ঝিলমিল যতটা ব্যথা গেল, তারচেয়ে বেশি চমকে গেল। তার গোলাপ ফুলের মত চকচকে চেহারায় মালিন্য স্পর্শ করল। কলজে মোচড়ানো ব্যথা নিয়ে করুণ মুখে উঠে দাঁড়াল। বিষাদী চোখেমুখে বলল, 'তুই এত নিষ্ঠুর! এইভাবে ফেলে দিলি আমাকে?'
রোদ্দুর ঝিলমিলের ভুল শুধরে দিয়ে বলল, 'ফেলে দিই নাই ছেড়ে দিয়েছি।'
'আমি পড়ে গেলাম তো। আমার চাচা-চাচি তো এত নিষ্ঠুর নয়। তাদের ঘরে এই জাঁদরেল? বিশ্বাস হয় না। আমি শিওর তোকে কুড়িয়ে পেয়েছে। অসভ্য অভদ্র কোথাকার! তুই আর আমার ধারেকাছেও আসবি না। দশ হাত দূরে থাকবি। দরকার হলে আমি এই ঘরের মধ্যে দাগ টেনে তোকে আর আমাকে আলাদা করব, হুহ!' ঝিলমিল ক্ষেপে কথাগুলো বলল।
রোদ্দুর সামনাসামনি মাথা ঝাঁকালেও মনে মনে বলল অন্য কথা, 'ভাগ্য যাদের এক করে দেয় তাদের আলাদা করা তোর মত পুঁচকের কাজ নয়। তোর দ্বারা কোমড় বেঁধে ঝগড়া করাই মানায়। তুই তোর কাজ কর আমি এভারেস্ট জয় করতে যাই আমি বউয়ের মন জয় করতে যাই।'
রোদ্দুরের সাথে যাই হয়ে যাক না কেনো, এখানে এসে ঝিলমিল নিজেকে খুঁজে পেয়েছে। ওইখানে দমবন্ধ করা একটা অবস্থা হয়ে গেছিল। এইজন্যই বুঝি বলে, বিয়ের পর মেয়েদের আসল ঘর হচ্ছে স্বামীর ঘর! দু'জনের বিয়ে হয়েছে ঠিক'ই কিন্তু পারস্পরিক বোঝাপড়া হয়ে ওঠে নাই পুরোপুরি। রোদ্দুর তাও বুঝতে চেষ্টা করে কিন্তু ঝিলমিল যখন বুঝতে যায়, রোদ্দুরের কথাবার্তার মাত্রা উপলব্ধি করতে যায় তখন মনে পড়ে সানিয়ার কথা। সেটা আর সহ্য হয় না।
রোদ্দুরের অস্বস্তির পরিমাণ বাড়ছিল। বিষন্ন এবং দুঃখ জড়ানো সময়গুলো কাটতে চাইছিল না। কেমন যেনো মনমরা লাগছিল সবকিছু। ঝিলমিলকে ছাড়া তার এমন একটা মুহূর্ত হবে, কল্পনাও করতে পারে নাই। সেখানে বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডাও জমতো না। পিছুটানের শেকলে বাঁধা পড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিল। অস্থির এবং বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে রাতে ঘুমাতে যেত কিন্তু চোখে ঘুমের কোনো রেশ মাত্র ছিল না। তখন নির্ঘুম রাতে ভাবতে বসতো সানিয়ার কথা। জীবনের প্রথম প্রেম, ভালোলাগা তবে কোনোভাবেই ভালোবাসা নয়। ভালোবাসা সে এখন উপলব্ধি করতে পারছে। সানিয়া অসম্ভব সুন্দরী ছিল; কথাবার্তায়, কাজেকর্মে সবদিকে পটু। তবে নিজের অনুভূতি খুব সহজে প্রকাশ করত না অর্থাৎ চাপা স্বভাবের মেয়ে ছিল। ওইদিন যদি তানভীরের বিষয়টা নিয়ে ও বাড়াবাড়ি না করত তবে আজ রোদ্দুর হয়তো তার সাথেই থাকতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসহ্য মনে হলেও তখন তা মেনে নিতে হতো।
