ঝিলমিল রোদ্দুরে

পর্ব - ২৭

🟢

রোদ্দুর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। ঝিলমিল ওর চোখের দিকে তাকাল না, যেনো কিছু ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়। তবে রোদ্দুর খোলাসা করল বিষয়টা। বলল, 'আমি চা খাওয়ার কথা বলতে চাইছিলাম। তুই যে কোথা থেকে কি ভেবে বসে আছিস কে জানে!'

ঝিলমিল এতক্ষণ চেপে রাখা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল, 'চা আমরা একটু আগে খেয়েই এসেছি। আবার কেনো?'

'এটা নেশা, আমাকে ঘন্টায় ঘন্টায় চা দিলেও কোনো আপত্তি নেই। বাই দা ওয়ে, গেলাম চা বানাতে। খাবি?'

ঝিলমিল উপর নিচ মাথা নাড়াল। রোদ্দুর রান্নাঘরে যেতেই ওর ফোন বেজে উঠল। ঝিলমিল হাতে নিয়ে দেখল, ওদের বাড়ি থেকে ফোন এসেছে। তাই রিসিভ করে কথা বলল। ওপাশ থেকে একজন রোদ্দুরের কথা জিজ্ঞেস করতেই ঝিলমিল বলে দিল, 'ও চা বানাচ্ছে রান্নাঘরে।'

তারপর তো একটা ছোটখাটো হৈচৈ পড়ে গেল। বলাবলি করছিল, 'আমরা আমাদের স্বামীদের দিয়ে সামান্য কিছু করাই নাই, অসুস্থ থাকলেও জীবনে বলি নাই এক গ্লাস পানি এনে দাও। আর তুই সেখানে ওকে দিয়ে চা বানাচ্ছিস?'

ঝিলমিল বোকার মত বলে বসল, 'ও তো রান্নাও করে। সকাল, দুপুর এবং রাতেরটাও। তাতে কি হয়েছে?'

ওপাশ থেকে আর কোনো সাড়াশব্দ নেই। ঝিলমিলের কথাবার্তা শুনেই একেকজনের আক্কেলগুড়ুম অবস্থা!

.

ওকে যেহেতু রোদ্দুরের সাথেই থাকতে হবে, তাই মাহমুদ সরকার অর্থাৎ ঝিলমিলের বাবা এখানকার কলেজের ট্রান্সফার করিয়ে দিয়েছেন। এতদিন তো বাড়িতে থাকার কারণে কলেজে যাওয়া হয় নাই, একটাও ক্লাস করা হয়নি অথচ পরীক্ষা নাকি সামনের সপ্তাহে। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে রোদ্দুর নিজেই আগ্রহের সহিত বলল, 'যাবি নাকি আজকে কলেজে? ক্লাস না করিস, অন্ততপক্ষে ঘুরে আয়। দেখে আয় আর সবার সাথে পরিচিত হয়ে আয়। পরীক্ষার সময় হুট করে গিয়ে উপস্থিত হলে, কেমন একটা দেখায় না!' ঝিলমিলের কাছেও কথাটা যথার্থ বলে মনে হলো।

রোদ্দুরকে জিজ্ঞেস করল, 'তোর দেরি হয়ে যাবে না?'

'একটু তো হবে তবে সেটা সামলে নিব। তুই গিয়ে রেডি হয়ে নিচে আয়। আমি ওয়েট করছি।'

