ঝিলমিল রোদ্দুরে

পর্ব - ৩৩

🟢

রোদ্দুর ধীর পায়ে এগিয়ে গেল ঝিলমিলের দিকে। ওর মাথার কাছে বসে আলতো করে কপালে হাত রাখল। কিছুক্ষণ মন দিয়ে ওকে দেখল। কত কালের পরিচিত অথচ ঝিলমিলের গালে যে একটা তিল আছে, সেটাও আজ অবধি খেয়াল করে নাই। ও আগে থেকেই একটু কায়দা করে কথা বলা চটপটে, হাসিখুশি ধরণের মেয়ে। কিন্তু ইদানিং স্বভাবে একটু ন্যাকামিও চলে এসেছে। অবশ্য রোদ্দুর খেয়াল করে দেখেছে, সেই ন্যাকামিটা শুধুমাত্র তার বেলাই খাটে; অন্য কারো ক্ষেত্রে নয়। আর তেজ? সেটা তো মায়ের পেটে থাকতেই রপ্ত করেছে। রোদ্দুর অনিমিখ চেয়ে দেখছিল; ওর ঘুমন্ত মুখটা, টানা টানা চোখ, ঠোঁট! প্রতিটা মানুষের'ই একটা নিজস্ব ধরন থাকে, ও বাচ্চাদের মত গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। আচমকা ‌ ঝিলমিল চোখ মেলে তাকাল। তৎক্ষণাৎ জিজ্ঞেস করল, 'এইখানে কি করিস তুই?'

রোদ্দুর দপ করে নিভে গেল। মনের মধ্যে যা একটু রোমান্টিকতা উঁকি দিচ্ছিল, তা এক দৌড়ে ছুটে গেল। মাথা চুলকে বলল, 'কিছু না।'

'তো বসে আছিস কেনো?'

'আশ্চর্য! আমি বসতে পারব না? পুরো বিছানা তো নিজে দখল করে রেখেছিস কিছু বলেছি?'

ঝিলমিল উঠে বসে বালিশে হেলান দিয়ে বলল, 'এক কাপ চা খাওয়াতে পারবি? না বলবি না কিন্তু, আমিও তোকে অনেকবার চা বানিয়ে খাইয়েছি‌।'

'ও ঋণ শোধ করতে হবে?'

কথার মাঝখানে মা ঢুকল ঘরে চা নিয়ে। ঝিলমিলের সাথে তাকে কথা বলার স্পেস দিয়ে রোদ্দুর বেরিয়ে পড়ল। তিনি অবশ্য বলছিলেন, 'আমি তো তোদের জন্য চা নিয়ে এলাম। তুই যাচ্ছিস কোথায়? তোর যেতে হবে না, আমি চলে যাচ্ছি।'

রোদ্দুর তা শোনে নাই, ছোট চাচ্চুর সাথে দেখা করবে বলে বেরিয়ে পড়ল।

ঝিলমিল তার মা'কে জিজ্ঞেস করল, 'কারা এই কাজ করেছে কোন খোঁজ পাওয়া গেছে কি মা?'

'জানাই তো আছে কার কাজ এসব, প্রমাণ'ও আছে। রোদ্দুর পুলিশের হাতে কথাবার্তা বলেছে। সন্ধ্যায় ওই বাড়িটা ঘেরাও করা হবে নাকি শুনলাম।'

'রোদ্দুর? ও এসবের মধ্যে কি করে? পুলিশের কাজ পুলিশকে করতে দিক। সবকিছুতে নাক গলাতে কে বলেছে ওকে? তোমরা মানা করো নাই ওকে? আমি তো ওখানে গিয়ে বুঝেছি ওরা কতটা ক্ষতিকর! এইরকম একটা পরিস্থিতি.... উফফফ, বর্ণনা করতে পারব না। দরকার পড়লে ওর হাত-পা ধরে ওকে আটকাতে হবে। তবুও ওখানে যেতে দেওয়া যাবে না, আমি যেতে দিব না।' ঝিলমিল শেষের কথাটা বলল জোর দিয়ে।

'সবাই মানা করেছিল, কিন্তু ও ধোনে আমাদের কারো কথা? সারাজীবন নিজে যা ভালো বুঝে এসেছে তাই করেছে। এইবার তো তুই আছিস! দুনিয়ার কোনোকিছুর সাথে রোদ্দুরের সাথে তোর সম্পর্কের তুলনা চলে না। তুই একটু বলে দেখিস! তোর কথা ও ফেলবে না।'

ঝিলমিল হেসে বলল, 'তুমি বোধহয় দুনিয়ার সবচেয়ে হাস্যকর কথা বললে মা। রোদ্দুর শুনবে আমার কথা? তাহলেই হয়েছে!'