এইদিকে ঝিলমিল হচ্ছে দিলখোলা ধরণের মানুষ। মনের ভেতর দুঃখ, কষ্ট, হাসি, আনন্দ চেপে রাখতে পারে না। কান্নার প্রয়োজন পড়লে কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাবে। রাগ, দুঃখ সব উজাড় করে দিবে। রোদ্দুর'ও তাই চায়। সে রেগে ঝগড়া করুক, দুঃখ পেয়ে সুখ খুঁজতে আসুক, কষ্ট প্রকাশের জন্য চিৎকার করে কান্নাকাটি করুক, অনুভুতির ডানা মেলে দিক, ভালোবাসায় দিশেহারা হয়ে যাক। ঝিলমিলকে এইভাবেই মানায়, বেশি মুডি হলে ওকে বড্ড অচেনা মনে হবে, দূরের মানুষ মনে হবে।
ঝিলমিল পাশে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। ঘুমন্ত নগরীর অঘোষিত রাজকুমারীর মুখের দিকে চেয়ে রোদ্দুরের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ভেসে এলো। দীর্ঘশ্বাসের কারণটা অজানা রয়ে গেল। রোদ্দুর বালিশে হেলান দিয়ে গালে হাত রেখে তার সামনে থাকা অপরূপা মেয়েটার দিকে সম্মহিতের মত তাকিয়ে রইল। তৃষ্ণার্ত মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টি এলে যেমন সব হারিয়ে তা আনন্দে দিগ্বিদিক হারিয়ে জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে, সব ভুলে যায় রোদ্দুরের অবস্থাও এমন হলো। একটা ঐন্দ্রজালিক মুহূর্ত তার সবদিক এলোমেলো করে দিল। রোদ্দুরের ভীষণ ইচ্ছে করছিল ওকে একটুখানি ছুঁইয়ে দিতে। নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করেও ওই রূপকে না ছুঁয়ে থাকতে পারল না। তার দৃষ্টিতে ছিল হাজার বছরের তৃষ্ণা, বুকে জমাট বাঁধা ভালোবাসা। মনের শাসন বারণ অমান্য করে তীব্র নেশায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ওর দু'চোখের পাতায় দীর্ঘ চুমু খেল।
.
ঝিলমিলের প্রতি রোদ্দুরের যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা তা সে একবার প্রকাশ করে দিয়েছে। কিন্তু ঝিলমিলের দিকে থেকে হ্যাঁ/না কিছুই আসে নাই। কিন্তু রোদ্দুর বলেছে, সে অপেক্ষা করবে। তবে উপর উপর ঝিলমিলের সাথে যে ফাজলামি করে, তা না করলে তার শান্তি লাগে না ইদানিং। আজ'ও অফিসে যাওয়ার আগে রেডি হয়ে একটা আকাম করে গেল। ঝিলমিল তখনও ঘুম থেকে উঠে নাই অথচ রাতে ঘুমিয়েছে কত আগে! রোদ্দুর তাকে ডেকে দিয়ে গেছে এবং গায়ের উপর থেকে কম্বলটাও সরিয়ে দিয়েছে। ঝিলমিল বিরক্তবোধ করলেও কিছু বলল না, পাত্তাও দিল না। রোদ্দুর বেড়িয়ে যাওয়ার অনেকক্ষণ পর উঠে বসল। ঘরের জানালা দরজা খুলে দিল। ফ্রেশ হয়ে ঘরে ঢুকতেই খিদে টের পেল। পেটের মধ্যে চো চো করছে। ঝিলমিল দেখল, টেবিলে খাবার রেডি করাই আছে। ঢাকনা তুলে দেখল, পাউরুটি এবং জেলি। মুখ বেজার করে রুটিতে পরপর দুটো কামড় দিতেই মনে হলো সেটা মুখের মধ্যে জ্বলে উঠল। হাঁসফাঁস করতে করতে ঝিলমিল মাথায় দু'টো থাবড়া মেরে বলল, 'এটা কোন কোম্পানির জ্যাম, এত ঝাল কেনো?'
