Mr and Mrs Twins

পর্ব - ৩১

🟢

"ভাই,,,হস্টেলে পাখিদের উপর এটাক হয়েছে,,,, দ্রুত আয়,,,"

এই একটা কথাই যথেষ্ট ছিলো আবিরকে গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য।,,, হঠাৎ মনে হলো তার হৃদ স্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে।।কানের পাশ দিয়ে বোলতা উড়ার মতো ভনভন শব্দ হচ্ছে।,,, ফোনটা হাত থেকে পড়ে গেলো তার।,,,নিবিড় এসে কাধে হাত রাখলো তার,,,,

"ভাই,,,,এনিথিং রং?"

সম্ভিত ফিরলো আবিরের।,,,,শূন্য দৃষ্টিতে তাকালো নিবিড়ের দিকে। আহিশের কথাটা বলতেই নিবিড় তড়িৎ গতিতে হাতটা সরিয়ে ফেললো আবিরের কাধ থেকে।চোখের সামনে ভেসে উঠলো দোয়েলের রাগান্বিত মুখটা,,,তার দোয়েল পাখি?,,,,

()()()()()()()()()()()()()

সিড়ি বেয়ে দোতলায় উঠেই হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ালো পাখিদের রুমের দিকে। থামলো আবির নিবিড়,আহিশ,জিসান,,,।বাইরে থেকে দরজা লক করা।দ্রুত খুললো সেটা,,,ভেতরে প্রবেশ করতেই থমকে গেলো নিবিড়ের পৃথিবী। ঐ তো দোয়েলের হালকা কোকড়ানো চুলগুলো দেখা যাচ্ছে। ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।মাথার দিক থেকে রক্তের স্রোত আর পেটের কাছ থেকে রক্তের স্রোত মিশে একাকার হয়ে দরজার কাছেই বেয়ে বেয়ে আসছে।,,,নিবিড় তাকালো নিজের পায়ের দিকে।,,,জুতোর নিচ দিয়ে তার রক্ত স্রোত বয়ে যাচ্ছে।,,, বিশ্বাস হচ্ছে না যেন,,,,সে তার দোয়েল পাখিটার রক্তের উপর দাড়িয়ে। শূন্য দৃষ্টিতে তাকালো দোয়েলের দিকে। মাথা থেকে রক্ত বেয়ে মুখটা ভরে গেছে।হা করে নি:শ্বাস নিচ্ছে সে। চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে নিবিড়,,,,পেছন থেকে জিসানের ধাক্কায় স্তম্ভিত ফিরলো যেন।

"নিবিড়,,,,বড় পাখি,,,,,"

দৌড়ে গিয়ে বসলো দোয়েলের মাথার কাছে সে।,,,,মাথাটা নিজের কোলে তুলে নিলো...

"দ্ দোয়েল,,,,চোখ খোলো পাখি,,,,প্লিজ চোখ খুলো,,,,"

ভেজা চোখ দুটো হালকা খুললো দোয়েল,,,, দৃষ্টি মিললো নিবিড়ের চোখে।তারপর খেয়াল হলো নিবিড়ের পাশেই আবির চিন্তিত হয়ে তার দিকে,চেয়ে,,,,দোয়েল আবিরের দিকে তাকিয়ে কাপাকাপা হাতে কিচেনের দিকে ইশারা করে বললো..

"ব্ বোন,,,, ব্ ববোনকে বাচান,,আ্ আবির ভাই,,,"

আবির ইশারা অনুযায়ী তাকালো কিচেনের দিকে।,,,টেবিলের সাইডে কারোর একপাশ দেখা যাচ্ছে। উপুর হয়ে সুয়ে,,, আবির নিশ্চিত,, এটা তারই চড়াই পাখিটা,,,,,,দৌড়ে তার কাছে গেলো আবির।

,,,রাবতি আর কেয়া,,,,দুজনকেই দুপাশে ফেলে রাখা হয়েছে,,,,দুজনেরই হাত পা মুখ বাধা।৷,, ছোটার জন্য জোরাজুরি করছে,,,কিন্তু পারছে নাহ,,,,চোখের সামনে নিজেদের বেস্ট ফ্রেন্ড ছোটপাখিকে কাতরাতে কাতরাতে জ্ঞান হারাতে দেখলো৷,,, দোয়েলও কাতরাচ্ছে। দুজনকেই যে পেটের ভেতর ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।,,,আহিশ আর জিসান গিয়ে তাদের খুললো।আহিশ কাদছে,,নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না।তার পাখিরা যে ঠিক নেই।,,,,,

"চড়াই পাখি?, চড়াই পাখি?,,,চোখ খোলো চড়াই,,,,এই চড়াই,,,,উঠো না প্লিজ,,,,আমার দম আটকে আছে চড়াই,,,,এভাবে দুষ্টামি করে না চড়াই,,,উঠো নাহ?,,,,আমায় মেরে ফেলছো তুমি,, প্লিজ,,চড়াই?"

