ঝিলমিল রোদ্দুরে

পর্ব - ২৮

🟢

আচমকা রোদ্দুরের এমন কথা শুনে ঝিলমিল অবাক হলো বটে! বারবার কারণ জিজ্ঞেস করার পর'ও তার উত্তর পাওয়া গেল না। চুপচাপ বাক্যব্যয় না করে নিজের দায়িত্ব পালন করল। ঝিলমিল মন খারাপ করে বাড়ি চলে এসেও কিছু মুখে তুলল না। তার উপর অকারণে কেউ রাগ করে থাকলে সেটা ভালো লাগে না। রোদ্দুর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরবে তারপর ওর থেকে রাগের কাহিনী শুনবে! কিন্তু সন্ধ্যায় ফেরার পরেও রোদ্দুরের মুখটা কালো হয়ে রইল। ঝিলমিলের অন্যদিনের মত ফাজলামি করল না। বেশ সিরিয়াস ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল, 'তুই আমার উপর কেনো রাগ করে আছিস বলবি প্লিজ। আমার জানামতে, আমি কিন্তু উল্টাপাল্টা কিছু করি নাই। তুই বলেছিস, ভদ্র হয়ে থাকতে আর আমি তো তাই ছিলাম।'

রোদ্দুর কিছু বলল না। কাপড়চোপড় চেঞ্জ করে এসে ফোন নিয়ে বিছানায় হেলান দিল। কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া না দেখে ঝিলমিল পুনরায় বলল, 'আমি তোকে কিছু বলছি।'

রোদ্দুর সম্পূর্ণ মনোযোগ ফোনের মধ্যে দিয়ে বলল, 'হুঁ?'

'তাকা আমার দিকে। একটা কথা বলেছি। কানে গেছে?'

'কি কথা?'

ঝিলমিল নিজের রাগটুকু সামলে বলল, 'মুখ কালো করে রেখেছিস কেনো? কেউ আমার উপর রাগ করে থাকলে আমার ভালো লাগে না। আর অকারণে রাগ করে থাকলে তো চরম বিরক্ত লাগে।'

'তোর কি মনে হয় আমি তোর উপর রেগে আছি?'

'হুম.... মনে হয়।'

'আমি তোর উপর রেগে থাকব কেনো? তুই নিয়মিত ক্লাসে যাচ্ছিস, ক্লাস করছিস, মোটামুটি পড়ালেখা করছিস, সবদিকে খেয়াল রাখছিস, দায়িত্ব পালন করছিস, ক্লাস শেষে বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা দিচ্ছিস; তবে আমি রাগ কেনো করব? সব তো ঠিকই আছে।' শেষের কথাটুকু রোদ্দুর একটু ঠেস মেরেই বলল। ঝিলমিল বুঝতে পারল কিনা কে জানে! সে রোদ্দুরের পাশে বসে বলল, 'সব ঠিক আছে?'

'হ্যাঁ।'

'কিন্তু তোর মুড ঠিক নেই। বল না কি হয়েছে? তখন আমাকে কেনো বললি, আমার মুখ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে না?'

'এমনিই কথার কথা, ভুলে বলে ফেলেছি।'

রোদ্দুরের কথাবার্তার ধরণ অন্যদিনের তুলনায় কেমন যেন ছাড়া ছাড়া। ঝিলমিল আর কথা বাড়াল না। যে স্বেচ্ছায় কিছু বলতে চায় না, তাকে জোরাজুরি না করাই ভালো। আবার হিতে বিপরীত হয়ে গেলে সমস্যা। ঝিলমিল রাতে খাওয়া দাওয়ার সময়'ও এলো না, চুপচাপ শুয়ে থাকল। রোদ্দুর ওর জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ঘরে এসে বলল, 'জমিদারের মত অসময়ে শুয়ে আছিস কেন? খেতে আয়।'

