কথা মতোই দোয়েল গিয়ে সামনের ফ্রন্ট সীটে বসলো।নিবিড় আস্তে করে দোয়েলের দিকে ঝুকে বললো...
"বাহ,,ভাই বলাতে একটা টুও করলে না মিস এটম?আমি বললে এমন বম হয়ে যাও কেন?আমি কি পজেটিভ কিছু ভেবে নিবো?"
দোয়েল সরাসরি উত্তর দিলো...
"আমি প্রেম করতে ইচ্ছুক নই নিবিড় ভাইয়া।"
"তাহলে সরাসরি বিয়ে করতে চাও?"
দোয়েল থতমত খেলো।কি বলবে খুজে না পেয়ে পেছনে ফিরে বললো....
"বোন?সামনে এসে বসবি?"
চড়ুই কিছু বলার আগেই আবির বলে উঠলো....
"লাগবে না।তুমি বসো।"
দোয়েল আর কিছু বললো না,,,নিবিড় আবার ফিসফিস করে বললো...
"ভয় পাচ্ছো কেন এটম?আমি খুব ভালো ছেলে,,,এই গাড়িতে বাসর করবো না তো।"
দোয়েল নাক মুখ কুচকে বললো...
"ছিহ,কি সব বলছেন?"
নিবিড় হাসলো।সোজা হয়ে বসে উচু কন্ঠে বললো....
"তোদের হলো?'"
আবির বললো...
ওয়েট কর
,,,,তারপর মাঝখানের সিটে বসে থাকা চড়ুইকে বললো...
"পেছনে যাও"
চড়ুই নাকোচ করে বললো...
"পাগল আমি?ওখানে বসবো?আর মাত্র খেলাম।এখন ওখানে বসলে তো...."
কথা কেড়ে নিয়ে আবির বললো....
"বমি হবে,,বাচ্চা তো আর হবে না,,,,"
চড়ুই না বুঝে বললো...
"আ্যা!!"
সামনে থেকে তাসান হেসে বললো...
"পাখি তুমি চাইলে, আমি বাচ্চা হওয়ারও ব্যবস্থা করতে পারি।"
আবির রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো তাসানের দিকে।তবে তাসান সেটা দেখলো না।আহিশ হালকা হেসে বললো....
"তাসান ভাই?তোমার কপালে শনি নাচছে।"
তাসান বললো...
"ও আমার না আহিশ,,,শনিকে তো আমিই নাচাই,,,তাও অন্যদের মাথায়।"
জেসি বললো...
"দেখাই যাবে।"
সানিয়া ফট করে বললো...
"আবির,,আমি আসছি পেছনে হ্যা,,,"
আবির ফটাফট বললো...
"যার তার গায়ের গন্ধ আমার সহ্য হয় না।"
উঠতে গিয়েও থেমে গেলো সানিয়া।চড়ুই ফিক করে হেসে দিলো।সাথে জেসি,আহিশও।দোয়েলও মুচকি হাসলো।মুনিয়া বললো...
"পাখি আমাদের সাথেই বসুক না,,,"
আহিশ পেছন থেকে বললো...
"চারজন কি তোমার মাথায় বসাবে মুনিয়াপু?"
আবির বললো...
"আমি চাই না চড়ুই পাখির গায়েও কোনো বাজে গন্ধ লাগুক।"
আর কিছুই বলার মুখ রইলো না সানি মুনির,,,আবির কঠিন কন্ঠে বললো....
"পেছনে যাও চড়ুই পাখি"
চড়ুই বুকে দু হাত গুজে বললো...
"নো ওয়ে,,!"
আবির একটা নি:শ্বাস ফেললো।তারপর শার্টের হাতা গুটিয়ে বসা থেকে চড়ুইয়ে কোলে নিয়ে পেছনের সীটে ছুড়ে মারলো।ঘটনার আকস্মিকতায় চড়ুই কিছুই বুঝলো না।যখন বুঝলো তাকে ছুড়ে মারা হয়েছে তখন মা গোহ বলে উঠলো। ততখনাৎ আবির তার পাশে বসে দরজা বন্ধ করে বললো...
