ঝিলমিল কটমট করে রোদ্দুরের দিকে তাকাল। সুযোগ পেলে বোধহয় ঘাড় মটকে দিত।
শিমু বললেন, 'চল বেয়াদব।' ঝিলমিল আর কোনো কথা না বলে সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে লাগল। রোদ্দুর পেছন থেকে দৌড়ে পাশে এলো। ফিসফিস করে বলল, 'খুব লেগেছে বুঝি? আহারে থাক কষ্ট পাস না। কান্নাকাটি করবি নাকি? গালটা তো লাল টুকটুকে হয়ে গেছে। ডাক্তারকে ডাকব নাকি চিকিৎসা করার জন্য? ডাকি আচ্ছা! ওওওওও ডাক্তার বাবু, কোথায় আপনি?'
ঝিলমিল গমগমে গলায় বলল, 'তোকে তো আমি পরে দেখে নিচ্ছি।'
রোদ্দুর ভ্রু নাচিয়ে বলল, 'আমাকে কেন দেখবি? তোর তো উচিত ডাক্তারদের দেখা। তুই বরং ওদেরকেই দেখতে থাক। তোর ওই দুই চোখে দেখতে সমস্যা হলে আমাকে বলিস, একটা চশমা কিনে দিয়ে চারচোখা বানিয়ে দিব।'
ঝিলমিল চোখেমুখে বিরক্তি মিশিয়ে তাকাল। তারপর বাড়ি ফিরে তুমুল চেঁচামেচি শুরু করে দিল। বাড়িতে তার সাথে নাকি একের পর এক শুধু অন্যায় করা হচ্ছে। প্রথমত, জোর করে বিয়ে দেওয়া হলো। দ্বিতীয়ত, ভার্সিটিতে ট্রান্সফার। এই বাড়ির মানুষ নাকি তাকে বাড়িতে আর রাখতেই চাচ্ছে না। সবাই এসে কত করে বোঝাল, কিন্তু ঝিলমিলের এক কথা— এই বাড়িতে তাকে কেউ ভালোবাসে না।
দাদি বললেন, 'তোর এখন জামাই আছে, জামাইয়ের ভালোবাসা পেলেই তো হলো। বাকিদের ভালোবাসা দিয়ে আর কি করবি?'
রোদ্দুর ফিসফিস করে বলল, 'ডাক্তারদের ভালোবাসা পেলেই হবে, বাড়ির মানুষের ভালোবাসা দিয়ে তুই কি করবি?'
ঝিলমিল দেখল ওর অনুভূতি কেউ পাত্তা দিচ্ছে না। এদিকে কাল তানিশার বার্থডে, ও আর রিমঝিম মিলে প্লানিং করছে কীভাবে কি করবে। ঝিলমিল ওদের মাঝে থেকেও বোরিং ফিল করে উঠে দাঁড়াল। রোদ্দুরের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। দরজায় ঠকঠক করে বলল, 'আসব?'
রোদ্দুর দরজায় উঁকি দিয়ে বলল, 'ম্যাডাম আপনি এই অধমের ঘরে পা দিয়েছেন। কী সৌভাগ্য আমার! আসুন আসুন, ভেতরে আসুন। এসে আমাকে উদ্ধার করুন ম্যাডাম।'
'ফাজলামি করিস না, আমি একটা কথা বলতে এসেছি।'
'ডাক্তারের ব্যাপারে?' রোদ্দুর জিজ্ঞেস করল।
ঝিলমিল ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, 'নাহ। তানিশার বার্থডে'তে ওকে একটু সারপ্রাইজ দিতে চাচ্ছি। ভাবলাম, তোকে বলি মানে আমার প্ল্যানে তুই'ও সামিল হ।'
রোদ্দুর একমুহূর্ত ভেবে বলল, 'আচ্ছা বল কী করতে চাচ্ছিস?'
ঝিলমিল মুখ ঝামটে উত্তর দিল, 'আশ্চর্য তোকে বলব কেনো আমি কি করতে চাচ্ছি? নিজের প্লানিং নিজের কাছেই থাকুক। হুহ, আসছে আমার সাথে প্লানিং করতে!'
