Mr and Mrs Twins

পর্ব - ১৮

🟢

"আর মাত্র কিছুক্ষণ ডুট,,,তারপর তোর গেইম ওভার,, "

,,,,,,এদিকে আহিশের চোখ বারবার চলে যাচ্ছে নাইনে পড়ুয়া হৃদের উপর।হৃদের বারবার হেসে উঠা,,,একটু পরপর লাফিয়ে ওঠা,,এইসব যেন আহিশকে অন্যরকম কিছুর আভাশ দিচ্ছে।,,,,,,,,,,,,,,,,,,, ,,, ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,৷,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

সাজানো ঘোড়ার পিঠে চরে বিপাসাদের বাড়ি গিয়ে পৌছালো জিসান।বাকিরাও নামলো গাড়ি থেকে। গেইটে আসতেই নেমে দাড়ালো সবাই।চারদিকে পার্টি স্প্রে,, পেপার স্প্রে এর ছড়াছরি।গাড়ি থেকে নেমেই নিবিড় গিয়ে চড়ুইয়ের হাত দরে,, চড়ুই তার দিকে একবার তাকিয়ে বলে..

"কি হলো, নিবিড় ভাই,,,হাত ধরলেন কেন?"

নিবিড় সামনে তাকিয়ে বললো...

"হারিয়ে যেতে পারো মিস এটম,,,তাই.."

তখনই কোথা থেকে আবির এসে চড়ুইয়ের হাত ছাড়িয়ে নিজে মুষ্টিতে পুরে নিলো।তারপর বললো...

"নিজের আমানত চিনতে শিখ আগে ভাই,,,,,ভুল করে ডটার ইন লও কে নিয়ে টানছিস তুই।"

নিবিড় হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো। এদিকে এসব দেখে পাস থেকে দোয়েল, আহিশ, জেসি ফিক করে হেসে দিলো।আবির বললো...

"গেইটে আয়,,,জিসান ভাই একা আছে।দেখলাম এক গাদা শালা শালি তার।কখন কি মেরে দেয় ঠিক নেই।চল।"

বলেই চড়ুইকে নিয়ে গেইটে গেলো।বাকিরাও গেলো পিছু পিছুু।,,,,জিসানকে একটা চেয়ারে বসানো হয়েছে।সামনে টেবিলে নানা রকম ফুল,মিষ্টি, জুস।এসব নিয়ে নানা কাহীনি করলো তারা।তারপর টাকা দেওয়া নেওয়ার বিষয়টাও মিটে গেলো।ভেতরে ঢুকলো সবাই।এর মধ্যে আবিরের সাথে তাসানের দু একবার চোখাচোখি হলো।তাসান ভয়ে অন্য দিকে চলে যায়।আর আবির?সে মনের আনন্দে, চড়ুইয়ের হাতের উলটো পিঠে আকি বুকি করছে।চড়ুই ভাবলো একটু মজা করা যাক

,,তাই সে সিরিয়াস হওয়ার ভান করে বললো...

"আবির ভাইয়াা,,আপনি আমার হাত নিয়ে কি করছেন?হাত ছাড়ুন আমার।"

আবিরের কোনো ভাবাবেগ হলো না।চড়ুই আবার বললো...

"এসব কি আবির ভাইয়া?দেখুন আমি কিন্তু চড়ুই নই যে সব মেনে নিবো।ছাড়ুন বলছি।''

আবির এবার চোখ রাখলো চড়ুইয়ের চোখে।৷৷, তখনই চড়ুইয়ের বুকটা কেমন নড়ে উঠলো।আবির শান্ত শীতল কন্ঠে বললো...

" তুমি চড়ুই নও?"

চড়ুই বললো..

"নাহ,,আমি দোয়েল।"

"সত্যিই তুমি চড়ুই নও?"

"না, বলছি তো।"

আবির এবার চারপাশে তাকালে,,, সবাই আছে,,তবে কারোর মনোযোগ নেই এদিকে।আবির একটি এগিয়ে গিয়ে বসলো চড়ুইয়ের কাছে।মুখটা একদম মুখোমুখি নিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো....

"তার মানে তুমি চড়ুই না তাই না?"

চড়ুই ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে দুদিকে মাথা নাড়লো।,,,

"ওকেয়,,তাহলে আমি গেলাম চড়ুইয়ের কাছে,,,"

"কেন?"

"আসলে দোয়েল,,,তোমার বোন মানে চড়ুই পাখির ঠোটে অনেক ইয়ামি লিপস্টিক দেখেছি।সেগুলো খেতে হবে আমাকে।"

চড়ুই বোকার মতো জিব দিয়ে নিজের ঠোট একটু চেখে দেখে বললো...

"কই,, আমি তো কোনো ইয়ামি লিপস্টিক দিই নি।"

"আরে তুমি না তোহ,,,,ওটা তো চড়ুই পাখি দিয়েছে।"

"আরে আমিই তো চড়ুই পাখি,,,দেখুন আমি ইয়াম্মি লিপস্টিক দিয়েছি কিনা?"

"তুমি চড়ুই পাখি?''

