"Happy birthday to you,Happy birthday to you,,,Happy birthday dear twins birds,,,,Happy birthday to you..."
পেছনে ফিরলো পাখিরা।দোয়েলের হাতের ফোনের ফ্ল্যাস পড়ে জ্বলজ্বল করে উঠলো বেগুনী রঙের চোখের মণি জোড়া।বুঝলো এটা নিবিড়।মুখে তার মনোমুগ্ধকর হাসি।,দোয়েল অপলক চেয়ে রইলো তার দিকে,,,,
মুহুর্তেই পুরো ছাদ আলোকিত হয়ে উঠলো।জ্বলে উঠলো বিভিন্ন পাতা ফুল,ইত্যাদির মাঝে লুকিয়ে থাকা রঙিন আলো।সাথে সাথেই চকচক করে উঠলো পাখিদের পড়নে সাদা শাড়ীর সোনালি রঙের পাড়টা,আর সম্পুুর্ণ শাড়ি জুড়ে থাকা স্টোনগুলো।,,,
চড়ুইয়ের চোখ গেলো তার দিকে এগিয়ে আসা আবিরের দিকে।ব্লাক জিন্সের উপর অফ হোয়াইট কালারের হুডিটা যেন তার জন্যই তৈরি।হুডির টুপিটা ফেলে রাখা।পেটের দিকের পকেটে দু হাত গুজে আছে সে।,,,,এগিয়ে এলো সে,,,মুখে আলতো হাসি,,,পকেট থেকে বাম হাতটা বের করে বৃদ্ধাঙুল দিয়ে আলতো করে চড়ুইয়ের গাল বেয়ে পড়া নোনা পানিটা মুছিয়ে দিলো,৷
চড়ুইয়ের ঘোর কাটলো,,,, এতক্ষণে বুঝলো সে কাদছে,,,,,,নিচে তাকিয়ে সেটি আড়াল করার চেষ্টা চালালো,,,,,
"এমন দিনে কাদতে নেই চড়াই পাখি,,,, বি স্মাইলি।,,"
চড়ুই চোখ তুলে তাকালো আবিরের দিকে,,,হাসার চেষ্টা করলো,,,৷আবির তাকে এক হাতে বুকে জড়িয়ে বললো...
"শুভ জন্মদিন আমার চড়াই,,"
-----
এদিকে নিবিড় গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তার এটমকে,,,এই মুহূর্তে দোয়েলের ভাবান্তর হওয়ার দৃশ্যটা তাকে বেশ আনন্দ দিচ্ছে,,,, নিরবতা ভাঙিয়ে দোয়েল বললো
..
"এ্ এসব কি,,,?"
"এখনো বুঝলে না?,,,টু ডে ইজ ইউর বার্থডে। ইটস আ স্পেশাল ডে ফর ইউ।,,"
দোয়েল কিছু বলতে যাবে তার আগেই জেসি,জিসান,বিপাসা,নিরাজ,হৃদ, আহিশ একত্রে চেচিয়ে বললো...
"হ্যাপি বার্থডে বার্ডস।"
পাখিরা তাকালো তাদের দিকে,,,সবাই একে একে জড়িয়ে ধরলো তাদের।এরপর জেসি তাড়া দিয়ে বললো...
"এই,,,বাকিরা ওয়েট করছে তো,,"
জিসান ছাদের এক কোনে এগিয়ে যেতে যেতে বললো...
"আমি কানেক্ট করছি,,, ওয়েট।"
পাখিরা উৎসুক দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে,,,, একি,,,এখানে ল্যাপটপ,প্রজেক্টর,বড় পর্দা,,,এসব কেন?,,
জিসান কিছুক্ষণ ল্যাপটপ ঘাটাঘাটি করতেই বড় পর্দাটায় এক এক করে ভেসে উঠলো সবার মুখ।,,,,ভিডিও কনফারেন্স?,,,,
চৌধুরী বাড়ির সবাই এক স্ক্রিনে, আরেক স্ক্রীনে আমোজ,আজিজ,হেনলি,,,,,,,কেয়া,রাবতি, সুহাসও আছে আলাদা আলাদা স্ক্রীনে।,,
সবাই এক এক করে পাখিদের উইশ করলো,,,এদিকে পাখিদের মুখে হাসি চোখে জল,,,,তা দেখে আমোজ বলে উঠলো...