মায়ের সাথে ঝিলমিলের আরও অনেক গল্প হলো। চেহারায় এতক্ষণ যে মলিনতা ছিল নিমিষেই উবে গেল। তবে মনের মধ্যেকার বিষন্ন ভাবটা এখনও কাটে নাই। তাই ছাদে উঠল। ওখানে গিয়ে হাসানকে দেখতে পেল রেলিংয়ে হেলান দিয়ে ফোন স্ক্রল করছিল। ঝিলমিল এগিয়ে এসে বলল, 'ভাইয়া ভালো আছেন? আপনি এখানে আসার পর থেকে বাড়িতে কী এক ঝামেলা শুরু হলো। আপনার খেয়াল'ই রাখা হলো না ঠিকঠাক মত।'

'আরে কী বলে! আপনাদের খুঁজে পাওয়া গেছে এটাই অনেক। আপনার বর তো পাগল হয়ে গেছিল।'

ঝিলমিল দুষ্টুমি করে বললেন, 'ইশশ, পাগলা গারদে ভর্তি করালেন না কেনো?'

'এই পাগল সেই পাগল না কিন্তু! মানে ওর কী অবস্থা হয়েছিল, আমি আপনাকে ছোটো করে বর্ণনা করি।'

'হুমমম... শুনি একটু!'

হাসান বলতে শুরু করল, 'যখন শুনল, অনেকক্ষণ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আপনি বাড়িতে পৌঁছান নাই তখন তো ইচ্ছেমত বকাঝকা। আক্কেল ছাড়া বেয়াক্কেল.... ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর সারা শহর খুঁজেও আপনাকে পাচ্ছিল না, বারবার বাসা থেকে নেতিবাচক উত্তর আসছিল; তখন রোদ্দুর আমাকে সাথে নিয়ে সোজা চলে এলো। এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে আপনাকে খোঁজে নাই। মাঝরাতে সবাই যখন বাড়ির মধ্যে চিন্তায় অস্থির, তখন রোদ্দুর একা একা বেরিয়ে গেছে। তারপর আপনার ফোন পাওয়া গেল.... মানে এসব আর মুখে বলে প্রকাশ করা যাবে না।'

ঝিলমিল মনে মনে ভাবল, বাঁদরটা তার জন্য এত চিন্তা করে? বাব্বাহ! অতি ভক্তিও মাঝেমাঝে চোরের লক্ষন মনে হয়।

ঝিলমিল নিচে নেমে সবার সাথে দেখা করে এলো। মাহমুদ সরকার এখন সুস্থবোধ করছেন। ঝিলমিলের সাথে কথা হওয়ার পর বেশ প্রশান্তি বোধ করছেন।

বাবার সাথে কথা বলে, তানিশার সাথে দেখা করে এলো। বড়রা যেহেতু বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করেছে, তাই বাইরে গেল না। রোদ্দুরকে দরকার ছিল, ওকে ঘরে কোথাও খুঁজে পেল না। ফোনটাও তার কাছে নেই, কোথায় কে জানে! পুনরায় ঘরে ফিরে এলো। বিছানায় গা এলিয়ে দিল।

কিছুক্ষণ বাদেই রোদ্দুর ঘরে এলো। ঝিলমিল ওর ফোনটা ওর কাছ থেকে চেয়ে নিল।

বিজ্ঞাপন

ঝিলমিল খুব নিরীহ গলায় বলল, 'তোর ফোন যে নিলাম, তোর ওই এক্স-ফেক্স আবার ফোন করবে না তো? আমি কথা বলতে পারব না। ওর সাথে কথা বলতে গেলে, ভালো কথা বের হবে না।'

'তোকে কথা বলতে হবে না।' রোদ্দুর শার্ট চেঞ্জ করছিল। ঝিলমিলের মনোযোগ ফোনে ছিল। সে গ্যালারি ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখছিল। কিন্তু ইনবক্স কিংবা ফাইল দিঘির জলের মত টলটলে পরিষ্কার। ওতে সন্দেহজনক কিচ্ছু নেই। ঝিলমিলের হঠাৎ কাল রাতের কথা মনে পড়ে গেল। এমন কাহিনী বলতে গেলে বড় আকারের একটা উপন্যাস হয়ে যাবে। ভাগ্যিস রোদ্দুর গিয়েছিল! রোদ্দুরের দিকে একবার তাকাল। ওকে 'থ্যাঙ্কস' জানানো হলো না। হাসান ভাইয়ার কাছে শুনেছিল, তাকে খুঁজে না পেয়ে রোদ্দুর কী পরিমাণ টেনশনে ছিল। অন্তত সামান্য একটা 'থ্যাঙ্কস' সে ডিজার্ভ করে।

রোদ্দুর ঘর ছেড়ে বের হতে গেলেই ঝিলমিল পিছু ডাকল, 'শোন! কোথায় যাচ্ছিস? পুলিশের কাজ পুলিশকে করতে দে, তুই ছোটাছুটি করবি কেনো?'

