সকাল ৮:৩০,,,,,,,
চৌধুরী বাড়ির নিচতলা পুরোটাই রমরমে ভাব।সবাই কাজে ব্যস্ত।বাড়ির বড় ছেলের বিয়ে বলে কথা।কোনো প্রকার কমতি রাখার প্রশ্নই আসে না। হাতে হাতে সকলেই কাজ করছে।উপরের তলার দিকটা একটু শান্ত।,,,,,,,,,পিটপিট করে চোখ খুললো দোয়েল।মাথাটা হালকা ভার।তাকিয়ে দেখলো রুমটা অচেনা।ঘুম থেকে উঠে তো এই রুমটা দেখার কথা নয়।,,,ডানে বামে তাকালো দোয়েল।একটু ডানে দুরে তালাতেই থমকে গেলো সে।রুমের একপাশে সোফায় উপুর হয়ে ঘুমিয়ে আছে নিবিড়।সাদা রঙের পাতলা কম্বলটা তার কোমর পর্যন্ত টানা।সিল্কি চুল গুলো এলোমেলো হয়ে কপালে পরছে।দোয়েল একটু হাসলো,,কারনটা হলো তার কাছে নিবিড়কে এখন কোনো চকলেট বয় এর থেকে কম লাগছে না।,,,,হঠাৎ মনে হলো,, আমি এই ঘরে কি করে??",,,মাথাটা একটু চেপে ধরলো দোয়েল,,,কিছুক্ষণ ভাবলো,,,,
"বোন!!!'"
চড়ুইয়ের কথা মনে পড়লো,,,,,তারাহুরো করে উঠতে গিয়ে খাটের পাশে থাকা সেন্ট্রাল টেবিলের ল্যাম্পটা হাতে লেগে পরে গেলো।ঝনঝন করে উঠলো তার থেকে।নিবিড় ঘুম ঘুম চোখে সেদিকে ফিরে তাকালো।,,দোয়েলকে বসতে দেখে তারাহুরো করে উঠে এলো দোয়েলের কাছে,,,
"কি হয়েছে দোয়েল,,,শরীর খারাপ করছে?"
দোয়েল তারাহুরো করে গা থেকে কম্বলটা সরাতে সরাতে বললো...
"আমার বোন,,,,ও কোথায়,,,ওর খুব বিপদ,,,"
"আরে দোয়েল,,ধীরে,,শান্ত হও তুমি,,,ঠিক করে বলো কি হয়েছে,,,,"
দোয়েল শান্ত দৃষ্টিতে নিবিড়ের দিকে তাকালো।উদ্বিগ্ন কন্ঠে সরাসরি বললো...
"কাল রাতে ঐ তাসান,,,তাসান ভাইয়া আমাদের ঘরে এসেছিলো।,,উনি প্রথমে আমার সাথে.....,,,আ্ আমি,, বেচেছি,, কিন্তু ব্ বোন?,,বোন একদম হুসে ছিলো নাহ,,আর সেই সুযোগে তাসান ভাইয়া ওর সাথে....আমি,,,আমি একা পারছিলাম না,,,মাথাটা ঘুরছিলো।ব্ বেরিয়ে এসেছিলাম কাউকে ডাকার জন্য,, কিন্তু এরপর??,,,আমি,,, আমি কি করেছি??,,,আমার বোন?আমার বোন ঠিক নেই।."
বলেই আবার তারাহুরো করতে লাগলো দোয়েল।নিবিড় তাকে হাত ধরে আটকালো..