'আমি খাব না।' ঝিলমিল মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল।

'ঠিক আছে। খেলে খাবি আর না খেলে নাই। আমি এত বারবার অনুরোধ করতে পারব না। মানুষের এতই রংঢং! না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি দেখতে পারব না। যখন বলি তখন কথা শোনে না, পরে কিছু বললে দেখিস। তখন কিছু শোনার জন্য আমি বসে থাকব না।' রোদ্দুর একা একাই আবোলতাবোল কীসব বকবক করতে লাগল। ঝিলমিলের হাসি পেলেও হাসল না। উঠে গায়ে চাদর পেঁচিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াল। হু হু করে বাতাস আসছে। ঝিলমিল চাদরটা ভালো করে টেনে জড়িয়ে নিল। রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজছে কাছে কোথাও৷ আকাশের চাঁদ তারারাও স্তব্ধ হয়ে একইভাবে তাকিয়ে আছে ঠান্ডা দৃষ্টিতে। একমাত্র প্রকৃতিতে বাতাস'টাই যেনো চলমান। বাতাসের শনশন শব্দ ভেদ করে পাশে বাঁশবাগানের বাঁশের পাতার আওয়াজ ভেসে আসছে। শহরের এই প্রান্ত থেকে আবার পেঁচার ডাক'ও ভেসে আসছে। অন্য সময় হলে ঝিলমিল ভয় পেত, কিন্তু এখন ভয় লাগছে না। ঠাঁয় এখানেই দাঁড়িয়ে আছে রেলিংয়ে কপাল ঠেকিয়ে।

ঝিলমিলকে ঘরে দেখতে না পেয়ে রোদ্দুর বারান্দায় খোঁজ করতে এলো। দরজায় দাঁড়িয়ে বলল, 'এই রাতে ওখানে দাঁড়িয়ে থাকলে ঠান্ডা লাগবে। ভেতরে আয়। চন্দ্রবিলাশ পরে করলেও চলবে। সামনে পরীক্ষা।'

ঝিলমিল নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল, 'আমার কথা কারো না ভাবলেও চলবে। এই গুরুদায়িত্ব আমি কারো উপর অর্পণ করি নাই।'

'বাজে বকিস না, ভেতরে আয়।'

ঝিলমিল পাল্টা প্রশ্ন করল, 'কেনো শুনব আমি তোর কথা?'

'কেনো শুনবি না?'

'শোনার ইচ্ছে নেই।'

'উফফফ, এত ত্যাড়ামি করিস কেনো? সোজাভাবে কথা বলতে পারিস না?' রোদ্দুর চরম বিরক্ত।

'তুই এখানে দাঁড়িয়ে বকবক করছিস কেনো? মনে হচ্ছে, তুই পাশের বাড়ির আন্টিদের সাথে কথা বলছি। এত জেরা, এত প্রশ্ন! তোর কাছে ওইসব আন্টিরাও ফেল।'

রোদ্দুর মাথা চুলকে ভেতরে চলে গেল। ঝিলমিল মুখ টিপে হাসল। সে আরোও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল, রোদ্দুরের ঘুমিয়ে পড়ার অপেক্ষায়। ওর উপর যেমন রাগ দেখাল, ঠিক সেইরকম ঝিলমিল'ও একটূ রাগ দেখাল। যদিও খুব খিদে পেয়েছে। দুপুরেও কিছু খাওয়া হয় নাই আবার রাতেও না। শোবার ঘরে এসে টেবিল ল্যাম্প জ্বালানো দেখে সেটা অফ করে দিয়ে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল। এখানে এসে আলো জ্বলাতেই যেটা যেরকম ছিল, সেটা সেইরকম'ই দেখতে পেল। আশ্চর্য! তারমানে রোদ্দুর'ও কিছু খায় নাই। ঝিলমিল বিড়বিড় করতে করতে পাশ ফিরতেই চমকে উঠল। পেছন দিকে ফিরে চোখ বুঁজে ফেলল এক লহমায়। রোদ্দুর এখানে কি করে? কীভাবে এলো? তাহলে ঘরে কে? সে যথেষ্ট সাহস সঞ্চয় করে আবারও এইদিকে ফিরল। রোদ্দুর বুকে আড়াআড়ি ভাবে হাত বেঁধে চোখ ছোটো ছোটো করে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।

ঝিলমিল ফাঁকা ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করল, 'আপনি কে?'