"এমন দিকে কাদতে নেই আম্মুরা।,,,এতো বছর আমরা যা করিনি,,,সেই একটুকরো আনন্দটা আজ আবির আর নিবিড় বাবা তোদের দিতে পেরেছে।আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ থাকবো ওদের কাছে।,,"
দোয়েল এবার বাধ ভেঙে কেদে উঠলো,,,,
"ক্ কাকাই,,,আজ যে শুধু আমাদের জন্মদিন নাহ,,,,, আ্ আমাদের আম্মুর মৃত্যুবার্ষিকীও তো এমন একটা দিন।"
দোয়েলের কথা শুনে চড়ুইও শব্দ করে কেদে উঠলো,,,,,,
"এতো গুলো বছর আমরা এসব কখনো করতে দিইনি,,,আর না এই দিনটা নিয়ে কোনো আয়োজন ছিলো,,,,কিন্তু আজ?,,,আ্ আমার আম্মুকে খুব করে দেখতে ইচ্ছে করছে কাকাই..."
বলতে বলতেই ভেঙে পড়লো চড়ুই।পেছন থেকে তার দুকাধ চেপে ধরলো আবির।,,,
আমোজ আর আজিজের বুক চিড়ে এক অসহায়ত্ব বেরিয়ে এলো,,,,এই ১৮ টা বছরে পাখিরা তাদের আম্মুর সাথে কল্পনায় অনেক কথা বলেছে।কিন্তু কখনো তারা আমোজের কাছে আম্মুকে দেখার মতো অনুসুচনা প্রকাশ করেনি,,তবে আজ?আজ কি পাখিদের অন্তর একটু বেশিই কাদছে?,,,,,,তারা কখনোই তাদের আম্মু নামক নারীর মায়ায় আটকায় নি।না জানে তার হাসির ধরন,,না দেখেছে তার চাল চলন,,,আর না কখনো সেই আম্মুর কোলে শুয়ে দুলতে দুলতে লোরি শুনে ঘুমিয়েছে তারা।,,,,তবুও এই একটা টান,,,,তারা যে ঐ নারীরই নাড়ী ছেড়া ধন,,,,এই নাড়ীর টানটাই আজ আঠারোটা বছর পর তাকে একটিবার চোখের দেখা দেখতে কামনা করছে।,,,কিন্তু তা যে আর কখনোই পুরন হওয়ার নয়,,,,
"আমায় তোমরা ক্ষমা করে দিও আম্মু,,আমি পারিনি এই এতো বছরেও তোমাদের মায়ের মায়া ছাড়াতে,,,অবশ্য কখনো তো চেষ্টাটাই করলাম না,,,,"
আজিজের কথায় পর্দায় চোখ তুলে তাকালো চড়ুই।
"বাবা?,,,,আ্ আমাদের আম্মু কেমন ছিলো বলোনা?,,সে কি কখনো আমাদের নিয়ে ভাবতো?,,আমাদের কি কখনো কল্পনাতে আদর করতো?,,,ও বাবা বলোনা,,,? "
চড়ুইয়ের এমন আকুতি ভরা কন্ঠে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারলো না আজিজ,,, চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়া এক ফোটা পানি সযত্নে মুছে নিলো।,,,
"বলতো আম্মু,,,ও তোমাদেরই কথা বলতো,,,,তোমরা যখন ওর মধ্যে এসেছিলে,,তখন থেকেই ও তোমাদের অনুভব করতো।পেটে হাত দিয়ে আনমনেই হাসতো,,,আয়নার সামনে দাড়িয়ে তোমাদের নিজের মধ্যে দেখার মিথ্যা প্রচেষ্টা চালাতো।,,,,কল্পনায় তোমাদের বর্ননা দিতো,,,এই যে দেখো,,আমার মেয়েরা?কি টানা টানা চোখ,,,দেখো দেখো ঘন পাপড়ি গুলো,,,,শুভ্রসিন্দুর গায়ের রঙ।তুলতুলে হাত পা গুলো,,,,ঠোট জুড়ে খিলখিলিয়ে হাসির শব্দ,, ",,, আমায় এসব বলতো,, ও খুব করে অনুভব করতো তোমাদের,,,,কল্পনায় তোমাদের দেখার সাধ মেটাতো,,হয়তো আগে থেকেই জানান পড়েছে যে বাস্তবে তোমাদের দেখার সুযোগটা সে আদেও পাবে না,,,,"..
