গাড়ির কাছে আসতেই আবির দেখলো চড়ুই মাত্রই গাড়িতে উঠতে যাচ্ছে। আবির দ্রুত গিয়ে চড়ুইকে আটকালো।নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বললো...
"তোরা যা,,,আমরা পরে আসছি।"
নিবিড় গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বললো...
"ওকেয়,,,,আর সন্ধ্যায় গোডাউনে কাজ আছে।ওগুলোর ধোলাই দিতে হবে।"
চড়ুই আবিরের থেকে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো না,,,কিছু বললোও না।,,,,
নিবিড় গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে গেলো।আবির চড়ুইয়ের হাত ধরেই নিজের সাথে নিয়ে হাটতে লাগলো।,,,,,কিছুক্ষন পর একটা রিক্সা ডেকে চড়ুইকে বললো....
"উঠো,,"
চড়ুই দ্বি মত করলো না,,,চুপচাপ উঠে বসলো রিক্সায়।আবিরও উঠলো তার পাশে।
"চলুন"
রিক্সা চলতে শুরু করলো,,৷ চড়ুই সামনে তাকিয়ে রইলো। আবিরের দিকে ফিরেও তাকালো নাহ।,,আবির বারবার আড় চোখে দেখলো চড়ুইকে,,,তবে কিছু বলছে না।,৷৷ একটু পর হঠাৎ চড়ুইয়ের ফোন বায়ব্রেট হতেই ব্যাগ থেকে চড়ুই ফোন হাতে নিয়ে দেখলো,,,,,রিমন,,,,দিয়ে সেইভ করা।,,,যেটা আবিরেরও চোখ এড়ালো না।,,,
চড়ুই রিসিভ করলো ফোনটি,,,
"বলো রিমন,,,,"
......
"নাহ,,,আজ তো আর মিট করতে পারবো না।"
.....
"তুমি কাল আসবে না?"
......
"ওহ,,,তাহলে আমি সময় করে বলবো তোমায়,,,তখন না হয় মিট করো। "
.....
"তোমার জিনিস আমি যত্ন করেই রেখেছি,,,চিন্তা করো না তুমি,,,"
.....
"ওকেয়,,,থ্যাংকস ফর ইটস।বায় রিমন, "
......
কল কাটলো চড়ুই,,,,
"আমার সাথে এমন বিহেভ করার কারনটা বুঝি এই রিমন?,,"
চড়ুই চোখ কুচকে তাকালো আবিরের দিকে।,,আবির সামনে তাকিয়েই শক্ত কন্ঠে কথা টা বললো।।।
"তো কবে থেকে চলছে এসব?,,,,বিয়ের আগে তো বললে না?"
চড়ুইয়ের রাগ হচ্ছে খুব৷ তেতে বললো...
"বিয়ে করার আগে কিছু জানার প্রয়োজন বোধ করেছিলেন আপনি?,,,"
"তার মানে অনেক আগে থেকেই৷,,, "
চড়ুই কিছু বললো নাহ,,,,সামনে তাকিয়ে রইলো,,,,,
"বড়পাখি জানে?"
চড়ুই স্বাভাবিক ভাবে বললো...
"জানবে না কেন,,,,আর শুধু ও নয়,,,,সবাই-ই জানে।,,, এটায় না জানার কি আছে?"
আবির রাগে মুষ্টি বদ্ধ করে ফেললো,,,তবুও শক্ত কন্ঠে বললো...
"ওহ,,,তার মানে আহিশও জানতো?"
চড়ুই এবার বিরক্তিতে চ উচ্চারণ করলো।,,,,দু মিনিট পরই আবির রিকসাওয়ালা কে বললো...
"সামনে দাড়ান"
নামলো দুজনই।আবির ভাড়া মিটিয়ে সামনে একটা বিল্ডিংয়ের দিকে হাটতে হাটতে বললো...
