ঝিলমিল রোদ্দুরে

পর্ব - ৩২

🟢

দরজা জানালা বন্ধ একটা ঘরে বোঝার কোন উপায় নেই। গত দুইদিন ধরে ঝিলমিল এভাবেই পড়ে রয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই পর্যন্ত কেউ তার সাথে দেখা করতে আসে নাই। ঝিলমিল বুঝতে পেরেছে, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। সেদিন বাস থেকে নেমে সোজা বাড়ির দিকে আসছিল। মনে আনন্দ, উল্লাস, প্রথম একা এতটা পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে নিজেকে ভীষণ সাহসী মনে হচ্ছিল। পথে হঠাৎ অচেনা একজনের সাথে দেখা। ঝিলমিলকে ওর সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করছিল। সে সেসবের উত্তর দিতে দিতেই পেছন থেকে একজন নাকে টিস্যু পেপার চেপে ধরল। ব্যস, তারপর আর কোনোকিছু মনে নেই। হঠাৎ একসময় জ্ঞান ফিরে নিজেকে এখানে আবিষ্কার করে। ওরা এমন কিছু একটা দিয়েছে যার কারণে বেশিরভাগ সময় অচেতন অবস্থায় থাকতে হয়। যখন একটু জ্ঞান ফেরে তখন সব অন্ধকার, মাথার ভেতরটা চিনচিন করে, পেটের ভেতর গাইগুই করে, সারা শরীর মুষড়ে পড়ছে। সম্ভবত ওষুধের প্রভাব কাটতে শুরু করেছে, অনেকক্ষণ যাবত চেতনায় রয়েছে। কিন্তু শব্দ করার শক্তি নেই। মন এবং মস্তিষ্ক বাঁচার জন্য কিছুই করছে না। বাড়ির কথা মনে পড়ছে, কী হওয়ার ছিল আর কী হয়ে গেল, রোদ্দুরের কথা মনে পড়ছে! আচ্ছা ওরা কি ঝিলমিলকে খুঁজছে?

প্রচন্ড পানি পিপাসা পেয়েছে। খুদায় পেটের মধ্যেও জ্বালাপোড়া করছে। ঝিলমিল উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু ব্যর্থ হলো। দেওয়াল হাতড়ে হাতড়ে একটু আগাতেই কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে মৃদু শব্দে চেঁচিয়ে উঠল। হাতে ব্যাথা পেয়েছে তবুও কীসের সাথে এভাবে ধাক্কা খেল তা দেখার জন্য ফের হাত বাড়িয়ে দিল। আবিষ্কার করল একটা মানুষের অবয়ব। তৎক্ষণাৎ হাত সরিয়ে নিয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল। এটা কোথায় এসে পড়েছে সে? সামনে থাকা এই মানুষটা কে? অন্ধকারের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠার পরও ঝিলমিল আর সাহস করতে পারল না চোখ খোলার। ওখানেই দাঁড়িয়ে অনবরত কেঁদে চলছে আর আল্লাহকে ডাকছে। কোনোভাবে যদি অলৌকিক কিছু ঘটে! আচমকা শুনতে পেল একদিক থেকে সামান্য শব্দ ভেসে আসছে। শুকনো পাতায় মানুষ হেঁটে গেলে যেমন সরসর আওয়াজ হয় ঠিক সেইরকম। বিপদে যা পড়ার তা তো পড়েছেই, আর বিপদের তোয়াক্কা করে কী লাভ? এরচেয়ে বড় বিপদ আর হতে পারে না। ঝিলমিল যতটুকু সম্ভব গলা বাড়িয়ে বলে উঠল, 'আশেপাশে কেউ আছেন? প্লিজ হেল্প মি।'

আওয়াজটা এক মুহুর্তের জন্য থেমে গেলেও পরক্ষনে দ্রুত এগিয়ে আসতে লাগল। ঝিলমিলের মনে হলো, তাকে বাঁচানোর জন্য হয়ত কেউ ছুটে আসছে! কিন্তু তা কি করে সম্ভব?

