Mr and Mrs Twins

পর্ব - ১৬

🟢

"তাসাআআন"

কন্ঠটা শুনেই থেমে গেলো তাসান।পেছনে ফেরার সাহস পাচ্ছে না।চড়ুইও ছটফট করছে।,,,,,আবির তাকালো তার চড়ুই পাখির দিকে।সোফার কোনায় আদসোয়া হয়ে তাসানের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।আর বিরবির করে জড়ানো কন্ঠে কি যেন বলছে।,,তাসান চড়ুইয়ের উপর।জোর করছে চড়ুইকে।,,,,আবিরের সহ্য হলো নাহ।দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে তাসানের কলার টেনে ধরে দাড় করালো।সামনে ফিরিয়ে সপাটে গালে একটা থাপ্পড় দিলো।তাসান টাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে পড়ে গেলো।আবির আবারও টেনে তুললো তাকে।পেট বরাবর দুটো ঘুসি মারলো।দেওয়ালের সাথে লাগিয়ে গলা টিপে ধরলো তার।গর্জে উঠে বললো...

"তুই আমার চড়ুই পাখির সাথে নষ্টামি করতে চাইছিলি,,,আমার চড়ুই পাখির সাথে,,,,এতো সাহস পাস কোথা থেকে তুই."

বলেই ছুড়ে ফেললো তাসানকে।তাসান কিছু বলারও সু্যোগ পাচ্ছে নাহ।নিজেকে বাচানোর জন্য এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। আবির আবার এগিয়ে আসতে নিলো।

"আআআহ"

থেমে গেলো আবির,,,এটাতো তার চড়ুই পাখির কন্ঠ। সোফায় তাকালো আবির,,,একি,চড়ুইতো নেই সোফায়।আবারও গোঙানির আওয়াজ।আবির বুঝলো শব্দটা ওয়াশরুম থেকে আসছে।আবির ফিরলো সেদিকে।এই সুযোগে তাসান প্রাণ নিয়ে দৌড়ে বেড়িয়ে গেলো।আবির সেদিকে তাকিয়ে বললো...

'"তোকে তো আমি পরে দেখে নিচ্ছি "

বলেই ধুপধাপ পায়ে এগোলো ওয়াশরুমের দিকে।দরজা খোলাই।দেরি করলো না আবির।ভেতরে ঢুকলো।চড়ুইয়ের দিকে তাকাতেই দেখলো বেসিনের পাশে দেয়াল ঘেশে বসে আছে।বেসিনের টেপ ছারা।এগিয়ে গেলো আবির,,,হাটু গেড়ে বসে চড়ুইয়ের গালে হাত দিয়ে ঝাকাতে ঝাকাতে বললো...

"চড়ুই পাখি,,,কি হয়েছে,তোমার,,কাদছো কেন?আমায় বলো?কোথায় কষ্ট হচ্ছে? "

চড়ুইয়ের সম্পুর্ন হুশ নেই।মাতাল সে এখন।কি করছে নিজেই জানে না।তবে কাদছে সে।পেটের প্রচন্ড ব্যথায় চোখ বেয়ে নোনা জল পড়ছে।সহ্য করতে পারছে না সে।আধো আধো চোখে আবিরের দিকে তাকালো।মিন মিন করে জড়ানো কন্ঠে বললো..

"প্ পেটে ক্্খুব ব্যথা করছে,,,আআআহ,,"

