হঠাৎ আবির উঠে দাড়ালো।তারপর হুট করেই চড়ুইয়ের দিকে ঝুকে চড়ুইকে পাজা কোলে তুলে নিলো।চড়ুই চমকালো...
"একি,,,কি করছেন আপনি?,নামান আমায়,,"
আবির শুনলো না,,,বারান্দা ছেড়ে রুমে এলো।তারপর গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাড়ালো,,কিছু একটা দেখে বললো...
"পার্ফেক্ট"
বলেই ওভাবেই বেরিয়ে এলো।সোজা গেলো পাখিদের রুমে,,,,দরজা খোলাই ছিলো,,,চড়ুই আসবে বলেই খুলে রেখেছে দোয়েল।মাত্রই চেঞ্জ করে বেরোলো ওয়াশরুম থেকে।আবির চড়ুইকে বিছানায় সুইয়ে দিয়ে দোয়েলের দিকে ফিরে বললো...
"দিয়ে গেলাম তোমার বোনকে।,,,ঘুমিয়ে পড়ো,,,আর হ্যা,,দরজা লক করবে"..
বলেই বেরিয়ে গেলো আবির,,,দোয়েল উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দৌড়ে গিয়ে বসলো খাটের উপর,,,উৎসাহ নিয়ে বললো...
" কি হলো রে তোদের মধ্যে?"
চড়ুই ভাবলেশ হীন ভাবে বললো...
"কি আবার হবে,,,কথা হলো,,"
"কি কথা হলো?"
"হলো তো অনেক কথা।কোনটা বলবো?"
"আরে যেটা ইচ্ছে সেটা বল"
''উমমম,,,জানিস উনার বারান্দায় একটা দোলনা আনিয়েছে।''
"তাই?,,,তুই জানিস,,,নিবিড় ভাইয়ের বারান্দায়ও একটা আনিয়েছে।"
"ওমা তাই??"
"আর কি কি কথা হলো?"
"আআআর...."
"কারো পার্সোনাল কথা এভাবে শোনাটা কি ঠিক বড় পাখি?"
কন্ঠটা শুনেই পেছনে তাকালো,,,আবির দাড়িয়ে আছে।চড়ুই বললো...
"আপনি এখনো যাননি?"
আবির তাকালো চড়ুইয়ের দিকে তারপর দোয়েলের দিকে তাকিয়ে বললো...
"দিস ইজ নট ফেয়ার বড় পাখি,,,,আমি কিন্তু সবই জানি"
দোয়েল মেকি হাসলো..
"সরি আবির ভাইয়া।।"
আবির হেসে চলে গেলো।...
★()()()()()()()()()()()()★
জিসান আর বিপাসার রিসেপশন অনেক আনন্দের সাথেই কাটলো।,,,পরদিন সকালে আবির আর নিবিড় একত্রে ফর্মাল ড্রেসে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো।এসেই দেখলো জেসি,ইরিন,বিপাসা,হৃদ,দোয়েল আর চড়ুই রান্নাঘরে,,,বড়রা সবাই ড্রয়িং রুমের সোফায়,,,,সানিয়ারা নাকি ভোরেই চলে গেছে।এটা শুনে আবির আর নিবিড় হালকা হাসলো।বাড়ি এখন প্রায় হালকা,,,,নিজেরা ছাড়া তেমন কেউই নেই,,,শুধু,ইরিন, ইরিনের মা,সিমান,হৃদ আর পাখিরা।সিমান কালকে চলে যাবে,,আর ইরিনরা আজ বিকালেই,,,তবে পাখিদের যাওয়া নিয়ে এখনো কোনো আলোচনাই হয়নি।টুইন্স ব্রাদার্স ড্রয়িংয়ে এলো..
"কিচেনে কি হচ্ছে আম্মু?তোমরাও নেই,,আর কোনো সার্ভেন্টও নেই,,,"
আহিশ বললো...
"আবির ভাই,,আজ সবারই কপাল খারাপ,,,ঐ যে দেখছো বিখ্যাত কুকদের,,,তারা বিখ্যাত হলেও প্রত্যেকেই আনাড়ি,, "
নিবিড় বললো..
