ডিনার শেষে যে যার রুমে গেলো।,,,চড়ুইও ফ্রেশ হয়ে চেঞ্জ করে একটা সুতির টপস পরে গলায় ওরনা জরিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো।,,,ডিভানের কাছে এগোতেই খাটে বসে পায়ের উপর পা তুলে আধোয়া হয়ে থাকা আবিরের কন্ঠ ভেসে এলো..
" Come here chorai pakhi..."
চড়ুই ফিরে তাকালো আবিরের দিকে,,,মুখটা পাংসুটে করে বললো...
"আমার ভিষণ ঘুম পাচ্ছে। প্লিজ এখন আবার কোনো ডেভিল গিরি শুরু করবেন না।"
আবির ফোন থেকে চোখ তুলে তাকালো চড়ুইয়ের দিকে।
"এই দিকে আসতে বলেছি তোমায়।"
চড়ুই বিরক্তিকর মুখ নিয়ে দুহাত জোর করে বললো..
"প্লিজ,,,একটু শান্তিতে ঘুমাতে তো দিবেন,,,নাকি এটাও আপনার সহ্য হয় না?"
আবির বিছানা ছারলো,,,চড়ুইয়ের বরাবর গিয়ে বুকে দুহাত গুজে দাড়িয়ে শান্ত কন্ঠে বললো..
"কি হয়েছে?,,,এমন বিহেভ করছো কেন?"
চড়ুই যেন বিরক্তির চরম পর্যায়ে পৌছে গেলো।চেচিয়ে বললো..
"কেমন বিহেভ করছি আমি?হ্যা?শান্তি হচ্ছে না আপনার?আমার চঞ্চলতা সহ্য হয় না আপনার,,,এখন গাম্ভীর্যতাও সহ্য হচ্ছে না আপনার,,,কেমন আমাকে আপনার পছন্দ হবে বলুন?কেমন আমাক?"
আবির আগের মতো থেকেই বললো...
"কাম ডাউন চড়াই,,, শান্ত হও,,আর বিছানায় গিয়ে ঘুমাও,,,I Won't distrub you,,,"
চড়ুই আগের মতোই চেচিয়ে বললো..
"আমার শান্তি নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না মি. আবির বিন চৌধুরী। আপনি নিজের শান্তির কথা বলুন,,, বলুন কি করলে শান্তি পাবেন আপনি?কি করলে?আমায় মেরে শান্ত হবেন আপনি?"
শেষের কথাটা একটু জোর দিয়েই বললো চড়ুই।৷ শেষ হতে না হতেই বাম গালে সপাটে একটা থাপ্পড় পড়লো তার।সাথে আবিরের গর্জন কন্ঠ..
"চড়াই..."
স্তব্ধ হয়ে গালে হাত দিয়ে ঠায় দাড়িয়ে রইলো চড়ুই।ছলছল দৃষ্টি আবিরের দিকে নিবন্ধ।,,,
রাগে আবিরের শরীর কাপছে।রক্তচক্ষু নিয়ে গর্জে উঠে বললো...
"আমার সাথে আর একটা কথাও বলবে না তুমি,,,, Just get out from my eyes..."
বলেই বাম হাত দিয়ে খাটের দিকে ইশারা করলো।,,,তারপর ধপধপ পায়ে রুম ছাড়লো৷ যাওয়ার আগে শব্দ করে দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দিলো।,,,,
()()()()()()
এদিকে দোয়েল বসে আছে বারান্দার দোলনাটায়।একটু পরপর পা দিয়ে নাড়িয়ে দিচ্ছে দোলনাটা।,,,,,,,তার সামনের দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে নিবিড়।,,,,,সে এখন তার এটম বোমকে দেখতে ব্যস্ত।,,,,কিছুক্ষণ পর দোয়েল বাইরে তাকিয়েই বললো...
"শুনুন?,,,"
"শুনছিই তো,,"
"কাল থেকে আপনারা দু ভাই আর কলেজ যাবেন নাহ,,,"
"হুয়াই?"
