চকিত দৃষ্টিতে সবাই তাকিয়ে আছে টিভির দিকে। শুধু ভাবলেস হীন আবির আর নিবিড়,,,, তারা ঠিকই চুপচাপ বসে আছে।,,,টিভির নিউজ চ্যনেলে একটাই খবর চলছে,,,তা হলো তাসান তালুকদারের অন্যায় শিকারোত্তি।,,, কিছুক্ষণ আগেই সে পুলিশের কাছে গিয়ে নিজেই আত্মসমর্পণ করেছে,,,,সবাই মন দিয়ে শুনলো তার কথা গুলো...
"এই পর্যন্ত আমি অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছি।এই জন্যই আমি আজ পুরুষত্ব হীন।আর এই জন্যই নিজের অপরাধ শিকার করছি।"
পুলিশ অনেক বার জিজ্ঞেস করলো,,তাকে কে এমন বেদাম পিটানি দিয়েছে, আর কেই-ই বা তার পুরুষত্ব নষ্ট করেছে,,,"তবে তাসানের মুখ থেকে আর কিছুই বের হলো না,,,,পুলিশও তেমন আর ঘাটলো না,,,কারন অপরাধী নিজেই স্যারেন্ডার করেছে।কি আর করার,,,১২ বছরের স্বশ্রম কারাদণ্ড হলো তাসানের।,,,,,,,,, এই খবর দেখে তাসানের মায়ের কান্ড দেখে কে,,,পুরো চৌধুরী বাড়ি কাপিয়ে তুলেছে তিনি,,,,তবে তার বাবা নিরব,,,কিছুই বলছেন না,,,তিনি আগে থেকেই এমন কিছু ধারনা করেছিলেন,,,তার ছেলে যে একটা কুলাঙ্গার তৈরি হয়েছে তা তিনি আগে থেকেই জানতো,,,,আর এর পেছনে যে তার নিজের স্ত্রীই দায়,,,সেটাও তিনি জানেন,,,তবে আপসোস তার একটাই,,,তালুকদার বাড়ির শুধু তাসান নয়,,,বাকি ছেলে মেয়ে গুলোও এক একটা কুলাঙ্গার ,,,, সেটা বাড়ির গিন্নিরা না মানলেও কর্তারা ঠিকই বুঝে গেছে,,,,,,সানিয়া ভাবছে....
" হঠাৎ তাসান, নিজেই কেন সব স্বীকার করতে গেলো কেন,,,,কি এমন সন্ন্যাসে পেয়েছে তাকে,,,আর এমন অবস্থাই বা করলো কে ওর??"
কিছু একটা ভেবেই আবিরের দিকে তাকালো আড়চোখে,,, দেখলো,, হাসছে তারা,,,, প্রত্যাশিত কিছু প্রাপ্তির হাসি।এটা দেখেই সানিয়ার বুক ধক করে উঠলো,,,মনে মনে বললো....
"নাহ,,আর এখানে থাকা যাবেনা৷,,, কাল বৌ ভাতের পরপরই চলে যেতে হবে।চুলোয় যাক নিবিড়কে পটানোর কাজ,,আগে তো নিজের প্রান বাচাতে হবে,,,, "
সাবিহা,জুলেখা, জিসান,আর সিমান প্রথমে অবাক হলেও একটু পরে ঠিকই বুঝলো এটা এই টুইনস ব্রাদার্স এরই কাজ,,,,সাবিহা আগেই বুঝেছিলো তার আবির এভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে বা,৷ কিছু তো করবেই,,,তবে কিছুটা যে এমন মারাত্মক হবে তা সত্যিই ধারনার বাইরে।।শেষে কিনা তাসানের পুরুষত্ব নিয়ে...."
পাখিরা অবাক,,,তবে দোয়েল কিছুটা আন্দাজ করতে পারছে কাজটা কার,, হতভম্ব সে,,,কারন এই টুইনস ব্রাদার্সদের দেখে মনেই হয় না এরা এমন একটা কাজও করতে পারে,,,আবির সোফা ছেড়ে উঠতে উঠতে বললো...
"নিউজ শেষ,এবার সবাই ঘুমাতে যাও,,"
ভাবটা এমন যেন কিছুই হয় নি। কথাটা শুনে জুলেখা একবার চকিত দৃষ্টিতে তাসানের মায়ের দিকে তাকালো,,,, তাসানের মা রেগে কিছু বলতে যাবে,,, তার আগেই আবির আবার বললো...