"মন চাইলে আসতে পারো,,,,না হলে বাড়ি চলে যাও,,,"
বলেই হনহনিয়ে ভেতরে চলে গেলো,,,,,,
চড়ুই তাকালো বিল্ডিংটার দিকে,,,,সাইনবোর্ড দেখেই বুঝে গেলো এটা আবিরদের অফিস,,,,, চড়ুই একবার নিচের দিকে তাকালো,৷, মনে মনে ঠিক করলো ফিরে যাবে বাড়ি,,,,,রিক্সা ডাকলো একটা,,,
"উত্তরা যাবেন?"
"উত্তরা কোথায় আপা?"
"১৩ নং রোড,,,,চৌধুরী ভিলার সামনে,,"
"যামু,,,,তয় ২০০ টাকা দেওয়া লাগবো আপা।"
চড়ুই ভ্রু কুচকালো,,,কলেজ থেকে উলটো পথেই এসেছে,,,,ভাড়া বেশি হবে জানে,,তবে এতো বেশি?,,,,এই মুহুর্তে আবিরের প্রতি ভীষন রাগ হচ্ছে তার।কেন এখানে নিয়ে এলো তাকে লোকটা,,,কি দরকার ছিলো এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যাওয়ার,,,?
নিজের ব্যাগ হাতিয়ে ৪০ টাকা পেলো মাত্র,,, মনটা বিষিয়ে গেলো।,,,,হঠাৎ চোখ পড়লো রাস্তার বিপরীতে একটা ফুসকা স্টলে।,,,মুহুর্তেই মুখে হাসি ফুটলো চড়ুইয়ের ,,,,দ্রুত রিক্সাটয়ালাকে বললো...
"যাবো না,,,আপনি যান।"
রিক্সাওয়ালা মুখ কুচকে বলতে লাগলো...
"কি আপা,, যাইবেন না তো দাড় করাইলেন কেন,,,হুদাই মোর সময় হান নষ্ট করাইলেন"
বলতে বলতেই চলে গেলো তিনি রিক্সা নিয়ে।,,,চড়ুই দৌড়ে গেলো ফুসকা স্টলে।,,,,এই ফুচকা স্টল একটু অন্যরকম।উপরে ডিজাইন করে লেখা,,,"ইন্ডিয়ান পানিপুরি"
চড়ুই অনেকবার ভিডিও দেখেছে এই ইন্ডিয়ান পানিপুরির,,,,তবে সামনাসামনি আজই প্রথম দেখছে। তাই এতো উৎসাহ।,,,
"আঙ্কেল ফুচকা দিন তো,,,"..
ফুচকাওয়ালা দাত কেলিয়ে বললো...
" দিচ্ছি "
হাতে ছোট সাইজের একটা বাটি ধরিয়ে দিলো প্রথমেই।,,তারপর এক এক করে ফুচকা সেই বাটিতে দিতে লাগলো,,,,চড়ুইও ঘুরে ঘুরে সব রকম টক দিয়ে একটা একটা করে ফুচকা খেতে লাগলো।সব গুলো টক টেস্ট করার পর বুঝলো পুদিনার টক আর কাচা আমের টক,, এই দুইটাই বেশ ভালো লেগেছে চড়ুইয়ের।এবার বাকি সব বাদ দিয়ে এই দুইটা টক দিয়ে খেতে লাগলো ফুচকা।,,,,,,
পেট ভরতেই বললো...
"আর দিয়েন না আঙ্কেল।হয়েছে।"
লোকটিও থামলো,,,
"কত হলো?".
" ১৬০ টাকা,,মামনি "
চড়ুইয়ের মাথায় হাত,,,
"এ্যা!!!'
এখন এতো টাকা কোথায় পাবে চড়ুই,,,,মুখটা ছোট করে ব্যাগটা আরো ঘাটতে লাগলো সে,,,যদি আর কিছু খুচরো পাওয়া যায়,,,,চড়ুইয়ের অবস্থা বুঝে পাশ থেকে একটা বখাটে ছেলে বললো...
" কি কিউটি?,,,,টাকা নেই?,,,আমি দিয়ে দেবো?,,হুম?"
