বেশ অনেকক্ষন হলো আবির অর্ডার দিতে গিয়েছে।,,,এখনো ফিরছে না।একা বসে বসে বিরক্ত হচ্ছে চড়ুই,,,ব্যাগটাও গাড়িতে রাখা,,,নাহলো ফোন গুতানো যেতো।এখন বসে বসে সবার কাহিএনী দেখা ছাড়া আর উপায় নেই।,,,,,,
কিছুক্ষণ পর একজন ওয়েটার এলো,,,তবে অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে তার হাতে খাবারের পরিবর্তে আছে একটা টেডি বিয়ার।,,,ওয়েটারটি এসেই চড়ুইয়ের সামনে সেটি রাখলো...
"ম্যাম,,,এটি আপনার জন্য স্যার পাঠিয়েছেন।"
থামলো না সে,,,,মিনিট ঘুরতে না ঘুরতেই আরেকটা ওয়েটার এসে বড় সাইজের একটা বক্স রেখে গেলো,,, দেখেই বোঝা যাচ্ছে চকলেট হবে,,,,তার মুখেও সেই এক কথা,,,,চড়ুই রীতিমতো অবাক,,, এসব কি হচ্ছে?,,,, কে পাঠাচ্ছে এগুলো?কে এদের স্যার?,,,,আমাকে কিছু বলতেও দিচ্ছে না,,, আর আবিরই বা কোথায়?,
আবার একটা ওয়েটার,,, হাতে সেই কাঙ্খিত কেকটি,,,,এবার চড়ুই হালকা হাসলো,,,,তবে আবিরের জন্য আবার ব্যাকুল হয়ে গেলো।,,,,ওয়েটার টা কেকটা সামনে রাখতেই চড়ুইয়ের চোখ পড়লো সেটায়,,,,,গোলাপি রঙের লাভ সেপের কেকটার একটা কোনে ক্রিম দিয়ে কয়েকটা গোলাপ বানানো,,,,,মাঝখানে কিছু চকোবিনের গুড়ার মাঝে জ্বলজ্বল করচে লাল রঙের লেখাটি,,,,,"ভীষন ভাবে ডুবেছি তোমার মাঝে।,,,ভালোবাসি চড়াই পাখি,,"
লেখাটি দেখেই চমকালো চড়ুই,,,মুখ থেকে অস্পষ্ট স্বরে বেরিয়ে এলো..
"আ্ আবির?"
তখনই পেছন থেকে আবির এসে চড়ুইয়ের গলা জড়িয়ে ধরলো,,,, চড়ুই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো তার দিকে,,,,
"এ্ এটা কি,,,,আ্ আবির?"
আবির মুচকি হাসলো....
"ঐ যে,,,তুমি যা শুনতে চাইছো এই কদিন ধরে?"
"এ্ এটা কি স্ সত্যিই?"
আবির মাথা নাড়ালো,,,,
"উহুম,,,মিথ্যা,,,, সত্যিটা হচ্ছে যে,,আমি আমার একটা চড়াইকে ভালোবাসি,,,যাকে আমি কখনো ছেড়ে যাবো না,,,কখনো ছারতে দেবো না আমায়,,,,,।ভেবেছিলাম বুঝতেও দেবো না,,গোপনে ভালোবেসে যাবো আমার চড়াই পাখিকে।,,,কিন্তু চড়াই তো চড়াই?কি নাছোরবান্দা জানো?,,,ভালোবাসি কি না শুনবে বলে আমার সাথে ভীষন অভিমান করেছে।,,ঐ যে নন্দিনী নিলার গল্পের মতো?চড়াইপাখির অভিমান।,,,,এখন তার সেই অভিমান যে আমার ভীষণ বুকে লাগছিলো,,,সহ্য হচ্ছিল না,,,তাই ভাবলাম,,জানিয়েই দিই,,,এই আবির বিন চৌধুরী একটা ছোট্ট চড়াই পাখিকে ভালোবাসে,,,,তার ছোট্ট বউটাকেও ভীষন ভালোবাসে।বুঝলে?"