"ওয়াট!"
সিমান বললো..
"জ্বী ভাই,,,,আজ এদের দাবি নতুন ভাবিকে নিয়ে রান্না করবে,,তবে সেখানে বড়রা কেউই থাকতে পারবে না।"
সফিক বললো..
বুঝলি বাবারা,,,আজ আমাদের বাড়ির মেয়েরা দায়ীত্ব নিয়েছে, আজ খাবারের টেস্টটা একটু অন্যরকমই হবে বটে,,".
জিসান বললো...
"আদেও কি ওগুলো খাওয়ার যোগ্য হবে?"
জুলেখা বললো...
"বলেছিলাম সার্ভেন্টরা থাক,,,পাখিরা তাও না করে দিয়েছে।"
তানিজ বললো...
"হুম,,,পাখিরা বললো,,,এতগুলো মেয়ে থাকতে আবাট সার্ভেন্ট কেন,,, "
আবির একটু বিরক্ত হয়ে বললো....
"হাউ ফানি,,,ওরা বললো আর তোমরাও রাজি হয়ে গেলে,,,,"
বলেই আবির গদগদ করে কিচেনে ঢুকলো।কিছু বলতে যাবে তার আগেই চোখ গেলো চড়ুইয়ের দিকে,,,বেসিনে হাত ধুচ্ছে সে,, ফিরে আবিরকে দেখে একগাল হাসলো সে,,,আবিরের সামনে নিজের হাত দুটো মেলে ধরলো,,,আবির ভ্রু কুচকে বললো...
"ওয়াট?"
চড়ুই হেসে বললো..
"এই যে দেখুন,, নারকেল বাটার কারনে আমার তুলতুলে হাত তেলতেলে হয়ে গেছে,,,"
চড়ুইয়ের কথা বলার ভঙ্গি দেখে আবিরের এতক্ষণের রাগটা উড়ে গেলো।হেসে দিলো সে।তাকালো চড়ুইয়ের হাতের দিকে,,,সত্যিই তৈলাক্ত হয়ে আছে হাত দুটো।,,,
"এসব কেন করছো চড়াই পাখি?,,,যদি কোথাও লেগে যায়?"
তখনই জেসি গাজর কাটতে কাটতে বললো....
"আবির ভাই,,,আমাদেরও লাগতে পারে,,,তা কি কেউ খেয়াল করছে?"
তখনি নিবিড় এসে বললো...
"তুই বিবাহিত মহিলা,,,তুই এসব করতেই পারিস,,তবে পাখিরা নয়।"
দোয়েল বললো...
"আমরা করলে প্রবলেম কি?আমরাও তো কোনো বাড়ির বউ হবো একদিন নাকি?তখন তো এসব করতেই হবে।"
নিবিড় এগিয়ে গেলো দোয়েলের কাছে,,,,
"তোমার বর এতোটাও খারাপ না যে তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোমাকে এসব করাবে।"
চড়ুই বলে উঠলো...
"আপনি এটা কি ভাবে জানলেন নিবিড় ভাইয়া?"
নিবিড় হেসে বললো...
"কারন তোমার জিজু যে ভবিষ্যৎ বাণী করতে জানে ছোটপাখি?"
চড়ুই বোকার মতো বললো..
"ওমা,,,এতে আবার আমার জিজু কোথা থেকে এলো? "
হৃদ বললো...
"তাই তো?"
বিপাসা বললো...
"হৃদ,,,হয়তো নিবিড় ভাই তোমার জিজুকে চিনে,,"
আহিশ এসে বললো...
"জিজুকে নয় ভাবি,,,,বলো জিজুদেরকে চিনে।,, তাই না নিবিড় ভাই?"
হৃদ উৎফুল্ল হয়ে বললো..
"ওমা,, তাই নাকি,,,নিবিড় ভাইয়া,,আপনি পাখিদের বরদের চিনেন?,,,,এই এই,,বলুন না?,,আমি এক্ষুনি বিয়ে দিয়ে দেবো পাখিদের,, তারপর ওদের বাসর হবে,,,এবার দুটোর ঘরে আরো দুই জোরা টুইন্স আসবে,,, আউউউ,, হাউ কিউট,,,!"