আবির তাকালো নিচের দিকে।খেয়াল করলো চড়ুইয়ের শারি ভরে গেছে বমিতে।লেপ্টে গেছে পুরো শারিতে।,,এই ভাবে বেশিক্ষণ থাকলে পুরো শরীরে বমি লাগিয়ে ফেলবে চড়ুই।,আবির কিছু একটা ভেবে চড়ুইয়ের কাধ থেকে শারির পিনটা খুললো।ধীরে ধীরে পুরো শারিটা আলাদা করলো চড়ুইয়ের শরীর থেকে।,, হাত বাড়িয়ে মুঠো ভর্তি পানি নিয়ে চড়ুইয়ের মুখে লেগে থাকা বমি মুছিয়ে দিলো।তোয়ালে খুজতে এদিক ওদিক তাকাতেই হঠাৎ চোখ আটকে যায় চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে।,,,মুখ থেকে পানি গড়িয়ে গলা বেয়ে পড়ছে।এরপর সেগুলো উধাও হচ্ছে চড়ুইয়ের আবরনে।আবির ঢোক গিললো।অন্যরকম ইচ্ছেরা মাথায় চাড়া দিচ্ছে। সংযত করার চেষ্টা করেও পারলো না চড়ুইয়ের শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে উঠা নামা করা বক্ষস্থল দেখে।শুভ্র শরীরে সবুজ রঙের ব্লাউজের হালকা আবরন দারুন ভাবে টানছে আবিরকে।আবির মুখ ডোবালো চড়ুইয়ের গলা বেয়ে পড়তে থাকা পানির কনায়।তারা নিজেরা বিলিন হওয়ার আগেই আবির তার ওষ্ঠ দ্বারা বিলীন করলো পানির কনা গুলোকে।বাম হাত রাখলো চড়ুইয়ের উন্মুক্ত কোমরে।আর ডান হাত দিয়ে চড়ুইয়ের গলা পেচিয়ে ধরলো।পাগল করা ওষ্ট ছোয়ায় ভরিয়ে দিচ্ছে চড়ুইয়ের গলার কাছের বক্ষস্থল। গলা থেকে স্লাইড করতে করতে ব্লাউজের কাছে এসে থামলো হাত।একদম উপরের বোতামটা খুলে ফেললো।মুখ ডোবালো সেখানটায়।সাথেই কোমরে থাকা হাতটা হালকা চাপ দিতেই...

"আহ"

শব্দে থেমে গেলো আবির।সংবিত হয়ে মুখ তুলে তাকালো সে।চড়ুই ব্যথায় কাদছে।চাপের কারনে পেটে আরো বেশি ব্যথা পেয়েছে।আবির ছেড়ে দিলো চড়ুইকে। নিজেকেই ধিক্কার জানাচ্ছে সে..

",এটা আমি কি করতে যাচ্ছিলাম,,,আমার চড়ুইপাখি অসুস্থ,, ব্যথায় কুকড়াচ্ছে।আর আমি কি না ওর সাথে এই অবস্থায়....ছিহ"

আবির তাকালো চড়ুইয়ের দিকে। চোখ বন্ধ করে কয়েকটা শ্বাস নিয়ে,,, তারপর পাজা কোলে তুলে নিলো চড়ুইকে।বেরিয়ে এসে খাটে শুইয়ে দিলো।চড়ুই ব্যথায় কাদছে,,, আর জড়ানো কন্ঠে বললো...

"আ আমি মরে যাচ্ছি ,, প্লিজ,,আআ আমাকে বাচান,,,আমি আর পারছি নাহ, "

আবির চড়ুইয়ের মাথায় হাত রাখলো।দ্রুত কন্ঠে বললো...

"চড়ুই পাখি,,,আমি আছি তো,,কিচ্ছু হবে না তোমার,,, এক্ষুনি সব ঠিক হয়ে যাবে।একটু খানি সময় দাও চড়ুই পাখি।,,,"

দিশা হারিয়ে এদিক ওদিক তাকালো,,,,দরজার পাশ দিয়ে একজন মহিলা সার্ভেন্টকে যেতে দেখে ডাকলো তাকে।

"জ্বী স্যার?"

"ইম্মিডিয়েটলি আম্মুকে এখানে আসতে বলো।,,কুইক"

সার্ভেন্টটি একবার চড়ুইয়ের দিকে তাকালো। অবস্থা খারাপ দেখে সে আর প্রশ্ন করলো না।দ্রুত গিয়ে সাবিহাকে বললো,,,,চড়ুই অসুস্থ,, আবির ডাকছে তাকে।,,,,সাবিহার রুমে জুলেখাও ছিলো,,কাল বিয়ে নিয়ে কিছু আলোচনা করছিলো।আফজাল এখনো আসেনি রুমে।,,,,খবর পেয়ে সাবিহা আর জুলেখা দুজনেই ছুটলো পাখিদের রুমে।গিয়ে দেখলো চড়ুই বিছানায় কাতরাচ্ছে,, আর আবির চড়ুইয়ের হাত চেপে ধরে মাথায় আরেখ হাত বুলিয়ে চড়ুইকে থামাতে চাইছে।সাবিহা এসেই বললো...