কথাটা বলতে গিয়ে নিজের কথাই গলায় আটকে গেল। কেশে এবং হিঁচকি তুলে বিতচ্ছিড়ি অবস্থা হলো। রোদ্দুর একগ্লাস পানি নিয়ে এগিয়ে এসে বলল, 'সাবধানে!'

ঝিলমিল এক ঝটকা ওর হাত থেকে পানির গ্লাস নিয়ে ঢকঢক করে খেয়ে ফেলল। নিজেকে ধাতস্থ করে বলল, 'তুই এখানে কি করিস?'

'দেখলাম একটু আগে এক শাকচুন্নী মামদো ভূত বারান্দা থেকে বেরিয়ে আসছে। ভাবলাম, কোথায় না কোথায় যাচ্ছে! তাই পিছু নিলাম। এসে দেখি শাকচুন্নীর খিদে পেয়েছে।'

বিজ্ঞাপন

ধরা পড়ে গিয়ে ঝিলমিল আর কিছু বলার অবকাশ পেল না। রোদ্দুর নিজেই খাবার বেড়ে দিয়ে ঝিলমিলকে খাওয়ার ইশারা করল। ঝিলমিল বসলে রোদ্দুর'ও উল্টোপিঠে বসল। ঝিলমিল খাচ্ছে না দেখে বলল, 'খেয়ে নিন জমিদার সাহেবা‌। আপনার জন্য এই অধম আমিও না খেয়ে অপেক্ষা করছি‌। আপনি খাবার মুখে তুললে তারপর আমিও মুখে তুলব। নিন, প্লিজ।'

ঝিলমিল কটমট করে তাকিয়ে খেতে লাগল। এমনভাবে খাবার চাবাচ্ছে মনে হয়, খাবার নয়; সে আস্ত রোদ্দুরকেই চাবাচ্ছে।

ঝিলমিলের এমন অবস্থা দেখে রোদ্দুর মুচকি মুচকি হাসছিল‌। আর ঝিলমিল? তার ওই হাসি দেখে অন্তর শুধু জ্বললই না, অন্তর পুড়ে খাক হয়ে গেল।

.

পরদিন ঝিলমিলের ভার্সিটি পৌঁছাতে রোদ্দুরের বেশ দেরি হলো‌। পথিমধ্যে তানভীরের সাথে দেখা হয়েছিল। ফের বিরক্তিকর সব কথাবার্তা বলছিল। তার কথার সারমর্ম একটাই ছিল, সানিয়া যতই রোদ্দুরের নামে মুখে বুলি ফুটাক না কেনো, সে যেকোনো মূল্যে সানিয়াকে পুনরায় রোদ্দুরের থেকে ছিনিয়ে নিবে।

মূর্খের কথা শুনে রোদ্দুর মনে মনে হাসে। সানিয়ার অবস্থান বর্তমানে তার জীবনের কোথাও নেই। যেটুকু শূন্যস্থান ছিল ততটুকু ঠিকই ভরাট হয়ে গেছে, কারো জন্য কোনোকিছু থেমে থাকে না। তবে ঝিলমিলের ব্যপারটা এখনও তার কাছে অস্পষ্ট। রোদ্দুর নিজেও চায়, বিষয়টা দ্রুতই খোলাসা হোক; নিজেদের আয়ত্ত্বে আসুক।

আজ ঝিলমিলকে একলাই দেখল রোদ্দুর। আশেপাশে তাকাল কোথাও সাঙ্গপাঙ্গদের দেখা পেল না। রোদ্দুরকে দেখে ঝিলমিল দৌড়ে এগিয়ে এলো। বলল, 'কীসের প্রতিশোধ নিচ্ছিস? এতো দেরি কেনো? এখন আমি যদি তোর জায়গায় হতাম, তাহলে তো চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করতি।'

'ওরা কই?'