হৃদের কথা শুনে দোয়েল হতভম্ব হয়ে গেলো।আবিরের কাশি উঠে গেলো।এদিকে চড়ুই হৃদের সাথে তাল মিলিয়ে হাসতে হাসতে বললো..
"এই না না,,,মাত্র এক জোড়া নয়,,,আমি তো বছর বছর টুইন্স ডাউনলোড করবো।,,,এগারো বছরে এগারো জোড়া টুইন্স,, দুইটা ফুটবল টিম,,,তাহলেই আর বিপক্ষ দল খোজার জন্য বাইরে যেতে হবে না,,,কি বলো তোমরা??"
আবিরের চোখ যেন কোঠর থেকে বেরিয়ে আসবে,,কি বলছে এই মেয়ে,,,এগারো জোড়া,,দ্যাট মিনস বাইশটা বাচ্চা,,ও মাই গড৷ ও মাই গড,,,,,,,,এদিকে আহিশ নিবিড়, সিমান,, হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। জেসি হাসতে হাসতে বললো...
"ওহ ছোট পাখি,, কি দারুন আইডিয়া,,,তা এতগুলা বাচ্চাকে দেখাশুনা করবে কে??"
চড়ুই ভাবলেশহীন ভাবে বললো...
"কেন?আমার বর,,"
আবির হেলে পড়লো।দরজাটা ধরে দাড়ালো।আজ মনে হয় হার্ট অ্যাটাক করেই ফেলবে,,, আবিরের এমন অবস্থা দেখে চড়ুই তাড়া দিয়ে বললো...
"একি"! আপনার আবার কি হলো?"
আবির কিছুই বললো না,৷ সোজা বেরিয়ে এলো কিচেন থেকে।এখানে আর এক মুহুর্তও থাকা সম্ভব নয়।,,,নাস্তা করে বেরিয়ে পড়লো অফিসের উদ্দেশ্যে,,অনেক দিন যাওয়া হয় না,,,তাই-ই গেলো।,,,,
{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}{}
বিকাল সাড়ে চারটা,,,,একটু আগেই ইরিনরা চলে গেলো।চড়ুই দোলনায় দোল খাচ্ছে আর দোয়েল রুমে বসে হুমায়ুন আহমেদ এর লিখা "ময়ূরাক্ষী" বইটি পড়ছে,,বাড়িতে এখন শুধু মেয়েরাই আছে।বারান্দা ছেড়ে রুমে এলো চড়ুই।এসেই খাটে সপাট হয়ে সুয়ে পরলো।দোয়েল চোখ তুলে দেখলো,,,তারপর বইটি বন্ধ করে চড়ুইয়ের মাথার কাছে এসে বসলো..
"তোর কাছে আর পেইন কিলার আছে?"
দোয়েলের কথায় চড়ুই উত্তর দিলো..
"নাহ,,,তোর কাছে আছে না?তাই আর আমি রাখিনি,,"
"আমার কাছেও নেই,,আর ওগুলো..?"
"তাও তো শেষ।আনতে হবে।জেসি আপুর কাছে আছে?ইমিডিয়েট চলার জন্য? তারপর হস্টেল গেলে কিনে নিবো?"
"উহুম,,আপুর গুলো হবে না,, অন্য গুলো ইউজ করে।"
"তাহলে??যদি আজকেই...''
" আমি যাচ্ছি, নিয়ে আসবোনি।''
খাট ছেড়ে নামতে নামতে বললো দোয়েল...
"আমিও যাই?"
"নাহ,,তুই বেটার ফিল করছিস না,,,রেস্ট নে,,,রাস্তার মোড়েই ফার্মেসি আছে।আমি নিয়ে আসছি।"
"ওকেয়,, যাওয়ার আগে আন্টিকে বলে যাস,,,নাহলে টেনশন করবে।''
" হুম,,, বলেই যাবো।"
বলতে বলতেই ওড়নাটা মাথায় দিলো দোয়েল।ছোট সোল্ডার ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে গেলো ফার্মেসীর উদ্দেশ্যে।
*****
বিকাল প্রায় ৫ টা।।ব্ল্যাক কালারের পাজারো গাড়িটার ব্যাক সীটে বসে আছে আবির আর নিবিড়।সামনেই জিসান ড্রাইভ করছে।ফ্রন্ট সীট খালি ছিলো নাহ,,,একটু আগেই গলির মাথায় আহিশ নেমে গেলো তার আড্ডাখানায়,,,,,,আর মাত্র ৪-৫ মিনিটের পথ,,,তারপরই চৌধুরী ভিলার রাজকীয় গেইটটা।,,,হঠাৎ আবির বলে উঠলো..