চড়ুই মুখ কুচকে তাকালো ছেলেটার দিকে।৷৷ দেখলো ছেলেটা কেমন বাজে নজরে দেখছে তাকে।,,,,চড়ুই তেতে বললো....
"মাথা গরম করবি না একদম।এমমিতেই বিগড়ে আছে।"
বলেই আবার ফুচকাওয়ালার দিকে ফিরতে গেলে চোখ পড়ল আবিরদের অফিসের দিকে,,,,ওয়াহ,, পেয়ে গেছে উপায়।খুশি হয়ে ফুচকাওয়ালাকে বললো...
"আঙ্কেল,,,,ঐ বিল্ডিংটায় আমায় এক পরিচিত আছে।,,,,,উনি বের হলে আমি আপনাকে টাকাটা দিয়ে দিবো,,, হবে?"
ফুচকাওয়ালা হাসলো,,,,,,বললো...
"আচ্ছা মামনি,,,,তুমি যাওয়ার সময় দিয়ে যেও।"
চড়ুই হাসলো।,,,,কাছে থাকা ৪০ টাকা দিয়ে দিলো লোকটাকে,,,,,,এগিয়ে গেলো অফিসের দিকে।,,,, ভেতরে ঢুকতে নিলেই গেইটের দারোয়ান বাধা দিলো,,,,
"এই মেয়ে দাড়াও দাড়াও।কোথায় যাচ্ছো তুমি?"
"আবির চৌধুরীর সাথে দেখা করবো,,, আমি উনার....পরিচিত।"
"এই টুকুন একটা মেয়ে,,,তোমার আবার আবির স্যারকে কি দরকার,,,"
চড়ুই মুখ ছোট ছোট করে বললো..
"ভেতরে যেতে দিন না চাচা,,,খুব বিপদে পরে উনার কাছে এসেছি।আর উনি নিজেই আসতে বলেছে,,,,সত্যি বলছি আমি,,,"
দারোয়ান কিছুক্ষন ভাবলো,,,হয়তো চড়ুইয়ের কথায় কাজ দিয়েছে।তিনি বললেন...
"ঠিক আছে যাও ভেতরে,,,"
ঢুকলো চড়ুই।তবে এবার আরো বিরক্ত লাগছে,,,কারন নিচ তলায় তেমন কিছুই চিনতে পারছে না চড়ুই।বাইরে থেকে দেখে মনে হলো ৮-৯ তলা হবে বিল্ডিংটা।এখন এতো বড় বিল্ডিংয়ে আবিরকে কোথায় খুঁজবে?,,,, রিসেপশনিস্টে দেখে সেদিকে এগিয়ে গেলো চড়ুই। দুজন আছে,,,একটা ছেলে আরেকটা মেয়ে,,,,চড়ুই সেদিকে গিয়ে বললো..
"এই যে,,,আবির চৌধুরীকে কোথায় পাওয়া যাবে?"
রিসেপশনিস্ট গুলো নজর দিলো চড়ুইয়ের উপর।ছেলেটি বললো...
"হু আর ইউ?"
"আমি চড়ুই,,,,উনিই আসতে বলেছে আমাশ,,,"
মেয়েটি বলে উঠলো...
"স্যার এখন নেই,,,তুমি আসতে পারো,,,"
"আরে উনি একটু আগেই তো ভেতরে ঢুকলেন,,,,বের হয়নি আর।, , আচ্ছা, উনার কেবিনটা কোথায় সেটা বলুন.."
ছেলেটি হেসে বললো...
"এই মেয়ে এই,,,,,কলেজ থেকে এসেছো তুমি?এটা কোনো কলেজ বা টিউশন সেন্টার নয়৷ এটা একটা সফটওয়্যার কম্পানি। উনার সাথে কি দরকার হুম?"
মেয়েটি বললো....
"এই টুকু শিক্ষা নিয়ে এখানে কোনো জবও পাওয়ার নয়,,,তাহলে কেন এসেছো হুম?চলে যাও,,,অজথা টাইম ওয়েস্ট করছো।"
চড়ুইয়ের রাগ তরতর করে বারতে লাগলো...