"দোয়েল,,দোয়েল,,শান্ত হও তুমি,,,ছোটপাখি একদম সেফ আছে।ভাই আছে ওর সাথে।তুমি প্লিজ একটু শান্ত হও।"
দোয়েল থামলো ছল ছল চোখে তাকালো নিবিড়ের দিকে।
"আমি আমার বোনকে সেফ করতে পারিনি,,,ওকে,,ওকে আমি... "
বলতে বলতেই ডুকরে কেঁদে উঠলো দোয়েল।নিবিড় উঠে গিয়ে দোয়েলের দুগাল আকড়ে ধরলো।
"দোয়েল পাখি,,,কাঁদছো কেন?কাদে না প্লিজ।তুমি কিচ্ছু ভুল করোনি।তুমি তোমার বেস্টটা চেষ্টা করেছো।আর ঐ তাসান,,,ওকে তো আমি ছাড়বো না।ওর সাহস কিকরে হয় আমাদের প্রাণ পাখিদের দিকে হাত বাড়ানোর,, "
"আমি বোনের কাছে যাবো,,"
নিবিড় বললো..
" ও তে ঘুমাচ্ছে দোয়েল।ড. কাল রাতে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছে,"
"ড.?,,ড. কেন এসেছে?কি হয়েছে আমার বোনের?ড. কেন ওকে ইনজেকশন দিয়েছে? "
দোয়েল আবার উতলা হয়ে উঠলো,,,নিবিড় বললো..
"আহ দোয়েল,,এত টেনশন কেন করছো,,,ঠিক আছে ছোট পাখি।"
"আমি যাবো বোনের কাছে,,,যাবোই,,,"
অগত্যা না পেরে দোয়েলকে নিয়ে গেলো আবিরদের কাছে।দরজাটা হালকা ভেড়ানো। নিবিড় আগে আগে গিয়ে দেখলো আবির চড়ুইয়ের মাথার কাছে বসে আছে।চড়ুইয়ের মাথায় বাম হাত বারবার বুলিয়ে দিচ্ছে। নিবির বললো..
"ভাই?"
আবির তাকালে একবার।তারপর বললে...
"আয়"
বলতে দেরি, দোয়েলের দৌড়ে ভেতরে ঢুকতে দেরি হলো না।এসেই চড়ুইয়ের মাথার আরেক পাশে বসলো।..
"বোন,,,?,,,ওর কি হয়েছে আবির ভাইয়া?ও এভাবে ঘুমাচ্ছে কেন? ঐ,,ঐ তাসান ভাইয়া আবার..."
আবির শান্ত কন্ঠে চড়ুইয়ের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে বললো..
''কিচ্ছু হয় নি আমার চড়ুই পাখির।আর হবেও না কখনো।"
দোয়েল একটু শান্ত হলো।আবার চিন্তা নিয়ে বললো..
"কিন্তু নিবিড় ভাইয়া যে বললো ড. এসেছে?"
তখনি দরজা দিয়ে সাবিহা ঢুকতে ঢুকতে বললো..
"পেটে ব্যথা হচ্ছিল ওর।তাই,,,,,তুই ঠিক আছিস দোয়েল আম্মু??"
এগিয়ে এসে দোয়েলের মাথায় হাত বুলাতে লাগলো সাবিহা।দোয়েল ছলছল চোখে বললো..
"আমার বোন,,,ওর পেটে ব্যথা করছিলো,,,ওর খুব কষ্ট হয়েছে তাই না?ওতো খুব দুর্বল। একটু কিছু হলেই সহ্য করতে পারে না।"
সাবিহা তাকালো চড়ুইয়ের দিকে। মেয়েটা এখনো আবিরের কোমরের দিকটা জরিয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। আবিরও আগের মতো তার মাথায় হাত বোলাচ্ছে।,,,এর মধ্যেই চোখ ডলতে ডলতে দরজা দিয়ে সিমান(আহিশের ফুফাতো ভাই)ঢুকতে ঢুকতে বললো...
"তোমরা সবাই এখানে?এতো ভোরে?কিছু কি হয়েছে?"
সাবিহা বললো..
"এখন ভোর সিমান?৯ টা বাজে।"
সিমান অবাক হয়ে বললো..
"কিহ,,৯ টা বেজে গেলো?এতো তারাতারি?"
নিবিড় বললো..
"টাইম সেন্স নেই নাকি তোর?"
সিমান সোফায় বসতে বসতে বিরক্ত নিয়ে বললো...