"এমনি,,,যাবেন না মানে যাবেন নাহ,,"
নিবিড় কিছুটা বুঝতে পারছে দোয়েলের এমন কথার কারন,,,তবুও তাকে না বুঝতে দিয়ে এগিয়ে এসে দোয়েলের পাশে বসতে বসতে বললো...
"আজ ভাই যায়নি বলে ছোটপাখির মুখটা দেখেছো?বেচারির মুখটা দেখার মতো ছিলো।,,সারাটা পথ তেমন কথাও বলেনি।কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে।"
দোয়েল ভাবনার জগৎ থেকে বললো..
"বাড়ি আসার পরও একই রকম ছিলো।আবির ভাই আসার পরতো সামনেই যেতে চাইছিলো না।"
"অভিমান হয়েছে বুঝলে মিস এটম?,ভাইয়ের প্রতি বড্ড অভিমান হয়েছে তার।"
দোয়েল আনমনে হাসলো...
"তাহলে আমার বোনটাও ভালোবাসার ভুল করছে।"
নিবিড় তাকালো দোয়েলের দিকে...
"ভালোবাসা ভুল?,,,আমার ভালোবাসাকে তোমার ভুল মনে হয়?"
এবার দোয়েলও তাকালো নিবিড়ের দিকে...
"আমি ওভাবে বলিনি,,, উলটো বোঝেন আপনি, "
নিবিড় থাইয়ের উপর ভর দিয়ে বাম হাতটায় নিজের থুতনি ঠেকালো..
"তো আপনি কিভাবে বলেছেন ম্যাম?"
"এই যে আপনাকে ভালোবেসে আমি ভুল করলাম,,,চোখে হারাই,,,আপনি যখন সামনে থাকেন তখন মনে হয় দুরে গেলে শান্তি পাবো,,আবার যখন দুরে থাকেন তখন মনে হয়,,এখনো আসছে না কেন?,,ক্লাসে মন বসে নাহ,,কোনো কাজ করতে পারিনা।যে আমি ঘন্টার পর ঘন্টা বই পরে কাটিয়ে দিতাম,, সেই আমিই কিনা এখন বই নিয়ে বসলে বইয়ের পাতায় আপনার হাস্যজ্জল মুখটা দেখতে পাই।,,এবার আপনিই বলুন,,ভালোবাসার ভুল না করলে কি এমনটা হতো?"
নিবিড় শুনছে তার এটমের কথা।ঠোটের কোনে লেগে আছে মিষ্টি এক হাসি।,,,হয়তো এই সময় দোয়েলের এই কথাগুলো অপ্রত্যাশিত ছিলো তার কাছে।,,,নিবিড়ের থেকে উত্তর পেলো না দোয়েল,,,আর ঘাটলোও নাহ,,,একটু পর উঠে দাড়িয়ে বললো...
"ঘুমাতে যাচ্ছি। ইচ্ছে হলে আসতে পারেন।"
নিবিড়ও উঠে দাড়ালো,,,হাটতে হাটতে বললো...
"এমন ভাবে আসতে বলছো,,,যেন আজই সব দিয়ে দিবে আমায়,,"
দোয়েল মুখ টিপে হাসলো।নিবিড়ের এই ইনোসেন্ট ভাবটা বেশ লাগে দোয়েলের।মনে হয় যেন এই নিবিড়কে আগলে রাখার দায়ীত্ব পরেছে তার উপর।,,,
()()()()()()()()
রাত ১২:৪৬....