চড়ুইয়ের বোকা মাথায় এখনো ব্যপারটা ঢোকেই নি।আগের মতোই সুর দিয়ে বললো...

" হুউউম"

"দোয়েল পাখি নও তো?"

"না,,, আমি কেন বোন হতে যাবো?"

"তাহলে আমি তোমার ইয়াম্মি লিপস্টিক খাই?"

চড়ুই আগের মতোই ভাবতে বসলো...

"ইয়াম্মি লিপস্টিক...... "

তারপরই কিছু একটা মাথায় আসতেই চোখ বড়বড় করে বলে উঠলো...

"এই,,,ছিহ,,,আপনি আবার আমার ঠোটে আপনার ঠোট...ছিহ,,ছিহ,, কি লুচি গো আপনি ব্যবসার থলে?"

আবির মুচকি হেসে তাকিয়ে রইলো তার বোকা পাখিটার দিকে।এতক্ষণে তার মাথায় সব ঢুকলো....

"আচ্ছা ব্যবসার থলে,,,আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"

আবির চোখের ইশারায় বলতে বললো...

"আপনি যে বারবার লিপস্টিক, চকলেটের নাম দিয়ে আমার মুখের ভেতরের লালা খেয়ে ফেলেন,,আপনার ছিহ লাগে না?"

আবির তাকালো চড়ুইয়ের দিকে,,,, নিজের হাতে থাকা চড়ুইয়ের হাতের দিকে একবার তাকালো।তারপর দৃষ্টি নিলো চড়ুইয়ের চকলেট কালারের লিপস্টিক যুক্ত মসৃন ঠোটযুগলে,,আবার চোখের দিকে তাকালো,,,,,

"তোমার লাগে না?"

"কি?''

" ঐ যে,,,ছিহ?"

চড়ুই ভাবলো কিছুক্ষণ,, তারপর চকিত দৃষ্টিতে আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো...

"আসলেই তো,,,আমি তো ওভাবে কখনো ভেবে দেখিনি?ছিহ তো কখনোই ফিল হয়নি,,,"

"আবির ভ্রু উচিয়ে বললো...

" কখনোই বলতে?আর কে তোমার মুখের ভেতরের লালা খেয়েছে?"

"কই,,,আর কেউ তো খায় নি?আপনিই তো দু দুবার খেয়েছেন,,আমিও তো শুধু আপনারই...."

"থামলে কেন,,,বলো?"

"একটা কথা জিজ্ঞেস করি? "

"হাজারটা বলতে পারো?"

"কাউকে বলবেন না তো?"

"বেশি সিক্রেট?"

"উমম,,বোনকে বলেছি আগে,,এখন আপনাকে বলছি,,,,"

"বলো...""আপনি যা করেছেন,,,সেটাকে লিপকিস বলে তাই না?"

"হুম,,,"

অনুমান ঠিক হওয়ার কারনে চড়ুই খুশিতে হাসলো...আবির ভ্রু কুচকে বললো..

"এটা তুমি বড় পাখিকে বলেছো?"

"হুম,,,বোনও তো আমাকে বলেছে অনেক কিছু,,..."

"কি বলেছে?"

"এই যে,,নিবিড় ভাইয়া নাকি ঐ দিন পাগলের মতো বোনকে ভালোবাসি বলেছিলো।কিন্তু...."

"কিন্তু?"

"কিন্তু পরে নাকি আবার মুড চেঞ্জ করে ফেলেছে।''

" তো এখন বড় পাখি কি করবে?"

"বোন?"

বলেই কেমন যেন শান্ত হয়ে গেলো চড়ুই,, এতক্ষণের উৎকন্ঠা ভাবটা নিমেষেই হারিয়ে গেলো।আবির লক্ষ্য করলো,,,চড়ুইয়ের এই গম্ভীর মুখশ্রী,,, খুব কমই এই রূপ দেখা যায় চড়ুইয়ের।তাই আবিরের চিন্তা হয় এই মুখশ্রী দেখে,,,,,, আবির নিজের বাম হাত চড়ুইয়ের ডান বাহুতে রাখলো..আলতো শীতল কন্ঠে ডাকলো...

"চড়ুই পাখি?"

চড়ুইয়ের ধ্যান ভাঙলো,,,,তাকালো আবিরের দিকে,,, আবির চোখের ইশারায় কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলো...

"আমার বোনটা যে খুব বিচক্ষণতা নিয়ে চিন্তা করে।কারোর দেওয়া কোনো কিছুই সহজে গ্রহন করে নাহ,,,সে হোক না কারোর নিষ্প্রতিভ ভালোবাসা। "

আবির কিছুক্ষণ চুপ থাকলো, তারপর বললো...

"তুমি এটা কিকরে মাথায় আনলে?"

চড়ুই আলতো হাসলো।একটু দুরে দাড়িয়ে থাকা নিবিড়ের দিকে তাকালো,,,যে তখন দোয়েলের পেছনে লাগতে ব্যস্ত..