ঢকঢক করে কয়েক গ্লাস পানি খেয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে পর্যবেক্ষণ করে দেখল, এটা আসলে কোনো জ্যাম না। এটা গুঁড়া মরিচ দিয়ে কিছু একটা বানিয়েছে। নিশ্চয়ই রোদ্দুরের কাজ! রাগে, দুঃখে, হতাশায় ঝিলমিলের নিজের মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করল। কিন্তু চুলগুলো'ও ঘোড়ার লেজের মত একটুখানি হয়ে গেছে, তাই যার রাগ তার উপর'ই ঝারার সিদ্ধান্ত নিল। ফোনটা হাতে নিয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে টাইপিং করল, 'অ্যাই রোদ্দুরের বাচ্চা!'
রোদ্দুর ওর মেসেজের অপেক্ষাতেই ফোন হাতে নিয়ে বসে ছিল বোধকরি। সে তৎক্ষণাৎ রিপ্লাই দিল, 'আই এম ওয়ান এন্ড অনলি আহসানুল সরকার রোদ্দুর। আই হ্যাভ নো বাচ্চাকাচ্চা।'
'তুই এতো খারাপ কেনো? ঠিক আছে, আজকে এটা করলি না। দেখিস তোর সাথে আমি কি করি!'
'ওমা আমি আবার কি করলাম?'
'কিচ্ছু করিস নাই শুধুমাত্র আমায় আপ্যায়ন করার জন্য মরিচের জ্যাম বানিয়ে রেখে গেছিস। খুব ভালো করেছিস। অনেক মজা করে খেয়েছি। তোর আপ্যায়নে আমি আপ্লুত। এরপর আমি তোকে কীভাবে আপ্যায়ন করব, তাই ভাবতেছি।' ঝিলমিল একনাগাড়ে টাইপিং করল।
রোদ্দুর একা একাই হো হো করে হেসে উঠল। খুব সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে মাথায় এই দুষ্টু বুদ্ধিটা উঁকি দিল। তাই ঝটপট রান্নাঘরে গিয়ে পানি গরম করে তাতে কৌটার সবটুকু গুঁড়া মরিচ ঢেলে, একটা স্পেশাল পাউডারের সাহায্য বানিয়ে ফেলল টুকটুকে লাল গুঁড়া মরিচের জ্যাম।
রোদ্দুর রিপ্লাই দিল, 'কত কষ্ট করে তোর জন্য বানালাম। আর তুই এভাবে বলছিস? আমার প্রতিভার দাম'ই দিলি না। পৃথিবীতে আর কোনো হাজব্যান্ডকে দেখেছিস বউয়ের জন্য এত ভাবে? কষ্ট করে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্পেশাল খাবার রেডি করে রাখে। দেখেছিস বল, দেখেছিস কখনো?'
'না, এইবার দেখে নিলাম এবং শিখেও নিলাম।' হাত থেকে ফোন রেখে ঝিলমিল ঘর জুড়ে পায়চারি করতে লাগল, কীভাবে রোদ্দুরকে জব্দ করা যায়। কিন্তু কোনো উপায় খুঁজে পেল না। থাক, আজকের দিনটা যাক। পরে ভেবে দেখবে। ঝিলমিলের মনে পড়ল, সামনের সপ্তাহে রায়হান ভাইয়ের বিয়ে; সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, কেনাকাটা করতে হবে। ইয়েস..... মিশন রোদ্দুরের পকেট কাটা!
.
সন্ধ্যার পর রোদ্দুর বাড়ি ফিরতেই ঝিলমিল ওর হাতে বড়সড় একটা লিস্ট ধরিয়ে দিল। রোদ্দুর বাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, 'এটা কি জিনিস? খায় না মাথায় দেয়?'