রোদ্দুর আর ঝিলমিলের শিডিউল মেলা অসম্ভব। ঝিলমিলের একটায় ছুটি আর রোদ্দুর ছাড়া পায় পাঁচটায়। বাসা থেকে কলেজ অনেক বেশি দূরে নয়, রোদ্দুর রাস্তাঘাট ভালো করে চিনিয়ে দিল যাতে পরবর্তীতে একা চলাফেরা করতে সমস্যা না হয়। ঝিলমিলের কিছু হচ্ছে না, যত টেনশন সব রোদ্দুরের। একদিকে অফিসের সময় পার হয়ে যাচ্ছে আবার অন্যদিকে ঝিলমিলকে একা ছাড়ার ভরসা পাচ্ছে না। 'কি করবে কি করবে' ভাবতে ভাবতে মনে পড়ল এখানেই তার এক ফ্রেন্ডের বাসা। রোদ্দুর তৎক্ষণাৎ ফোন করে তাকে আসতে বলল। ওর নাম রুনা। মেয়েটা এসে পৌঁছাতেই সে ঝিলমিলকে ওর দায়িত্বে রেখে দ্রুত চলে গেল।

ঝিলমিল বলল, 'ও যে আপনাকে ডেকেছে আমার জানা ছিল না। অযথা মানুষকে প্যারা দেয়। আমার সমস্যা হবে না, আপনি চাইলে চলে যেতে পারেন। আমি দেখি একটা ক্লাস করার চেষ্টা করি।'

রুনা বলল, 'ক্লাস করো সমস্যা নাই তবে রোদ্দুর যেহেতু তোমাকে দেখে রাখতে বলেছে তাই এত তাড়াতাড়ি যাচ্ছি না। তুমি তোমার ক্লাসে যেতে পারো কেনো সমস্যা নেই। তার আগে আমায় তোমার ফোন নম্বরটা দিয়ে যাও, যাতে তোমায় খুঁজে পাই।'

ঝিলমিল মুখ কালো করে ফেলল। ভেবেছিল, রোদ্দুর চলে গেলে একা একাই সবটা এনজয় করতে পারবে। কিন্তু তার সুযোগ কোথায়? জুটিয়ে দিয়ে গেছে না একজনকে! ঝিলমিল ওর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় ভাবছিল। কিন্তু এতো ফেবিকলের মত সেঁটে আছে।

ঝিলমিল জিজ্ঞেস করল, 'আপু আপনি কি বিয়ে করেছেন?'

'হুঁ। কেনো?'

'ভাইয়া আপনাকে খুঁজবে না?'

'না। তোমার ভাইয়া এই মুহূর্তে বাসায় নেই।'

'ওহ।' ঝিলমিল হতাশ ভঙ্গিতে উত্তর দিল। তারপর ভেতরে এসে ওর ডিপার্টমেন্ট খুঁজে বের করল। ক্লাসের খোঁজ করে গিয়ে দেখল, কেউ নেই সেখানে। এইদিকে রুনাকেও একটা রং নম্বর দিয়ে এসেছে। নীচে নামল খুব সাবধানে। করিডোরে রুনাকে দেখে ওইদিকে গেল না। ক্যাম্পাসের মাঠ, ক্যান্টিন ভনভন করে ঘুরতে লাগল। গিয়ে এক পলক রুনাকেও দেখে এসেছে। ওই বেচারী আশেপাশে তাকিয়ে ঝিলমিলকে খুঁজছে। ঝিলমিল নিজের ফোনটা বন্ধ করে রাখল। রোদ্দুর যেকোনো মুহূর্তে উল্টাপাল্টা নম্বর দেওয়ার অপরাধে ফোন করে ধমকাতে পারে। এখন এই পরিবেশে কারো ধমক খেতে ইচ্ছে করছে না। ঝিলমিল আবারও উপরে গিয়ে পরীক্ষার রুটিন দেখে এলো। সে স্টুডেন্ট হিসেবে আহামরি নয়, সবসময় ভালো/খারাপের মাঝামাঝি অবস্থান করে। আজ পর্যন্ত যত পরীক্ষা দিয়েছে, কখনো পরীক্ষা নিয়ে টেনশন কাজ করে নাই। আজও রুটিনে দেখল, একদিনে দু'টো করে পরীক্ষা। তাতে কী? পরীক্ষার আগের দিনটুকু তো আছেই।

