয়ে বললো..

"তোল তোরা,,"

চড়ুই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে।,,,এই লোক সবার সামনে এভাবে তাকে ধরে আছে,,,ইশশ কি লজ্জা। চড়ুই বিড়বিড় করে বললো...

"ছা্ ছাড়ুন আমায়,,, "

আবির সামনে তাকিয়েই বললো..

"লুক এট দা ফ্রন্ট,,,, "

চড়ুই বিরক্ত হলো,,,তুয়াজের ডাকে সামনে তাকালো,,,, তুয়াজ ছবি তুলতে তুলতে বললো...

"কি ভাবি,,রিয়েল ভাবি হয়ে কেমন লাগছে?"

চড়ুই বিরক্ত নিয়ে বললো...

"ফটোগ্রাফার,,,,,ছবি তুলছেন তাই করুন না,,, এমনি তেই মাথা গরম আছে।"

আরেকটা ছেলে বললো...

"সমস্যা নাই ভাবি,,,,রাতে আবির মাথা সহ বাকি সবও ঠান্ডা করে দিবে।,,,"

টনক নড়লো চড়ুইয়ের,,, মাথায় এলো বাসরের কথা,,,আবিরের দিকে গোলগোল চোখ নিয়ে তাকালো,,,,উনার সাথে এক ঘরে,,, এক বিছানায়,,,,কিকরে??,,,,,

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ৩২ গল্পের ছবি