দরজাটা খুলে রুমে প্রবেশ করলো আবির।চোখ মুখ এখনো লাল হয়ে আছে।,,,,ড্রিম লাইটের আলোয় চোখে পড়লো গুটিসুটি মেরে একপাশে ফিরে শুয়ে থাকা চড়ুইয়ের দিকে।,,,,বিছানাতেই ঘুমিয়েছে।
আবির ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো তার চড়াইয়ের দিকে। পায়ের নিচ থেকে কম্বলটা টেনে চড়ুইয়ের পেট পর্যন্ত আনলো।,,,,আস্তে করে গলায় পেচিয়ে থাকা ওরনাটা খুলে মাথার পাশে রাখলো।,,,
চড়ুই ঘুমিয়েছে।কান্নাও থেমেছে।তবে এখনো হিচকি তুলছে কিছুক্ষণ পর পর।আবির তা বেশ বুঝতে পারছে।,,,
ধীরে ধীরে নিজেও শুয়ে পরলো চড়ুইয়ের পাশে। পেছন থেকেই চড়ুইয়ের পেটের একটু উপর দিয়ে এক হাতে জরিয়ে ধরলো তাকে।মাথাটা গুজে দিলো পেছন থেকে চড়ুইয়ের কাধের পাশে।,,,,শান্তি লাগছে একটু,,,বিক্ষিপ্ত মনটা একটু ভালো লাগা অনুভব করছে তার চড়াই পাখির গায়ের গন্ধ পেয়ে।,,,,আলতো করে চড়ুইয়ের শরীরে ঠোট ছোয়ালো আবির।,,,মনটা বেশ বুঝতে পারছে চড়ুই কেন এমন করছে।নিজে নিজেই বিরবির করে বলে উঠলো আবির....
"ভালোবাসি চড়াই পাখি,,,,ভীষণ ভাবে ভালোবাসি।,,,প্রকাশ করা হয়নি বলে এমন করছো?এত্তো অবুঝ কেন তুমি চড়াই?তোমার প্রতি আমার ব্যকুলতা তোমায় কিছুই জানান দেয় না?,,,,,,,তোমার ঐ কথাটা আমার অন্তরালে আঘাত এনেছে চড়াই।,,কেন তুমি মরবে বলো?,,,তোমায় সেইফ রাখার জন্য নিজের এতোটা কাছে এনেছি।আজ তুমি বলছো,,আমিই তোমায় মারবো?,,,,কিভাবে পারলে তুমি এমনটা বলতে?কিভাবে?একটা বারও আমার মনের কথাটা ভাবলে না?ভাবলে না?আমি কতটা কষ্ট পাই তোমার এসব কথায়?,,, তুমি কি আমায় কখনো বুঝবে না পাখি?,,, তোমার ঐ চঞ্চলতাই তো আমায় আধমরা করে তুলেছে,,,আজ আমার জন্য তুমি সেটাই লুকিয়ে ফেলছো?ছিহ চড়াই,,,ছিহ।"
চড়ুই একটু পর পর কেপে কেপে উঠছে।,,,বুঝতে পেরে আবির পেট থেকে কম্বলটা চড়ুইয়ের গলা পর্যন্ত টেনে দিলো।সাথে নিজেকেও পুরোপুরি ভরে নিলো কম্বলে।হাতটা এবার কম্বলের ভেতর দিয়ে চড়ুইকে জড়িয়ে ধরলো।,,,,
চড়ুইয়ের মুখভঙ্গি পরিবর্তন হচ্ছে। ঘুমের মধ্যেই চোখ মুখ খিচে নিচ্ছে বারবার।,,আবির পেছনে থাকার কারনে তা দেখছে না।,,,তবে কাপুনি বন্ধ না হওয়ায় আবির এবার মুখ তুলে চাইলো চড়ুইয়ের পানে।লক্ষ্য করলো সব।৷ কপালে চিন্তার ছাপ ফুটে উঠলো,,,,ধীর কন্ঠে ডাকলো...
"চড়াই?,,,আর ইউ ওকেয়?"
উত্তর এলো না চড়ুইয়ের দিক থেকে। ধীরে ধীরে নড়াচড়া শুরু করেছে চড়ুই। পা দিয়ে বিছানার চাদরটা এলোমেলো করছে।,,,,আবির ব্যস্ত হয়ে নিজের দিকে ঘোরালো চড়ুইকে।,,,এবার চড়ুই আধো আধো চোখ খুললো,,,,
"কি হয়েছে?এমন করছো কেন?"
চড়ুই কম্বল থেকে ডান হাতটা উঠিয়ে নিজের মাথার একপাশের চুল খামছে ধরলো। চোখ গুলো একবার পিটপিট করে খুলছে তো আবার কুকরিয়ে খিচে বন্ধ করে ফেলছে।,,,ঘুম জরানো কন্ঠে বললো...