'ওনারা একা সব সামলাতে পারবে না।'

'আচ্ছা! তুই এমন কি হয়ে গেছিস যে তোকে ছাড়া তারা তাদের কাজে সফল হবে না? চুপচাপ ঘরে বসে থাক।'

রোদ্দুর এগিয়ে এসে বলল, 'কোনো জরুরী কথা আছে? আমাকে দ্রুত বের হতে হবে?'

'তুই কোনো প্রেসিডেন্ট না যে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া তোর সাথে কথা বলা যাবে না? আমি তোকে এই মুহূর্তে ডেকেছি, এরচেয়ে জরুরী আর কি? আমি তোকে ফালতু আলাপ করার জন্য নিশ্চয়ই ডাকি নাই।'

বাব্বাহ.... এই মেয়ের মুখ তো আর মুখ না, একদম আগ্নেয়গিরি! দুনিয়া উল্টে যাবে তবুও ঝিলমিলের কথার ধার কমবে না। রোদ্দুর করুণ মুখে ওর পাশে এসে বসল। রোদ্দুরের চেহারায় এমন মলিনতা দেখে ঝিলমিলের মায়া হলো। ওর সাথে যতই ঝগড়া কাটাকাটি করুক, সত্যি অর্থে কষ্ট দেওয়ার বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছেও ঝিলমিলের নেই। সে রোদ্দুরের হাত ধরে বলল, 'আমি তোকে কোথাও যেতে দিচ্ছি না। ওমন পরিত্যক্ত একটা জায়গা, যদি বিপদ-আপদ হয়ে যায়?'

'হলে হবে, তাতে তোর তো কিছু না। বিপদ হলে আমার হবে, যা হওয়ার আমার'ই হবে। তবে তোর একটা লাভ আছে? আমার যদি কিছু হয়ে যায় তোর জীবন থেকে মূল ভিলেন চরিত্রটা ভ্যানিশ হয়ে যাবে।'

রোদ্দুর কীভাবে কথাটা বলল? ঝিলমিল তৎক্ষণাৎ ওর মুখ চেপে ধরল। ইশারায় এমন কথা বলতে মানা করল। নিমিষেই চোখ দু'টো ছলছল করে উঠল। রোদ্দুর তা খেয়াল করল। পুনরায় জিজ্ঞেস করল, 'আমি গেলে তোর কি বল?'

'চিন্তা হবে।' ঝিলমিল মাথা নিচু করে জবাব দিল।

'শুধু চিন্তা? আর কিছু না? বল.....'

ঝিলমিল কি বলবে? ওর বুকের মধ্যে যে উত্তাল ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তা রোদ্দুরকে দেখাবে কি করে? রোদ্দুর বুঝবেই বা কি করে? বলল, 'আমার ভালো লাগে না। যাস না প্লিজ।'

'যাওয়া না যাওয়া তো পরের ব্যাপার। আমি কারণটা জানতে চাচ্ছি! আচ্ছা, তাকা আমার দিকে।'

ঝিলমিল এতক্ষণ মুখ ঘুরিয়ে রেখেছিল। এইবার রোদ্দুরের দিকে তাকাল। রোদ্দুর ওর চোখে চোখ রেখেই বলল, 'শহরে এত আলো ঝলমল, এত যানজট, এত আওয়াজ অথচ কিছুই আমার কর্ণ কুহরে প্রবেশ করছে না। কানের আশপাশ দিয়ে ঘুরে যাচ্ছে কিন্তু মস্তিষ্কে প্রবেশ করছে না। আমার মস্তিষ্ক তখন শুধু একজন মানুষকে খুঁজে বেরাচ্ছে। আমি.....'

ঝিলমিল রোদ্দুরকে বাকি কথা বলতে দিল না। ওর মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে নিজে বলল, 'যে মানুষটাকে তোর মস্তিষ্ক খুঁজে বেড়াচ্ছিল, সেই মানুষটার অনুরোধ রাখবি না?'