আবিরের চড়াই পাখিটা উঠছে না,,,,চোখও খুলছে নাহ।শুভ্র মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে আছে তার।,,,সাদা গোলাপি রং মিশ্রিত গোল সুতির জামাটার পেটের দিকটা ছেড়া,,,,সেখান থেকেই গরগর করে রক্ত ঝরছে আর ফ্লোর ভেসে যাচ্ছে।,,,,হাতার দিকেও একটা ছুরির আঘাত,,,,রক্ত শুকিয়ে গেছে সেখানটায়।,,,পায়ের কাছেই কিচেনের প্লেট,কাপ,গ্লাস ভাঙার টুকরো।,,,,আবির পাগলের মতো তার চড়াই পাখিকে ডাকছে।চড়াইয়ের মাথাটা নিজের বুকে ঝাপটে ধরেছে।,,,আবিরের মনে পড়লো,,,শেষ বার চড়ুই তার বুকে মাথা রেখেছিলো ঐ দিন প্রিন্সিপালের রুমে,,,,সেদিন তো তার চড়াই পাখিটা কান্না করছিলো,,,,কথা বলছিলো।,,আজ কেন এতো নিস্তব্ধতা তার চড়াই পাখির মাঝে?,,, আবির চিৎকার করছে,,,পাগলের মতো চিৎকার করছে..

"তোমায় আমার বক্ষে নিয়েছি চড়াই,,,,এবার তো কথা বলো?,,,,কান্না করো৷৷ কান্না করো না চড়াই পাখি,,,,আমার অন্তর পুড়ে যাচ্ছে তোমার এমন নিস্তব্ধতায়,,,,,মরে যাচ্ছি আমি,,,,,উঠো না চড়াই পাখি,,,,কান্না করো??"

আপসোস,,,আবিরের এমন আহাজারি চড়ুইয়ের কানে পৌছালো নাহ।,,,আহিশ আবিরের পাশে বসে চিৎকার করে কাদছে,,, একদিকে তার দুই পাখি,,,আর অন্যদিকে পাখিদের শোকে তার উদভ্রান্তের ন্যয় ব্যবহার করা দুই ভাই।,,,,

রক্ত মাখা দু হাত দিয়ে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে নিবিড়ের একটা হাত আকড়ে ধরলো দোয়েল।বের হতে চাইছে না,,তবুও জোর করে দু একটা শব্দ বের করলো সে,,,..

"ভ্ ভালো,, বাসি,,ন্ নিবিড়,,,খ্ খুব ভালোবাসি আ্ আপনাকে,,,"

নিবিড় থমকালো,,, এই মুহুর্তে এমন অপ্রত্যাশিত কথা সে শুনবে তা কল্পনাও করে নি।তবে সে শুনেছে,,,,তার এটম তাকে ভালোবাসি বলেছে,,,,,

কিন্তু এই মুহুর্তে যে নিবিড় খুশি হতে পারছে না,,,,তার পাখি যে একটা বিভ্রান্তকর সময়ে শীতল শব্দ টি উচ্চারন করেছে।,,,

দোয়েলের হাত হালকা হয়ে এলো,,,সেটা নিবিড়ের খেয়াল হতেই সে তাকালো দোয়েলের দিকে।,,,,নির্জীব হয়ে গেছে দোয়েল,,,,মাথাটা হেলে পড়লো নিবিড়ের বুকের দিকে,,,চোখ বুজে নিলো সে।,,,নিবিড় তাকিয়ে দেখলো,,,,নিরবতার মধ্যে টপ টপ করে শব্দ হলো দোয়েলের মাথার দিক থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ার।তারপর হঠাৎ নিবিড় এক গগন বিদারনী চিৎকার দিয়ে উঠলো..

"দোয়েল...."

নির্জীব হয়ে পড়ে রইলো দুই প্রানবন্ত পাখি,,,,আর তাদের নিয়েই অন্তর কাপানো আহাজারি করছে দু ভাই,,,,এই দৃশ্য সইলো না আহিশের,,,মুখে হাত গুজে ডুকরে কেদে উঠলো।,,, রাবতি কেয়াও কাদছে,,,,জিসান নিজেকে শক্ত করলো,,তাকে এদের মতো ভেঙে পরলে তো চলবে না,,,,,এগিয়ে গেলো আবিরের কাছে,, তাড়া দিয়ে বললো..