চড়ুই যেন বিশ্বাস করতে পারছে না,,,মুখে প্রাপ্তির হাসি ফুটলো তার,,তবে চোখের কোনেও জল।সে পেয়ে গেছে,,,আবিরের ভালোবাসা পেয়ে গেছে,,,
আবির সামনে আসলো।চড়ুইয়ের চেয়ারের সামনে হাটু ভেঙে বসলো,,,,চড়ুইয়ের হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আলতো একটা চুমু খেলো,,,,
"প্রথম যেদিন তোমায় ঠিক এই জায়গাটায় দেখেছিলাম না,,সেদিন ঐ সময় তেমন কিছুই ফিল হয়নি বিশ্বাস করো,,,,তবে সেদিন বাড়ি যাওয়ার পর কেন যেন মন বলে উঠলো,,, এই বাড়িতে তোমার আগমন ঘটবে।খুব শীগ্রই।,,, সন্ধ্যায় রুমে যাওয়ার পর মনে হলো আমার রুমটায় তুমি খাটের উপর গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছো,,,,,ভ্রম কাটলো,,,আবার দেখলাম তোমায়,,,আবার ভ্রম কাটলো,,,,আহিশের থেকে সব খবর নিয়েছি,,,তখনই জানলাম,,,তোমরাও আমাদের মতোই মিস টুইনস। ঠিক সেদিনই বাড়িতে ঠিক হয়ে গোছিলো,,, তোমরাই ঐ বাড়ির বউ হবে,,,,,তারপর ধীরে ধীরে সব ঠিকঠাক চলতে লাগলো,,,,তোমাকে বদলাতেও চেয়েছিলাম,,,,পরে দেখলাম তোমার শান্ততা আমার একটুও পছন্দ হচ্ছে না৷,, তুমি,,,, তুমি উড়নচণ্ডীই ভালো,,,,আর চেষ্টা করিনি তোমায় চেঞ্জ করার।,,,,,আমাদের বিয়েটা কোনো হুট করে হওয়া বিষয়ে নয়,,,,আগে থেকেই সবাই ঠিক করে রেখেছে,,,শুধু তোমরাই জানতে নাহ,,,,তাই এই বিয়েকে প্লিজ ছেলেখেলা ভাববে না,,,, আর ভালোবাসা?,,,সে তো আয়নার সামনে দাড়িয়ে এক আকাশ সমান প্রতিস্তুতির বায়না,,,,।,,,,আমি সেই বায়নাটা করতে চাই,,,তোমার কাছে।পুরন করবে আমার বায়নাটা?বলো চড়াই পাখি?করবে পুরন?"
চড়ুইয়ের চোখ ছলছল করছে। মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে,,আশপাশের সবাই তাদের দিকেই মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে।,,,,আবির আবার বলে উঠলো...
"কি হলো চড়াই পাখি?বাসবে ভালো আমায়?"
চড়ুই নিজেকে সামলে মাথাটা উপর নিচ ঝাকালো।আবির নিজের উত্তর পেয়ে গেলো।,,,উঠে দাড়িয়ে শক্ত করে চড়ুইকে জড়িয়ে ধরলো৷,,,,
"আই লাভ ইউ,,, আই লাভ ইউ,,চড়াই পাখি,,,খুব খুব খুব ভালোবাসি চড়াই,,,ভালোবাসি,,, ভালোবাসি ভালোবাসি।"
চড়ুই কিছুই বলছে না,,,আবিরের বুকেই মুখ গুজে আছে।,,,,
কিছুক্ষণ পর আবির চড়ুইকে ছেড়ে বললো,,,
"এবার কেকটা কাটো চড়াই,,,,"
চড়ুই তাকালো কেকটার দিকে,,,,মুচকি হাসলো,,,,এরপর আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো....
"এটা কাটবো না,,,,"
"কেন?"
"এমনিই,,,ইচ্ছে করছে না।আমি এটা কাটতে পারবো না।"
আবির একটু তাকিয়ে আলতো হাসলো।বললো....
"ওকেয়,,,,"
উঠতে নিলেই চড়ুই বললো....
"শুনুন?"
"বলো?"
"এটার উপরের ক্রিম লেয়ারটার লিখা গুলো মুছে,,, এটা কেটে পথশিশুদের দিতে বলবেন,,,,ফেলতে না করবেন।বুঝেছেন?"
আবির হাসলো...
