সানিয়া তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রোদ্দুরের গমনপথে তাকিয়ে রইল। ওকে দেখেও এভাবে ইগনোর করে অন্য একটা মেয়েকে নিজের বাইকের পেছনে নিয়ে উড়াল দিল। আশ্চর্য! সানিয়া রাগ লাগল ভীষণ। অধিকারবোধ এমন একটা বিষয় যা যখন ত খাটানো উচিত তখন আমরা হেলাফেলা করি, দাম দিই না। আর যখন আমরা অধিকারবোধ থেকে বেরিয়ে আসে তখন অধিকারবোধ খাটানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সানিয়ার হয়েছে সেই দশা। রোদ্দুর তাকে সবসময় সবক্ষেত্রে একটা শাসনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে রাখত, ঘুরেফিরে সেটাই এখন ঠিক মনে হচ্ছে। তানভীর একদম ওর মত না। ওই ছেলেটা সবসময় সবকিছু আবেগ, অনুভূতি ঠাট্টার ছলে নিয়ে হেসে উড়িয়ে দেয়। আর রোদ্দুর, সে সম্পর্কের প্রতিটি পর্যায়কে সম্মান করত।
সানিয়া এতদিন ভেবে নিয়েছিল, যেভাবেই হোক রোদ্দুরকে কনফেস করার চেষ্টা করবে। সাময়িক রাগ থেকে আর কতদিন দূরে থাকবে? সে না হয় ভুল করেই একটা ভুল করে ফেলেছে, তার শাস্তি আর কতটা কঠিন হবে! কিন্তু আজ এই মেয়েটাকে রোদ্দুরের সাথে দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। নতুন গার্লফ্রেন্ড কি? এত্ত তাড়াতাড়ি?
.
রোদ্দুর ঝিলমিলকে নিয়ে রাতের খাবার খেয়েই বাড়ি ফিরল, সাড়ে দশটার পর। ঝিলমিলের মনমেজাজ এখন ফুরফুরে। ঘুরে এসে, বাহিরের হাওয়া বাতাস গায়ে লাগিয়ে শান্তি লাগছে। কোনোরকম ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে কাপড়চোপড় চেঞ্জ করে এসে সরাসরি কম্বলের মধ্যে ঢুকে পড়ল। বাড়িতে ফোন করে দাদির সাথে কথা বলছিল।
দাদি হাসতে হাসতে বলছিলেন, 'বলেছিলি, বিয়ে করবি না আমার দাদুভাইকে। এখন? এখন তো ঠিকই ঘুরতে যাস। স্বামীর আদর সোহাগে চেহারাই পাল্টে গেছে।'
ঝিলমিল ভুরু কুঁচকে বলল, 'একদম বাজে কথা বলবে না। এখানে এসে যে কী মুশকিলের মধ্যে আছি আমি, যা বলার মত নয়। ছোট চাচ্চুকে বলো না, আমাকে এসে নিয়ে যেতে! একা একা যাওয়া তো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।'
'কেনো রে? ওখান থেকে চলে আসবি কেনো? প্রথম প্রথম একটু মুশকিল হবেই, ও সবার'ই হয়। তাই বলে নিজের স্বামীকে ছেড়ে চলে আসবি? ব্যাটা মানুষকে শক্ত করে বেঁধে রাখতে হয়। তবে আশেপাশে বেড়াজাল তৈরি করতে হয় না। তুই ওখানেই থাক। দাদুভাই যখন আসবে, তখন ওর সাথে আসবি এবং ও চলে গেলে তুই'ও যাবি। বিয়ের পর পুরুষ মানুষের একা থাকতে নেই, বউ ছাড়া......' উনি সব ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর কথা বলতে লাগলেন। ঝিলমিল চোখমুখ খিচে, কানে হাত দিল। তারপর আরেক হাতে দ্রুত স্পিকার অফ ছিল। ভাগ্যিস রোদ্দুর আশেপাশে নাই, শুনে ফেললে মানসম্মানের আর কিছু বাকি থাকবে না। দাদির ভয়ানক কথা থেকে বাঁচার জন্য সে ঘুমানোর ভান করে ফোন কেটে দিল। সত্যিই অবশ্য ঘুম পেয়েছে। গতদিনের মত আজও মাঝখানে ব্যাড়িকেড দিয়ে ও একপাশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