"আবির,,,আবির ভাই।।।।এখন ভেঙে পড়ার সময় নয় আবির,,,,পাখিদের হসপিটাল নিতে হবে আবির।প্লিজ নিজেকে সামলা,,,,পাখির জন্য হলেও নিজেকে সামলা।,,,,,,প্লিজ আবির,,"

আবার দৌড়ে গেলো নিবিড়ের কাছে,,,তাকেও একই ভাবে সামলাতে লাগলো।,,,,,একটু পর আবিরের শান্ত কন্ঠ ভেসে এলো...

"গাড়ি বের করো জিসান ভাই,,,"

বলেই চড়ুইকে আগলে কোলে তুলে নিলো,,,তেমনি নিবিড়ও দোয়েলকে পাজা কোলে তুলে নিলো,,,,,,

()()()()()()()()()

লাইফ কেয়ার হসপিটালের ২ য় তলায় উপস্থিত পুরো চৌধুরী পরিবার,,,সাথে কেয়া, রাবতি,সুহাস,আমোজ,হৃদ,নিরাজ,,,এমন কি আজিজও এসেছে।,,,অপারেশন থ্রিয়েটারের দরজার সামনে লাল বাতিটি জ্বলছে।৷ নিবিড় দৃষ্টি শূন্য অবস্থায় সেদিকেই তাকিয়ে আছে।মুখে কোনো কথা নেই,,,স্থির ভাবে ফ্লোরে বসে এক হাটু ভাজ করে তার উপর ডান হাতটি রেখেছে,,,আরেক পা টান টান করে মেলে রাখা,,,দেওয়ালে হেলান দেওয়া।,,,,,

আবিরকে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে সবাই।,,,সাবিহা ছেলেদের এমন করুন অবস্থা দেখে কাদছে,,,আবির বাচ্চাদের মতো করে মাকে বলছে...

"আম্মু,,আম্মু,,আমার চড়াই পাখি,,,আম্মু তুমি আমার চড়াইকে বলো না?আমাকে না মারতে,,,ওর এভাবে থাকাতে যে আমিই মরে যাচ্ছি।,,, ও আম্মু,, আম্মু তুমি ওকে বলো না?আমায় না মারতে,, আমি মরতে চাই না,,আমি বাচতে চাই,,,চড়াইকে নিয়ে বাচতে চাই।,,,ওকে বলো না?আমায় বাচাতে,,,,"

জুলেখাও এগিয়ে এসে আবিরকে সামলাতে লাগলো,,,কে শোনে কার কথা,,,আবির নিজের মতোই বলে যাচ্ছে..

"তোমার এতো বড় অধিকার দেই নি আমি চড়াই,,,তুমি আমাকে মেরে ফেলতে পারো না,,,তোমায় বাচতে হবে,, আমার জন্য,, আমি বেচে থাকার জন্য তোমাকেও বাচতে হবে।,,,"

,,,,,অপারেশন থ্রিয়েটারের লাইট অফ হলো।দ্রুত উঠে দাড়ালো নিবিড়,,, ডাক্তার বেরিয়ে এলো সেখান থেকে..."

"আমি আমার বেস্ট টা ট্রাই করেছি।এভাবে একসাথে দুটো অপারেশন করা খুবই ডিফিকাল্ট,,, তবুও আমি ট্রাই করেছি।,,,,দুজনই এখনো ডেঞ্জার জোনে আছে।তবে এর মধ্যে একজনের বাচার চান্স একদমই কম,,,১০℅ ধরা যায়।"

আজমল দ্রুত গতিতে বলল..

"কোন আম্মু ডক্টর?"

ডক্টর ভাবলো,,,,নাম তো ঘুলিয়ে ফেলছে,,তাই বললো...

"ঐ তো,,,যার মাথায়ও হিট করা হয়েছে,,,, "

নিবিড়ের যেন প্রান পাখি উড়ে যেতে লাগলো,,,তার দোয়েলেরই তো মাথায় হিট করা হয়েছে।,,,ডক্টর বললো..

"তবে,, অন্যজনও ঠিক নেই।আমার মনে হয় এরা যেহেতু টুইন্স,,,এক জনের সাথে আরেকজনের ব্রিথান্টিক্যাল কানেকশন আছে।,,,,তাই একজন বাচলে আরেক জন বাচবে,,আর একজনের কিছু হলে...."

বলতে পারলো না ডক্টর,,, নিবিড় চেচিয়ে উঠলো..

