"আমি এতটাও নিকৃষ্ট নই যে তোমার অসুস্থতার সুযোগ নেবো।,,,,,,আমার সময় হলে আমি ঠিকই সব আদায় করবো৷৷ "
চড়ুই তাকিয়ে রইলো আবিরের দিকে।৷ আবির চড়ুইয়ের চুলের বেনি খুলে চুলগুলোকে হাত দিয়ে হালকা ঠিক করে নিলো।তারপর ঢিলা করে পেছন দিকে ঝুটি বেধে দিলো।সোফার উপর থেকে ওরনাটা নিয়ে চড়ুইকে পড়িয়ে দিলো ঠিক করে।,,,
সবটা চড়ুই শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলো। আবির উঠে দাড়াতেই চড়ুই ব্যস্ত হয়ে বললো..
"আমি বাড়ি যাবো।"
আবির চড়ুইয়ের হাত ধরে টেনে তুলে নিয়ে তার রকিং চেয়ারটায় বসিয়ে দিলো। চড়ুই উঠে যেতে চাইলে তাকে আবার বসিয়ে দিলো।
"চুপ চাপ এখানে বসো।"
নিজে চড়ুইয়ের পাশে হালকা ঝুকে ল্যাপটপটা অন করলো।কিছুক্ষণ আগের সিসিটিভি ফুটেজ অন করে চড়ুইয়ের সামনে রাখলো,,,সাথে ভয়েজ কানেক্টারও আছে।,,,,,ফুটেজ দেখে চড়ুই অবাক।কারন তখন মেয়েটা ভুল করে দৌড়ে এসে আবিরকে জরিয়ে ধরেছিলো।পরে মেয়েটির বয়ফ্রেন্ড এসে আবিরের কাছে ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছে,,, মেয়েটিও তার ভুল বুঝতে পেরে সরি বলেছে।,,,,,
চড়ুই নিজের চুল নিজেই ছিড়তে ইচ্ছে করছে , ইশশশ,,, কি না কি ভেবেছে সে।,,,আবির গিয়ে চড়ুইয়ের এপ্রোনটা ভাজ করে চড়ুইয়ের কলেজ ব্যাগে ভরে নিলো।এরপর নিজের ব্লেজারটা হাতের ভাজে নিতে নিতে বললো....
"আমি তোমার মতো নই, যে অন্য জনে আসক্ত হবো।'
চড়ুই কিছু বুঝলো না৷৷ বললো...
" মানে?"
আবির তাকালো চড়ুইয়ের দিকে। তবে কিছুই বললো না।,,,,কিছুক্ষণ পর চড়ুইয়ের ব্যাগ নিজের হাতে নিয়ে বললো...
"উঠো,,,,"
চড়ুই ভাবনার জগতে ব্যস্ত।
"এটা ভুল দেখেছি,,,কিন্তু তার মানে তো এই নয় যে উনি আমায় ভালোবাসে,,,,.."
"উঠতে বলেছি আমি,,,"
চড়ুইয়ের ঘোর কাটলো,, তারাহুরো করে উঠে আবিরের সাথে হাটা ধরলো।,,, হাটতে হাটতেই আবির কাউকে ফোন করলো,,,কথা বলে ফোন রেখে,,,সিড়ির গোড়ায় আসতেই চড়ুইয়ের হাত আকড়ে ধরলো,,, দৃষ্টি সামনে রেখেই হাটছে,,,চড়ুই কিছু বললো না আর,,,হাটতে লাগলো।,,,,অফিস থেকে বেরিয়ে আবির পার্কিং লটের দিকে যেতে লাগলেই পেছন থেকে চড়ুই বললো...
"কোথায় যাবো?"
"বাড়ি,,,"
বলতে বলতেই গাড়িতে উঠে বসলো আবির।
"উঠো,,,"
ঐ ফুচকার দোকানটায় চলুন,,,কাজ আছে।
বলেই হাটা ধরলো চড়ুই।পেছন থেকে আবির ডাকলো,,,তবে সে শুনলো না,,,বিরক্ত হয়ে আবির নিজে নিজেই বলে উঠলো...