থামলো আজিজ,,,আর কিছু যে তিনি বলতে পারছে না,,,পাখিরাও কাদছে।তাদের আগলে আছে আবির আর নিবিড়।,,,,কিছুক্ষণ নিরবতা,,,নিবিড় ব্যস্ত হলো দোয়েলের কান্না থামাতে।আবির কিছু বললো নাহ,,,শুধু শক্ত করে চড়ুইকে বুকে জড়িয়ে নিলো।,,,অনেকক্ষণ পর সব স্বাভাবিক হলো।পাখিরাও চোখ মুছে মুখে হাসি আনলো।সাথে বাকিরাও হাসি আনলো মুখে।সবাই মিলে ছাদের মাঝে রাখা টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলো।পাখিরা কেক কাটলো,,,,সবাইকে খাইয়েও দিলো।সবাই গিফ্ট দিলো তাদের।,,,
ছাদের এক কোনে দাড়িয়ে আছে দোয়েল। হাতে একটা কোল্ড ড্রিংকসের বোতল।শীতল হাওয়ায় হালকা ঠান্ডা লাগছে বটে।কিছুক্ষণ পর কারো উষ্ণ নিঃশ্বাস আছড়ে পরলো তার ঘাড়ে।,,অনুভব করলো কেউ তার পেছনে এসে দাড়িয়েছে।তাকালো দোয়েল,,,এটা নিবিড়।আলতো হেসে আবার সামনে তাকালো সে।নিবিড় আরেকটু মিশে দোয়েলের কোমর জড়িয়ে ধরলো,, নিজের থুতনি ঠেকলো দোয়েলের কাধে।,,,
" ধন্যবাদ আপনাকে।"
দোয়েলের কথায় নিবিড় শান্ত স্বরে বললো...
"হুয়াই মিস এটম?"
"এই যে,,,এতো কিছু করলেন?,,এই দিনটার কথাতো আমার নিজেরই মনে নেই,,আর আপনারা..."
"আমার বউয়ের স্পেশাল ডে আমি মনে রাখবো না তো কে রাখবে,,শুনি?"
আলতো হাসলো দোয়েল।
"মনে রাখার জন্যও ধন্যবাদ আপনাকে,,"
"শুধু ধন্যবাদে তো মন ভরবে না মিস এটম?"
দোয়েল ভ্রু কুচকালো।এরপর বললো...
"তাহলে কি চাই আপনার?"
নিবিড় মুখ গুজলো দোয়েলের গলায়,,,মাতাল করা স্বরে বললো...
"যা চাইবো দেবে আমায়?,"
দোয়েল একটু থেমে বললো...
"সাধ্য থাকলে অবশ্যই দেবো।"
"তোমার সাধ্যের মধ্যেই চাইবো।"
"তাহলে অবশ্যই দেবো।"
নিবিড় কিছুক্ষণ চুপ রইলো। তারপর মুখ তুলে দোয়েলকে নিজের দিকে ঘোরালো।চোখে চোখ রেখে বললো...
"আজ সম্পুর্ন আমার মিসেস হবে?,,,"
দোয়েল নীরব দৃষ্টিতে তাকালো নিবিড়ের দিকে। নিবিড় আবার বলে উঠলো...
"নিজেকে আজ আমার মাঝে বিলীন করবে?,,,বলো?আমাকে তোমার মাঝে বিলীন হতে দেবে?,,,"
দোয়েল চুপ রইলো। নিবিড় দোয়েলকে আরেকটু কাছে টেনে বললো..