"ওকেয় মেরি জান,,,"
চড়ুই ফোন বের করে কয়েকটা পিক তুলে নিলো কেকটার,,,,তারপর পাঠিয়ে দিলো।,,,,তারপর নতুন একটা কেক এনে খেলো।,,,,
""""""""" বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় সন্ধ্যা ৬:৩০ টা বেজে যায়। আবির চড়ুইকে বাড়ি ছেড়ে কোথায় যেন চলে গেলো।,,,,,,,,,
--------_-------_------_------_------_------_-----_----
গোডাউনের অন্ধকার একটা রুম থেকে গগনবিদারী চিৎকার ভেসে আসছে।,,,,এই চিৎকার আর কারোর নয়,,,সভাসদের সেই ছেলেগুলো,,,গিয়াস,হুসাইন আর টনি।,,,তিনজনেরই অবস্থা নাজেহাল।সামনেই দাড়িয়ে আছে আবির নিবিড়।দুজনের ঠোটের কোনায় হিংস্র হাসি।,,,,
"তোদের জিজ্ঞেস করবো না যে কেন আমাদের পাখিদের এমন অবস্থা করেছিস,,,তা জানার প্রয়োজন বোধ করছি না। শুধু তোদের কর্মফল গুলোই দেবো ব্যাস।,,,"
আবিরের শান্ত কঠিন কথায় পিলে চমকে উঠলো এদের তিন জনের,,,,এতো মারার পর আবারও মারবে?,,,,
আবিরের চোখের ইশারায় পেছন থেকে একটা গার্ড গিয়াসের মাথাটা পেছনের দিকে টেনে ধরলো,,,,,নিবিড় ধীর পায়ে এগিয়ে এলো,,,,ঠোটের কোনের বাকা হাসিটা সরছেই না যেন।,,,,,, তাকে নিজ বরাবর দেখে ভয়ে কাপছে গিয়াশ,,,যে পরিমান মেরেছে তাতে কথা বলার শক্তিটুকুও নেই,,,,নিবিড় একটা ছুড়ি নিয়ে তার কোনাটা গিয়াসের কপালে ঠেকালো,,,তারপর ধীরে ধীরে সেটা নিচের দিকে টানতে লাগলো।,,,,গগনবিদারী চিৎকার করছে গিয়াস,,,কপাল থেকে চিরচির করে রক্ত ঝরছে তাদের।,,,,নাক পর্যন্ত এনে তারপর জোরে একটান মারলো নিবিড়,,,,সাথে সাথে গিয়াসের গলার মাঝ বরাবর লম্ব ভাবে কেটে দু ভাগ হয়ে গেলো।আবির উঠে এসে হুসাইনের দু হাত মাটেতে চেপে ধরে তার উপর মোটা দুটো লোগার পেরেগ গেথে দিলো।,,, কে দেখে কার চিৎকার,,,একে একে তিন জনকেই ভিন্নধরনের শাস্তি দিলো এই টুইনস ব্রাদার্স মিলে।,,,,,অবশেষে ক্লান্ত হয়েই ক্ষান্ত হলো তারা,,,,যাওয়ার সময় এখানে থাকা গার্ডদের বললো...
"পানি ছাড়া আর কিছুই যাতে না পায়।যতক্ষণ না মরবে,, এভাবেই ছটফট করুক।মরার পর লাশ কি করবে সেটা তোমরা খুব ভালো করেই জানো।".
চলে গেলো আবির নিবিড়।,,
বাড়ি ফিরেই নিবিড় দৌড়ালো নিজের রুমে।এখন তার দোয়েলকে দরকার,,,আর পেয়েও গেলো রুমে।,,,দোয়েল বসে বসে বই পড়ছে স্টাডি টেবিলে।নিবিড় ধীর পায়ে গিয়ে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো তাকে।,,,,
দোয়েল চমকালো ক্ষনিকের জন্য।,, মাথা ঘুরিয়ে নিবিড়কে দেখেই বলে উঠলো..
" কোথায় গিয়েছিলেন?"
নিবিড় এবার দোয়েলকে সম্পুর্ন ছেড়ে শুধু গলায় দু হাত পেচিয়ে ধরলো।,,৷
"উমমম,,,জবাবদিহিতা করছো?"
নিবিড়ের কথার ধরন বুঝে দোয়েল মুচকি হাসলো,৷
"কেন,,,, অধিকার নেই?"
নিবিড় ছাড়লো দোয়েলকে,,,সামনে গিয়ে আরেকটা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বিজ্ঞদের মতো করে বললো...
"হুম,,,তা ঠিক আছে।,,, কিন্তু.... "..
বলেই নিবিড় ঝুকলো দোয়েলের মুখের কাছে।লো ভয়েজে বললো...
" সম্পুর্নটা কি আছে,,,মিস এটম?"
