পেছন থেকে রোদ্দুরের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঝিলমিল ঘুরে তাকাল। ওমা! রোদ্দুর তো তার থেকে অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে। ওড়না ধরে কীভাবে টানাটানি করবে? তারপর নিজের ওড়নার দিকে তাকাতেই দপ করে একটা নিঃশ্বাস ফেলল। চেয়ারের সাথে ওড়না আটকে গেছে। হতভম্ব হয়ে জিভ কাটল। অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে ওড়না ছাড়িয়ে সামনে এগোতেই ফের ওড়নায় টান পড়ল। ঝিলমিল কয়েকবার টেনেও ওড়না ছাড়াতে পারল না। ঘুরে তাকিয়ে দেখল এইবার সত্যি সত্যিই রোদ্দুর ওড়না টেনে ধরেছে।
ঝিলমিল জিজ্ঞেস করল, 'কি হয়েছে?'
'যেটা করি নাই সেই দোষ এতক্ষণ আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হলো। তাই এইবার করেই ফেললাম....'
ঝিলমিল আশ্চর্য হলেও বলল, 'আচ্ছা, এখন ছাড়।'
রোদ্দুর ছাড়ল না। উল্টো ওকে টেনে নিজের কাছেই নিয়ে এসে চোখে চোখ রেখে বলল, 'উহুঁ। ছাড়ব না।'
'মানে কী? এভাবে ধরে রাখবি কেনো?'
'যাতে ফসকে যেতে না পারিস। ইদানিং খুব বেশিই তিড়িং বিড়িং করছিস।' রোদ্দুর ঝিলমিলের ওড়নার প্রান্তদেশ নিজের হাতে গুটিয়ে বলল।
ঝিলমিল ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বলল, 'তাই? কেনো হিংসে হয় বুঝি? জ্বলে?'
'হুম।'
'নিজেও তো একটা প্রেম করছিস, তখন বলেছি আমি কিছু? নিজের প্রেম করলে সমস্যা নাই। আর কারো সাথে দু'দন্ড কথা বললেও সমস্যা। আমার বন্ধু-বান্ধবের সাথে আমি কথা বলতেই পারি, তোর এত জ্বলে কেনো?'
রোদ্দুর ঝিলমিলের ওড়না আরেকটু টান দিয়ে বলল, 'কেনো জ্বলে জানি না। কিন্তু এরচেয়ে আর বেশি জ্বালানোর চেষ্টা করিস না যেনো, তাহলে কিন্তু....'
'কিন্তু কী?'
'তুই নিজেও জ্বলে'পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাবি।'
ঝিলমিল সহজ গলায় বলল, 'আমি এত জ্বলি না, কাউকে দেখে আমার মনের মধ্যে এত হিংসেও হয় না। আমি অতি সাধারণ এবং সহজ সরল মানুষ! কারো সাতে-পাঁচে থাকি না।'
'কিন্তু আমি থাকি।' রোদ্দুর জেদি গলায় বলল। তারপর ঝিলমিলকে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে এলো। ঝিলমিল সরে যেতে চেয়েও সরতে পারল না। অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে বলল, 'ছিঃ, এগুলা কী ধরণের অভদ্রতামি? এত ফাজিল তুই জানতাম না তো।'