রোদ্দুর হালকা চালে মাথা দোলাল। পিছুটান, মায়া খুব খারাপ জিনিস। তারচেয়েও খারাপ চোখের চাহনি। এইতো এই মেয়েটা এতক্ষণ রাগী চোখে, রাগী গলায় কথা বলছিল। অথচ এখন তার চাহনিতে বিষন্নতা স্পষ্ট.... করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বারবার অনুরোধ করছে, রোদ্দুর তা ফেরাবে কি করে? সৃষ্টিকর্তা পুরুষ মানুষকে তুলনামূলক শক্ত সামর্থ্য বানালেও, এই একটা দিকে ভেজা মাটির মত নরম করে দিয়েছে। এই মেয়েটাকে কষ্ট দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এই যে আবদার, ভীষণ আদুরে লাগছে। জীবনে এমন করে আর কেউ করেছে কখনো? কখনো হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে কেউ এইভাবে বাঁধ দিয়েছে?

ঝিলমিল রোদ্দুরের চেহারা দেখে কিছু আন্দাজ করতে পারছে না। বেশি কিছু বলারও সাহস পাচ্ছে না। যদি আবার রেগে যায়? কিন্তু সে তো এইবার দুঃখে কেঁদে ফেলবে। ভেজা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল, 'তুই কি চলে যাবি?'

রোদ্দুর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, 'সেই উপায় রেখেছিস তুই? আমি যাব না ওখানে প্রমিজ। তবে আমাকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে যেতে হবে। সেখানে তো যেতে পারি?'

ঝিলমিল মাথা নাড়িয়ে সায় দিল। তারপর বলল, 'ফিরতে ক'টা বাজবে?'

'আটটার মধ্যে চলে আসব।' এইটুকু বলে রোদ্দুর ঝিলমিলের থেকে বিদায় নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল। রোদ্দুর যাওয়ার পর ঝিলমিল উঠে গিয়ে ঘরের বাতি নিভিয়ে দিল। নিজের জীবনের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা ভাবতে লাগল.... রোদ্দুরের জন্য এত মন খারাপ, এত চিন্তা কেনো তার? বিয়ে হলেই কি এইরকম হয়? যখন তাদের বিয়ে হয়েছিল তখন দু'জনের পরিস্থিতি অদ্ভুত ছিল। কেউ মানতে পারছে না, পরিবারের সদস্যরা চির শত্রুকে চিরতরে মিলিয়ে দিতে চাচ্ছে। তারপর ঢাকা থাকা অবস্থায়'ও রোদ্দুরের সাথে সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ দিকে যাচ্ছিল। দাদি একদিন বলেছিল, 'পুরুষ মানুষের সংসারে মন সহজে লাগে না। একটা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে নে। বাচ্চা এমন একটা জিনিস, যে শক্ত করে বেঁধে রাখে।'

কিন্তু ঝিলমিলের এই কথাটা পছন্দ হয় নাই। বউয়ের প্রতি মন না থাকলে তার বাচ্চার প্রতি টান আসবে কি করে?

.

রোদ্দুর এই যাত্রায় ঝিলমিলকে দেওয়া কথা রাখতে পারল না। এইজন্য অবশ্য তার বিন্দু পরিমাণ আফসোস নেই। অপরাধীদের যে ধরা গেছে, এটাই অনেক। সবাইকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রোদ্দুর বাড়ি ফিরে এলো। একে একে যখন সব ধরা পড়েছে তখন নাটের গুরু ধরা পড়তেও খুব বেশি সময় লাগবে না। রোদ্দুর ফিরে এসে ঝিলমিলের খোঁজ করতেই দেখল, ও ঘুমিয়ে আছে। এই অসময়ে ঘুমাতে দেখে ডেকে তুলল। ঝিলমিল রেগে গেল। কিছু বলতে যাবে ওমনিই রোদ্দুর পকেট থেকে দুটো চকোলেট বের করে হাতে ধরিয়ে দিল। ব্যস, হাসি ফুটে গেল তার মুখে। রোদ্দুর বলল, 'আজকে সারাটা দিন ঘরের মধ্যে নতুন বউয়ের মত করে পড়ে ছিলি। এখন আয়, বসার ঘরে সবাই আছে।'

রোদ্দুর ঝিলমিলের হাত ধরে নিয়ে এলো। বাড়ির বড়রা সবাই উপস্থিত ছিল এবং কোনো জরুরী বিষয়ে সিরিয়াস মুখ করে কথাবার্তা বলছিল। ঝিলমিল আর রোদ্দুর ঘরে ঢুকতেই সকলে হঠাৎ একসাথে চুপ করে গেল।

.

বিজ্ঞাপন
ঝিলমিল রোদ্দুরে গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও রহস্যময় গল্প