"বলো না মিস এটম,,,উইল ইউ রেডি ফর বি মাইন?"
দোয়েল দৃষ্টি নামালো।নিবিড় ভেবেই নিলো সে অজাচক কিছু চেয়ে ফেলেছে।তবে একটু পরই তার ধারণা ভুল প্রমাণ করে দোয়েল তার বুকে মাথা রাখলো।হালকা স্বরে বললো...
"আমি সম্পুর্নই আপনার।,,,,"
আর কিছুই বলা লাগলো না,,,,এটুকুতেই নিবিড় তার উত্তর পেয়ে গেলো।আলতো হাসলো সে।আর কিছু না বলেই দোয়েলকে পাজা কোলে তুলে নিলো।দোয়েলও হাসলো।মুখ লুকালো নিবিড়ের বুকে।,,,,,নিবিড় এগিয়ে গেলো সিড়ির দিকে।যাওয়ার আগে সবার উদ্দেশ্যে বললো...
"আমরা যাচ্ছি।"
বলেই দোয়েলকে নিয়ে রওনা দিলো নিজেদের জন্য নির্ধারিত রুমের দিকে।,,,,আজ এই স্বপ্নপুরীতেই তাদের এক স্বপ্নীল রাত নামলো।যে রাতে তারা দুজন স্বপ্নের মতোই একে অপরে মিশে একাকার হবে।নিজেকে বিলীন করবে অপরের কাছে।,,,,,,
()()()()()
"সবাই তো চলে গেলো,,,,তুমি যাবে না চড়াই পাখি?"
আবিরের কন্ঠ কানে গেলো চড়ুইয়ের।তবে কোনো ভাবান্তর হলো না,,,আগের মতোই দোলনায় দোল খেতে খেতে সামনে তাকিয়ে বললো...
"এই গভীর রাতে স্বপ্নপুরীটা সত্যিই স্বপ্নের মতো তাই না?"
আবির মন দিয়ে শুনলো চড়ুইয়ের কথা।তবে কোনো উত্তর দিলো না,,, গিয়ে বসলো চড়ুইয়ের পাশে আলতো করে চড়ুইয়ের ডান হাতটা নিজের দু হাতের মুঠোয় পুড়লো।চড়ুই সেদিকে একবার তাকিয়ে আবার সামনে তাকালো।,৷,,
"আজ রুমে না যাওয়াটাই বেটার।,,"
চড়ুই ভ্রু কুচকে বললো...
"কেন?"
আবির কিছুক্ষণ চুপ রইলো,,, তারপর বলে উঠলো...
"বলবো?"
"জানতেই তো চেয়েছি।"
"আমার আজ কেমব জানি ফিল হচ্ছে। "
আবিরের কথায় চড়ুই এবার তার দিকে দৃষ্টি দিলো।
"কেমন ফিল হচ্ছে মানে?,,,,শরীর খারাপ লাগছে?"
বলতে বলতেই আবিরের কপাল চেক করলো চড়ুই। নাহ তো,,,জ্বর তো আসেনি।,,,,,,আবির চড়ুইয়ের হাত টেনে সড়ালো।,,,,তারপর চড়ুইকে টেনে নিজের কোলে বসালো,,,,
"কি করছেন?"
"আই হোপ আজ,,,,,,,,''
" আজ কি?"
"আজ এখন...."
"বলবেন তো এখন কি,,,,"
আবির চড়ুইকে একটু জড়িয়ে ধরলো,,,,
"আমার মনে হচ্ছে,,, আজ এই মুহূর্তে,,,,, ভাই আর বড়পাখি নিজেদের প্রাইভেসি টাইম স্পেন্ড করছে।"
চড়ুই বুঝলো আবির কি বলতে চাইছে,,,,একটু থেমে গলার স্বর খাদে নামিয়ে বললো....
"ত্ তো?"