"আমি নিবিড় ভাইয়ের চোখে বোনের জন্য কিছু দেখেছি,,,,উনি বোনের ক্ষেত্রে অন্যরকম,,,,উনার দৃষ্টি, বোনের প্রতি কেয়ার,,ব্যস্ততার মাঝেও বোনকে জ্বালানো,,এসবই যে ভালোবাসা নামক অনুভূতির ইঙ্গিত দেয়।"

আবির দেখলো তার চড়ুই পাখি বড়দের মতো কথা বলছে,,,আবির আবারও দুহাত দিয়ে চড়ুইয়ের দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করলো....

"নিজের প্রতি কারোর এই অনুভূতি লক্ষ্য করোনা তুমি?"

চড়ুই বললো...

"আমার প্রতি?,,ধুর,,,আমাকে আবার কে ভালোবাসবে?আমি কি শান্ত মেয়ে নাকি?যে আমায় ভালোবাসবে?বোনতো শান্ত শীতল,, বড় বড় ভাবটা ওর মাঝে আছে।যা আমি চাইলেও কেন যেন আনতে পারি না।ওভাবে থাকলে আমার মনে হয় যে দম বন্ধ হয়ে আসে,,,নি:শ্বাস নিতে কষ্ট হয় আমার,,,মনে হয় যেন সব কষ্টরা আমাকে ঘিরে ধরে,,,বিক্ষিপ্ত অতীত মনে পরে আমার,,,,"

চড়ুই উতলা হচ্ছে, ঘনঘন নও:শ্বাস ফেলছে,,,চোখের কোনে পানি জমেছে। আবির আর বলতে দিলো না,,ঝাপটে ধরলো চড়ুইকে,,,

"হুশশশ,,আর না চড়ুই পাখি,, থামো তুমি,,,,,,তোমাকে শান্ত শীতল হতে হবে না পাখি,,,তুমি যেমন তেমনটাই থাকবে আজীবন। তোমাকে যে কেউ একজন এমনটাতেই ভালোবাসবে,,আর সারা জীবন বাসবে।,,,,,,,,,,,,,,,,,,

_____________

______________

এদিকে আহিশ বারবার হৃদের পেছনে ঘুরছে।হৃদ যা করে তাই নকল করছে।এতে হৃদ খুবই বিরক্ত হচ্ছে। শেষে না পেরে হৃদ দোয়েলের কাছে গেলো।নিবিড়ও সেখানেই ছিলো।...

"পাখি,,,,?"

দোয়েল বললো..

"হুম হৃদ বল?"

"তুই কোন পাখি আগে সেটা বল?"

"আমি দোয়েল,,,,"

"যাক,,তাহলে ঠিক মানুষের কাছেই এসেছি।,,,"

"হৃদ,তুই এতো বিরক্ত হচ্ছিস কেন?"

এবার নিবিড় ভ্রু কুচকে বললো..

"কি হলো হৃধী,,কোনো প্রবলেম হচ্ছে?"

"নিবিড় ভাইয়া,,,,আর বড় পাখি,,তোর এই বন্ধু,,,, কি শুরু করেছে বলতো?"

"আহিশ?"

"হ্যা,নিবিড় ভাইয়া,,,আহিশই,,,সেই কখন থেকে পেছনে পরে আছে।"

ততক্ষণে আহিশ এসে উপস্থিত...

"বড় পাখি,,,বড়পাখি,,,আমি কিছু করিনি সত্যি...."

নিবিড় বললো...

"কিছু করিস নি মানে?তাহলে হৃধী নালিশ করছে যে?"

আহিশ মুখ কালো করে বললো...

"সেটা আমি কি করে জানবো বলো?ঐ তখন আমাকে এসে বললো,,," আহিশ ভাইয়া,,,তোমার উপর ক্রাশ খাইছি,,আমার সাথে প্রেম করবে?"

হৃধী অবাক হয়ে বললো..

"কী"!!!

" হুম তাই তো,,আমি না করেছি,,তুমিই বলো নিবিড় ভাই,,এই নাইনে পড়ুয়া মেয়ের সাথে আর যাই হোক,,প্রেম করা যায়?"

এদিকে দোয়েল আর নিবিড় অবাক,,কি বলবে বুঝতে পারছে না। আবির আর চড়ুইও চলে এসেছে।তাদেরও একই অবস্থা। হৃধী রেগে বললো...

"যত্তসব আজে বাজে কথা,,,,আমি গেলাম,,আর যদি আপনি আমার পেছনে লাগেন,তাহলে আর পাখিদের নয়,,সোজা গিয়ে আব্বুর কাছে বলবো।"

বলেই হনহন করে চলে গেলো হৃধী।আহিশ বেচারা ফেইস করে বললো..

"পাখিরা,,,,তোদের এই বোনকে ভালো লাগছে,,,কি করবো বল?একটু সেটিং করিয়ে দে প্লিজ,,,"

চারজন এবার একসাথে হুহা করে হেসে দিলো..

জিসান আর বিপাসার বিয়ে সম্পন্ন হলো,,,তাদেরকে এক গাড়িতে দেওয়া হলো।,,,

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ১৮ গল্পের ছবি