"কিচ্ছু হবে না আমার দোয়েলের,,,,ওর কিচ্ছু হয় নি,,,,ও রাগ করে এমন করছে,,,,আ্ আমি জানি,,,,আমি,,আমিহ,,তখন ওর কল রিসিভ করিনি, তাই ও এমন করছে,,,,ঠিক হয়ে যাবে ওরা,,,আমি জানি,,,,জানি আমি,,,, "

আবির দৌড়ে ডক্টরকে পাশ কাটিয়ে ওটি রুমে ঢুকে গেলো,,,পেছন থেকে সবাই তাকে ডাকছে,,তবে সে আর থামলো নাহ,,,,,

ওটি রুমে ঢুকতেই পাশাপাশি দুই পাখিকে চোখে পড়লো আবিরের।,,, ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো তার চড়াইয়ের দিকে।,,,পাশের মেশিনটায় হার্টলাইন দেখা যাচ্ছে,,, ৩৪,,,,।আবির তাকালো চড়ুইয়ের দিকে,,,দু হাত দিয়ে আলতো করে ধরলো চড়ুইয়ের গাল।, মুখটা এগিয়ে নিলো চড়ুইয়ের মুখ বরাবর।,,,

ওটি তে উপস্থিত ডক্টর, নার্সরা সবই দেখছে,,,এভাবে ওটিতে আসা বে আইনি হলেও তারা বাধা দিতে পারছে না কেউই,,,কারন এটা আবির বিন চৌধুরী,,, সবাই জানে তার কাজে বাধা দিলে কি হতে পারে,,,তাও আবার এই পরিস্থিতিতে।,,,,,

"তুমি আমায় এভাবে মারবে চড়াই পাখি?,,কষ্ট হচ্ছে না তোমার,,আমাকে এভাবে মারতে?,,,হুহ??,,,প্লিজ আমায় মেরো না?,,, ঠিক হয়ে যাওনা তুমি,,,আমার জন্য??,,, "

চড়ুইয়ের কোনো ভাবান্তর নেই,,,সে তো নিদ্রায় ব্যাস্ত।,,,,আবির একবার তাকালো অক্সিজেন মাস্ক পরিহিত পাশে থাকা দোয়েলের দিকে।,,তারপর আবার চড়ুইয়ের দিকে ফিরে বলতে লাগলো...

"ঠিক আছে,,আমার কথা ছারো।।বড়পাখি কে দেখো?তোমার বোন ও।ওর জন্য বাচবে না?,,,ও স্ট্রং,,তুমি একটু উইক,, তাই বলবে তো?,,, না চড়াই পাখি,,,আজ এটা বললে চলবে নাহ,,,,আজ ও নিজেও উইক,,,কিন্তু তোমায় আজ স্ট্রং হতে হবে,,,ওর জন্য,,, তোমার বোনের জন্য,,, বাচতে হবে তোমায়,,,তোমার বোনের জন্য,,, ও তো সব সময় তোমায় আগল রাখে,,আজ তুমি ওর প্রতিদান দেবে না চড়াই?,, কি হলো বলো?বাচাবে না ওকে?,,,তুমি বাচলেই ও বাচবে চড়াই।,,,,নিজে বাচার চেষ্টা করো,,মনোবল শক্ত করো চড়াই।,,,,তবেই তোমার বোন বাচবে।,,,প্লিজ চড়াই,,,,প্লিজ।।"

,,,,,চড়ুই শুনছে,,,হ্যা,,,শুনছেই,,না হলে হার্টলাইন বারতো কিভাবে?,,,৩৯ চলছে।একটু পর পর,,আরেক পয়েন্ট করে বাড়ছে।,,,,,উপস্থিত সকলেই অবাক হয়ে দেখছে সব,,,সাথে আল্লাহর কাছে দোয়া করছে,,,, সবাই তাকালো দোয়েলের হার্ট লাইনের দিকে,, ঐ তো,,,সেটাও বারছে,,,,১২ থেকে ১৭ এ উঠেছে,,,,,,,

আবির যেন সোনালি রোদ দেখলো,,,মুখে হাসি এনে বললো...

"এই তো চড়াই,,,তুমি পারছো,,,তুমি পারছো চড়াই পাখি।।,,, "

ডক্টর এসে মিনমিনিয়ে বললো..

"মি. চৌধুরী,,,, আ্ আপনি একটু বাইরে যান প্লিজ,,আমরা দেখছি।,,,"

আবির শুনলো,,, চড়ুইয়ের কপালে গভীর ভাবে একটা চুমু খেয়ে বেরিয়ে এলো।,,,,,,

[][][][][][][][][][][][][][][][][].....

