,,,,স্টেশন থেকে বেরিয়ে সবাই মিলে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলো।তারপর একটা বড় হাইসে করে গন্তব্যে রওয়ানা হলো।,,,,কিছুক্ষন পর গাড়ি থামতেই সবাই হা করে তাকিয়ে রইলো।চড়ুই অবাক হয়েই বললো...
"ইজ ইট ট্রু?,,,,আমরা কি সত্যিই এসেছি?আই কান্ট বিলিভ দিস,,"
দোয়েলও একই ভঙ্গিতে বললো...
"আমারও বিশ্বাস হচ্ছে নাহ,,,"
হৃদ লাফিয়ে উঠলো।হাত তালি দিতে দিতে বললো...
"ইয়েএএএ,,,,অবশেষে আমরা এসে গেছি,,, স্বপ্নপুরি,,,,ইয়াহুহ"
আহিশ হাসলো নিরবে হৃদের এমন বাচ্চামো দেখে।,,,,
সদর গেইটেই দুপাশে বড় বড় দুটো সাদা পরির স্ট্যাচু।যাস্ট ওয়াও,,,,,পাখিরা তো দিন দুনিয়া ভুলে মনের সুখে হাত ছড়িয়ে দৌড়াতে লাগলো সামনের দিকে।,,,,আবির নিবিড়ও খুশি,,,তাদের প্রনয় পাখিরা যে ডানা মেলে উড়ছে,,,,এগিয়ে গেলো সবাই।আবির টিকিট কাউন্টারে যেতেই একজন টুরিস্ট গাইড তার সাথে কুশল বিনিময় করলো,,,,,
"আসুন স্যার,,,আজ আপনাদের এই সম্পুর্ন স্বপ্নপুরী আমিই ঘুরিয়ে দেখাবো।,,,"..
নিবিড় বললো...
" তো আর দেরি কিসের?লেটস গো?"
সবার সব টিকিট একত্রেই নিয়ে নেওয়া হলো,,,,নাহলে সব রাইডের সামনে গিয়ে টিকিটের জন্য লাইন ধরা লাগবে।,,,,,,
একে একে সবগুলো রাইডই কম্প্লিট করলো সবাই।ট্রেনে ,ড্রগন কোস্টার,বোট,স্প্রিটবোর্ডে চড়লো৷৷ এরপর সবাই মিলে মৎস্য জগৎ, বরফের জগৎ, সপ্তম আশ্চর্য,সৌরজগতের নভোথিয়েট,,,সব জায়গাতেই ঘুরে ঘুরে দেখলো।সব চেয়ে বেশি ভয় পেয়েছে ভূতের বাড়িতে।,,,,ঘুরতে ঘুরতেই সারাটা দিন কেটে গেলো,,,দুপুরের লাঞ্চটা সবাই মিলে স্বপ্নপুরীর ফুড হাট রেস্টুরেন্টে করলো।
সন্ধ্যায় সবাই এই স্বপ্নপুরীর আন্ডারেরই একটি রিসোর্টে উঠলো,,, মোট পাঁচটা রুম নেওয়া হয়েছে।তিন কাপলের তিনটি লাক্সারিয়াস রুম,,,,আহিশ,নিরাজের একটা আর হৃদের আলাদা একটা।,,,,সবাই সারাদিন ঘুরে ফিরে টায়ার্ড।চড়ুইতো এসেই খাটে চিৎ পটাং।আবির তাকে টেনে টুনে চেঞ্জ করালো,,,তারপর আবার এসেই দিলো ঘুম,,,,,দোয়েল আবার ভদ্র মহিলা,,,,সে চেঞ্জ করে একেবারেই শুয়েছে।নিবিড়ও পাশে বসে স্বযত্নে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো,,,,এতে আরো আরাম পেয়ে দ্রুতই ঘুমিয়ে পড়লো দোয়েল।,,একই অবস্থা বিপাসা আর হৃদেরও।তবে হৃদ সবার তুলনায় ফিজিকালি একটু স্ট্রং।তাই একটু ঘুমিয়েই ৮ টার দিকে উঠে নিজ দায়ীত্বে রিসোর্টের রুফ টপে চলে এলো যেখানে আগে থেকেই আবির নিবিড় আহিশ, জিসান,নিরাজ নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলো।হৃদ আসায় সেও হাত লাগালো কাজে।,,,,
রাত প্রায় ১১ টা।
ঘুমের মধ্যেই পাশে ফোনের রিংটন কানে ভেসে এলো।যদিও তার অত্যন্ত প্রিয় একটি গান রিংটোন হিসেবে সেইভ করা।তবুও আজ এই গানই তার বিরক্ত লাগছে।ঘুমের তো তেরোটা বাজাচ্ছে এই রিংটোনটা।হাতরিয়ে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরলো চড়ুই।
"হ্যালো?"