দোয়েল বুঝলো নিবিড়ের কথার ইঙ্গিত,,,, চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে বললো...
'"দুষ্টু লোক।"
নিবিড় হেসে দিলো,,,উঠে দাড়ালো সেও।,,,দোয়েল গিয়ে বারান্দার দোলনায় বসলো৷, নিবিড় ও তার পাশে বসলো...
"ডিসেম্বর তো কলেজ অফ তাই না?"..
নিবিড়ের কথায় দোয়েল আকাশের দিকে তাকিয়েই বললো..
" হুম,,,,কেন?"
"আর কোচিং?"
'"সেটা চলবে,,,".
"ওকেয়৷ তো ৪ দিন অফ রাখতে হবে।"
এবার দোয়েল সরাসরি নিবিড়ের দিকে তাকালো। ভ্রু কুচকে বললো...
'"কেন?কোচিং অফ দেবো কেন শুধু শুধু? "
"সেটা সময় এলেই বুঝবে,,,মিস এটম।,,"
"ভুল বললেন,,?"
দোয়েলের এমন কথায় নিবিড় এবার ভ্রু কুচকে তার দিকে তাকিয়ে বললো...
"কি ভুল বললাম?"
"ঐ যে,,,,মিস এটম?"
"এতে ভুল কি আছে?আমি তো তোমায় প্রায়ই ডাকি.. "
"আদেও কি আমি এখনো মিস আছি?"
কিছুক্ষণ নিরবতা,,, বুঝলো নিবিড়।আলতো হাসলো সে,,,,দোয়েলের মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরলো,,,,
"আমি তো ভুলেই গেছিলাম।,,,,এখন তো আর মিস নাহ,,,,মিসেস এটম হবে,, ইপহ,,,মিসেস নিবিড় বিন চৌধুরী এটম।"
চড়ুই নাক কুচকে বললো..
"উহ,,,কি আজগুবি নাম।,,,"
-_-_-_-_-_-_-_-
ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ।,,,,রাত ১২:৫৪ বাজে।,, গাবতলি স্টেশনে দাড়িয়ে আছে সবাই।,,,,দোয়েল, চড়ুই,আবির,নিবিড়,আহিশ,জিসান,জেসি,রুরাব,বিপাসা,হৃদ আর নিরাজও আছে।,,,, তারা ছাড়াও স্টেশনে আরো অনেকেই আছে।তবে এসবই বিরক্ত লাগছে চড়ুই আর হৃদের।হুট করেই সকালে আবির নিজের আর চড়ুইয়ের জামা কাপড় গোছাতে শুরু করলো।একটা ব্যাগেই নিয়েছে সব। চড়ুই জানতে চেয়েছিলো কেন এমন করছে,,,তবে আবির কিছুই বলে নি।একই হাল দোয়েলেরও,,, সে আগেই জানতো কোথাও একটা যাচ্ছে।তবে কোথায়?সেটা চেয়েও জানতে পারে নি।তার উপর এতো রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসায় কম বেশি সবাই বিরক্ত।
কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পরই তাদের সামনে এসে দাড়ালো একটা স্লিপার কোচ বাস।জিসান সবার উদ্দেশ্যে বললো..
"চলো,,চলো,,,সবাই উঠে পরো।"
বলতে বলতে নিজেই বিপাসাকে নিয়ে এগিয়ে গেলো বাসের দিকে। বাসের কাছে যেতে যেতেই চড়ুই আবিরকে বললো..
"আমরা কি দুরে কোথাও যাচ্ছি?"
আবির হাটতে হাটতেই উত্তর দিলো...
"বেশি দুর নাহ।চলো,,উঠো আগে।"
এদিকে দোয়েল,চড়ুই হৃদ,নিরাজ খুবই এক্সাইটেড এখন।কারন নরাইলে এই স্লিপার কোচ বাস নেই।তাই নাম জানলেও কখনোই এই বাসে উঠা হয় নি তাদের।,,,,,বাসের দরজা দিয়ে উঠার সময় সবার হাতে একটা করে পানির বোতল আর পলিথিন ধরিয়ে দিলো।বাসে উঠে দোয়েল বোকার মতো বললো...
"আমি তো বমি করিনা বাসে,,, এই পলিথিন টা বরং বোনকেই দিয়ে দিই,,,,"..
নিবিড় দোয়েলের দিকে তাকিয়ে বললো...