'তো এখন জেনে নে।'
ঝিলমিল আতংকিত বোধ করল। এই পাগলের কি হয়েছে কে জানে? এমন পাগলামি কেনো করছে? সে পরপর কয়েকবার ফাঁকা ঢোক গিলল। রোদ্দুর ওর অনেক কাছে অবস্থান করছে, ওর নিঃশ্বাস'ও তার চোখ মুখে আঁছড়ে পড়ছে। আর এমনভাবে আটকে ধরেছে, ছাড়া পাওয়ার উপায় নেই; এমনকি নড়াচড়া করারও সুযোগ নেই। এইভাবে কখনো কারো সংস্পর্শে এতটা আসে নাই, যার কারণে কেমন একটা দমবন্ধ করা অনুভূতি হচ্ছে। ওইদিকে রোদ্দুর ঝিলমিলের এই অবস্থা দেখে ফিচলে হাসি চোখমুখে ফুটিয়ে তুলেছে। ঝিলমিলের অবস্থা হয়েছে আচমকা শিকারির সামনে পড়ে যাওয়া তাপড়াতে থাকা নিরীহ কোনো প্রাণী।
রোদ্দুর ওকে ছাড়ত না যদি ঝিলমিল না বলত তার পরীক্ষার কথা। পড়াশোনার কথা বলতেই ছেড়ে দিল। নিজে বলল, 'খেয়ে-দেয়ে তারপর গিয়ে রাত বারোটা পর্যন্ত একটানা পড়াশোনা করবি।'
ঝিলমিল মুখে কিছু বলল না, ঘাড় কাত করে সম্মতি জানাল।
রোদ্দুর তার কত চেনা! এতদিন এমন মনে হয় নাই, আজ কেমন যেনো লাগছে। খাওয়ার সময়ও ঝিলমিল কোনোরকম তাড়াহুড়োর উপর খেয়ে উঠে পড়েছে। ভুল করেও একবার রোদ্দুরের চোখে দিকে তাকায় নাই। খাওয়া শেষ হতেই এক দৌড়ে ঘরে গিয়ে কম্বলের নিচে বই নিয়ে বসে পড়েছে। মনেপ্রাণে খুব করে চাইছে, রোদ্দুর যেনো তাড়াতাড়ি ঘরে না আসে।
একটু আগের ওই ঘটনার পূর্বেও রোদ্দুরের সাথে একটা সহজ সম্পর্ক ছিল। ঢাকায় আছে বেশ কিছুদিন, একবারের জন্যও রোদ্দুরকে অচেনা মনে হয় নাই কিংবা তার আনইজি ফিল হয় নাই। কিন্তু আজ মাথা ঘুরছে! সত্যি সত্যি বিয়ে হয়ে গেলে শশুর বাড়ি এলে মানুষের যেমন অনুভূতি হয়, ওর'ও তাই হচ্ছে। বুকের মধ্যে দামামা বাজছে, ধুকপুক করছে।
ঝিলমিলের চাওয়া পূরণ হলো না। রোদ্দুর কিছুক্ষণ বাদেই ঘরে ঢুকল। ঝিলমিল ওর উপস্থিতি টের পেলেও চোখ তুলে তাকাল না। মাথার মধ্যে কোন পড়া ঢুকছে না, একটু আগের ঘটনা ঘুরপাক খাচ্ছে সজোরে। এত অশান্তি ঝিলমিলের কখনোই লাগে নাই। সারা রাতটা ওইরকমেই কাটল, ঝিলমিল ঘুমাতে পারল না। ভোরের দিকে একটু যা চোখ বুঁজে এলো, কিন্তু পাত্তা দিল না। যেহেতু পরীক্ষা, তাই দ্রুত যেতে হবে।
রোদ্দুরের পাশাপাশি চলতেই কেমন একটা লাগছিল। যখন ভার্সিটিতে এসে পৌঁছাল এবং রোদ্দুর দৃষ্টি সীমার বাহিরে গেল; তখন ঝিলমিল এতক্ষণের চেপে রাখা নিঃশ্বাস উজাড় করে দিল।
.