"এই রকম সিচুয়েশনে মেয়েটা ফুচকা খেতে যাচ্ছে,,,হাউ?"
আবির ভাবলো গাড়িতে যখন উঠেই গিয়েছে,,তাহলে পার্কিং লট থেকে বের করে নেওয়া যাক,,,,
,,,,,এদিকে চড়ুই ফুচকাওয়ালার কাছে এসে বললো..
"আঙ্কেল আমার পরিচিত চলে আসছে,,আপনার টাকাটা এক্ষুনি দিয়ে দিবে।"
পাশ থেকে ঐ আগের ছেলেটা বলে উঠলো..
"কত করে বললাম ,আমি দিয়ে দিই,,,শুনলেই না,,,কি আর হতো বলো,,,,একটুই তো টাইম পাস,,,"
চড়ুই ভ্রু কুচকে বললো...
"তুই এখনো যাস নি???পেছনে লেগেই আছিস,,?"
তখনই অফিস থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে আবির ফুচকা দোকানের সামনে থামালো,,,সে নেমে আসতেই ফুচকাওয়ালা হেসে তাকে সালাম দিলো।ঐ ছেলেটাও দাড়িয়ে গেলো,,, উঠে আবিরকে সালাম দিলো,,,,তারপর ভিজে বেরালের মতো মুখ নামিয়ে দাড়িয়ে রইলো।,,,, ফুচকাওয়ালাটি চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো..
"মামনি,,,এনারে সালাম দাও,,,উনি ঐ অফিসটার বড় সাহেব। "
চড়ুই ঢং করে একবার আবিরের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে বললো...
''তাই?,,,আসসালামুয়ালাইকুম ব্যবসার থলে,,থুরি বড় সাহেব।"
আবিরের চড়ুইয়ের প্রতি চরম বিরক্ত লাগছে,,,,সে হালকা চেচিয়ে বললো...
"স্টপ ইট চড়াই।এই সময় তুমি ফুচকা খাবে?,,,,নাও দ্রুত করো।"
চড়ুই মুখ বাকিয়ে বললো...
"খাবো না,,,,খেয়েছি,,এখন উনার টাকাটা শোধ করে দিন।"
আবির বুঝলো না...
''টাকা শোধ করবো মানে?"
"হুহ,,,তখন তো আমায় একা রেখে ভেতরে চলে গেলেন,,,নিজে না নেওয়ার হলে কলেজ থেকে এখানে আনলেন কেন?,,,"
"তো তুমি চলে যাওনি কেন?"
"কি করে যাবো?ভাড়া দিয়েছেন?,,,মাত্র ৪০ টাকা ছিলো,,এখান থেকে যেতে ২০০ লাগে।,,,তাই এখানে এসে ফুচকা খেয়েছি।,,,কিন্তু পরে দাম জেনে বুজলাম আমার পরিমান থেকে বেশিই খেয়ে ফেলেছি।এখন উনার টাকা দিন৷, "
ফুচকাওয়ালা চড়ুইকে বললো...
"মামনি,,,বড় সাহেবই কি তোমার সেই পরিচিত?"
চড়ুই বললো...
"হ্যা আঙ্কেল,,,,এই ব্যবসার থলেটাই।,,"
আবির চড়ুইকে সরাসরি প্রশ্ন করলো,,,,
"তো এতো দেরি করে ভেতরে কেন গিয়েছো?"
"কি করবো?,, ভেবেছিলাম এখানেই বসে থাকবো,,,কিন্তু এই ছেলেটা জ্বালিয়ে মারছে,,,তাই তো চলে গেলাম ভেতরে,,,আর যা দেখলাম,,উপহ।"
আবির তাকালো ছেলেটির দিকে,,,,
"তুই ওকে ডিসট্রাভ করছিলি?,, জানিস ও কে??"