"কাল জিসান ভাইয়ের রিসেপশন,,,তাই সবাই দ্রুত ঘুমিয়ে পরবে,,,,সবাই মিন্স সবাই,,,একটা কথাও কেউ বলবে না আর।"দাড়ালো না আবির,,,,সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো।তবে যাওয়ার সময় ঠিকই চড়ুইয়ের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়ে গেলো।আর নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে একটা কথাই বললো...
"You have only 15 minutes bro..."
বলেই হনহন করে চলে গেলো।নিবিড় নিরবে হাসলো। তার ভাই যে তাকে কিসের জন্য সময় দিলো তা ঠিকই বুঝতে পারছে।,,,
সবাই একে একে রুমে চলে গেলো।,, দোয়েলও আসলো।,,একি,,, তার বোন তো রুমে নেই?কোথায় গেলো?আবির ভাইয়ার রুমে?,,,কিন্তু আবির ভাইয়া তো সচরাচর বোনকে নিয়ে নিজের রুমে যায় না,,,,কথা বলার হলে এখানেই আসে।,,,,,ভাবনার মাঝেই পেছন থেকে কেউ একজন কোমর ঝাপটে ধরলো দোয়েলের। ভয় পেলো দোয়েল,, চেচিয়ে উঠলো...
"একি,, কে আপনি,,,কি করছেন কি,,ছাড়ুন,,,,আরে কি....."
আর বলতে পারলো না সে,,থমকে গেলো।পেছনে থাকা ব্যক্তিটি যে তার ঘাড়ে মুখ গুজে দিয়েছে।,,,,দোয়েল অন্যরকম কিছু অনুভব করলো,,,মনে হচ্ছে তার শ্বাস আটকে আসছে,,,কিন্তু কেন?এমন তো হওয়ার কথা নাহ,,,,তার তো রাগ হওয়ার কথা,,গা ঘীনঘীন করার কথা,,,,তা হচ্চে না কেন?,,,,,, অনুভব করলো দোয়েল,,,লোকটির ঠোট ছুয়েছে তার ঘাড়,,,ধীরে ধীরে সেটি গলায় উঠছে।,,,নির্বাক লোকটিকে চিনতে দোয়েলের দেরি হয়নি।কাপা কাপা কন্ঠে বললো...
"ন্ নিবিড় ভাইয়া,,,কি করছেন এ্ এসব,,,,ছ্ ছাড়ুন।"
এখনো নিবিড় নির্বাক,,,,সে ব্যস্ত তার ঠোটের উষ্নতায় দোয়েলকে শীতল করতে।,,,,দোয়েল আবারও কাপাকাপা কন্ঠে বলে উঠলো...
"নিবিড় ভাইয়া,,,,ব্ বোন এসে দেখলে,ক্ খারাপ ভাববে,,,ছাড়ুন"
বুলি ফুটলো নিবিড়ের,,,ঐ অবস্থাতেই বললো.....
"আসবে না,,,,সে এখন বন্ধি আছে ভাইয়ের কাছে।"
"ম্ মানে?"
"মানে হলো,,ভাই আমাকে স্পেস দিতেই ছোট পাখিকে নিয়ে গেছে।"
"স্ স্পেস কেন?"
"কেন আবার,,,আমার এটমের রাগ ভাঙাতে,,"
বলেই হেচকা টানে দোয়েলকে নিজের দিকে ঘোরালো নিবিড়,, বাম হাত দিয়ে কোমর পেচিয়ে ধরলো দোয়েলের।ডান হাত দিয়ে আলতো করে দোয়েলের বাম গাল ধরলো।তাকালো এক দৃষ্টিতে তার গালের দিকে।দোয়েল বোঝার চেষ্টা করছে,,,কি করতে চাইছে এই লোকটা?,,,,,, একবার হাতটা বোলালো দোয়েলের গালে।তারপর ধীরে ধীরে তা কানের নিচ দিয়ে রাখলো।বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে গালে স্লাইড করতে করতে বললো...
"বেশি ব্যথা পেয়েছো?"