"ওয়ান সেকেন্ড জিসান ভাই,,,গাড়িটা থামা একটু।"
সাথে সাথেই জিসান ব্রেক কসলো।আবির বাম পাশের ফুটপাতের দিকে আঙুল তাক করে বললো..
"পাখি না?"
নিবিড়, জিসান দুজনই তাকালো।জিসান বললো..
"হ্যা,,তাইতো।"
নিবিড় বললো..
"এই বিকেলে পাখি একা কোথায় যাচ্ছে?"
জিসান বললো..
"কিন্তু এটা কোন পাখি? "
আবির বললো..
"তাইতো?"
মাথায় ওড়না থাকার কারনে দোয়েলের হালকা কোকড়ানো চুল গুলো দেখাই যাচ্ছে না।আবির, নিবিড় ৩ সেকেন্ড এক দৃষ্টিতে দোয়েলকে পর্যবেক্ষণ করলো।তারপরই নিবিড় গাড়ির দরজা খুলতে খুলতে বললো...
"আমি আসছি ভাই,,,তোরা বাড়ি যা।'"
আবিরও সায় জানিয়ে বললো..
"হুম,,যা।"
চলে গেলো নিবিড়,,,জিসান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো...
"তোরা কিভাবে চিনলি?"
আবির আলতো হাসলো,,,
"চোখ দেখে"
"এ্যা:("
"তুই চল"
জিসান আর প্রশ্ন করলো না,,, গাড়ি স্টার্ট দিলো আবার।,,
()()
"মিস এটম?"
পেছন থেকে পরিচিত কন্ঠ শুনে ফিরলো দোয়েল। ডার্ক রেড শার্ট আর ব্ল্যাক প্যান্ট,চোখে ব্লাক সানগ্লাস পরে পকেটে হাত গুজে দাড়িয়ে আছে নিবিড়।চোখে গ্লাস থাকার কারনে চোখের মনি না দেখলেও ডাক শুনে দোয়েল বুঝে গেলো এটা নিবিড়ই।,,,,নিবিড় এগিয়ে এলো।ভ্রু জোড়া হালকা কুচকে বললো..
"একা একা কোথায় যাচ্ছো তুমি?"
দোয়েল ভাবলো..উনাকে কি বলবো,,আমি কোথায় যাচ্ছি??,,,না না,,ছি ছি,,কি ভাববে উনি,,,
দোয়েল চোখ উঠিয়ে বললো..
"এই তো সামনেই একটু দরকারে।"
নিবিড় বললো..
"ওকেয় চলো তাহলে.."
"এই না না,,,আপনি বাড়ি যান,,আমি এক্ষুনি চলে আসছি,,হুম?"
আর দাড়ালো না দোয়েল। দ্রুত পা চালিয়ে এগিয়ে গেলো সামনে।,,,,,.../
////
"ভাইয়া ১০ টা পেইন কিলার আর ২ প্যাকেট """" দিন।"
"দিচ্ছি আপু"
দাড়ালো দোয়েল।ফার্মেসীর লোকটি তার কথা মতো জিনিস প্যাক করতে লাগলো।,,,বিপত্তি ঘটলো তখনই,,,যখন পাশে থাকা বখাটে ছেলেগুলোর একজন বলে উঠলো..
"কি মামনি?তোমারও পাউরুটি লাগে?"
দোয়েল ভ্রু কুচকে তাকালো ডানে,,,ছেলেগুলোকে দেখে আর কিছুই বললো না,,,দোকানির দিকে তাকিয়ে বললো..