"বোন,,,,বোনের কাছে যাবো,,"
আবিরের ভ্রু আরেকটু কুচকে এলো,,,
"এখন?এখন কেন?আর তোমার মাথা ব্যথা করছে?বলো আমায়?"
"ব্ বোনের মাথা ব্যথা করছে,,,,ও্ ওর খুব কষ্ট হচ্ছে,,, আমি যাবো,, "
আবির একটা নিঃশ্বাস ফেললো, ,,,, হায় আল্লাহ,,,নিজের মাথা ব্যথা করছে তা বলছে না৷ বোনকে নিয়ে আছে সে।,,,,করবে নাই বা কেন,, এমনিতেই ইনজিউর,,,তার উপর এতক্ষণ কেদে ভাসিয়েছে।উপপহ।,,,,
হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিয়ে নিবিড়ের নম্বরে ডায়াল করলো আবির,,,,ফোন রিসিভ হতেই ঘুমঘুম কন্ঠে নিবিড় বললো...
"হুম ভাই,,,বল?এতো রাতে?"
আবির বললো...
"বড়পাখির মাথা ব্যথা করছে মনে হয়।ওকে দেখ।"
আবিরের কথা শুনে নিবিড় তড়িৎ গতিতে পাশ ফিরে তাকালো,,,,দেখলো দোয়েল ঘুমের মধ্যেই হালকা গোঙাচ্ছে। নিবিড় তার দিকে ঝুকে দ্রুত বললো..
"দোয়েল,,,,এই দোয়েল,,,কি হলো?,,,দেখি..."
নিবিড়ের এমন কথা শুনে আবির আর কিছু বললো না। ফোনটা কেটে চড়ুইয়ের দিকে তাকালো।,,,একটা নিঃশ্বাস ফেলে চড়ুইয়ের মাথাটা নিজের বুকে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরে মাথার চুল গুলো আলতো করে টেনে দিতে লাগলো।,,,,,,,
বেশ কিছুক্ষণ পর চড়ুই শান্ত হয়ে গেলো।আবির মুখ নামিয়ে দেখলো চড়ুইয়ের চোখ বন্ধ। ঘুমিয়ে গেছে মেয়েটা।আবিরও চড়ুইয়ের কপালে একটা গভীর চুমু খেয়ে চড়ুইকে বুকে জরিয়েই ঘুমিয়ে পড়লো।,,,,
()()()()()()()()()()
৪ দিন পর,,,,,,
ক্লাস শেষ করে একসাথে বেরিয়ে এলো পাখিরা,আহিশ,সুহাস,রাবতি।আজ কেয়া আসে নি।,,,,বেরিয়েই যা দেখলো,,, তা দেখে সবারই চোখ ছানাবড়া। আহিশ, রাবতি,সুহাস করুন চোখে তাকালো পাখিদের দিকে। তাদের দুজনের রিয়েকশান দু রকম।,তবে এরা যা আশা করেছে, হয়েছে তার ঠিক উলটো,, আহিশরা ভেবেছিলো বড় পাখি অভিমান করবে আর ছোট পাখি রেগে যাবে,৷, কিন্তু তার কিছুই হলো না,,,উলটো বড় পাখি রাগে ফুসছে,,আর ছোটপাখি ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনে।,,,,,,
সুহাস রাবতির কানের কাছে ফিসফিস করে বলে উঠলো...
"হায় আল্লাহ,,,এটা কি করলো মি. টুইন্সরা,,,,"
রাবতিও একই স্টাইলে বললো...
"এতোদিন গেইটের বাইরে থাকতো,,,তাও ঐ সিনিয়র মেয়েগুলোর দল চোখ দিয়ে গিলে খেতো।এখন তো একদম ক্যাম্পাসে ঢুকেছে টুইনস ব্রাদার্স। আর মেয়ে গুলোও না,,,একদম ঘিরে ধরেছে।"
আহিশ বলে উঠলো...