রোদ্দুরের চায়ের নেশা আছে। চা না হলে ওর চলেই না। এতক্ষণ রান্নাঘরে চা বানাচ্ছিল। এসে দেখল ঝিলম শুয়ে পড়েছে। সে নিজেও ল্যাপটপ'টা নিয়ে একপাশে বসে পড়ল। চায়ের কাপটা রেখে দিল পাশের ছোট্ট টেবিলে। অনেকটা সময় নিয়ে একধ্যানে কাজ করে গেল। হঠাৎ ফোনের টিং টিং আওয়াজ মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করল। রোদ্দুর বিরক্ত হয়ে ফোন হাতে নিয়ে দেখল আননোন নাম্বার থেকে কয়েকটা মেসেজ এসেছে। সে মেসেজ গুলো
পড়তে আরম্ভ করল—
'তোমার সাথে আজকে একটা মেয়েকে দেখলাম। ও তোমার কে হয়?'
'প্লিজ আনসার মি রোদ্দুর।'
'আমি ভুল করেছি, তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। বাট তুমি আমার সাথে চিট করছ! ইটস্ নট ফেয়ার। আমি কোনোভাবেই মানব না এসব।'
'তুমি আমার সাথে সময় করে একটু দেখা করো। আমি আমার না বলা কথাগুলো বলতে চাই, প্লিজ। আমাকে একটু বোঝার চেষ্টা করো। আই রিয়্যালি লাভ ইউ!'
রোদ্দুরকে কেউ বলে দিল না, কিন্তু মেসেজের এবং কথাবার্তার ধরন দেখে সে বুঝতে পারল এটা নিশ্চিত সানিয়া। আজ তো দেখেছিল, ঝিলমিল সাথে থাকা ছাড়াও সে কথা বলত না। আর বলছে ক্ষমা চাওয়ার কথা? ক্ষমা তো অনেকবার করে ফেলেছে, তার ফলও পেয়েছে। আর কতবার ক্ষমা করবে? এখন তো ক্ষমা করার কোন চান্স নেই। ক্ষমা করলেও, জীবনে ফিরিয়ে আনার কোনো অপশন নেই। অবশ্য সে দ্বিতীয়বার এই ভুল করতেও চায় না। রোদ্দুর সানিয়ার মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করল না, ফোন ভাইব্রেট করে কানে হেডফোন গুঁজল।
ওইদিকে সানিয়া ফোন দিতেই আছে। বোধহয় নিজের কাছে পণ করেছে, রোদ্দুর যতক্ষণ না ফোন রিসিভ করবে ততক্ষণ ওকে জ্বালাতেই থাকবে। ফোনের কাঁপুনিতে ঝিলমিলের কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে গেল। ওইদিকে রোদ্দুরের ধ্যানজ্ঞান এইদিকে নেই। ঝিলমিল ঘুমের ঘোরে ফোন হাতে নিল, ভাবল নিজের ফোন ভাইব্রেট করতেছে। রিসিভ করে কানে তুলতেই ভেসে এলো, 'এতক্ষণ যাবত ফোন করছি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছো না। এতটাই গুরুত্বহীন হয়ে গেছি আমি তোমার জীবনে? নতুন কাউকে পেয়ে এখন আমাকে ভুলে গেছ? আমি তোমার এই ব্যবহার একদম নিতে পারছি না। তুমি প্লিজ আমার সাথে দেখা করো। তোমার সাথে আমার কথা আছে। আমি কিছু কথা বলতে চাই, মন দিয়ে শুনো। সেইদিনের ঘটনার পর তুমি আমাকে কথা বলার কোন সুযোগ'ই দিচ্ছো না। মানুষ তো ফাঁ'সির আসামিকেও তার শেষ ইচ্ছে পূরণের সুযোগ দেয়। আর.....'