'পড়াশোনা পারিস না? পড়ে দেখ।'
লিস্টটা হাতে নিয়েই রোদ্দুরের ভুরু কুঁচকে গেল। এমন এমন সব জিনিস, যার নাম জীবনেও শোনে নাই।
রোদ্দুর ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে বলল, 'এগুলো কি আজিব আজিব নাম? শাড়ি ব্ল্যাক ঠিক আছে কিন্তু মাইসোর সিল্ক ব্ল্যাক কি? এগুলার নাম'ই তো শুনলাম না কোনোদিন। আমি তো রং বলতে সাদা, কালো, গোলাপী, হলুদ, সবুজ, নীল, লাল এগুলোকেই বুঝি কিন্তু এখানে লিপস্টিকের কি কালার লিখেছিস এটা? রেভলন ফ্রস্ট কি?'
তাকে বড্ড হতাশ দেখাল। এছাড়াও ঝিলমিল আরও অনেককিছুই লিখেছে, হাতেগোনা দুই একটা নাম রোদ্দুর শুনেছে; বাকিগুলো.... হতাশ, সে আসলেই হতাশ।
ঝিলমিল বলল, 'তোকে বুঝতে হবে না। আমাকে শপিংয়ে নিয়ে চল, আমি সব চিনিয়ে দিচ্ছি।'
'হুঁ। এটাই বাকি আছে এখন। এমনভাবে আরেকজনের বিয়ের জন্য শপিং করছিস যেন নিজের বিয়ে! নিজের জন্য কিছু বাকি রাখ।'
'সেসব নিয়ে তোকে এখন ভাবতে হবে না। এখন আমাকে এসব কিনে এনে দে।'
'আমি যদি দোকানে গিয়ে এই লিস্ট দেখাই তবে দোকানদার কি আসলেই আমাকে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ ভাববে? মানে, এই জিনিসগুলো আদৌ আছে পৃথিবীতে? আমাদের দেশে? গোলাপি শাড়ি, লাল লিপস্টিক, লাল শ্যাডো-ফ্যাডো আনলে হয় না।'
ঝিলমিল চোখ নাক মুখ একসাথে কুঁচকে বলল, 'ইয়ে.... ছিঃ। তোর ড্রেসিং সেন্স এত বাজে। তুই যেভাবে বললি ওইভাবে সাজলে আমাকে পুরো জোকারের মত লাগবে।'
'শোন.. আমি বলি তোকে, বোঝার চেষ্টা কর। তুই যেসব সাজগোজের জিনিসের নাম উল্লেখ করেছিস সেসব দিয়ে সাজলে তোকে জোকার জোকার লাগবে। তুই তো একটা মানুষ নাকি! তো এসব ডাইনোসর না মাইসোর এসব পড়বি কেনো?'
ধুর, এই গাধাকে বোঝানোর কোনো মানেই হয় না। ঝিলমিল হাল ছেড়ে দিয়ে বলল, 'কঞ্জুস কোথাকার! কিচ্ছু লাগবে না আমার। তোর কিছুই কিনে দিতে হবে না। আমি তোর বন্ধুর বিয়েতেও যাব না, কোথাও যাব না। অসহ্য একটা। আমি বিগত কত বছর যাবত সাজগোজ করে আসছি, আমি জানিনা আমাকে কেমন দেখাবে! উনি আসছে বর্ণনা দিতে।'
রোদ্দুর ঝিলমিলের হাত ধরে টেনে নিয়ে এসে বলল, 'আমি যে তোকে মনে মনে কল্পনা করেছি।'
ঝিলমিল এক ঝটকায় নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে রোদ্দুরের বুকে ধাক্কা মেরে বলল, 'যাহ।'
রোদ্দুর ইচ্ছে করে বিছানায় উল্টে পড়ে গিয়ে বুকে হাত রেখে বলল, 'আয়হায়, বউয়ের জ্বালা বড় জ্বালা।'
.