"কিন্তু ভাইয়েরাও এভাবে হেসে হেসে কথা বলছে কেন মেয়ে গুলোর সাথে?"
সামনেই একটা গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে নিবিড় হাত নাড়িয়ে হেসে হেসে মেয়েগুলোর সাথে কথা বলছে।,,,তার থেকে একটু দুরেই একটা বেঞ্চে বসে ফোন টিপছে আবির তাকেও ঘিরে আছে চারপাঁচটা মেয়ে,,, তারা একের পর এক বলেই যাচ্ছে। আর আবির ফোনে নজর দিয়েই হু হা করছে।,,,,
দোয়েল এগিয়ে গেলো,,,,বুকে দু হাত গুজে মেয়েগুলোর পেছনে একটু দুর করে দাড়ালো।,,,,একটু পর পাশ থেকে একটা মেয়ে বলে উঠলো...
"এই মেয়ে,,,তুমি জুনিয়র না?,,,এখানে কি হুম?দেখছো না উনি আমাদের সাথে কথা বলছে,,,যাও এখান থেকে।"
আহিশরা আগের জায়গাতেই দাড়িয়ে ছিলো,,,সব কথাই শুনছে,,,মেয়েটির কথা শুনে আহিশ মাথায় হাত দিয়ে বললো...
"খাইছে রে,,,,যার বর তাকেই বলে চলে যেতে,,,,আজ তো আমার টুইনস ব্রাদার্স শেষ।"
মেয়েটির কথা শুনে হাসতে হাসতেই সেদিকে তাকালো নিবিড়।সাথে সাথেই কথা বন্ধ হয়ে গেলো তার।,,,,দোয়েল রাগে ফুসছে,,তা ঠিকই বুঝতে পারছে নিবিড়।,,,,লাফিয়ে সোজা হয়ে দাড়াতে দাড়াতে বললো...
"এই রে,,,,বউ রেগে গেছে।"
এতক্ষণে এতগুলো মেয়ের মুখের স্টাইলিশ হাসিটা বিলিন হয়ে গেলো।অবাক হয়ে দেখতে লাগলো নিবিড়ের কার্যকলাপ।,,,
নিবিড় সরি সরি বলতে বলতে এগিয়ে গিয়ে দোয়েলের হাত ধরতে নিলেই দোয়েল ঝামটা মেরে হাতটা সরিয়ে নিলো।,,,,
মেয়ে গুলো যেন অবিশ্বাস্য কিছু দেখছে।,,,এতোক্ষন ধরে এই কিউট ক্রাশ বয়কে পটানোর জন্য এতো কিছু করলো।আর এখন কিনা সে একটা পিচ্চি মেয়েকে বউ বউ করে ক্ষমা চাইছে?হাউ স্ট্রেঞ্জ।,,,,
আর যে মেয়েটা দোয়েলকে চলে যেতে বললো,, সে যেন থ হয়ে রইলো,,,,,
নিবিড় আবারও দোয়েলকে জরিয়ে ধরতে নিলো দোয়েল আবারও ধাক্কা দিলো তাকে।
"সরি না বউ,,,,প্লিজ,,,এতো রাগ করে না,,,আর করবো না এমন,, প্রমিস,,,প্লিজ ফরগিভ মি বউ।,,"
বলতে বলতেই দুহাটু গেড়ে বসে কান ধরে বললো...
"এই দেখো আমি কান ধরছি,,,এবার তো মাফ করে দাও,,,প্লিজ এটম,,,,প্লিজ।,, "
নিবিড় বসেই রইলো,,,,দোয়েলও তার দিকে তাকিয়ে বুকে হাত গুজে দাড়িয়ে রইলো।,,,
আহিশরা সবাই নিবিড়ের এমন অবস্থা দেখে হাসতে হাসতে শেষ।,,,রাবতি হাসতে হাসতে বললো..
"ইয়ার,,,,ছেলে যতই কিউট, হ্যান্ডসাম,,এটিটিউড কিং হোক না কেন,,,বউয়ের সামনে ঠিকই মাথা ঝুকায়,,,'"
সুহাসও হাসতে হাসতে বললো...