"ওহ নিবিড় ভাই,,,,আর বলো না তো,,,এ আহিশ আমাকে ঘুমাতে দিলে তো রাতে।শালা,,,,মা*তাল হয়ে আমাকে পাগল বানিয়ে দিলো।কেন যে ওর সাথে ঘুমাতে রাজি হলাম,,আল্লাহই জানে।"
আবির ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো...
"মা*তাল হয়ে মানে?,,আহিশ তো ড্রিংকস করে না,,"
সিমান বললো...
"সেটা তো আমিও জানি আবির ভাই,,,কিন্তু কাল যে কি হলো,,বুঝতেই পারলাম না।এক সাথেই ছিলাম,,কখন করলো এসব,,, "
তখনই জুলেখা আপন মনে গরগর করতে করতে ঢুকলো..
"মেয়েটাও বলিহারি যা,,,কি যে করে না?ওদিকে রুরিত যা চিন্তা করছে,,, "
সাবিহা বললো...
"কিরে মেঝো,,,তোর আবার কি হলো,,,,
" কি যে বলি ভাবি,,,সেই রাত থেকে রুরিত ফোন করে জেসির কথা জিজ্ঞেস করছে। বলছে কাল রাত থেকেই নাকি কল ধরছে না।,,,শুনে রাতে রুমে গিয়ে দেখি মেয়ে আমার মা*তাল হয়ে পাগলামি করছে।কি যে হিমসিম খেতে হলে ঐ মেয়েকে সামলাতে।ভাইয়ের বিয়ে, আর বোন ড্রিংকস করে ঘুরে বেরাচ্ছে।কি কান্ড বলো তো ভাবি"
সিমান বললো...
"জেসিও ড্রিংকস করেছে?"
জুলেখা বললো...
"হ্যারে,,,মেয়েটা আমার এমন তো নয়।,,কিভাবে যে কি হলে?"
সিমান বললো...
"আবির ভাই নিবিড় ভাই,,,আমার কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে। "
আবির কিছু বলবে তখনি খেয়াল করলো চড়ুই নড়ছে।আবির মনোযোগ দিলো সেদিকে।চড়ুই চোখ পিটপিট করে তাকালে।চোখের সামনে সবাইকে দেখে একটু অবাক হলো।দোয়েল তারাহুরো করে বললো..
"বোন?বোন তুই ঠিল আছিস?,,,কষ্ট হচ্ছে তোর?"
চড়ুই কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মুচকি হেসে বললো...
"তোর পেটে ব্যথা কমেছে?"
চড়ুইয়ের এমন কথায় নিবিড় দোয়েলের দিকে তাকালো..
"ওরও পেটে ব্যথা করছিলো??"
চড়ুই বললো...
"আমার করেছে তো কাল রাতে।খুব কষ্ট হচ্ছিল। বোনেরও তো হয়েছে তাহলে।আমি জানি তো,,আমার কষ্ট হলে বোনেরও কষ্ট হয়,, একটু হলেও হয়।"
নিবিড় বললো...
"দোয়েল তুমি আমায় বললে না কেন তোমারও পেটে ব্যথা করছিলো?বাকি সবই তে বলে দিলে?"
দোয়েল বললো..
"আমি কখন আপনাকে সব বললাম,,কি সব বলছেন আপনি?"
নিবিড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো...
"হায় রে,,,লোকে বলে মা*তাল হলে নাকি সব পেটের কথা বলে দেয়।এখন তো দেখছি তুমি সেটাও মিথ্যা করে দিলো।"
আবির হালকা হেসে বললো...
"আপনার হ্যাং ওভার কমেছে ম্যডাম?"
চড়ুই তাকালে তার দিকে।পরখ করলো আবিরকে।লোকটার চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে।,,সারারাত ঘুমায়নি নাকি?,,
"কি হলো ম্যাডাম,,,এখনো মাথা ব্যথা করছে?"
চড়ুই ডানে বামে মাথা নাড়লো।দোয়েল বললো...