ঝিলমিল দেখল একটা বাজার সাথে সাথে সবাই নিজেদের ক্লাসরুম থেকে নিচে নামছে, অর্থাৎ এই সময় ছুটি হয়ে গেছে। সে নিজেও কলেজ থেকে বের হলো। ফোন অন করে রোদ্দুরকে মেসেজে করল, 'আমি এখন বাসায় যাচ্ছি।' কললিস্ট চেক করে দেখল রোদ্দুর ইতোমধ্যে কয়েকবার তাকে ফোন দিয়েছে। সে আর ব্যাক করল না। সোজা বাড়ির করে হাঁটতে লাগল। একটু আগে রোদ্দুরের সাথে আসার সময় রাস্তা ভালো করে মুখস্থ করে নিয়েছে। রোদ্দুর বলে দিয়েছে, রিকশায় উঠে রিকশাওয়ালাকে ঠিকানা বললেই ডিরেক্টর বাসায় পৌঁছে দিবে। কিন্তু ঝিলমিলের রিকশায় চড়তে মন চাইল না। ও হাঁটতে লাগল, আশেপাশে তাকিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা উপলব্ধি করতে করতে প্রায় বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে গেল।

সে সময় রোদ্দুরের ফোন এলো। ঝিলমিল ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রোদ্দুর কড়া গলায় বলল, 'কোথায় তুই?'

বিজ্ঞাপন

'এইতো বাড়িতে চলে এসেছি।'

'তুই রুনাকে ভুলভাল নম্বর দিয়েছিস কেনো? তারপর আবার নিজের ফোনটাও অফ করে রেখেছিস। নিজেকে কি ভাবিস বল তো? পাগল বানিয়ে ছাড়বি একদম। আচ্ছা, এই ফাজলামিগুলো করে তুই ঠিক কি পাস?'

ঝিলমিল আনন্দিত স্বরে বলল, 'মজা পাই, আনন্দ পাই, মানসিক শান্তি পাই।'

রোদ্দুর হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বলল, 'এখন সোজা বাসায় গিয়ে, কোথাও বের হবি না। আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসছি। বাই দা ওয়ে, ক্লাস করেছিস?'

'না, ঘুরে বেড়ালাম।'

'বাহ! প্রথম দিনেই? ভালোই।'

রোদ্দুরের সাথে কথা বলতে বলতে ঝিলমিল বাড়ি পৌঁছে গেছে। ফোন রেখে ফ্রেশ হয়ে নিল। খাওয়া-দাওয়ার চিন্তা নেই, রোদ্দুর রান্নাবান্না করে রেখেই যায়‌। ঝিলমিল আজ নিজে কিছু করার চেষ্টা করল। যেহেতু রোদ্দুর তাকে আলসে বলে, কুঁড়ে বলে তাই উচিত নিজেকে প্রমাণ করা। বাড়িতে থাকতে কখনোই রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায় নাই‌। হয়তো কখনো কখনো চা বানিয়েছে কিন্তু এর বাহিরে অন্যকিছুতে সে পটু নয়।

আজ একটা পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চরম হতাশ হয়ে নিজেকে নিজেই কুঁড়ে উপাধি দিয়ে দিল। বলল, 'ঝিলমিল তুই শুয়ে বসে জমিদারগিরি করেই দিন কাটা। তোকে দিয়ে অন্তত রান্না বান্না হবে না। ওটা রোদ্দুরের দায়িত্ব, ও ঠিক করে নিবে। তুই শুধু চুপচাপ গিলে যা।'

রোদ্দুর বাড়ি ফেরার পর ঝিলমিলের উল্টাপাল্টা কাজের জন্য কিছুক্ষণ চেঁচামেচি করল। কিন্তু সে ওসব কানেই নিল না। প্রতিবারের মত এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দিল।

