ঝিলমিল শূন্য ভাসমান অবস্থায় চোখ পিটপিট করে তাকাল। রোদ্দুরকে দেখে চক্ষু চড়কগাছ! ও কেমন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ঝিলমিল তৎক্ষণাৎ অপ্রস্তুত বনে গেল, পরপর কয়েকবার ফাঁকা ঢোক গিলল। নড়াচড়া করছিল ওই মুহূর্তে দরজা থেকে হাঁক করে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো, 'ওহ সরি সরি, আমি একদম বুঝতে পারি নাই তোমরা এখানে তাও এভাবে! আচ্ছা আমি চলে যাচ্ছি। কিচ্ছু দেখি নাই হ্যাঁ কিচ্ছু দেখি নাই।'
রোদ্দুর পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখল রিমঝিম দু'হাতে চোখ ডেকে উল্টো দিকে পা বাড়িয়েছে। সে হতভম্বের মত ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল। সেই সময়'ই ঝিলমিল বলে উঠল, 'ছাড় আমাকে।'
রোদ্দুর'ও ছেড়ে দিল, ছেড়ে দিতেই ঠাস। ও মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে খেতেই বলল, 'আল্লাহ এই বংশের সবকটা মানুষ নিষ্ঠুর। আমি একা ভালো মানুষ কাকে কি দোষ দিব?'
রোদ্দুর হাত বাড়িয়ে দিল, ঝিলমিল সেই হাত এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে নিজেই উঠে দাঁড়াল। দু'হাতে কোমড় বেঁধে রোদ্দুরের উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করল, 'আমি তোর কোন পাকা ধানে মই দিয়েছি যে তুই আমাকে বারবার ডিস্টার্ব করিস? দেখতেই পাচ্ছিস একটা কাজ, তবে কেনো পেছন থেকে ওভাবে চেঁচালি? তোর সেই পেত্নী মার্কা কণ্ঠ, তাতে তো যে কেউ ভয় পাবে!'
'তোকে এখন আমি কিছু বলব না। সোজা বাড়ির মানুষের হাতে তুলে দিব। যা ইচ্ছে তাই করবে, যা ইচ্ছে তাই বলবে।'
এরপর রোদ্দুর ঝিলমিলের হাত ধরল এবং মাঝপথে কোনো থামাথামি ছাড়া ওকে সোজা নিচে নামিয়ে নিয়ে এলো। তানিশা একটু আগে এসে যেহেতু সকলকে বলেছে, ঝিলমিল চিলেকোঠার ঘরেই ছিল; তাই সকলেই এসে উপস্থিত হয়েছে। ঝিলমিল দেখল সবাই ওর দিকে কড়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মায়ের চোখে চোখ পড়তেই আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে গেল। সে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'কি হয়েছে? আমি কি কিছু করেছি? তোমরা সবাই আমার দিকে এইভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?'
মাহমুদ সরকার নিজে এগিয়ে এসে মেয়ের উদ্দেশ্য বললেন, 'তুমি তো কখনোই কিছু করো না। যা করার আমরাই তো করি প্রতিবার, এইতো চিন্তায় চিন্তায় মর'ছিলাম। এখানেই যাও যাই করো না কেন, আমরা বাড়িতে এতগুলো মানুষ উপস্থিত আছি, বলে গেলে কি হয়? আর ফোন কেন সাথে থাকে না? মানুষ এত দায়িত্বজ্ঞানহীন কেনো হয়? কই, তোমার মত অন্যকেউ তো এমন করে না। তুমি একাই, একটা মানুষ'ই সারা দুনিয়ার মানুষকে প্যারায় রাখতে সক্ষম।'
ঝিলমিল বুঝল, অবস্থা খুব সিরিয়াস; না হয় বাবা কখনো এভাবে কথা বলে না। কখনো সামান্য রাগারাগী'ও করে না। এইজন্য'ই তো মা বলে, তোর বাপ আহ্লাদ দিতে দিতে তোকে মাথায় তুলছে।
একটু আগে ঝিলমিল জন্য অকারনে রোদ্দুরকে বকাবকি করায় শিমু ভীষণ আফসোস করে বললেন, 'আমার মেয়েটাই মত নষ্টের গোড়া। সবকিছুর মূলে সবসময় ওকেই পাওয়া যায়। ওকে আমি আজ পর্যন্ত বোঝাতে পারলাম না। যখনই শাসন করতে গেছি তখনই মা বলেছে, থাক ছোট মানুষ কিছু বলো না। ওরে জিজ্ঞেস করো ওই কি এখনো ছোট আছে? এই বয়সে এসব ফাজলামি মানায়? যত্তসব কাণ্ডজ্ঞানহীন মেয়ে!'