"বোন,,তুই ফ্রেশ হয়ে নে,,আমি তোর ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছি। "
দোয়েলের কথায় সবাই তার দিকে দৃষ্টি দিলো।জুলেখা অবাক হয়ে বললো..
"তুই কোথায় যাচ্ছিস বড়পাখি?,,এখন কেন ব্যাগ গোছাবি?"
দোয়েল মাথা নোয়ালো।নিচু কন্ঠে বললো...
"আমরা আজ চলে যাবো মেঝো আম্মু। তাই..."
সাবিহা বললো...
"চলে যাবি মানে?আজ জিসানের বিয়ে,, আর তোরা.."
দোয়েল বললো...
"সরি আন্টি,,আমি এমনটা চাই নি।কিন্তু এখন আমার জন্য হচ্ছে এটাই ঠিক।,,, আমি কোনো ভাবে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও আমার বোন তেমনটা পারবে না।আমি চাই না আমার বোনের কোনো প্রকার,,,,,,,,ওর এইসব বিষয়ে তেমন ধারনা নেই।তাই আমি কোনো রিস্ক নিতে চাই না আন্টি।তাই..."
নিবিড় শান্ত গলায় বললো...
"তুমি তোমাদের অপরাধী কে সাস্থি দিতে চাও না দোয়েল?"
দোয়েল তাকালো,,,কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। অনেকক্ষণ পর বলে উঠলো...
"আমি কখনো নিজেদের শত্রুদের ছেড়ে দিই না নিবিড় ভাইয়া।নিজের যথাসাধ্য চেষ্টা করি।তবে এই ক্ষেত্রে ব্যপারটা আলাদা।জিসান ভাইয়ের কাজিন হয় উনি।তাই আমি বিয়েতে কোনো সিন ক্রিয়েট করতে চাই না।তাই ভালো হয় আমরাই চলে যাই।"
জুলেখা বললো...
"কি হয়েছে?আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।সব খুলে বলো তো কেউ?"
আবির বললো...
চড়ুই,,,তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো যাও"
চড়ুই বললো....
"আমি থাকলে কি হবে শুনি?আমিও শুনবো?"
আবির একটু ধমকের সুরে বললো....
"যেতে বলেছি তোমায়।"
চড়ুই নাক ফুলিয়ে ঠোট উলটিয়ে বললো...
"সব সময় শুধু আমাকে পাঠিয়ে দেয়।আমি শুনলে কি হবে শুনি?আমি কি বাচ্চা নাকি?আর আমি না শুনতে পারলে বোন কেন এখানে থাকবে?ও ও যাবে আমার সাথে।"
আবির আরেকটু উচু গলায় বললো...
"তুমি যাবে নাকি আমি...! "
চড়ুই গটগট করে খাট থেকে নামতে নামতে বললো...
"আর ফিরে আসবো না।আর আপনার মতো ব্যবসার থলের সাথে জীবনেও কথা বলবো না।সারাক্ষণ শুধু বকে,,কি পেয়েছে কি আমাকে হ্যা?"
বলতে বলতেই ঠাস করে ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করলো।আবির তাকালো সেই দিকে তারপর একটা শ্বাস ফেলে বললো...
"কাল রাতে ভাই ফোন করার পর এখানে এসেছিলাম আমি।পাসকোর্ড দিয়ে দরজা খুলতেই..... তাসানকে দেখতে পাই,,,,,আমার চড়ুই পাখির সাথে জোর করছিলো ওই বাস্টার্ডটা।,,,,একটুর জন্য বেচে গেলো।তবে....
এতটুকু বলেই আবির জুলেখার দিকে তাকালো...
" আমি জানি মেঝো আম্মু। ও তোমার ভাইয়ের ছেলে।তাই বলে আমি এতদিন ওকে কিচ্ছু করিনি।ইভেন ঐ দিন শপিংমলে করা সানিয়ার কাজটির কথা জেনেও চুপ ছিলাম।,,,কিন্তু মেঝো আম্মু এবার ঐ তাসান,,আমার চড়ুইপাখির দিকে হাত বাড়িয়ে ছিলো।আমি এবার আর কিছুই মানবো নাহ।"
নিবিড় বলে উঠলো...