" গাধা,,,,এটা বমি করার জন্য নয়।জুতো ভরে রাখার জন্য দিয়েছে।"
দোয়েল আবারও বোকার মতো বললো...
"ওমাহ,,,,জুতো তো পায়েই থাকবে।"
নিবিড় হেসে বললো...
"শোয়ার সময়ও জুতো পায়ে রাখো?"
দোয়েল ভ্রু কুচকে বললো..
"মাথা খারাপ?"
নিবিড় আর কিছুই বললো নাহ।সামনে হাটতে লাগলো।সবাই সীট খুজে নিলো।,,,,এই বাসে নিচে উপরে দু জায়গায়ই সীট থাকে।,,,নিচে ডবল সীট,,আর উপরে সিঙ্গেল সীট তারা নিচে ছয়টা আর উপরে তিনটা সীট নিলো।আহিশ,নিরাজ লাফিয়ে লাফিরে উপরে উঠে গেলো,,,হৃদ উঠতে গেলেই উপর থেকে আহিশ হাত বাড়িয়ে দিলো...
"আস্তে উঠো বউ,,,,পরে গেলে আমায় আবার পঙ্গু বিয়ে করতে হবে।"
হৃদ তার হাতের সাহায্যে উঠতে উঠতে বললো...
"পঙ্গু হলে আমায় আর বিয়ে করার কি দরকার,,,আমি কি আপনাকে জোর করছি নাকি?"
হৃদ উঠতেই আহিশ তার কাছে এগিয়ে এসে বললো...
"জোর করলেই ভালো হতো বউ,,,,তাই না?"
হৃদ এক নজর আহিশের দিকে তাকিয়ে,,, "অসহ্য",,, বলেই নিজের সীটে গেলো।,,,আর পেছন থেকে নিরাজ আহিশকে বলে উঠলো...
" তুমিও কি আমার এই আপুর পেছনে লাইন মারছো?"
নিরাজের কথায় আহিশ তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো।
,,,,, এদিকে সীটে আসতেই চড়ুইয়ের মুখ হা হয়ে গেলো,,,,,কেউ বলবেই না এটা বাস।ছোট্ট একটা রুমই বলা যায়,,,,এক পাশে জানালা,,,আর সামনে পেছনে দেয়াল।আর ঢুকার জায়গাটায় পর্দা দেওয়া নীল রঙের।দুটো সীট পাশাপাশি শোয়ানো।সীট কম,খাটই লাগছে এটা।চড়ুই আনমনেই বলে উঠলো...
"ওহ,,,,শুয়ে শুয়ে যায় বলেই এই বাসের নাম স্লিপার কোচ।"
আবির সবে পর্দাটা টেনে কাধের ব্যাগটা রাখছিলো সীটের এক কোনায়।চড়ুইয়ের কথায় একবার তার দিকে তাকিয়ে, বললো...
"জুতো খুলে পলিথিনটায় রাখো।,,"
চড়ুই তাকালো তার দিকে।,,,,আবির অলরেডি নিজের জুতো খুলে পলিথিন ভরে এককোনায় রেখে দিয়েছে।জানালার পাশের সীটটায় আরামসে শুয়ে ফোন টেপার প্রস্তুতি নিচ্ছে।,,,,চড়ুই পাশের সীটটার কোনায় বসে নিজের জুতো পলিথিনে ভরতে ভরতে বললো...
"আমরা এভাবে যাচ্ছিটা কোথায়?"
"তোমার না ঘুম পাচ্ছিলো?,,,ঘুমিয়ে পরো।".
" সরুন,,,"
চড়ুইয়ের কথায় আবির চোখ তুলে তাকালো তার দিকে।
"সরবো কেন?এই সীটে শোও।"
"আমি উইন্ডো সীট চাই।,,,"
"নো ওয়ে,,,"
"আমার গরম লাগছে"
"এই শীতে তোমার গরম লাগছে?,,,'
" হ্যা লাগছে,,,এবার সরুন।"
আবির কিছু বলতে যাবে তার আগেই হাতে থাকা ফোনটা বেজে উঠলো,,,,,নিবিড় কল দিয়েছে।রিসিভ করে আবির বললো...
"হুম ভাই,,,বল?"
"নিজের বউকে সামলে রাখিস।কেবিনে ডোর নেই,,শুধু পর্দা লাগানো।"
বলেই ফোন রেখে দিলো নিবিড়।আবির ফোনটা কান থেকে নামাতে না নামাতেই হঠাৎ চড়ুইয়ের সীটের পাশের পর্দাটা কেউ সরালো একটু,,,,আবির চড়ুই দুজনই তাকালো সেদিকে।একটা মেয়ে,,,তাদের দেখে মেয়েটি বলে উঠলো..