আর কেউ কিছু বলল না। যে যার মত নিজেদের ঘরে এবং নিজেদের কাজে চলে গেল। সকলে যাওয়ার পরে ঝিলমিল মুখ কালো করে সোফায় বসে পড়ল। রোদ্দুর ওখানেই ছিল। ঝিলমিলকে উদ্দেশ্য করে বলল, 'ফোনটা সাথে রাখলেই হয়।'
সে মুখ ঝামটে উত্তর দিল, 'তোর মত আমার ফোনে সারাক্ষণ মেসেজ আসে না। রাত বিরাতে কেউ ফোন করে বলেও না; নানানানা তুমি আমার সাথে এমন করতে পারো না। আমাদের এতদিনের সম্পর্ক তুমি এক নিমিষেই ভুলে যেতে পারো না।'
রোদ্দুর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টিভির রিমোট'টা নিজের দখলে নিয়ে বলল, 'ওহ আচ্ছা, তো কেমন লাগল?'
'আমি না এসব পরোয়া করি না। তোর চাচি সারাজীবন'ই আমার গুষ্টি উদ্ধার করে এসেছে।' কুশন কভারটা নিজের কোলে নিয়ে আয়েশ করে বসে পুনরায় বলল, 'অ্যাই তুই কবে যাবি?'
'যাব, যাব।' রোদ্দুর দায়সারা উত্তর দিল।
'কবে যাবি?'
'কেনো? তুই যাওয়ার জন্য এত উতলা হয়ে পড়েছিস কেনো? কাহিনী কী?'
'সবকিছুতে কাহিনী খুঁজিস না। আমার এখানে ভালো লাগছে না, কেউ আমাকে ভালোবাসে না। বল, কবে যাবি? আমিও তোর সাথে চলে যাব।'
রোদ্দুর ঠোঁট উল্টে বলল, 'তাই নাকি? আমি তো ভাবছি তুই আর এখান থেকে সহজে যাবি না।'
ঝিলমিল একটু ভাব নিয়ে বলল, 'স্বামীভক্ত হয়ে গেছি। ওসব তুই বুঝবি না। সবকিছু বুঝতে হলে তোকে বুদ্ধিজীবী হতে হবে।'
ঝিলমিলের কথা শুনে রোদ্দুর হো হো করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে বলল, 'তুই? স্বামীভক্ত? প্লিজ এসব আজেবাজে কথা বলে লোক হাসাস না। বিয়ের পর তুই আমাকে প্রথম লবণ দিয়ে চা বানিয়ে খাওয়ালি।'
'আরে এটাই তো ইউনিক। সব বউয়েরা তাদের স্বামীদের মিষ্টি জিনিস খাওয়ায়। মিষ্টির সাইড ইফেক্ট ভালো করেই জানিস। আমি না চাই না অকালে তোর ডায়াবেটিস হোক, সুগার বেড়ে যাক; তাইতো লবণ দিয়ে চা বানিয়েছি। এখন তুই বল, কয় শুনলে আমার মত স্বামীভক্ত আছে?'
রোদ্দুর আবারও হেসে বলল, 'না একদম নেই। সারা দুনিয়াতে হারিকেন জ্বালিয়ে খুঁজলেও তোর মত কাউকে পাওয়া যাবে না।'
ঝিলমিল জামার কলার নাচিয়ে একটু ভাব দেখিয়ে রোদ্দুরের গাল টেনে বলল, 'এইরকম বউ পাওয়ার জন্য আপনাকে অভিনন্দন।'
ঝিলমিল মুচকি হেসে চলে গেল। রোদ্দুর বিষন্ন মনে নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে লাগল। আহারে, তার জীবনটা; বড্ড সাধের জীবন। এই ডাকিনীর হাতে পড়ে শেষ হলো বুঝি!