"আম্মু??কি হয়েছে আমার আম্মুটার?"

আবির তাকালো না,,,তড়িঘড়ি করে বললো...

"আমার চড়ুই পাখির খুব পেটে ব্যথা করছে আম্মু,,,সহ্য করতে পারছে না ও,,,তুমি একজন লেডি ডক্টরকে এক্ষুনি আসতে বলো।"

সাবিহা তারাহুরো করে বললো..

"আমি এক্ষুনি মি:পয়েজ কে আসতে বলছি।"

আবির বললো...

'নাহ,,আমি বলেছি লেডি ডক্টর ডাকতে আম্মু"

জুলেখা বললো...

"ড.পয়েজ অনেক ভা..."

আবির একটু চেচিয়ে বললো...

"না বলেছি না?,,,ওর পেট চেক আপ করবে মেঝো আম্মু,,, আমি চাইনা কোনো পুরুষ ওকে টাচ করুক।আম্মু তুমি একটু কুইক করো না?আমার চড়ুই কষ্ট পাচ্ছে তো।"

সাবিহা বললো..

"ঠিক আছে,, আমি বলছি।"

আবির বললো...

"মেঝো আম্মু,,তোমরা দুজন মিলে ওকে একটু চেঞ্জ করিয়ে দাও প্লিজ,,,আমি বাইরে ওয়েট করছি।"

সাবিহা লক্ষ্য করলো চড়ুইয়ের দিকে।সবুজ রঙের পেটিকোট আর ব্লাউজ ছাড়া গায়ে আর কিছুই নেই।এর মধ্যে ব্লাউজের উপরের বোতাম খোলা,,সাবিহা বললো...

"ওর এই অবস্থা কি করে.."

আবির তাড়া নিয়ে বললো..

"আমি করেছি এমব আম্মু,,এখন এতো কিছু বলার সময় নেই।তোমরা একটু ফাস্ট করো প্লিজ।আমি বাইরে ওয়েট করছি।"

বলেই উঠতে নিলে টান খেলো আবির।তাকিয়ে দেখলো চড়ুই শক্ত করে তার গেঞ্জির কোনা ধরে আছে।আবির ঝুকলো তার দিকে।চড়ুই কাদতে কাদতে আধো চোখে বললো...

"আমাকে ছেড়ে যানেন না প্লিজ,,,আ্ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমাকে ঠিক ক্ করে দিননা,,,"

আবির দ্রুত হাতে চড়ুইয়ের দু গাল আগলে ধরলো।তার চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বললো..

"আমি কোত্থাও যাচ্ছি না চড়ুই পাখি। তোমার সাথেই আছি।কিচ্ছু হবে না তোমার দেখো,,,,একটু সামলাও নিজেকে প্লিজ,,,,একটু,,,"

বলেই চড়ুইয়ের কপালে গভীর ভাবে নিজের ঠোট ছোয়ালো। তারপর চড়ুইয়ের হাতটা ছাড়িয়ে উঠে কাবার্ড থেকে একটা গেন্জি আর একটা প্লাজু সাবিহার হাতে দিয়ে চলে গেলো বাইরে।,,,,সাবিহা একবার ছেলের দিকল তাকালো,,,,"তার এই ছেলেটাই বলেছিলো এমন মেয়েকে বিয়ে করা অসম্ভব। কিন্তু এখন দেখো।কেমন যেন পাগল পাগল করছে ছেলেটা,,,"