তৎক্ষণাৎ ঝিলমিল বুঝতে পারল, এটা রোদ্দুরের ফোন। সে দ্রুত ফোন কেটে দিল, তারপর ফোনটা রেখে উঠে বসল। পাশে তাকিয়ে রোদ্দুরকে দেখল। কাজে এতটাই মত্ত যে আশেপাশে কী ঘটছে তার কোন খেয়ালই নাই।
ঝিলমিল বলল, 'তোর ফোনের আওয়াজে আমার ঘুম ভেঙে গেল, অথচ তুই নিশ্চিন্তে বসে আছিস?'
ঝিলমিলের কথা শুনে রোদ্দুরের মনোযোগ ভাঙ্গল। সে হেডফোন খুলে বলল, 'হুঁ? কিছু বললি?'
ঝিলমিল ফোনের দিকে তাকিয়ে বলল, 'অনেকক্ষণ যাবত তো ফোন বাজছে। কথা বলার হলে কথা বলে নে, নয়তো ফোন অফ করে রাখ। তোর ফোনের আওয়াজে আমার কেন ঘুম ভাঙবে? বিরক্তিকর। এত কার সাথে পিরিতি যে রাতবিরাতে ফোন করতে হবে?'
রোদ্দুর বলল, 'আচ্ছা সরি।'
তারপর সে ফোন হাতে নিয়ে দেখল, আননোন নাম্বারটা। সানিয়া একেক সময় একেক নাম্বার থেকে ফোন করে। রোদ্দুর ফোন অফ করে দিল। তারপর উঠে নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে রুমের লাইট অফ করে দিয়ে শুয়ে পড়ল। ঝিলমিল তখনও বসে আছে, তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে। রোদ্দুর তা খেয়াল করে ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে বলল, 'কি হয়েছে? শুয়ে পড়।'
'তোর কাহিনী দেখতেছি। কথা না বলে ফোন অফ করে রাখলি কেন?'
'তেমন কোনো ইম্পর্ট্যান্ট কল নয়।'
'তাহলে এত রাতে কেন ফোন দিচ্ছিল?' ঝিলমিলের প্রশ্ন।
রোদ্দুর বলল, 'এটার উত্তর তো যে ফোন দিচ্ছিল, সে বলতে পারবে। আমি কীভাবে বলব।'
'কে ফোন দিচ্ছিল?'
'আননোন নাম্বার থেকে কেউ ফোন দিচ্ছিল। আমি জানি না।' এটুকু বলে রোদ্দুর পাশ ফিরে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে গেল অথবা ঘুমের ভান করল। কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় অনেকক্ষণ ঝিলমিলের ঘুম এলো না। অযথা জেগে এপাশ ওপাশ করল। তারপর সংখ্যা উল্টোদিক থেকে গুণতে শুরু করল। পঞ্চাশ, ঊনপঞ্চাশ, আটচল্লিশ, সাতচল্লিশ, ছেচল্লিশ, পঁয়তাল্লিশ....' একসময় সে ঘুমিয়ে পড়ল।
.
গতদিনের মতো আজও রোদ্দুর অফিসে যাওয়ার আগে ঝিলমিলকে সাবধান করে দিয়ে গেল। ঝিলমিল বলল, 'আমি তো কোথাও যাই না। শুধু ছাদে যাই। গতকাল'ও তাই গেছিলাম।'
'ওহ আচ্ছা। কিন্তু সেখানে একা কি করিস? এরচেয়ে বাড়িতে বসে থাকা বেটার না?'