এরপর থেকে ঝিলমিল রোজ ক্লাসে যাতায়াত করে। তিন/চারদিনের মধ্যে তার বন্ধু-বান্ধব'ও জুটে গেছে। রোদ্দুর প্রতিদিন একটা বাজার দশ মিনিট আগে ভার্সিটিতে উপস্থিত হয়। ওর সে সময়ে ব্রেক টাইম বলে বেশ সুবিধা হয়েছে। ঝিলমিনের ছুটি হলে ওকে একটা রিকশায় তুলে দিয়ে তারপর আবার নিজে উল্টোদিকে রওনা হয়। এটা যে রোদ্দুরের জন্য একটু কষ্টকর হয়ে গেছে, বেশ ভালোই বুঝেছে সে। পরীক্ষার আগে পরেই যা সমস্যা, তারপর তো আর ক্লাসে যাবে না; যাওয়ার প্রয়োজন'ও নেই।

আজ এই প্রথম এখানে এসে সে ক্লাস বাদ দিয়ে মাঠে বসে বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল আর আজকেই রোদ্দুরের নজরে পড়ে গেল। সে শুধু দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল। বাড়িতে যখন থাকে, তখন বোধহয় ঠোঁটের আগায় পিস্ত'ল নিয়ে চলাফেরা করে। কেউ কিছু বললেই সাথে সাথে ঠাস্ ঠাস্। আর এখন? কথা বলছে না যেনো মধু ছড়াচ্ছে। সাথে আবার দু'টো ছেলেও আছে। রোদ্দুরের মেজাজ গরম হয়ে গেল। সে কিনা এই মেয়ের জন্য কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এখানে এসেছে ওকে পাহাড়া দেওয়ার জন্য আর ও ওইদিকে অন্যদের সাথে হেসে হেসে গল্প করছে! রোদ্দুরের সহ্য হলো না, কিছু বলতেও পারল না। ঝিলমিলের সাথে সেরকম কথাও হলো না, মুখটা যতটা সম্ভব গম্ভীর করে রাখল।

সন্ধ্যায় ঝিলমিল রোদ্দুরের উদ্দেশ্য বলল, 'তোর কি কিছু হয়েছে? মন খারাপ? গার্লফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া হয়েছে নাকি? মুখ এইরকম বাঁদরের মত করে রেখেছিস কেনো?'

'মানুষের মত হাসতে পারি না তাই বাঁদরের মত মুখ করে রেখেছি। এতে কারো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।'

ঝিলমিল ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল, 'কেনো রে? মানুষের হাসি দেখলে কি হিংসা হয়?'

এমনিতেই ভার্সিটিতে ওই দৃশ্যটা দেখার পর রোদ্দুরের মেজাজ গরম এখন আবার ঝিলমিলের কথা শুনে রাগে ব্রক্ষতালু জ্বলে যাচ্ছে। ঝিলমিলের দিকে আগুন চোখে তাকালেও কিছু বলল না। রোদ্দুরের এমন রাগ ঝিলমিল বেশ উপভোগ করছিল। আরেকটু রাগিয়ে দেওয়ার জন্য বলল, 'আচ্ছা আজ তোর মুড অফ কেনো? গার্লফ্রেন্ডের সাথে বুঝি অনেক কথা কাটাকাটি হয়েছে? থাক মন খারাপ করিস না। তুই আমাকে আবার ওর ফোন ধরিয়ে দিতে পারিস, আমি কথা বলে তোদের দু'জনের ঝামেলা মিটিয়ে দিতে পারি।'

রোদ্দুর একটা চেয়ার টেনে ঝিলমিলের মুখোমুখি বসল। রোদ্দুরকে এগিয়ে আসতে দেখে ঝিলমিল পিছু হটল। এই ছেলেকে একদম বিশ্বাস হয় না, যেকোনো মুহূর্তে ঘাড় ধরে মটকে দিতে পারে।