রোদ্দুর থতমতো খেয়ে গেল। সে হা হয়ে বোকার মত বলল, 'তবে এসেছিস কেনো?'
'আমার ইচ্ছে!'
রোদ্দুর থমথমে গলায় বলল, 'তোর ইচ্ছের সাথে আমার কি সম্পর্ক? আজব একটা মানুষ তুই! কখন কি বলিস, নিজেও জানিস না। যা, যেভাবে ইচ্ছে হয় সেভাবে কর। দয়া করে আমাকে জ্বালাতে আসিস না, হাত জোড় করে বলছি। আমি তোর কোন প্ল্যানে নেই, ইভেন কোন কিছুতেই নেই।'
ঝিলমিল কিছু বলল না, চুপচাপ চলে গেল। ছাদে এসে মনে হলো, চিলেকোঠার ঘরটা তো ফাঁকাই থাকে এই ঘরে একটা ছোটখাটো করে আয়োজন করা যেতে পারে; বাড়ির কাউকে না বলে। অর্থাৎ ঝিলমিল তানিশাকে ছোটখাটো একটা সারপ্রাইজ দিবে।
সেই মোতাবেক সন্ধ্যার আগ দিয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেল। দোকান থেকে ফুল, লতাপাতা'সহ আরও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে নিয়ে এলো। বাড়ি ফেরার সময় আচমকা সাইফুলের সাথে দেখা হলো। ঝিলমিল পাস কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল কিন্তু সে ডাক দিল, 'ঝিলমিল দাঁড়াও।'
ঝিলমিল দাঁড়াতেই সাইফুল এগিয়ে এসে পুনরায় বলল, 'কেমন আছো? অনেকদিন পর তোমাকে দেখলাম। এখন তো এখানে আর থাকছ না তাইনা?'
ঝিলমিল মুখে জবাব দিল না, মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ/না দুই ভঙ্গিতে অস্পষ্ট জবাব দিল।
সাইফুল ফের বলল, 'বিয়েটা তাহলে করেই ফেললে?'
'হুঁ।'
'জানতাম না। দুইদিন আগে শুনলাম, তাও মানুষের মুখে মুখে। এখন কি ঢাকা থাকছ রোদ্দুরের সাথেই?'
'হ্যাঁ ওখানেই আছি।'
'ওহ। কবে এসেছে এখানে?'
ঝিলমিল দাঁতে দাঁত চেপে উত্তর দিল, 'গতকাল এসেছি এবং আগামীকাল চলে যাব।'
'এসে দুই দিনও মায়ের বাড়ি বেড়াবে না? এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে কেনো? আরো কিছুদিন থেকে যাও। মোড়ের মাথায় নতুন নতুন দোকান বসছে, কিছুদিন পরেই মেলা। সেসব না দেখেই চলে যাচ্ছো। তোমার বর দেখি তোমাকে একদম স্বাধীনতা দেয় না।'
ঝিলমিল সুন্দর করে হেসে বলল, 'আসলে আমার বরের কাজকর্মের প্রেসার আছে তো এজন্য চলে যাচ্ছি। অন্য কারো মত সে আবার গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে না। আমাকে ছাড়া বোরিং ফিল করবে, তাই সব ছেড়ে চলেই যাচ্ছি। এখন বিয়েশাদী করেছি, বরকে ছাড়া আমারও থাকতে মন চায় না। এখানে তো জীবনের কতগুলো বছর পার করলাম, এইবার বরং একটু বরের সাথে জীবন পার করি। আচ্ছা সাইফুল ভাই, আমি আসছি। বরকে না বলে বের হয়েছি তো টেনশন করবে।'
ঝিলমিলের কথা শুনে সাইফুলের মুখটা কালো হয়ে গেল। তাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সে নিজের রাস্তায় এগিয়ে গেল। একটু আগে সাইফুলকে বলা কথাগুলোর জন্য নিজের গালি ঠাস ঠাস করে দুটো অদৃশ্য চড় মারল। হুহ, বর? ছাতার মাথা!