আর ভাবলো না সাবিহা,,জুলেখার কথায় হুশে আসতেই চড়ুইয়ের দিকে মন দিলল।হুহু করে উঠলো বুকটা।মেয়েটার এমন ছটফটানি সহ্য করতে পারছে না তারা দুজনেই।আপন না হলেও তারা যে কারো না কারো মা,,,মায়ের মন যে কাদেই।,,,,৷৷,,,,, ,,,৷ ,,,,।।,,,৷।।

,,,,,,,,

ড.আরিশা এসে চেক করছে চড়ুই কে।একটু আগেই একটা ইনজেকশন পুশ করেছে।চড়ুই ছটফটানি বন্ধ করলো।চোখ গুলোও বুজে আসছে।বিরবির করছে,,, সবাই বুঝলে ঘুম নামছে চড়ুইয়ের চোখে।,,,,, সব শেষে ড.আরিশা বললো...

"খুব দুর্বল শরীর হওয়ায় ভারি আ্যলকোহলের চাপ নিতে পারে নি।ইফেক্ট করেছে পেটে।মনে হয় প্রথম বার ডিংকস করেছে তাই না?"

জুলেখা আর সাবিহা একে অপরের দিকে তাকালো।তারা বুঝতে পারছে না চড়ুই কখন ডিংকস করলো,,,ঘরে আসা পর্যন্ত তো ওরা দেখেছে পাখিদের, তাহলে?,,,আবিরের দিকে তাকাতেই দেখলো আবির রক্ত চক্ষু নিয়ে ফ্লোরে তাকিয়ে আছে।,,,ড.আরিশা বললো..

"ওকে আর কখনো ডিংকস করতে দেবেন না প্লিজ।এটা ওর ওপর পয়জনের মতো কাজ করবে।এখন আপাতত সব ঠিক আছে।কাল সকালের দিকে ঘুম ভাঙবে আশা করি।,,,মি:চৌধুরী,, আপনি পারলে বিয়ের ঝামেলা মিটে যাওয়ার পর ওকে একবার হসপিটাল থেকল পেটটা ওয়াশ করিয়ে আনবেন মেডিসিনের মাধ্যমে।,,,, "

আবির সংযত হয়ে বললো...

"ওকেয় ড."

আরিশা একটু হেসে সাবিহার দিকল তাকিয়ে বললল...

"এটাকে হয় আপনার মিসেস সাবিহা?"

সাবিহা কিঞ্চিৎ হাসলো।আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো...

"আমার আবিরের বউ।আমার মেয়ে হয় ওরা।"

ড. হেসে বললো..

"বাহ,মাশাআল্লাহ,, খুব মিষ্টি দেখতে আপনার বউ মা।তা শুধু কি এক ছেলেকেই এখন বিয়ে দেবেন?".

সাবিহা বললো..

" না না,,আমার দুই ছেলের বউই আছে এখানে।দোয়েল আম্মু?"

একি দোয়েল তো এখানে নেই।,,,জুলেখা বললো..

"সত্যিই তো,,বড় পাখিকে তো কোথাও দেখছি না?"

আবির বললো...

"বড় পাখি ভাইয়ের ঘরে আছে।আম্মু তুমি ড.আরিশাকে ওখানে নিয়ে যাও।ওকেও চেকআপ করা দরকার।"

জুলেখা বললো...

"সেকিরে,,ওর আবার কি হলো?"

আবির বললো..

"সব বলবো পরে মেঝো আম্মু,, "

জুলেখা বললো...

"ভাবি,তুমি থাকো এখানে,,আমি ড. আরিশা কে নিয়ে নিবিড়ের ঘরে যাচ্ছি। "

বলেই চলে গেলো দুজনে।

সাবিহা এসে চড়ুইয়ের আরেক পাশে বসলো।...

"আবির বাবা,,তুই যা,,, আমি না হয় চড়ুই আম্মুর কাছে থাকবো আজ।"

আবির বললো...

"না আম্মু,,,সারাদিন অনেক ধকল গেছে তোমার উপর।তুমি গিয়ে রেস্ট নাও। আমি থাকবো আমার চড়ুই পাখির কাছে।"

সাবিহা শক্ত কন্ঠে বললো...