'আমি মোটেও একা থাকি না। পাশের বাসার ভাবি আছে তো। তার সাথেই গল্প করি।'
রোদ্দুর কপাল কুঁচকে তীক্ষ্ণ গলায় বলল, 'ভাবি? পাশের বাসার? হাউ ইজ ইট পসিবল? আমি এতদিন যাবত এখানে থাকি, আমার সাথে কারো পরিচয় হলো না। আমি কাউকে চিনলাম না, আমার কোনো ভাবি হলো না। আর তুই দুইদিনে ভাবি পাতিয়ে ফেলেছিস! আজিব তো। যাইহোক, সাবধানে থাকিস। ছাদ পর্যন্ত ঠিক আছে, কারো বাসায় যাওয়ার দরকার নেই।'
'ওটা আমার ব্যাপার, তুই বুঝবি না। যা তো, বের হ। তোর দেরি হয়ে যাচ্ছে না।' ঝিলমিল নিজেই রোদ্দুরকে ঠেলেঠুলে বিদায় করে দরজা লাগিয়ে দিল।
রোদ্দুর বাহিরে দাঁড়িয়ে ভাবল, সারা দুনিয়া খুঁজলেও এর মত একটা পাওয়া যাবে না। আমার বাড়ি থেকে আমাকেই বের করে দিচ্ছে, বাহ।
.
ঝিলমিল সকালে টুকটাক করে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে কাজ করল। তেমন কিছু না, বিছানা গুছিয়ে রাখল শুধু। এখানে দুই/তিনদিনের মধ্যে নিজেকে চেষ্টা করেছে মানিয়ে নিতে। তবে, রোদ্দুর যে তাকে গতকাল চলে যেতে বলেছে সেটা এত তাড়াতাড়ি ভুলে যায় নাই। চলে যাওয়ার কথা বাড়িতে বলাই যায় না, বললেই আগুন লেগে যায়। সবাই চেঁচামেচি শুরু করে দেয়, 'কী হচ্ছে ঝিলমিল? রোদ্দুর ওখানে একা আছে, আর তুই ওর বউ হয়ে এখানে চলে আসবি? তোকে এখানে আমরা কয়দিন থাকতে দিব? বেশি হলে দশদিন। এরপর আর এখানে থাকতে পারবি না বাপু।'
এখন ঝিলমিল কি করবে? কোথায় যাবে? সবদিক থেকে বিপদে পড়ে গেছে। বিয়েটা করেই তো মুসিবত। বিয়ে না করলে, তার বাপের বাড়ি তার'ই থাকত। সে নিজেই 'ধুর ছাই ধুর ছাই' করে কপাল চাপড়াল।
দুপুরে কোনোরকম রান্না করল। শিউলি ফোন করে জানাল, পরীক্ষার ডেট দিয়েছে আগামী মাসে। এখানে না আসুক, অন্তত পড়াশোনা করা শুরু করে দিক।
আজ বাদে কাল পরীক্ষা, অথচ ঝিলমিল এখনও বই ধরেও দেখে নাই। তাতে অবশ্য সমস্যা হয় না। পরীক্ষার আগের রাতে পড়ে যদি পাশ করা যায়, তাহলে মানুষ কেনো কষ্ট করে আগে থেকে পড়বে?