ছেলেটি ভয় পেলো,,,,,হাত জোর করে বললো...
"মাফ চাই সাহেব,,,আমি জানতাম না উনি আপনার পরিচিত,,,,"
চড়ুই বললো....
"ওহ,,তার মানে পরিচিত না হলে ডিস্টার্ব করতি?"
ছেলেটি আমতা আমতা করে বললো...
"ইয়ে না ম্ মানে ম্যাডাম..."
চড়ুই হেসে বললো...
"বাহ,,কিউটি থেকে সোজা ম্যাডাম?"
কথার মাঝে ফুচকাওয়ালা বললো...
"মামনি,,,তুমি বড় সাহেবের পরিচিত বললেই হতো,,তা কেমন পরিচিত সাহেব?'
চড়ুই খামোশ ভাবে বললো...
" ঐ আরকি,,,এমনিই পরিচিত,,,, "
তারপর আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো..
"উনার টাকা টা দিন তারাতারি।"
আবির আর কথা বাড়ালো না,,,মানি ব্যাগ থেকে একটা ৫০০ টাকার নোট বের করে ফুচকাওয়ালার দিকে এগিয়ে দিলো, তার দৃষ্টি দেখে বোঝাই যাচ্ছে সে চড়ুইয়ের কথায় সন্তুষ্ট নয়।,,,,,আবির তাকে টাকা দিতে দিতে বললো...
"আমার ওয়াইফ ও।"
ফুচকাওয়ালা যেন বিশ্বাস করতে পারছে না৷৷ সাথে ঐ ছেলেটাও।,,,,
আবির টাকা দিয়ে চড়ুইয়ের হাত ধরে গাড়ির কাছে নিয়ে ফ্রন্ট সীটের দরজা খুলে বললো...
"উঠো..."
চড়ুই উঠতে উঠতে বললো...
"আমরা তো গাড়ি নিয়ে আসি নি?"
আবির ঘুরে এসে ড্রাইভিং সিটে বসতে বসতে বললো....
"এটা আমারই গাড়ি।অফিসে থাকে,,,,প্রয়োজন হলে নিই।"
"আমরা এখন রিক্সাতেই যেতে পারতাম,,?"
"সেই রকম ইচ্ছেটা তুমিই আর রাখলে না।"
চড়ুই বুঝলো না,,,তাই কথাও বাড়ালো না,,,এই লোক যে খুব চটে আছে তা বেশ বুঝতে পারছে।যার কারনে তখন থেকে এমন ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলছে।,,,,
গাড়ি চলছে তার নিজ গতিতে।কিছুক্ষণ পর আবির সামনে তাকিয়েই বললো...
"কত বছরের রিলেশন ঐ রিমনের সাথে?'
চড়ুই একটু ভাবলো,,,,
"এই,,,,প্রায় এক বছর,,"
"পরিচয় কোথায়?"
"কোথায় আবার কলেজ উঠার পরই।"
"তা আমি যে তোমার জন্য এমন করতাম,,,তখন কি একবারও বলার প্রয়োজন মনে করো নি?"
চড়ুই বিরক্ত হলো...
"আজব,,,,এটা বলার কি আছে?কি এমন ইম্পর্ট্যান্ট এটা?"
আবিরের মনে মেঘ জমলো,,,সে ভেবেই নিয়েছে চড়ুই তাকে তার কেউই ভাবে না,,,তাই তো তার আর রিমনের সম্পর্কে কিছু বলতে চাইছে না,,,
"তা এখন কি ভাবলে?,,,,আমায় ডিভোর্স দিয়ে রিমনকে বিয়ে করবে?"
চড়ুই যেন তব্দা খেলো,,,কি বললো আবির?তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবে?,,,নিজের কান কে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না সে।অবাক ও ছলছল দৃঐষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আবিরের দিকে,,,,, কন্ঠ ক্ষাত করে বললো...