"না আবির,,তোর এখানে রাতে থাকা লাগবে না।এতে চড়ুই আম্মুর ক্ষতি হতে পারে।"

আবির চকিত দৃষ্টিতে সাবিহার দিকে তাকালো..

"আম্মু?,,,আমি থাকলে আমার চড়ুইয়ের ক্ষতি হবে?মানে,,,কি?"

"আমি ঠিকই বলছি আবির।চড়ুই আম্মু অসুস্থ। তখন তুই নিজেই বলেছিস,,ঐ অবস্থা... "

আবির দ্রুততার সাথে বললো..

"আম্মু,,,তখন আমি ওর শারিটা খুলে রেখেছি,ও বমি করেছিলো বলে।তুমি গিয়ে দেখো ওর শারিটা।পুরো ভরে আছে।"

"কিন্তু ওর ব্লাউজটা ওরকম ভাবে?"

আবির নিচের দিকে তাকিয়ে বললো...

"আম্মু তখন আমি একটুর জন্য নিজেকে সামলাতে পারিনি।ওভাবে ওর সাথে আমি...,,,,তবে আম্মু,, আমি এখন কিছুতেই ওকে একা রেখে যেতে পারবো না।আবার ওর কিছু হলে,তখন কি করবল আমার চড়ুই পাখি?"

সাবিহা সরাসরি বললো..

"দেখ আবির,,,তুই নিজেই বলেছিস চড়ুই আম্মুকে তোর পছন্দ নয়।তাই আমি চাই না।তুই ওকে কোনো ভাবে ইউজ করে রেখে দিস।ওতে এই অবুজ মেয়েটার ভবিষ্যৎ খারাপ হয়ে যাবে.."

আবির অবাক হয়ে গেলো..

"এসব কি বলছো তুমি আম্মু?আমি আমার চড়ুইকে ইউজ করছি? তুমি আমাকে এতটা নিচ মনে করো আম্মু?আর আজ এত দিন এত কিছুর পরেও তুমি বুঝলে না যে আমি ওকেই বিয়ে করবো?"

"আমি চাই না আমার এই মেয়েটা কোনে ভাবে চেঞ্জ হোক।ও যেমব চটপটে,তেমন থেকে যদি...."

"ও বদলাবে না আম্মু,,,আমার উরনচন্ডী কখনোই শান্ত হবে নাহ।আমি কখনোই ওকল জোর করবো না।ভালোবেসে ফেলেছি আমি এই উড়নচণ্ডীকে।ও বদলালে যে আমিই সহ্য করতে পারবো না।,,,,"

"কিন্তু এখন এখানে... "

"আমিই থাকবো আম্মু,,,,তখন না হয় আমি পারিনি নিজেকে সামলাতে,,কিন্তু এখন আমি ঠিক আছি।তোমার আম্মুর কিছু হবে না আম্মু।তুমি জানো না ওর সাথে কি হতে যাচ্ছিলো।আমি ওকে একা রাখতে পারবো নাহ।আর একটা কথাও না৷ তুমি গিয়ে রেস্ট নাও। "

সাবিহা আর কথা বাড়ালো না,,, মুচকি হেসে বেরিয়ে এলো।সে ঠিকই বুঝতে পেরেছে তার ছেলেটাযে চড়ুইয়ের প্রতি দূর্বল। তবুও আবিরের মুখে শুনতে চেয়েছিলো সে।এখন শান্তি।কিন্তু কি হয়েছিলো চড়ুই আম্মুর সাথে?কাল জিসানের বিয়েটা মিটে যাক,,তারপর এসব নিয়ে কথা বলা যাবে।,,,

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::অবস্থা বেগাতিক দেখে সার্ভেন্টকে দিয়ে লেবুর শরবত আনিয়ে অনেক কষ্টে দোয়েলকে খাওয়ালো নিবিড়। কিছুক্ষন পরেই গড়গড় করে বমি করে ভাসিয়ে দিলো নিবিড়ের হলুদ পাঞ্জাবি। নিবিড় তাকালো দোয়েলের দিকে।একটা শ্বাস ফেলে বেসিন থেকে মুখ ধুইয়ে দিলো দোয়েলের।তারপর এনে বিছানার এক কোনে বসিয়ে বললো...