"স্টার্ট দে ভাই"
নিবিড় সম্মতি জানালো।গাড়ি চলছে নিজ গতিতে।চড়ুই একবার একপাশে থাকা আহিশের দিকে তাকালো।ব্যাটা ফোনেই ব্যস্ত।এবার আবিরের দিকে তাকিয়ে কটমট করে বললো...
"এই আমাকে ছুড়ে ফেললেন কেন?কোমরতো ভেঙু গেলো আমার।এখন আপনি মালিশ করবেন নাকি হ্যা?কি ভেবেছেন,,আমি আপনার মতো থলে নাকি,,,যে ছুড়ে ফেললেই হলো?"
আবির কিছু বললো না।সামনে তাকিয়েই পেছনদিক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে চড়ুইয়ের কোমর পেচিয়ে ধরে নিজের দিকে টান মারলো।তা দেখে চড়ুই রেগে বললো...
"ওফহ,,,কি করছেন এবার?"
আবির স্বাভাবিক কন্ঠেই বললো...
"মালিশ"
বলেই চড়ুইয়ের কোমরে আলতো করে একটা চাপ দিলো।,,,থমকে গেলো চড়ুই,,তাকালো আবিরের দিকে।কেমন যেন লাগছে তার।একিহ!ঘামছে সে,,, এবার তো নিশ্চিত বমি হবেই।চড়ুই হাসফাস করতে লাগলো....
তা দেখে আবির বাম হাত দিয়ে চড়ুয়ের মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরলো,,আর বললো....
"চোখ বন্ধ করে রাখো।আর বমি বমি ভাব লাগবে না।"
চড়ুই তাই করলো।কিচ্ছু বললো না।,,,,সানি মুনি,,তাসানরা ননস্টপ কথা বলেই যাচ্ছে। তবে একটা কথাও প্রাসঙ্গিক নাহ।,,, কিছুক্ষণ পর চড়ুই বলে উঠলো...
"জানেন মি:ব্যবসার থলে,,, আপনার গায়ের ঘামের গন্ধটা না বেশ ভালো। ঘামের সাথে কি মিক্স করেন? আমাকে বলুন তো,,আমার তো নিজের ঘামের গন্ধ নিজেরই সহ্য হয় না।"
আবির মুচকি হাসলো।তার চড়ুই পাখি যে তার প্রতি বেশ আকৃষ্ট হচ্ছে তা ঠিকই টের পাচ্ছে সে নিজে।তাই মন থেকে চাইলল,,আরো কিছু বলুক তার চড়ুই পাখি।,,,প্রিয় মানুষটির মুখে প্রসংশা যে একটু বেশিই ভালো লাগে।, কিন্তু সেটা আর হলো না।ফোড়ন কাটলো সানিয়া....
"ওমা,,কি বলে এই মেয়ে? কারোর ঘামের গন্ধও বুঝি ভালো হয়?,,,ছিহ"
চড়ুই চোখ খুলে বললো...
"ওহ, আপু,,আরেকটা কথা মনে পড়লো।,,,তুমি গায়ে কি মাখো গো?গরুর বিষ্ঠা,?"
সানিয়া নাক কুচকে বললো...
"ওয়াট,,,কি সব বললো,,৷ আমার ফার্ফিউম ইটালি থেকে আনা।হুহ,,,"
চড়ুই বিজ্ঞদের মতো বললো...
"ওওও বুঝলাম।,,,আপু,,তার মানে তুমি জানো না।ইটালিতে মনে হয় গরুর বিষ্টাকে ফারপিউম বলে চালিয়ে দেয়।আচ্ছা,,তুমি শুধু শুধু খরচ করবে কেন?কোনো একটা গোয়াল ঘর থেকে গরুর বিষ্টা এনে গায়ে মাখলেই তো হয়।"
সবাই ফিক করে হেসে দিলো। সানি রেগে বললো....
"ওয়াট রাবিস,,,এই মেয়ে কি বলছো তুমি এসব?"
চড়ুই বললো...