রোদ্দুর আর হাসান মাত্র যে কণ্ঠস্বর শুনতে পেল, তা যেখান থেকে এসেছে ওরা ওই দেওয়ালের সাথেই দাঁড়িয়ে আছে। রোদ্দুর সাবধানে ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ঘরের জানালা খুঁজে বের করল। সেখানে ঠকঠক করতেই আওয়াজ অনুসরণ করে ঝিলমিল ওখানে এসে দাঁড়াল। রোদ্দুর বলল, 'কে? আওয়াজটা কি এখানে থেকেই এলো?'

ঝিলমিলের কী যে হয়ে গেল, সে বাচ্চাদের মত ফোঁপাতে শুরু করল। রোদ্দুরখে ঠিকই চিনতে পেরেছে, তারমানে ও এসেছে! এখন দুনিয়ায় যাই হয়ে যাক না কেনো, ঝিলমিল আর ভয় পাবে না। সে তার জীবনের বিশ্বস্ত মানুষটাকে খুঁজে পেয়েছে‌।

কোনোরকম কান্না চেপে ভেজা গলায় বলল, 'রোদ্দুর!'

ব্যস আর কী! রোদ্দুর'ও চিনতে ভুল করল না তার প্রতীক্ষিত মানুষটাকে। তার বুকের ভেতর কী যেন একটা নড়েচড়ে উঠল। এতক্ষণ আটকে রাখা নিষ্ঠুর নিঃশ্বাস, জমানো কষ্ট সবটা বিসর্জন দিয়ে নিজেকে হালকা করে নিল। হাসান'ও বুঝতে পেরেছে, হেসে সে রোদ্দুরের কাঁধে চাপড় দিল। রোদ্দুরের মনে হলো, এতক্ষণ পাগলাটে মাথাটা এইবার ঠিক হয়েছে। মন শান্ত হয়েছে এইবার। ধীরে ধীরে বুকের মধ্যেকার অসহ্য জ্বলুনিতে এক ফোঁটা... মাত্র এক ফোঁটা পানির ছিটা পড়েছে।

সে কোনোরূপ ভূমিকা বিহীন বলল, 'তুই একদম চিন্তা করিস না। আমি এখানেই আছি। এই জানালা ভাঙ্গার ব্যবস্থা করছি। প্লিজ ঝিলমিল, কিছুক্ষণ ওয়েট কর।'

এইদিকের এই জানালাগুলো কাঠের তৈরি। রোদ্দুর খেয়াল করল, এগুলো খুব বেশি মজবুত নয়। একটু কসরত করে চেষ্টা করলেই ভেঙ্গে যাবে, তারপর শিকগুলো খুলে ফেললেই হয়ে গেল। কিন্তু যতটা সোজা ভেবেছিল এটা মোটেও ততটা সোজা ছিল না। পালাক্রমে দুই বন্ধু চেষ্টা করে খুব সামান্য নড়াতে পারল। তবে শিকগুলো খুলে ফেলল সহজেই। রোদ্দুর ওখানেই দাঁড়িয়ে হাসানকে বলল, 'লাঠি জাতীয় কিছু নিয়ে আয়, সেটা দিয়ে একবার চেষ্টা করে দেখি।'

জানুয়ারি মাসের হাড়কাঁপানো শীতের রাতে ওরা ব্যস্ত নিজেদের উদ্ধারে। ঠান্ডা কোথায় পালিয়েছে কে জানে! হাসান চলে যেতেই রোদ্দুরের তানিশার কথা মাথায় এলো। সে ঝিলমিলকে জিজ্ঞেস করল, 'তোর সাথে কেউ আছে নাকি একা?'

ঝিলমিল পাল্টা প্রশ্ন করল, 'কেউ থাকার কথা আমার সাথে?'

রোদ্দুর তানিশার কথা বলল। ঝিলমিলের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। কী হচ্ছে তাদের সাথে এসব? হঠাৎ একটু আগের কথা মনে পড়ে গেল। কিন্তু ও এই আঁধারে সামনে আগানোর সাহস পেল না। স্ট্যাচু হয়ে অপেক্ষা করতে লাগল, কখন জানালাটা ভাঙ্গতে পারবে!