বাড়ির সবাই ঝিলমিল আর রোদ্দুরের বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করছিল। তখন তো শুধুমাত্র কোনরকমে বিয়ে হয়ে গেছে, আত্মীয়-স্বজন কাউকে খবর দেওয়া হয় নাই। হুট করে যেই শুনেছি সেই অবাক হয়ে গেছে। ঝিলমিল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বেশ কিছুদিন সময় পাবে। সবাই চাচ্ছে তখন অনুষ্ঠান করতে। আবার রোদ্দুরের কথাও চিন্তাভাবনা করা লাগছে, তার'ই তো সমস্যা। ছুটি ম্যানেজ করতে পারে কিনা কে জানে! অন্ততপক্ষে কথাবার্তা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যও তো সময় দরকার। রোদ্দুরের তো এখানে আসার মত অতটুকু সময়েরও বালাই নেই। আর এখান থেকে উনারা গিয়ে যে একটু আলাপ-সালাপ করবেন, ওখানে সেই জায়গাটুকুও নেই। তাও যেভাবেই হোক কথাবার্তা তো বলতেই হবে। একবার যখন বিয়ের কথা উঠেছে তখন অনুষ্ঠান করে ফেলাই ভালো, নয়তো পরে আর হয় না। তানিশা আর রিমঝিম এখনই প্ল্যানিং শুরু করে দিয়েছে। তারা কি পড়বে, কীভাবে ঘর সাজানো হবে, কয়দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান হবে, মেনুতে কি কি থাকবে, ইত্যাদি ইত্যাদি! কিন্তু ঝিলমিলকে অনেক মিস করছিল। ও থাকলে সবটা একা হাতেই সামলে নিতে পারত। রোদশীর বিয়ের সময়ও তো সবার শাড়ি-গয়না ও চয়েস করে দিয়েছিল। এইবার তো তার নিজেরই বিয়ে, নিজে পটের বিবি সেজে সবাইকে খাটাবে। হুহ!
.
আজ সকালেই রোদ্দুর ঝিলমিলকে বলে দিয়েছে, পরীক্ষা শেষ হলে যেন সাবধানে ফিরে আসে। তার সময় হবে না নিতে যাওয়ার। ঝিলমিল তাই পরীক্ষা শেষেই ফিরে এসেছে। রোদ্দুর ফোন দিয়ে খোঁজ নিয়েছে।
অনেকদিন ছাদে যাওয়া হয় না। গোসল করে তাই চুল শুকানোর জন্য ছাদে উঠল। এখানে আসার পর ওই একজনের সাথেই আলাপ হয়েছিল, যে পাশের বাসার ভাবি নামে পরিচিত। ঝিলমিল আজ তাকে দেখতে পেল না। ইচ্ছে করলে বাসা থেকে ডেকে আনা যায় কিন্তু সামান্য ছাদে আসার জন্য ঝিলমিলের মন তাতে সায় দিল না। ও নিজেই এ'মাথা ও'মাথা ঘোরাঘুরি করে ঘরে ফিরল। রাতে যেহেতু একদম'ই ঘুম হয় নাই তাই শুয়ে পড়ল এবং ঘুমিয়েও গেল।
— ঝিলমিলের বিয়ে হচ্ছে। পাত্র কে সে জানে না এমনকি বাড়ির মানুষ'ও জানে না। রোদ্দুরের সাথে তো একবার বিয়ে হয়েই গেছে, আবার কেনো বিয়ে হচ্ছে? ওইতো রোদ্দুরকে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ কাপড়চোপড়ে ঘুরে বেড়াতে। ঝিলমিল রোদ্দুরকে কাছে ডাকল কিন্তু ও এলো না। বলল, 'তুই তো একবার বারণ করেছিস তবে আবার ডাকছিস কেনো?'
ঝিলমিল ধিরে ধিরে মাথা নাড়ল। 'না' 'না' বলে চেঁচিয়ে উঠল।
ঝিলমিলের ঘুম ভেঙ্গে গেল। উঠে বসতেই রোদ্দুরকে দেখতে পেল। রোদ্দুর পাশ থেকে পানির বোতলটা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, 'বাজে স্বপ্ন দেখেছিস? নে পানি খা।'
ঝিলমিল পানি খেয়ে জিজ্ঞেস করল, 'ক'টা বাজে?'
'উমমম... সাড়ে সাতটা বাজল।'
'আমি এতক্ষণ ঘুমালাম? তাইতো মাথা ব্যথা করছে। কখন এসেছিস?'
'অনেকক্ষণ আগেই এসেছি।'
'আমাকে ডাকতে পারলি না?'