'কারা?'

'যাদের সাথে সবসময় হিহি/হাহা/হুহু/হুআআআ করে হাসতে হাসতে ড্যাঙড্যাঙ করে কথা বলিস। আজ দেখতে পাচ্ছি না।'

রোদ্দুর কথাটা বলল একটু বাঁকা ভাবে। ঝিলমিলের ইজ্জতে লাগল। সে কি ড্যাঙড্যাঙ করে কথা বলে? এগুলা আবার কি অভদ্র ধরণের কথাবার্তা! ওরা ক্লাসমেট, তাই টুকটাক কথা বলতেই হয়। সে তিক্ত স্বরে বলল, 'এভাবে বলতে পারিস না। তুই যখন তোর বন্ধুদের সাথে কথা বলিস, তখন আমি এসব বলি?'

'কিছু বলার মত সুযোগ পাস না তাই বলিস না।'

ঝিলমিল কোমড়ে দু'হাত গুঁজে বলল, 'আচ্ছা? তুই খুব সুযোগ পাচ্ছিস?'

'সুযোগ না পেলে এমনি এমনি বলব? যাইহোক বেশি কথা বললে অযথা কথা বাড়বে। রিকশায় তুলে দিচ্ছি, সোজা বাড়ি যাবি। তারপর গিয়ে পড়তে বসবি। পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হলে তোর বাপ-চাচা আমায় কথা শোনাবে তা কিন্তু আমি মানব না। বলবে, বিয়ের পর তোর রেজাল্ট খারাপ হলো নিশ্চয়ই তোর স্বামী তোকে বাড়ির সব কাজ করাইছে; পড়াশোনা করতে দেয় নাই।'

রোদ্দুরের কথা শুনে ঝিলমিল রাস্তার মধ্যেই ওর পিঠে দু'ঘা দিয়ে দিল। রোদ্দুর অসহায় গলায় বলল, 'ছিঃ এসব কী অত্যাচার! তোর মাকে জিজ্ঞেস করে দেখিস তো সে তোর বাপের উপর এইরকম নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে কিনা!'

'একদম বাজে কথা বলবি না। এখন তোর সময় নষ্ট হচ্ছে না। আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে তারপর যেখানে ইচ্ছে যা।'

ঝিলমিল রোদ্দুরের হাতে খামচি মেরে বলল, 'যাহ কঞ্জুস কোথাকার!' রোদ্দুর ঝিলমিলকে রিকশায় তুলে দিয়ে নিজেও রওনা দিল। এই মেয়ে যেভাবে খামচা'খামচি করে দু'দিন পর তো আর তার পাত্তা পাওয়া যাবে না। রোদ্দুর নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আফসোসে 'চ' জাতীয় শব্দ করল।

.

ঝিলমিল বাড়ি পৌঁছে কিছুক্ষণ বই ঘাঁটাঘাঁটি করল। পড়ায় মন বসছিল না, তাই শিউলির সাথে কথা বলে কিছু সময় পার করল। তারপর বাড়ির সবার সাথে কথাবার্তা বলল।

দাদি বেশ খুশি খুশি গলায় জানতে চাইলেন, 'কিরে নাতনি, সংসার কেমন যাচ্ছে?'