"আমরা তো টুইন্স,,,,, এখন যে আমারও প্রেমময় খেলায় মত্ত হতে মন চাইছে।,,,বার্থ কানেকশন যাকে বলে,,,,,,"
আবির চোখ তুলে চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বললো...
"তোমার কিছু ফিল হচ্ছে না চড়াই?"
চড়ুই থেমে গেলো।আসলেই সে অনুভব করছে?,,,এতক্ষণ প্রকৃতিতে মুগ্ধ থাকায় এসব মাথায় আসে নি,,,,তবে এখন?,,,,সত্যিই কি?,,,,,
"মস্তিষ্ক নয় চড়াই,,,,,,ব্যপারটা মন থেকে আসার কথা।,,,,,আর ইউ ফিলিং সামথিং?"
চড়ুই কিছু বললো না,,,নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। আবির গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করলো চড়ুইকে।,,,,,
"আজ এই শুভ্র সাজে না সাজলেই পারতে,,,,তোমার এই সাজ আমায় আরো দুর্বল করে দিচ্ছে,,,, তার উপর ঐ বার্থ কানেক্টিং এট্রাকশনটা,,,উফফহ,,,,,,,,নাও হোয়াট ক্যান আই ডু চড়াই পাখি?"
চড়ুই কিছুই বললো না,,,,এখনো চুপ রইলো।,,,, আবিরও যেন সময় দিচ্ছে তাকে।বেশ অনেকক্ষণ পর চড়ুই শান্ত দৃষ্টি দিলো আবিরের দিকে।,,,,, কোমল কন্ঠে বললো....
"আজ,,, এই সময়,,, ব্যপারটা কি সত্যিই আপনার মন থেকে আসছে?,,,নাকি সবটাই বার্থ কানেকশন? "
আবির চুপ রইলো,,, বিষয়টা যে সেও বুঝে উঠতে পারছে না। তাই ধীর কন্ঠে বললো...
"আমি শিওর না চড়াই। "
চড়ুই আলতো হাসলো,,,,,,
"বোন আর নিবিড় ভাইয়া,,, নিজেদের নিয়ে মন থেকে সম্পুর্নই শিওর ছিলো।,,,,,তাই তারা আজ,,,,,,,। "
একটু থেমে চড়ুই আবার বললো...
"আমি বুঝতে পারছি আপনি কি ফিল করছেন,,,,কিন্তু আপনি তো সন্দিহান,,,, তাই আমার মনে হয়,,,যেদিন আপনি কোনো প্রকার বার্থ কানেকশন ছাড়াই মন থেকে ফিল করবেন,,,,শিওর হবেন যে আমাদের সম্পর্কটা এগোনো উচিৎ।সেদিন আপনি নিজের ইচ্ছেতে আমায় পেতে পারেন।আমি কখনোই বাধা দেবো না আপনাকে।,,"
আবির তাকিয়ে রইলো চড়ুইয়ের দিকে। কিছুক্ষণ পর কাতর কন্ঠে বললো...
"আজ আমার একটা অনুরোধ রাখবে চড়াই? "
চড়ুই ধরেই নিলো আবির এখন নিজের অধিকার চাইবে,,, চড়ুই কাতর দৃষ্টিতে তাকালো আবিরের দিকে,,,,,কিন্তু আবির তাকে অবাক করে দিয়ে বললো...
"আজ রাতটা,,,,,,আজ রাতটা আমরা এই ছাদেই থাকি?"
এমন কথায় চড়ুইয়ের দৃষ্টি অবাকের পর্যায়ে পৌঁছে গেলো।আবির আগের মতোই বলে উঠলো...
''এখন ঐ বদ্ধ ঘরে তুমি আমি একা থাকলে আমি সত্যিই নিজেকে সামলাতে পারবো নাহ,,,এর থেকে বেটার,,এই খোলা আকাশের নিচে বসে স্বপ্নপুরীটা দেখতে দেখতেই রাতটা পাড় করে দিই?"
চড়ুই এবার ফিক করে হেসে দিলো।মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো। আবিরও হাসলো উঠে দাড়িয়ে একদিকে যেতে যেতে বললো...