"ছোট পাখি একা নয়,,,ও প্রথমে দোয়েলকেও....দোয়েল কোনো মতে নিজেকে সামলে আমার রুমে গিয়েছিলো।তবে ছোটপাখি অতিরিক্ত ড্রাংক থাকার কারনে তাসান সুযোগ পেয়ে...."
সিমান বললো...
"সুযোগ পেয়ে নয় নিবিড় ভাই,,,সুযোগটা করে নেওয়া হয়েছে।, কাল রাতে সবাই যখন ক্লান্ত তখন ঐ মুনিয়াই সবাইকে জুস দিয়েছে।পাখিদের ও তাই।,,,,ছোটপাখি প্রায় ৪-৫ গ্লাস জুস নিয়েছে।সেটা আমি খেয়াল করেছিলাম।"
আবির চিন্তিত স্বরে বললো...
"তার মানে,,,ওভার ডোজের কারনে চড়ুই পাখির ঐ রকম হাল হয়েছে।বড়পাখি তুমিও কি?"
দোয়েল বললো...
"আমিও জুস খেয়েছিলাম।তবে এক গ্লাস। "
নিবিড় বললো...
"ওহ,,তাই হয়তো দোয়েলের হ্যাং ওভার লেইটে হয়েছিলো,,এন্ড পেটে ব্যথাটাও তেমন হয়নি।"
সিমান বললো..
"কিন্তু জেসি আর আহিশকে কেন খাওয়ালো ঐ জুস?ওদের খাইয়ে কি লাভ?"
তখনই দরজা দিয়ে জিসান ঢুকতে ঢুকতে বললো...
"ওটা মিসটেক ছিলো।আহিশেরটা ঠিক,,তবে জেসি বাই মিসটেক খেয়ে ফেলেছে।এছাড়া আরো একজন বাই মিসটেক খেয়েছে।সেটা হলো ওমর।এখন মেইন পয়েন্ট হলো এটা,,,জেসি আর ওমরের জুসটা,, আবির আর নিবিড়ের জন্য বরাদ্দ ছিলো।কিন্তু তাদের দুজনের মধ্যে একজনও ঠ জুসের স্বাদ গ্রহন করেনি।"
আবির বাকা হাসলো..
"ওয়াও,,,নাইচ প্ল্যান,,,,বাড়ির সব ছেলেকে ড্রাংক করিয়ে তারপর ঐ নোংরা কাজ।তারা জানতো আমরা সুস্থ থাকতে তা কিছুতেই সম্ভব নয়।"
জিসান এসে আবিরের কাধে হাত রাখলো...
"আম রিয়েলি সরি আবির।আমার প্রথম থেকেই কিছু করা উচিৎ ছিলো।কিন্তু কাজিন ভেবে,,,"
জুলেখা বললো..
"এত কিছু হয়ে গেলো,,আর তোরা ছেলে মেয়ে গুলো আমাকে কিছুই জানালি না?,,,,,ওরা আমার ভাইদের ছেলে মেয়ে,,, তবে আমি ওদের চিনি।আর আবির নিবিড়,,,,তোরা আর ভাববি না।ওদের প্রাপ্যটা বুঝিয়ে দে ওদের।আমি কখনোই বাধা দেবো না।"
জিসান বললো...
"হ্যা,,,এতে যদি আমার বিয়েতে সিন ক্রিয়েট হয়,,তবে হোক।"
আবির নিবিড় দুজন দুজনের দিকে তাকালো।তারপর দুজনই একসাথে একটা বাকা হাসি দিলো নিবিড় বললো..
"না বিয়েতে সিন ক্রিয়েট হবে,,আর না ঐ পঞ্চভূত পার পাবে।"
আবির বললো...
"আমার চড়ুই পাখি কাল রাতে ড্রাংক ছিলো।তাই ওর কিছুই মনে নেই।তাই এই নিয়ে ওকে কিছু বলার দরকার নেই। শুধু শুধু ভয় নিয়ে থাকবে।,,,বড় পাখি?"