"ভাইয়া, একটু তারাতাড়ি করুন।"
দোয়েল পাত্তা না দিলেও ছেলেটি থামলো না,,মুখের ভাব ভঙ্গি বিচ্ছিরি করে বললো..
"তা এতো ছোট মামনির পাউরুটি লাগে,,,ঠিক মতো পারো তো??আমরা কি হেল্প করবো নাকি?"
দোয়েল আর তাকানোর ইচ্ছে প্রকাশ করলো না, বিরক্ত বোধ করছে,,,এখন এখান থেকে যত তারাতারি যাওয়া যায়,,,,,,তবে দোয়েলকে সেদিকে তাকাতে হলো আবার সেই পরিচিত কন্ঠ শুনে...
"কাল ঐ পাউরুটিতে জেলি মাখানো থাকবে।ইচ্ছে হলে খেয়ে যাস,, আর ওর পাউরুটির ব্যবহার ও ঠিকই করতে পারে।এন্ড না পারলেও ওকে হেল্প করার মানুষ অলরেডি আছে।তোদের প্রয়োজন পরবে না।"
দোয়েল চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে রইলো। বখাটে ছেলেটা গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে।দেখেই বোঝা যাচ্ছে জোরসে পরেছে গালে।আর নিবিড় তাদের দিকেই কিলার লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।,,,, এদিকে ছেলেগুলোর আত্মা ফুরুৎ হয়ে গেলো টুইনস ব্রাদার্স এর একজনকে দেখে।চিনলো না এটা কোন ভাই,,,তবে তাতে কি,,এরা দুজনই যে এক একটা আইটেম।হাতে পরলে আর রেহায় নেই।,,,,,ভয়ে নিজেদের বাইকটা ফেলেই দৌড়ালো ছেলেগুলো।,,,নিবিড় কিছুই করলো।তবে কাউকে ফোন করে বললো..
"এই টাইমে আমাদের বাড়ির মোড়ের সিসি টিভি ফুটেজ চেক করে আমি যেই ছেলেকে থাপ্পড় দিয়েছি,, তার পুরো গ্যাংকে কাল সকালে ই" ভ"টিজিংয়ের কেসে জেলে দেখতে চাই।"
ওপাশ থেকে কি বললো তা দোয়েল কিছুই শুনলো না,৷ নিবিড় ফোন রেখে পকেটে পুড়ে নিলো,,,,
দোয়েল ভাবছে.."কি সাংঘাতিক লোকরে বাবাহ!!"
নিবিড় এগিয়ে এলো দোয়েলের দিকে।
"এই জন্যই আমাকে আনতে চাইছিলেনা,,,,তুমি সত্যিই পাগল মিস এটম"
দোয়েল চোখ নামিয়ে নিলো। লজ্জা লাগছে তার।কিছুই বললো না।
"আমাকে একটা কল করে বললেই পারতে,,,কষ্ট করে আর বাড়ি থেকে বের হওয়া লাগতো না।"
"আপনাকে কিভাবে.."
বলতে দিলো না দোয়েলকে।হাত ধরে ফার্মেসীর দিকে ঘোরালো।সামনে তাকিয়েই বললো..
"নিজের মনে করলে সবই বলা যায়,,, তুমি তো তা কখনো মনেই করো নি।"
দোয়েল তাকালো নিবিড়ের মুখের দিকে।তবে নিবিড় আগের মতোই সামনে তাকিয়ে বললো..
"আরো ৩ প্যাকেট এড করো এটায়,,"
এরপর দোয়েলের দিকে তাকিয়ে বললো..
"পেইন কিলার আর লাগবে?"
দোয়েল ডানে বামে মাথা নাড়ালো।নিবিড় আবারো সামনে তাকিয়ে নিজে নিজেই বললো...
"ওকেয়,,,লাগলে পরে বলো।এমনিতেই মেডিসিন বেশি দিন রাখা উচিত নাহ,,ডেট ওভার হলে সমস্যা। "
বলতে বলতেই মানিব্যাগ নিতে লাগলো নিবিড়।তা দেখে দোয়েল তাড়া দিয়ে বললো..