জানালার একটা পাট খুলতেই ঝিলমিল রোদ্দুরের কাছ থেকে ফোনটা চেয়ে নিল। সেটার আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে গেল। সারা ঘরে আলো ছড়িয়ে তানিশাকে চোখে পড়ল। তারমানে তখন ওর সাথেই ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়েছিল। ঝিলমিল দ্রুত গিয়ে ওর হাতের আর মুখের বাঁধন খুলে দিল। তানিশা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে! রোদ্দুরকে জানাতেই ওর বুকের উপর থেকে আরেকটা ভারী পাথর নেমে গেল।

ঝিলমিল এই জানালা দিয়ে নিজে অনেক কষ্টে বের হতে পারবে কিন্তু তানিশা কি করবে? ওর জ্ঞান ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। তখন হাসান বলল, 'আমি সামনে একটা টিউবওয়েল দেখেছিলাম। ওখান থেকে পানি নিয়ে আসছি।'

যেই বলা সেই কাজ। তবে গিয়ে দেখল টিউবওয়েল ব্যবহার না করতে, না করতে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে; ঝং ধরে গেছে ওতে। তবে পাশে একটা ছোট্ট পুষ্কনীর মত দেখতেই সেখান থেকে নিজের রুমাল ভিজিয়ে এনে ঝিলমিলের কাছে দিল। সে পানি তানিশার চোখেমুখে পড়তেই ওর জ্ঞান ফিরে এলো। ঝিলমিলকে দেখে অঝোরে কান্না করে দিল। কিন্তু এখন আবেগ প্রকাশের সময় নয়। রোদ্দুর তাড়া দিতেই ওরা দু'জন জানালার দিকে এগিয়ে এলো।

বিজ্ঞাপন

তানিশা একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। ওর ওষুধের প্রভাব এখনও কাটে নাই। কী করছে না করছে, নিজেও বুঝতে পারছে না। ঝিলমিলের পক্ষে ওকে যতটুকু সাহায্য করা সম্ভব হলো, ততটুকু করল। রোদ্দুর ওপাশ থেকে তানিশাকে ধরতেই ঝিলমিল বেরিয়ে এলো। বের হওয়ার সময় ভাঙ্গা জানালার কোণার সাথে হাত কেটে গেল, পিঠে লাগল, ঘাড়ে লাগল। বের হয়ে আসতে পেরেছে এটাই শান্তি, ব্যাথাটা পরোয়া করল না। রোদ্দুরের মুখোমুখি দাঁড়াতেই রোদ্দুর শক্ত করে ওর হাত চেপে ধরল। এক হাত গালে ঠেকিয়ে বলল, 'ঠিক আছিস?'

ঝিলমিল চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলল, 'হুমম।'

তারপর কী হলো, আবার হারানোর ভয় তাকে চেপে ধরল। আর সে রোদ্দুরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। কিছু বলল না, অবুঝ বাচ্চাদের মত কাঁদতে লাগল। রোদ্দুর ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ধীর কণ্ঠে বলল, 'বাড়ি চল। সবাই অপেক্ষা করছে।' রাতের ঠান্ডায় কাঁপছিল ঝিলমিল। রোদ্দুর ওর জ্যাকেটটা খুলে দিল। হাসান ছোট চাচ্চুকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ফিরছে। ঝিলমিলের ছিল বিধ্বস্ত অবস্থা, আর তানিশা এতটাই মুমুর্ষ ছিল যে ওর বোধবুদ্ধি খোয়া গেছিল। রোদ্দুর দু'জনকেই আগলে রেখেছে। খুব সাবধানে কোনোরূপ ঝামেলা ছাড়াই ওরা ওই পৌড়বাড়ি পার হলো। দূর থেকে বাইকের হেডলাইট চোখে পড়তেই হাসান বলল, 'ওইতো চাচ্চু চলে আসছে।'

হাসান যে ফোন করে তাকে আসতে বলেছে, রোদ্দুরের জানা ছিল না। আর এই রাতের বেলা হেঁটে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিল না। ছোট চাচ্চু এসেছে, রোদ্দুরের বাবা এসেছে; ওরা তাদের সাথেই রওনা দিয়ে দিল।

.