"উঠে ফ্রেশ হয়ে খাটে রাখা ড্রেসটা পড়ে নাও।"
চোখ খুললো চড়ুই। চোখ বুলিয়ে সারা রুম দেখলো,,,নাহ,কোথাও নেই তো আবির।
"আপনি কোথায়?"
"আছি,,,তোমায় যা বলেছি তাই করো।টাইম ১৫ মিনিট।"
কেটে গেলো ফোন।,,,আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলো চড়ুই।পায়ের কাছেই একটা প্যাকেট।হাত বাড়িয়ে নিলো সেটি,,,এমাহ,,এটা তো শাড়ি,,,, আমি এখন এটা পড়বো কি করে?,,,,আর এতো রাতে এসব কেন পড়বো?"
ভাবনার মাঝেই রুমে ঢুকলো বিপাসা।
"ছোট পাখি,,,তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো।আমি শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছি।"
"ভাবি,,,এতো রাতে শাড়ি কেন?এখন কি কোথাও যাবে?"
"বেশি দুর নাহ,,,রেডি হও দ্রুত,,,,"
চড়ুই আর কথা বাড়ালো নাহ,,,,ফ্রেশ হয়ে বের হতেই বিপাসা দ্রুত তাকে শাড়ি পড়িয়ে দিয়ে চলে গেলো।চড়ুইও নিজের মতো হালকা সাজতে লাগলো।,,,
""" এদিকে ঘুম থেকে উঠে অনেকক্ষণ নিবিড়কে পেলো না দোয়েল।অন্যদের রুমেও যাচ্ছে না,,,হয়তো ঘুমাচ্ছে।, , এক পর্যায়ে বিরক্তি নিয়ে ফোন লাগালো নিবিড়ের ফোনে।,,,
"বলো বউ?উঠেছো?"
"সেই কখন।,,আ্ আপনি কোথায় গিয়েছেন?"
"কেন?মিস করছিলে বুঝি?"
"এ্ এমন কিছুই নাহ,,,"
হাসলো নিবিড়,,,,
"রেডি হয়েছো?"
"হুম,,,একটু আগেই ভাবি এসে শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছে।কিন্তু এখন এসব?"
"হুসসস,,,কোনো প্রশ্ন নয়,,,কয়টা বাজে?"
দোয়েল রুমে থাকা ঘরিটার দিকে তাকালো...
"১১ টা ৪৪"
"ওকেয়,,,,এক কাজ করো,,,চড়ুই পাখির রুমে গিয়ে তাকে নিয়ে সোজা রিসোর্টের ছাদে যাও।,,"
"কেন?"
"ড্ ডিনার করতে,,,,আজ ওখানেই ডিনার করা হবে,,"
দোয়েল বিরক্ত হলো,,,,
"আমায় কি ডিনার করানোর জন্য শাড়ি পড়ানো হয়েছে?"
"বলেছি না?কোনো প্রশ্ন নয়?,,,কুইক করবে ওকেয়?,,বায়,,,,সি ইউ সুন..."
কল রেখে দিলো নিবিড়।,,,,,তার কথা রাখতেই একটা নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে গেলো চড়ুইয়ের রুমে।গিয়ে দেখলো চড়ুইও একদম রেডি হয়েই আছে।দুজন মিলে একসাথে এগিয়ে গেলো ছাদে।,,,,একি পুরো ছাদ তো অন্ধকার।,,,,চড়ুই একটু ভয় পেলো...
"এখানে তো কেউই নেই,,,, আমাদের এখানে কেন ডাকলো??,,,এ্ এই বোন,,,আমার খুব ভয় করছে.."
দোয়েল চড়ুইয়ের হাত চেপে ধরলো। আস্থা দিয়ে বললো....
"ওয়েট,,,আমি ফ্ল্যাস অন করছি,,,আর নিবিড় ভাইয়াকেও ফোন করছি।"
বলেই ফোনের ফ্ল্যাস অন করলো।,,,,সময়টা ঠিক ১২:০০ টা।রিসোর্টের বড় ঘড়িটার ঢং ঢং আওয়াজ ভেসে আসছে পাখিদের কানে,,,,,সাথে সাথেই ভেসে এলো নিরবতা ছড়িয়ে এক পুরুষালি শীতল কন্ঠ...
"Happy birthday to you,,,,,,Happy birthday to you,,,,Happy birthday dear twins birds,,,,Happy birthday to you,,"