'হুঁ? পরে আবার চেঁচাবি তোর আরামের ঘুম হারাম করার জন্য।'
'না, অসময়ে ঘুমালে আমার মাথা ব্যথা করে।' ঝিলমিল উঠে দাঁড়াল। গিয়ে বারান্দায় দরজা লাগিয়ে দিল। কথা বলতে ইচ্ছে করল না বলে চুপচাপ থাকল নয়তো এই কনকনে শীতের মধ্যে দরজা খুলে রাখার অপরাধে মাত্রই রোদ্দুরের সাথে একটা কথা কাটাকাটি হয়ে যেত।
কাল যেহেতু পরীক্ষা নাই, তাই রোদ্দুর ঝিলমিলকে নিয়ে বাহিরে বের হলো। আজ হেঁটে হেঁটেই চৌরাস্তার মোড়ে এলো। অন্যসময় বন্ধুদের দেখা পাওয়া যায়, আজ আর কাউকে দেখতে পেল না। ঝিলমিলকে সাথে নিয়েই ঘোরাঘুরি করল। ঝিলমিলের দিনগুলো এভাবেই কেটে যেতে লাগল। রোদ্দুরের সঙ্গ এখন আর খারাপ লাগে না বরং সেটা বেশ উপভোগ্য। পরীক্ষাগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে.... ঝিলমিল এক এক করে দিন গুণছিল, কবে সব শেষ হবে! যখন পরীক্ষা না থাকে কিংবা রোদ্দুর ফ্রি থাকে তখন ঝিলমিলকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।
ঝিলমিলের সকালটা শুরু হয়, সুন্দর ভাবে। রোদ্দুরের আগেই ওর ঘুম ভেঙ্গে যায়। সকালে উঠে খুব যত্ন করে কফি বানায়, তারপর রোদ্দুরকে ডেকে তুলে ওকে কফি দেয়। বলে, 'উঠে পড়েন জমিদার মশাই। সকাল সকাল আপনার জন্য কফি হাজির। খেয়ে আমায় উদ্ধার করুন প্লিজ।'
'ধন্যবাদ।' রোদ্দুর'ও হেসে বলে। এরপর রোদ্দুর অফিসের উদ্দেশ্যে বের হলে ঝিলমিলের পরীক্ষা না থাকলে বাড়ির কাজকর্ম সারে। ইদানিং রান্নাবান্না নিজেই করার চেষ্টা করে। ভালো/খারাপ নিয়ে রোদ্দুরের কখনোই কোনো অভিযোগ থাকে না। এই জিনিসটা ঝিলমিলের খুব ভালো লাগে। সে একটা নতুন জায়গায় নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছে, সেখানে কেউ ভুল ধরলে সাধারণত তার বিরক্ত লাগতো। বাড়ি থেকে ওর মা সেদিন ফোন দিয়ে খুব করে বুঝিয়ে বলছিলেন, 'দ্যাখ মা, রোদ্দুর আমাদের চোখের সামনে বড় হয়েছে যথেষ্ট ভালো ছেলে। একটু মানিয়ে নে, গুছিয়ে নে। তোকে নিয়ে আমার এত চিন্তা হয় যে বাপু, বলার মত না। দেখি তো, শুনি তো, শুধু নাকি ঝগড়া করিস। এইরকম কা'টাকাটি করলে সংসার হয় না রে মা। ভালোভাবে থাকিস কেমন! ছুটিছাটা পেলে চলে আসিস। তোরা ছিলি, এতদিন আমার ঘর ভর্তি ছিল। এখন সব ফাঁকা ফাঁকা লাগে, কাজ করতে গেলেও মন বসে না। রোদশীটাও সেই যে গেল, আর আসার নাম গন্ধ নাই। আর তুই তো রোদ্দুরকে ছাড়া একা আসতেও পারবি না। যাইহোক, এত ঘনঘন আসার দরকার নাই। আর নিজের দিকে খেয়াল রাখিস।'
ঝিলমিল মায়ের কথা মানার চেষ্টায় অবিরত। এতদিন তো নিজের মর্জি মতোই চলেছে, খুব যে ভালো কিছু জীবনে অর্জন করতে পেরেছে তা কিন্তু নয়। এইবার একটু নিজের মায়ের কথায়, নিজের পরিবারের মানুষের কথায়, বড়দের কথায় চলে দেখুক; ভাগ্য তাকে কোথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড়া করায়।
.