"আপনারা বলবেন,,নাকি আমি নিজেই খুজে নিবো?"
ছেলেটি বললো...
"এপোয়েন্টম্যান্ট লেটার আছে তোমার?দেখি?"
চড়ুই অবাক হয়ে বললো...
"এপোয়েন্ট?আমার কেন এপোয়েন্টম্যান্ট লাগবে উনার সাথে দেখা করার জন্য,, আমি তো এমনিই..."
চড়ুইয়ের কথা শুনে দুজনই হাসতে লাগলো।
"বাহ,,বাহ,,,আবির স্যারের সাথে দেখা করবে তাও এপোয়েন্ট ছাড়া?আরে অনেকেতো এপোয়েন্ট নিয়েও দেখা করতে পারে না আর এই পিচ্চি কিনা এপোয়েন্ট ছাড়াই দেখা করবে?এত্তো ইমপোর্টেন্স?হাহাহ"
চড়ুইয়ের রাগ লাগলো,,আর দাড়ালো না সেখানে,, দ্রুত পায়ে হেটে সিরি বেয়ে দোতলায় চলে গেলো,,,ওখানে গিয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করতেই সুন্দর মতো বলে দিলো আবিরের কেবিন রুম।,,,,চড়ুই হেলতে দুলতে এগিয়ে গেলো সেদিকে।খুজে পেয়ে রুমটার দরজা খুলতেই স্তব্ধ হয়ে গেলো চড়ুই। এটা কি দেখছে সে?আ্ আবির একটা মেয়েকে জরিয়ে....,,,,হ্ হ্যা,,,ঠিক,,, এ্ এটা আবিরই।,,
চড়ুইয়ের দুনিয়া টলছে,,,আবির তার সাথে এমনটা করতে পারলো?এভাবে স্ সে অফিসে একটা মেয়ের সাথে....
আর ভাবতে পারলো না চড়ুই।চলে যাবে,, তখনই চোখে চোখ পরলো আবিরের,,,,
"চড়াই পাখি?"
আবির যেন থ মেরে গেলো এভাবে চড়ুইকে দেখে,,,,এই সময় একদমই আশা করেনি চড়ুইকে।,,
তখন চলে আসার সময় পেছন ফিরে দেখেছিলো চড়ুই রিক্সা দাড় করিয়েছে।তখন আবির ভাবলো চড়ুই হয়তো বাড়ি চলে গেছে।এখন প্রায় এক ঘন্টা পর চড়ুইকে দেখে সত্যিই সে অবাক।,,,,
চড়ুই আর দাড়ালো না।ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে আবিরের দিকে একবার তাকিয়ে পেছন ফিরে দৌড় লাগালো।,,,এদিকে আবির ডেকেই যাচ্ছে..
''চড়াই,,,চড়াই পাখি স্টপ,,,স্টপ চড়াই পাখি।"
দৌড়ে সিড়ি বেয়ে নেমে আবার সেই রিসেপশনের কাছে পৌছালো চড়ুই।চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরছে।,,,,বেরিয়ে যাবে,, তার আগেই রিসেপশনিস্ট গুলো পথ আটকে দাড়ালো।শয়তানি হাসি দিয়ে মেয়েটি বললো...
"কি?অপমান করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দিলো তো?বলেছিলাম না যেতে,,,উনি এতো সাধারণ নয় যে যার তার সাথে দেখা করবে।"
ছেলেটা হেসে বললো...
'ইশশশ,,,কেদে কেদে কি অবস্থা করেছে চোখ মুখের মেয়েটা,,,আহারে,,,আবির স্যার একদম দেখা করার ইচ্ছে ঘুচিয়ে দিয়েছে মনে হয়।"
,,,এদিকে সিড়ির গোড়ায় দাড়িয়ে এসব দেখে রাগে ফেটে পরছে আবির,,,,ধমক দিয়ে বললো...
"হু দা হেইল আর ইউ,,?"