"একি,,আপনি দিচ্ছেন কেন,,,আমি দিচ্ছিতো টাকা।"
নিবিড় শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো দোয়েলের দিকে।এতেই দোয়েলের কথা বন্ধ হয়ে গেলো।চোখ ফিরিয়ে মানি ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকার একটা নোট নিয়ে দোকানিকে দিলো।
"আর লাগবে?"
দোকানি আরো দেরশো টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বললো..
"না স্যার,,এতেই হবে,,এই নিন।"
নিবিড় টাকাটা নিয়ে তারপর ডান হাতে জিনিসের থলেটা নিলো..
"আরে আপনি এসব কেন নিচ্ছেন,,,আমাকে দিন?"
নিবিড় সামনে তাকিয়েই বাম হাত দিয়ে দোয়েলের ডান হাত ধরে সামনে হাটতে হাটতে বললো..
"আমি নিলে কি প্রবলেম?"
দোয়েল মিনমিনিয়ে বললো...
"না মানে,,,এগুলো তো আমাদের পার্সোনাল জিনিস,,আর এগুলো ধরা তো ভালো নাহ"
নিবিড় তাকালো দোয়েলের দিকে
"কে বললো এগুলো ধরা ভালো না?"
দোয়েল কি বলবে বুঝতে পারছে না, ,,
"এসব বাজে থিংকস মাথা থেকে দুর করো মিস এটম।আর কিছু দিন পর থেকে তো আমাকেই এসব ক্যারি করতে হবে।"
"মানে?"
"নাথিং’স "
দোয়েল আর কিছু বললো না৷ ,,,বুঝে গেলো এখন যাই হয়ে যাক,, এই লোকটা উত্তর দেবে না।হাটতে হাটতেই নিবিড় বললো...
"কষ্ট হচ্ছে তোমার?রিক্সা নেবো?"
"২ মিনিটের পথের জন্য আবার রিক্সার কি দরকার।হেটেই চলুন নাহ?"
নিবিড় একবার দোয়েলের দিকে তাকালো।। আবার সামনে তাকিয়ে হাটতে লাগলো।হঠাৎ দোয়েল নিবিড়ের ধরে রাখা হাতটা ঝাকাতে ঝাকাতে বললো..
"এই এই,,,দেখুন না?"
দোয়েলের আঙুল অনুসরণ করে রাস্তার ওপাশে তাকালো।দেখলো একজন হাওয়াইমিঠািওয়ালা।
দোয়েল উৎফুল্ল হয়ে বললো..
"আমি হাওয়াইমিঠাই খাবো।"
নিবিড় তাকালো দোয়েলের দিকে,,, বললো..
"এখানেই দাড়াও,,,নিয়ে আসছি।"
বলেই যেতে নিলেই দোয়েল আবার বললো..
"এই এই..."
নিবিড় বিরক্ত হয়ে বললো..
"এটম,,আমার একটা নাম আছে।কি তখন থেকে এই এই করে যাচ্ছো?"
"ওপস সরি,,,,নিবিড় ভাইয়া,,, বলছিলাম যে বোনও খুব পছন্দ করে,,ওর জন্যও একটা।,,আর,,,হ্যা,,জেসি আপু আর বিপাসা ভাবির জন্যেও।ওহ,,আন্টিরা পছন্দ করে?"
নিবিড় শুনলো সব,,,দোয়েলের এমন আচরন দেখে মুচকি হাসলো।,,,তারপর বললো..
"এখানেই দাড়াও।"
বলেই চলে গেলো।,,,কিছুক্ষণ পর ফিরেও এলে তবে খালি হাতে।দোয়েল মুখ কালো করে বললো...
"কি হলো,,আনলেন না যে?"
নিবিড় কথা ঘুরিয়ে বললো..
"চলো"
বলেই দোয়েলের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো।দোয়েলও মুখ বেজার করে হাটতে লাগলো। তবে বেশিক্ষণ তা থাকলো না।বাড়িতে ঢুকতেই দেখলো দুজন সার্ভেন অনেকগুলো হাওয়াইমিঠাই টেবিলে রাখছে।তা দেখেই দোয়েল খুশি হয়ে নিবিড়ের দিকে তাকালো।দেখলো নিবিড় সিড়ি বেয়ে উপরে উঠছে।