দোয়েল বললো....
"আমি বলবো না আবির ভাইয়া।"
______________________°__°
বিয়েটা সন্ধ্যায় হবে।,,,,এখন সময় বিকেল পাঁচটা।,,, সবাই রেডি হয়ে আছে।কয়েকজন ছাড়া।আবির ড্রয়িং রুমের এককোনায় দাড়িয়ে ক্যটারিংয়ের লোকদের কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছে। নিবিড় বসে আছে সোফায়।দুজনই সেইম ড্রেসআপ।ব্ল্যাক শার্ট,ব্লু প্যান্ট আর ব্লু মোদি কোর্ট। দুজনকেই মোটামুটি ড্যাশিং লাগছে।কালোর ওপর চিকচিক করা নীল রংটা একদম মানিয়েছে বলতে গেলে।আহিশরা সবাই মিলে নানা রকম পেপার স্প্রে,পার্টি স্প্রে,,বাজি নিয়ে প্ল্যান করছে কি কি করবে।সবই মুটামুটি রেডি।আজমলরা মাত্রই ঘরে ঢুকলো আমোজকে নিয়ে চারজনই হাসি ঠাট্টায় মশগুল,,,,ভেতরে ঢুকতেই সবাই তার সাথে কুশল বিনিময় করলো। আবিরও মুচকি হেসে হাতের ইশারায় সালাম জানিয়ে আবার কাজে মন দিলো।,,,,নিবিড় উঠে কোলাকুলি করলো আমোজের সাথে।সাবিহারাও কুশল বিনিময় করলো।আমোজ মনে মনে তৃপ্তি পেলো।পরিবারটা তার মোটামুটি পছন্দই হলো।নিবিড় বললো...
"আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো কাকাই?"
আমোজ বললো....
"না বাবা,,কোনো সমস্যা হয়নি।আমি তো আসতেই চাইনি,,,তোমাদের আব্বুরা যেভাবে জোর করলো,,,না এসে পারলাম না।,,"
"কাকিয়ারা কোথায়? "
"হেনলি আসে নি বাবা,,তবে আমার মেয়ে হৃধি এসেছে।আনতে চাইনি,,কিন্তু ও আমার আম্মুদের দেখবে বলে বায়না ধরলো।তাই নিয়ে.... "
আজমল বললো...
"একদম ঠিক করেছেন,,,এখন এই কয়েকদিন এখানেই থাকবে হৃধী আম্মু।আর কথা শুনছি না।"
আমোজ হাসলো।,,,রফিক বললো....
"তা কোথায় হৃধী আম্মু?"
আমোজ বললো..
"আসছে,,, গাড়ি থেকে নেমেই আপনাদের বাগানে ছুটলো।"
জুলেখা বললো...
"থাক,,ঘুরে আসুক তাহলে।"
তখনই সিড়ি বেয়ে দোড়ে নেমে এলো পাখিরা।দুজনেই উৎফুল্ল,,,এসেই ঝাপিয়ে পড়লো আমোজের উপর।
"কাকাই,,,,!"
আমোজ দুজনের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো...
"কেমন আছে আমার আম্মুরা।"
চড়ুই টেনে টেনে বললো...
"অনেএএএক ভালো আছি কাকাই,,,,এখনতো আরো খুশি হয়ে গেছি,,,"
দোয়েল বললো...
"তুমি আসবে,, বললে না কেন?,,আজ সকালেও তো কথা হলো,,,"
"বলিনি,,কারন আমি আমার আম্মুদের এই খুশিটা দেখতে চেয়েছিলাম।ঠিক করিনি?"
পাখিরা হেসে দিলো।,,,,
"পাখিইইস"
বলতে বলতেই দৌড়ে এসে পাখিদের একসাথে জরিয়ে ধরলো হৃধী।পাখিরাও তাকে জরিয়ে ধরে বললো...
"ওওওউ,,, হৃদ,,,,তুইও,,উই আর সো সো সো হ্যাপি নাও।"
হৃদও বলে উঠলো....