আবিরের কন্ঠ পেয়ে চড়ুই তাকালো আবিরের দিকে। তারপর সামনে তাকিয়ে আবার দৌড় লাগালো দড়জার দিকে।,,,,,
তা দেখে আবির জোরে বললো...
"সিকিউরিটি,,,ক্লোজ দা মেইন ডোর,,,কুইক।"
দরজার পাশে থাকা সিকিউরিটি সাথে সাথেই কাচের দরজাটা বন্ধ করে দিলো।চড়ুই আটকে গেলো।দরজায় হাত দিয়ে কাদতে কাদতে বললো...
"খুলে দাও দরজাটা,,,আ্ আমি এখানে থাকবো না,,,,থাকবো না আর এখানে,,,"
আবির দম ফেললো,,,তখনই রিসেপশনিস্ট গুলো বলে উঠলো..
"সরি স্যার,,,আমরা অনেক বাধা দিয়েছিলাম ,, তবুও এই মেয়েটি জোর করে আপনার সাথে দেখা করতে.... "
আবির রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো তাদের দিকে।সাথে সাথেই কথা থেমে গেলো,,,, আবিরের কানে ভেসে এলো চড়ুইয়ের কান্না মিশ্রিত কন্ঠ...
"আমায় যেতে দাও ,,,, আমি আর থাকবো না উনার কাছে।,,,"
দ্রুত চড়ুইয়ের দিকে তাকালো আবির। আর দাড়ালো না,পা চালিয়ে গিয়ে চড়ুইকে ঘুরিয়ে নিজের বুকে আকড়ে ধরলো।,,,
"তুমি ভুল দেখেছো, চড়াই পাখি,,,, বিশ্বাস করো,,আমি এমনটা করিনি,৷,,,,,"
চড়ুই অনেকক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো,,,তবে পারলো না,,,তাই ক্লান্ত হয়ে ঘাপটি মেরে কাদতে লাগলো আবিরের বুকে।,,,,,
একটু পর আবির চড়ুইয়ের মুখটা তুলে৷ চোখ মুছিয়ে দিলো,,,,তারপর তাকে ছেড়ে হাত ধরে নিয়ে গেলো রিসেপশনিস্টগুলের সামনে। কঠিন কন্ঠ নিয়ে বললো..
"তোমাদের সাহস কি করে হয় আমার চড়াই পাখির সাথে এমন বিহেভ করার?,,,"
কেপে উঠলো তারা,,,,এবার আবির চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে রেগে বললো...
"ওদের বললে কি প্রবলেম হতো?যে তুমি আমার ওয়াইফ?কেন বলোনি তুমি আমার বিয়ে করা বউ,,,,তোমার যখন তখন আমার কাছে যাওয়ার অধিকার আছে?"
চড়ুই হাত ছাড়াতে লাগলো.
"ছাড়ুন আমায়,,,,ছাড়ুন,,,আমি আপনার ওয়াইফ নই,,,আমি জানি আপনি শুধু বাধ্য হয়ে আমায় বিয়ে করেছেন,,, যেই বিয়েটা মাত্র কয়েক দিনের লোক দেখানো মাত্র। '
" চড়াই পাখি,,,,"
চেচিয়ে উঠলো আবির। চড়ুই কেদেই যাচ্ছে,,,,।
চোখ বন্ধ করে নিজের চুল খামছে ধরলো আবির,,,,নিজেকে একটু সামলে,,, তার পিএ ইউনুসকে ডাকলো,,,সে হাজির হতেই বললো...