.
চিলেকোঠার ঘরে ঝিলমিলের যতটুকু কাজ ছিল, রাত বারোটার আগে সবটুকু কমপ্লিট করে ফেলল। তারপর সকলে মিলে রাত ১২ টায় তানিশাকে উইশ করল, কেক কাটল। তারপর ঝিলমিল ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে দাদির ঘরে এলো। দাদি জেগেই ছিলেন। ঝিলমিলকে দেখে বললেন, 'কিরে আমার এইখানে কাজ কি? ওই ঘরে যা।'
ঝিলমিল ধপাস করে শুয়ে পড়ল। বলল, 'ওরে তো প্রতিদিন'ই দেখি। কতদিন পর তোমার কাছে থাকতে এসেছি।'
'আমার কাছে থাইক্কা কাজ আছে? জামাইয়ের কাছে থাইক্কা লাভ হবে। শীতের মইধ্যে আরও তো গায়ের উপ্রে গিয়া শুয়ে থাকতে পারবি।'
ঝিলমিল অন্যদিক ফিরে তাকিয়ে বলল, 'ছ্যাহহহ এতসব বাজে কথা কীভাবে বলো তুমি? আমি এত বাজে মানুষ না যে মানুষের গায়ের উপর উঠে পড়ব। ছিঃ ছিঃ, কী লজ্জার কথা।'
'স্বামীর কাছে টেকে এসব লজ্জা? আরে বাপু, আমরাও তো বিয়েশাদী করেছিলাম তাই না একটু আধটু অভিজ্ঞতা তোদের সাথে বলাবলি করি। এখন যা দেখি, দাদু ভাইয়ের কাছে চলে যা।'
ঝিলমিল চোখ বন্ধ করে বলল, 'না যাব না।'
'কেনো রে? তোর লজ্জা করে! বিয়ের এতদিন পরেও যদি স্বামী লজ্জা না ভাঙ্গাতে পারে তাহলে তাকে আর কি বলার আছে?'
ঝিলমিল উঠে বসে পড়ল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, 'তুমি কিন্তু অনেক বেশি বাজে কথা বলছ। মোটেও অনেকদিন আমাদের বিয়ে হয় নাই। আর ওই ব্যাটা হচ্ছে একটা খাটাশ, ওর সাথে আমার জীবনেও বনবে না। সেখানে লজ্জা-শরম তো অনেক দূরেই থাক।'
তিনিও হেসে বললেন, 'একটা বাচ্চা নিয়ে নে তখন দেখবি সব বনে গেছে। বাচ্চা আর বউ— দু'টোর টান'ই তখন দাদু ভাইয়ের বুকের মধ্যে তাড়পাবে। বুঝলি? তোরা আজকালকার যুগের ছেলে-মেয়েরা আমাদের কথা কি বুঝবি। আমরা কিন্তু তোদের খারাপ চাই না রে।'
ঝিলমিল খাট থেকে নেমে পড়ল। ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে এই ঘর ছেড়ে দৌড় দিল। জন্মের শিক্ষা হয়ে গেছে, আর দাদির কাছে থাকা যাবে না। কীসব উল্টাপাল্টা কথাগুলো বলে, শুনলে কান গরম হয়ে যায়। এরপর রোদ্দুরের সামনে দাঁড়ালেও দাদির উল্টাপাল্টা কথাগুলো মাথায় আসবে। ঝিলমিল অন্যমনস্ক হয়ে হেঁটে যাচ্ছিল অন্ধকার করিডোর দিয়ে... হঠাৎ খাম্বার মত কিছু একটার সাথে ধাক্কা লাগল। কিন্তু ওটা খাম্বা ছিল না, র'ক্তে মাংসে গড়া মানুষ। এই রাতে এক কাপ চায়ের জন্য রোদ্দুরের মন আনচান করছিল, রান্নাঘর থেকে ঘুরেও আসলো কিন্তু চায়ের সরঞ্জাম কোথাও খুঁজে পেল না। আচমকা ঝিলমিলকে দেখে আশার আলো দেখতে পেল। কিন্তু ঝিলমিল ওকে দেখেই তিড়িং বিড়িং করে কয়েকটা লাফ দিয়ে বলল, 'আমি কিন্তু তোর সাথে কিছুতেই থাকব না.... যাবোও না। যে যাই বলুক না কেন, আমি কোনো স্বামী-টামি বুঝি না।'
রোদ্দুর অবাক হয়ে বলল, 'কি হয়েছে?'