বাড়ি ফিরে ঝিলমিল কোনোদিকে না তাকিয়ে, কারো সাথে কথা না বলে সোজা চিলেকোঠার ঘরের দিকে রওনা হলো। যাওয়ার পথে অবশ্যই নিজের ঘর থেকে কাঁ'চি, গ্লু'সহ বিভিন্ন প্রয়োজনে জিনিসপত্র নিয়ে নিল। তারপর একমনে নিজের কাজ করতে লাগল। এসব ঠিকঠাক করতে গিয়ে বুঝল, যত তাড়াতাড়ি সব কমপ্লিট হয়ে যাবে ভেবেছিল তত তাড়াতাড়ি কিছুই হবে না। তবে রাত বারোটার আগে কমপ্লিট হলেই হয়!
.
সন্ধ্যার পর পর ঢাকা থেকে বাড়ির বাকিরা চলে এলেন। ফজলুল সরকারের এইদিকে ফেলে যাওয়া অনেক কাজ, তার দিনের পর দিন অন্য জায়গায় সময় কাটানো একদমই সম্ভব নয়। ফিরতি পথেই কত মানুষের সাথে দেখা হলো, সবাই কাজের কথা বলছিল। ওসমান খন্দকার এই কয়েক বছরে যে কী রাজকার্য্য উদ্ধার করেছে, তিনি ভেবে পান না। কোন কাজ গোছানো নেই, যেখানেই হাত দেন সেখানেই এলোমেলো। তাকে সবটা নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে। তিনি অবশ্য যথেষ্ট গুণী মানুষ, যথেষ্ট সচেতন; অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাই দায়িত্বের সাথে সবটা সামনে নিয়েছেন। ওসমান খন্দকার একটু গোলমাল লাগানোর চেষ্টা করছে, এটা বেশ ভালোই বুঝতে পারছেন। তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে কিছু করছেন না, মানুষ দিয়ে নিজের কাজ হাসিল করার চেষ্টা করছেন। অবশ্য তাদের বাড়ির মানুষদের সাবধান থাকাই শ্রেয়, কখন কোন দিক দিয়ে কার কি ক্ষতি হয়ে যায় বলা তো যায় না!
বাড়ির সবাই বসার ঘরে বসে এসব নিয়েই আলোচনা করছিল। বড় চাচা বললেন, 'রোদ্দুর কোথায়? বাড়ির সবাই এখানে ও একলা ঘরে বসে আছে কেন? ডেকে নিয়ে আসো। ছেলেটা বোধহয় দিনকে দিন ঘরকুনো স্বভাবের হয়ে যাচ্ছে।'
বাবার কথা শুনে তানিশা গেল রোদ্দুরকে ডাকতে। গিয়ে দেখল রোদ্দুর কানে হেডফোন গুঁজে ল্যাপটপে অনুবরত টাইপিং করছে, নিশ্চিত অফিসের কাজ। তবুও তানিশা সামনে এসে ডাকল, 'ভাইয়া....আইমিন দুলাভাই।'
রোদ্দুর ওর দিকে তাকিয়ে হেডফোন খুলে ভুরু কুঁচকে বলল, 'বল।'
'বসার ঘরে সবাই তোমাকে ডাকছে। চলো।'
'কেনো? আমার জানামতে আগামীকাল তোর বার্থডে। আজ সবাই একত্রিত হয়ে কি করছে?'
'সবাই গল্প করছে। বাবা বলল তোমাকে ডেকে নিয়ে আসতে। তুমি নাকি বিয়ের পর বউয়ের আঁচলের তলায় সবসময় লুকিয়ে থাকো। আমাকে বলেছে, ওরে কান ধরে টেনে নিয়ে আয়।'
তানিশার কথা শুনে রোদ্দুর তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 'বড় চাচা এই কথা বলেছে? ও মাই গড! আমার বিরুদ্ধে আমার বাড়িতেই কীসব ষড়যন্ত্র চলছে। আচ্ছা এই কথাটা কি বাড়ির সকলের সামনে বলেছে?'
