ঝিলমিল রোদ্দুরে

পর্ব - ২২

🟢

ঝিলমিল অনবরত দৌড়াচ্ছে, রোদ্দুর'ও ওর পিছে পিছে দৌড়াচ্ছে। দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় ঝিলমিলের কাছাকাছি এসে বলল, 'আরে দাঁড়া। এইভাবে অন্ধকারের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করলে পা পিছলে পড়ে এইবার কোমড় ভাঙ্গবি।'

ঝিলমিল তবুও শুনল না, দৌড়াতে থাকল। রোদ্দুর এগিয়ে এসে ওর হাত ধরে বলল, 'চুপচাপ হাঁটতে থাক।'

একটা অদ্ভূত বিষয়, ওদের মধ্যে আগেও একটা সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে আগেও বহুবার, অগণিতবার একে অপরের হাত ধরেছে। কিন্তু এইবার ঝিলমিলের হাত ধরে রোদ্দুরের কেমন যেনো লাগল, আগে কখনো এমন হয় নাই তো। এইবার কেনো? রোদ্দুর আড়চোখে মুঠোবন্দী হাতের দিকে তাকাল, সবই তো ঠিকঠাক তবে এমন আশ্চর্য রকম মনে হলো কেন? সে হাত ছেড়ে দিল, আগের অনুভূতিতে ফিরে এলো। পরীক্ষা করার জন্য আরেকবার ঝিলমিলের হাত ধরতে চাইল, কিন্তু ধরল না। ধরবে কীভাবে? হাত ধরার ছুতো খুঁজে পেল না।

ওরা বাড়ি এসে পৌঁছাতেই হুলুস্থুল কাণ্ড পড়ে গেল। যত যাইহোক বাড়ির বউ প্রথমবার এসেছে বলে কথা! ঝিলমিল বিরক্তিতে নাক কুঁচকে বলল, 'অনেক ঠান্ডা বাহিরে, আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছো না কেন? ঠান্ডায় বরফ হয়ে যাচ্ছি।'

রিমঝিম এগিয়ে এসে বলল, 'এইতো ভাবি চলে এসো। তোমাদের জন্য ছোটোখাটো একটু আয়োজন করলাম। তুমি আমার একমাত্র ভাবি বলে কথা! তোমার আদর সবার আগে।'

ঝিলমিল মুখ ভেংচাল। মনে মনে বলল, 'ভানের জলে ভাসিয়ে দিয়ে আবার আদর দেখানো হচ্ছে।'

ঘরে গিয়ে বাকিদের সাথে দেখা হলো। মা-বাবা, চাচা-চাচী, দাদি সকলের সাথে কুশল বিনিময় হলো।

দাদি বললেন, 'আহারে মাইয়াডার মুখটা শুকাইয়া এইটুকু হয়ে গেছে। খাওয়া-দাওয়া একদমই হয় নাই তাইনা? কই আমার দাদুভাই কই? তারে দেখতেছি না কেন?'

রোদ্দুর নিজের ঘরে চলে গিয়েছিল। তানিশা গিয়ে ওকে ডেকে আনল।

দাদি তার একমাত্র আদরের নাতির উদ্দেশ্য বললেন, 'দাদুভাই, বউয়ের যত্ন নিচ্ছো না? সেদিন শুনলাম কীভাবে জানি পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পেয়েছে।'

ঝিলমিল ইশারায় বোঝাল, রোদ্দুর'ই তাকে ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। তারপর বানিয়ে বানিয়ে মেজো চাচীকে যে আরও কত কথা বলল তার ছেলের সমন্ধে।

রোদ্দুর শুধু ভাবছে, 'যেই আমি বাড়ি ফিরি রাত্রের বেলা, সেই আমি ওর জন্য মানবিকতার কারণে বাড়ি ফিরি অফিস শেষ করেই। ভাবি, বেচারা একা একা কি করে থাকবে? নতুন শহর, নতুন পরিবেশ; থাক আমি একটু স্যাক্রিফাইজ করি। আর এই বহুরূপী কীভাবে ফাঁসাচ্ছে আমায়। শালা ভালো মানুষের দাম নাই জগতে। ধুরু, কেউ পাত্তাই দিচ্ছে না আমায়। আসলাম কেন এখানে? চলে যাব, চলে যাব।' রোদ্দুর কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল।