'সেই সেই একদম হেব্বি! তুমি এসে দেখে যাও।'

'না বাপু, তোর সংসার তুই কর। আমার নাতির দিকে একটু খেয়াল রাখিস। ওর তো আবার জ্বরের ধাত আছে, কথায় কথায় ঠান্ডা লাগে। সন্ধ্যায় বাহিরে যেতে দিবি না, সাবধানে থাকতে বলবি।'

দাদির কথায় ঝিলমিল সায় জানাল। 'সংসার' শব্দটা অদ্ভুত শোনাল। মা-চাচিদের ক্ষেত্রে ঠিক আছে, কিন্তু ঝিলমিলের মনে হচ্ছে তার সাথে সংসার যায় না। বড় চাচির মত গুণী মানুষ, মেজো চাচির মত সহ্য ক্ষমতাশীল মানুষ, মায়ের মত সহজ-সরল মানুষের সাথে সংসার যায়। কিন্তু সে তো উড়নচণ্ডী, অতিরিক্ত খামখেয়ালি, মাঝেমধ্যে নিজের উপর চরম বিরক্ত হয়ে যায়। সেখানে রোদ্দুর কীভাবে সহ্য করবে ওকে? বা কীভাবে ভাববে সারাজীবন একসাথে থাকার কথা? সে যাইহোক ঝিলমিল এতকিছু নিয়ে চিন্তা করছে না, যখন যা হবে দেখা যাবে।

রোদ্দুর বাড়ি ফিরল সন্ধ্যায়। রোদ্দুরকে দেখেই ঝিলমিল মুখ কুঁচকে ফেলল। রোদ্দুর অবশ্য আজ কোনো বাকবিতন্ডার মধ্যে গেল না। কাজের প্রচুর চাপ যাচ্ছে ইদানিং, তাই ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়ল। ঝিলমিল এতদিনে একটা কাজের কাজ করল। এক কাপ চা বানিয়ে রোদ্দুরের সামনে হাজির করল। রোদ্দুর হেসে ধন্যবাদ জানাল। তারপর নিজের বই নিয়ে বসল, আগামীকাল পরীক্ষা। ঝিলমিলের হঠাৎ মনে হলো, এই বয়সে কিংবা এই সময়ে সে তার স্বামীর সাথে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখেছে। এই ব্রেইন নিয়ে বড়জোর একটা সংসার সাজাতে পারবে কিন্তু পড়াশোনা অসম্ভব।

তাও যতটুকু দরকার ততটুকু পড়ল। তারপর উঠে গিয়ে রাতের খাবার রেডি করল। টেবিলে সবকিছু সাজানোর পর রোদ্দুরকে ডাকতে এলো। বলল, 'খেতে আয়‌।'

রোদ্দুর আলস্য ভঙ্গিতে খাটে হেলান দিয়ে বলল, 'প্যারা লাগে।'

'আরে আয়, আজ সব রান্না আমি করেছি।'

রোদ্দুর উঠে বসে মেরুদন্ড সোজা করে বলল, 'সিরিয়াসলি? এটা কি সারপ্রাইজ ছিল নাকি? মানে তুই? আমি আসলেই বিশ্বাস করতে পারছি না। জমিদার কন্যা আজ রান্না করেছে, ওয়াও! বাই দা ওয়ে, খেতে পারব তো? আই মিন, খাওয়ার যোগ্য হয়েছে?'

'বেশি কথা না বলে খেতে আয়।'

ঝিলমিল আগে আগে গেল। রোদ্দুর সত্যিই অবাক হয়েছে। ঝিলমিল যে রান্নাবান্নার ধারেকাছেও কখনও যায় নাই, এটা তার জানা আছে। আরেকটু অবাক হলো তখন, যখন দেখল ঝিলমিল সত্যি সত্যি রান্না করছে তাও বিভিন্ন রকম আইটেম।

ঝিলমিল চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বলল, 'বস।' তারপর রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াতেই পেছন থেকে ওড়নায় টান পড়ল। ঝিলমিল অসহিষ্ণু গলায় বলল, 'আহা! ওড়না ধরে টানাটানি করিস কেন? এগুলা আবার কি ধরণের অসভ্যতামি? ছাড় বলছি!'

বিজ্ঞাপন
ঝিলমিল রোদ্দুরে গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও রহস্যময় গল্প