তানিশা হাসতে হাসতে বলল, 'আরে ভাই হ্যাঁ। তোমার আব্বু-আম্মুও উপস্থিত। এমনকি দাদিও আছে। আরও যে কীসব কথা বলছে, তা শুনলে তুমি মিনি হার্ট অ্যাটাক করবে।'
বাড়ির সবাই? তারমানে ঝিলমিল'ও ওখানে রয়েছে? ওহ নো, তার মানসম্মান! গেল যে গেল, সব গেল। বাড়ির ছোটোবড় সকলের সামনে ইদানিং খুব করে তার প্রেস্টিজ পাংচার করে দেওয়া হচ্ছে। সবাই মিলে প্রতিযোগিতা লাগল কিনা কে জানে! রোদ্দুরের ঝিলমিলের কথা আলাদাভাবে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করল, কিন্তু ছোটো বোনগুলো যা পাজির পাজি; ওরা নির্ঘাত এটা নিয়ে মজা করবে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে তানিশার সাথে বসার ঘরে এলো।
বড় চাচা রোদ্দুরকে দেখে খবরাখবর জিজ্ঞেস করলেন। রোদ্দুর আলতো হেসে হবে প্রশ্নের জবাব দিয়ে আশেপাশে তাকাতে লাগল। ঝিলমিলকে কোথাও দেখতে পেল না, তারমানে ও নেই এখানে। একটু আগের কথাগুলোও শোনে নাই। যাক বাবা, জোর বাঁচা গেল।
দাদি খেয়াল করলেন রোদ্দুরের আশেপাশে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকানোর বিষয়টা। আপন মনে তিনি বললেন, 'আজকের যুগের পোলাপানের মতিগতি বুঝিনা। দুইদিন আগেই বিয়ে করব না বিয়ে করব না বলে কীঈঈ চেঁচামেচি, বাবাগো বাবা! আর এখন বউকে দেখছে না বলে মুখটা একটুখানি করে দাঁড়িয়ে আছে, আশেপাশে খুঁজেও দেখছে। আরে হতচ্ছাড়া, আমরা কি তোদের খারাপ চাই নাকি? বিয়ে করে তো সুখেই আছিস।'
ঝিলমিলের খোঁজ পড়ল কিছুক্ষণ বাদে। মাহমুদ সরকার নিজেই মেয়ের খোঁজ করলেন। তখন বাড়ির সবার নজরে এলো, ঝিলিমিলকে অনেকক্ষণ যাবৎ তারা কেউ দেখে নাই। শিমু ভেবেছিল, হয়তো রোদ্দুরের সাথেই রয়েছে; বাকিরাও তাই ভেবেছে। ফোন করেও ওকে পাওয়া গেল না, ফোন অনবরত বেজে যাচ্ছে কিন্তু রিসিভ করছে না। রিমঝিম ওই ঘরে খোঁজ নিয়ে দেখল ফোনটা ঘরেই ফেলে গেছে। সবার তো চিন্তা ধরে গেল, রাত হয়ে গেছে এরমধ্যে মেয়েটা কোথায় গেল? কোন বিপদ আপদ হলো না তো?
রোদ্দুর'ও চিন্তিত হয়ে আশেপাশে তাকাল। একটু আগে যে এসেছিল জন্মদিনের কথা বলতে, এরপর ঝিলমিলের সাথে আর দেখাও হয় নাই ওকেও আর কোথাও দেখতে পায় নাই।
এখন বাড়ির সবাই তাকে প্রশ্ন করছে, 'বিয়ে করেছিস আর বউয়ের কোন খোঁজ রাখবি না? আশ্চর্য! তুইও জানিস না ঝিলমিল কোথায়? এটা কেমন কথা রোদ্দুর? দায়িত্ববোধ কি সব পানি দিয়ে গিলে খেয়েছিস? এখানে বাড়িতেই এই অবস্থা, ওখানে তো একলা থাকিস; কী করিস কে জানে? ঠিকঠাক মত ওর কেয়ার করিস তো?'