"আজই এই দুজনকে রাস্টিকেট করো অফিস থেকে,,,,কুইক,,,"
এরপর আবির একটানে চড়ুইকে পাজা কোলে তুলে নিলো,,,চড়ুই ছাড়া পাওয়ার জন্য হাত পা ছোড়াছুড়ি করছে,,,কিন্তু কোনো লাভই হচ্ছে না।,,,আবির দোতলায় উঠে তার কেবিনে নিয়ে সোফায় বসালো চড়ুইকে।তারপর গিয়ে দরজাটা অফ করে দিলো।
()()()()
এদিকে বাড়ি আসার পর থেকেই দোয়েলের পেছন পেছন ঘুরছে নিবিড়।কলেজ থেকে এসেছে ধরে দোয়েল তার সাথে একটা কথাও বলছে না,,, এমনকি গাড়িতেও কিছু বলে নি,,,,,,
করিডোর দিয়ে নিবিড়ের রুমে ঢুকতেই দেয়ালের সাথে দোয়েলকে চেপে ধরলো নিবিড়,
"কি করছেন কি আপনি,,,ছাড়ুন আমাকে।'
আরেকটু চেপে ধরে নিবিড় বললো...
" না ছাড়বো না,,,কখন থেকেই পেছন পেছন ঘুরছি আমি,, ইগ্নোর করছো কেন?"
দোয়েল ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো...
"আপনি যান ঐ সিনিয়র আপু গুলোর কাছে,,,আমার পেছনে কেন ঘুরছেন হুম?আমাকে তো ভালো লাগে না আপনার৷ ঐ আপুগুলো যথেষ্ট বড়,,,সাথে হ*ট,, সে*ক্সি,, আরো কত কি,৷ আপনি ওদের কাছেই যান,,,আমার কাছে কেন এসেছেন শুনি,,, আমি কে হই আপনার,,,"
বলতে বলতেই কেদে দিলো দোয়েল।নিবির ব্যতিব্যস্ত হলো,,,,দোয়েলকে নিজের বুকে চেপে ধরে বললো...
'এটম,,এটম,,এটম,,,প্লিজ কাদে না,,,,আমি সরি বলেছি তো?,,,আরে তখন তোমরা আসতে লেইট করেছিলে তাই ঐ মেয়ে গুলো নিজেই এসেছিলো।ট্রাস্ট মি,,আমি ইচ্ছে করে যাই নি,,,,সরি তো জান তাহ,,,কানও তো ধরলাম।"
দোয়েল বুকের মধ্যে থেকেই কাদতে কাদতে বললো...
"আপনাকে আমি ঐ দিনই না করেছিলাম কলেজ না যেতে।আপনাদের দেখলেই মেয়েগুলোর ফিসফিসানি শুরু হয়ে যেতো।আমি সবই দেখতাম,,,,আর আজ তো...আপনি আমায় একটুও ভালোবাসেন না৷,,,, "
বলতে বলতেই কান্নার বেগ বাড়িয়ে দিলো দোয়েল।নিবিড় তাকে আরেকটু চেপে ধরলো...
''ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি,,,,আমি শুধু আমার এটমকেই ভালোবাসি,,, আর কাউকে নাহ,,,,সারাজীবন ভালোবাসবো তোমাকে দোয়েল,,,,কখনো এই ভালোবাসা কমবে নাহ।,,,এখন প্লিজ কাদেনা,,,,আমার কলিজায় লাগছল তো,,?,,আই প্রমিস,,,আর কক্ষণো কোনো অচেনা মেয়ের সাথে কথা বলবো না৷৷ চোখ তুলেও তাকাবো না,,৷ প্লিজ শান্ত হও পাখিটা,,,, প্লিইইইজ।"
দোয়েলের কান্না থামতে লাগলো,,,নিবিড়ের মুখেও হাসি ফুটে উঠলো,,,,,,তখনই দরজার কাছ থেকে জেসি চেচিয়ে উঠলো..
"রোমান্স পরে কর নিবিড় ভাই,,,,আগে খেয়ে নে৷ না হলে এনার্জির অভাব পরবে।,,,,বড় আম্মু নিচে খেতে ডাকছে।
()()()()()()
" আমাকে কেন এনেছেন এখানে?,,আমি বাড়ি যাবো,,,,যেতে দিন আমায়"
চড়ুইয়ের শক্ত কন্ঠে আবিরের বুকটা হুহু করে উঠলো।,,, এগিয়ে গিয়ে সোফার সামনে হাটু গেড়ে বসলো,,,,
"চড়াই পাখি,,,আমার কথা শোন,,,তুমি যা দেখেছো তা একটা মিস আন্ডাসটেন্ডিং মাত্র,৷ তখন ওটা..."