সেদিন রাতে ঝিলমিল আগেভাগেই গিয়ে নিজের ঘরে শুয়ে পড়ল। না হয় ঘরের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে হবে। ঝিলমিলের মনে হলো, অনেকদিন পর সে নিজেকে ফিরে পেয়েছে। ঘরজুড়ে কেমন আপন আপন ঘ্রাণ! ঝিলমিল পুরো ঘর এলোমেলো করে, কাপড়-চোপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘুরে বেড়াল‌। বারান্দায় গিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। কিছুক্ষণ বাদে একটা অন্ধকার ছায়া দেখতে পেল, আচমকা মনে পড়ে গেল কিছুদিন আগেও এই ঘরের জানালায় কেউ ঠকঠক করত। ভয়ে হাত পা শিটিয়ে গেল ওর। তবুও ওখানে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইল। ও দেখতে চায়, কে এই লোক? তার সাথে কীসের শত্রুতা? এত বছর য়ে গেছে, কখনো এই বাড়িতে এইরকম উপদ্রবের সৃষ্টি হয় নাই। তবে এইবার কেনো? নিশ্চয়ই কোনো না কোনো কারণ আছে। ঝিলমিল কাউকে সন্দেহ'ও করতে পারছে না। সে দেখতে থাকল।

অবয়ব'টা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল। উপর থেকে স্পষ্ট মুখটা দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু ওটা যে একটা ছেলেমানুষ সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ঝিলমিল ভাবল, নিচে গিয়েই ধরবে। উপরে থেকে সে কিছুই করতে পারবে না। এখান থেকে চেঁচামেচি করলে বাড়ির মানুষ আসার আগে ওই ব্যাটা পালাবে। ঝিলমিল দৌড়ে নিচে নামল। চুপিচুপি সদর দরজা খুলে গেল। বাড়ির পেছন দিকে যেতেই পায়ের সরসর আওয়াজ ভেসে এলো। ঝিলমিল ফের বাড়ির মধ্যে গেল এবং বড়সড় একটা লাঠি নিয়ে ফিরে এলো। বিড়ালের মত চুপিচুপি সামনের দিকে এগোতে লাগল। খুব কাছেই ছায়ামানবকে দেখতে পেল। ঠাস করে যেইনা পেছন থেকে মাথায় একটা বাড়ি দিতে যাবে, ওমনি সে সামনের দিকে ফিরে লাঠিটা ধরে ফেলল।

ঝিলমিল অবাক হয়ে তাকাল। যেই এন্টারটেইনমেন্ট নিয়ে এসেছিল, তার সবটাই মূর্ছা গেল। ছায়া মানবের পরিবর্তে যে রোদ্দুরকে দেখতে পারবে এটা কল্পনাও করতে পারে নাই। রোদ্দুর'ও ওকে দেখে অবাক!

জিজ্ঞেস করল, 'তুই কি পাগল? তোর মাথার তার ছেঁড়া? মারামারি করতে আসছিস কোন দুঃখে? এক্ষুনি তো দিতি মাথা ফাটিয়ে। আশ্চর্য।'

'তুই কি করছিস এখানে এত রাতে? আমি তো চোর ডাকাত ভেবে এসেছিলাম। আর তোকে না উপর থেকে দেখে চোরের মতোই মনে হচ্ছিল।'

'তুই কি পাহারাদার? ঘুম বাদ দিয়ে বাড়ি পাহারা দিচ্ছিস?' রোদ্দুর কোমড়ে দু'হাত গুঁজে প্রশ্ন করল।

ঝিলমিল উত্তর দিল, 'আমার কথা বাদ দে। তুই কি করছিস তাই বল? কে আছে আর এখানে? বাই দা ওয়ে, তোর সেই গার্লফ্রেন্ডকেও কি ধরে বেঁধে নিয়ে এসেছিস? ও নিশ্চয়ই এখানে কোথাও লুকিয়ে আছে। আর তুই চুপিচুপি এসেছিস প্রেম করতে তাইতো! দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা।'

এই বলে ঝিলমিল আশেপাশে ঝোপঝাড়ের মধ্যে খুঁজতে লাগল। রোদ্দুর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল ওর কর্মকাণ্ড। একটু আগে বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই ওর হাত থেকে ঘড়িটা নিচে পড়ে গিয়েছিল। সেটাই এতক্ষণ ধরে খুঁজছিল। কিন্তু ঘড়ি খুঁজতে এসে যে এইরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কে জানত!