তবে রোদ্দুর তা করল না। বেশ ভদ্র এবং শান্ত ভঙ্গিতে বলল, 'আমার গার্লফ্রেন্ড বা অন্যকিছু সম্পর্কে তোকে এত ভাবতে হবে না। তুই নিজের চরকায় তেল দে। বাহিরে তো ভালোই দেখি, বাড়ি ফিরলে কি মাথার তার ছিঁড়ে যায়? আর আরেকটা কথা, কথায় কথায় সানিয়ার কথা তুলবি না। ওর সাথে একসময় আমার সম্পর্ক ছিল কিন্তু এখন নেই..... নেই মানে নেই। আর যাই করিস না কেনো, নেক্সট কখনো ওর নাম আমার সামনে নিবি না। আই ক্যান'ট স্ট্যান্ড ইট। আই হেইট হার।'

ঝিলমিল শুনল, চুপ করে রইল। রোদ্দুর যে কথাটা সিরিয়াস ভাবে বলেছে, এটা বোঝার মত বোধবুদ্ধি তার রয়েছে। রোদ্দুরের দিকে তাকাল, একটু আগে ঠিকঠাক ছিল এখন যেনো মুহূর্তের মধ্যেই কাঠিন্যের মুখোশ পড়ে ফেলেছে।

.

পরের দিন'ও একই ঘটনা। রোদ্দুর রীতিমতো রাগে কাঁপতে লাগল। তবে নিজে বুঝতে পারল না, সে হঠাৎ ঝিলমিলের ব্যাপারে এতটা পজেসিভ হয়ে গেছে কেনো? শুধুমাত্র বিয়ে একটা পবিত্র বন্ধন বলেই! হতে পারে, এই নশ্বর পৃথিবীতে কতই তো অবিনশ্বর ব্যাপার ঘটে। রোদ্দুরের ক্ষেত্রেও হয়তো তাই হচ্ছে। ঝিলমিলকে অন্যকারো সাথে হেসে কথা বলতে দেখেই নিজের ঠান্ডা জেদ আর শীতল রাগ যে মেরুদন্ড বেয়ে তিরতির করে নেমে যাচ্ছে, তা বুঝতে পারছে। এখন ওই মেয়েটাকে কি করা উচিত? একটা থাপ্পর মেরে কি বলবে, 'কেনো আরেকজনের সাথে তোর এত হাসিমুখে কথা বলতে হবে? যত হাসি সব আমার জন্য তুলে রাখা উচিত। অথচ তুই সবসময় করিস উল্টোপাল্টা। মানুষের সামনে গম্ভীর মুখে বসে থাকা উচিত ছিল, অথচ তুই এখানে হাসি থামাতে পারছিস না।'

কিন্তু রোদ্দুর তো আর জোর করে নিজের জন্য ঝিলমিলের মুখে হাসি ফোটাতে পারবে না। কিন্তু যেটা করতে পারবে সেটা তো করবেই। মন-মেজাজ খিঁচিয়ে আছে, এই কনকনে শীতেও মাথা গরম। এই মেজাজ সহজে ঠিক হবে না। ভেবেছিল নিজেকে সামলে ঝিলমিলের সামনে গিয়ে উপস্থিত হবে এবং দু'টো ধমক মারবে এসব বেয়াদবির জন্য। তার আগেই ঝিলমিল বেরিয়ে এলো। রোদ্দুরকে গেটের সামনে দেখে মুখ কালো করে এগিয়ে এসে বলল, 'কখন এসেছিস? একটা ফোন করবি না? আমাকে একাও যেতে দিবি না, নিজেও দেরি করে আসবি! তো কখন এলি? আজ ফোন করলি না যে?'

রোদ্দুর ঝিলমিলের হাত চেপে ধরল এবং এক ঝটকায় ওকে টান দিয়ে গেটের বাহিরে নিয়ে এসে বলল, 'তোর চেহারা দেখার ইচ্ছে হচ্ছে না আমার‌।'

.

বিজ্ঞাপন
ঝিলমিল রোদ্দুরে গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও রহস্যময় গল্প