"উপহ সরি,,,আমি ভেবেছিলাম এটা আমার সীট।"
চড়ুই মুচকি হেসে বললো...
"ইটস ওকে আপি,নো প্রবলেম'"
চলে গেলো মেয়েটি।আবির বুঝলো,, কেন নিবিড় ফোন করেছে,,,এখন না হয় মেয়ে,,,কখন যে আবার কোনো ছেলে এসে পরবে,,তার কোনো গ্যারান্টি নেই।আর চড়ুইয়ের ঘুমের যা স্টাইল।,,,,,,
আবির সরে এলো জানালার পাশ থেকে।
"আসো এখানটায়"
চড়ুই বিশ্ব জয়ের হাসি দিয়ে বসলো জানালার পাশের সীটটায়।আবির তার পাশেই শুয়ে আছে। চড়ুই বসে আছে দেখে আবির তার একহাতে টান দিয়ে টেনে শুইয়ে দিলো,,,,
"ক্ কি করছেন?"
চড়ুইয়ের বিচলিত কন্ঠ শুনে আবির তার দিকে ফিরে শুলো।লো ভয়েজে বললো....
"এই বেডটা একটু বেশিই ছোট তাই না?"
চড়ুই আমতা আমতা করে বললো....
"হ্যা,,,তা তো একটু...."
"ভয় পাচ্ছো?"
আবিরের এমন কথায় চড়ুই তাকালো তার দিকে,,,
"ভ্ ভয় পাবো কেন?"
"যদি,,,,,আমার এতোটা কাছে শোয়ায় কিছু একটা হয়ে যায় আমাদের মাঝে,,,?"
চড়ুই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে।একটু পর আবির পাশ থেকে পাতলা কম্বলটা নিয়ে চড়ুইয়ের গলা পর্যন্ত টেনে দিলো..
"এটা যেন সরে না যায়।"
"কেন?"
"সরলেই কিছু একটা হয়ে যাবে।এবার সরাবে?"
চড়ুই তৎক্ষনাৎ দু পাশে মাথা ঝাকিয়ে বললো..
"জিবনেও নাহ,,,"
বলেই কম্বলটা দিয়ে নিজের মাথা পর্যন্ত ঢেকে নিলো।আবির হেসে দিলো।তারপর চড়ুইয়ের দিকে এমন ভাবে ফিরে শুলো যাতে বাইরে থেকে হঠাৎ কেউ পর্দা সড়ালে চড়ুইকে চোখে না পড়ে।
,,,,,,,,,,সকালের মিষ্টি রোদের আলো চোখে পরতেই পিটপিট করে চোখ খুললো দোয়েল।ঘুম ভাঙতেই বুঝলো বাস চলছে না।,,,,পাশ ফিরে তাকাতেই নিবিড় মিষ্টি হেসে বলে উঠলো...
''গুড মর্নিং বউ,,"
দোয়েল আলতো হাসলো,,,খেয়াল করলো নিবির তাকে কম্বলের উপর দিয়েই আলতো জরিয়ে আছে।নিবিড় উঠে বসতে বসতে বললো..
"নামতে হবে এবার,,,উঠে পরো,,"..
নিবিড়ের কথায় সায় জানালো দোয়েল।উঠে বসতেই নিবিড় হাত দিয়ে তার চুলগুলো হালকা গুছিয়ে দিলো,,তারপর গলার স্কার্পটাও ঠিক করে দিলো,,,,দোয়েল আলতো হাসলো।,,,,অতপর সবকিছু নিয়ে নিবিড়ের সাথেই নেমে এলো বাস থেকে।,,,,সাথে সাথেই চোখে পড়লো সামনের সাইনবোর্ডে লিখা,,,,, " ফুলবাড়ি স্টেশন,দিনাজপুর"
চড়ুই ভ্রু কুচকে আবিরের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো...
"আমরা দিনাজপুর কেন এলাম?"
আবির উত্তর দিলো না।চড়ুইয়ের হাত ধরে সবার সাথে সাথে স্টেশন থেকে বেরোতে লাগলো,,,,চড়ুই বিরবির করে বলে উঠলো...
"যাহ বাবা,,,,এটা বলতেও কি পাপ লাগে তার?"