মুহুর্তেই কেপে উঠলো দোয়েল,,,এই কন্ঠে এতো আবেগ কেন খুজে পাচ্ছে সে?,,,,নিরব রইলো দোয়েল,,,মনে পড়লো তখনকার দেওয়া থাপ্পরের কথা।,,,,,,
উত্তর না পেয়ে নিবিড় ভাবলো,, হয়তো একটু বেশিই রেগেছে তার এটম।,,,বিলম্ব করলো না নিবিড়,,,,পরপর চারটা কিস করলো দোয়েলের বাম গালে,,,শেষেরটা গিয়ে ঠেকলো দোয়েলের ঠোটের কোনায়,,,শিউরে উঠলো সে,,,চোখ বুজে পেললো।।দু হাত দিয়ে খামছে ধরলো নিবিড়ের কোমরের দুপাশের গেন্জিটা।,,৷ নিবিড় নিরবে হাসলো।,,তার প্রনয় পাখি যে তার ছোয়ায় এমন করছে,,,,,,নিবিড় তাকালো দোয়েলের ওষ্ঠদ্বয়ের দিকে।তীরতীর করে কাপছে,,,শুধু কাপছে বললে ভুল হবে,,নিবিড়কেও ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।উতলা করে তুলছে,, আরেকটু গভীর ভাবে ঐ ঠোটের স্বাদ আস্মাদন করার জন্য।
"এভাবে থেকোনা মিস এটম,,,আমি যে দিশাহারা হয়ে যাচ্ছি,,"
সম্ভীত ফিরলো দোয়েলের চোখ খুললো,,,ছেড়ে দিলো নিবিড়ের কোমর,,,পেছাতে চাইলো,,,কিন্তু পারলো না,,,নিবিড় যে তার কোমর শক্ত করে ধরে রেখেছে।দ্রুত বলে উঠলো...
"আপনি এখন চলে যান,,,আ্ আমি ঘুমাবো।"
নিবিড় আগের মতোই ঘোর লাগা কন্ঠে বললো...
"তো ঘুমাও না,,,কে বারন করেছে তোমায়,,,"
দোয়েল আবারও কেপে উঠলো,,কন্ঠের তীব্রতা টা যে তার সহ্য হচ্ছে না।নিজের কোমরে থাকা নিবিড়ের হাতটা ছাড়াতে লাগলো।,,,,তবে পারলো না,,নিবিড় দোয়েলকে আরেকটু জ্বালানোর জন্য হাতটা আরেকটু পেচিয়ে দোয়েলের পেটে রাখলো,,,দোয়েল চোখ বড় বড় করে তাকালো।।নিবিড় ভ্রু উচু করে বললো...
"আরেকটু ক্লোজ হলে মন্দ হয় না কি বলো মিস এটম?"
দোয়েল তব্দা খেলো,,কি বলছে এই লোকটা...,দ্রুত হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বললো...
"অসভ্য লোক একটা"
নিবিড় হেসে দিলো,,,তারপর সেই আগের মতোই বললো...
"অসভ্য?হুম,,অসভ্য তো আমি,,,শুধু...?"
একটু এগোলো দোয়েলের মুখের কাছে..
"আমার এটম বোমের জন্য,,,,,তোমার জন্য।"
দোয়েল হতভাগ হয়ে তাকিয়ে আছে,,,এই লোকটা যে আজ থামছেই না।,,,,হঠাৎ করেই দোয়েল উচ্চস্বরে হেসে উঠলো।অবাক নিবিড়,,,,এই মেয়ে এই মুহুর্তে এভাবে হাসছে কেন?কি হলো আবার?,,,ছেড়ে দিলো দোয়েলকে।কিছুক্ষন পর দোয়েল হাসি থামিয়ে বললো...
"আপনি কি আমার রাগ ভাঙাতে এসেছেন নাকি..."
"নাকি?"
কন্ঠ খাদে নামালো দোয়েল,,,শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো,,,
"নাকি রোমাঞ্চ করতে?"
কথার মানে বুঝতেই নিবিড় ফিক করে হেসে দিলো,,একটু পরে দোয়েলও হেসে দিলো।একটু পরে হাসি থামিয়ে দোয়েল বললো..
"এবার তো যেতে হবে নাকি?আবির ভাইয়া তো মাত্র ১৫ মিনিট টাইম দিয়েছে,,প্রায় আধঘন্টা হয়ে গেছে।এখন তো বোন আসবে তাইনা?"
নিবিড় দুষ্টু হেসে বললো...
"উমম,এক কাজ করি?"
দোয়েল ভ্রু কুচকে তাকালো..তা দেখে নিবিড় বললো..
"আমি বরং ভাইকে বলে দিই ছোটপাখিকে আজ ওর রুমেই রেখে দিতে,,আর আমি এখানেই থেকে..."
দোয়েল মুখে হাসি রেখেই বলে উঠলো..
"ইশশশ,,কি অসভ্য... যান তো এখন.."
বলেই নিবিড়কে ঠেলে দরজার কাছে নিতে লাগলো,,,নিবিড় বেরিয়েও গেলো।আবার থেমে বললো..
"এই এক মিনিট,,এক মিনিট,,,রাগটা কমেছে তো?"