'"আপনি আমায় ডিভোর্স দিয়ে দিবেন?,,,,"
আবির আগের মতো থেকেই বললো...
"তুমি তাই প্রাপ্য।"
চড়ুইয়ের চোখ থেকে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো।,,,,,আবির আবার বলে উঠলো...
"তো মানবে তোমার রিমন?"
চড়ুই ভ্রু কুচকে বললো...
"আজব,,,এখানে রিমন কোথা থেকে এলো?ব্যপারটা আমাদের হাসব্যান্ড ওয়াইফের,, সেখানে আমার ক্লাসমেটের কি কাজ?".
কথাটা শুনেই আবির তড়িৎ গতিতে ব্রেক কসলো।চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো...
" কি বললে তুমি?রিমন তোমার কে?"
চড়ুই কাদছে নিচের দিকে তাকিয়ে,,,, সেভাবেই বললো...
"কে আবার? ক্লাসমেট,,,"
"ম্ মানে?ও তোমার বি এফ না?"
"কি আজব,,,বি এফ হতে যাবে কোন দুঃখে?,,,,আর আমিই বা এতো কিউট একটা বর থাকতে আবার বি এফ বানাবো কেন??"
আবির যেন বিশ্বাস করতে পারছে না,,,, খুশিতে সে যেন কি করবে তাই ভুলে গেছে।,,,গাড়ির সীটে চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে রইলো।ওভাবে কতক্ষন ছিলো জানা নেই।চোখ মেললো চড়ুইয়ের অভিমানী কথায়....
"ঠিক আছে,,,,আমি যেহেতু আপনার বউ হওয়ার যোগ্য নই,,,,ডিভোর্স দিয়ে দিন আমায়।,,,"
আবির তাকালো চড়ুইয়ের দিকে,,,, মেয়েটা নিচের দিকে তাকিয়ে নিরবে কাদছে।,,,আবির তার দিকে ঝুকে টেনে এনে নিজের কোলের উপর বসালো,,,,
"ক্ কি করছেন?"
চড়ুইয়ের কথা যেন কানেই গেলো না আবিরের।,,,সে নিজের কাজে ব্যস্ত।শক্ত করে চড়ুইকে বুকে জরিয়ে ধরলো।,,
"থ্যাংকস চড়াই পাখি,,,,তুমি জানো না তুমি এই মাত্র কি বলেছো,, আমি ভীষণ খুশি হয়েছি পাখি,,,,ভীষন।"
চড়ুই মন খারাপ করে বললো...
"ডিভোর্স দিতে বলেছি বলে আপনি খুশি হয়েছেন?"
"তোমার মাথা,,,,ইটস এনাদার রিজন,,,,বোকা পাখি,,,, আমি প্রান থাকতে তোমায় ডিভোর্স দিচ্ছি না বোকা পাখি।,,,একবার যখন বিয়ে করেছি,,আর ছাড়ার মানুষ আমি নই।"
বলেই চড়ুইয়ের কপালে ঠোট ছোয়ালো।
"তার মানে আমায় ডিভোর্স দিবেন না?"
চড়ুইয়ের উৎফুল্ল দেখে হেসে দিলো আবির,,,গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বললো...
"নো ওয়ে,,,,"
"আরে কি করছেন,,আমায় কোল থেকে নামান,,, এভাবে... "
"উহুম,,,,তুমি এখন এভাবেই থাকবে।এই কয়েক দিন অনেক জ্বালিয়েছো তুমি আমায়,,,,এবার তুমি জ্বলবে,,,আমার আগুনে,,,বুঝলে চড়াই?"
চড়ুই বোকার মতো দু দিকে মাথা নাড়ালো,,মানে সে বুঝলো না,,,,আবির আর কিছুই বললো না,,,,গাড়ি স্টার্ট দিলো।,,,,,,,
কিছুক্ষন পরেই গাড়ি অন্যদিকে টার্ন নিতেই চড়ুই বলে উঠলো....