"ওয়েট আ মিনিট।,,,"
আবির গিয়ে ছাদের কোনায় টেবিল থেকে একটা চাদর নিয়ে এলো,,,, সাদার উপর হালকা আকাশি রঙের উইলের চাদরটা এনে চড়ুইয়ের গায়ে জড়িয়ে দিলো...
"এতে দুটো কাজ হবে।এক তোমারও শীত লাগবে না,,আর দুই...."
"দুই??"
আবির মুখটা চড়ুইয়ের মুখ বরাবর নিয়ে এলো,, লো ভয়েজে বললো....
"একটু হলেও তোমার রুপে কম ঝলসাবো এখন আমি,,,"
চড়ুই চোখ গোলগোল করে তাকিয়ে রইলো। আবির এবার ফিক করে হেসে দিলো।,,,সরে এসে সোজা দোলনার উপর হাটু ভাজ করে চড়ুইয়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো।
"আরে,,,কি? "
"চুল গুলো টেনে দাও।"
"কেন?"
চড়ুইয়ের কথায় আবির সরাসরি উপরে চোখ তুলে তাকালো তার দিকে...
"আরেহ,,,নিজেকে কন্ট্রোল করে আজ তোমায় ছেড়ে দিচ্ছি,,,তার রিভেঞ্জ হিসেবে তো এটুকু দিতেই পারো পাতিহাঁস... "
চড়ুই রেগে গেলো,,,,
"আবার পাতিহাঁস? "
"আজিবন বললো,,,প্রবলেম?"
"আপনাকে তো আমিইই,,"
বলেই হাত দিয়ে আবিরকে ধরতে গেলে আবির তার হাতটা ধরে নিজের চুলে গুজে দিলো। তা দেখে চড়ুই জোরে আবিরের চুল টেনে দিলো,,,
"আহ চড়াই,,,এতো জোরে টানতে বলিনি।,,স্লো,,,,"
চড়ুই থামলো,,,,ফিক করে হেসে দিলো।,,
"এরপর আর এই নামে ডাকলে এভাবেই এটাক করবো।"
আবির হেসে বললো...
"ওকেয় ম্যাডাম,,,আম অলটাইম রেডি,,,ফর ইউর সুইটিস্ট এটাক।"
আবিরের কথা শুনে চড়ুই আরো জোরে হেসে দিলো।সাথে আবিরও তৃপ্তির হাসি হাসলো তার চড়াইয়ের খুশি দেখে।,,
()()()()()()()()()
সকালের মিষ্টি আলো সাথে স্বপ্নপুরীর নাম না জানা কিছু পাখির মিষ্টি আওয়াজে ঘুম ভাঙলো দোয়েলের।,,,,আড়মোড়া ভেঙে পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো নিবিড় এক দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।গতকালের স্বপ্নীল রাতের কথা মনে পড়তেই লজ্জারা ঘিরে ধরলো দোয়েলকে। দ্রুত ব্ল্যাংকেটের ভেতর দিয়ে মুখ লুকালো নিবিড়ের উদাম বুকে।,,, হেসে দিলো নিবিড়।
"গুড মর্নিং বউ,, "
দোয়েল উত্তর দিলো না,,,,,, নিবিড় হাসলো।দোয়েলের মুখের উপর থেকে ব্ল্যাংকেটটা সরালো।
"এখনো এতো লজ্জা?,,,,কাল রাতেই তো সব লজ্জা ভাঙালাম।কম পড়লো নাকি??"
দোয়েলের লজ্জা দ্বিগুন হলো৷
"ধ্যাৎ,,,,,"
হেসে দিলো নিবিড়।নরমাল করতে বললো...
"হয়েছে,,,বাকি লজ্জা আজ রাতে ভাঙাবো।এখন ফ্রেশ হয়ে নাও,,,যাও।"
"এভাবে?"
বুঝলো নিবিড়,,,,হেসে বললো...
"ওকেয় এটম।আমি আগে যাচ্ছি।দেন ইউ।"
দোয়েলও সায় জানালো।
()()()()()()()