দোয়েল ফিক করে হেসে দিলো,,,বললো..
"রাগ তো করিই নি,,কমবে কি করে?"
নিবিড় আবার ঠোট প্রসারিত করে হাসলো,,,তারপর বললো..
"গুড নাইট মাই এটম?"
"মাই?"
নিবিড় আর কিছুই বললো নাহ,,,শিস বাজাতে বাজাতে চলে গেলো।,,
*******-******
"আপনার রুমের বারান্দায় তো এই দোলনাটা ছিলো না,,তাহলে এখন কোথা থেকে এলো?"
দোল খেতে খেতে কথাটি বললো চড়ুই,,,দোলনা বরাবর সামনের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে আবির,,দেখছে সে।তার চড়ুই পাখিকে,,দোল খাওয়ার কারনে বেনি করা চুল গুলো থেকে কিছু চুল বেরিয়ে সেগুলোও দোল খাচ্ছে,,সামনের বেবি হেয়ার গুলোও সমান তালে দোল খাচ্ছে,,সেদিকেই দেখছে আবির।
''কি হলো বলছেন না যে?"
আবির তাকালো চড়ুইয়ের দিকে,,,,,তখনের পর থেকে চড়ুইয়ের মুখে সেই হাসি হাসি ভাবটা নেই,,হাত পায়ের চঞ্চলতাটাও নেই।,,,তবে ঐ নেত্রযুগল স্থির থাকার নয়৷ তারা যে বাধা মানতে নারাজ,,,চড়ুই যে মনের বিরুদ্ধে গিয়ে হাসি,হাত-পায়ের চঞ্চলতা আটকাতে পারলেও চোখের চঞ্চলতাটা আটকাতে পারছে না তা ঠিকই আবির বুঝতে পারলো।,,
"কেউ একজনের খুব পছন্দ এই দোলনা,,তাই আনিয়ে রাখলাম।"
"ওহ,,জানেন?আমারও না খুব ভালে লাগে দোল খেতে,,আপনাদের বাড়িতে প্রথম যেদিন এসেছিলাম,,সেদিন রুমে ঐ দোলনাটা দেখে কি যে খুশি হয়েছি জানেন?,,,নিবিড় ভাইয়ার ফোনে তো ছবিও তুলে রেখেছি।"
আবির কিছু বললো না,,,শুধু শুনলো,,,রুমে আসার পর থেকেই এমনটা চলছে।কিছুক্ষন পর পর চড়ুই একটা কথা বলছে,আর আবির সংক্ষিপ্ত উত্তর দিচ্ছে, কখনো বা নিরব থাকছে।এই নিয়ে দিরুক্তি করছে না চড়ুই,, পরিবেশটা তার ভালো লাগছে।আবিরদের বারান্দা থেকে চাদটাও স্পষ্ঠ দেখা যাচ্ছে।,,,মোহনিয়,,,অতি মোহনীয়,,,,নিচের বাগান থেকে শীতকালীন ফুল, শিউলির মাতাল করা সৌরভ আসছে।তা মনে করেই চড়ুই একটু পর বলে উঠলো...
"জানেন,শিউলির সৌরভ কখন বেশি ভালো লাগে?"
আবির উত্তর দিলো না,,,এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো চড়াই পাখির দিকে।,,,চড়ুই উত্তরের আশাও করলো না,,নিজেই বলে উঠলো..
"গভীর রাতে,,,যখন তারা সবে ফুটতে থাকে।,,আর দেখতে কখন ভালো লাগে জানেন? সকাল বেলায় যখন তারা ঝড়ে পরতে থাকে।,,,কি ঠিক না?"
বলেই আবিরের দিকে তাকালো।দৃষ্টি মিললো একে অপরের।আবির এবারও উত্তর দিলো না,, কিছুক্ষন পর নিজেই বলে উঠলো...
"তখন বুঝি খুব কষ্ট পেয়েছিলে?"
চড়ুইয়ের মনে পড়লো তখন ছাদের কথা।মাথাটা নিচু করে ফেললো। আবির এবার সোজা হয়ে দাড়ালো,,,নরম কন্ঠে বললো...
"বলো চড়াই পাখি?"
চড়ুই উত্তর দিলো...
"কাউকে তার কষ্টের কথা সরাসরি জিজ্ঞেস করতে নেই,,তা জানেন না আপনি?এতে যে তার কষ্টটা বেড়ে যায়।"
আবির বুঝলো কথাটার গভীরতা,, বললো...