"আম হ্যাপি ঠু মাই পাখিজ,,,"
ছেড়ে দাড়ালো তিনজন,,, হাসছে তারা,,,দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুব খুশি হয়েছে তারা।,, এদিকে আবির আর নিবিড় করুন চোখে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। এটা আর কেউ না বুঝলেও সাবিহার চোখে ঠিকই পরেছে।ফিক করে হেসে দিলো সে।তার ছেলেদের এই করুন অবস্থাও যে দেখতে হবে তা কখনোই ভাবেনি।,,,সে এগিয়ে গেলো পাখিদের কাছে।মাথায় হাত বুলিয়ে বললো....
"মাশাল্লাহ,, আমার আম্মুদের উপর যাতে কারো নজর না লাগে।,,,,আবির নিবিড়,,,,ও বাড়িতে যাওয়ার পর আমার আম্মুদের দেখে রাখবি।"
আবির আর নিবিড় এখনো আগের মতোই তাকিয়ে আছে।,,হৃধী বললো...
"এখন বলতো তোরা,,,কে কোন পাখি?আমি তো চিমতেছিই না।,,,"
আমোজ বললো...
"তাই তো,,আজ তো আমার দুই আম্মুকেই একই রকম লাগছে।এবার চিনবো কি করে?"
জেসি বললো..
"এটাই তো আজকের টুইস্ট কাকাই,,, আজ সবার এক্সাম,,,পাখিদের সনাক্ত করা।হাহাহা,, "
সিমান বললো...
"যাহ,,আমি আগেও চিনিনি,,এখন তো আরো চিনবো না।"
দোয়েল আর চড়ুই দুজনই ব্লু লেহেঙ্গা পরেছে।থেকে থেকে গ্লিটার দেওয়া পুরো লেহেঙ্গায়,,,দুজনেরই ওরনাটা বাম পাশে ছেড়ে দেওয়া।ওরনার পাড়ে মোটা করে স্টোনের কাজ।কালো স্টোনগুলো চিকচিক করছে ওরনায়।দুজনেরই চুল গুলো একই রকম করে কার্ল করে কিছু চুল ডান পাশে রাখা।কে দোয়েল আর কে চড়ুই তা চেনাই যাচ্ছে না।,,,,,,নিবিড় এগিয়ে এলো,,,চোখদুটো এদিক ওদিক ঘুড়িয়ে করুন কন্ঠে বললো....
"এভাবে সাজার কি খুব প্রয়োজন ছিলো?"
পাখিরা একবার একে অপরের দিকে তাকালো। তারপর হঠাৎ হুহা করে হেসে উঠলো।তাদের সাথে উপস্থিত সবাই ও হেসে উঠলো।তখনই সিড়ি বেয়ে নেমে এলো দুলহে রাজা,,পড়নে গোল্ডেন আর রেড মিশ্রিত সেরোয়ানি।মাথায় পাঞ্জাবদের মতোই বর পাগড়ি। সেরোয়ানির ওড়নাটা ডান কাধে ও বাম হাতে ঘুরিয়ে সেট করা।পায়ে নাগড়া জুতো।এক কথায় ঝাক্কাস।,,,নিচে থাকা আহিশ,সিমান,রোহান সহ বাকি কাজিন,ফ্রেন্ডরা সিটি বাজিয়ে উঠলো মুখে হাত দিয়ে।তার সাথে পাখিদের মধ্যে একজনও সেইম কাজ করলো।তা দেখেই আবির ফিক করে হেসে উঠলো।মনে মনে বললো...
"রূপ বদলেছো চড়ুই পাখি,,কিন্তু স্বভাব বদলাতে পারোনি।,,,"
একটু পরেই তাসানরা এলো।আবির আর নিবিড় তার দিকে তাকিয়ে একটা বাকা হাসি দিলো আর মনে মনে বললো...
"আর মাত্র কিছুক্ষণ ডুট,,,তারপর তোর গেইম ওভার,,"