রোদ্দুরের একটা বাজে স্বভাব হচ্ছে, সবকিছু গুছিয়ে রাখে কিন্তু গায়ের কাপড়চোপড়'গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে দেয়। ঝিলমিলের এসব সহ্য হয় না। আজও রোদ্দুর এসে তাই করল। ঝিলমিল শান্তভাবে বলল, 'এলোমেলো আমার পছন্দ না, আগেই বলে দিয়েছি। এমনিতেই এই কনকনে শীতের মধ্যে কাজের খেলায় বাঁচি না। তার উপর আবার তুই এত্ত জ্বালাস।'
'তুই'ও দেখি আমার মায়ের মত ঘ্যানঘ্যান করিস। একটু বসে নিই, তারপর রাখবনি ঠিক করে। আমার কাপড়চোপড় কি তোকে ডিস্টার্ব করতেছে, আজিব!'
'আমার দেখতে বিরক্ত লাগতেছে।'
'চোখ বন্ধ করে বসে থাক।'
ঝিলমিল বিছানা থেকে কুশনটা নিয়ে রোদ্দুরের দিকে ছুঁড়ে দিল। রোদ্দুর সেটা ক্যাচ করে নিল। হেসে বলল, 'এত সহজ না।'
'ভাগ্যিস তুমি বাড়িতে থাকতি না। তোকে সহ্য করতে করতেই বাড়ির মানুষের এক জনম কেটে যেত। আমি শিওর ওরা পাগল হয়ে যেত তোর কান্ডকারখানায়। আর তুই তো....'
ঝিলমিলের ফোন বেজে ওঠায় সে চুপ করে গেল। ফোন হাতে নিয়ে দেখল দাদি ফোন করেছে। সে রিসিভ করে লাউড স্পিকারে দিয়ে কথাও বলতে লাগল আবার কাপড়চোপড় গোছাতে লাগল। রোদ্দুর এসে একপলক কথা বলে গেল। ঝিলমিল ধমক দিয়ে বলল, 'তোকে ফোন করেছে? আমাকে ফোন দিয়েছে তাই আমি কথা বলব। তোর সাথে যখন কথা বলে, তখন আমি এমন পাজিগিরি করি?'
তারপর দাদিকে বলল, 'তোমার নাতি এত জ্বালায় যা বলার মত নয়। এমন ভাব করে থাকে মনে হয়, কোন জমিদার! এইতো একটু আগে এসে সব কিছু মানে ওর কাপড়গুলো এলোমেলো করে রেখে দিয়েছে। এগুলা এখন আমায় গোছাতে হচ্ছে। শীতের মধ্যে এতকিছু ভালো লাগে? বাবারে, ঠান্ডায় কাঁপতেছি।'
'অনেক ঠান্ডা বুঝি?'
'তাছাড়া আবার কি? তারমধ্যে এমন এক জায়গায় আছি, এইখানের সামনে পেছনে খোলা জায়গা। দিনের বেলাতেও আমি জানালা খুলতেই পারি না বাতাসের অত্যাচারে। ওই সবদিক দিয়ে আমাকে প্যারায় রেখেছে।'
'আরে এত ঠান্ডা কেনো লাগবে তোর?'
'কেনো? আমি কি রোবট যে আমার ঠান্ডা লাগবে না!'
দাদি ওপাশ থেকে ফিচলে হাসি দিয়ে বললেন, 'স্বামী থাকলে সঙ্গে শীত লাগে না অঙ্গে!'
.