পরদিন ঝিলমিল ক্লাসে গেল। গতকাল থেকে রোদ্দুরের সাথে আর কথা হয় নাই। রাগ করে আছে, ব্যাডা রাগের মর্ম বুঝুক একটু। ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরল'ও একা একা। বাড়ি ফিরে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে নিজের এলোমেলো কাপড়-চোপড় গুলো গুছিয়ে রাখল। সব কাজ শেষে ফোন হাতে নিয়ে শুয়ে পড়ল। বাড়িতে কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ল। যখন ঘুম ভাঙ্গল তখনও ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। উঠে বসল, রোদ্দুর এখনও বাড়ি ফেরে নাই। ঝিলমিল ফোন হাতে নিয়ে ফোন করতে যেতেই মনে পড়ল, ওর সাথে তো কথাই বলবে না তবে আর ফোন করবে কেনো? আবার কখনো সে সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরে না, আজ অনিয়ম বলে একটু চিন্তাও হচ্ছে। ঝিলমিল বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। এইদিক থেকে রাস্তার একাংশ দেখা যায়। ঝিলমিল ঠোঁট উল্টে রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। একবার ঘড়ির দিকে তাকায় আরেকবার রাস্তায়। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে করতে একটা মেসেজ পাঠাল।
মেসেজটা এইরকম, 'বাড়িতে কখন আসবি? কে যেনো এসেছিল তোর খোঁজ করতে।'
মানে সে ভাঙবে তবুও মচকাবে না। রোদ্দুর অবশ্য মেসেজের রিপ্লাই দিল না। এইদিকে ঝিলমিল এইবার থাকতে না পেরে ফোন'ই করল। কিন্তু কয়েকবারেও সে ফোন রিসিভ করল না। পাল্লা দিয়ে ঝিলমিলের চিন্তার পরিমাপ'ও বাড়তেছে। এমন কারো অর্থাৎ রোদ্দুরের সাথে যাদের সম্পর্ক তাদের ফোন নম্বর'ও নে যে ফোন করে খোঁজখবর করবে।
রোদ্দুর ওকে একা প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে যেতে মানা করে দিয়েছে। কিন্তু ঝিলমিল ঘরের মধ্যে বসে থেকে টেনশনে আর মাথা ধরাতে পারবে না। অলরেডি মাথা ব্যথা হয়ে গেছে। ও ঘর লক করে চাবি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল। লিফটের অপেক্ষা না করেই দ্রুত পায়ে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে সোজা মিনিট দশেকের মাথায় চৌরাস্তার মোড়ে চলে এলো। বেশিরভাগ সময় ও এখানেই থাকে বন্ধু-বান্ধবের সাথে। কিন্তু আজ তার টিকির সন্ধান'ও পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়িতেও ফোন করছে না, নির্ঘাত সকলে টেনশন করবে। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে, ফোন করে নয়টা নাগাদ ঝিলমিল বাড়ি ফিরে এলো। এইবার সত্যিই মাথা ঘুরাচ্ছে ভনভন করে, টাল সামলে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। এইভাবে কতক্ষণ কেটে গেল জানা নেই। চিন্তায় চিন্তায় অস্থির সে। এমনিতেই পত্রিকায়, ফোনে নিউজে কত আজেবাজে খবর দেখে। এখন এই দুঃসময়ে সেসব মাথায় উঁকি মারছে। ঝিলমিল আবার ফোনে ডায়াল করল কিন্তু এইবার ফোনটাই অফ।
অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর, বেশ রাত হওয়ার পর ঝিলমিলের মনে হলো এখন বাড়িতে জানানো উচিত। তাড়াহুড়ো করে ফোন করতে যেতেই হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল। ওমনি ঝিলমিল ফোন বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দরজার দিকে দৌড় দিল। কোনোকিছু চিন্তাভাবনা না করেই দরজা খুলে দেখল রোদ্দুর দাঁড়িয়ে আছে। স্বপ্ন না সত্যি ঝিলমিল বোঝার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। সে এগিয়ে গিয়ে রোদ্দুরের বুকে আঁছড়ে পড়ে কান্না করে দিল।
.