রোদ্দুর ঝিলমিলকে বলল, 'ঘরে যা কাউকে পাবি না।'

'আমি কিন্তু বাড়ির সবাইকে বলে দিব।' মুখ কালো করে বলল ঝিলমিল।

'আচ্ছা বলিস, এখন চল।'

ঝিলমিল সুর টেনে চেঁচাল, 'নাআআআআ। আমি যাব না। আমি দেখব তোর গার্লফ্রেন্ডকে।'

রোদ্দুর ঝিলমিলকে হাত ধরে টেনে উঠাল। তারপর ওর হাত ধরেই ঘরের দিকে টেনে নিয়ে গেল।

ঝিলমিল হেলেদুলে পুনরায় বলল, 'তুই কেনো তোর গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে এসেছিস?'

বিজ্ঞাপন

রোদ্দুর ওখানেই দাঁড়িয়ে পড়ল। ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে বলল, 'কেনো হিংসা হচ্ছে?'

ঝিলমিল ওখানেই ঠাস করে দাঁড়িয়ে পড়ে অবাক হয়ে তাকাল। নিমিষেই চোখমুখ কুঁচকে অদ্ভূত একটা ভঙ্গি করল। এক ঝটকায় রোদ্দুরের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, 'আমি কেন হিংসা করব? যা তো তুই। ছ্যাহহ, কি না কি গার্লফ্রেন্ড তাকে আবার আমি হিংসা করব। আমি? আমি.....? হোয়াই?'

এই বলে ঝিলমিল আর দাঁড়াল না, উল্টো পথে হনহন করে হেঁটে নিজের ঘরে চলে গেল। রোদ্দুর হেসে আপনমনে বলল, 'পুরোদস্তুর পাগল কোথাকার!'

.

সকাল সকাল ঝিলমিল উঠে শিউলিকে ডাকতে গেল। শিউলির জানা ছিল না ঝিলমিল এসেছে। সকাল সকাল ওকে দেখে একদম অবাক! এগিয়ে এসে বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে বলল, 'ভাবি এসেছেন? কী যে আনন্দ লাগতেছে। আসেন, আসেন এই প্রথম আমার বাড়িতে এলেন।'

ঝিলমিল মুখ কালো করে বলল, 'তুই'ও?'

শিউলি ওর কথা পাত্তা দিল না, হাত ধরে ঘরে নিয়ে গেল। তারপর মা'কে ডাকতে ডাকতে রান্নাঘরে গেল। শিউলির মা রোমেনা এসে ঝিলমিলকে দেখে ভীষণ খুশি হলেন। বললেন, 'কি গো আম্মাজান? একাই বেরাতে এসেছ, জামাই এলো না কেন?'

ঝিলমিল লাজুক হেসে বলল, 'না আন্টি। আমি এমনিই শিউলির সাথে দেখা করতে এলাম। ও কোথায় গেল? একটূ ডেকে দেন। নদীর পাড় থেকে ঘুরে আসি।'

'আচ্ছা যাও। অ্যাই শিউলি, এদিকে আয়। আর তুমি শোনো মা, ওর সাথে সরাসরি আমাদের এখানে চলে আসবে। সকালের নাস্তাটা আমাদের সাথেই খেতে হবে কিন্তু। জামাইকে নিয়ে এসো‌। বিয়ের পর এখনও একবার'ও দেখলাম না।'

ঝিলমিল বলল, আচ্ছা আন্টি। আপনি আমাদের বাড়ি যায়েন।'

তারপর শিউলি আর ঝিলমিল বেড়িয়ে গেল। সকাল থেকে বের হওয়ার পর যে দেখে সেই জিজ্ঞেস করে, কিরে জামাই কই? কিরে বিয়ের দাওয়াত কবে দিবি? মেয়ে মানুষের বিয়ের পরে জামাই ছাড়া চলাফেরা করা উচিত নয়, মানুষের বাজে নজর লাগে। আরে, নতুন বউ যে। কী খবর?

উফফফফ— ঝিলমিল শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে গেল। আশেপাশে সবাই পরিচিত, তার উপর বড়ো চাচা চেয়ারম্যান হওয়ার পর তাদের বাড়ির পরিচিতি আরও বেড়েছে। তাই যেই দেখে সেই উঁকি দিয়ে জিজ্ঞেস করে, 'কিরে ঝিলমিল, জামাই কই রে?'