"আহারে ভালোবাসা,,,নিবিড় ভাইয়ার অবস্থা দেখ,,,বেচারা,,"
আহিশ বললো...
"আরে ওকে ছার,, আমাদের সো কল্ড সিনিয়র আপুদের দেখ।,,,দিল তোড় দিয়ে ইন লোগোকা।"
চড়ুই তাদের পাশেই দাড়িয়ে,,, তবে কিছুই বলছে না।শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে।,,,,
আবিরও তাকালো একবার পাশে নিবিড়ের দিকে,,,হালকা হেসে মাথাটা দু পাশে নাড়ালো,,, তারপর দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিতেই চোখাচোখি হলো চড়ুইয়ের সাথে।চড়ুই দৃষ্টি সরিয়ে নিলো,,,একটা শ্বাস ফেললো বড় করে,,,তারপর চোখ বন্ধ করে ঢোক গিলে মুখে হাসি ঝুলিয়ে আহিশদের কথায় যোগ দিলো।,,,,আবির দৃষ্টি সরালো না,,,তাকিয়ে রইলো চড়ুইয়ের দিকে। এদিকল তার পাশের মেয়ে গুলো সেই কখন থেকে কি যেন বলে যাচ্ছে আবিরকে।সেই দিকে তার খেয়ালই নেই।,,,,,,,,
*****
"উঠুন,,"
অনেকক্ষণ পর দোয়েলের কথা শুনে থামলো নিবিড়,,,,তারপর আবার বলতে লাগলো...
"দোয়েল পাখি আমি...."
"উঠতে বলেছি।"
দোয়েলের হালকা ধমকে রোবোটের মতো উঠে দাড়ালো নিবিড়। দোয়েল এবার তাকালো মেয়ে গুলোর দিকে।,,,,
"তো আমার সিনিয়র আপুরা,,,,,ছেলে দেখলেই এভাবে ঝুলে পড়তে হয়?,,,তাও আবার একসাথে এতোজন?,,,"
তারপর নাক কুচকে বললো...
"ইশশশ,,,কি অবস্থা,,, আর লাইন মারছেন ভালো কথা,,,,একটা বিয়াইত্তা পোলারেই মারতে হলো?"
মেয়েগুলে লজ্জায় মরি মরি অবস্থা।,,,, দোয়েল একটু থামলো,,, তারপর একটু ধমকের সুরে বললো.....
"নেক্সট টাইম আমার বরের পেছনে লাগতে গেলে না,,,, মেরে হাড় গোড় ভেঙে দেবো বলে রাখলাম,,,, তখন এমব সিনিয়র জুনিয়র মানবো না আমি। হুহ,, "
এরপর গিয়ে নিবিড়ের হাত ধরে টেনে গেইটের বাইরে নিয়ে যেতে লাগলো।,, আহিশরাও এগিয়ে গেলো,,,সাথে চড়ুইও।মুখে তার আহিশদের মতোই হাসি।,,, আবিরের পাশ কাটাতে গেলেই আহিশ চড়ুইকে বললো...
"কি ছোট পাখি,,,তুই এমনি এমনি ছেড়ে দিবি?"
চড়ুই মুখটা মলিন করে তাকালো আবিরের দিকে। আহিশ তাকে হালকা ধাক্কা দিলো..
"ঐ,,,কিরে,,? "
চড়ুই অপ্রস্তুত হলো,,,আবার হাসার চেষ্টা করে বললো...
"চ্ চলতো,,"
বলেই আবিরকে পাশ কাটিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে লাগলো।,,, আবির তাকিয়ে একটা শ্বাস ফেললো,,,,আজ চারদিন ধরে চড়ুই তাকে ইগ্নোর করছে।,,সবার সাথে ঠিক মতো কথা বললেও আবিরের সাথে কথাই বলে না,,,রাতে আবির বলার আগেই এখন খাটের এককোনে কম্বল জড়িয়ে শুয়ে পরে।,,,
আলতো হাসলো আবির,,,, তারপর সেও উঠে এগিয়ে গেলো ক্যাম্পাসের বাইরে।