"ওমাহ,,আমি আবার কি বললাম,,,তখন তোমার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় গন্ধটা পাই,,,,তখন ভাবলাম তুমি হয়তো পেদে দিয়েছো,,,,তাই কিছু বললাম না।কিন্তু পরে বুঝলাম যে তখন তুমি পাদো নি,, এটা তোমার গায়েরই গন্ধ। ওহ,,,I have a more question আপু,,,তোমার শরীর থেকেই যদি এমন গরুর বিষ্ঠার গন্ধ বের হয়,,তাহলে তোমার পাদের গন্ধ টা কেমন গো?,,,মানুষের বিষ্ঠার গন্ধের মতো?"
এবার সবাই হুহা করে হেসে দিলো৷,, তাসানরাও হাসছে।দোয়েলও মুখ টিপে হাসলো, তবে একটু পরে কিছু একটা ভেবে চড়ুইকে ডাকতে যাবে,,তার আগেই নিবিড় ইশারায় না বোঝালো।এরপর আস্তে করে বললো...
"বলতে দাও, আটকিও না ছোট পাখিকে। "
এরপর গলা উচু করে বলল....
"উপহ ছোট পাখি,,,তোমার নাম তো চড়ুই না হয়ে তোতা বা ময়না হওয়া উচিৎ ছিলো। ইসস কেন যে রাখলো না?"
চড়ুই ভেবে বললো...
"ঠিক বলেছো ভাইয়া,,,,, কে যে আমার এই নাম রাখলো?""আবির একটা নিশ্বাস ছাড়লো...
"কবে যে এই মেয়েটা একটু মানুষ হবে,,,"
কাটলো আরো কিছু সময়।কিছুক্ষন পরেই হঠাৎ নিবিড় গাড়ি থামিয়ে নেমে গেলো।আবার ফিরেও এলো,,তবে হাতে দুটো বেলি আর গোলাপ মিশ্রিত গাজরা।সীটে বসেই হঠাৎ দোয়েলের বাম হাত টেনে একটা গাজরা হাতে পড়াতে লাগলো।তা দেখে দোয়েল বললো....
"কি করছেন?"
"চুপ থাকো।"
এসব দেখে সানিয়া রাগে ফুসছে।আর তাসান ভাবছে..
"করে নাও নব্বই দশকের রোমাঞ্চ নিবিড়,,করে নাও।আমার তো এই পাখি গুলাকে যাস্ট ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের জন্যই লাগবে।এর বেশি আর নাহ,,,"
সানিয়া মেকি হেসে বললো...
"নিবিড়,,, আমার জন্য আনোনি?একটা নিয়ে আসো না প্লিজ।"
মুনিয়া বলে উঠলো...
"আরে আপু,,ঐ দেখো আরেকটা এনেছে,,,ওটা তোর জন্য মে বি।"
নিবিড় যেনো ওদের কথা কানেই নিলো না।দোয়েলের হাতে আরেকটা গাজরা দিয়ে বললো,,
"এটা ছোট পাখিকে দিয়ে দিও পরে।"
লজ্জা পেলো সানি মুনি,,,আহিশ আর জেসি ফিক করে হেসে দিলো,,,
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,৷
সময় বহমান,,,কেটে গেলো আরো কয়েকটা দিন।এই কয় দিন আবির বা নিবিড় বাড়িতেই থেকেছে।অতি প্রয়োজন ছাড়া অফিসে যায়নি।আর গেলেও দুজন একত্রে যায় নি।কেউ না কেউ রয়েই গেলো পাখিদের দেখে রাখার জন্য। সানিয়া এখনো নিবিড়ের সাথে চিপকে আছে।তাসানরা বারবার পাখিদের এটেনশন নেওয়ার চেষ্টা করেই যাচ্ছে। তবে সফল কিছুতেই হচ্ছে না।দোয়েল ইচ্ছা করেই তাদের পাচ ভাই বোনকেই ইগনোর করছে,,আর চড়ুই,,,সেতো কথার মাঝে মাঝে এমন ভাবে নিজের অজান্তেই তাসানদের লজ্জা দিয়ে দেয় যে তাসানরা তখন সেই স্থান ত্যাগ করা ছাড়া আর উপায় পায়না।