"চুপটি করে এখানো বসে থাকবে।কোথাও যাবে না,হুম?"

দোয়েল ঢুলতে ঢুলতে বাচ্চাদের মতো করে হেসে বললো..

"ওকেয়,, ভাইয়া,,,'"

নিবিড় হাসলো দোয়েলের বাচ্চামো দেখে।তারপর উঠে গিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো চেঞ্জ করতে।দোয়েলের হাবিজাবি বকবকানি শোনা যাচ্ছে। নিবিড় মুচকি হাসছে এমন কান্ডে।,,,,কিছুক্ষন পরে আর দোয়েলের কন্ঠ শোনা গেলো না।নিবিড় ভাবলো..

"কি হলো?চুপ করে গেছে কেন?বেরিয়ে গেলো নাকি,,, ইশশ দরজাটাও লক করে এলাম না।"তারাহুরো করে বেরিয়ে এলো নিবিড়।খাটে তাকাতেই থমকালো সে।নাহ,,দোয়েল কোথাও যায় নি।খাটের কোনেই গুটি শুটি হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।নিবিড় এগিয়ে গেলো।পাজা কোলে নিয়ে ঠিক করে শোয়ালো দোয়েলকে।কপালের এলোমেলো চুল গুলো ঠিক করে দিয়ে লো ভয়েজে বললো...

'"আমায় নিজের মাতলামো তে মাতাল করে এখন ঘুমিয়ে গেলে মিস এটম?কি দরকার ছিলো আমাকেও মাতাল বানানোর?খুব শান্তি তাই না?ঘুমাও,,তোমারই দিন কিনা।একবার বিয়েটা হতে দাও।তখন আমার দিন আসবে।"

একটু পরেই বাইরে থেকে আওয়াজ এলো...

"বড় পাখি ঠিক আছে নিবিড়? "

পেছনে তাকালো নিবিড়,,দেখলো জুলেখা আর ড.আরিশা দাড়িয়ে আছে।আরিশাকে চেনে ও।আগে অনেক বার দেখেছে দেশে থাকতে।নিবিড় ঠিক হয়ে বসলো,,,,ওরাও ভেতরে ঢুকলো। নিবিড় বললো...

"পাগলামো করছিলো এতক্ষণ। লেবুর জুস খাইয়ে দিয়েছি,,,বমি করে এখন ঘুমাচ্ছে। আরিশা দোয়েলের পাশে বসে অবাক হয়ে বললো...

" বাহ,,ছেলেদের মতো বউমারাও দেখছি টুইনস?সবাই বলবে Mr and Mrs twins"

বলেই হাসলো ড. আরিশা।জুলেখাও হাসলো।ড. দোয়েলকে চেক করে বললো..

"ভালো হয়েছে লেবুর জুস দিয়েছো।পেটে ব্যথা করেছে ওর?"

নিবিড় বললো..

'"নাহ,তেমন কিছু তো হয়নি।আর বলেও নি.."

"জুলেখা বললো..

" ওদিকল ছোটপাখির তো যা অবস্থা,, আবির তো পাগলের মতো বিহেভ করছে।,,"

নিবিড় বললো..

'"কি হয়েছে ছোট পাখির?"

আরিশা বললো..

"ওভার ডিংকসের কারনে সাইড ইফেক্ট করেছে।"

জুলেখা বললো...

"কিন্তু পাখিরা তো এমন নয়,,দেখে তো মনে হলো না ওরা ডিংকস করতে পারে।"

নিবিড় বললো...

"আমি জানি ওরা ইচ্ছে করে ড্রিংকস করেনি,,। এর পেছনে নিশ্চয়ই অন্য কিছু আছে।"

জুলেখা বললো...

"কিন্তু কি?"

"সেটা তো ওদের থেকেই জানা যাবে কাল সকালে।,,"

মি. এন্ড মিস. টুইন্স পর্ব ১৬ গল্পের ছবি