একপর্যায়ে ঝিলমিল বিরক্ত হয়ে বলল, 'আমাকে দেখো। আমাকে কি পছন্দ হয় না? এত জামাই জামাই করো কেন? জামাই দিয়ে কি করবা? দেখার এত শখ হলে বাড়ি গিয়ে দেখে আসো।'

ওরা হেসে বলে, 'ওমা! এতদিন তোকে বলেছি নাকি? বিয়ের পর আমরা আমাদের মেয়েকে একটু জামাইয়ের সাথে একসাথে দেখতে চাইব না? বুঝি রে বুঝি, লজ্জা পাচ্ছিস। যা বাপু, যেখানে যাচ্ছিস যা।'

ঝিলমিল অসহায় দৃষ্টিতে শিউলির দিকে তাকাল। তাকিয়ে লাভ নেই। সেও তখন থেকে ভাবি ভাবি করে যাচ্ছে। আর কিছুক্ষণ পর পর বলছে, 'বাসর রাতের গল্প শোনাও ভাবি। আমিও বিয়ে করব, তাই আগে থেকে শুনে রাখছি।'

ঝিলমিল যখন চোখ গরম করে তাকায় তখন শিউলি চুপ করে তারপর আবার শুরু করে। সময়টা এই ভাবেই কাটল। সারা পাড়া সারাদিন ঘুরে বেড়িয়ে বাড়ি ফিরল দুপুর নাগাদ।

বাড়ি গিয়ে দেখতে পেল মা দাদিকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে। ওনার আজকে একটা এপয়েন্টমেন্ট রয়েছে। ঝিলমিল বায়না ধরল সেও যাবে।

শিমু বলল, 'এইবার একটু সংযত হ মা। বিয়েশাদী হয়েছে, এখনও এইরকম লম্ফঝম্প করলে মানুষ কি বলবে বল তো? দু'দিন পর তো তোর শাশুড়ি আমার কাছে বিচার বসাবে। তখন কি করব?'

পাশ থেকে নীলিমা বললেন, 'না গো। আমার ওত-শত অভিযোগ নাই। আমরা তো ওকে আগে থেকেই চিনি। তোমার'ও যেমন মেয়ে আমার'ও তো মেয়ে। এখন আবার সম্পর্ক এককাঠি উপরে উঠে গেছে।'

'এই আহ্লাদে আহ্লাদেই তোমরা ওকে বাঁদর বানিয়েছ।'

অবশেষে ঠিক হলো, দাদির সাথে মা ঝিলমিল আর রোদ্দুর যাবে। সেই মোতাবেক বাড়ির গাড়িতে করে রওনা হলো। সামাদ ডাক্তারের হাসপাতাল খুব একটা বেশি দূরে নয়। পনেরো মিনিটের মাথায় ওরা পৌঁছে গেল। দাদির চেকআপ শেষে ঝিলমিল কাগজপত্র গুলো চেম্বার থেকে আনতে গেল। ঝিলমিলের পিছে পিছে রোদ্দুর'ও এগিয়ে গেল। ভেতরে ঢুকতেই একটা ডাক্তারকে দেখিয়ে ঝিলমিল বলল, 'সুন্দর না?'

'কী?'

'এইতো এই ডাক্তারটা।'

রোদ্দুর নির্বিকার ভাবে উত্তর দিল, 'হুম, সুন্দর।'

ঝিলমিল আরেকদিকে ইশারা করে দেখিয়ে বলল, 'উনিও সুন্দর, দেখ দেখ।'

'আমি ছেলেমানুষ দেখে কি করব? তুই দেখ।'

ঝিলমিল একটা তুড়ি বাজিয়ে বলল, 'দেখতেছিই তো।' রোদ্দুর ওর কথাবার্তায় কান না দিয়ে কাগজপত্র নিয়ে এলো। তারপর বাহিরে বেরিয়ে আসতেই শিমু বললেন, 'হয়েছে তোদের? এত দেরি হলো? মাকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে এসেছি। বয়স হয়েছে না, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়েও থাকতে পারে না। আয় তোরা, এইবার রওনা দিই।'

ঝিলমিল বলল, 'ডাক্তার দেখছিলাম মা। কী যে সুন্দর দুইটা ডাক্তার দেখলাম। ওরে বিয়ে না করলে আমি ওদের মধ্যে একজনকে নির্ঘাত বিয়ে করে ফেলতাম।'

শিমু কথাটা জাস্ট শুনল। চোখ গরম করে তাকিয়ে ঠাস করে চড় মারল। রোদ্দুর পাশ থেকে বলল, 'একটায় হবে না, আরেকটা।'

.

বিজ্ঞাপন
ঝিলমিল রোদ্দুরে গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও রহস্যময় গল্প