"আরেহ,,,,এটা তো বাড়ির রাস্তা নয়,,,,আপনি কি পথ ভুলে গেলেন??"
"উহুম,,,,তবে ভুলতে চাই,,,তোমায় নিয়ে।"
"কি সব বলছেন?কিছুই বুঝতে পারছি না।"
"বুঝবে চড়াই,,,একটু পরই বুঝবে,,,"
,,,,,,কিছুক্ষণ পরেই আবির গাড়ি থামিয়ে চড়ুইকে কোলে নিয়েই নামলো।সামনে তাকিয়ে চড়ুই অবাক হয়ে বললো...
"এটাতো ঐ রেস্টুরেন্ট টা,,, যেখানে আমাদের...."
আবির চড়ুইকে কোলে নিয়েই হাটতে হাটতে বললো....
"যেখানে আমাদের প্রথম দেখা হয়,,,আর তুমি প্রথম আমাকে পাতিহাঁসের মতো প্যাকপ্যাকানি শোনাও।".
চড়ুই কপাট রেগে গেলো,,,,,
" কি বললেন আপনি?অসভ্য,,ইতর,,বদমাইশ,,,"
বলতে বলতেই হাত দিয়ে আবিরের বুকে কিল ঘুসি দিতে লাগলো।,,,রেস্টুরেন্টের ভেতর ঢুকতেই চড়ুই খেয়াল করলো সবাই তাদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।ততক্ষণাৎ চড়ুই আবিরের বুকে মুখ লুকালো...
"ইশশশ , সবাই কিভাবে তাকিয়ে আছে,,,আমায় এবার নামান কোল থেকে।"
আবিরও চড়ুইয়ের মতো সুর করে বললো...
"ইশশশ,, কি লজ্জা আমার বউটার,,,,লজ্জায় গাল দুটো একদম স্ট্রবেরি হয়ে গেছে।,, ইচ্ছে করছে এখনি খেয়ে ফেলি।"
চড়ুই ওভাবেই বললো...
"ছিহ,,,নির্লজ্জ,,, নামান বলছি।"
"আমার বউ আমি কোলে নিয়েছি।তোমার কি,,,"
"আরেহ"
আবির গিয়ে সেই কর্নারের টেবিলে থামলো,,,,চড়ুইকে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিলো,,,
"আবার ঐ টেবিলটায়?"
"জ্বী পাতিহাঁস,,,, আবার ঐ টেবিলটাতেই,,,যেটার জন্য আপনি আমার সামনে নিজের উড়নচণ্ডী রুপ ধারন করেছিলেন।"
''আপনাকে তো আমি..."
"কি খাবে বলো?"
"উমমম,,,,স্ট্রবেরি বলায় মনে পরেছে,,,,একটা স্ট্রবেরি কেক খাওয়া যায়,, কি বলেন?"
আবির হাসলো,,,,
"এখানেই বসো,,,,আমি অর্ডার দিয়ে আসছি।,,,,"
উঠতে গেলেই চড়ুই পেছন থেকে ডাকলো..
"শুনুন?"
আবির তাকালো চড়ুইয়ের দিকে...
"আ্ আপনি কি খাবেন?"
আবির নিরবে হাসলো,,,,ধীর পায়ে এগিয়ে এলো চড়ুইয়ের কাছে। কানের কাছে মুখ নিয়ে লো ভয়েজে বললো...
"তোমায় খাবো,,,,"
চড়ুই থমকালো,,,,হৃদ স্পন্দন বেড়ে গেলো মাত্রই,,,,আবির প্রশ্ন ছুরলো...
",তুমি খুব ইয়াম্মি হবে তাই না??,,,,,,,,,,,,খেতে দেবে তোমাকে?"
চড়ুইয়ের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো,,,,,আবির উঠে টেডি স্মাইল দিয়ে চলে গেলো,,,,আর পেছনে চড়ুই গোল গোল চোখ নিয়ে তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার দিকে।,,,,,
"কি বললো উনি?,,,, আমায় খাবে?"