"আমাকে বোঝাতে আসবেন না আপনি।আমি ছোট নই এখনো,,,এসবের মানে কি দাড়ায় তা আমার বোঝার বয়স হয়েছে।"
"চড়াই পাখি ট্রাই টু আন্ডারস্টেন্ড।ওটা শুধু একটা....."
"আপনার আর একটা কথাও শুনবো না আমি।,,,এখন আমাকে আটকে রেখেছেন কেন,,,,ঐ মেয়ে কে দিয়ে সাধ মেটেনি আপনার?এখন আমায় লাগবে বুঝি?"
আবির কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো৷,, রাগ যেন আকাশ ছুই ছুই করছে তার,,,,দাতে দাত চেপে বললো...
"ঠিক বলেছো তুমি,,,,আমার সাধ মেটানোর জন্য তোমাকে চাই।আর তা এক্ষুনি,,,,ভুল আমারই ছিলো,,,,,বাসর রাতেই তোমাকে....ওয়াট এভার,,, সেদিন হয়নি,,,, আজ হবে,,,,,কাম""
বলেই উঠে দাড়িয়ে দ্রুত গায়ের ব্লেজারটা খুলে ছুড়ে ফেললো।একপর গায়ে থাকা সাদা রঙের শার্টটার উপরের ২-৩ টা বোতাম খুলতে খুলতে চড়ুইয়ের কাছে এগিয়ে আসতে লাগলো।,,,,,
চড়ুই ভয় পাচ্ছে।আবিরকে দেখে বোঝাই যাচ্ছে সে এখন কি করতে যাচ্ছে।
"ক্ কি করছেন আ্ আপনি,,,দ্ দুরে থাকুন আমার থেকে..."
বলতে বলতেই সোফা ছেড়ে উঠতে নিলেই আবির তাকে ধাক্কা দিয়ে আবার সোফায় ফেলে দেয়।তারপর নিজেও ঝুকে পরে চড়ুইয়ের উপর,,,,নিজের ঠোট দিয়ে আকড়ে ধরে চড়ুইয়ের ঠোট,,,,,
চড়ুই জমে গেলো,,,,মন চাইছে অনেক কিছু করতে,,,তবে হাত পা চলছে না।যেন শক্ত হয়ে জমে আছে।শিরদারা বেয়ে এক শীতল স্রোত প্রবাহিত হলো,,,,আবির ব্যাস্ত চড়ুইয়ের ঠোট চুসতে,,,,কোমরে থাকা হাতটা ধীরে ধীরে চড়ুইয়ের বুকের কাছে এসে থামলো,,,,
চড়ুই চোখ খিচে বন্ধ করে রাখলো,, হাত দিয়ে খামছে ধরলো আবিরের শার্ট।,,,
আবির ধীর গতিতে চড়ুইয়ের কলেজ এপ্রোনের বোতাম গুলো খুলতে লাগলো৷,, ঠোট ছেড়ে গলায় মুখ ডোবালো এবার।,,,,,,,চড়ুই চাইলেও কিছু করতে পারছে না,,,,তার শরীর যে তার আয়ত্বে নেই আর।,,,,,
বোতাম সব গুলো খুলতেই আবির উঠে বসলো,,,তারপর চড়ুইকেও উঠিয়ে তার শরীর থেকে এপ্রোনটা আলাদা করলো।,,,,,,চড়ুইয়ের একপাশে বেনি করা চুল গুলো খুলতে খুলতে সেদিকে তাকিয়েই আবির গম্ভীর কন্ঠে বললো...
"আমি এতটাও নিকৃষ্ট নই যে তোমার অসুস্থতার সুযোগ নেবো।,,,,,,আমার সময় হলে আমি ঠিকই সব আদায় করবো৷৷ "