"আমি তখন তোমার ভালোর জন্যই বকেছিলাম তোমায়,,,কিন্তু এতে যে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে তা ভাবতে পারিনি।আমি সত্যিই এতোটা চাই নি।"
চড়ুই আলতো হাসলো।চাদের দিকে তাকিয়ে বললো...
"আমি সত্যিই অনেক উশৃঙ্খল, তাই না?,,,"
আবির ব্যথাতুর দৃষ্টিতে তাকালো,,,কিন্তু তা চড়ুইয়ের চোখে ধরা খেলো না।
"আমি সত্যিই একটা ডাফার,,গাধা আমি,,,নিজের কষ্টগুলো ভুলতে গিয়ে নিজেকেই সবার সামনে হাসির পাত্র বানাই।,,,বোন ঠিকই বলেছে,,,আমি ওর জমজ বোন হওয়ার কোনো যোগ্যতাই রাখিনা।কোথায় ও, আর কোথায় আমি,,,,একটুও মিল নেই আমাদের জানেনতো??,,,,আমি উইক,,,যেকোনো ক্ষেত্রেই।একটু কিছু হলেই অসুস্থ হয়ে যাই,,আর তার প্রভাব গিয়ে পরে বোনের উপর,,ঐ যে,,আমরা টুইন্স,,,অবশ্য এটা আপনাকে বলে বোঝাতে হবে না,, আপনিও জানেন এটা,,,,তবে আমার জন্য যে বোনটা অনেক সাফার করে,,,সেটা তো আমি বুঝি,,ও কখনোই মুখ ফুটে বলে না,,,,আর রইলো আমার চঞ্চলতা,,,,চেষ্টা করবো এটা দুর করার,,,,চুনোয় যাক আমার ভেতরের দগ্ধ হওয়া কষ্ট গুলো,,,আমাকে তো উপরে নিজেকে হাসির পাত্র বানালে চলবে না,,,,বোন,কাকাই,কাকিয়া,হৃদ ছাড়া বাইরের দুনিয়ার কেউ আমায় পছন্দ করবে না,,, শুধু মাত্র আমার এই হাভাগোভা পার্সোনালিটির জন্য।কি? তাই না?"
আবির শুনলো সব,,,,চড়ুই উত্তর পেলো না,,তবে কানে এলো আবিরের এগিয়ে আসার পদধ্বনি,,,তাকালো সে আবিরের দিকে।,,আবির এসে চড়ুইয়ের দোলনার সামনে ফ্লোরে দু হাটু গেড়ে বসলো।হাত দুটো উপরে তুলে চড়ুইয়ের নরম তুলতুলে গালে রাখলো।এগিয়ে আনলো চড়ুইয়ের মুখ।,,,,চড়ুইয়ের দৃষ্টি স্থির,,,,আগের মতো উৎকন্ঠা নেই।,,,,
"তোমার চোখ জোড়া যে এই শান্ত পাখিকে পছন্দ করছে না চড়াই,,,"
চড়ুই কিছু বললো না৷ আবির আবার বললো...
"জোর করে না পাখি,,,নিজের উপর জোর করাটা,ঠিক না,,,,এতে তো প্রান প্রশান্তি মিলে নাহ,,,তুমি পারোনি চড়াই,,,তোমার ঐ বেহায়য়া চোখ জোড়াকে শান্ত করতে পারোনি।,,,,,"
চড়ুই আলতো হাসলো,,,
"করে ফেলবো,, চোখগুলোকেও ঠিক শান্ত করে ফেলবো।প্রয়োজন তো?"
"নোহ,,,নো নিড,,,কোনো প্রয়োজন নেই।,, তোমার বাইরের দুনিয়ার প্রয়োজন নেই,,,তোমার নিজের ছোট্ট দুনিয়ার মানুষ গুলো যদি তোমাকে ভালোবাসে,, তাহলে এভাবেই বাসবে,,,,তোমাকে পরিবর্তন করে নয়৷, আমিও তো চেষ্টা করেছি,,,পারিনি তো?উলটো নিজেই তোমার উড়নচন্ডীপনায় ফেসে গেলাম।দেখছো তো তুমি,,,,কিন্তু কিছুই বুঝছো না,,,,আমি জানি,,,সরাসরি না বললে তুমি কখনোই বুঝবে না,,,,এটাই যে আমার ভালো লাগে চড়াই,,,"
চড়ুই শুনলো সব,,,তবে কিছুই বললো না,,,আবিরও থামলো।আরো কিছুক্ষন কাটলো তেমনি কেটে গেলো।হঠাৎ আবির উঠে দাড়ালো। তারপর হুট করেই চড়ুইয়ের দিকে ঝুকে........