'নাআআআআআ, কিছু হয় নাই।' ঝিলমিল চেঁচিয়ে উঠল।
রোদ্দুর এগিয়ে এসে ঝিলমিলের মুখ চেপে ধরল। ধমক দিয়ে বলল, 'চুউউপ। আশেপাশের সবাইকে জাগাবি নাকি? কি হয়েছে সেটা বল চুপচাপ। তুই না একটু আগে ঘুমাতে গেলি, এখন আবার উঠে এলি কেন?'
'এই বাড়ির সবাই ডেঞ্জারাস, এটা আমি বিয়ের পর বুঝতেছি। এতদিন বুঝি নাই। তুই আমাকে নিয়ে সকাল সকাল বাড়ি থেকে বের হবি। আমি এখানে আর এক মুহূর্তও থাকব না। তারপর বাবা আমাকে কোন না কোন ভার্সিটিতে ভর্তি করাইছে, সেখানে নাকি আবার সামনের সপ্তাহে পরীক্ষা। আমার পড়াশোনা আছে, বইখাতা নিয়ে একেবারেই চলে যাব। আমি যদি আর আসি কখনো এই বাড়িতে!'
'একটা কাজ করতে পারবি?'
'বল.. তোর কাজ করতে করতেই তো জীবন যাবে।'
'এক কাপ চা বানিয়ে খাওয়া!'
'এতকাল শুধু শুনে এসেছিলাম, এখন তো নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছি। আচ্ছা বলুন জাহাপনা, এই রাত-বিরাতে আপনার আর কি কি আবদার রয়েছে?'
'আপাতত এক কাপ চা। কিন্তু প্লিজ, লবণ-মরিচ চায়ে দিস না। আমার প্রচন্ড মাথা ধরেছে। চা ছাড়া ঘুম ধরবে না সহজে।'
ঝিলমিল ঠোঁট উল্টে বলল, 'ঠিক আছে।'
এরপর ঝিলমিল কোনরূপ ঝামেলা ছাড়া, রোদ্দুর এর উপর অসীম দয়ামায়া দেখিয়ে খুব সুন্দর এবং যত্ন সহকারে এক কাপ চা বানিয়ে আনল। রোদ্দুর অবশ্য প্রশংসা করতে কার্পণ্য করল না।
.
ঝিলমিলের সারারাত ঘুম হলো না। এপাশ ওপাশ করে রাত কাটল। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে নিজের কাপড়চোপড়, বই খাতা সব গুছিয়ে নিল। বইপত্র গোছাতে গোছাতে বইয়ের মধ্যে থেকে টুপ করে একটা চিরকুট পড়ে গেল। ঝিলমিল সেটা হাতে নিয়ে পড়ে হেসে উঠল। গতবছর শর্মি আপুর বিয়ের আগেরদিন এই চিরকুটটা সে ঝিলমিলকে দিয়ে গিয়েছিল রোদ্দুরকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। ঝিলমিলের তো মনেই ছিল না। আহারে বেচারী! মনে মনে যাকে পছন্দ করল, তার নাগাল'ও পেল না। কিন্তু চিরকুট'টা ঠিকই রয়ে গেছে। ঝিলমিল ওটা ওভাবেই বইয়ের মাঝে রেখে দিল। যদিও এখন এটা রোদ্দুরকে দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই, তবুও সুযোগ পেলে দেখাতে হবে! আর শর্মি আপুর'ও কিছুদিন পর বেবি হবে, তার'ও নিশ্চয়ই রোদ্দুরের প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই!