১৪ দিন পর........

আর কিছুক্ষণ পরেই পাখিদের রিলিজ করা হবে,,,,,এইকয়টা দিনে অনেকটাই সেরে উঠেছে পাখিরা,,,জ্ঞান ফিরেছিলো ২ দিন পরে,,,,সেদিন থেকেই পাখিরা দেখছে আবির আর নিবিড় এখান থেকে যায় নি,,,রাতে কোথায় থাকতো কে জানে,,, চৌধুরী পরিবারের সবাই প্রতিদিনই এসে এসে দেখা করে গেছে পাখিদের সাথে।,,,আমোজ,হৃদ,নিরাজের সাথেও দেখা হয়েছে।তবে পাখিদের অজান্তেই আজিজ দরজার আড়াল থেকে তাদের দেখে চলে গেছে।এই মেয়ে দুটোর সামনে যাওয়ার ক্ষমতা যে তার নেই।,,,,,তারা ৪ দিন পরই চলে গেছে,,,,তবে হৃদ রয়ে গেছে।,,,সুস্থ হলেও ক্ষত সারেনি এখনো,,কাটা জায়গায় টান পড়লেই প্রচন্ড ব্যাথা লাগে এখনো।,,,দোয়েলের মাথার ব্যান্ডেজ এখনো আছে,,,ঠিক করে শুতে পারে না সে এখনো।চড়ুই মাথায় আঘাত না পেলেও,, টুইন্স হওয়ার কারনে তারও ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড যন্ত্রণা হয় মাথায়।,,,,এমনকি রাবতি আর কেয়া বলেছেও যে,,,,সেদিন যখন দোয়েলের মাথায় লোহার ফ্লাওয়ার ভাস দিয়ে বাড়ি দেওয়া হয়েছিলো,,,তখনই চড়ুইও মাথায় হাত দিয়ে ব্যথায় চেচিয়ে উঠলো,,, আর এর পরপরই জ্ঞান হারায়৷,,, জ্ঞান হারানোর আগেই তাকে ছুরির আঘাত করা হয়,,,তবে দোয়েলকে মাথায় আঘাত করার পরে করে ছুরির আঘাত।,,,,

,,,,,,কেবিনে বসেই হাসি ঠাট্টায় মেতে আছে হৃদ,রাবতি, কেয়া,,জেসি,বিপাসা,আহিশ, সুহাস।,,,,একটু পরেই সকল ফর্মালিটিস কমপ্লিট করে এলো আবির আর নিবিড়।,,,আবির চড়ুইয়ের সামনে গিয়ে বললো...

"আস্তে হাসো,,,,টান পড়বে তো?"

সাথে সাথেই চড়ুই তেতে উঠে বললো...

"আপনার কি হ্যা?,,, আমি হাসলে সমস্যা?,,, আর সমস্যা হবে না৷ আজই শেষ,,হুহ,,,"

আবির এবার দুহাত বুকে গুজে নিলো,,,,তারপর চোখ ছোট ছোট করে বললো..

"কি বললে??"

"বললাম যে,, আজ একটু পরেই সব শেষ,,,আমরা আমাদের জায়গায়,, আর আপনি আপনার জায়গায়,,,আর তো এভাবে চিপকে থাকতে হচ্ছে না,, তাই না?"

উপস্থিত সবাই একে অপরের দিকে তাকালো পাখিরা ছাড়া।এরপর সবাই একসাথে হুহা করে হেসে উঠলো।,,,,পাখিরা কিছুই বুঝলো না,,,,আবির একটু ঝুকে চড়ুইয়ের কানে ফিসফিসিয়ে বললো...

"আজ থেকে আরো কাছে বেধে রাখার ব্যবস্থা করেছি চড়াই পাখি।"

চড়ুই অবাক হয়ে বললো...

"মানে? "

আবির সরে এলো,,,তাড়া দিয়ে বললো..

"চলো সবাই,,,,না হলে ওদিকটায় দেরি হয়ে যাবে।"

নিবিড় দোয়েলের হাত ধরে উঠতে উঠতে বললো...

"হ্যা,,হ্যা,,,চলো সবাই।"

জেসি টিকটারি মেরে বললো...

"বাব্বাহ,,ভাইয়া,,,তোদের তো দেখছি বেশ তাড়া,,,হুম?"

সাথে সাথেই আবির বললো..

"একটা দেবো কানের নিচে.."

আবারও সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো,,,শুধু পাখিরাই ভেবলা কান্তের মতো চেয়ে রইলো।,,,

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ৩১ গল্পের ছবি