রোদ্দুর কী বলবে ভেবে পেল না। ঠিক এই কারণেই ওখানে ঝিলমিলকে চোখে চোখে রাখে, বাহিরে যাতায়াত করতে দেয় না একা একা। কিন্তু এখানে যেহেতু বাড়িতে সবাই আছে, আর এখানকার সবাই ওর আপনজন, পরিবেশটাও পরিচিত; তাই সেইভাবে গুরুত্ব দিল না। কিন্তু বাড়ির সবাই যেভাবে ওকে দোষারোপ করছে, তারপর তো কিছুই বলার থাকে না।
ছোট চাচ্চু বললেন, 'আচ্ছা ঠিক আছে। এখন তো এতসব কথা বলে লাভ নেই। আমি বাহিরে দেখছি। হয়ত শিউলিদের বাড়িতে থাকতে পারে, আগেই নেগেটিভ ভাবার প্রয়োজন নেই তো। ও তো প্রায় ওখানেই চলে যায়। আমি দেখছি। তোমরা বাড়িতেই ভালো করে খুঁজে দেখো। রোদ্দুর তুই'ও ভালো করে খুঁজে দেখ।'
শিমু তো প্রায় চিন্তায় চিন্তায় প্রায় পাগল হয়ে গেছে। মেয়েটাকে চড় মারার জন্যও আফসোস করলেন। সবাই যে যার মত ঝিলমিলকে খুঁজতে বেরিয়ে গেল।
রোদ্দুর হন্তদন্ত হয়ে সোজা ছাদে উঠল। পুরো ছাদে ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে দেখেও ঝিলমিলকে পেল না। এইবার সত্যি সত্যি তার'ও টেনশন হচ্ছে। এই রাতের বেলা মেয়েটা যাবে কোথায়? এখানে তো আর পাশের বাড়ির ভাবী নেই। টেনশনে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে গিয়ে আচমকা অন্ধকারে পা ফসকে গেল। চোখ পড়ল বা'দিকে চিলেকোঠার ঘরে। ওখান থেকে অর্থাৎ ভেজানো দরজার নিচ দিয়ে আলোর রেখা ভেসে আসছে। রোদ্দুর উঠে এসে ওই ঘরেই উঁকি দিল। এতক্ষণ যার জন্য বাপ চাচারা মিলে তার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করল, সেই মেয়েটাকে এই ঘরেই দেখতে পেল। রোদ্দুর গম্ভীর মুখে এগিয়ে গেল। ঝিলমিল উল্টো দিক ফিরে চেয়ারে দাঁড়িয়ে বেলুনগুলো দেওয়ালে সেট করছিল। রোদ্দুর খেঁকিয়ে উঠল, 'অ্যাই বেয়াদব!'
আচমকা এরকম কণ্ঠস্বর শুনে ঝিলমিল ভয় পেয়ে চমকে উঠল। ঘুরে তাকাতে গিয়ে পা কাঁপার ফলে ঠাস করে পড়ে গেল। তবে পুরোপুরি মেঝেতে পড়তে পারল না, তার আগেই রোদ্দুর ধরে ফেলল। ঝিলমিল চোখ, নাক, মুখ কুঁচকে পড়ে যাওয়ার অপেক্ষা করছিল, কিন্তু শূন্যে ভেসে আছে এটা উপলব্ধি করতেই ভয়ে আরো সিটিয়ে গেল। নির্ঘাত ভূত বাবাজি!
হঠাৎ, চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই রোদ্দুরের সেই অনুভূতিটা আবার ফিরে এলো। আশ্চর্য, এটা কীরকম বুকের ভেতর আনচান করা অনুভূতি! ঠিক আনচান না, মনে হচ্ছে হৃদপিণ্ড ধরাস ধরাস করে লাফাচ্ছে; কারেন্ট শক খাওয়ার মতো অনুভূতি হচ্ছে। ওর ছোঁয়াতেই কেনো এই অদ্ভুত অনুভূতিটা হচ্ছে— প্রশ্নটা রোদ্দুর নিজের কাছেই তুলে রাখল!
.