ঝিলমিল নিজের অবস্থা যতটুকু করুণ মনে করেছিল, বাড়ি এসে দেখল বাড়ির পরিস্থিতি আরও বেশি করুণ এবং জটিল। মা কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। বাবাও উঠে এসেছেন। ঝিলমিলকে জড়িয়ে ধরে কতক্ষণ কান্নাকাটি করলেন। বড় চাচা-চাচির'ও একই অবস্থা। দাদি পর্যন্ত আহাজারি করতে লাগলেন। এই করতে করতেই রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে গেল। বড় চাচা সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'তোমরা কি শুরু করেছ, বাচ্চাগুলো এসেছে ওদের একটু বিশ্রাম করতে দাও। দেখো একেকজনের চেহারার অবস্থা! আমাদের বাড়ির মানুষগুরোল উপর দিয়েও কম ধকল গেল না, সব কাহিনী পরে শুনব। যাও তোমরা সবাই যে যার ঘরে গিয়ে বসো।'

ঝিলমিল নিজের ঘরে যেতে নিলে রোদ্দুর বাঁধা দিয়ে বলল, 'আমার ঘরে আয়। কথা আছে।' ঝিলমিল নিঃশব্দে ওর পিছু পিছু চলে এলো। রোদ্দুর প্রথমেই ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে ঝিলমিলের হাতে কাঁধে ব্যান্ডেজ করে দিল। তারপর বসল ওর মুখোমুখি। মনের ভেতর জিজ্ঞেস করার জন্য অনেক কথাই ছিল কিন্তু ঝিলমিলের মনের অবস্থা ভালো না। তাই‌ সাধারণ কথাবার্তা শুরু করার জন্য জিজ্ঞেস করল, 'মাথাব্যাথা কমেছে এখন? ভালো লাগছে?'

ঝিলমিল মাথা নাড়িয়ে জবাব দিল। হ্যাঁ নাকি না বলল রোদ্দুর কিছুই বুঝল না। রোদ্দুর কিছু বলার মত খুঁজে পাচ্ছে না। মননে হচ্ছে, ঝিলমিল যথার্থই নতুন মানুষ।

'বাড়ির সবাই যা টেনশন করছিল বলার মত নয়। মনে হচ্ছিল উৎকণ্ঠায় সবার আত্মা গলায় এসে ঠেকেছে। প্রথমে তুই তারপর তানিশা। আচ্ছা বলতে পারিস ওরা কারা ছিল? দেখেছিস কাউকে? একটু পর থানায় যাব। ওসির সাথে কথা বলে ব্যাপারটা খোলাসা করতে হবে।'

ঝিলমিল নিঃশব্দ রইল। তার কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। মাথার ভেতর চিনচিনে ব্যথাটা বিরক্ত করছে খুব। তবুও রোদ্দুরকে বলল, 'না কাউকে চিনি না। যতদিন ওখানে ছিলাম, ততদিন একটা মানুষের চেহারাও দেখি নাই। আর কিছু জিজ্ঞাসা করিস না, আমার ভালো লাগছে না।'

'ঠিক আছে ঘুমিয়ে থাক।' রোদ্দুর উঠল। তার বহুত কাজ বাকি আছে‌। তার আগে বড় চাচার সাথে কথা বলতে হবে। বিষয়টা যে তাদের সাথে শত্রুতামি করে করা হয়েছে এটা বোঝা গেছে। রোদ্দুর ঝিলমিলের গায়ে কম্বল টেনে দিয়ে কপালে হাত রেখে তাপমাত্রা পরখ করল। জ্বর আছে তবে হালকা। ঘরের আলো নিভিয়ে বের হলো। বসার ঘরেই তাদের পেয়ে গেল‌। মাহমুদ সরকার জিজ্ঞেস করলেন, 'ঝিলমিলের কি অবস্থা?'

রোদ্দুর মাথা নাড়িয়ে জানাল, সে ঠিক আছে। তারপর সকলের উদ্দেশ্যে বলল, 'আমরা কি ঝিলমিল আর তানিশার কথা পুলিশকে এখন'ই জানাব। আমার মনে হয়, আজকের দিনটা অন্তত গোপন রাখা ভালো।'

বড় চাচা বললেন, 'কেনো? হঠাৎ গোপন রাখার কথা বলছ?'