ঝিলমিল সবকিছু গোছগাছ করে নিচে নামল। রান্নাঘরে উঁকি দিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলল, 'আমি একটু শিউলির সাথে দেখা করে আসছি। কেউ যেনো আমার খোঁজ না করে।' ঝিলমিল বের হতেই মূল ফটক থেকে হঠাৎ দেখতে পেল রোদশী এবং তার হাজব্যান্ড আসছে। ঝিলমিল দৌড়ে গেল, এক ছুট্টে বোনকে জড়িয়ে ধরল।
আনন্দিত স্বরে বলল, 'আপুউউ..... আপ্পুউ, কতদিন পর! তুমি আসবে আমাকে আগে জানাও নাই কেনো? একটু হলেই তো আমি চলে যাচ্ছিলাম।'
রোদশী হেসে বলল, 'ধুর পাগলী! আমি তোকে যেতে দিলে তো তারপর যাবি? তোর ভাইয়ার তো সময় মেলে না। বিয়ের পর তোর আর রোদ্দুরের সাথে দেখাও করতে পারে নাই। তাই দু'দিন ছুটি নিয়ে চলে এসেছি।'
রোদশীর হাজব্যান্ড ফারহান বলল, 'তোমাকে দেখলাম দু'দিন আগে মনে হচ্ছে কত্ত ছোটো ছিলে। আর এখন বিয়ের পর দেখে মনে হচ্ছে অনেক বড় হয়ে গেছ। কী আশ্চর্য! শালীর বিয়ে খাওয়ার সৌভাগ্য হলো না আমার।'
'আচ্ছা আসুন ভাইয়া, বাড়ির ভেতরে আসুন। এরপর আপনার শাশুড়ি যদি দেখে তার বড় জামাইকে আমি বাহিরে দাঁড়া করিয়ে রেখে গল্প শুরু করে দিয়েছি, তাহলে নির্ঘাত আমার পিঠে চ্যালাকাঠ ভাঙ্গবে।'
ওরা বাড়ির অন্দরে প্রবেশ করল। হৈ-হুল্লোড়ের ধুম পড়ে গেল। ঝিলমিলের আর যাওয়া হলো না। ভালো-খারাপের মাঝে তব্দা খেয়ে পড়ে রইল। ওইদিকে রোদ্দুর নাচতে নাচতে দুলাভাইয়ের সাথে নদীর পাড় গেল মাছ ধরতে। মা-চাচিরা সবাই মিলে পিঠা পুলি বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
ঝিলমিল ঘরে বসে একটা বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছিল। রোদশী এসে পাশে বসে জিজ্ঞেস করল, 'তারপর বল, সংসার জীবন কেমন কাটছে?'
ঝিলমিল হাই তুলে উত্তর দিল, 'ভীষণ বোরিং।'
'কেনো? এমন তো না যে তোর সাথে অপরিচিত কারো বিয়ে দেওয়া হয়েছে তাও ধরে বেঁধে। রোদ্দুর যথেষ্ট ম্যাচিউর, ওর বোধবুদ্ধি জ্ঞান হাজার গুণে ভালো। আর তাছাড়াও রোদ্দুর কিন্তু মানুষের মন বুঝতে পারে। তোর হয়ত মানিয়ে নিতে একটু সমস্যা হচ্ছে। ব্যাপার না, দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে। আর রোদ্দুর যেহেতু আছে এবং তুই ওর সাথে আছিস তাই আমরাও তোকে নিয়ে একদম চিন্তিত নই। মা যে কী নির্ভার হয়েছে বলার মত না। সবসময় আমাকে তোর কথা বলে। বাড়ির বাকিরাও খুব খুশি দেখলাম। ভেবেছিলাম বিয়ের প্রস্তাবে মেজো চাচি হয়ত মনক্ষুণ্ণ হবে, কিন্তু তাকেই সবচেয়ে বেশি আনন্দিত মনে হচ্ছে।'
রোদশী রোদ্দুরের কত যে প্রশংসা করল, তার ইয়ত্তা নেই।
ঝিলমিল চুপচাপ সব শুনে আপনমনে বিড়বিড় করল, 'সারা দুনিয়া খুঁজে আমি ওর মত বজ্জাত পাব না।'
.