পরীক্ষার পাশাপাশি অন্য একটা চিন্তাও ঝিলমিলের মাথায় ঘোরাফেরা করছিল। সেটা হচ্ছে, গত রাতে রোদ্দুরের কাছে ফোন দিয়েছিল কে? ফোন দিয়েও উদ্ভট কথা বলছিল। তাদের দু'জনের বিয়ে হলেও এখনও কেউ সেটা মন থেকে মেনে নিতে পারে নাই। দু'জনেই দু'দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কেউ কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। সেই অনুপাতে, ঝিলমিলের'ও উচিত নয় রোদ্দুরের এই বিষয়টা নিয়ে মাথা ঘামানো। কিন্তু ওই যে কৌতুহল! তা দমিয়ে রাখবে কি করে? রোদ্দুর জিজ্ঞেস করলেও হয়ত বলবে না.... বলবেই না। উল্টো আরও ধমক দিয়ে বলবে, 'সবকিছু এত জানতে চাস কেনো? তোর গোবরপড়া মাথায় পড়াশোনা'ই ঢোকে না, অন্য বিষয় তো দূরেই থাক।'
বিকালে আবারও ছাদে গেল। পাশের বাসার সেই ভাবির সাথে দেখা হলো, গল্পগুজব হলো। রোদ্দুর বাড়ি ফেরার আগেই ঝিলমিল ফিরে এলো, নয়তো ফিরে এসে আবার চেঁচামেচি শুরু করবে। কে শুনবে এত কথা!
.
দু'দিন হয়ে গেছে বন্ধুদের সাথে রোদ্দুরের দেখা হচ্ছে না। ওরাও ফোন করছে না, কী হয়েছে কে জানে? রোদ্দুর দুপুরে হাসানকে ফোন করেছিল, ও ফোন রিসিভ করল না। বাকিদেরও কোন খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না। এইদিকে ওই সময় ঝিলমিলকে বাড়িতে একলা রেখে নিজে বের'ও হতে পারছে না। যথেষ্ট বড় একটা রাত, একা একা করবেই বা কী? অবশ্য রোদ্দুর থাকলেও যে কিছু করে তা নয়, এমনিতেই বকবক করতে করতে মাথা খায়।
তবে আজ একটু চৌরাস্তার মোড় যাওয়া প্রয়োজন। ঝিলমিলকে জিজ্ঞেস করল, ও একা থাকতে পারবে কিনা কিছুক্ষণের জন্য?
ঝিলমিল তড়িৎ গতিতে বলল, 'কেনো? কেনো? তুই কোথায় যাবি?'
'বাহিরে যাইতাম একটু কাজ আছে।'
'কাজ? আবার কাজ? আমি একা একা রাতে থাকতে পারব না, সেখানূ যেই কাজ করতে যাবি আমাকেও নিয়ে যা। আমিও যাব, কাজ দেখব।'
রোদ্দুর হতাশ হয়ে বলল, 'থাক, আমিই যাব না।'
'সত্যি করে বল তো কোথায় যাবি? আমার আসলেই সন্দেহ হচ্ছে। গতকাল রাতেও কেউ ফোন করল, তারপর তুই ফোনটাই অফ করে রাখলি। তোর হাবভাব ভালো লাগছে না কিন্তু। আমি কিন্তু শাশুড়ি মা'কে ফোন করে বলে দিব তোর কাহিনী।'
'আরে.... তোকে আমার বাইরে যাওয়ার কথা বলাই ভুল হয়েছে। একটু চুপ থাক প্লিজ। এত বকবক যে করিস সারাদিন, তোর মাথাব্যথা করে না? উফফফ, তোর কথা শুনলে স্রেফ আমার মাথা ভনভন করে।'
'তোর যে সস্তা মাথা, এইজন্য কথায় কথায় ভনভন করে।' ঝিলমিল ভেংচি কেটে বলল। দু'জনের বাকবিতন্ডার মাঝেই হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল। ঝিলমিল আর রোদ্দুর দু'জনেই চুপ করে দরজার দিকে তাকাল। রোদ্দুর উঠে দরজার দিকে আগাতে নিলেই ঝিলমিল বাচ্চাদের মত দৌড়ে গিয়ে বলল, 'অ্যাই অ্যাই আমি দরজা খুলব।'
এরপর সে দরজা খুলে সামনে কাউকে দেখতে পেল না। দু'পা বাইরে এসে দাঁড়াতেই কয়েকজন ঘিরে ধরল। উচ্চস্বরে চেঁচিয়ে বলল, 'ওয়েলকাম ভাবি!'
.