'কারণ আছে। আমি তো গিয়েছিলাম ওইদিকে। অনেক সন্দেহজনক বিষয় আমার চোখে পড়েছে। প্রথমত, আমি আপনাদের বলি; আমি তাদের কিছু ভাসা ভাসা কথা শুনতে পেয়েছি। দু'জনকে আটকে যদি কোনো কাজ না হয় তবে চৌদ্দ গুষ্টি তুলে আনব.... এই টাইপের। এখন পুলিশ কতটুকু আমাদের সহায় হবে, তা জানা নেই। তাই আমি জানাতে মানা করলাম।' রোদ্দুর কথাটা বলে বড় চাচার দিকে তাকাল তার উত্তরের আশায়। তিনি বললেন, 'সবই বুঝেছি। তোমার কথাও ঠিক আছে। কিন্তু পুলিশকে না জানালে হবে? এখন যে ওসি আছেন, ওনার সাথে আমার সম্পর্ক বেশ ভালো। ওনাকে বাসায় ডেকে নিয়ে এসে সমস্তটা খুলে বলি। তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, বাড়িতেও আমার সেফ না।'

রোদ্দুর মাথা নেড়ে সায় জানাল। সে আরেকবার ঝিলমিলকে দেখে এলো অথচ কাল মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিল, এই মেয়েকে সামনে পেলে নির্বুদ্ধিতার জন্য ইচ্ছেমত বকে দিত, কষে কয়েকটা থাপ্পড়'ও দিত। গত রাত পর্যন্ত বুকের মধ্যে ছলাৎ ছলাৎ করছিল কষ্টগুলো। সবসময় সামনাসামনি থাকা একটা মানুষ হারিয়ে গেলেই কী এত কষ্ট হয় নাকি সেই মানুষটার সাথে মনোজগতের কোনো সম্পর্ক তৈরি হয় বলেই এত কষ্ট! রোদ্দুরের জানা নেই। জানতে ইচ্ছে করছে ভীষণ। এ কেমন সম্পর্কের টানাপোড়েন?

ওসিকে ফোন করতেই তিনি চলে এলেন। তার সাথে কথাবার্তা বলে পরিকল্পনা সাজানো হলো। এই সময় উসমান খন্দকার'সহ তার ছেলেপেলে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে। কাউকে পাওয়া যাবে না তাদের পরিকল্পনার ভেস্তে যাবে। তাই ঠিক করা হলো, সন্ধ্যার পর ওরা ওই পৌড়বাড়িতে যাবে পুরো ফোর্স নিয়ে।

রোদ্দুরের বদ্ধ বাড়িতে ভালো লাগছিল না,সে বের হয়ে সোজা নদীর পাড় চলে এলো। আগে বাড়িতে এলে এখানে প্রচুর আসা হতো আর ছোটোবেলা তো বোধহয় এই নদীর বুকেই কেটেছে। নদীর কলকল ছলছল ধ্বনি হু হু করা অস্থির মনকে এক নিমিষেই স্থির করে দেয়। স্থির হলেও মনের মধ্যেকার বিষন্নতা কাটল না। ওর মনে হলো, সে একটা দায়িত্বহীনতার কাজ করছে। এই মুহূর্তে তার উচিত ঝিলমিলের পাশে থাকা। তাই আবার বাড়ির দিকে ছুট দিল। ঝিলমিল এখনও ঘুমাচ্ছে। আগে কখনো ওর ঘুমন্ত মুখটা দেখা হয় নাই, প্রয়োজন'ও বোধ করে নাই। তবে আজ দেখল, পলকহীন অনেকক্ষণ। মনে পড়ে না, জীবনের এতটা সময় আর কারো দিকে এইভাবে তাকিয়ে ছিল কিনা। ইশশশ ঝিলমিল জেগে থাকলে নিশ্চয়ই বলত, 'তুই একটা ক্যাবলাকান্ত রে! এইভাবে মানুষ নির্লজ্জের মত তাকিয়ে থাকে? ছ্যাহহহহ!'

.

বিজ্ঞাপন
ঝিলমিল রোদ্দুরে গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও রহস্যময় গল্প