,,,,, গতকাল আরো অনেক আত্মীয় এসেছে,,আজও আসছে।অনেকের সাথেই সখ্যতা হয়ে গেছে পাখিদের।তবে ভালো লাগেনি কয়েকজনকে।তারা হলো জিসানের তিন মামি মানে সানি মুনির মা,,তাসানের মা আর রবিন,ওমরের মা।তবে তাদের বাবারা একদম বিনয়ী। এছাড়াও অপছন্দের তালিকায় পরেছে আবিরদের বড় ফুফু আর তার মেয়ে ইরিন।,,,,,,,,,আজ জিসান আর বিপাসার বিয়ের আগের দিন।গতকাল অনেক রাত পর্যন্ত ছেলেরা সবাই মিলে ব্যচেলরস পার্টি করেছে।আজ সকালে সংগীত, আর সন্ধ্যায় হলুদ ছোয়া।বিপাসাদের বাড়িতে মেহেন্দি হচ্ছে। তবে এটা যেহেতু ছেলের বাড়ি, তাই এখানে তা স্কিপ করেছে।,,,দুপুর আড়াইটা।সব মেয়েরা হাতে মেহেদী লাগিয়েছে।কাউ কাউকে দোয়েল লাগিয়ে দিয়েছে চড়ুই আবার এই কাজে অষ্টরম্ভা। তাকেও দোয়েল দুহাত ভরে লাগিয়ে দিলো।এবার দোয়েল নিজে অন্য মেয়েকে দিয়ে লাগাচ্ছে। সকালে সংগীতের জন্য সবাই ড্রেসকোড মেনে চলেছে।এটাও ইভেন্টের একটা অংশ।ছেলেরা সবাই ডিজাইনিং ফুল স্লিভ ফতুয়া আর ধুতি সেলোয়ার পড়েছে।আর মেয়েরাও একই রকম কাজ করা ধুতি সেলোয়ার-কামিজ পড়েছে। এখনো সবাই তাই পরে আছে।পুল সাইডে বসে আছে সবাই।,,,,কিছুক্ষণ পর সাবিহা হাতে এক প্লেট ভাত এনে তারাহুরো করে পাখিদের খাইয়ে দিতে লাগলো,,আর বকতে লাগলো....
"সেই সকালে কি না কি খেয়েছে,,আর এতক্ষণ খালি পেটে,,তোদের দু বোনের কি খিদে পায়না নাকি রে?সবই ঠিক রাখিস, অথচ খাওয়া নিয়ে কোনো খেয়ালই নেই।"
চড়ুই খেতে খেতে বলে উঠলো...
"আন্টি,,,বকছো কেন?মেহেদী লাগাচ্ছি তো।"
"হ্যা তো?তাই বলে খাবি না?আমার ছেলে গুলোও হয়েছে এক।কোথায় আমার দুই মেয়ে না খেয়ে আছে তাদের দেখবে,,না,, বেপাত্তা ছেলেগুলো।"
দোয়েল হাসলো,,,এই মহিলাটা এই ক দিনে পাখিদের অনেকটা আপন করে নিয়েছে।অচেনা কেউ দেখলে প্রথমেই বলবে পাখিরা তারই মেয়ে। ইতোমধ্যে অনেকেই পাখিদের জিজ্ঞেস করে ফেলেছে..
"তোমার মাকে ডাকো তো?"
"তোর মাকে বল, আমি ডাকছি তাকে"
"তোদের আম্মু কোথায়,, ডেকে দে তো"
,,,,খাইয়ে দিয়ে আবার চলে গেলো সাবিহা।,,,চড়ুই তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আপন মনে দোয়েলকে বলে উঠলো...
"আচ্ছা বোন?এই আন্টি আমাদের সত্যিই মা হলে কি খুব খারাপ হতো?"
দোয়েল তাকালো বোনের দিকে।এই ইচ্ছেটা যে তার মনেও উকি দিয়েছে।তবে যা কখনো হওয়ার নয় তা নিয়ে ভাবতে চায়না দোয়েল । সে তো স্ট্রং তাই না?নিজের আবেগ গুলোকে তো সামলাতেই হবে তাকে,,,,, দোয়েল হাসলো,,তবে কিছুই বললো না।,,,